অমলমামা

চঞ্চলকুমার ঘোষ

বড়ো লোহার গেট, তার ওপর বড়ো বড়ো করে লেখা, ‘সবুজ পাখি’।

দু-বার হর্ন দিতেই এক জন গেট খুলে দিল। গৌতম মুখ বাড়ালেন।

আমরা কলকাতা থেকে আসছি। অমলবাবুর আত্মীয়।

আসুন বাবু।

গাড়ি ভেতরে ঢোকে। পাঁচিল ঘেরা বিরাট জায়গা। চারদিকেই গাছপালা। ছোটো মাঠ, বাগান। একদিকে পর পর ঘর। গ্রামের বাড়ির মতো দেখতে। দেওয়ালে রংবেরঙের কাজ করা। সামনে লম্বা বারান্দা। ধারে ধারে ফুলের টব। আরেক দিকে পুরোনো দিনের রাজবাড়ির মতো বেশ বড়ো দোতলা বাড়ি। সামনে থামওয়ালা বারান্দা। বারান্দার পাশে গাড়ি থামালেন গৌতম। একে একে গাড়ি থেকে নামেন গৌতম, রানু, মণিদীপা আর রাহুল। পার্থবাবু অফিসের জন্যে আসতে পারেননি।

গাড়ির শব্দেই মাঝবয়েসি সুন্দর চেহারার অমলবাবু বেরিয়ে এলেন।

রানু বলে ওঠেন, অমলদা আমরা এসে গেছি।

একে একে সকলে প্রণাম করে। রাহুল প্রণাম করবার আগেই বুকে জড়িয়ে ধরলেন অমলবাবু।

কী মিষ্টি চেহারা। কী নাম তোমার?

রাহুল।

রাহুল দ্রাবিড়?

হেসে ফেলল রাহুল। আমি রাহুল দ্রাবিড়কে চিনি। টিভিতে দেখছি। ক্রিকেট খেলে।

তোমার কি রাহুল দ্রাবিড়ের মতো ক্রিকেট খেলতে ইচ্ছে করে?

না, আমি শচীনের মতো খেলি।

রাহুলের হাতটা ধরে ঝাঁকালেন অমলবাবু, তোমার সঙ্গে আমার কী মিল দ্যাখো, আমিও শচীনের মতো খেলি। আজ আমরা সবাই মিলে ক্রিকেট খেলব।

হি-হি করে হেসে উঠল রাহুল।

মা আর মেজোমা বল ধরতে গেলে উলটে পড়বে।

গৌতম পাশ থেকে বললেন, আমিও উলটে পড়তে পারি।

অমলবাবু বললেন, ঠিক আছে, আগে সবাই ঘরে চলো। বিকেলে ক্রিকেট খেলা যাবে।

ঘরে ঢোকে সবাই। সামনে বিরাট হলঘর। গোটা হলঘরটা ছবি আর পুতুল দিয়ে সাজানো। অমলবাবু বললেন, এটা হচ্ছে আমার ছেলে-মেয়েদের খেলাঘর। এখানে ওরা খাওয়াদাওয়া করে, নাচ-গান করে, আবার মারামারিও করে।

রাহুলের দিকে চোখ টিপলেন গৌতম। সামনে সিঁড়ি, সবাই ওপরে উঠে আসে। পর পর ঘর।

এখানে আর কে থাকে? জিজ্ঞেস করলেন মণিদীপা।

ওপরে আমি একা। নীচে দারোয়ান, বংশী বলে একটা ছেলে আর তার বউ। আর এক জন কাজের দিদি।

চওড়া বারান্দা। চারদিকে ফুলের টব। একটা দোলনা টাঙানো। পর পর বেতের চেয়ার। সবাই বসে পড়ে।

রানু বললেন, অমলদা তোমার বারান্দাটা ভারি সুন্দর। বাড়িটাও খুব সুন্দর, মনে হচ্ছে থেকে যাই।

হাসলেন অমলবাবু। কে তোকে থাকতে বারণ করছে। আমি তো চাইছি তোরা আয়। সবাই মিলে বাচ্চাদের নিয়ে নতুন একটা জগৎ সৃষ্টি করব।

রাহুল বলে ওঠে, আমি দোলনায় উঠব?

নিশ্চয়ই। তোমাদের জন্যেই তো দোলনা বানিয়েছি।

মণিদীপা বলে ওঠেন, বেশি জোরে দুলবি না।

অমলবাবু মণিদীপার দিকে চেয়ে হেসে ফেললেন। এখানে একদম শাসন নয়। ওর মন যা চায় করবে।

গৌতম বললেন, দারুণ। রাহুল এইরকম একটা জায়গা খুঁজছিল। এবার একটা কথা জিজ্ঞাসা করি দাদা, ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার, পরে হলেন চিত্রশিল্পী। এইরকম একটা স্কুল করার ভাবনা মাথায় এল কী করে?

অমলবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে সামনের বাগানের দিকে তাকিয়ে থাকেন। তারপর বললেন, ছোটোবেলা থেকে আমার ঝোঁক ছিল ছবি আঁকা শিখব, বাড়ির কারও মত ছিল না। সবাই বলত ছবি আঁকা শিখে কী হবে। পেটের ভাত জুটবে না। পড়াশোনায় খারাপ ছিলাম না। ভালোই রেজাল্ট হল। আর্ট কলেজের ফর্ম নিয়ে এসেও ভরতি হতে পারলাম না। বাড়ির সকলের চাপে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরতি হলাম। কোনোরকমে পাসও করে গেলাম। দু-বছর চাকরি করলাম। ক্রমশই মনে হতে লাগল এই লাইনে থাকলে আমি খুব বেশি হলে কিছু টাকা আয় করতে পারি, তার বেশি কিছু করতে পারব না। চাকরি করে যা পেয়েছিলাম তাই নিয়ে ফ্রান্সে চলে গেলাম। আমরা যে-কলেজে ছিলাম সেখানে সারাপৃথিবী থেকে শিল্পীরা এসে ছবি আঁকা শিখত। দশ বছর ইউরোপে ছিলাম। ফ্রান্স থেকে ফিরে দিল্লির আর্ট কলেজে কয়েক বছর মাস্টারি করলাম। কেন জানি না, একসময় আর ভালো লাগল না। মনে হত যারা শিখছে, আর যাঁরা শেখাচ্ছেন সবাই যেন এক-একটা যন্ত্র। নতুন কোনো কিছু করবার ইচ্ছে নেই। শুধু পরীক্ষায় পাস করবার জন্যে পড়াশোনা করা। কলেজের মাস্টারি ছেড়ে দিলাম। একটা নামকরা স্কুলে ছবি আঁকার চাকরি নিলাম। দেশে-বিদেশে আমার যা ছবি বিক্রি হয়, তাতে কোথাও চাকরি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। তবু নিলাম শুধু বাচ্চাদের সঙ্গ পাব বলে। তিন বছর সেই স্কুলে ছিলাম। বাচ্চাদের দেখতাম ঠিক যেন দম দেওয়া পুতুল। বাবা-মা আর স্কুলের মাস্টাররা যেভাবে চাবি ঘোরাচ্ছে তারা সেইভাবে চলছে। ভয়ংকর কষ্ট হত। অনুভব করতাম শিশুদের শৈশবটাই হারিয়ে যাচ্ছে।

অমলবাবুর কথায় সায় দেন গৌতমবাবু, আপনি ঠিকই বলেছেন দাদা। আমি কলেজে শিক্ষকতা করলেও বাচ্চাদের তো দেখি। নিজেদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা বলে কিছু নেই, ওদের খেলার সময় নেই, কিছু দেখার সময় নেই। চোখ বাঁধা ঘোড়ার মতো শুধু বাবা-মায়ের ইচ্ছায় ছুটে চলেছে। হয় ডাক্তার নয়তো হাফ ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে।

আগের মতোই শান্তভাবে অমলবাবু বললেন, আমি দেখেছি কীভাবে ওদের স্বাভাবিক জীবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বেশিরভাগই শেষপর্যন্ত হতাশার শিকার হচ্ছে। পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে পারেনি, বাবা-মা মারবে সেই ভয়ে আমাদের স্কুলের দুটো ছেলে স্কুল-বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করল। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। ঘুমের মধ্যে ওদের মুখটা ভেসে উঠত। ওখানে আর ভালো লাগল না। স্কুলের চাকরি ছেড়ে দিলাম। মনে হল নিজে কিছু করব। জানি গোটা দেশ, সমাজ যে-পথে চলেছে তার উলটো দিকে হাঁটা অসম্ভব। তবু মনে হল চেষ্টা করে দেখি। সেই সময় একটা আর্ট এগজিবিশন করতে জাপান গিয়েছিলাম। সেখানে একটা স্কুল দেখলাম। দেখলাম কীভাবে প্রকৃতির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে শিশুর মনের বিকাশ ঘটানো হয়। পুরো তিন মাস ছিলাম সেই স্কুলে। তখনই ঠিক করলাম বাংলায় এসে এখানকার বাচ্চাদের জন্যে এইরকম একটা স্কুল করব।

রানু জিজ্ঞাসা করেন, তুমি তো বাইরে ছিলে দাদা। এখানে এই বাড়ি, এত জায়গা কী করে পেলে?

এসব আমার এক বন্ধু বিনোদের। আমরা একসঙ্গে ফ্রান্সে ছিলাম। বিয়ে-থা করেনি বিনোদ। অদ্ভুত প্রাণবন্ত। ওরও ইচ্ছে ছিল নতুন কিছু করবার। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল। আমি যখন দিল্লিতে ছিলাম, বিনোদের ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে। আমার কাছে নিয়ে এলাম। নিজেই সব কিছু আমার নামে লিখে দিল।

বিনোদ এখন কোথায়?

আমাকে সব কিছু লিখে দেওয়ার তিন মাসের মধ্যেই বিনোদ মারা গেল। মাঝে মাঝে ভীষণ কষ্ট হয়, এত কিছু করলাম, বিনোদ কিছু দেখে যেতে পারল না।

অল্পবয়েসি একজন লোক ঘরে ঢোকে।

চলুন, আপনাদের জন্যে খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

অমলবাবু পরিচয় করিয়ে দেন, এ বংশী। বলতে পারো এখানকার সব। ও না থাকলে এখানে একা আমি কিছুই করতে পারতাম না।

ক-জন শিক্ষক আছেন? জিজ্ঞেস করলেন গৌতম।

পাঁচ জন দিদিমণি। সবাইকে আমি তৈরি করে নিয়েছি। আর দু-জন আছেন, যাঁরা সপ্তাহে তিন দিন আসেন। চলো খেতে খেতে কথা হবে।

দুপুরের খাওয়া শেষ করেই অমলবাবু বললেন, রাহুল চলো, আমার স্কুল দেখিয়ে নিয়ে আসি।

আমরা যাব? জিজ্ঞেস করলেন মণিদীপা।

তোমরা বিশ্রাম করো। ওর সঙ্গে আমার আলাদা কথা আছে।

নীচে এলেন অমলবাবু। মাঠের পাশ দিয়ে রাস্তা সোজা গিয়েছে স্কুলে। পর পর ঘর। ঘরের সামনে লেখা— দোয়েল, কোয়েল, ময়না, ময়ূর। সব দেওয়ালেই ছবি আঁকা। ঘরে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল রাহুল। তাদের স্কুলের মতো বেঞ্চি নেই। বড়ো সতরঞ্চি পাতা। ছোটো ছোটো ডেস্ক। ঘরের দেওয়ালে বিখ্যাত মানুষদের ছবি। কয়েক জনকে চিনতে পারে রাহুল। বিবেকানন্দ, গান্ধীজি, সুভাষচন্দ্র। ঘরের একদিকে একটা বড়ো টেবিল। তাকে ঘিরে ছোটো ছোটো চেয়ার। এখানে সবাই মাটিতে বসে না চেয়ারে বসে, বুঝতে পারছিল না। জিজ্ঞেস করল, আমরা কোথায় বসব মামা?

তোমার কোথায় বসতে ইচ্ছে করছে?

একটু ভেবে নিল রাহুল। বলল, আমার মাটিতে বসতে ইচ্ছে করছে।

মুখোমুখি বসে দু-জন। পকেট থেকে লজেন্স বার করলেন অমলবাবু।

এই স্কুল কেমন লাগছে?

খুব ভালো লাগছে। কত ছবি। ফুল গাছ।

একটু চুপ করে থেকে অমলবাবু বললেন, ছবি ফুল ছাড়া তোমার আর কী ভালো লাগে?

আমার টিভিতে কার্টুন দেখতে ভালো লাগে। হাসিমুখে জবাব দিল রাহুল।

ছোটো বাচ্চাদের মতন হাততালি দিয়ে উঠলেন অমলবাবু। আমারও তোমার মতন কার্টুন দেখতে খুব ভালো লাগে। আর কী ভালো লাগে তোমার?

পাখি দেখতে আর নতুন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে। জান কেউ আমার সঙ্গে কথা বলে না। শুধু মেজোজেঠু যা-একটু কথা বলে। সবাই বলে, তোর কিছু হবে না। তুই কিছু পারিস না। পড়া না পারলে বাবা খুব মারে। আগের স্কুলের আন্টিরা ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত। আমার খুব খারাপ লাগত। আমি ছোটো বলে বাড়ির কেউ আমার কথা শোনে না।

অমলবাবু আস্তে আস্তে বললেন, আমার ছোটোদের সঙ্গে কথা বলতেই বেশি ভালো লাগে। সেই জন্যেই তোমাকে নিয়ে এখানে চলে এলাম। তুমি তো বললে না আর কী কী তোমার ভালো লাগে?

আপনমনে কত কথা বলে রাহুল। সব মনোযোগ দিয়ে শোনেন অমলবাবু। শিশুর মনের ভাব-ভাবনা। সব মিলেমিশে যেন রামধনুর সাত রং।

আশ্চর্য লাগে রাহুলের। এই প্রথম কেউ তার কথা এতক্ষণ মন দিয়ে শুনল। মনে মনে বলে এই মামা খুব ভালো।

ঘড়ির দিকে তাকালেন অমলবাবু। দুটো বাজে। প্রায় এক ঘণ্টা এখানে এসেছেন। সবাই তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে। বললেন, রাহুল তোমার পড়াশোনা করতে কেমন লাগে?

পড়াশোনার কথা বলতেই এতক্ষণের আনন্দ যেন নিরানন্দ হয়ে গেল। মুখ বেঁকিয়ে রাহুল বলল, একদম ভালো লাগে না।

একটু ভাবলেন অমলবাবু। মুখ নীচু করে রাহুলের প্রায় মুখের সামনে এসে বললেন, আমি যখন ছোটো ছিলাম একদম পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করত না। অঙ্ক দেখলেই ভয় লাগত। অঙ্ক করতে পারতাম না। বাড়ির সকলে শুধু বকত। তারপর হঠাৎ একদিন এক সাধুর সঙ্গে দেখা। সেই সাধু একটা মন্ত্র লিখে দিল। ব্যাস তারপরই হয়ে গেল।

চোখ দুটো বড়ো বড়ো করে রাহুল বলল, কী মন্ত্র মামা, আমাকে শিখিয়ে দেবে? অঙ্ক করতে পারি না বলে সবাই আমাকেও বকে।

ঠিক আছে আমি তোমাকে শিখিয়ে দেব।

এখনই শিখিয়ে দাও। উৎসাহে লাফিয়ে উঠল রাহুল।

সবসময়ে এই মন্ত্র শেখানো যায় না। পাঁজি দেখে, দিন ঠিক করে, তারপর তোমাকে শিখিয়ে দেব। তবে কাউকে কিছু বলবে না। এখন চলো, সবাই আমাদের জন্যে অপেক্ষা করছে।

ঘরে ফিরে আসতেই রানু বললেন, মামা-ভাগ্নে কী কথা হল?

সঙ্গে সঙ্গে রাহুল বলে উঠল, মামা আমাকে একটা...। তাড়াতাড়ি জিভ কাটে।

কী হল? জিজ্ঞেস করেন মণিদীপা।

অমলবাবু মুচকি হাসেন। ও আমার আর রাহুলের সঙ্গে গোপন কথা। তোমাদের বলা যাবে না।

গৌতমবাবু বললেন, কেমন বুঝলেন দাদা?

কিছু ভাবলেন অমলবাবু। তারপর বললেন, রাহুল খুব বুদ্ধিমান ছেলে। তবে আর সবার থেকে একটু আলাদা। রানু আমাকে বলেছে তোমাদের বাড়ির সব ছেলে-মেয়েরাই পড়াশোনায় ভালো। সমস্যাটা সেখানেই। বাড়ির মধ্যে এক জন একটু অন্যরকম হতেই পারে, সেটা তোমরা মানতে পারছ না। জোর করে বাচ্চার ওপর নিজেদের ভাব আর ভাবনাগুলো চাপিয়ে দিচ্ছ। এর পরিণতিটা মোটেই ভালো হচ্ছে না। একটা বিষয় বুঝতে হবে, বড়োদের মন নিয়ে ছোটোদের কিছু শেখানো যায় না, বোঝানোও যায় না।

মণিদীপা বলল, ওর সঙ্গে আর যেসব বাচ্চা পড়ছে তারা যখন পারছে ও কেন পারবে না?

এটাই তোমাদের বড়ো সমস্যা। পৃথিবীর সকলকে এক গোত্রে ফেলতে চাও। অবশ্য দোষটা তোমাদের নয়, সমাজ ব্যবস্থার। আমি দেখেছি দেশে অনেক প্রতিভা আছে। আবার দেখেছি সেই প্রতিভাকে কীভাবে নষ্ট করা হচ্ছে। তাই আমার স্কুলে ভরতির আগে বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে নিই। সবাইকে এখানে ভরতি করি না। বুঝি যাদের মধ্যে কোনো সম্ভাবনা আছে, চেষ্টা করি তাদের এখানে এনে যদি প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে পারি। আমি চাই শিশুরা যন্ত্রমানব না হয়ে এমন মানুষ হোক, যারা দেশ জাতি গোটা মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

গৌতমবাবু বললেন, একটা কথা বলব দাদা। দেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় যেসব নিয়ম আছে তাকে তো মানতেই হবে। স্কুলের সিলেবাস, পরীক্ষা, ডিগ্রি এগুলো তো চাই।

মাথা নাড়লেন অমলবাবু, নিশ্চয়ই চাই। বাস্তবকে অস্বীকার করার উপায় নেই। যে-যুগের যা, তাকে মানতেই হবে। তবু একটা কথা— আমরা যন্ত্রকে চালাব, যন্ত্র যেন আমাদের না চালায়। সিলেবাস, পরীক্ষা, মানুষের প্রয়োজনে, সব মানুষের উন্নতির জন্যে। যখন সিলেবাস আর পরীক্ষা মানুষের কল্যাণকে ছাপিয়ে শুধু নিয়ম হয়ে ওঠে তখন তা কারও কল্যাণ করে না। তাই আমি সরকারি নিয়ম মানি, তবে আমার নিজের মতো করে।

গৌতমবাবু বললেন, আপনি কি সরকারি কোনো সাহায্য পান?

না কারও কোনো সাহায্য নিই না। ছেলে-মেয়েদের কাছ থেকেও কোনো অর্থ নিই না।

মণিদীপা বললেন, তাহলে স্কুল চালাবার এত টাকা কোথা থেকে পান?

একটা কথা কী জান মণিদীপা, ভালো কাজে কখনো টাকার অভাব হয় না। আমার বাপ-ঠাকুরদা যা রেখে গিয়েছেন, তা ছাড়া বন্ধুর বিরাট সম্পত্তি, আমি ছবি এঁকে যা পাই তাতে স্কুল চালাতে কোনো অসুবিধে হয় না।

আমার ছেলেটাকে কেমন দেখলেন দাদা?

খুব ভালো। ওর মধ্যে অনেক সম্ভাবনা আছে। ও এখানে পড়লে একদিন হয়তো কিছু করে দেখাতে পারবে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%