তৃতীয় অধ্যায়

নেহা কর্মকার

সকালে মানুষের সম্মেলিত ডাকাডাকিতে হুশ ফেরে বীরেনের। প্রথমে কিছুই মনে করতে পারে না সে।

কিন্তু হঠাৎ বিদ্যুতের গতিতে কাল রাতের সমস্ত ঘটনা মনে পড়ে যায় বীরেনের। কাল রাতে কখন সে অজ্ঞান হয়ে গেছে সে নিজেও জানে না। হয়তো অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল বলেই বেঁচে গেছে বীরেন, নাহলে ওই পৈশাচিক সুর কাল রাতে বীরেনকেও ছাড়ত না। বাইরে লোকেদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে বীরেন সঙ্গে সঙ্গে বাইরে আসে। হরি কাকাকে দেখতে পেয়ে ছুটে যায় তার দিকে।

“কী হয়েছে? সবাই এমন চিৎকার করছে কেন?” উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটে এসে বীরেন জিজ্ঞেস করে হরি কাকাকে। তার মনে কাল রাত থেকে যে ভয় চেপে বসেছিল সেই ভয়ই সত্যি হল। গ্রামের সীমানার কাছেই মাঠের ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিশ্বম্ভরের মুণ্ডহীন বীভৎস ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ। সকালে গ্রামের কিছু লোক জঙ্গলে প্রাকৃতিক কাজকর্ম সারতে এলে তারা বিশ্বম্ভরের মুণ্ডহীন দেহ আবিষ্কার করে।

হরি কাকা বেশ তাচ্ছিল্যের সুরেই বলে ওঠে, “গ্রামে নির্ঘাত কোনো অপদেবতার ছায়া পড়েছে। এরকম নৃশংসভাবে খুন কোনো মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নাকি? কিন্তু গ্রামের কিছু বুদ্ধিজীবী মানুষ আছে না তারা তো সব বিজ্ঞানমনস্ক। তারা এসব ভূত-প্রেত মানতে যাবে কেন? বুঝবে বুঝবে যখন গ্রামের প্রত্যেকটা মানুষ এইভাবে একে একে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তখন সবার টনক নড়বে”, হরি কাকা এক নিমেষে কথাগুলো বলেই যাচ্ছিলেন কিন্তু বীরেনের তাতে কোনো মনোযোগ ছিল না তার মন এখন ভাবছে অন্য কথা। গ্রামে এই সমস্ত কাণ্ডকারখানা শুরু হয়েছে বেশিদিন হয়নি। বীরেন মন দিয়ে মনে করার চেষ্টা করে ঠিক কবে থেকে এই ঘটনাগুলো ঘটছে। কী মনে পড়তেই বীরেন এক মুহূর্তের জন্য নিথর হয়ে গেল। “এই সমস্ত ঘটনা তো সেদিন থেকেই... হ্যাঁ সেদিন থেকেই... তো ঘটছে!” ফিসফিস করে কথাগুলো বলে ওঠে বীরেন। “তবে কি সেখান থেকেই কোনো অভিশাপ লাগল গ্রামে? ওঁর মৃত্যু কি তবে কোনো দোষ পেল? গ্রামের প্রত্যেকটা মানুষের লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরেই তো সেদিনই সে...” ভাবতে গিয়েও থেমে যেতে হয় বীরেনকে। কথা কথাতে খেয়ালই ছিল না যে অনেকটা বেলা হয়ে গেছে। একবার এক্ষুনি বাড়ি যাওয়া দরকার। কী জানি মুনিয়া আর তার মা ঠিক আছে কিনা...

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%