শৈলেন ঘোষ
বুম! বুম! বুম!
ক-দিন রাতভর শুধু শোনা গেছে এই ভয়ংকর শব্দ, পাহাড়ের গায়ে গায়ে। গন্ধ ছড়িয়েছে বারুদ। যে পেরেছে, পালিয়েছে। যে পারেনি মরেছে।
দেখতে পাচ্ছ সেই ছেলেটিকে। কেমন যেন আনমনা। সারাক্ষণ। কী যে ভাবে! হয়তো ভাবে তার বন্ধুর কথা। পাহাড়ের ওপারে থাকে তার বন্ধু মানি। তারই মতো। পাহাড়ের গায়ে গ্রাম। ঘরবাড়ি ছোট্ট ছোট্ট। কী সুন্দর। পাথরে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চুপচাপ। যেন ছবি। হাঁক দাও পাহাড়ের এপার থেকে ওপারে, তোমার গলার শব্দ পৌঁছে যাবে। পৌঁছে যাবে ফার্ন, পাইন আর পপলার গাছ ছুঁয়ে ছুঁয়ে। সেই ছেলেটির ছোট্ট বাড়ি এপারে। সে ডাকত তার বন্ধুকে এপার থেকে ওপারে। রোজ।
‘মানি-ই-ই...’
মানি সাড়া দিয়ে ছুটে আসত ছোট্ট হরিণের মতো পাথর টপকে। দু-বন্ধু হাত ধরে ছুটে যেত আপেল-বাগানে। খেলা করত। গল্প করত। আর আকাশ দেখত।
একদিন হঠাৎ এক বন্ধু আরএক বন্ধুকে জিগ্যেস করেছিল, ‘পৃথিবীটা কার রে?’
থতোমতো খেয়ে যায় আর এক বন্ধু। সত্যিই তো, পৃথিবীটা কার?
সে অনেকক্ষণ চুপটি করে ভাবে। তারপর হঠাৎ বলে ওঠে, ‘পৃথিবীটা আমাদের।’
আনন্দে হেসে ওঠে দু-বন্ধু। তাদের হাসি দোল খায় বাতাসে। তারা হাসতে হাসতে চিৎকার করে, ‘পৃথিবীটা আমাদের, আমাদের, আমাদের।’
তারা নুড়ি-পাথর ছুড়ে দেয় শূন্যে। খুশিতে লাফায় নাচের মতো পা ফেলে।
নাচতে নাচতে হঠাৎ এক বন্ধু একটা ভেড়া দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে। সাদা ধবধবে। তাকে কোলে নিয়ে আদর করে। চেঁচিয়ে বলে, ‘পৃথিবীটা এরও।’
তারপর লাফাতে লাফাতে তারা ছুটে যায় নদীর তীরে। পাহাড় থেকে উছলে ওঠা নদীর কী ভীষণ স্রোত। মস্ত মস্ত পাথরকে সে তুচ্ছ করে বয়ে যায়। শব্দ, চারদিকে শব্দ। নদীর ছলাতকার। এ শব্দে শোনা যায় না বাতাসের ঝনঝনি গাছের পাতায়। কানে আসে না পাখির কাকলি। মানুষের গলার স্বর ডুবে যায় জলের শব্দের তোড়ে। তাই চিৎকার করে এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে বলে, ‘পৃথিবীটা নদীরও।’
আর একজন বলে, ‘বাতাসের’।
‘গাছের।’
‘পাখির।’
তারপর দু-বন্ধু নদীর জলে হাত ডুবিয়ে জল ছিটিয়ে খেলা করে।
খেলতে খেলতে এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে বলে, ‘আমরা যদি নদীর মতোই কত দেশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যেতুম উথাল-পাথাল করে। কত মানুষ। কত জনপদ। বনের কত জীবজন্তু। বাঘ, না-হয় হাতি। বানর, না-হয় হরিণ। কোথাও হরিণ শিং ডুবিয়ে জলে ভিজিয়ে নিত মাথা। কোথাও বা রাজহাঁস সাঁতার কাটত আমাদের ঢেউ-এর সঙ্গে দুলতে দুলতে। আর হয়তো বলত—পৃথিবীটা তাদেরও।’
হায় রে, এতো সেই সেদিনের কথা। কিন্তু ছোট্ট ছেলেটি এখনও জানে না তার বন্ধু মানির সঙ্গে তার আর দেখা হবে কিনা। কেননা, সেই বুক কাঁপানো বুম বুম শব্দের সঙ্গে মানিদের ওপারের অনেকগুলোবাড়ি চুরমার হয়ে গেছে। যদিও বেঁচে গেছে মানিদের বাড়িটা। কিন্তু মানিরা বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। কোথায় গেছে জানে না মানির এপারের এই ছোট্ট বন্ধুটি। তাই সে সারাক্ষণ আনমনা।
মাঝে মাঝে নিজের মুখ নিজের হাতে চেপে ধরে। হয়তো চোখের জল সামলায়। আর, হয়তো মনে মনে ভাবে কারা ফেলে বোমা? কারা মারে ওপারের মানুষকে? কেন মারে? তারা কি জানে না-এপারের মানুষের মতো, পৃথিবীটা ওপারের মানুষেরও?
না, আর বসে বসে চোখের জল সামলাবে না মানির বন্ধু সেই ছোট্ট ছেলেটি। সে মানিকে খুঁজে বার করবে। যেমন করে হোক। যেখান থেকে পারে।
সুতরাং, সে কাউকে কিছু বলল না। চলল একাই, মানির খোঁজে।
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ায় কেন ছেলেটি? তাই তো! আনমনে এ কোথায় চলে এসেছে সে? এ যে ফার, পাইন আর দেবদারু গাছের বন। এখানে কোথায় সে মানিকে খুঁজে পাবে?
এদিক-ওদিক অবাক হয়ে দেখতে দেখতে হঠাৎ তার চোখ পড়ে যায় একটা ঘুপচি ঘুপচি পাথরের আড়ালে। ওরা কারা বসে বসে পেটপুজো করছে? ওদের পাশে ওগুলো কী? বন্দুক?
ভয় পেল ছেলেটি। সে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল। মনে মনে ভাবল—এরাই কি তবে সেই দূর্বৃত্ত ? এরাই কি ওপারের মানুষের ঘরবাড়ি চুরমার করে, তাদের হত্যা করে? উত্তেজনায় শিউরে ওঠে ছেলেটি। গায়ে কাঁটা দেয়।
অবশ্য ছেলেটিকে আর বেশিক্ষণ লুকিয়ে থাকতে হল না। পেটপুজো সেরে ওরা উঠে পড়ল। যে-যার বন্দুক কাঁধে ঝুলিয়ে, হাঁটা দিল বনের ভেতরে। চলল আরও গভীরে।
ছেলেটি বেরিয়ে এল গাছের আড়াল থেকে চুপিসাড়ে। এখান থেকে স্পষ্ট দেখতে পেল বন্দুকধারীদের। হাঁটছে। মনে হয় ওরা আর পিছু ফিরবে না। এই বনেই বোধহয় ওরা আস্তানা গেড়েছে। দেখতে তো হয়। ছেলেটি পিছু নিল।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ছেলেটির পায়ে যেন কী ঠেকল। পায়ের দিকে চোখ নামাতেই দেখে—একটা রিভলভার। ছেলেটি চমকে ওঠে। হ্যাঁ, এইখানে বসেই তো ওই বন্দুকধারীরা খাওয়া-দাওয়া সারছিল।
নিমেষে তুলে নিল রিভলভারটা। সঙ্গে সঙ্গে লুকিয়ে ফেলল নিজের কোমরে। তারপর আবার ওদের পিছু নিল। কিন্তু হঠাৎ কেন সেই বন্দুকধারীর দল থমকে দাঁড়ায়?
ছেলেটিও লুকিয়ে পড়ে।
বন্দুকধারীরা সবাই মিলে ব্যস্ত হয়ে কী যেন খোঁজাখুঁজি করে। তারা ব্যস্ত হয়েই পেছন ফিরে দ্রুত পায়ে হাঁটে। এদিকেই আসে। বোঝাই যাচ্ছে, রিভলভারের খোঁজ পড়েছে।
ছেলেটিও দাঁড়িয়ে পড়ে।
বন্দুকধারীর দল যেখানে খাবার খাচ্ছিল, সেইখানেই হাজির হল। সেইখানেই তল্লাশি শুরু করে দিল।
হায়! হায়! কোথায় রিভলভার?
ছেলেটি পাথরের মতো নিশ্চল হয়ে লুকিয়ে থাকে।
দলের একজন চাপা গলায় বলল, ‘মনে হচ্ছে এখানে নেই। আয়, যে-পথ দিয়ে এসেছি, সে-পথটা তালাশ করে দেখি।’
একটার পর একটা গাছ ওরা তালাশ করে। একটার পর একটা পাথরের গর্ত ওরা ঢুঁড়ে ফেলে। ছেলেটিও নি:শব্দে ওদের চোখে ধুলো দিয়ে লুকিয়ে থাকে।
ওরা খুঁজতে খুঁজতে ছেলেটির চোখের আড়ালে হারিয়ে যায়।
বন্দুকধারীরা আর তাকে ধরতে পারছে না। সুতরাং, সে এখন কোমর থেকে রিভলভারটা বার করতেই পারে। নির্জন চারদিক। এই নির্জনে সে একবার পরখ করে দেখতে চায়—এই খুদে আগুনে-অস্ত্রটার ক্ষমতা।
সে খুব সাবধানে কোমর থেকে বার করল রিভলবারটা। উত্তেজনায় তার যেন দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে মনে ভাবে—সে এখন এই রিভলভারের মালিক। সে জানে, আঙুল দিয়ে রিভলভারের পেটের ওই কলটা টিপলেই, গুলি ছিটকে বেরোবে। সুতরাং, যাদের অত্যাচারে মানিদের পাড়ার বাড়িঘর চুরমার হয়ে গেছে, তাদের সে দেখে নেবে। সে দুর্বৃত্তের এই অস্ত্র দিয়েই দুর্বৃত্তদের শায়েস্তা করবে।’
উত্তেজনায় অস্থির হয়ে রিভলভারের মুখটা সে গাছের দিকে তাক করে তুলে ধরল। গাছের ডালে একটা পাখি। তাকেই সে নিশান করল। এই ছুটল বুঝি রিভলভারের গুলি!
না, পারল না। কে যেন ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলে উঠল, ‘পৃথিবীটা ওই পাখিরও।’
পাখিটা উড়ে গেল আকাশে।
ছেলেটি চোখ ফিরিয়ে আকাশ দেখতে লাগল। দেখতে দেখতে হঠাৎ তার চমক ভাঙে। সে আকাশের দিকে রিভলভারের গুলি ছুড়ল। শব্দ উঠল—সাঁই-ই-ই!
নিমেষের মধ্যে বন কেঁপে গর্জে উঠল গুড়ুম-গুড়ুম।
নিশ্চয়ই সেই বন্দুকধারীরা শুনতে পেয়েছে রিভলবারের শব্দ। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে, তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া রিভলভার অন্য কারও হাতে উঠেছে। তাই বোধহয় তারা বনটা ঘিরে ফেলবে। এবার নিশ্চয়ই তাদের বন্দুকের গুলি ছুটবে ঘনঘন।
বন্দুকের গর্জনে ভয় পায় ছেলেটি। নিজের বিপদ নিজেই সে ডেকে এনেছে। কাজেই সে লুকিয়ে পড়ল। পাথরের নীচে। সে-ও যেন একটা শক্ত পাথর!
শব্দ শোনা যাচ্ছে! শোনা যাচ্ছে সেই বন্দুকধারীদের পায়ের শব্দ। তারা বন তোলপাড় করে ছুটোছুটি করছে। শিকার না হাতছাড়া হয়ে যায়! তারা কখনো এদিকে যায়, কখনো ওদিকে। কখনো এগোয়, কখনো পেছোয়। হয়তো তারা বারুদের গন্ধ নাকে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে, রিভলভারের শব্দটা এল কোনদিক থেকে!
ছেলেটি নড়েও না, চড়েও না। এমন সাবধানে নিশ্বাস ফেলছে যে, নিজের নিশ্বাস নিজেই শুনতে পাচ্ছে না!
মনে হচ্ছে যেন, বন্দুকধারীরা রণে ভঙ্গ দিল। ওই তো তাদের পায়ের শব্দ ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।
ছেলেটি দু-চারবার উঁকি মারল। তারপর খুব সাবধানে বেরিয়ে এল পাথরের নীচ থেকে। হয়তো এ যাত্রায় সে বেঁচে গেল। সুতরাং, এখনই এখান থেকে পালাতে হবে। এখন আর অন্য কোনো চিন্তা তার মাথায় নেই।
বন থেকে বেরিয়ে যাবার পথটাই সে এখন খুঁজছে আঁতিপাতি করে। খুব সতর্ক হয়ে সে পা ফেলছে। সতর্ক পায়ে সে মাত্র কয়েক হাত গেছে, এমন সময় কে যেন হুংকার দিয়ে উঠল, ‘হলট।’
যা:! ওদের নজরে পড়ে গেছে ছেলেটি!
এ কী, ছেলেটি তো দাঁড়াল না! সে ছুট দিল। হাঁকপাক করতে করতে সে পাথর ডিঙোয়। গাছের আড়ালে আড়ালে পথ খোঁজে।
গুড়ুম-গুড়ুম! আবার বন্দুক গর্জে উঠল।
না, পিছু ফিরে দেখার ফুরসত নেই ছেলেটির। হাতের রিভলভারটা শক্ত করে ধরে, সে সামনের রাস্তা খোঁজে।
গুড়ুম-গুড়ুম! গুলি ছিটকে পড়ছে পাথরের ওপর ঠাঁই-ঠাঁই।
সে ভয় খেয়ে থেমে পড়ে। আবার ছোটে।
গুড়ুম-গুড়ুম! অস্পষ্ট হয়ে যায় শব্দ। বন্দুকধারীরা বোধহয় আর পেল না তার নাগাল। তাদের নিশানার অনেক বাইরেই বোধহয় পৌঁছে গেছে ছেলেটি।
হ্যাঁ ওই তো কত হালকা হয়ে গেছে বন। ওই তো দেখা যাচ্ছে ঘরবাড়ি। মানুষজন। ছেলেটি বোধহয় বেঁচে গেল। তবু সে ছুটছে।
সে পড়ি-মরি করে সামনের বাড়ির দরজায় ধাক্কা মারল। চেঁচাল ‘দরজা খোলো!’
কেউ খুলল না। ভয়ে।
পরের বাড়িটায় ছুটল সে। চেঁচাল, ‘দরজা খোলো।’
দরজা খুলল না। আতঙ্কে।
পরের বাড়ি। তার পরের বাড়ি। আরও বাড়ি। কেউ সাড়া দিল না।
সে অস্থির পায়ে ছুটতে ছুটতে এবার যে-বাড়িটার সামনে এসে দাঁড়াল,সে-বাড়ির দরজা বন্ধ, কিন্তু জানলা খোলা। সেই জানলায় মুখ ঠেকিয়ে সে চেঁচাতে গিয়ে থমকে গেল। তার নজরে পড়ল—একজন বৃদ্ধ মানুষ ঘরের এককোণে বসে রং-তুলি দিয়ে ছবি আঁকছেন। একমনে।
ছেলেটি এবার চেঁচাল না। আতঙ্কিত গলায় আকুল হয়ে বলল, ‘শুনছেন, আমাকে একটু আশ্রয় দেবেন? আমায় একদল দূর্বৃত্ত বন্দুক নিয়ে তাড়া করেছে।’
বৃদ্ধ মানুষটি মুখ তুলে তাকালেন। ক্ষণিকের জন্যে। তারপর মুখ ফিরিয়ে আবার ছবি আঁকায় মন দিলেন। তাঁর কি ছেলেটির হাতের রিভলভারের দিকে নজর পড়ে গেল!
ছেলেটি বুঝতে পারল না। তাই সে আবার বলল, ‘বিশ্বাস করুন, আমি ভীষণ বিপদে পড়েছি। দয়া করে দরজাটা খুলে আমায় বাঁচান।’
বৃদ্ধ মানুষটি এবার কথা বললেন, ‘তুইও তো কম যাস না। তোর হাতেও তো রিভলভার।’ বলে তিনি আবার কাজে মন দিলেন।
ছেলেটি রিভলভারটা চট করে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু আর লুকিয়ে কী হবে? বৃদ্ধ মানুষটি তো দেখেই ফেলেছেন! সুতরাং, ছেলেটি সত্যি কথাটাই তাঁকে বলল, ‘এটা আমি কুড়িয়ে পেয়েছি।’
বৃদ্ধ বললেন, যেখান থেকে ওটা কুড়িয়ে পেয়েছিস, সেখানে রেখে আয়। হাতে রিভলভার নিয়ে, তুই আশ্রয় চাস কোন লজ্জায়?
ছেলেটি এবার রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। জিগ্যেস করল, ‘আপনি দরজা খুলবেন কিনা?’
‘না।’ দৃঢ় গলায় তিনি উত্তর দিলেন।
‘খুলবেন না?’ ছেলেটির গলা কর্কশ হয়ে উঠল।
‘ভয় দেখাচ্ছিস?’ তিনিও রুক্ষ গলায় জিগ্যেস করলেন, ‘কী করবি তুই?’
‘আপনার ছবি আঁকা শেষ করে দেব।’ রুক্ষ গলায় ছেলেটিও উত্তর দিল।
উত্তেজনায় বৃদ্ধের গলা কেঁপে উঠল। বললেন, ‘দেখি, তোর কত ক্ষমতা!’
অপমানে তোলপাড় করে উঠল ছেলেটির মন। সে আর থাকতে পারল না। ছুড়ে দিল রিভলভারের গুলি। পড়ল গিয়ে ছবির ওপর টেবিলে। ভয়ে বৃদ্ধ মানুষটির হাত থেকে ফসকে গেল রঙের তুলি। রক্ষে যে তাঁর গায়ে লাগেনি গুলি ; উলটে গেল রঙের বাটিটা। লাল রং ছড়িয়ে গেল ছবির ওপর। ছবিতে দেখা গেল—একটি শিশু আদর করছে একটি ঘোড়াকে, পিঠে বসে। গুলি লেগেছে ঘোড়ার পায়ে! লাল রং যেন রক্ত। গড়িয়ে পড়ছে পা দিয়ে!
মুহূর্তের মধ্যে ছেলেটির মুখের কথা যেন হারিয়ে গেল। নির্বাক হয়ে সে ছবিটা দেখছে।
ঠিক সেই সময় আবার কে যেন তার কানে কানে ফিসফিস করে বলে উঠল, ‘পৃথিবীটা ওই ছবিরও! ভালোবেসে যে ছবি আঁকে, সে পৃথিবীকে সুন্দর করে। যে রিভলভারের গুলি ছুড়ে রক্ত ঝরায়, সে ভালোবাসা মুছে ফেলে পৃথিবীর বুক থেকে।’
কেঁদে ফেলে ছেলেটি। তার চোখ দুটি জলে উপচে পড়ে। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। সে ছোটে।
ছুটতে ছুটতে পৌঁছে যায় নদীর তীরে। তারপর রিভলভারটা চোখের সামনে তুলে ধরে চেঁচিয়ে ওঠে, পৃথিবীটা তোর নয়, তোর নয়, তোর নয়’ বলেই ছুড়ে দেয় নদীর জলে। তারপর বন্ধুকে ডাক দেয়, ‘মানি ই-ই-ই....?’
প্রতিধ্বনি ওঠে চারদিকে। কিন্তু বন্ধুর সাড়া সে পেল কি না, কেউ জানে না।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন