চঞ্চলকুমার ঘোষ

স্কুলের হলঘরে জমা হয়েছেন সব দিদিমণিরা। বেশ কয়েক জন অভিভাবক এসেছেন আর ক্লাস ফোরের ছেলে-মেয়েরা পেছনে বসে। একপাশে বসে সুদীপ্তবাবু। সাহেবদের মতো চেহারা। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন অমলবাবু।
পরিচয় করিয়ে দিই। ইনি হচ্ছেন সুদীপ্ত ঘোষ। শিশুশিক্ষা বিশেষজ্ঞ। বহুদিন ধরে শিশুদের কীভাবে শিক্ষা দেওয়া উচিত সেই নিয়ে গবেষণা করছেন। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের পরামর্শ দেন। আজ সুদীপ্তবাবু আমাদের স্কুলে এসেছেন। সকলের কাছে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলবেন।
টেবিলের পেছনে বড়ো কম্পিউটার। সুদীপ্তবাবু উঠে দাঁড়ালেন। একবার ক্লাসের সকলের দিকে তাকিয়ে বললেন, আপনারাই বলুন কোন বিষয় নিয়ে প্রথমে আমরা আলোচনা করব?
সবাই এ-ওর মুখের দিকে তাকায়। একজন দিদিমণি বললেন, ইতিহাস।
সুদীপ্তবাবু বললেন, খুব ভালো বিষয়। এবার দিদিমণি আর অভিভাবকদের মধ্যে থেকে বলুন আপনারা যখন স্কুলে পড়তেন সেই সময় ইতিহাস পড়তে কেমন লাগত? এখন এই বাচ্চাদের যে ইতিহাস পড়ানো হয় সেই ইতিহাস কেমন লাগে?
সকলে চুপ। এবার উঠে দাঁড়ালেন মণিদীপা। অগের দিন ফোন করেছিলেন অমলবাবু। রাহুলের সঙ্গে স্কুলে এসেছেন। বিয়ের আগে কিছু দিন মাস্টারি করেছিলেন, তারপর ছেড়ে দেন। আস্তে আস্তে বললেন, ইতিহাস পড়তে আমার একদম ভালো লাগত না। শুধু সাল-তারিখ আর রাজারা কে কবে রাজত্ব করেছিল, কে কার সঙ্গে কত বার যুদ্ধ করেছিল, একদম বিরক্তিকর। শুধু পরীক্ষার জন্যে প্রাণপণে মুখস্থ করতাম। পরীক্ষা শেষ হল আর ইতিহাস পুরোনো বইয়ের গাদায় ছুড়ে ফেলে দিলাম।
অভিভাবকদের মধ্যে থেকে এক ভদ্রলোক উঠে দাঁড়ালেন। বললেন, দিদি ঠিকই বলেছেন। আমাদের স্কুলের ইতিহাস পড়লে মনে হয় শুধু যুদ্ধ ছাড়া যেন আর কিছু ছিল না। সবচেয়ে মজার কথা আমরা যে-ইতিহাস পড়েছি, আমাদের বাচ্চাদেরও সেই একই ইতিহাস পড়তে হচ্ছে। ভাবনাচিন্তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মাথা নাড়লেন সুদীপ্তবাবু। একদম ঠিক কথা, পাঁচ-শো বছর আগে শেরশাহ কোন বছরে, কোন মাসে, কোন দিনে হুমায়ুনের সঙ্গে যুদ্ধ করে জিতে ছিলেন তা জেনে আমার কী লাভ? এই রকমের প্রশ্ন শুধু ছাত্র-ছাত্রীদের হয়রান করার জন্যে দেওয়া যেতে পারে। আসলে ইংরেজরা এদেশে যে-শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিল, স্বাধীনতার এত বছর পরেও আমরা সেই শিক্ষা ব্যবস্থার ধারাকেই বয়ে নিয়ে যাছি। সময়, অবস্থা পালটাচ্ছে কিন্তু ইতিহাসের পাঠ একই রয়ে গিয়েছে। আসলে এই ইতিহাস পড়ার একটাই উদ্দেশ্য, পরীক্ষায় কিছু নম্বর পাওয়া। কী শিখলাম, কী জানলাম, তাতে কিছু লাভ হল কি না, সেটা কেউ ভাবে না। শিক্ষকরাও কিছু শেখেন না। ফলে ছাত্ররাও কিছু জানতে পারে না। জানবার আগ্রহও তৈরি হয় না।
ববিতা উঠে দাঁড়ালেন। স্যার একটা কথা বলব। আমরা স্কুল-কলেজে যা পড়েছি, এখন বাচ্চাদের তাই শেখাচ্ছি।
সুদীপ্ত বললেন, একদম ঠিক কথা। দোষটা আপনাদের নয়। দোষ বর্তমান শিক্ষানীতি যাঁরা তৈরি করছেন, শিক্ষাব্যবস্থা যাঁরা পরিচালনা করছেন তাঁদের। এতদিন ধরে যা চলেছে, তার বাইরে অন্য কিছু ভাবতেই এঁরা সাহস করেন না। এখনকার ছেলে-মেয়েরা ক্রিকেট খেলা ভালোবাসে। যদি এই বিষয়টা রাখা যায় ভারতে ক্রিকেট খেলা কী করে এল? ইংরেজদের সঙ্গে এই খেলার সম্পর্ক কী ছিল? তাহলে ব্যাপারটা অনেক বেশি আকর্ষণীয় হবে। আমার ছেলে স্কুলে যাওয়ার সময় রোজ গুরুদুয়ারার পাশ দিয়ে যায়। অথচ সেজানে না এই গুরুদুয়ারা কী। কোন ধর্মের মানুষ এখানে আসেন। সেই ধর্মের প্রবক্তা কে ছিলেন। অথচ মহম্মদ বিন তুঘলকের তিন পাতা বিরক্তিকর জীবনকাহিনি পড়তে হচ্ছে তাকে। তার চেয়ে নানকের তিন পাতা জীবনী পড়লে, জানার বাইরেও অন্য ধর্মের প্রতি ছাত্রদের শ্রদ্ধা বাড়বে। সেই মহামানবের জীবনের আলোয় নিজের জীবনকে বিচার করতে শিখবে। ইতিহাস তখন আর মৃত থাকবে না, হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত সজীব।
এতক্ষণ চুপ করে ছিলেন অমলবাবু, এবার বললেন, আসলে এখন চিন্তাভাবনা সবটাই একমুখী হয়ে গিয়েছে। আমাদের সমাজের যাঁরা মাথা তাঁরা শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করতে চান। আর সব ভাবনা মূল্যহীন হয়ে গিয়েছে।
সুদীপ্তবাবু বললেন, এটা শুধু এদেশের সমস্যা নয়। সমস্ত পৃথিবীর সমস্যা। আর এর বিপদটা কোথায় জানেন, সবাই যখন নিজের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ঐতিহ্য ভুলে শুধু প্রযুক্তি আর ইঞ্জিনিয়ারদের ওপর নির্ভর করে, তখন সেসমাজ কী ভয়ংকর হয়ে ওঠে, ইতিহাস তার সাক্ষী। সেই সমাজটার নাম কি জানেন? হিটলারের জার্মানি। যার একটাই অর্থ ধ্বংস আর মৃত্যু। এই একই কথা লিখেছেন আরেক চিন্তাবিদ। একটা জাতিকে যদি ধ্বংস করতে চাও, কোনো প্রয়োজন নেই তার সঙ্গে কামান বন্দুক নিয়ে যুদ্ধ করার। যদি পারো সুকৌশলে শুধু শেষ করে দাও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। আর তারপর বসে বসে দেখতে থাকো সে-জাতির ধ্বংসকে।
সুদীপ্তবাবুর গলার স্বর সামান্য কাপছিল। আর কিছু বলতে গিয়েই থমকে গেলেন। সামনে বসা ছেলে-মেয়েরা উশখুশ করছে। বড়োদের এসব কথা তাদের ভালো লাগছিল না। চেয়ার ছেড়ে উঠে বাচ্চাদের দিকে এগিয়ে গেলেন সুদীপ্তবাবু।
এতক্ষণ তোমাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম এবার তোমাদের সঙ্গে কথা বলব।
সুদীপ্তবাবু ব্যাগ থেকে একটা সিডি বার করলেন। পেছন থেকে কানখাড়া সৌভিক বলল, কী দেখাবেন স্যার?
একটু হাসলেন সুদীপ্তবাবু। বললেন, আর একটু শান্ত হয়ে বোসো তাহলেই জানতে পারবে।
সবাই চুপ। একটু পরেই কম্পিউটারে লেখা ফুটে উঠল, আমার ভারত। সুদীপ্তবাবু বললেন, আজ আমি তোমাদের ইতিহাস পড়াব। তোমরা রোজ যেমন পড় তেমনি নয়। কম্পিউটারে তোমাদের কয়েকটা ছবি দেখাব। তোমাদের বলতে হবে কোথাকার বা কার ছবি। সে-সম্বন্ধে কী জান। যে সবচেয়ে বেশি বলতে পারবে সেএকটা প্রাইজ পাবে।
টিভিতে একটা মন্দিরের ছবি ফুটে উঠল। সুদীপ্তবাবু বললেন, তোমরা এই মন্দিরের নাম জান?
ছেলে-মেয়েরা সবাই এ-ওর মুখের দিকে তাকায়। রাহুলের মনে হল মন্দিরের ছবিটা কোথায় যেন দেখেছে। সবাই চুপ করে থাকে।
তোমরা কখনো পুরী গিয়েছ? জিজ্ঞেস করলেন সুদীপ্তবাবু।
রাহুলের পাশে বসা বিপুল বলল, আমি এই মন্দিরটা দেখেছি। এর সামনে দাঁড়িয়ে ফোটো তুলেছি।
এবার মনে পড়ে রাহুলের। বাবা-মা-দাদার সঙ্গে এক বছর আগে পুরী গিয়েছিল। কী সুন্দর সমুদ্রের ঢেউ তীরে এসে আছড়ে পড়ছিল। একদিন বেড়াতে গিয়েছিল। সেদিন এই মন্দিরটা দেখেছিল। আড়চোখে এক বার মায়ের দিকে তাকাল। দূরে বসে আছে মা। কাছে থাকলে জিজ্ঞেস করতে পারত। চুপ করে থাকে। আর কারও মুখে কোনো কথা নেই।
এবার সুদীপ্তবাবুই বললেন, এটা হচ্ছে কোণার্কের সূর্যমন্দির। এইরকম মন্দির আমাদের দেশে আর নেই। ওড়িশার এক রাজা এই মন্দির তৈরি করেন। বারো-শো শিল্পী, বারো বছর ধরে এই মন্দির তৈরি করেন। এই মন্দিরকে নিয়ে একটা সুন্দর গল্প আছে। গল্প বলেন সুদীপ্তবাবু।
গল্প শেষ করেই নতুন ছবি দেখান। বেনারসের গঙ্গার ঘাট, তারপর শহিদমিনার, একে একে কেদারনাথ, অজন্তা, কুতুবমিনার, তাজমহল, তারপর গুরু নানক, আর্যভট্ট, বঙ্কিমচন্দ্র। প্রত্যেকটা ছবি দেখান আর তাদের কথা বলেন। কখনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন। সব ছবি দেখানো হতেই সুদীপ্তবাবু বললেন, এতক্ষণ তোমরা যে-যে ছবি দেখলে, পর পর তাদের নাম আর তাদের সম্পর্কে দু-চার লাইন লিখবে। আধ ঘণ্টা সময়। কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করবে না। যতটুকু মনে পড়বে ততটুকু লিখবে। একজন দিদিমণির দিকে মুখ ফেরালেন সুদীপ্তবাবু, বাচ্চাদের পাশের ঘরে নিয়ে গেলে ভালো হয়। আমি ততক্ষণ ওদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলি।
সবাই চলে যেতেই সুদীপ্তবাবু বললেন, আমি চাইনি ছেলে-মেয়েদের সামনে তাদের প্রসঙ্গে আলোচনা করতে। এখন আমরা খোলাখুলি আলোচনা করতে পারি। একটা ব্যাপার কী জানেন, আমাদের আসল সমস্যা অভিভাবকদের নিয়ে। এবার সরাসরি মণিদীপার দিকে তাকিয়ে বললেন, আচ্ছা আপনি বলুন তো কেন আপনার ছেলেকে স্কুলে পড়াচ্ছেন?
কোনো কিছু না ভেবেই মণিদীপা বলল, ও যাতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। পড়াশোনা শেষ করে একটা ভালো চাকরি পায়।
এবার আরেক জনের দিকে তাকালেন সুদীপ্তবাবু, আপনারাও কি তাই বলেন?
প্রায় সকলে মাথা নাড়ে। ছেলে-মেয়েদের উন্নতি হোক এটা চাই।
অল্পক্ষণ চুপ করে থাকেন সুদীপ্তবাবু। নিজের চেয়ার ছেড়ে জানলার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। গোটা হল ঘর জুড়ে নিস্তব্ধতা। হঠাৎ সেই নিস্তব্ধতা ভেঙে সুদীপ্তবাবু বললেন, আমার পরিচিত এক ভদ্রলোকের খুব ইচ্ছে ছিল তাঁর একমাত্র ছেলে ডাক্তার হবে। ছেলেটি পড়াশোনায় ভালো ছিল। ডাক্তারি পাস করল। ভদ্রলোক ছেলেকে বললেন আরও বড়ো ডাক্তার হতে হবে তোমাকে। বিদেশে পড়তে পাঠালেন। পাস করে বিদেশেই রয়ে গেল ছেলে। কয়েক বছর পর ভদ্রলোক একদিন বেলুড় মঠের এক মহারাজকে বলছেন, ছেলেকে ডাক্তারি পড়ালাম, তারপর বিদেশে পাঠালাম। আর সেবিদেশ থেকে ফিরল না। আগে রোজ ফোন করত। তারপর সপ্তাহে এক দিন। ডাক্তারির পসার বাড়ল। এখন মাসে এক দিনও খোঁজ নেয় না বুড়ো বাবা-মা কেমন আছে। আমি তো এ চাইনি মহারাজ।
মহারাজ ভদ্রলোকের দিকে চেয়ে বললেন, আপনার দুঃখ করার কিছু নেই। আপনি চেয়েছিলেন ছেলে বড়ো ডাক্তার হোক। আপনার সে-চাওয়া পূরণ হয়েছে। আপনি তো চাননি ছেলে বড়োমানুষ হোক, ভালোমানুষ হোক। তাই তা হয়নি।
মুহূর্তে সব অভিভাবকদের চোখে-মুখে চাপা অস্বস্তি ফুটে উঠল। হয়তো এ ধরনের কথা শুনতে হবে ভাবেনি কেউ। তাঁরা কিছু বলবার আগেই প্রসঙ্গটুকু পালটে ফেললেন সুদীপ্তবাবু। বললেন, আমার দীর্ঘ শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতার আলোয় সামান্য কয়েকটা কথা বলি। আমি শত শত মানুষকে দেখেছি যারা স্কুল-কলেজের পরীক্ষায় চূড়ান্ত সাফল্য পেয়েও জীবনে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু পরীক্ষা আর নম্বরের কথা না ভেবে সন্তানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসটুকু জাগিয়ে তুলুন। স্কুলের পরীক্ষায় নয়, জীবনের পরীক্ষায় ওরা যেন সফল হতে পারে।
একজন বললেন, আমার ছেলে একদম পড়াশোনা করতে চায় না। ফাঁক পেলেই খেলা করবে। ওর মা দিন-রাত বলছে ওর কিছু হবে না।
হেসে ফেললেন অমলবাবু। বললেন, শুধু আপনার বাড়ি নয়, সব বাড়ির বাবা-মায়েরাই বাচ্চাদের বলেন কিছু হবে না। ছেলে-মেয়েরাও এই কথা শুনতে শুনতে একসময় ভেবেই নেয় সত্যিই তাদের দ্বারা কিছু হবে না। এর থেকে জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাসের অভাব। এতে তাদের গোটা জীবনটাই ধ্বংস হয়ে যায়।
সুদীপ্তবাবু বললেন, আমি ছোটোবেলায় একদম অঙ্ক করতে পারতাম না। কোনোদিন ত্রিশের বেশি পাইনি। আমার বাবার এক বন্ধু ছিলেন অঙ্কের অধ্যাপক। তিনি আমার পড়ার ঘরের দেওয়ালে লিখেছিলেন সুদীপ্ত এবার অঙ্কে আশি পাবে। রোজ ওই লেখাটা দেখতে দেখতে আমার ভেতরেও যেন কীরকম জেদ চেপে গেল। সে-বার আমি অঙ্কে আশির বেশি নম্বর পেয়েছিলাম।
ববিতা বললেন, এই ব্যাপারটা খুব ভালো। আমরা চেষ্টা করে দেখতে পারি।
সুদীপ্তবাবু বললেন, নিশ্চয়ই চেষ্টা করবেন। আপনারা বাচ্চাদের শিক্ষা দেন। পৃথিবীবিখ্যাত এক শিক্ষকের কথা বলি। তিনি শিক্ষকদের প্রসঙ্গে বলতেন, যিনি শুধু বই দেখে পড়িয়ে যান তিনি খারাপ শিক্ষক। যিনি বিষয়টাকে শুধু বুঝিয়ে দেন তিনি মাঝারি মানের শিক্ষক। একজন ভালো শিক্ষক শুধু বোঝান না, তার সঙ্গে উদাহরণও দেন। প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন। আর যাঁরা মহান শিক্ষক তাঁরা ছাত্রদের মধ্যে জ্ঞানের শিখা জ্বালিয়ে দেন। তার আলোয় ছাত্ররা তখন নিজেরাই এগিয়ে চলেন।
অমলবাবু বললেন, বড়ো সুন্দর কথা বলেছেন। ছাত্রদের মধ্যে যদি জ্ঞানের আলো জ্বেলে দিতে না পারি, তবে আমরা কীসের শিক্ষক।
দরজার বাইরে পায়ের শব্দ। ছেলে-মেয়েরা ফিরে এসেছে। সুদীপ্তবাবু বললেন, এসো এসো সবাই, দেখি তোমরা কী লিখেছ।
পর পর খাতা দেখেন সুদীপ্তবাবু। সবচেয়ে ভালো লিখেছে অরূপ। সাতটা ছবির কথা। তারপর সৌভিক আর বিকাশ রাহুল সরস্বতী ছয়টা করে। খাতাগুলো ফিরিয়ে দিয়ে সুদীপ্তবাবু বললেন, আর এক বার তোমাদের সব ছবি দেখাচ্ছি। এবার মন দিয়ে দেখে নাও। এরপর সবাই যেন দশটা ছবির কথা লিখতে পারো।
রাহুল গুনতে থাকে চারটে নাম বাদ পড়েছে। অজন্তা, কুতুবমিনার, গুরু নানক, আর্যভট্ট। মনে মনে ভেবে নিল আর কোনোদিন এই দশটা ছবি দেখে চিনতে ভুল হবে না তার।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন