শৈলেন ঘোষ
হঠাৎই ঘটে গেল সেই আশ্চর্য ঘটনা। কোন আশ্চর্য ঘটনা কোথায়-কখন ঘটবে কেউ কি আগেভাগে তার অনুমান করতে পারে? বোধ হয় না। ওই যে ছেলেটিকে দেখছ? মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ, আনমনে হাঁটছে, ও জানে না ও কোথায় যাচ্ছে। আকাশ ছুঁয়ে ওর চোখদুটো যখন আকাশ থেকে নামতে-নামতে দিগন্তে এসে থমকে যায়, তখনই যেন ওর মন বলে ওঠে, দিগন্তের ওপারেই বুঝি সেই তীর্থস্থান। ওই তীর্থস্থানেই বুঝি তার দাদু আর ঠানদি তীর্থ করতে গেছেন। ওইখানেই ছেলেটিকে যেতে হবে। কেন-না, সাতদিন হয়ে গেল, এখনও তাঁরা ফেরেননি। দাদু আর ঠানদিকে একদিন না দেখতে পেলে ছেলে যে, ভীষণরকম অস্থির হয়ে ওঠে, সাতদিন যে, তার কাছে সাত-শো দিনের চেয়েও বেশি। কাজেই সে হাঁটছে। লক্ষ্য তার ওই দিগন্ত। মা-বাবা কেউ জানতেও পারলেন না, ছেলে গেল কোথায় না-বলে। কখন গেল তাঁদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে। সুতরাং, তাঁরাও বসে থাকতে পারলেন না নিশ্চিন্তে। তাঁরাও ছুটলেন ছেলের খোঁজে আতাল-পাতাল ঢুঁড়তে।
তাঁরা কোনদিকে গেলেন, সে তাঁরাই জানেন। ছেলেটা কোনদিকে গেল, সেও ছেলেটাই জানে! কেননা, এতক্ষণ যে-পথে সে হাঁটছিল, সে-পথ ছিল খোলামেলা ফাঁকা। দিগন্তরেখাটা স্পষ্ট চোখে পড়ছিল। এখন যেন ধীরে ধীরে চোখের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে পথ। একটু একটু গরম হাওয়া বয়ে আসছে সামনের দিক থেকে যেমন, তেমনই এদিক ওদিক দিয়েও। এখনও অবশ্য দু-একজন পথচলতি মানুষের চলাফেরা নজরে পড়ছে। মনে হয়, এরপরে আর দেখাই যাবে না। কারণ, ছেলেটি স্পষ্ট বুঝতে পারছে, হাওয়ায় তাপ বাড়ছে। হাঁটাপথ পাথরে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। এই তাপ এইপর্যন্ত সহ্য করতে পেরেছে ছেলেটা। এখন ধীরে ধীরে তাপের মাত্রা বাড়ছে হাওয়ায়। পথে লোকজনেরও দেখা নেই আর। পথও এখন একেবারেই ফাঁকা। আসলে পথ বলতে এখন পাথর আর নুড়ির গাদা। তার-ই ওপর পা ফেলতে-ফেলতে ছেলেটা দমসম হয়ে গেল। গলা গেল শুকিয়ে। পেল ভীষণ তেষ্টা।
একফোঁটা জল সে দেখতে পায় না, কোথাও কোনোখানে। হাঁসফাঁস করতে থাকে প্রাণ। কোথায় গেল সেই দিগন্তের চিহ্ন। এখন তেষ্টার জল না পেলে যে, দমটাই তার ফুরিয়ে যায়। উফ! এখন তেমনই গরম জমাট বেধেছে। ছেলেটা যে-জুতোটা পায়ে দিয়েছে, গরম তাপ যেন সেই জুতো ফুটো হয়ে পায়ে ফুটছে। তেষ্টায় গলা যেমন শুকিয়েছে, তাপে শরীরও তেমন জ্বলছে। এ কোথায় এল সে। হাঁটার কথা ছেড়ে দাও, একটু ছায়ার জন্যে হন্যে হয়ে সে হাঁপাচ্ছে। শুকনো খটখটে এই জমিতে গাছগাছালির ছায়া খোঁজা, যেন স্বপ্ন দেখার মতো মিথ্যে। অগত্যা কিছু না-পেয়ে সামনে মস্ত একটা পাথরের ঢিবি দেখে, তার-ই ছায়ায় মাথা গলিয়ে ঢুকে পড়ল ছেলেটা। তারপরেই সে ধরা পড়ে গেল। তারপরেই সেই আশ্চর্য ঘটনা।
এমন করেই ভিনদেশি মানুষ, ধরা পড়ে এদেশি মানুষের হাতে। ‘এদেশি’ মানুষ মানে, সেই আদিম মানুষের বংশধর। এখনও এরা মানুষ শিকার করে। মানুষের রক্তপান করে। জল নেই। তাই রক্তই সই। ছেলেটা কেমন করে জানবে, এই ঢিবিটা শুধুই একটা পাথর-ঢাকা ছায়া নয়, এর আড়ালে বাসা করে থাকে, সেই আদিমমানুষের বংশধরেরাই। সেই আদিম অসভ্য মানুষ।
ধরা পড়ল ছেলেটা আচমকা। পালাবার পথ নেই। অন্তত তিনজন মানুষ হুড়মুড় করে তার ঘাড়ের ওপর লাফিয়ে পড়ল। একটা বিকট চেহারার কুকুর চিৎকার করে উঠল তারস্বরে। একজন আদিম চেহারার ছোট্টমেয়ে প্রথমে হাততালি দিয়ে নেচে উঠেছিল। তারপর ছেলেটাকে দেখে, সে যেন নিমেষে থমকে গেল। কুকুরটাও চিৎকার থামিয়ে ছেলেটাকে দেখতে লাগল। কিন্তু সেই তিনটে মানুষের উল্লাস থামল না। তারা হেলায় লোফালুফি খেলতে লাগল ছেলেটাকে নিয়ে। ছেলেটা কেঁদে আর্তনাদ করে উঠল।
বেশিক্ষণ নয়। এমনটা ঘটল মাত্র কয়েকমুহূর্ত। তারপরেই বলা যায়, এই ছোট্ট মেয়েটা যেন ওই তিনজনের কবল থেকে কেড়ে নিল ছেলেটাকে। না, সে যেন হত্যা করতে দেবে না ছেলেটাকে। একফোঁটা রক্তও কেউ ঝরাতে পারবে না, তার শরীর থেকে। সে বাঁচাবে এই ছেলেটাকে।
সেই তিনজন দুরন্ত মানুষ বেদম তেড়ে মেয়েটাকে তড়পে উঠল। ছেলেটাকে তার হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য তেড়ে গেল তিরবেগে। কিন্তু পারল না। এবার সেই বিকট চেহারার কুকুরটা রুখে দাঁড়াল তিনটে মানুষকে। কুকুরটাও যেন ওই ছোট্ট মেয়েটার মতো ছেলেটাকে মরতে দেবে না। সেও যেন ছেলেটাকে ভালোবেসে ফেলেছে, ওই ছোট্ট আদিম মেয়েটার মতোই। ওই আদিম তিনটে মানুষ কুকুরটাকে শায়েস্তা করার জন্যে নিজেদের অস্ত্র বার করার আগেই কুকুরটা তার অস্ত্র, ধারালো দাঁত উঁচিয়ে সাবধান করে দিল ভয়ানক ডাক ছেড়ে।
হ্যাঁ, এই তো সুযোগ পেয়ে গেছে মেয়েটা। ছেলেটাকে টানতে টানতে সে পালাল। সেই পাথরচাপা ঢিবির আড়াল থেকে বাইরে। খোলা আকাশের নীচে। তারপর সে ছেলেটাকে নিয়ে ছুটল।
বাইরে গরম অসহ্য। এতক্ষণ ছেলেটার পায়ে জুতো ছিল, এখন তাও নেই। টানাটানি, লোফালুফিতে জুতো যেমন গেছে, গায়ের জামাও তেমন ছিঁড়েছে! তবু ভালো, প্যান্টটার কিছু হয়নি। কিন্তু জুতো যখন পায়ে ছিল তখনও রেহাই দেয়নি তাপ। এখন খালি পা। জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে পা। এই জ্বালাধরা বাতাসে নিশ্বাস নিতে নিতে, সে আর কতক্ষণ ছুটবে এই ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে! সে আর পারছে না! তবু তাকে ছুটতে হল। বলা যায়, প্রাণটি যেন হাতে নিয়ে সে ছুটছে, আর তীব্র গরমে হাঁকপাক করছে।
না, তাকে আর বেশিক্ষণ ছুটতে হল না। এই রাশি রাশি পাথর যেখানে পাহাড়প্রমাণ উঁচু হয়ে উঠেছে, ঠিক তার নীচেই একটা গুহা। ছোট্ট আদিম মেয়েটা ছেলেটাকে নিয়ে ঢুকে পড়ল সেই গুহার ভেতর।
আহ! হাঁপাচ্ছে বটে ছেলেটা এখনও, তবু গুহার ভেতরে খানিক আরাম মিলল তার। অন্তত বাইরের আগুনপারা বাতাসের হাত থেকে তো নিস্তার পাওয়া গেল।
গুহার অনেকটাই ভেতরে মেয়েটি ঢুকে পড়ল ছেলেটার হাত ধরে। গুহার ভেতরে যেখানে অন্ধকার ঘন, সেইখানে দাঁড়াল সে। ছেলেটার হাত ছেড়ে দিল। এই ঘন অন্ধকারে কেউ কাউকে দেখতে পায় না। চারদিক নিস্তব্ধ। শুধু শোনা যাচ্ছে, দু-জনের ঘনঘন দীর্ঘশ্বাসের শব্দ।
তারপর যখন দীর্ঘশ্বাসের শব্দ ঝিমিয়ে এল, তখন মেয়েটি কথা বলল। কী কথা বলল, তার একবিন্দুও বুঝল না ছেলে। সে হয়তো মনে মনে ভাবল, মেয়েটা তাকে চুপচাপ এখানে লুকিয়ে থাকতে বলছে। হবে হয়তো তাই। কেননা, ওই ছোট্ট আদিম মেয়ের ভাষা জানার কথা নয় তার।
কিন্তু সেই গভীর অন্ধকারে হঠাৎই ঘটে গেল আর এক আশ্চর্য ঘটনা। এতক্ষণ ছেলেটা নিজের নিশ্বাস ছাড়া আর একজনের নিশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। সে-শব্দ ওই ছোট্ট মেয়েটির। এখন একেবারেই শোনা যাচ্ছে না। বোঝাই যাচ্ছে না, সে আছে কী নেই। তবে কি যাবার মুখে সে কোনো কথা না বলে চুপচাপ চলে গেল। তবে তো ভারী বিপদের কথা। এ কোথায়, কোন অজানা আস্তানায় ছেলেটাকে ফেলে রেখে সে ফিরে গেল নিজের আস্তানায়!
ছেলেটার ভয়ে বুক কাঁপে। যে মেয়ে তার প্রাণ বাঁচায়, সেই মেয়েই যে, তাকে অন্ধকার গুহায় বন্দি করে পালায় এমনটা সে ভাবতেই পারছে না। কিন্তু বন্দি করে সত্যিই যদি সে তাকে বিপদে ফেলতে চায়, তবে সে কী করবে এখন?
গুহার এই জমাট অন্ধকারে সে কোথায় যাবে? কোনদিকে গেলে যে, আবার আলো দেখা যাবে, ছেলেটা তো জানে না তা। তা হলে পালাবে কেমন করে। বাঁচতে গেলে এখন তো তাকে পালাতেই হবে। অথচ যে পথ দিয়ে গুহায় ঢুকল সে পথটাও যে কোনদিকে তার খেয়াল নেই। থাকার কথাও নয়। অগত্যা ভয়ে সে চিৎকার করে উঠল, ‘কোথায় গেলে তুমি, আমাকে বাঁচাও।’
গুহার ভেতরে ছেলেটার আর্তনাদ প্রতিধ্বনি হয়ে গমগম করে উঠল। সেই প্রতিধ্বনি ভাঙতে ভাঙতে গুহার কত গভীরে যে মিশে গেল, ছেলেটা তার আভাস পেল না। সে বুঝতে পারল, গুহার গর্ত অনেকখানি লম্বা। সুতরাং, সে এও বুঝতে পারল, সাড়া অন্ধকারে পথ খোঁজা মানে, পদে পদে বিপদের ভয়!
হ্যাঁ, প্রথমটা ভয়ে বুক কেঁপেছে বটে ছেলেটার। এখন সে জানে বাঁচতে গেলে ‘সাহস’ ছাড়া গতি নেই। সুতরাং, গুহার ভেতরে ছড়ানো এবড়ো খেবড়ো পাথরে সাবধানে পা ফেলল সে। চোখ তার কোনোমতেই সাহায্যে আসছে না। সেই কারণে গুহার দেওয়াল-পাথরে সে যেমন ধাক্কা খাচ্ছে, তেমনই হোঁচট খেল, পড়ল, উঠল। হাত-পা কাটল। শেষমেশ ধ্বস্ত হয়ে সে হাঁপাতে লাগল। আর দাঁড়াতে পারল না বলে খানিক বসল সে। খানিক দম নিয়ে আবার উঠে দাঁড়াল। আবার অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই শুরু করে দিল।
আরও কতক্ষণ যে তাকে লড়াই করতে হল অন্ধকারের সঙ্গে, আরও কতবার যে সে লড়াই তীব্র হল, সেই ছেলেটা ছাড়া তার হিসেব আর কে জানে। কিন্তু সবশেষে অন্ধকারকে সে যে জয় করতে পেরেছে, এখবরটা কেউ ঢাক ঢোল পিটিয়ে কানে পৌঁছে না দিলেও, চোখে দেখা গেল সে, গুহার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছে। বেরিয়ে আর এক অন্ধকারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। অবশ্য এ অন্ধকার তত গাঢ় নয়। কেন না, আকাশ দেখা যাচ্ছে। আকাশে অসংখ্য তারা দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এখন রাত্রি।
ভালো খবর এই, এখন আর বাইরের হাওয়া মোটেই গরম নয়। নরম ফুরফুরে। আহ! ভারী স্বস্তি দিচ্ছে। কিন্তু এবার? দাদু আর ঠানদিকে খুঁজতে বেরিয়ে কোন পথ দিয়ে কোথায় সে চলে এসেছে নিজেই জানে না। গুহার অন্ধকারে নাস্তানাবুদ হয়ে সে ধুঁকছে। মনে হচ্ছে ফুরফুরে হাওয়ায় একটু জিরিয়ে নেয়! হ্যাঁ, জিরিয়ে তাকে নিতেই হবে, কেননা, দাঁড়াবার মতো শক্তি তার ফুরিয়ে গেছে। কাজেই তাকে বসতে হল। কোথায় বসল, কীসের ওপর বসল, সে নিয়ে ভাববার সময় নেই তার। একটু আয়েশ করাই এখন তার আসল উদ্দেশ্য।
হ্যাঁ, বসল সে। যেন সবটাই কেমন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে তার। একটা ছোট্ট মেয়ে, একটা কুকুর আর তিনজন কদাকার দেখতে মানুষ। কী কান্ডটাই না ঘটে গেল এদের নিয়ে। কেউ মারতে চায়, কেউ রক্ষা করে। কী দরকার ছিল অত ব্যস্ত হওয়ার। দাদু আর ঠানদিকে আগ বাড়িয়ে খুঁজতে বেরোনোর কোনো যুক্তি আছে! আরও অন্যায় করেছে সে! মা, বাবা কাউকে সে বলেনি। এখন তারা যে ছেলের জন্যে চতুর্দিকে ছোটাছুটি করছেন, সে কি ছেলের জানা আছে?
না, এতই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে সে, বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারল না। সেই এবড়ো-খেবড়ো পাথর ছড়ানো জমির ওপর শুয়ে পড়ল ছেলেটা। খানিক আকাশের দিকে তাকিয়ে চোখ মুদে এল তার। সে ঘুমিয়ে পড়ল। এতই কাহিল হয়ে পড়েছিল, একটিবারের জন্যেও তার মনে হল না, সেই কদাকার মানুষগুলো আবার তাকে ধরে নিয়ে যেতে পারে! তাকে মেরে তার রক্ত খেতে পারে! কে জানে এমনটা হবে কি না। যদি হয়, তবে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
না, তেমন কিছু হল না। অবাক হতে হয় এই ভেবে, ছেলেটার যখন ঘুম ভাঙল সকাল হয়ে গেছে। তার মাঝে, ছেলেটা সারারাত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, না হয় জ্ঞান হারিয়ে পাথরের ওপর পড়েছিল। কেননা, চোখ চাইতেই সে যেমন, দিনের আলো দেখতে পেল, তেমনই দেখতে পেল একটি ছেলেকে। তার-ই মতো ছোটো। বসে আছে তার পাশে। কোনো কিছু বলার আগেই সে বলল, ‘আমার নাম বসন্ত। আমি তোমাকে দেখে অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি তোমার পাশে। এতক্ষণে তোমার ঘুম ভাঙল! আমি তাজ্জব হয়ে যাচ্ছি ভেবে তুমি এখানে পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছে কেন! কোথায় থাকো তুমি? তোমার নাম কী? কী হয়েছে তোমার?’
কী হয়েছে তা বলার আগেই ছেলেটি তার নাম বলল, ‘প্রদীপ’। বসন্তকে দেখে প্রদীপের কেমনজানি আগাগোড়া সব কথা বলে ফেলার ইচ্ছে হল। একটুও সন্দেহ না করে বলেও ফেলল। বিপদে পড়লে মানুষ এমনটাই করে বোধ হয়। হয়তো বিপদ থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্যে, না হয় মনকে হালকা করার জন্যে।
সব শুনে হয়তো বা বসন্তর দয়া হল। সে ব্যস্ত হয়ে উঠল। বলল, ‘ছি ছি কাজটা তুমি ঠিক করোনি। দাদু আর ঠানদিকে খুঁজতে বেরিয়েছ বাবা, মাকে না বলে। তুমি জানো না কোন তীর্থে গেছেন তাঁরা। সেই তীর্থে পায়ে হেঁটে যায়, না গাড়ি চেপে তাও জানা নেই। কেউ শুনলে তোমাকে নির্ঘাত অবুঝ ভাববে। তার ওপর তোমার মুখ দেখে মনে হচ্ছে, কাল থেকে তোমার পেটেও কিছু পড়েনি। না-খেয়ে টো টো করে পথে ঘোরা মানে হাজারটা বিপদকে সঙ্গী করা! তোমার উচিত বাড়িতে ফিরে যাওয়া। ঠিক আছে, এখন তুমি আমার সঙ্গে চলো!’
‘কোথায়?’
‘আমাদের বাড়িতে।’
‘কোথায় তোমাদের বাড়ি?’
‘কাছেই।’
‘আমার ভয় করছে!’
‘তোমার ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বাড়িতে আমার মা আছেন।’
মায়ের নাম শুনে তেমন আর দোনামনা করল না প্রদীপ। বসন্তর সঙ্গে সে চলল বসন্তর মায়ের কাছে। না, বাড়িতে ঢুকে ভয়ের কিছু দেখল না সে। মা অনেক যত্ন করলেন প্রদীপকে। পেট ভরে খাওয়ালেন। সারা সকালটা গল্প করলেন প্রদীপের সঙ্গে। তারপর বললেন, ‘আর কোথাও যেয়ো না বাবা! পথ চিনে বাড়ি ফিরে যাও! তোমার মা হয়তো কাঁদছেন তোমার জন্যে। বাবা হয়তো দিশেহারা হয়ে তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন।’
সত্যি, সে আর অন্য কোনো কথা না ভেবে বাড়ির কথাই ভাবল। ভাবল মায়ের কথা, বাবার কথা। ঠিক করল সে বাড়িই ফিরে যাবে। অবশ্য বাড়ির পথটা সে একটু গুলিয়ে ফেলেছে! ফেলার-ই কথা। কেননা, এমন করে একলা একলা সে কোনোদিনই অচেনা পথে কোথাও যায়নি। যাওয়ার কথা ভাবেওনি। পথ হারিয়ে ফেললে যে ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটতে পারে, এটাও তার মাথায় ছিল না। তাই বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে পথে নামার আগে সে মনে মনে ঠিক করে নিল পাঁচটা লোককে জিগ্যেস করে সে বাড়ি ফেরার পথের খোঁজ নেবে। তাহলেই পৌঁছে যাবে বাড়িতে। আর এইভেবেই সে বসন্তর মাকে প্রণাম করে, বসন্তকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরল। এমন উপকার করার জন্যে ধন্যবাদ জানাল। তারপর পথে নামল।
সত্যি বলতে কী, এ পথে যে সে কেমন করে এসেছে, সে নিজেও ভেবে পাচ্ছে না। দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, এখানে তেমন কোনো ভয় পাওয়ার মতো এবড়ো খেবড়ো পাথর নেই, পাথরের আড়ালে অন্ধকার কোনো গর্তও নেই! সবটাই কেমন যেন ধাঁধা! এমনকী সেই অসহ্য গরমও নেই। ভারী মনোরম।
বলতে না বলতেই যা ভেবেছিল তাই, আচমকা মস্ত এক ধাঁধাতেই পড়ে গেল ছেলেটা। পথের মাঝে পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে তার নাক বরাবর একটা মস্ত উঁচু পাঁচিল। বোঝাই যাচ্ছে, ডাইনে-বাঁয়ে অনেকটা জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়েছে পাঁচিলটা। পাথরগাঁথা। বেশ শক্তসমর্থ। সুতরাং আর এপথ ধরে এগোনোর কোনো উপায় নেই। তা হলে সে যাবে কোন দিকে! তা হলে তো তাকে অন্যপথ দেখতে হয়। আশ্চর্য এখন আর কাছে-সে কাউকে দেখছেও না যে, জিগ্যেস করবে কোন পথ দিয়ে গেলে সে বাড়ির পথটা খুঁজে পাবে! অগত্যা সে পিছু ফিরল। দু-পা হাঁটতেই সে দেখতে পেল, তার পেছনেও পাঁচিল! ওই মস্ত উঁচু পাঁচিলটাই যেন গোল হয়ে ঘিরে আছে চারদিক। এ কেমন করে হল! সে তো এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথটাই দেখতে পাচ্ছে না! অথচ, সে তো যে পথ দিয়ে এসেছে এখানে, সেই পথের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে! পেছনে পাঁচিল এল কোত্থেকে! এ কী ইন্দ্রজাল, না গোলকধাঁধা! তবে কি দুটোই? কেউ বুঝি জাদুবলে ছেলেটাকে আনমনা করে দিয়ে এমন এক গোলকধাঁধায় ঘেরাও করে ফেলেছে!
বোধ হয় তাই! ছেলেটা ভয়ানক ভয় পেয়েছে! দিগবিদিক জ্ঞান হারিয়ে সে ছুটতে শুরু করে দিল। কিন্তু হলে কী হবে, সে যেদিকে ছোটে সেইদিকেই পাঁচিলের বাধা। তবু সে থামে না। ছুটতে ছুটতে সে জেরবার হয়ে গেল। কিন্তু পথের হদিশ সে পেল না।
কিন্তু হঠাৎ সেই ছুটন্ত অবস্থাতেই সে যেন কী দেখতে পেল। চমকে উঠল। চকিতে দাঁড়িয়ে পড়ল! একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল! অমন করে কী দেখছে সে, অবাক চোখে?
দেখছে, চোখের সামনেই তার মা আর বাবা! দাঁড়িয়ে আছেন পাশাপাশি। তাঁরা কথা বলেন না, ছেলেটার নাম ধরে ডাকেন না! এমনকী নড়েনও না!
তবে কী...
হ্যাঁ, এখন তাঁরা দু-টি পাথরের মূর্তিতে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন! বিশ্বাস করতে পারে না প্রদীপ নামের তাঁদের এই ছেলেটি। সে ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায়! হতবাক হয়ে নিরীক্ষণ করে। না এ তো মিথ্যে নয়, এ যে সত্যিই তার মা, বাবা। এমন কেন হল? তাঁরা পাথর কেন হলেন? কে করল তাঁদের পাথর? তবে কী এই পাঁচিলের বন্দিশালায় অজান্তে তাঁরাও ঢুকে পড়েছিলেন?
হ্যাঁ, ছেলেকে খুঁজতে খুঁজতে পথের এই বেড়াজালে তাঁরাও জড়িয়ে পড়ে অজান্তে এই গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়েন। তারপরেই এই দুর্দশা!
সে তো আর ছেলের জানার কথা নয়! সে তার মা-বাবার এই দুর্দশা দেখে কেঁদে লুটিয়ে পড়ল তাঁদের বুকে। আর্তনাদ করে উঠল, ‘মা-আ-আ’! তারপরেই স্তব্ধ হয়ে গেলে তার গলার স্বর। দেখা গেল ছেলেটার বাবা-মার পাথরের মূর্তি রক্ত-মাংসের জীবন্ত রূপ পেয়ে নড়ে উঠেছে। আর, তাদের ছেলের দেহটা নিশ্চল পাথর হয়ে গেছে!
না, ছেলেটা আর কথা বলতে পারে না। সে নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। মা আর্তস্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘প্রদীপ!’ বলে তিনি ছেলেকে ধরতে গেলেন। ধরেও ফেললেন। মুহূর্তের মধ্যে মা পাথর হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটা জীবন্ত হয়ে ‘মা’ বলে চিৎকার করে উঠল। ধরতে গেল মাকে। বাবা চোখের পলকে ছেলেকে জাপটে ধরলেন। স্পর্শ করতে দিলেন না মাকে। কেননা, চকিতে তিনি বুঝতে পারলেন, জীবন্ত মানুষ অনড় এই পাথরের মূর্তিকে স্পর্শ করলে, সে আর জীবন্ত থাকবে না, পাথর হয়ে যাবে আর যে ছিল পাথর সে হবে জীবন্ত। তাই বাবা আর ছেলেকে পাথর হতে দেবেন না। কে চান, তাঁর ছেলে সব ছেড়ে পাথর হয়ে যাক!
ছেলের বিস্ময়ের ঘোর কাটতেই বাবার মুখে শুনল এইসব কথা। শুনল, তাঁরা এখানে এসেছেন তাঁকে খুঁজতে, তারপরে কেমন করে যে, একটা বুনো ভালুকের নিশ্বাস তাদের গায়ে পড়তেই তাঁরা পাথর হয়ে গেল। শুনল সেই গল্প, এখন তারা কেমন করে আনমনে এই জনমানবহীন পাঁচিলঘেরা শূন্যপ্রান্তরে ঢুকে পড়েছিলেন, খেয়াল করতে পারছেন না। তাঁরা খুঁজছিলেন ছেলেকে এই প্রান্তরের কোণে কোণে। তারপরেই হারিয়ে গেলেন গোলকধাঁধায়। তখনই কোনো অদৃশ্য গহ্বর থেকে বেরিয়ে এল ভালুকটা। তাঁদের আক্রমণ করার জন্যে ধেয়ে গেল তিরবেগে তাঁরা পালাতে গেলেন। কিছুটা ছুটলেন। আর পারলেন না। মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ল ভালুকটা। তার নিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ল মানুষ দুটোর গায়ে। তাঁরা নিমেষে পাথর হয়ে গেলেন।
মাকে পাথর দেখে অস্থির হয়ে উঠল ছেলেটার মন। অস্থির হলেন বাবাও। কিন্তু দু-জনার কেউই জানেন না এখন তারা কী করলেন। এই পাথরের মূর্তিকে জীবন্ত করতে হলে পাথর হতেই হবে একজনকে।
যখন দু-জনেই অস্থির হয়ে ভাবছেন কী করবেন, তখন বাবাই ছেলেকে বললেন, ‘শোন রে প্রদীপ, এ বিপদ এখন আমাদের দু-জনেরই। তবু বিপদ তোর-ই বেশি। মা ছাড়া তুই থাকবি কেমন করে? যখন আর কোনো উপায় নেই, তখন আমিই তোর মাকে স্পর্শ করে পাথর হই, তোর মা জীবন্ত হোক। তুই মায়ের সঙ্গে বাড়ি যা। আমি পাথরের মূর্তি হয়ে এখানে চিরদিন দাঁড়িয়ে থাকি।’
ছেলে প্রবল আপত্তি করে উঠল, সে উত্তর দিল, ‘এ তুমি কী বলছ বাবা? আমি তোমাদের ছেলে। ছেলে থাকতে বাবা পাথর হবে! তুমি নয় বাবা, মায়ের জন্যেই আমিই পাথর হব। মাকে জীবন্ত করব আমি। নইলে কীসের জন্য ছেলে হয়ে জন্মেছি আমি?
বাবা ছেলের এই অজুহাতে কান দিলেন না।
ছেলেও বাবার কথা শুনতে রাজি হল না।
সুতরাং, আরও কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হল দু-জনে শেষপর্যন্ত কেউই যখন কোনো রফা করতে পারল না, তখন ছেলেই বলল, ‘বাবা, এক কাজ করি চলো। দেখি, এখানে কোনো জীবন্ত মানুষের দেখা পাই কি না! যদি দেখা পাই, তবে সে হয়তো কিছু উপায় বাতলে দিতে পারে আমাদের।’
বাবা বললেন, ‘এই গোলকধাঁধায় এখনও পর্যন্ত কোনো জীবন্ত মানুষ দেখিনি। তার ওপর জীবন্ত মানুষের খোঁজে আমরা নিজেরাই যদি গোলকধাঁধায় পথ হারাই!’
ছেলে বলল, ‘কিন্তু বাবা, আমাদের তো একটা উপায় বার করতেই হবে। এই গোলকধাঁধায় তা বলে তো মাকে একা রেখে আমরা অন্য কিছু ভাবতেও পারি না। এক, আমরা তিনজনেই যদি পাথর হয়ে থাকতে পারতুম, তা হলে তেমন কিছু ভাবনার থাকত না। অন্তত এই বলে একটা সান্ত্বনা থাকত, আমরা তিনজনেই পাথর—আমরা চেয়ে থাকি, দেখতে পাই না। মুখ আছে, কইতে পারি না। কান আছে, শুনতে পাই না। কেউ আঘাত করে আমাদের চুরমার করে ফেললেও আমাদের লাগে না, আমরা কাঁদিও না। কাজেই, আমরা তিনজনেই যখন একসঙ্গে পাথর হতে পারছি না, তখন অন্য উপায় বার করতে হলে আমাদের অন্য কাউকে খুঁজে বের করতে হবে। না-হয় গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেয়ে মরতে হবে। মরতে হয় মরব, তবু বেঁচে থেকে মায়ের পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেখতে পারব না।’
অগত্যা বাবা ছেলের কথায় রাজি হলেন। তাঁরা পাঁচিলঘেরা সেই মস্ত গোলকধাঁধার ভেতরে জীবন্ত মানুষ খুঁজে বেড়াতে লাগলেন আঁতিপাঁতি করে।
অনেকক্ষণ ধরে তাঁরা এ-কোণ সে-কোণ ঢুঁড়ে ফেললেন। কিন্তু জীবন্ত কোনো মানুষের দেখা পেলেন না। দেখা পেলেন একটা গর্তের। আর সেই গর্ত দেখে বাবা চমকে উঠলেন। কেননা, তাঁর মনে হল, এই সেই গর্ত। এই গর্তের ভেতরেই সেই ভালুকটা থাকে। এই গর্তের ভেতর থেকেই বেরিয়ে ভালুকটা তাঁদের ধাওয়া করেছিল। সেই ভালুকটার নিশ্বাসেই তাঁরা পাথর হয়ে যান। সেই গর্তের মুখে তিনি এক একদন্ড দাঁড়াতে চান না। তিনি ছেলের হাত ধরে ফেললেন। ছেলে কিছু বোঝার আগেই তিনি ছুট দিলেন। কিন্তু পারলেন না। কেননা ভালুকটা বেরিয়ে এসেছে গর্তের ভেতর থেকে আচমকা। তাড়া দিয়ে পিছু নিল বাবা আর ছেলের! শুরু হয়ে গেল এক ভয়ংকর দৃশ্যের। দুটো মানুষ প্রাণের ভয়ে ছুটছেন, হাঁপাচ্ছেন। একটা হিংস্র ভালুক তার পায়ের ধারালো নখর উঁচিয়ে তাদের খামচে ধরার চেষ্টা করছে!

ছুটতে ছুটতে মানুষ দুটো দমসম হয়ে গেলেন। হয়তো তাঁরা নিজেদের বাঁচাতে পারবেন না। হয়তো এবার ভালুকের খপ্পরে পড়তেই হবে। ওই বুঝি ভালুকের তীক্ষ্ণ নখ বিঁধে গেল ছেলেটার দেহে!
না, থমকে গেল ভালুক। সে দাঁড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ দেখা গেল একটা কুকুর যেন আকাশ ফাটিয়ে চিৎকার করতে করতে ছুটে আসছে ভালুকটাকে আক্রমণ করতে। ভালুকের তাড়া খেয়ে ধ্বস্ত দুটো মানুষ আর পারছিলেন না। তাঁরা দাঁড়িয়ে পড়লেন। হাঁপাতে লাগলেন হাঁসফাঁস করে। চমকে উঠল ছেলেটা কুকুরটাকে দেখে! কেননা, এ তার চেনা কুকুর। এই কুকুরটাই তাকে বাঁচিয়েছিল সেই আদিম মানুষের হাত থেকে। সেই ভয়াবহতা দেখে কুকুরটাই লাফিয়ে পড়ল ভালুকের ঘাড়ে। আশ্চর্য হয়ে ভাবল ছেলেটা, কুকুরটা এল কোথা থেকে! তবে কী কুকুরের সঙ্গী সেই মেয়েটিও এসেছে তার সঙ্গে?
না, সে আসেনি। কুকুর একাই ভালুকের ঘাড়ে পড়ে তার টুটিটা কামড়ে ধরল অতর্কিতে। ভালুক যে, কুকুরের গায়ে নিশ্বাস ফেলবে, তার সুযোগটিও পর্যন্ত পেল না। কয়েকমুহূর্ত মাত্র। তারপরেই সব শেষ!
ছুটে এল কুকুরটা ছেলেটার কাছে। ছেলেটার গায়ে গা বুলিয়ে আদর করল। তারপর পথ দেখাল। প্রথমে পথ দেখাল যেখানে মা ছিলেন পাথর হয়ে, সেই পথ। মা দাঁড়িয়ে আছেন। পাথর নয়, জীবন্ত। ভালুক মরার সঙ্গে সঙ্গে তার সর্বনাশা জাদুশক্তিও নি:শেষ! তারপর কুকুরটা এগিয়ে চলল গোলকধাঁধার বাইরে যাওয়ার পথের দিকে। তিনটে মানুষকে ঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে কুকুরটা দাঁড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ। তারপর মানুষ তিনটে যখন দিগন্তে হারিয়ে গেল, কুকুর তখন ফিরে গেল তার বন্ধুসঙ্গীটির কাছে। সেই আদিম মানুষের গহ্বরে।
আর, তিনটে মানুষ ঘরে ফিরলেন। তিনটে মানুষের মধ্যে সেই ছোট্টছেলেটি দেখতে পেয়েছিল, তাদের ফেরার অনেক আগেই তার দাদু আর ঠানদি তীর্থ সেরে ঘরে ফিরে এসেছেন! সে ভারী আনন্দের দিন।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন