ধন্বন্তরি

সমর পাল

দেবতাদের চিকিৎসক বা দৈববৈদ্য হিসেবে ধন্বন্তরির পরিচয়। রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ে অতুলনীয় চিকিৎসক কিংবা আরোগ্য করার অব্যর্থ ওষুধকে আমরা ধন্বন্তরি বলে উল্লেখ করে থাকি অনেক সময়।

দেবতা ও অসুরদের সম্মিলিত আয়োজনে সমুদ্রমন্থন করার সময় অমৃতভাণ্ড হাতে উত্থিত হন ধন্বন্তরি। সূর্যের ঔরসে অশ্বিনীরূপা সংজ্ঞার গর্ভজাত সন্তান অশ্বিনী ও রেবন্ত অশ্বিনীকুমারদ্বয় নামে পরিচিত। তারা হলেন প্রধান স্বর্গবৈদ্য। তারা আয়ুর্বেদের জনক এবং চিকিৎসা সারতন্ত্র-প্রণেতা।

বলা হয়ে থাকে যে, প্রথমে ব্রহ্মা সহস্র অধ্যায় ও লক্ষ শ্লোকযুক্ত আয়ুর্বেদ প্রকাশ করেন। তার কাছে এই বিদ্যা শিক্ষা করেন প্রজাপতি। প্রজাপতির কাছে শিক্ষা করেন অশ্বিনীকুমারদ্বয়। তাদের কাছে ইন্দ্ৰ এবং ইন্দ্রের কাছে ধন্বন্তরি চিকিৎসাবিজ্ঞান লাভ করেন। অবশ্য কোথাও কোথাও আছে যে, ধন্বন্তরি ছিলেন শঙ্কর ও গরুড়ের শিষ্য এবং তিনি ভাস্করের কাছে আয়ুর্বেদ শিক্ষা করেন। তার প্রণীত গ্রন্থ হচ্ছে—চিকিৎসাতত্ত্ব-বিজ্ঞান। ব্রহ্মার নির্দেশে ধন্বন্তরি আয়ুর্বেদকে আটভাগে বিভক্ত করেন। যথা— শল্যতন্ত্র, শালাকাতন্ত্র, কায়চিকিৎসাতন্ত্র, ভূতবিদ্যাতন্ত্র, কৌমারভূত্যতন্ত্র, অগদতন্ত্র, রসায়নতন্ত্র ও বাজীকরণতন্ত্র।

বিশ্বামিত্রের পুত্র সুশ্রুত ধন্বন্তরির কাছে আয়ুর্বেদ শিক্ষা করেন ও মানুষের মঙ্গলের জন্য তা প্রকাশ করেন। ধন্বন্তরি জন্মান্তরে কাশীর রাজা দিবোদাসরূপে আবির্ভূত হন এবং তার কাছে নাকি সুশ্রুত এই চিকিৎসাবিজ্ঞান লাভ করেন। সুশ্রুত-সংহিতা সুশ্রুতের লেখা আয়ুর্বেদশাস্ত্র। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরিহার করা হলো।

যাহোক, আমরা দেখি পুরাকালেও এই উপমহাদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত ছিল। ধন্বন্তরি নামে এক বা বহু চিকিৎসক ছিলেন। ধন্বন্তরি ওঝা বা উপাধ্যায়ের কথাও আমরা জানি। সুতরাং আজ চৌকস এবং রোগনির্ণয় ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে দক্ষ ডাক্তারকে বা অব্যর্থ ওষুধকে আমরা অবলীলায় সাক্ষাৎ ধন্বন্তরি নামে অভিহিত করে থাকি।

সকল অধ্যায়
১.
অকাল কুষ্মাণ্ড
২.
অগস্ত্যযাত্রা
৩.
অজার যুদ্ধে আঁটুনি সার
৪.
অতি দর্পে হত লঙ্কা
৫.
অতি দানে বলির পাতালে হলো ঠাঁই
৬.
অতি মন্থনে বিষ ওঠে
৭.
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট
৮.
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
৯.
অন্ধের হাতি দেখা
১০.
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী
১১.
অশ্বত্থামা হত ইতি গজ
১২.
আগ নাংলা যে দিকে যায় পাছ নাংলা সে দিকে যায়
১৩.
আষাঢ়ে গল্প
১৪.
আসলে মুষল নাই ঢেঁকিঘরে চাঁদোয়া
১৫.
ইল্লত যায় না ধুলে খাসলত যায় না মলে
১৬.
ওঝার ব্যাটা বনগরু
১৭.
কংসমামা
১৮.
কাকতালীয় ব্যাপার
১৯.
কালনেমির লঙ্কাভাগ
২০.
কুম্ভকর্ণের ঘুম
২১.
কুরুক্ষেত্র কাণ্ড
২২.
কড়ায় গণ্ডায়
২৩.
খর দজ্জাল
২৪.
খাঞ্জা খাঁ
২৫.
খয়ের খাঁ
২৬.
গজকচ্ছপের লড়াই
২৭.
গজকপিত্থবৎ
২৮.
গদাই লশকরি চাল
২৯.
গন্ধমাদন বয়ে আনা
৩০.
গোঁফ খেজুরে
৩১.
গোকুলের ষাঁড়
৩২.
গৌরচন্দ্রিকা
৩৩.
ঘরভেদী বিভীষণ
৩৪.
ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে
৩৫.
ঘুঁটো জগন্নাথ
৩৬.
চিত্রগুপ্তের খাতা
৩৭.
চেনা বামুনের পৈতা লাগে না
৩৮.
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
৩৯.
ছকড়া নকড়া
৪০.
জগা খিচুড়ি
৪১.
জড়ভরত
৪২.
ঢাক পেটানো
৪৩.
ঢাকের বাঁয়া
৪৪.
ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার
৪৫.
ত্রিশঙ্কু অবস্থা
৪৬.
দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার
৪৭.
দশচক্রে ভগবান ভূত
৪৮.
দেবতার বেলা লীলাখেলা পাপ লিখেছে মানুষের বেলা
৪৯.
দৈত্যকুলে প্ৰহ্লাদ
৫০.
ধনুর্ভঙ্গ পণ
৫১.
ধন্বন্তরি
৫২.
ধর লক্ষ্মণ
৫৩.
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির
৫৪.
ধর্মের ষাঁড়
৫৫.
ধান ভানতে শিবের গীত
৫৬.
ধুন্ধুমার কাণ্ড
৫৭.
নরাণাং মাতুলক্রমঃ
৫৮.
পরশুরামের কুঠার
৫৯.
পরের ধনে পোদ্দারি
৬০.
পাততাড়ি গুটানো
৬১.
পান্তা ভাতে ঘি নষ্ট বাপের বাড়ি ঝি নষ্ট
৬২.
পিপুফিশু
৬৩.
পোয়া বারো
৬৪.
ফতো নবাব
৬৫.
ফপর দালালি
৬৬.
ফেউ লাগা
৬৭.
বাজখাঁই আওয়াজ
৬৮.
বিদুরের খুদ
৬৯.
বিন্দেদূতী
৭০.
ভবতি বিজ্ঞতমঃ ক্রমশো জনঃ
৭১.
ভস্মে ঘি ঢালা
৭২.
ভাগের মা গঙ্গা পায় না
৭৩.
ভানুমতির খেল
৭৪.
ভিজা বিড়াল
৭৫.
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা
৭৬.
ভুশুণ্ডি কাক
৭৭.
ভেড়াকান্ত
৭৮.
ভেড়ার পাল
৭৯.
মগের মুলুক
৮০.
মরার সময় মকরধ্বজ
৮১.
মাছি মারা কেরানি
৮২.
মাছের মায়ের পুত্রশোক
৮৩.
মান্ধাতার আমল
৮৪.
মারের ওপর ওষুধ নাই
৮৫.
মাৎস্যন্যায় অবস্থা
৮৬.
যক্ষের ধন বা কুবেরের ধন
৮৭.
যণ্ডামার্ক বা যণ্ডামার্কা
৮৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
৮৯.
যে দামে কেনা সেই দামে বিক্রি
৯০.
রথ দেখা ও কলাবেচা
৯১.
রাবণের চিতা
৯২.
লঙ্কাকাণ্ড
৯৩.
লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন
৯৪.
লেফাফাদুরস্ত
৯৫.
শকুনিমামা
৯৬.
শনির দশা
৯৭.
শাঁখের করাত
৯৮.
শাপে বর
৯৯.
শিখণ্ডী খাড়া করা
১০০.
শিবরাত্রির সলতে
১০১.
শুভঙ্করের ফাঁকি
১০২.
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি
১০৩.
ষাঁড়ের গোবর
১০৪.
সরফরাজি চাল
১০৫.
সস্তার তিন অবস্থা
১০৬.
সাক্ষীগোপাল
১০৭.
সাত নকলে আসল খাস্তা
১০৮.
হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী
১০৯.
হরি ঘোষের গোয়াল
১১০.
হরিহর আত্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%