ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে

সমর পাল

ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে

জ্বালানি হিসেবে সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে গরুর গোবরের ব্যবহার চালু আছে। শহরাঞ্চলে ঘুঁটের ব্যবহার আজ তেমন পরিচিত না হলেও এখনো গ্রামাঞ্চলে সীমিত আকারে গোবর দিয়ে তৈরি ঘুঁটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সাধারণত গরুর গোবর (গূথ বা গোবিষ্ঠা বা গোবিট্ বা গোময়) দিয়ে এর সাথে কখনো কাঠ কয়লার গুঁড়া বা ধানের তুষ মিশিয়ে গোল চাকতি তৈরি করা হয় এবং সাধারণত ঘরের দেয়াল বা প্রাচীরে লাগিয়ে শুকানো হয়। এই চাকতি বা গোবরের শুকনো চাপড়ি জ্বালানিরূপে ব্যবহৃত হয়। অবশ্য গরুর শুকনো গোবর মাঠে শুকিয়ে যে আকারে পড়ে থাকে তাও ঘুঁটে নামে পরিচিত। প্রাচীনকালে মাঠ থেকে শুকনো ঘুঁটে সংগ্রহ করে অনেকেই অর্থ উপার্জন করতো। সাধারণত স্ত্রীলোকেরা এই কাজ করায় তাদের বলা হতো— ঘুঁটেকুড়ানি। আমাদের উপকথা, রূপকথায় ঘুঁটেকুড়ানি নামের প্রয়োগ অপ্রতুল নয়।

আগেকার দিনে গরুর গোবর ঘরদোর লেপা এবং ঘুঁটে বা দলা (দলিয়া) বানানো ছাড়া আর তেমন উল্লেখযোগ্য কাজে ব্যবহৃত হতো না। গোবরের পরিণামই ছিল আগুনে পোড়ার জন্য প্রস্তুত থাকা। সে কারণে অমোঘ নিয়তি হলো গোবর থেকেই ঘুঁটে হবে এবং সে ঘুঁটে জ্বালানি হয়ে পুড়বে।

অনেক ব্যক্তি অন্যের দুঃখ-কষ্ট বা জ্বালা-যন্ত্রণা দেখে সাময়িক আনন্দ প্রকাশ করলেও অবশেষে তাকেও যে ঐ ধরনের যন্ত্রণা পেতে হবে— একথা তাৎক্ষণিকভাবে চিন্তা করে না। কিন্তু ‘চক্রবৎ পরিবর্তন্তে দুঃখানি চ সুখানি চ’–দুঃখ ও সুখ চাকার মতো মানুষের জীবনে ঘুরছে প্রতিনিয়ত। তাই অন্যের কষ্ট দেখে আনন্দ প্রকাশ করলে সে ক্ষেত্রে আলোচ্য প্রবাদবাক্যটি প্রযুক্ত হয়ে থাকে।

সকল অধ্যায়
১.
অকাল কুষ্মাণ্ড
২.
অগস্ত্যযাত্রা
৩.
অজার যুদ্ধে আঁটুনি সার
৪.
অতি দর্পে হত লঙ্কা
৫.
অতি দানে বলির পাতালে হলো ঠাঁই
৬.
অতি মন্থনে বিষ ওঠে
৭.
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট
৮.
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
৯.
অন্ধের হাতি দেখা
১০.
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী
১১.
অশ্বত্থামা হত ইতি গজ
১২.
আগ নাংলা যে দিকে যায় পাছ নাংলা সে দিকে যায়
১৩.
আষাঢ়ে গল্প
১৪.
আসলে মুষল নাই ঢেঁকিঘরে চাঁদোয়া
১৫.
ইল্লত যায় না ধুলে খাসলত যায় না মলে
১৬.
ওঝার ব্যাটা বনগরু
১৭.
কংসমামা
১৮.
কাকতালীয় ব্যাপার
১৯.
কালনেমির লঙ্কাভাগ
২০.
কুম্ভকর্ণের ঘুম
২১.
কুরুক্ষেত্র কাণ্ড
২২.
কড়ায় গণ্ডায়
২৩.
খর দজ্জাল
২৪.
খাঞ্জা খাঁ
২৫.
খয়ের খাঁ
২৬.
গজকচ্ছপের লড়াই
২৭.
গজকপিত্থবৎ
২৮.
গদাই লশকরি চাল
২৯.
গন্ধমাদন বয়ে আনা
৩০.
গোঁফ খেজুরে
৩১.
গোকুলের ষাঁড়
৩২.
গৌরচন্দ্রিকা
৩৩.
ঘরভেদী বিভীষণ
৩৪.
ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে
৩৫.
ঘুঁটো জগন্নাথ
৩৬.
চিত্রগুপ্তের খাতা
৩৭.
চেনা বামুনের পৈতা লাগে না
৩৮.
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
৩৯.
ছকড়া নকড়া
৪০.
জগা খিচুড়ি
৪১.
জড়ভরত
৪২.
ঢাক পেটানো
৪৩.
ঢাকের বাঁয়া
৪৪.
ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার
৪৫.
ত্রিশঙ্কু অবস্থা
৪৬.
দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার
৪৭.
দশচক্রে ভগবান ভূত
৪৮.
দেবতার বেলা লীলাখেলা পাপ লিখেছে মানুষের বেলা
৪৯.
দৈত্যকুলে প্ৰহ্লাদ
৫০.
ধনুর্ভঙ্গ পণ
৫১.
ধন্বন্তরি
৫২.
ধর লক্ষ্মণ
৫৩.
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির
৫৪.
ধর্মের ষাঁড়
৫৫.
ধান ভানতে শিবের গীত
৫৬.
ধুন্ধুমার কাণ্ড
৫৭.
নরাণাং মাতুলক্রমঃ
৫৮.
পরশুরামের কুঠার
৫৯.
পরের ধনে পোদ্দারি
৬০.
পাততাড়ি গুটানো
৬১.
পান্তা ভাতে ঘি নষ্ট বাপের বাড়ি ঝি নষ্ট
৬২.
পিপুফিশু
৬৩.
পোয়া বারো
৬৪.
ফতো নবাব
৬৫.
ফপর দালালি
৬৬.
ফেউ লাগা
৬৭.
বাজখাঁই আওয়াজ
৬৮.
বিদুরের খুদ
৬৯.
বিন্দেদূতী
৭০.
ভবতি বিজ্ঞতমঃ ক্রমশো জনঃ
৭১.
ভস্মে ঘি ঢালা
৭২.
ভাগের মা গঙ্গা পায় না
৭৩.
ভানুমতির খেল
৭৪.
ভিজা বিড়াল
৭৫.
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা
৭৬.
ভুশুণ্ডি কাক
৭৭.
ভেড়াকান্ত
৭৮.
ভেড়ার পাল
৭৯.
মগের মুলুক
৮০.
মরার সময় মকরধ্বজ
৮১.
মাছি মারা কেরানি
৮২.
মাছের মায়ের পুত্রশোক
৮৩.
মান্ধাতার আমল
৮৪.
মারের ওপর ওষুধ নাই
৮৫.
মাৎস্যন্যায় অবস্থা
৮৬.
যক্ষের ধন বা কুবেরের ধন
৮৭.
যণ্ডামার্ক বা যণ্ডামার্কা
৮৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
৮৯.
যে দামে কেনা সেই দামে বিক্রি
৯০.
রথ দেখা ও কলাবেচা
৯১.
রাবণের চিতা
৯২.
লঙ্কাকাণ্ড
৯৩.
লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন
৯৪.
লেফাফাদুরস্ত
৯৫.
শকুনিমামা
৯৬.
শনির দশা
৯৭.
শাঁখের করাত
৯৮.
শাপে বর
৯৯.
শিখণ্ডী খাড়া করা
১০০.
শিবরাত্রির সলতে
১০১.
শুভঙ্করের ফাঁকি
১০২.
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি
১০৩.
ষাঁড়ের গোবর
১০৪.
সরফরাজি চাল
১০৫.
সস্তার তিন অবস্থা
১০৬.
সাক্ষীগোপাল
১০৭.
সাত নকলে আসল খাস্তা
১০৮.
হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী
১০৯.
হরি ঘোষের গোয়াল
১১০.
হরিহর আত্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%