হঠাৎ দেখা

মনোজ সেন

কানুবাবু আর ভোলাবাবু অভিন্নহৃদয় বন্ধু ছিলেন যদিও দু-জনের স্বভাবে মিল প্রায় ছিল না বললেই চলে। কানুবাবু চটপটে, হাসিখুশি, মজাদার লোক এবং ভোলাবাবু ছিলেন গম্ভীর, শান্ত আর সুযোগ পেলেই যত্রতত্র ঘুমিয়ে পড়তেন। দু-জনেই কলকাতার কাছেই একটা কারখানায় চাকরি করতেন। কানুবাবু ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে আর ভোলাবাবু অ্যাকাউন্টসে। কানুবাবুর একটা পুরোনো বড়ো ফোর্ড গাড়ি ছিল। দুই বন্ধু সেই গাড়ি নিয়ে ছুটিছাটা হলেই বেড়াতে বেরিয়ে পড়তেন আর প্রায় প্রত্যেকবার একটা না-একটা অদ্ভুত বা বিপদজনক অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসতেন। একবার ওঁরা যাচ্ছিলেন আগ্রা থেকে রওনা হয়ে রাজস্থানের সনকপুর বলে একটা শহরে। সেখানে একটা অতি প্রাচীন মন্দির আছে, সেটা দেখাই উদ্দেশ্য ছিল। সনকপুর বিখ্যাত জায়গা কিছু নয়, একটাই শুধু মন্দির। টুরিস্ট বড়ো একটা আসে না এদিকে। দুই বন্ধু ভোর বেলা বেরিয়েছেন, দুপুরের মধ্যে পৌঁছে যাবার কথা।

আগ্রা থেকে উদয়পুর যাওয়ার বড়ো রাস্তা থেকে বেরিয়ে একটা অপেক্ষাকৃত সরু রাস্তা চলে গেছে সনকপুরের দিকে। বড়ো রাস্তায় যদি বা বাস বা লরি চলে, সনকপুরের রাস্তা একেবারে নির্জন। প্রকৃতি এখানে অদ্ভুত রকমের নিষ্প্রাণ গাছপালা, লোকজন, জন্তুজানোয়ার, কিচ্ছু নেই। চারদিকে যতদূর দৃষ্টি যায় শুধু বড়ো বড়ো সাদা পাথরের স্তূপ অথবা ছোটো বড়ো পাথরের চাঁই-এ ঢাকা ছোটো ছোটো পাহাড়। মনে হয় যেন একটা অতিকায় প্রাগৈতিহাসিক সরিসৃপের ফসিল হয়ে যাওয়া কঙ্কালের ভেতরে রাস্তাটা মড়ার মতো পড়ে রয়েছে।

এরকম একটা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো সহজ ব্যাপার নয়। চারদিকের ক্লান্তিকর একঘেয়েমির ফলে গাড়িচালকের ঘুম পেতে থাকে, সেটি খুবই বিপদজনক। সেই ঘুম ঠেকানোর জন্য কানুবাবু চিৎকার করে বেসুরো গলায়, শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে পথের, গাইতে গাইতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ভোলাবাবু অবশ্য এসব কিছু জানেন না। তিনি পরমানন্দে ঘুমিয়ে যাচ্ছিলেন।

দিব্যি চলছিল গাড়িটা। হঠাৎ, বলা নেই কওয়া নেই, চলতে চলতে সেই জনহীন প্রান্তরের মাঝখানে দুম করে গাড়িটা বন্ধ হয়ে গেল। তারপর, আপন মনে গড়াতে গড়াতে গিয়ে সেটা একটা মস্ত পাথরের চাঁই-এর পাশে দাঁড়িয়ে গেল। মোটরগাড়ির কলকব্জা সম্পর্কে ভালোই জ্ঞান ছিল কানুবাবুর, কাজেই এরকম অবস্থায় গাড়িটাকে আবার চালু করার যত পদ্ধতি আর টোটকা জানা ছিল সেগুলো সব কটাই প্রয়োগ করলেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না। দেখা গেল, গাড়িটার আলো জ্বলছে না, ব্রেক কাজ করছে না, কিছুই হচ্ছে না। আশ্চর্য ব্যাপার। এরকম কেন যে হল, সেটা কিছুতেই ভেবে বের করতে পারলেন না কানুবাবু। তবে এটা বুঝতে পারলেন যে তাঁর জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে গাড়িটা কখনোই চালু করতে পারবেন না। এখন একজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রির দরকার।

এটাই বাকি ছিল। এই তেপান্তরের মধ্যিখানে মিস্ত্রি কোথায় পাওয়া যাবে। কোনো লরি বা বাস পেলে হয়তো কাছেপিঠে কোনো জনবসতি থেকে লোকটাকে নিয়ে আসা যেত, কিন্তু সেসব কোথায়। ম্যাপ দেখে মনে হয় সনকপুর ওখান থেকে অন্তত দশ কিলোমিটার দূরে। হেঁটে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সুতরাং, গনগনে রোদ মাথায় নিয়ে হাঁ করে সাহায্যের আশায় বসে থাকা ছাড়া উপায়ান্তর নেই।

অতএব, বনেট বন্ধ করে গাড়ির ভেতরে গিয়ে বসবার জন্য তৈরি হলেন কানুবাবু। হঠাৎ দেখেন, পাথরের চাঁইটার পেছন থেকে একটা লোক বেরিয়ে আসছে। লোকটির পরনে ঠিক তাঁরই মতো সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, পায়ে সাদা ক্যাম্বিসের জুতো। লোকটিকে দেখে কানুবাবুর ভীষণ চেনাচেনা বলে মনে হল। কোথায় যেন দেখছেন, কিন্তু কোথায় যে দেখেছেন সেটা কিছুতেই মনে করতে পারলেন না।

লোকটি গুটিগুটি কানুবাবুর কাছে এগিয়ে এল। হাতজোড় করে পরিষ্কার বাংলায় বলল— নমস্কার। আপনার গাড়িতে কি যন্ত্রপাতি কিছু আছে?

অত্যন্ত খুশি আর আশান্বিত হয়ে কানুবাবু বললেন— আপনি বাঙালি? অবশ্য, এরকম বিদেশ বিভুঁয়ে, বিপদের সময় বাঙালি ছাড়া আর কে-ই বা এগিয়ে আসবে। হ্যাঁ, কী বলছিলেন, যন্ত্রপাতি? আছে বইকি। আপনি কি মেকানিক? দেখুন না একবার গাড়িটা। কেন যে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।

লোকটি কানুবাবুর সংবর্ধনায় আদৌ অভিভূত হয়েছে বলে মনে হল না। মাথা নেড়ে বলল— আপনার জন্যে নয়, আমি চাইছি আমার জন্য।

কানুবাবু একটু আশ্চর্য হয়ে বললেন— আপনার জন্য? তার মানে? আপনারও গাড়ি খারাপ হয়েছে না কি? কোথায় আপনার গাড়ি?

হাত নেড়ে লোকটি বলল— ওইখানে, ওই পাথরের ঢিবিটার আড়ালে। খারাপই হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আমি আবার তাড়াহুড়োতে যন্ত্রপাতিগুলো বাড়িতে ফেলে এসেছি।

—বলেন কী? তা, ওখানে আপনার গাড়ি গেল কী করে? ওখানে যাবার তো কোনো রাস্তাই নেই। চারদিকে পাথর।

—রাস্তা দিয়ে যায়নি।

—রাস্তা দিয়ে যায়নি তো কি আকাশ থেকে পড়ল?

লোকটি মাথা চুলকে বলল— ইয়ে, মানে, হ্যাঁ, তা-ই বলতে পারেন।

কানুবাবু মনে মনে ভাবলেন, এই রে, এ যে দেখছি পাগল। মুখে হাসি টেনে বললেন— বলেন কী, আকাশ থেকে পড়েছে? তা, কী গাড়ি আপনার?

—গাড়ি ঠিক নয়। যান বলতে পারেন।

—যান। তার মানে?

—তার মানে, যাতে চড়ে লোকে এদিক-সেদিক যায়— সেই যান। এই যেমন ধরুন, জলযান।

—জলযান! বটে! তা আপনারটা কী যান? আকাশযান?

লোকটি ম্লান হেসে বলল— প্রায় ঠিকই বলেছেন। আকাশযান নয়, মহাকাশযান।

শুনে কানুবাবু বসে পড়তে পড়তে সামলে নিলেন। ভাবলেন, সর্বনাশ করেছে রে! এ তো পাগল নয়, বদ্ধ পাগল! এখন এই জনহীন মাঠের মধ্যিখানে একে সামলাই কী করে। কোনোরকমে মুখটা ভাবলেশহীন রেখে কানুবাবু বললেন— অ। মহাকাশযান। সেটা খারাপ হয়ে পড়েছে ওই ঢিবিটার পেছনে আর আপনি সেটা আমার এই ঝ্যাঝঝেড়ে ফোর্ড গাড়ির যন্ত্রপাতি দিয়ে সারাবেন?

—সারাতে পারব কিনা জানি না। চেষ্টা করে দেখব।

—আমি কি একবার আপনার মহাকাশযানটা দেখতে পারি?

—পারবেন না। কারণ, আলোর যেসব তরঙ্গ আপনার চোখ ধরতে পারে, তা দিয়ে মহাকাযানটা দেখা সম্ভব নয়।

—তা আপনি দেখছেন কী করে?

আমার দেখবার ক্ষমতা আপনার চেয়ে অনেক গুণ বেশি, কারণ আমার চোখে বর্ণালীর যে পরিসর ধরা পড়ে, তা আপনার মতো সঙ্কীর্ণ নয়, অনেক বড়ো। মানে, বেগুনি থেকে লালের মধ্যে যে কটা রং শুধু সে কটাই আপনি দেখতে পান, আমি দেখতে পাই তাদের চেয়ে অনেক বেশি সংখ্যার রং। ফলে, যেমন ধরুন, অন্ধকারে আপনার কিছুই নজরে পড়ে না, আমার পড়ে।

—তাই নাকি? আপনি কি বলতে চান যে আপনি আর পাঁচটা লোকের মতো সাধারণ মানুষ নন?

লোকটি আবার ম্লান হেসে বলল— আমি অসাধারণ নই, তবে মানুষও নই। আমি গ্রহান্তর থেকে আসছি। আপনাদের ছায়াপথ নক্ষত্রপুঞ্জের বাইরে এইরকমই অন্য একটি নক্ষত্রপুঞ্জের একটি তারার একটি গ্রহে আমার বাড়ি। আমাদের নক্ষত্রপুঞ্জকে আপনাদের জ্যোতির্বিদরা নাম দিয়েছেন আলফা-২৭৫। আমি সেখান থেকেই আপনাদের গ্রহে আসছিলুম। মাঝপথে হতভাগা মহাকাশযানটা এমন গোলমাল শুরু করলে যে এখানে নেমে পড়তে বাধ্য হলুম।

কানুবাবুর মনে হল হাত-পা ছুড়ে দৌড় মারেন। কিন্তু এই ফাঁকা মাঠের মধ্যে পালাবেন কোথায়? তা ছাড়া, উন্মাদ হলেও, লোকটিকে বিপদজনক বলে মনে হল না। তার পাগলামির মধ্যে কোথায় যেন একটা পদ্ধতি আছে। কথাগুলো যা বলছে সেগুলো অবাস্তব কিন্তু উলটোপালটা নয়। একে ক্ষেপানো ঠিক নয়। কখন যে কী মূর্তি ধারণ করবে বলা তো যায় না। তাই, কাষ্ঠ হেসে বললেন— হেঁ হেঁ, আপনি গ্রহান্তর থেকে এলে কী হবে, আপনার চেহারা কিন্তু ঠিক মানুষেরই মতো।

লোকটি মুখ বেঁকিয়ে বলল— দূর মশাই, একি আমার আসল চেহারা নাকি? আপনাদের জন্য আমাকে এই বিকট চেহারা ধারণ করতে হয়েছে।

এইবার একটু চটে গেলেন কানুবাবু। বললেন— বিকট চেহারা! কেন, আপনার চেহারা তো বেশ ভালোই দেখছি।

—আর বলবেন না মশাই। ভালো চেহারাই বটে। আমাকে যখন প্রথম মানুষের চেহারা দেখিয়েছিল, আমারই পিলে চমকে গিয়েছিল, আমাদের কোনো বাচ্চা ছেলেকে দেখালে সে তো নির্ঘাৎ ভিরমি যেত। গোল একটা মুণ্ডু, তার ওপরে বিরিবিরি চুল,দেখবার জন্য ড্যাবাড্যাবা দুটো চোখ, পটপটে কান, লুড়লুড়ে দুটো হাত, আর চলবার জন্যে দুটো ফঙফঙে ঠ্যাং। দেখে হেসে আর বাঁচিনে।

কানুবাবু ভয়ানক রেগে গেলেন। গোমড়া মুখে বললেন— ঠিক আছে, ঠিক আছে। তা, আপনি এই পৃথিবীতে কী মনে করে।

—আমি এসেছিলুম আপনাদের দলপতির সঙ্গে দেখা করবার জন্য।

—দলপতি? সে আবার কে?

—বাঃ, আপনাদের কোনো দলপতি নেই? অন্যান্য সমস্ত গ্রহে অনুন্নত অথচ বুদ্ধিমান প্রাণীদের একজন দলপতি থাকে। আপনাদের সেরকম কেউ নেই। তার সঙ্গে আমার একটু দরকার ছিল।

অনুন্নত অথচ বুদ্ধিমান প্রাণী শুনে কানুবাবু রাগে প্রায় বাক্যহারা হয়ে যাচ্ছিলেন। কোনোরকমে সামলে নিয়ে বললেন— না আমাদের সেরকম কোনো দলপতি নেই। তবে, আপনার দরকারটা কী তা যদি আমাকে বলেন, হয়তো আমি আপনাকে কোনো সাহায্য করতে পারি। বলছেন আর মনে মনে ভাবছেন, এই বদ্ধ উন্মাদ লোকটার হাত থেকে উদ্ধার পাই কী করে। একটা গাড়িও ছাই আসছে না এদিকে।

লোকটি বলল— দরকারটা হল, আমি যে সংস্থায় চাকরি করি, তারা আমাকে আপনাদের দলপতির কাছে পাঠিয়েছে একটা প্রস্তাব দিয়ে। প্রস্তাবটি হল, আপনাদের উপগ্রহ, যাকে আপনারা চাঁদ বলে থাকেন, সেখানে আমরা একটা মহাকাশযানে জ্বালানি ভরবার কেন্দ্র খুলতে চাই। আপনাদের সৌরজগতের ঠিক বাইরে দিয়ে আমাদের আন্তর্নক্ষত্র মহাকাশযানের যাতায়াতের পথ কিনা। মহাজাগতিক সংঘের নিয়মানুযায়ী আপনাদের অনুমতি ছাড়া সে কাজ আমরা করতে পারি না।

কানুবাবু আর সহ্য করতে পারছিলেন না। বললেন— দাদা, আমি অত্যন্ত দুঃখিত যে এ ব্যাপারে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারলুম না। আমাদের জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল বা হিউস্টনে নাসার প্রধান হয়তো এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন। ওই আমার গাড়ির সামনে রাস্তার ওপরে যন্ত্রপাতির বাক্সটা রয়েছে। ওটা নিয়ে যান। আর, আপনার মহাকাশযানটা সারানো হলে, দয়া করে ফেরত দিয়ে যাবেন। ওটা নিয়ে যদি মহাকাশে প্রস্থান করেন, তাহলে আমার গাড়িটা আর সারাতে পারব না।

—ধন্যবাদ, বলে লোকটা বাক্সটা নিয়ে ঢিবির পেছনে যেতে যেতে ফিক করে হেসে বলল— চিন্তা করবেন না। আপনার গাড়ির কিচ্ছু হয়নি।

দাঁত কিড়মিড় করে কানুবাবু মনে মনে বললেন— হ্যাঁ, তুমি তো সব জেনে বসে আছো।

দশ মিনিটের মধ্যে লোকটি বেরিয়ে এল। দন্তবিকাশ করে বলল— ধন্যবাদ। সব ঠিক হয়ে গেছে। বিশেষ কিছু হয়নি, বুঝলেন।

কানুবাবু বললেন— তা তো বুঝলুম, এখন আমার গাড়ির কী হবে?

—কী আবার হবে? কিচ্ছু হয়নি আপনার গাড়ির। কলকবজা বন্ধ করার রশ্মি চালিয়ে আমিই ওটা বন্ধ করে দিয়েছিলুম। নইলে এই সাহায্যটা তো পেতুম না, বুঝলেন না? এখন, রশ্মিটা বন্ধ করে দিয়েছি। আপনি নিশ্চিন্তে গাড়ি চালু করতে পারেন। বলে পেছনের দরজা খুলে যন্ত্রপাতির বাক্সটা রাখতে গিয়ে ভোলাবাবুকে দেখে বললেন— এ আবার কে? মরে গেছে নাকি?

কানুবাবু বললেন— না ঘুমুচ্ছে।

এই সময়ে কেউ ঘুমোয়? বলে লোকটি ভোলাবাবুর নাকটা ধরে নেড়ে দিয়ে বললেন— এই যে মশায়, উঠে পড়ুন এবার। যাত্রা করার সময় উপস্থিত।

চমকে ঘুম ভেঙে উঠে ভোলাবাবু লোকটিকে বললেন— ব্যাপারটা কী? তোর কি বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ পেল নাকি? আমার নাক মুলে দিলি যে? গাধা কোথাকার।

ভোলাবাবুর কথা শুনে হ্যা হ্যা করে হাসতে হাসতে গাড়ির দরজা বন্ধ করে লোকটি একদৌড়ে পাথরের ঢিবিটার পেছনে চলে গেল।

কানুবাবু গাড়িতে উঠে বললেন— কে রে লোকটা? তুই তো চিনিস দেখছি। আমারও ভীষণ চেনাচেনা লাগছিল, কোথায় যেন দেখেছি। বদ্ধ পাগল একটা।

ভোলাবাবু অবাক হয়ে বললেন— কোন লোকটা?

—এই যে যাকে তুই গাধাটাধা বললি।

এইবার ভোলাবাবু ঘুম ছুটে গেল। বললেন— তোর হয়েছে কী, বলবি? মাথাটাথা খারাপ হল নাকি? আমি তো তোকেই গালাগাল করলুম। আবার কাকে করব?

হঠাৎ বিদ্যুৎ-চমকের মতো কানুবাবুর মনে হল, আরে লোকটা যে ঠিক তাঁরই মতন দেখতে। তাঁর গায়ের লোম খড়খড় করে খাড়া হয়ে উঠল।

ঠিক তখুনি, পাথরের ঢিবির পেছনে গোঁ গোঁ করে একটা যন্ত্র চালু হবার শব্দ উঠল। তার পরমুহূর্তেই ধুলোর প্রচণ্ড ঝড় তুলে কী যেন একটা উল্কার মতো আকাশে উঠে গেল। চেষ্টা করেও সেটাকে দেখতে পেলেন না কানুবাবু।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%