প্রথম অধ্যায়

নেহা কর্মকার

স্টেশন থেকে নেমে দ্রুত পায়ে বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করলেন বিশ্বম্ভর চাটুজ্যে। এই কয়েক সপ্তাহ হল তার বড়ো মেয়ে স্বরনিকার বিয়ে হয়েছে কলকাতায়। দুদিন আগে কলকাতায় তার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতেই গেছিলেন নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে। ভেবেছিলেন সেদিনই ফিরে আসবেন। কিন্তু মেয়ের জোড়ের কাছে হার স্বীকার করেন। তবে একদিন কাটতে না কাটতেই তার প্রাণ হাঁসফাঁস করতে থাকে নিজের বাড়িতে ফেরার জন্য। যতই হোক সেই ছোটো থেকে গ্রামের সবুজ দেখে বড়ো হয়েছেন, গ্রামের মুক্ত স্নিগ্ধ বাতাসে খেলে বেড়িয়েছেন, সেখানে কলকাতায় দূষিত বাতাস আর বড়ো বড়ো কংক্রিটের দানবের মাঝে তার প্রাণশক্তি যেন ফুরিয়ে আসছিল। যেই মুহূর্তে এই গ্রামের শান্ত বাতাস তার কপাল ছুঁয়ে গেল মনে হল যেন এক ভারী পাথর তার বুক দিয়ে নেমে গেল। প্রাণ ভরে শ্বাস নিয়ে নিলেন বিশ্বম্ভর।

তবে স্টেশন থেকে নেমে গ্রামের পথ ছুঁতেই বুঝতে পারলেন বেশ দেরি হয়ে গেছে। চারিদিকটা একেবারে শুনশান হয়ে আছে, ঘুটঘুটে অন্ধকারে ছেয়ে আছে আশপাশ। গ্রামেগঞ্জে রাত ৮টার মধ্যেই সবাই খেয়ে শুয়ে পড়ে। এখন তো দেখে মনে হচ্ছে গভীর রাত। যদিও তিনি এটা জানেন না যে কটা বাজে, তাও আন্দাজ করে যা বুঝলেন ওই রাত ১১টার কাছাকাছি। তার মধ্যে ট্রেনটাও লেট করেছে আজ, নাহলে অনেক আগেই পৌঁছে যেতেন।

বিশ্বম্ভরের মনটা একেবারে বিরক্তিতে ভরে উঠল, একে তো এত দেরি তার ওপর একটাও ভ্যান বা রিকশাওয়ালাকে দেখতে পেলেন না কোনোদিকে।

“এত রাতে এখন হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হবে? ধুর!” একটা বিরক্তিসূচক আওয়াজ করে ট্রেন আর সমস্ত ভ্যান, রিকশাওয়ালাদের উদ্দেশে শাপশাপান্ত করে হাঁটতে শুরু করলেন তিনি।

আজ পূর্ণিমা বা অমাবস্যা কোনোটাই নয়। পরিষ্কার আকাশে আধখানা চাঁদের আলোয় যতটুকু বোঝা যাচ্ছে তাতেই আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন বিশ্বম্ভর। আর মিনিট পনেরো মতো হাঁটলেই গ্রামের প্রধান সীমানাটা পড়বে। স্টেশন থেকে নেমে কিছুটা ভেতরের দিকে হেঁটে আসলে দুপাশে খোলা মাঠ পড়ে, এই মাঠ পেরোলেই গ্রামের প্রধান সীমানা। তবে এই মাঠকে মাঠ না বলে ঝোপঝাড়ে ভর্তি ছোটোখাটো একটা জঙ্গল বলা চলে।

এমনিতে বিশ্বম্ভর চাটুজ্যে তার ডাকাবুকো স্বভাবের জন্য বেশ পরিচিত এই গ্রামে। খুব সহজে তিনি খুব একটা ভয় পান না। তা ছাড়া তিনি ভীষণই নাস্তিক প্রকৃতির। ভূত তো বাদই থাক ঠাকুর-দেবতাতেও বিশ্বাস নেই তার। কিন্তু আজ এই নিশুতি রাতে এমন ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে একা একা হেঁটে আসতে তার বেশ একটা অস্বস্তি হচ্ছে। তিনি অনেকক্ষণ ধরেই লক্ষ করছেন এতক্ষণ ধরে হেঁটে আসলেও কোনো ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে না, এমনকি কোথাও কোনো কুকুর বিড়াল বা কোনো প্রাণীর সাড়াশব্দটুকুও নেই। চারিদিকটা বড়ো বেশিই নিঃশব্দ যেন আজ। শুধু আজ বললে ভুল হবে বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রামে এরকমই পরিবেশ। সবাই যেন একটু বেশি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছে, সন্ধে নামতে না নামতেই সবাই ঘরে ঢুকে দোর দিচ্ছে। তার অবশ্য একটা কারণ রয়েছে কিন্তু সেই কারণকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ বিশ্বম্ভর।

বেশ কিছু দিন আগে এই গ্রামের সবচেয়ে পুরোনো একটা বটগাছ তলার নীচে ভবা পাগলার মুণ্ডহীন ক্ষতবিক্ষত দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। ছিন্নভিন্ন দেহ, শুকিয়ে কাঠ। হাত, পা, কোমর সব বেঁকানো। সে দেহ নাকি এতটাই ভয়ঙ্কর অবস্থাতে ছিল যে ওখানেই অনেকে মূর্ছা গেছে। কেউ কেউ তো আবার কিছু না জেনেই বিজ্ঞ পণ্ডিতের মতো দাবি করে বসল যে এটা কোনো ভয়ানক পিশাচের কাজ, গ্রামে কারোর কুদৃষ্টি লেগেছে। প্রথমেই বলেছি বিশ্বম্ভর চাটুজ্যে বড়োই নাস্তিক মানুষ, তাই তিনি এই অশিক্ষিত গ্রামবাসীদের কথাকে একপ্রকার ছো মেরে উড়িয়ে দিলেন।

শুধু ভবা পাগলা নয়, দুদিন আগে মহেশকেও একই অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল গ্রামের এক পুরোনো কালভৈরবীর মন্দিরের পাশে হোগলা বনের ধার থেকে। কে, কবে, কী উদ্দেশ্যে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিল তা কেউ জানে না, কেউ যায়ও না ওইদিকে। মহেশ হল একেবারে যাকে বলে জাত মাতাল, সারা দিনরাত গলা অবধি খেয়ে বসে থাকে। কোনো কাজ করে না, সারাদিন গ্রামের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ঘুরে বেড়ায় আর ভুলভাল বকে যায়।

মহেশকেও ঠিক একইভাবে মুণ্ডহীন ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। দেহ সেই আগের মতোই শুকিয়ে কাঠ। কেউ বুঝতে পারছিল না যে এত তাড়াতাড়ি দেহ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে কী করে। মহেশের দেহের পাশেই কাটা মাথাটা পড়েছিল, চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসছে, যেন কী দেখে সে প্রচণ্ড ভয় পেয়েছিল আর তাতেই তার প্রাণবায়ু ফুরিয়েছে। কাটা মাথা বললেও ঠিক বলা হবে না, কারণ এদের দুজনের কারোর মাথাই কাটা নয়, ছেঁড়া! হ্যাঁ, কেউ যেন ভীষণ অমানুষিক এক চাপে ধড় থেকে আলাদা করে দিয়েছে দেহ। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হল মানুষ দুটোকে ওই নৃশংসভাবে খুন করা হলেও একফোঁটা রক্ত কোথাও লেগে ছিল না। দেখে মনে হচ্ছিল কেউ যেন দেহের সমস্ত রক্ত শুষে নিয়েছে।

বিশ্বম্ভর এইসব কোনো কিছুই নিজের চোখে দেখেননি, স্বভাবতই সে পুরো ঘটনাকেই গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের রসিয়ে-কষিয়ে করা গাঁজাখুরি গল্প বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন। গ্রামের মানুষ তো পরপর এরকম দুটো ঘটনায় ভীষণই ভয় পেয়ে আছে। কিন্তু বিশ্বম্ভর এইসব ঘটনাকে পিশাচের কাণ্ডকারখানা মানতে নারাজ। তার স্পষ্ট বক্তব্যই হল গ্রামে কোনো ভয়ানক ডাকাত দলের উপদ্রব ঘটেছে। তারাই এমন নৃশংস খুনগুলো করে গ্রামের মানুষের মনে ভয়ের সঞ্চার করছে, যাতে তাদের কার্যক্রম তারা নিভৃতে চালিয়ে যেতে পারে।

অন্ধকারে হেঁটে আসতে আসতে বিশ্বম্ভর এইসব জিনিস নিয়েই চিন্তামগ্ন ছিলেন। তার ভাবনায় বাধা পড়ল, আকাশ হঠাৎ করেই কালো মেঘের চাদরে ঢেকে গেছে। সেই চাদরে ঢাকা পড়েছে আধ ফালি চাঁদটাও। ফলে যেটুকু নামমাত্র আলোয় তিনি রাস্তা বুঝে আসছিলেন সেটাতেও বিঘ্ন ঘটল। এই অন্ধকারের পাকদণ্ডী বেয়ে রাস্তা চিনে যাওয়া আর ভুলভুলাইয়ার মাঝে পথ হারানো একই ব্যাপার এখন। এবারে নিজের ওপরই তিনি বেশ রুষ্ট হলেন। স্টেশন মাস্টার তাকে পই পই করে বারণ করেছিলেন এত রাতে বাড়ি না যেতে। আজকের রাতটা অন্তত স্টেশনে থেকে যেতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি কিন্তু ওই যে বলে না কপালে নেই ঘি ঠকঠকালে হবে কী! এখন এই অন্ধকারে রাস্তা চিনে যেতে যেতে না তিনি পথই গুলিয়ে ফেলেন। রাতে বাড়ি ফিরতে পারলে হয়! এখন স্টেশন থেকেও অনেকটা দূরে এসে গেছেন তাই ওইদিকে ফিরে যাওয়াও সম্ভব নয়। এইদিকে রাত বাড়ছে। রাতের বাতাস আরও একপ্রস্ত শীতল হয়েছে। এই শীতল বাতাসের ছোঁয়ায় শরীরের সমস্ত হাড়গুলো যেন কেঁপে উঠছে। এই ঘুটঘুট্টি অন্ধকারের জন্যই হোক আর গ্রামের ইদানীং পরিবেশের জন্যই হোক, বিশ্বম্ভরের মনের মধ্যে কোথাও যেন হালকা একটা ভয়ের উদ্রেক হল। সে হাঁটা শুরু করেছে ঠিকই কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ যেন তার পিছনে, কখনও পাশে হেঁটে চলেছে। দুবার পিছন ফিরে আশপাশটা দেখার চেষ্টা করলেন ঠিকই কিন্তু এই অন্ধকারে কিছুই তার দৃষ্টিগোচর হল না। তিনি হাঁটার গতিবেগ বাড়ালেন। এবারে আর একটা অদ্ভুত আওয়াজ শুনে তিনি থমকে গেলেন। আওয়াজটা খুব মিহি, সূক্ষ্ম। খানিকটা বাঁশির মতো। যেন একটা সুর বেজে চলেছে একনাগাড়ে। কিন্তু এই সুরও বেশিক্ষণ সহ্য করা যায় না। এই সূক্ষ্ম রিনরিনে সুর বেশিক্ষণ শুনলে মাথা দপদপ করে ওঠে, মাথার শিরাগুলো ফুলে উঠে ফেটে যেন বেরিয়ে আসতে চায়। বিশ্বম্ভরেরও এখন ঠিক একই অবস্থা, তার মাথা যন্ত্রণায় মনে হচ্ছে যেন এবারে ফেটে যাবে। দু হাত দিয়ে যতটা সম্ভব তিনি নিজের কানকে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছেন কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। যতই তিনি নিজের হাতের জোড় বাড়ান ততই যেন সেই সর্বনাশী সুর তার মাথা কেটে বসে যেতে চায়। উফ কী অসহ্য যন্ত্রণা! বিশ্বম্ভরের আর উঠে দাঁড়ানোর মতো কোনো শক্তি থাকে না। তার চোখ ঝাপসা ঠেকে, অন্ধকার আরও ঘনিয়ে আসে, একটা সময় তার চোখও বন্ধ হয়ে যায়।

কতক্ষণ ওরকম অজ্ঞান অবস্থায় ছিলেন তা জানেন না কিন্তু চোখ খুলতেই আবারও চোখের সামনে অন্ধকার দেখায় ধড়ফড় করে উঠে বসেন বিশ্বম্ভর। তার মাথার একপাশ তীব্র যন্ত্রণায় যেন ছিঁড়ে যেতে চাইছে। আকাশ এখন খানিকটা পরিষ্কার হয়েছে আগের থেকে। চাঁদের আলোয় আবার আশপাশটা একটু দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এবারে আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে তীব্র বেগে গ্রামের সীমানার দিকে ছুট লাগালেন বিশ্বম্ভর। ছুটছেন তো ছুটছেন, কিছুতেই যেন রাস্তা শেষ হতে চায় না, যতই তিনি জোড়ে দৌঁড়াতে চান না কেন কিছুতেই গ্রামের সীমানা যেন তার কাছে ধরা দেয় না। কিন্তু এ কী! কিছুক্ষণের মধ্যেই এক ভয়াল জিনিসের উপলব্ধি করতে পেরে বিশ্বম্ভরের সারা শরীর দিয়ে যেন এক তীব্র আতঙ্কের স্রোত বয়ে যায়। এ তো সেই জায়গায় তিনি ফিরে এসছেন যেখানে কিছুক্ষণ আগেই তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু এ কী করে সম্ভব! আবার ছুট লাগালেন তিনি গ্রামের সীমানা লক্ষ করে কিন্তু বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকে। এবারে তার সমস্ত কিছু যেন গুলিয়ে যেতে শুরু করে। তিনি বুঝতে পারছেন যে কোনো এক ভয়ানক মায়াজালে তিনি জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রামের লোকেদের কথাকে অশিক্ষিতদের বানানো গল্প বলে যে তিনি মস্ত বড়ো ভুল করেছেন তা তিনি ভালোই টের পাচ্ছেন, তবে কি তাকেও এবারে!

বিশ্বম্ভর আবার প্রাণপণে ছুট লাগান। যতক্ষণ তার শরীরে প্রাণ আছে তিনি কিছুতেই থামবেন না। যাই হয়ে যাক, তার মৃত্যু কোনোমতেই এতটা নৃশংস হতে পারে না। কিন্তু অত্যাধিক মানসিক চাপে তিনি বোধহয় ভুলে গিয়েছিলেন যে তার বয়স এখন ৬০ পেরিয়েছে। বিশ্বম্ভরের ডাকাবুকো যুবক তকমা অনেকদিন আগেই ঘুচে গেছে। একটা সময় তিনি ক্লান্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার হাত পা কাঁপতে শুরু করে। চোখ ঝাপসা ঠেকে। তাতেই তিনি বুঝতে পারেন সামনের অন্ধকারের মধ্যে যেন আরও একপ্রস্ত অন্ধকার এসে জমাট বেধেছে। দুবার চোখ পিট পিট করে ভালো করে দেখার চেষ্টা করলেন বিশ্বম্ভর আর পরমুহূর্তেই সামনের দৃশ্য বুঝতে পেরে তার হৃৎপিণ্ড কেঁপে উঠল। বিশ্বম্ভরের হাত পাঁচেকের মধ্যেই একটা ছায়ামূর্তি এসে দাঁড়িয়েছে। তার শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধুই যেন কালো ভাসমান একখণ্ড ধোঁয়া। কিন্তু তার শরীরের একেবারে ওপরের অংশে ওই চারটে বিন্দুর মতো জ্বলজ্বলে জিনিসগুলো কী? একটু ভালো করে দেখলে বোঝা যায় ওই জ্বলজ্বলে জিনিসগুলো আর কিছুই নয়, চারটে চোখ! হ্যাঁ চারটে চোখ, মণিবিহীন চারটে চোখ যার রঙ কালচে সবুজ। চোখ দুটো যেন তীব্র জিঘাংসায় ভাটার মতো জ্বলছে আর তার সাথে হিংস্র শ্বাপদের মতো উঁকি মারছে কিছু ধারালো ছুঁচালো দাঁত। যা দিয়ে পৃথিবীর যে-কোনো বস্তুকে একটানে ছিঁড়ে কুটিকুটি করে ফেলা যায়।

অস্তিত্বহীন কালো ছায়াটাকে দেখে বিশ্বম্ভর নিথর হয়ে গেলেন। তীব্রভাবে চিৎকার করতে চাইছেন তিনি কিন্তু কেউ যেন তার গলা সাঁড়াশির মতো চেপে ধরেছে। বিশ্বম্ভরের কপালের ঘাম বেয়ে এখন চোয়ালের নীচে এসে ঠেকেছে। সামনের ছায়ামূর্তির দিক থেকে আবার সেই সূক্ষ্ম সুর ভেসে আসে। বিশ্বম্ভর মাথার রগ চেপে ধরে, তার মাথার সমস্ত শিরা ফুলে উঠেছে। ভেতর দিয়ে কেউ সেগুলো যেন ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে। ছায়ামূর্তি এবারে ধীরে ধীরে বিশ্বম্ভরের দিকে এগোতে শুরু করে, তার ধারালো দাঁতগুলো চাঁদের আলোয় চকচক করে ওঠে।

অধ্যায় ১ / ২২
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%