ধনুর্ভঙ্গ পণ

সমর পাল

অতি কঠোর ও সাংঘাতিক পণ বা প্রতিজ্ঞাকে বাংলা প্রবাদে ধনুর্ভঙ্গ পণ বা ধনুকভাঙ্গা পণ বলা হয়। কোনো ব্যক্তি মনে মনে যা স্থির করে তা থেকে তাকে কোনো অবস্থাতেই টলানো না গেলে এই প্রবাদ প্রযুক্ত হয়ে থাকে।

মিথিলার (বিদেহ বা বর্তমান ত্রিহুত) রাজা জনক সীতার পিতা হিসেবে পরিচিত। তার প্রকৃত নাম সীরধ্বজ। পিতা হ্রস্বরোমা এবং পিতামহ স্বর্ণরোমা। যজ্ঞের উদ্দেশ্যে ভূমি কর্ষণকালে লাঙ্গলের রেখা থেকে রাজা জনক যে অসাধারণ রূপবতী কন্যা লাভ করেন তিনিই সীতারূপে তার কাছে প্রতিপলিত হন। রাজা জনক পণ করেছিলেন যে, যিনি হরধনু ভঙ্গ করতে পারবেন তার হাতে তিনি সীতাকে অর্পণ করবেন। যেন তেন ব্যক্তির সাথে সীতার বিয়ে দিবেন না তিনি।

হরধনু হচ্ছে শিবের ব্যবহৃত বিশাল ধনুক। দক্ষযজ্ঞের যজ্ঞভাগ বিভিন্ন দেবতা নিচ্ছেন কিন্তু মহাদেবকে পাত্তা দিচ্ছেন না কেউ। ক্ষিপ্ত মহাদেব তার ধনুকের জ্যা (ছিলা বা গুণ) আকর্ষণ করে বলেছিলেন যে, তিনি তার ধনুক দিয়ে দেবতাদের শির েদন করবেন। মহাদেবের হুঙ্কারে দেবতারা ভয় পেয়ে তার স্তুতি করতে লাগলেন। তাদের অনুগত ও নতজানু ভাব দেখে মহাদেব প্রসন্ন হয়ে তাদের এই ধনু বা ধনুক উপহার দিলেন। দেবতারা তা জনকের পূর্বপুরুষ দেবরাতের কাছে গচ্ছিত রাখেন। মহাদেবের এই ধনুই হরধনু। পূর্বপুরুষের কাল থেকে হরধনু রাজা জনকের বংশের হেফাজতে ছিল। বিশাল এই হরধনুতে জ্যা রোপণ করা সাধারণ মানুষের শক্তি দ্বারা সম্ভব নয়।

রাজা জনক জানতেন যে, বিশাল হরধনু ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তা সত্ত্বেও সীতার বিয়ের বিষয়ে তিনি এই সাংঘাতিক পণ করেন। অবশ্য একমাত্র রামচন্দ্র সেই হরধনুতে জ্যা রোপণ করে বিশাল শক্তিমত্তার পরিচয় দিয়ে ধনুকটি ভেঙ্গে ফেলেন।

অসম্ভব কাজ বলে বিবেচিত বিষয়ে স্থির মনকে টলানো না গেলে তা হরধনুক বা ধনুক ভাঙ্গা পণ কিংবা ধনুর্ভঙ্গ পণ বলে বিবেচিত হয়।

সকল অধ্যায়
১.
অকাল কুষ্মাণ্ড
২.
অগস্ত্যযাত্রা
৩.
অজার যুদ্ধে আঁটুনি সার
৪.
অতি দর্পে হত লঙ্কা
৫.
অতি দানে বলির পাতালে হলো ঠাঁই
৬.
অতি মন্থনে বিষ ওঠে
৭.
অতি লোভে তাঁতি নষ্ট
৮.
অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট
৯.
অন্ধের হাতি দেখা
১০.
অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী
১১.
অশ্বত্থামা হত ইতি গজ
১২.
আগ নাংলা যে দিকে যায় পাছ নাংলা সে দিকে যায়
১৩.
আষাঢ়ে গল্প
১৪.
আসলে মুষল নাই ঢেঁকিঘরে চাঁদোয়া
১৫.
ইল্লত যায় না ধুলে খাসলত যায় না মলে
১৬.
ওঝার ব্যাটা বনগরু
১৭.
কংসমামা
১৮.
কাকতালীয় ব্যাপার
১৯.
কালনেমির লঙ্কাভাগ
২০.
কুম্ভকর্ণের ঘুম
২১.
কুরুক্ষেত্র কাণ্ড
২২.
কড়ায় গণ্ডায়
২৩.
খর দজ্জাল
২৪.
খাঞ্জা খাঁ
২৫.
খয়ের খাঁ
২৬.
গজকচ্ছপের লড়াই
২৭.
গজকপিত্থবৎ
২৮.
গদাই লশকরি চাল
২৯.
গন্ধমাদন বয়ে আনা
৩০.
গোঁফ খেজুরে
৩১.
গোকুলের ষাঁড়
৩২.
গৌরচন্দ্রিকা
৩৩.
ঘরভেদী বিভীষণ
৩৪.
ঘুঁটে পোড়ে গোবর হাসে
৩৫.
ঘুঁটো জগন্নাথ
৩৬.
চিত্রগুপ্তের খাতা
৩৭.
চেনা বামুনের পৈতা লাগে না
৩৮.
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই
৩৯.
ছকড়া নকড়া
৪০.
জগা খিচুড়ি
৪১.
জড়ভরত
৪২.
ঢাক পেটানো
৪৩.
ঢাকের বাঁয়া
৪৪.
ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার
৪৫.
ত্রিশঙ্কু অবস্থা
৪৬.
দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার
৪৭.
দশচক্রে ভগবান ভূত
৪৮.
দেবতার বেলা লীলাখেলা পাপ লিখেছে মানুষের বেলা
৪৯.
দৈত্যকুলে প্ৰহ্লাদ
৫০.
ধনুর্ভঙ্গ পণ
৫১.
ধন্বন্তরি
৫২.
ধর লক্ষ্মণ
৫৩.
ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির
৫৪.
ধর্মের ষাঁড়
৫৫.
ধান ভানতে শিবের গীত
৫৬.
ধুন্ধুমার কাণ্ড
৫৭.
নরাণাং মাতুলক্রমঃ
৫৮.
পরশুরামের কুঠার
৫৯.
পরের ধনে পোদ্দারি
৬০.
পাততাড়ি গুটানো
৬১.
পান্তা ভাতে ঘি নষ্ট বাপের বাড়ি ঝি নষ্ট
৬২.
পিপুফিশু
৬৩.
পোয়া বারো
৬৪.
ফতো নবাব
৬৫.
ফপর দালালি
৬৬.
ফেউ লাগা
৬৭.
বাজখাঁই আওয়াজ
৬৮.
বিদুরের খুদ
৬৯.
বিন্দেদূতী
৭০.
ভবতি বিজ্ঞতমঃ ক্রমশো জনঃ
৭১.
ভস্মে ঘি ঢালা
৭২.
ভাগের মা গঙ্গা পায় না
৭৩.
ভানুমতির খেল
৭৪.
ভিজা বিড়াল
৭৫.
ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা
৭৬.
ভুশুণ্ডি কাক
৭৭.
ভেড়াকান্ত
৭৮.
ভেড়ার পাল
৭৯.
মগের মুলুক
৮০.
মরার সময় মকরধ্বজ
৮১.
মাছি মারা কেরানি
৮২.
মাছের মায়ের পুত্রশোক
৮৩.
মান্ধাতার আমল
৮৪.
মারের ওপর ওষুধ নাই
৮৫.
মাৎস্যন্যায় অবস্থা
৮৬.
যক্ষের ধন বা কুবেরের ধন
৮৭.
যণ্ডামার্ক বা যণ্ডামার্কা
৮৮.
যত দোষ নন্দ ঘোষ
৮৯.
যে দামে কেনা সেই দামে বিক্রি
৯০.
রথ দেখা ও কলাবেচা
৯১.
রাবণের চিতা
৯২.
লঙ্কাকাণ্ড
৯৩.
লাগে টাকা দেবে গৌরীসেন
৯৪.
লেফাফাদুরস্ত
৯৫.
শকুনিমামা
৯৬.
শনির দশা
৯৭.
শাঁখের করাত
৯৮.
শাপে বর
৯৯.
শিখণ্ডী খাড়া করা
১০০.
শিবরাত্রির সলতে
১০১.
শুভঙ্করের ফাঁকি
১০২.
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি
১০৩.
ষাঁড়ের গোবর
১০৪.
সরফরাজি চাল
১০৫.
সস্তার তিন অবস্থা
১০৬.
সাক্ষীগোপাল
১০৭.
সাত নকলে আসল খাস্তা
১০৮.
হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী
১০৯.
হরি ঘোষের গোয়াল
১১০.
হরিহর আত্মা

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%