ভয়

চঞ্চলকুমার ঘোষ

আঁতকে উঠলেন মণিদীপা।

তুই সবার সঙ্গে বেড়াতে যাবি?

মাথা নাড়ল রাহুল।

ক্লাসে অমলমামা বলেছেন, পরশু আমাদের নিয়ে যাবেন। গঙ্গার ধারে একটা গ্রাম আছে সেখানে।

পরশু তুই স্কুলে যাবি না।

রাহুল হাত-পা নেড়ে চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠল।

স্কুলের সবাই বেড়াতে যাবে। আগের বছর গিয়েছিল।

সবাই শান্ত ভদ্র ছেলে, দিদিমণিদের কথা শোনে। তুই কখন কী করবি তার ঠিক নেই। দিদিমণিরা ক-জনের দিকে নজর রাখবে।

আমি এখন দুষ্টুমি করি না।

কে দুষ্টুমি করে না?

মুখ ফেরায় রাহুল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেজোমা।

রাহুল কিছু বলবার আগেই মণিদীপা বললেন, ওদের স্কুল থেকে বেড়াতে নিয়ে যাচ্ছে। আমার ইছে নয় রাহুল যাক। ও নিজের খেয়ালখুশি মতো কখন কোথায় চলে যাবে। দিদিমণিরা কত দিকে নজর রাখবে।

রানু কী বলবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তাঁর ইচ্ছে রাহুল বেড়াতে যাক। আবার মণিদীপা যখন চাইছে না।

তোরা কোথায় যাবি?

মামা বলেছে বাসে করে নিয়ে যাবে। গঙ্গার ধারে গ্রাম। সকাল বেলায় যাব, বিকেল বেলায় ফিরে আসব।

রানু বললেন, তাহলে অসুবিধাটা কোথায়?

অসুবিধে তো অন্য কিছু নয় দিদি। রাহুল এমন একটা-কিছু করে বসবে, তাতেই গোটা স্কুলের সবাই অসুবিধেয় পড়ে যাবে। তখন আর অমলদার কাছে মুখ দেখাতে পারব না।

কিছু বলতে পারেন না রানু। রাহুলের দিকে চোখ পড়ল। মুখটা কী করুণ! তাকে কোলের কাছে টেনে নিয়ে বললেন, তোর মেজোজেঠুকে বলব রবিবার তোকে নিয়ে বেড়াতে যেতে।

মেজোমায়ের কথায় মাথা নাড়ে রাহুল।

আমি অমলমামার সঙ্গে যাব।

এবার রেগে ওঠেন মণিদীপা। চোখ বড়ো বড়ো করে বললেন, আমি যখন বারণ করেছি, তুমি যাবে না।

কেউ আর কোনো কথা বলে না। শুধু ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে রাহুল।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%