চঞ্চলকুমার ঘোষ

রোল নম্বর সিক্সটিন
ইয়েস ম্যাম।
রোল নম্বর সেভেনটিন।
প্রেজেন্ট প্লিস।
রোল এইটটিন।
কোনো উত্তর নেই। আবার ডাক দিলেন সুপর্ণা ম্যাম।
রোল নম্বর এইটটিন। রাহুল বোস।
এবারও কোনো উত্তর নেই। মুখ তুলে তাকালেন সুপর্ণা। গোটা ক্লাসঘরে চোখ বুলিয়ে নিলেন। ক্লাসে কুড়িজন ছেলে-মেয়ে, এর মধ্যে কোথাও রাহুল নেই। স্পষ্ট মনে আছে প্রেয়ারের সময় রাহুলকে দেখেছেন। তারপর সবাই ক্লাসে এসেছে। শুধু রাহুল নেই। রাগ হচ্ছিল। এই ছেলেটাকে নিয়ে যত ঝামেলা। আবার গোটা ক্লাসে চোখ বুলোলেন। রাহুল ছাড়া সকলে রয়েছে।
নিজের মনেই বিড়বিড় করেন সুপর্ণা। এখন যদি ছেলেটাকে না পাওয়া যায়? তাঁকেই সব কৈফিয়ত দিতে হবে। মাথার ভেতরটা ঝিমঝিম করে উঠল। আসলে সব ব্যাপারেই সুপর্ণার একটু বেশি টেনশন। জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কেউ রাহুলকে দেখেছ?
সকলে এ-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। সেকেণ্ড বেঞ্চ থেকে বনি বলল, প্রেয়ারের সময় রাহুল আমার পেছনে দাঁড়িয়েছিল। ক্লাসে ঢোকার সময় বলল আমি আসছি।
তারপর কোথায় গেল?
আমি খেয়াল করিনি।
থার্ড বেঞ্চ থেকে পৌলোমী বলল, প্রেয়ারের আগে রাহুল আমাকে গার্ডেনে যাওয়ার কথা বলছিল।
পেছনের বেঞ্চ থেকে টুকুন বলল, আমি দেখেছি ও গার্ডেনের দিকে যাচ্ছে।
গার্ডেন! আঁতকে উঠলেন সুপর্ণা। এখন যদি হেডমিস্ট্রেসের চোখে পড়ে। প্রায় লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। তোমরা চুপ করে বোসো, আমি আসছি। কেউ কোনো গোলমাল করবে না।
প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর নিউ-হরাইজন স্কুল। শহরের সবচেয়ে নামি স্কুল। এখানকার বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রীই বড়োলোকের ঘরের। আদবকায়দা একেবারে সাহেবি ধরনের। লম্বা করিডোর। পর পর ক্লাসরুম। সব ক্লাসেই টিচাররা পড়াচ্ছেন। দারোয়ান, মাসি কাউকেই চোখে পড়ল না। হনহন করে হাঁটছিলেন সুপর্ণা। তাঁর পায়ের শব্দ ছাড়া চারদিক শান্ত। করিডর পার হয়ে বাঁধানো চাতাল। ডান দিকে খেলার মাঠ। বাঁ-দিকে বাগান। অনেকটা এলাকা জুড়ে নানা রকমের গাছ। সরু সরু ইটের রাস্তা। কোন দিকে যাবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না সুপর্ণা। নিজেকে বিভ্রান্তের মতো লাগছিল।
এক জন মাসি আসছিল। সুপর্ণাকে দেখেই দাঁড়িয়ে পড়ল।
কী হয়েছে, ম্যাডাম?
তাড়াতাড়ি সুপর্ণা জিজ্ঞাসা করলেন, এদিকে কোনো ছেলেকে দেখেছ?
কোন ছেলে?
ক্লাস ফোরে পড়ে। রাহুল বোস।
যে ক্লাসের টিউব লাইট ভেঙেছিল?
হ্যাঁ। ছেলেটা জ্বালিয়ে শেষ করল।
ক্লাসে নেই?
না। একজন বলল প্রেয়ারের পর গার্ডেনের দিকে গিয়েছে?
কী হয়েছে?
ভূত দেখার মতো চমকে উঠলেন সুপর্ণা। কখন হেডমিস্ট্রেস পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন খেয়ালই করেননি। ভেতরে ভেতরে ঘামতে আরম্ভ করেছেন। আমতা আমতা করে বললেন, রাহুল।
রাহুল! হেডমিস্ট্রেসের চোখে-মুখে চাপা বিরক্তি ফুটে উঠল। হরিবল! এই নিয়ে এক মাসে চার বার কমপ্লেন এল। এবার কী হয়েছে?
প্রেয়ারের সময় লাইনে ছিল। তারপর ক্লাসে নেই।
ক্লাস ফোরের একটা ছেলে প্রেয়ারের পর কোথায় গেল তোমরা খেয়াল করনি? চেঁচিয়ে উঠলেন হেডমিস্ট্রেস।
অসম্ভব কড়া মেজাজের মহিলা। কোনো কিছুতেই উনিশ থেকে বিশ হওয়ার উপায় নেই। হনহন করে নিজেই এগিয়ে গেলেন হেডমিস্ট্রেস। করিডোর পেরিয়ে বাগানের দিকে যেতেই গেটের দারোয়ান ছুটে এল।
কী হয়েছে ম্যাডাম?
ক্লাস ফোরের একটা ছেলে ক্লাস পালিয়ে বাগানের দিকে গিয়েছে। হেডমিস্ট্রেসের গলার স্বরটা থমথম করছিল।
আমি দেখছি। বাগানের দিকে ছুটতে আরম্ভ করল দারোয়ান।
কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না সুপর্ণা। এক বার আড়চোখে হেডমিস্ট্রেসের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি দেখব?
ক্লাস বন্ধ করে এখন ছেলে খুঁজতে হচ্ছে। হেডমিস্ট্রেসের নাকের ডগাটা লাল হয়ে ওঠে। তবু পায়ে পায়ে এগিয়ে যান সুপর্ণা। এতবড়ো বাগানের মধ্যে ছেলেটা কোথায় আছে কে জানে। না-পাওয়া গেলে তার ওপরেই সব দোষ এসে যাবে। তখন থানা-পুলিশ। বুকের ভেতরটায় কেমন দমবন্ধ লাগে। কনভেন্টে পড়া মেয়ে। ঠাকুর-দেবতায় খুব-একটা বিশ্বাস করেন না। তবু নিজের মনেই বিড়বিড় করেন, ঠাকুর ছেলেটাকে পাইয়ে দাও।
হঠাৎ কারও ডাক শুনেই মুখ ফেরালেন। মাসি আর দারোয়ান আসছে, দু-জনের মাঝখানে রাহুল।
ওই তো পেয়েছে। চেঁচিয়ে ওঠেন সুপর্ণা।
রাহুল সামনে আসতেই বাঘের মতো লাফ দিয়ে পড়লেন হেডমিস্ট্রেস। কোথায় গিয়েছিলি?
মাসি বলল, পাঁচিলের ধারে একটা গাছে মৌচাক হয়েছে। তার তলায় লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
সর্বনাশ! এমনভাবে আঁতকে উঠলেন হেডমিস্ট্রেস, যেন মৌমাছির ঝাঁক তাঁকেই তাড়া করেছে।
ওখানে গিয়ে কী করছিলি?
মুখ তুলে তাকাল রাহুল। রোগা ফর্সা, বড়ো বড়ো চোখ, সহজসরল মুখ। এক বার হেডমিস্ট্রেস, তারপর সুপর্ণা ম্যামের দিকে তাকিয়ে বলল, মৌমাছির মধু কেমন করে পড়ে, দেখছিলাম।
যদি তোকে মৌমাছি কামড়াত? চেঁচিয়ে উঠলেন হেডমিস্ট্রেস। গার্জেনের কাছে হাজার কৈফিয়ত দিতে হত আমাদের। সুপর্ণা তুমি ওকে ক্লাসে নিয়ে যাও, আমি এখনই ওর গার্জেন কল করছি। একটা ছেলের জন্যে গোটা স্কুলের বদনাম হয়ে যাবে। এ ছেলেকে স্কুলে রাখা যাবে না।
সুপর্ণাও চাইছিলেন হেডমিস্ট্রেসের সামনে থেকে সরে যেতে। তাড়াতাড়ি রাহুলের দিকে ফিরে বললেন, ক্লাসে চল। তোর জন্যে গোটা ক্লাসের পড়া বন্ধ হয়ে আছে।
আন্টি নেই, গোটা ক্লাস জুড়ে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে। পেছনের বেঞ্চ থেকে শৌনক কাগজের বল ছুড়ছিল পলাশের দিকে। পলাশ পালটা বল ছোড়বার জন্যে হাত তুলতেই দেখল ক্লাসে ম্যাম ঢুকছেন। আবার ক্লাস শান্ত। রাহুল পেছনের দিকে বসে। নিজের সিটের দিকে যেতেই সুপর্ণা বললেন, রাহুল আজ থেকে তুই সামনের বেঞ্চে বসবি।
বিকাশ আর পিনাকী সামনের বেঞ্চে বসে। একটু সরে গিয়ে রাহুলকে বসতে দিল।
সুপর্ণা বই নিলেন, কাল ইংরেজি গ্রামারে নাউন পড়িয়েছিলাম। রাহুল তুই বল, নাউন কত প্রকার ও কী কী?
উঠে দাঁড়াল রাহুল। নাউন শব্দটা মাথার মধ্যে কেমন ঘুরপাক খায়। আগের দিন বাড়িতে নবনীতা মিস হোমটাস্ক বোঝাচ্ছিলেন। রাহুল আড়চোখে দেখছিল দেওয়ালে একটা টিকটিকি কেমন করে প্রজাপতি ধরবার জন্যে গুটিগুটি পায়ে এগোচ্ছিল। পড়া বুঝিয়ে দেওয়ার পর প্রতিদিনই পড়া জিজ্ঞেস করেন মিস। ফোনে কেউ কিছু বলতেই মিস রাহুলের দিকে ফিরে জিজ্ঞেস করলেন নাউন বুঝেছ? পাছে পড়া জিজ্ঞেস করেন, তাড়াতাড়ি মাথা নাড়ে বুঝেছি মিস। মিস মোবাইলটা ব্যাগে ঢোকাতে ঢোকাতে বললেন, এক বার রিডিং দিয়ে নাও অসুবিধে হবে না। মিস চলে যেতেই এক লাফে উঠে পড়ল রাহুল। টিকটিকিটা তখনও প্রজাপতিকে ধরতে পারেনি। গুটিগুটি পায়ে তার দিকে এগিয়ে গেল রাহুল।
অল্পক্ষণের জন্যে আনমনা হয়ে গিয়েছিল রাহুল। মুখ তুলে তাকাল সুপর্ণা ম্যামের দিকে।
গম্ভীর গলায় আবার জিজ্ঞেস করলেন সুপর্ণা, কী হল, নাউন কত প্রকার বল?
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে রাহুল। চোখের সামনে প্রজাপতি আর টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বলল, মনে পড়ছে না ম্যাম।
গেট আউট ফ্রম দ্য ক্লাস। রাগে ফেটে পড়লেন সুপর্ণা। ইচ্ছে করছিল এক চড় লাগিয়ে দেন রাহুলের গালে। তাঁদের স্কুলে ছেলে-মেয়েদের মারা বারণ। কারও গায়ে হাত দেওয়া চলবে না। মুখে যেটুকু বকাবকি করা যায়।
মাথা নীচু করে ক্লাসের বাইরে বেরিয়ে এল রাহুল। দরজার বাইরে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। অন্য ক্লাসের ছেলে-মেয়েরাও তাকে দেখতে পায়। সেটাই ভীষণ লজ্জার।
ঘণ্টা পড়ে। ফার্স্ট পিরিয়ড শেষ। পরের ক্লাস শোভা ম্যামের। ম্যাম অঙ্ক করান। অঙ্ক ক্লাসে রোজই বকা খায় রাহুল। কোনোদিনই অঙ্কটা মাথার মধ্যে ঢোকে না। মাঝে মাঝে মনে হয় এমন একটা বিচ্ছিরি বিষয় কেন যে পড়তে হয়। যদি অঙ্ক না থাকত, তাহলে দারুণ হত।
রাহুল বোস। দরজার সামনে স্কুলের মাসি এসে দাঁড়ায়। হেডমিস ডাকছেন।
শোভা রাহুলের দিকে তাকালেন। বললেন, আজ আবার কী করেছিস?
রাহুল কিছু বলবার আগেই পাশ থেকে একজন বলল, প্রেয়ারের পর ও ক্লাসে আসেনি। বাগানে গিয়ে মৌচাক দেখছিল। ম্যাম গিয়ে ওকে খুঁজে নিয়ে এসেছেন।
বিরক্ত মুখে শোভা বললেন, গোটা স্কুলে তোকে নিয়েই যত প্রবলেম। পড়াশোনা করবি না, সবাইকে জ্বালাতন করবি। যা দ্যাখ হেডমিস্ট্রেস কী পানিশমেন্ট দেন।
আর দাঁড়াল না মাসি। হেডমিস্ট্রেসের ঘরের সামনে এসেই থমকে গেল রাহুল। বাড়ির কেউ এসেছে। তাদের লাল মারুতিটা অফিস ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে। কিছু বলার আগেই মাসি বলল, যাও ভেতরে যাও।
এতক্ষণ পর পা কাঁপতে আরম্ভ করে রাহুলের। হেডমিস্ট্রেসের চেয়েও বেশি ভয় বাবাকে। বাবা মুখে কিছু বলে না। মোটা স্কেলটা পিঠের ওপর ভাঙে। এক পলক তাকাল। ভেতরে পাশাপাশি বসে বাবা আর মা। সামনের চেয়ারে হেডমিস্ট্রেস । ডান দিকে সুপর্ণা ম্যাম। তার পাশে আর একজন ম্যাম। সকলের মুখ গম্ভীর। রাহুলকে দেখেই হেডমিস্ট্রেস বলে উঠলেন, রাহুল এসে গেছে।
কেউ কিছু বলবার আগেই বাবা বললেন, কী করেছিস তুই?
মাথা নীচু করে চুপ করে থাকে রাহুল। এবার বাবা ধমকে ওঠেন, বল কী করেছিস?
রাহুল বুঝতে পারে চুপ করে থেকে লাভ নেই। মুখ তুলে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, মৌচাক দেখতে গিয়েছিলাম।
মণিদীপা ছেলের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠেন, স্কুলে এসে ক্লাসে না গিয়ে মৌচাক দেখতে যাওয়া! তোর নামে আমাদের এত কমপ্লেন শুনতে হচ্ছে।
হেডমিস্ট্রেস বিরক্ত মুখে বললেন, দেখুন ম্যাডাম, এর আগেও আমি তিন বার রাহুলের নামে কমপ্লেন করেছি। পড়াশোনা করে না। তা ছাড়া ওর জন্যে অন্য ছেলে-মেয়েদেরও ডিসটার্ব হচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো কথা ও যেসব কাজ করে, তাতে যেকোনো সময় বড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তখন দায়িত্ব কে নেবে। আগের সপ্তাহেই ক্লাসের টিউব-লাইট ভেঙেছিল। ভাগ্যিস সেই সময়ে সেখানে কেউ ছিল না। স্কুলের সব ছেলে-মেয়েকে আলাদা করে নজর রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
খানিকটা দ্বিধাগ্রস্তের মতো রাহুলের বাবা পার্থবাবু বললেন, দেখুন ম্যাডাম আমরা সকলেই ওর দিকে নজর রাখি। আমাদের বাড়ির সকলেই উচ্চশিক্ষিত। ছেলে-মেয়েরা সকলেই পড়শোনায় ভালো। রাহুলকে নিয়ে আমরা যথেষ্ট বিব্রত। ওকে নিয়ে কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।
এতক্ষণ চুপ করে ছিলেন সুপর্ণা। এবার বললেন, রাহুলকে নিয়ে আমরাও যথেষ্ট বিব্রত। অনেক বাচ্চা আছে খুব দুষ্টু, কিন্তু পড়াশোনায় ভালো। একটু বড়ো হলেই তারা শান্ত হয়ে যায়। রাহুল পড়াশোনাতেও ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। ওর একার জন্যে গোটা ক্লাসের ক্ষতি হচ্ছে।
হেডমিস্ট্রেস গম্ভীর গলায় বললেন, আপনারা অন্য কোথাও ওর অ্যাডমিশনের ব্যবস্থা করুন। আমার পক্ষে ওকে আর এই স্কুলে রাখা সম্ভব নয়।
মণিদীপা শান্ত প্রকৃতির মহিলা। রাহুলের আচার-আচরণে নিজেও বিব্রত। বড়োছেলেকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর, এর মধ্যে তিন বার রাহুলের স্কুল বদল করতে হল। হাতজোড় করে বললেন, এইবারের মতো ওকে মাফ করে দিন ম্যাডাম। আমি ওকে বুঝিয়ে বলছি।
হেডমিস্ট্রেস বললেন, এর আগেও আপনি দু-বার একই কথা বলেছেন। আমি আপনার কথা রেখেছি। এবার আর সম্ভব নয়। একটা-কিছু যদি হয়ে যায় তখন কী হবে? আপনারাই তখন আমাদের দিকে আঙুল তুলবেন। মিডিয়া এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে। একটা ছাত্রের জন্যে গোটা স্কুলের বদনাম।
রাহুলের বাবা পার্থবাবুর মুখটা থমথম করছিল। নিজে বড়ো কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। সেখানে সকলে তাঁকে সম্মান করে। অথচ ছোটোছেলের জন্যে মানসম্মান খোয়াতে হচ্ছে। সপাটে একটা চড় কষিয়ে দিলেন ছেলের গালে। আচমকা চড় খেয়ে ছিটকে পড়ল রাহুল।
তাড়াতাড়ি সুপর্ণা ছুটে গিয়ে তুলে ধরতেই হেডমিস্ট্রেস চেঁচিয়ে উঠলেন, ছেলেকে শাসন করতে হলে বাড়ি নিয়ে গিয়ে যত খুশি করুন, এখানে নয়। কাল এসে রাহুলের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট আর অ্যাডমিশন ফি-এর সব টাকা নিয়ে যাবেন। আমি চলি, ক্লাস আছে। উঠে দাঁড়ালেন হেডমিস্ট্রেস।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন