সমর পাল
শকুনি মহাভারতের এক বিশেষ চরিত্র। তিনি দুর্যোধনের মামা। কূটবুদ্ধি- সম্পন্ন শকুনির কূটবুদ্ধি ও প্ররোচনায় কুরুবংশের সর্বনাশ ঘটেছিল। কূটবুদ্ধিদাতা সর্বনাশকারী ব্যক্তিকে আমাদের দেশে তাই শকুনিমামা বলে চিহ্নিত করা হয়। কুমন্ত্রণা দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তি গৃহবিবাদ বাধায়।
সিন্ধুনদের পশ্চিম তীর থেকে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকাকে প্রাচীনকালে গান্ধারদেশ বলা হতো। বর্তমান কান্দাহার হলো প্রাচীন গান্ধার নগরী বা গান্ধারদেশের রাজধানী। সেই গান্ধার দেশের রাজা ছিলেন সুবল। সুবলের কন্যা গান্ধীরীর সাথে বিয়ে হয় রাজা ধৃতরাষ্ট্রের। সুবলের অন্য পুত্রকন্যার মধ্যে শকুনি, বৃষক ও অচল নামে পুত্র এবং মতি নামে কন্যার নাম জানতে পারি আমরা। সুবলের পুত্র বলে শকুনির আরেক নাম সৌবল।
গান্ধারীর বিয়ের পর থেকে শকুনি অধিকাংশ সময় বোনের বাড়িতে অর্থাৎ রাজধানী হস্তিনাপুরে (দিল্লির পূর্বে গঙ্গার তীরে মিরাটের কাছে) থাকতো। সে ছিল অত্যন্ত অসৎ প্রকৃতির কূটবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ। পাশা খেলায় সে ছিল অত্যন্ত অভিজ্ঞ। তাছাড়া পাশা খেলায় কপটতার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে হারানোর কূটকৌশল তার রপ্ত ছিল। অর্থাৎ জুয়া খেলার মারপ্যাঁচ তার ভালো জানা ছিল। ধৃতরাষ্ট্রের শ্যালক শকুনি ধৃতরাষ্ট্রপুত্র দুর্যোধনের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। ভাগ্নে দুর্যোধন মামা শকুনির বুদ্ধি অনুযায়ী অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় কাজ চালাতেন।
দুর্যোধন রাজা হয়ে পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগেন। পাণ্ডবদের ঐশ্বর্যহীন ও দুর্বল করার জন্য কুচক্রী শকুনির পরামর্শে ও সহায়তায় কপট দ্যূতক্রীড়ায় (পাশা খেলায়) পাণ্ডবদের পরাজিত করেন তিনি। জিতে নেন তাদের সহায় সম্পদ। বনবাসে পাঠান তাদের। শকুনির প্ররোচনায় পাশা খেলায় প্রকাশ্য সভায় দ্রোপদীকে বস্ত্রহরণের মাধ্যমে অবমাননা করা হয়েছিল। শকুনির কুপরামর্শে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ এবং কৌরব-পাণ্ডব বংশের ধ্বংস ত্বরান্বিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ১৮তম দিনে পুত্র উলূকসহ শকুনি নিহত হয় কনিষ্ঠ পাণ্ডব সহদেবের হাতে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন