যে-গল্প হারায় না

শৈলেন ঘোষ

বলতে গেলে এখন, আমার গল্পই বলতে হয়। এখন আমি বয়সে অনেক বড়ো হয়ে গেছি। ছেলেবেলার ডাকনামটাও আমার বয়স হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়েও গেছে। নামটাও ছিল বেশ মজার—ফুর্তি! হবে হয়তো, ছোট্ট যখন ছিলুম তখন হাসতে, খেলতে, আনন্দ করতে খুব ভালোবাসতুম বলে তাই সবাই আমায় ‘ফুর্তি’ বলে ডাকত। আমার ভালো নাম কিন্তু ‘অশেষ’।

যাক গে, নামের কথা ছেড়ে দাও। নাম নিয়ে ধানাই-পানাই করতে গেলে আসল কথাটাই তো চাপা পড়ে যাবে। গল্পটাই তো শোনা হবে না।

আমরা যে বাড়িটায় থাকি, সেই বাড়ির একেবারে কোলঘেঁষে তিনদিকে তিনটে রাস্তা। সেই তিন রাস্তার মোড়ে ছিল একটা বেদী। ইট বাঁধানো। বেদীর মধ্যিখানে একটা ঝাঁকড়া বটগাছ। বটগাছের ঠিক গোড়ায় বসানো ছিল একটা গোলগাল পাথর। আর পাথরটার গা-ভরতি মাখানো ছিল সিঁদুর। আমাদের বাড়ির কাছাকাছি ছিল গঙ্গা। প্রত্যেক দিন কত লোক যে গঙ্গায় চান করতে যেত কমন্ডলু হাতে নিয়ে। চান করে ফেরার সময় কমন্ডলু ভরতি থাকত গঙ্গার জলে। অনেকেই সেই কমন্ডলুর খানিকটা জল, ওই সিঁদুর মাখানো পাথরের গায়ে ছিটিয়ে দিয়ে পাথরটাকে প্রণাম করত। প্রতি বছর শীতকালে কোথা থেকে একজন সাধু এসে ক-টা দিন এই বটতলায় কাটিয়ে যেতেন কে জানে!

সেই বয়সে এইসব সাধুদের দেখে আমি ভীষণ ভয় পেতুম। ভয় পাওয়ারই কথা। কী চেহারা তাঁদের। যেমন লম্বা, তেমন চওড়া। খালি গা। সারা গায়ে ভস্মমাখা। ইয়া লম্বা দাড়ি। মাথাভরতি জটাজাল। রক্তরাঙা চোখ। কপালে টকটকে সিঁদুরের ফোঁটা। চিৎকার করে উঠতেন, মনে হত যেন মেঘ ডাকছে। আমি তো তখন ছোটো। আমার কথা ছেড়ে দাও, এমন সাধুর মূর্তি হঠাৎ দেখলে আচ্ছা আচ্ছা দামাল ছেলেরও বুকের ধুকধুকি চমকে উঠবে।

কিন্তু একবার হল কী, একজন সাধু এলেন একেবারেই অন্যরকম। আমি মায়ের সঙ্গে যে ঘরটায় ওঠাবসা করতুম সেই ঘরের পুবদিকে একটা মস্ত জানালা। এই জানলাটা খুললেই তিন রাস্তার মোড়ের ওই বেদীটা স্পষ্ট নজরে পড়ত। যখন জানতে পারতুম দূর দেশের কোনো সাধু এসে ওই বটতলার বেদীতে আস্তানা গেড়েছেন, আমি ঘরের জানালাটা বন্ধ করে রাখতুম। কখনো সখনো জানলার পাল্লা দুটো একটুখানি ফাঁক করে লুকিয়ে-চুরিয়ে সাধুদের কান্ডকারখানা দেখতুম। এঁদের দেখলেই আমার বুক টিপটিপ করত। আর বলব কী, যাদের সামনে দেখলে ভয় করত খুব, তাদের লুকিয়ে দেখতে মজা লাগত ভারী। ছেলেবেলায় সবারই বোধ হয় এমনই হয়। ভূতের গল্প শুনতে শুনতে ভয়ে কুঁকড়ে যাই, আবার সেই ভূতের গল্প শোনার জন্যে মন ছোঁক-ছোঁক করে!

যাক গে, ওসব কথা ছাড়ান দাও। এবার বলি ওই যে সেবার অন্যরকম একজন সাধু এলেন, তাঁর কথা। জানলার ফাঁক দিয়ে দেখি তাঁর দাড়িও নেই, মাথায় জটাও নেই, কপালে সিঁদুরের ফোঁটাও নেই। আছে মাথায় একটা গেরুয়া রং-এর টুপি, পরনে গেরুয়া রং-এর আলখাল্লা, ফতুয়া কেমন শান্ত মুখ। দেখি বেদীর ওপর চোখ মুদে বসে আছেন। দেখে আমার খুব মজা লাগল। ইনি আবার কেমন সাধু! দাড়ি-গোঁফ কিছুই নেই। আমার তখন মনে হত, দাড়ি-গোঁফ না থাকলে, কৌপীন পরে, গায়ে ছাই মেখে ব্যোম ব্যোম করে হাঁক না দিলে তাকে সাধু বলে না। অথচ তাঁর সেসব কিছুই ছিল না। কাজেই দেখে আমার ভয়ও করছিল না। তাই জানলাটা সটান খুলে ফেললুম। তাঁকে চোখ ভরে দেখতে লাগলুম। আর ভাবতে লাগলুম উনি বোধ হয় পদ্য লেখেন। তাই অমন করে চোখ বুজে ভাবছেন। না, আসলে তিনি তখন ধ্যান করছিলেন।

ব্যাস! এই কথা যেই ভেবেছি, আশ্চর্য! একেবারে যাদুমন্ত্র যেন! তাঁর চোখ খুলে গেল। আমি তো দু-পাট জানলা সটান খুলে দেখছি তাঁকে! পড়বি তো পড় তাঁর চোখ সিধে আমার চোখে পড়ে গেল! আমি স্পষ্ট দেখলুম তিনি চমকে উঠলেন। আমি ভয় পেয়ে দুম করে জানলা বন্ধ করে দিলুম। ভাবতে লাগলুম, সাধু আমাকে দেখে অমন করে চমকালেন কেন!

এমন কথা ভাবতে ভাবতে আমি ঘরের কোণে একলাটি কিছুক্ষণ ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে রইলুম। তা বলতে নেই, চমকানোর কারণটা নিয়ে আমার মনও আর বেশিক্ষণ ধুকপুক করল না। ধীরে ধীরে সহজ হয়ে গেল মন। ঘর থেকে বেরিয়ে শুরু করে দিলুম যা রোজ করি—হল্লা বাজি। তারপর রোজ যা হয় মায়ের তাড়া দেওয়া, যা বইপত্তর গুছিয়ে নে! ঘড়িতে দশটা তো বাজে। নাওয়া-খাওয়া করে স্কুলে যেতে হবে না? শুধু খেললেই হবে?’

আশ্চর্য কান্ড কী, মায়ের বকাবকি যেই শেষ হয়েছে অমনি সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ডোরবেল বেজে উঠেছে। বাবা সেদিন কী একটা জরুরি কাজের জন্য অফিসও যাননি। বাবা বলেই ফেললেন, ‘অসময়ে কে এল?’ বলে নিজেই দরজা খুলতে গেলেন। দরজা খুলতেই দেখেন একজন সন্ন্যাসী। আমিও মায়ের আঁচলের আড়াল থেকে উঁকি মেরে দেখি সেই সাধুকে। দেখেই ঘরের ভেতরে পালাই। আসলে সাধু আর সন্ন্যাসীর মধ্যে কোথায় যে তফাত, তখনও আমার জানা ছিল না। এখনও যে জানি, তেমন না। মনে হত যাঁরাই বেদীতে বসে ধ্যান করেন তাঁদের সবাইকে সাধু বলে। এই সাধু আর সন্ন্যাসী নিয়ে কাউকে কোনোদিন কিছু জিগ্যেসও করিনি। শুধু একদিন ছোটোবেলায় আমার এক বন্ধুকে জিগ্যেস করেছিলুম, সাধু আর সন্ন্যাসীদের মধ্যে তফাত কী রে? সে বলেছিল, ‘সাধুরা কৌপীন পরে, দাড়ি রাখে, চুল কাটে না এবং তাই চুলে জটা। অন্যদিকে সন্ন্যাসীরা গেরুয়া পরে আর ভিক্ষে করে খায়! শুধু এক জায়গায় সাধু-সন্ন্যাসীর মিল। দুজনেই দেব-দেবীর পুজো করেন।’ বন্ধুর সেই সহজ উত্তরটা আজও আমার সত্যি বলে মনে হয়।

যাক গে, সে তো না হয় সত্যি হল। কিন্তু সন্ন্যাসী হঠাৎ আমাদের দরজায় বেল বাজালেন কেন? বাবা দরজা খুলে সন্ন্যাসীকে কিছু জিগ্যেস করার আগেই তিনি বললেন, ‘আমায় যদি একটু সময় দেন তবে কি আপনার কোনো অসুবিধা হবে?’

দরজায় সন্ন্যাসীকে দেখে বাবা প্রথমটা একটু থতমত খেয়ে গেছিলেন। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন, ‘না-না কোনো অসুবিধে নেই। ভেতরে আসুন।’

আমি তখন ভেতর-ঘরে আড়ি পেতে আছি সন্ন্যাসী কী বলেন শুনব বলে। বাবা চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন’।

আমাদের বাইরের ঘরটা খুবই গোছানো। ছিমছাম। ভেতরের যে ঘরে আমি আড়ি পেতে আছি দরজার ফাঁক দিয়ে একটু উঁকি মারলে সেই ঘর থেকে বাইরের ঘরটা স্পষ্ট দেখা যায়। সন্ন্যাসী মানুষটি চেয়ারে বসলেন, ঘরের চার দেওয়ালে চোখ বোলাতে বোলাতে দেখতে লাগলেন। আমি ভাবছি সন্ন্যাসী যখন বেদীতে বসে ছিলেন চোখ বুজে আমি তখন জানালা খুলে ওকে দেখতে দেখতে মুচকি মুচকি হাসছিলুম। তিনি হঠাৎ চোখ খুলে নিশ্চয়ই আমার হাসিমুখ দেখে ফেলেছেন। ভেবেছেন হয়তো আমি তাঁকে অশ্রদ্ধা করে হেসেছি। তাই বাবার কাছে আমার নামে নালিশ করতে এসেছেন। কিন্তু তিনি মুখে কোনো কথা উচ্চারণ না করে ঘরের চারপাশে চোখই বোলাতে লাগলেন। অগত্যা বাবাই তখন সন্ন্যাসীকে জিগ্যেস করলেন, ‘বলুন আপনার জন্যে কী করতে পারি!’

সন্ন্যাসী এবার কথা বললেন, ‘না, আমার জন্যে আপনাকে তেমন কিছু করতে হবে না। আসলে একটু আগে আমি একটি ছোট্ট ছেলেকে দেখলুম জানালায় দাঁড়িয়ে হাসি-হাসি মুখে আমাকে দেখছে। আমি তাকে একটিবার সামনাসামনি দেখব বলে এসেছি।’

সন্ন্যাসীর কথা শুনে আমি তো ভয়ে কাঠ। এই রে সন্ন্যাসী আবার আমায় দেখতে চান কেন? ধমকাধমকি করবেন নাকি!

সন্ন্যাসীর কথা শুনে বাবা বললেন, ‘ও, তা হলে ফুর্তি বোধ হয় জানলায় দাঁড়িয়ে আপনাকে দেখছিল। তাকে দেখতে চান কেন? সে আমার ছেলে।’

‘অন্য কোনো কারণ নেই। আচমকা একঝলক তার মুখখানা দেখেই আমার কেমন যেন সব গোলমাল হয়ে গেল।’

বাবা জিগ্যেস করলেন, ‘কী গোলমাল বলুন তো?’

সন্ন্যাসী উত্তর দিলেন, ‘সে এক মস্ত কাহিনি। অবশ্য আপনার আপত্তি থাকলে তাকে দেখানোর জন্যে আপনাকে জোরাজুরি করব না।’

বাবা বললেন ‘না-না, আপত্তি থাকবে কেন’?

সন্ন্যাসী বললেন, ‘আমার ওপর ভরসা রাখতে পারেন। আমি কথা দিচ্ছি একটিবার তার মুখখানা দেখেই আমি চলে যাব।’

বাবা উত্তর দিলেন, ‘ছি-ছি, আমি আপনাকে অবজ্ঞা করব কেন? আপনি সন্ন্যাসী, আপনাকে অবিশ্বাস করা যায়? ঠিক আছে আমি ছেলেকে ডাকছি’, বলে হাঁক দিলেন, ‘ফুর্তি’।

ব্যাস! বাবার ডাক শুনেই ভয়ে পেটের মধ্যে আমার হাত-পা সেঁধিয়ে যায় যেন! আমি মায়ের কাছে ছুটি। জড়িয়ে ধরলুম মাকে। মা অবাক হয়ে জিগ্যেস করলেন, ‘কী রে! কী হল?’

বাবা আবার ডাকলেন, ‘ফুর্তি, কোথায় গেলি?’

এবার মাও শুনতে পেয়েছেন। আমাকে অমন ভয়ে কুঁকড়ে যেতে দেখে বললেন, ‘ডাকছে, তুই ভয় পাচ্ছিস কেন? যা!’

আমি কাঁদো-কাঁদো গলায় উত্তর দিলুম, ‘না, আমি যাব না’। ইতিমধ্যে বাবা আরও ক-বার আমার নাম ধরে ডেকে এঘরে-ওঘরে আমাকে খুঁজছেন। পাননি। কিন্তু যখন দেখতে পেলেন, আমি তখন মায়ের আঁচল জড়িয়ে কাঁদছি। বাবা অবাক হয়ে জিগ্যেস করলেন, ‘কী হল, কাঁদছে কেন?’

মা উত্তর দিলেন, ‘কী জানি, বুঝতে পারছি না।’

বাবা কাছে এলেন। আমার চিবুক ধরে আদর করে বললেন, ‘চ দেখবি চ, তোকে কে দেখতে এসেছেন।’

আমি নারাজ। বলে উঠলাম, ‘না, আমি যাব না।’

‘কেন?

‘আমার ভয় করছে।’

মা জিগ্যেস করলেন, ‘কেন, ভয় করছে কেন?’

বাবা বললেন, ‘বটতলায় একজন সন্ন্যাসী, এসেছেন। তিনি ফুর্তিকে জানলায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন। একবার সামনাসামনি দেখতে চান।’ নারাজ আমি তবুও মায়ের আঁচল ছাড়ি না। কাতর গলায় বলে উঠলুম, ‘সন্ন্যাসী আমায় মারবেন।’

মা বললেন, ‘মারবেন কেন?’

বাবা বললেন, ‘আমি তো আছি। আমি থাকতে কে আমার ছেলের গায়ে হাত তোলে দেখি’!

‘ওরা সাধু! রেগে গেলে ভস্ম করে দেয়’।

বাবা হেসে ফেললেন। হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন, ‘অতই সোজা! আমি তক্ষুনি পুলিশ ডাকব।’ বলতে বলতে আমাকে মায়ের আঁচলের আড়াল থেকে নিজের কাছে আদর করে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘চ না, একবার দেখি সন্ন্যাসী তোকে কেমন করে ভস্ম করেন!’

দোনোমনো করে পা ঘষটে ঘষটে বাবার সঙ্গেই চললুম। ভয়ে দুরুদুরু বুক! কী জানি কী হয়।

বাবার সঙ্গে ভয়ে ভয়ে সন্ন্যাসীর সামনে এসে দাঁড়াতেই তিনি বললেন, ‘বাবা, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তোমার মুখখানা একটু ভালো করে দেখাও, আমি তোমায় খুব ভালোবাসব।’

তা আমি কি আর সন্ন্যাসীর কথা শুনি। মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়েই রইলুম। বাবা বললেন দেখাও, তোমার মুখখানি একবার দেখাও!

তা কে কার কথা শোনে! অগত্যা বাবা জোর করে আমার মুখখানা তুলে ধরলেন। আমার মুখের দিকে চেয়েই সন্ন্যাসী চমকে উঠলেন। অস্ফুট স্বরে তাঁর মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল শুধু একটিই শব্দ, ‘আশ্চর্য!’ তারপর আলতো হাতে আদর করে আমার মাথায় হাত রাখলেন। অবাক কান্ড, একটু আগে ভয়ে গুটিয়ে ছিলুম এখন নিমেষে কেমন যেন উছলে উঠল মনটা খুশিতে। চোখের পলকে বাবাকে ছেড়ে ছুটলুম ঘরের ভেতর, মায়ের কাছে। এখন ততটা ভয় না থাকলেও, অনেকটা লজ্জা পেয়েছি। একজন সন্ন্যাসীকে দেখে কেঁদে ফেলা কতটা ঠিক হল আমার মতো একজন ছেলের, এইকথাটা ভেবেই মন লজ্জায় ‘ছি ছি’ করে উঠল।

তা, সে যাই হোক আমাকে দেখে সন্ন্যাসীর মুখে ‘আশ্চর্য’ শব্দটা শুনে বাবার মনে হতেই পারে, এমন কথা কেন বললেন সন্ন্যাসী! তাই তিনি কৌতূহল চেপে রাখতে পারলেন না। সন্ন্যাসীকে জিগ্যেস করেই ফেললেন, ‘‘আমার ছেলেকে দেখে আপনার মুখ দিয়ে ‘আশ্চর্য’ শব্দটা বেরোল কেন?’’

বাবার কথা শুনে সন্ন্যাসী মৃদু হাসলেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। তারপর বললেন, আমার ছেলের মুখের আদল একেবারে আপনার ছেলের মতো। তাই আপনার ছেলের মুখ দেখে আমি থতমত খেয়ে গেছি। ওর মুখটি দেখেছি মুহূর্তের জন্য। পলক ফেলার আগেই সে জানলা বন্ধ করে দেয়। তাই তখনই তার মুখখানি দেখার জন্যে আমার মন এমন আকুল হয়ে ওঠে, থাকতে পারি না। চলে আসি আপনার ডেরায়।’

‘তবে কি আপনি—’

‘হ্যাঁ, একদিন আমি ঘর-সংসার করেছি। আপনার ছেলেটির মতো আমারও একটি ছেলে ছিল। কিন্তু—’

‘কিন্তু? থামলেন কেন?’

‘সে অনেক কথা।’

‘শুনতে পারি না?’

‘সব কথা বলার এখন তো সময় হবে না।’

বাবা বললেন, ‘ভারী কৌতূহল হচ্ছে জানতে। যদি আপত্তি না থাকে...।’

দীর্ঘশ্বাস ফেলে সন্ন্যাসী বললেন, ‘সে অনেক কথা—আমার জীবনের কথা, সময় লাগবে শুনতে।’

বাবা বললেন, ‘লাগুক। বলুন আপনি।’

সন্ন্যাসী খানিক চুপ করে বসে থেকে বলতে শুরু করলেন—

‘আমি কলকাতার এক নামি কোম্পানিতে চাকরি করতুম। আমরা মা-বাবা আমার ভবিষ্যৎ গড়ে, বিয়ে-থা দিয়ে, নাতির মুখ দেখে চিরদিনের জন্যে চলে গেলেন। আমার সংসারে কোনো দুঃখ-কষ্ট ছিল না। ছেলেটা স্কুলে পড়ত। ছেলে আর তার মাকে সঙ্গে নিয়ে দেশে দেশে ঘুরে বেড়ানো ছিল আমার শখ। ছেলেটা এই বয়সেই মরু দেখেছে। সাগর দেখেছে। বন দেখেছে। জঙ্গল দেখেছে। হ্যাঁ, পাহাড়ও সে দেখল। আর এই পাহাড়ই তাকে কেড়ে নিল আমার কাছ থেকে। সে বছর যাচ্ছিলুম তার মায়ের সঙ্গে ছেলেকে নিয়ে হিমালয়ের দুর্গম পথ ধরে গঙ্গোত্রী। ছেলের মা আর আমি হেঁটে চলেছি। ছেলের যাতে কষ্ট না-হয় তার জন্যে একটা টাট্টু ভাড়া করেছি। ভারী হাসিখুশি ছেলে আমার ঘোড়ায় চড়েছে। ঘোড়া হাঁটছে। ছেলে গঙ্গার উত্তাল ঢেউ দেখছে। পাথরের বাধা টপকে গঙ্গা ছুটছে। ঝরনা দেখছে। কখনো পাহাড়ের চুড়োয় বরফ দেখছে। আনন্দে চিৎকার করে উঠছে। পাহাড় কখনো রুক্ষ, কখনো সবুজ। দেবদারু না-হয় পাইন, বার্চ দাঁড়িয়ে আছে পাহাড় ঘিরে। গাছ চিনছে সে। অনেক পাখি দেখছে। পাহাড় কেটে মানুষ কেমন করে রাস্তা বানিয়েছে, তাও দেখেছে! আর মাঝে মাঝেই চিৎকার করে উঠছে, ‘মা-আ-আ, বাবা-আ-আ।’ পাহাড়ের পথ ভাঙতে ভাঙতে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। ঘোড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাঁটে কার সাধ্যি। আর সত্যি, দেখতে দেখতে পাহাড়ের একটা মস্ত বাঁকে ঘোড়ার পিঠে বসা আমার ছেলে, আর ঘোড়ার পাশে চলা ঘোড়ার সহিস অদৃশ্য হয়ে গেল। এমনটা হয়েই থাকে। এতে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। রাস্তা একটাই। কাজেই হারিয়ে যাওয়ার তো ভয় নেই।

কিন্তু ভয় ছিল, হারিয়ে যাওয়ারই ভয়। আমার ছেলে যে ঘোড়াটার পিঠে বসে এগিয়ে যাচ্ছিল হঠাৎ দেখি সেই ঘোড়াটাই তীব্র বেগে ছুটে আসছে। অথচ এখন তার পিঠে আমার ছেলে নেই। বসে আছে সহিস। যতক্ষণ এই সহিস আমাদের চোখের সামনে ছিল, ততক্ষণ তাকে দেখেছি কম বয়সি কী হাসিখুশি একটা ছেলে। এখন দেখছি, তার মুখে হাসি নেই। আতঙ্কভরা। আমার বুক শুকিয়ে গেল তাকে দেখে। ভাবি, ‘কী হল? আমাদের ছেলে কই?’ সে আমাদের সামনে এসে ঘোড়ার পিঠ থেকে হন্তদন্ত হয়ে লাফিয়ে নামল। কাঁপছে থরথর করে। কাঁপতে কাঁপতে কাঁচুমাচু গলায় বলল, ‘বাবু, সর্বনাশ হয়ে গেছে! ছোটোখোকা ঘোড়ার পিঠ থেকে খাদে পড়ে গেছে!’

মুহূর্তে মাথাটাও কেমন যেন ঘুরে গেল আমার। মনে হল যেন চোখে অন্ধকার দেখছি। ছেলের মা আচমকা চিৎকার করে উঠল, ‘খোকা-আ-আ!’ তারপর পাগলের মতো ছুটতে লাগল! তাকে অমন করে ছুটতে দেখে আমিও ছুটলুম। কোথায় খোকা! কোথায় খোকা! খানিক ছুটে এসেই দেখতে পেলুম পাহাড়ের একটা বাঁকে দু-চারজন মানুষ হাঁকপাঁক করে খাদে নামার রাস্তা খুঁজছেন। ছেলের মা চিৎকার করছে, ‘খোকা-আ-আ!’ আমিও চিৎকার জুড়ে দিলুম, ‘খোকা-আ-আ!’

ছেলের মা কেঁদে উঠল।

আমিও কেঁদে উঠলুম। খাদের নীচে আমিও ধড়ফড় করে নামতে গেলুম। কেউ একজন আমাকে ধরে ফেললেন। নামা যে যায় না, নামতে গেলে যে বিপদ হবে, এ বোধবুদ্ধি তখন আমার আর নেই। আমি পাগলের মতো ছটফট করতে লাগলুম। মনে হল ঘোড়ার সহিসটার গলা টিপে ওকে খুন করি! তার দিকে তেড়েও গেলুম। সঙ্গে সঙ্গে আর এক বিপদ ঘটে গেল। ছেলের মা জ্ঞান হারাল। সেই খাদের দিকে চোখ মেলে কী দেখল, কী দেখে সে মূর্চ্ছা গেল আমি জানি না। কিন্তু সেই মুর্চ্ছা ভেঙে তার আর জ্ঞান ফিরে আসেনি কোনোদিনও। সে-ও আমায় ছেড়ে চলে গেল চিরদিনের মতো। আমার বুকের রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়! তখন অনেকেই এসে পড়েছেন সেখানে। আমি অসহায়ের মতো অস্থির হয়ে যাকে সামনে পাই তাকেই আকুল হয়ে জড়িয়ে ধরি। কারও বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে হাউহাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জিগ্যেস করি, ‘এবার কী হবে?’ কারও পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করে উঠি, ‘আমায় বাঁচান।’

তারপর যা হবার তাই হল, উদ্ধারকারীর দল তন্নতন্ন করে ঢুঁড়ে ফেলল সেই খাদটা। কিন্তু ছেলেকে পাওয়া গেল না। ছেলের মায়ের শেষ-কাজ সেখানেই করা হল। আর আমি উন্মাদের মতো সেই পাহাড়ের অন্দরে-কন্দরে ঘুরে বেড়াতে লাগলুম। ফিরি না সেখান থেকে।

এমনই করে কেটে গেল অনেক ক-টা দিন। একই পোশাক গায়ে। ছিঁড়েখুড়ে, আলুথালু, লন্ডভন্ড। নোংরা। একগাল দাড়ি-গোঁফ। চেনে কার সাধ্য। খাওয়া নেই ঠিকঠাক। ঘুম পেলে পড়ে পড়ে ঘুমোই। দেহে আর শাঁস নেই একটুও। হাড় ক-খানা জিরজির করছে। হয়তো কদিন পরে আমাকেও ছেলে আর ছেলের মায়ের পথ ধরতে হত।

হয়তো এটাও ঠিক, আমার এই দুর্দশা যে-ই দেখত সেই ভাবত আমি একটা আস্ত পাগল। অবশ্য একজন ছাড়া। তিনি একজন সন্ন্যাসী। একদিন পাহাড়ের একটা নির্জন জায়গায় একলাটি বসে আছি। আপন মনে ভাবছি এলোমেলো কত কথা। ভাবছি ছেলের কথা, তার মায়ের কথা। ভাবতে ভাবতে আকুল হই। চোখের জল উপচে পড়ে। বোবাকান্নায় ভেসে যায় দুটো গাল। ছেঁড়া জামাটা টেনে মুছি। সেই চোখ আবার ভাসে কান্নায়।

ঠিক সেইসময়ে সেই নির্জনে সেই সন্ন্যাসী যে চুপিসাড়ে আমাকে লক্ষ করছিলেন আমি তা একেবারেই খেয়াল করিনি। তিনি ধীর পায়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। আমি চমকে তাকালুম। ভারী শান্ত আর স্নেহমাখা মুখখানি তাঁর। লাবণ্যে ভরপুর। মনকাড়া কন্ঠস্বর তাঁর। জিগ্যেস করলেন, ‘আর কত কাঁদবি?’ বলতে বলতে তাঁর গায়ের গরম চাদরটা আমার গায়ে জড়িয়ে দিলেন।

আমি তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছি।

সঙ্গে সন্ন্যাসী বললেন, ‘থাক থাক, মুছিস না। এখন যতই মোছ, আবার ভাসবে। কে না জানে একবার যা একেবারে হারায় তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তুই যে আর কোনোদিন তোর ছেলে আর তার মাকে ফিরে পাবি না, এটা তুই যতদিন না বুঝতে পারছিস ততদিন তোর এই মনের কষ্ট ঘুচবে না। নিজের প্রাণটাও যে হারাবি।’

আমার চোখে তখন সত্যি আবার কান্না ভেসে উঠল। আমি উত্তর দিলুম, ‘বেঁচেই বা কী করব! প্রাণ গেলেই ভালো।’

তিনি বললেন, ‘ছি: ও কথা বলতে নেই। সময় হলে প্রাণ আপনিই যাবে। তাকে ইচ্ছে করে কেউ হারায়! বল, প্রাণ আছে বলেই-না প্রকৃতির এত সৌন্দর্য আমাদের চোখে ভেসে উঠেছে। এই যে পাহাড়চুড়োয় তুষারের ওপর রোদের ছটা দেখছিস, কিংবা এই দেখছিস মেঘ, এই বৃষ্টি, ওই যে দেখছিস ঝরনা, নয়তো ছুটন্ত গঙ্গার দুরন্ত গতি—সবই তো প্রাণ আছে বলে। তাকে হেলাফেলা করতে নেই। প্রকৃতি কত কী দিয়েছে আমাদের। আকাশে সূর্য, তারা, চাঁদ, কত গ্রহ-উপগ্রহ। তবু সে তো অনেকদূরে। কিন্তু কাছে দ্যাখ, আকাশভরতি কত পাখি। মাটিতে কত বন-উপবন, সবুজের ছড়াছড়ি। গাছে রঙিন ফুল, বনে ভয়ংকর বাঘ। শুধু বাঘ কেন, সিংহ, হাতি, গন্ডার থেকে শুরু করে জিরাফ, হরিণ, জেব্রা কী নেই বনে। ভাবো তো একবার সমুদ্রের কথা! তার কত রহস্য। সেখানে যেমন প্রবালের রংবাহার তেমনই কত বিচিত্র রকমের মাছ, প্রাণী। নীল তিমির কথা কে না জানে! এমন বিশাল প্রাণীর দেশ সে তো সমুদ্রেরই অতলে।’ তারপরেই তিনি বলেন, ‘আয় আমার সঙ্গে, আমার হাত ধর!’

তাঁর স্নেহভরা কন্ঠস্বরে আমি কেমন যেন মুগ্ধ হয়ে গেলুম। তাঁর কথা ফেলতে পারলুম না। তাঁর হাত ধরলুম। তাঁর পায়ের সঙ্গে পা ফেলে, পাহাড় ডিঙোলুম। পৌঁছে গেলুম আশ্চর্য এক বনভূমিতে। সেখানে গাছে গাছে ডেকে ওঠা পাখির কলতান যেমন কানে এল, তেমনই শুনতে পেলুম বনের আনাচে-কানাচে আনন্দে ঝলমল শিশুর কলরব। বনের গভীরে দেখতে পেলুম এক ছোট্ট জলাশয়। কত রাজহাঁস। জলে ঢেউ তুলে নাচছে। না-হয় ডাকছে। আমি তাঁকে জিগ্যেস করলুম, ‘এ কোথায় নিয়ে এলেন আমায়।’

তিনি উত্তর দিলেন, ‘আমার আস্তানায়।’

‘বা:! কী চমৎকার বনের রাজ্যে আপনি থাকেন।’ আমি অবাক চোখে চারদিক দেখতে দেখতে তাঁকে বললুম।

তাঁর মুখে মৃদু হাসি। হাসি মুখে তিনি বললেন, ‘এখানে তুইও থাকবি।’

তাঁর কথা শেষ না-হতেই দেখি তিনি আমাকে একটি পাতায়-ছাওয়া কুটিরের সামনে নিয়ে এসেছেন। বললেন, ‘এই আমার ঠাঁই। আয়, ভেতরে আয়।’

আমি দোনোমনো করে কুটিরের ভেতরে ঢুকলুম। ছোট্ট, কিন্তু ভারি শান্ত কুটিরটি। আমার এই হাড়-জিরজিরে নোংরা চেহারায়, ছেঁড়াখোড়া পোশাক পরে কুটিরে ঢুকেই নিজের কথা ভেবে আমার ছি-ছি করে উঠল মন। এক মুহূর্ত দেরি না করে, কুটির থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে পা বাড়ালুম। তিনি বাধা দিলেন। জিগ্যেস করলেন, ‘কী হল?’

আমি উত্তর দিলুম, ‘আমি তো আবর্জনা। এই শান্ত সুন্দর কুটিরে আমায় মানায় না।’ বলতে বলতে আমি বেরিয়ে এলুম।

উত্তরে তিনি বললেন, ‘এই দুর্বল শরীর নিয়ে তুই অনেকটা পথ অনেক কষ্ট করে হেঁটে এসেছিস। এখন কিছু খেয়ে একটু জিরিয়ে নেওয়া খুবই দরকার।’

আমি বললুম, তার আগে দরকার আমার এই গা-ঘিনঘিন করা শরীরে ধুলো-ময়লা কেমন করে সাফ করা যায় তার উপায় বার করা।’

‘তা ঠিক।’ তিনি উত্তর দিলেন। তারপর বললেন, ‘চল আমার সঙ্গে।’ বলে তিনি আমার হাত ধরে নিয়ে গেলেন জলাশয়ের কিনারায়। আমি শরীরের ধুলো-ময়লা ধুয়ে ফেললুম।

তিনি বললেন, ‘এবার চল আমার সঙ্গে, আমি তোকে পোশাক দেব।’

আমি ফিরে গেলুম তাঁর সঙ্গে সেই কুটিরে। তিনি পোশাক দিলেন—একেবারে ঠিক তাঁরই মতো গেরুয়া বসন। তিনি বললেন, ‘তোকে দেবার মতো আমার কাছে অন্য আর কোনো পোশাক নেই। তোকে এই পোশাকই পরতে হবে।’

আমি ইতস্তত করে বললুম, ‘আমি এ পোশাক কেমন করে পরব? আমি তো আপনার মতো সন্ন্যাসী নই!’

‘তোকে কে বলেছে সন্ন্যাসী ছাড়া এ পোশাক আর কেউ পরতে পারবে না। তা ছাড়া তোকে কে বলেছে আমি সন্ন্যাসী! আমি সবার বন্ধু। ওই যে গাছে গাছে অসংখ্য পাখি দেখছিস তুই, ওদের বন্ধু আমি। জলাশয়ে যে রাজহাঁস দেখলি তুই, ওরাও আমার বন্ধু। এই বনের রাজ্যে যত পশুর ডাক শুনতে পাচ্ছিস ওরাও জানে আমি তাদের বন্ধু। আর ওই যে শুনতে পাচ্ছিস শিশুর কলরব, আর সকলের মতো বন্ধু আমি ওদেরও। ওই শিশুদের আমি কুড়িয়ে এনেছি পথের এখান-ওখান থেকে। তুই যেমন পড়েছিলি পাহাড়ের কোলে, তেমনই ওরাও পড়েছিল পথের ধুলোয়। এখানে ওরা খেলা করে, গান গায়, নাচে আর শেখে লিখতে-পড়তে। ওরা যখন বড়ো হয়, পৃথিবীকে চিনতে শেখে, তখন আমি ওদের ছুটি দিই। ওরা তখন নিজের পায়ে কেমন করে দাঁড়াতে হয় সেটা শিখে, চলে যায় নিজের পথ চিনে খুশির রাজ্যে। ওরা ভুলে যায় না আমাকে। এই যে দেখছিস এত বড়ো বনের রাজ্য, আমার দরবারে ওরা আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। তাই তো এত আনন্দ এখানে।’

এইখানেই তাঁর কথা শেষ করে তিনি আমার বাবাকে বললেন, ‘এই আমার জীবন। সেই যে গেরুয়া পরেছি, তা আজও আমার সঙ্গী। সেই থেকে বনভূমিতে আমিও সবার বন্ধু হয়ে আছি। আমি সন্ন্যাসী নই, আমি সবার প্রিয়জন। ওদের সেবা করি।’

তাঁর কথা বাবা শুনছেন। মা শুনছেন। আমিও শুনছি একমনে, অবাক হয়ে।

তিনি বললেন, ‘এবার আমি যাই।’ বলতে বলতে তিনি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। আমি একদৃষ্টে তাঁকে দেখতে লাগলুম। তিনি মৃদু হেসে আমার দিকে এগিয়ে এলেন। আমার মাথায় হাত রাখলেন। জিগ্যেস করলেন, ‘তোমার নাম কী?’

‘অশেষ। সবাই ফুর্তি বলে ডাকে।’

‘ভালো থাকো’, বলে তিনি আমার চিবুক ছুঁলেন। আমার চোখ ছলছল করে উঠল। আমি তাঁকে প্রণাম করলুম। আমি জানি না আমার চোখের ফোঁটা তাঁর পায়ে পড়ল কি না। তিনি চলে গেলেন।

পরের দিন সকালে জানলায় চোখ মেলে আমি আর তাঁকে সেই বেদীতে দেখতে পেলুম না। পরের দিনও না। এমনকি আর কোনোদিনও না। তিনি হারিয়ে গেলেন কোথায়, কেউ জানে না। আমিও জানি না। তবু তাঁকে দেখতে খুব ইচ্ছে করে। আজও।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%