তিন টুকরো হাসি

মনোজ সেন

জাপানি জানার সুবিধে

আমার বড়ো মেয়ে মউ জাপানি ভাষা শিখেছিল। বেশ ভালোই রপ্ত করেছিল। সেই ভাষায় বক্তৃতা-টক্তৃতা দিয়ে অনেক প্রাইজও পেয়েছিল।

একবার সে কালীঘাটে মেট্রো স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছে এসপ্ল্যানেডে যাবে বলে। ট্রেনে ভীষণ ভিড়। তিলধারণের জায়গা নেই। ঠেলেঠুলে উঠতে হয়েছে। যে কম্পার্টমেন্টে উঠেছে, দেখে তার একপাশে বেশ একটা উত্তেজনা। এক জাপানি মাঝবয়সি ভদ্রলোক হাত-পা নেড়ে সবাইকে কী যেন বোঝাতে চাইছেন কিন্তু কেউ কিছু বুঝতে পারছে না। ভদ্রলোকের বোধ হয় ধারণা যে তিনি ইংরিজি বলছেন, কিন্তু তা বোঝে কার সাধ্যি। তাঁর সহযাত্রীরা তাঁর সমস্যাটা বোঝবার জন্য তাঁর সঙ্গে ইংরেজি, বাংলা এমনকী হিন্দিতেও কথা বলে যাচ্ছেন। সেসব আবার তাঁর একেবারেই বোধগম্য হচ্ছে না। এই নিয়ে বেশ একটা গোলমাল বেধে গেছে।

ব্যাপার দেখে মউ গলা বাড়িয়ে জাপানি ভদ্রলোককে বলল— কী হয়েছে আপনার, আমাকে একটু বলবেন?

নিজের মাতৃভাষা শোনামাত্র সেই ভদ্রলোক তো প্রায় কেঁদে ফেলেন আর কী। মেলার মধ্যে হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাছেলে তার মাকে দেখলে যেমন ব্যাকুল হয়ে দৌড়ে আসে, তেমনিভাবে ভিড়টিড় ঠেলে তিনি মউ-এর কাছে চলে এলেন। আসলে, তিনি জানতে চাইছিলেন যে, কোন স্টেশনে নামলে তাঁর পক্ষে ক্যামাক স্ট্রিট আর থিয়েটার রোডের মোড়ে যাওয়া সহজ হবে। সেটা তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়ার পর তিনি মউকে অনেক ধন্যবাদ দিলেন এবং তাঁর স্টেশন না-আসা পর্যন্ত ওর সঙ্গে অনেক কথাবার্তা বললেন। বাকি যাত্রীরা হাঁ করে ওদের আলোচনা শুনলেন। কী বুঝলেন কে জানে।

জাপানি ভদ্রলোক নেমে যেতেই সবাই মউকে ঘিরে ধরলেন। একের পর এক প্রশ্ন, দিদি, আপনি কী ভাষায় কথা বললেন, এটা কি চীনে না জাপানি, আপনি চীনে ভাষা কোত্থেকে শিখলেন, আপনি কি চীনে গিয়েছিলেন, কী বলছিলেন ওই লোকটি, উনি কি চিনদেশ থেকে আসছেন না ট্যাংরা থেকে... ইত্যাদি-ইত্যাদি।

মউ কোনো জবাব দেওয়ার আগেই, একজন যাত্রী সিটে বসে থাকা একটি অল্পবয়সি ছেলেকে লাগালেন এক ধমক— এই, তুই বসে আছিস যে বড়ো। দেখছিস না যে, দিদি দাঁড়িয়ে রয়েছেন? উনি চীনেভাষা জানেন, তুই জানিস? ওঠ, ওঁকে বসতে দে।

অন্ধ্রপ্রদেশে গণ্ডগোল

কর্মসূত্রে আমাকে একবার অন্ধ্রপ্রদেশের আদৌনি বলে একটা ছোটো শহরে যেতে হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) মি. পি কে ঘোষ। আমাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ওই শহরের নামজাদা ব্যবসায়ী মি. বসন্তকুমারের সঙ্গে দেখা করা। বসন্তকুমার শুধু আদৌনিতেই নয়, সারা অন্ধ্রপ্রদেশেই খ্যাতনামা।

খুব ভোরে হায়দরবাদ থেকে গাড়ি নিয়ে বেরুলে বেলা দশটা নাগাদ আদৌনি পৌঁছনো যায়। আমরা সেইরকমই রওনা হয়েছিলুম। হায়দরাবাদ শহর থেকে বেরিয়ে রাস্তা গিয়েছে দিগন্তবিস্তৃত প্রান্তরের ভেতর দিয়ে। মাঝে মাঝে গ্রাম আর চাষের খেত। কখনো-বা দু-একটি ছোটো ছোটো শহর।

ঝিমঝিম করছে রোদ। মি. ঘোষ ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমি চুপচাপ বসে বাইরের দৃশ্য উপভোগ করছি। আদৌনি আসতে যখন আর ঘণ্টাখানেক বাকি, হঠাৎ দেখি আমাদের উলটোদিক থেকে একটা সবুজ রঙের অ্যামবাসাডার গাড়ি প্রচণ্ড জোরে ছুটে আসছে। আর, শুধু আসছে নয়, মাতালের মতো এঁকেবেঁকে আসছে।

আমি ড্রাইভারকে বললুম— গাড়িটার হাবভাব মোটেই ভালো ঠেকছে না। আপনি আপনার গাড়ি রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে দিন।

ড্রাইভার আমার কথায় সায় দিয়ে সেইরকমই করল। সবুজ গাড়িটা যখন কাছে এসে গেল তখন মনে হল যেন তার ভেতরে একটা ধস্তাধস্তি চলেছে আর তার পেছনের ডানদিকের জানলা দিয়ে বেরিয়ে রয়েছে একটা বন্দুকের নল। ব্যাপার দেখে আমি তাড়াতাড়ি গাড়িটার নম্বরটা টুকে নিলুম।

গাড়িটা আমাদের পাশ দিয়ে উল্কার মতো বেরিয়ে গেল আর ঠিক তক্ষুনি ছ্যাক করে একটা শব্দ হল। সঙ্গেসঙ্গে দেখি আমাদের গাড়ির সামনের কাচে একটা ছোট্ট ফুটো। একমুহূর্ত পরেই পুরো কাচটা চড়চড় করে ফেটে চৌচির হয়ে গেল।

ব্যাপারটা কী হল? ড্রাইভার বলল যে, অন্য গাড়িটা থেকে কেউ গুলি চালিয়েছে। ঠিক যে আমাদের লক্ষ করেই চালিয়েছে তা বোধ হয় নয়। বন্দুকটা নিয়ে কাড়াকাড়ি করতে গিয়ে হয়তো গুলি বেরিয়ে গেছে। আমাদের কপাল ভালো যে কারুর গায়ে লাগেনি সেটা। লাগলে আর দেখতে হত না।

কী আর করা যাবে? আমরা তো কাঁপতে কাঁপতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলুম। রাস্তার ধারে বড়ো বড়ো পাতার ঝোপ ছিল। সেই পাতা দিয়ে ভাঙা কাচ পরিষ্কার করা হল। তারপর যখন রওনা হতে যাচ্ছি, তখন দেখা গেল এক বিশালাকায় সর্দারজি একটা মান্ধাতার আমলের স্কুটারে চড়ে ঝড়ঝড় করতে করতে আসছেন উলটোদিক থেকে। আমরা দৌড়ে গিয়ে তাঁকে থামালুম। সমস্ত ঘটনাটা তাঁকে বলা হল।

আমরা বললুম— ঘটনাটা যদি খেলাচ্ছলেও হয়ে থাকে, তবুও সেটা তো ভালো কথা নয়। এরকম নির্জন হাইওয়ের ওপরে কারুর যদি গায়ে গুলি লাগত, তবে তার ফল অত্যন্ত খারাপ হতে পারত। সেই কারণে, সামনেই যে থানা পাবেন সেখানে এই ব্যাপারটা দয়া করে জানিয়ে দেবেন আর বলে দেবেন যে অমুক নম্বরের গাড়ি এই নম্বরের গাড়িতে গুলি চালিয়েছে। বলে একটা কাগজে নম্বরদুটো লিখে ওঁকে দিয়ে দিলুম।

সর্দারজি সমস্ত ব্যাপারটা বুঝলেন। তারপর প্রবলভাবে সম্মতি জানিয়ে চলে গেলেন। আমরাও আদৌনির দিকে রওনা হলুম। সেখানে পৌঁছে গাড়িতে নতুন কাচ লাগিয়ে, বসন্তকুমারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা সেরে আমরা যখন হায়দরাবাদের দিকে রওনা হলুম তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এসেছে।

সন্ধের মুখে আমরা একটা ছোটো শহরে এসে পৌঁছলুম। থানার কাছাকাছি আসতেই একদল পুলিশ বন্দুক উঁচিয়ে আমাদের গাড়ি আটকে দিল। ব্যাপারটা কী জানবার জন্য আমরা গাড়ি থেকে নামামাত্র একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর এগিয়ে এসে আমাদের আর আমাদের ড্রাইভারকে থানার ভেতরে নিয়ে গেলেন। বললেন— আপনাদের গ্রেপ্তার করা হল।

আমাদের তো আক্কেল গুড়ুম। সে কী কথা? কী আমাদের অপরাধ?

থানার ইনচার্জ, একজন সাব-ইন্সপেক্টর তাঁর টেবিল অলংকৃত করে বসেছিলেন। তিনি চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন— আপনারা এই নম্বরের গাড়িতে গুলি চালিয়েছেন। সেইজন্যে আপনাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। একজন সর্দারজি আমাদের এই অভিযোগ জানিয়ে গিয়েছেন।

আমরা যতই বলি ব্যাপারটা ঠিক উলটো ঘটেছে, কে কার কথা শোনে। তার ওপরে, আমরা কী বলি তিনি ভালো বোঝেন না, আমাদের অবস্থাও তথৈবচ। আমরা কার্ড দেখাতে গেলুম, অফিসারটি বললেন— অমন কার্ড পাঁচ টাকায় এক ডজন ছাপানো যায়। আমরা বললুম— কলকাতা থেকে আসছি কাজের সূত্রে। শুনে তো তিনি হাতকড়া লাগান আর কী। বললেন— কলকাতা থেকে? তবে তো আপনারা নিশ্চয়ই নকশালপন্থী। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছেন। শিগগির বলুন কাকে এবং কোথায় সেইসব অস্ত্র দিয়ে এসেছেন।

আমি প্রবলভাবে আপত্তি জানালুম। এইরকম তর্কাতর্কির মধ্যে হঠাৎ মি. ঘোষ খেপে গেলেন। হাত-পা ছুড়ে বললেন— দুত্তোর অস্ত্রশস্ত্র। আমরা মি. বসন্তকুমারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। বিশ্বাস না-হয়, তাঁকে ফোন করে দেখুন।

বসন্তকুমারের নাম শুনে অফিসারটির কানে জল ঢুকল। তিনি টেলিফোন তুলে নম্বর ডায়াল করলেন। কার সঙ্গে কী কথা বললেন তা তো বুঝতে পারলুম না। তবে আমাদের নাম বলতেই টেলিফোনের ভেতর থেকে কতগুলো রক্তজল করা ভয়ংকর গর্জন ভেসে এল। ফোন রেখে দিলেন। তারপর, হেঁ-হেঁ করে হেসে, আমাদের পিঠফিট চাপড়ে স্বয়ং থানা থেকে বেরিয়ে এসে আমাদর গাড়িতে তুলে দিলেন।

সেবার আমাদের হায়দরাবাদ পৌঁছতে মাঝরাত্তির হয়ে গিয়েছিল।

বে-আইনি ব্যাপার

পাঞ্জাবে রোপাড় বলে একটা জায়গায় এক থার্মাল পাওয়ার স্টেশনে তখন আমাদের কাজ চলছিল। আমাদের ক্যাম্পে ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাকাউন্টেন্ট, স্টোরকিপার, মেকানিক সব মিলে প্রায় সাত-আটজন লোক। আমি সেবার কলকাতা থেকে সেখানে গিয়েছিলুম কাজ কতটা এগোল দেখবার জন্যে। তিন-চারদিন ছিলুম।

এরমধ্যে একদিন সকাল বেলায় কাজের সাইটে গিয়েছি, আমাদের এক ছোকরা ইঞ্জিনিয়ার এসে ফিসফিস করে আমাকে বলল— মনোজদা, হরিণের মাংস খাবেন?

বললুম— নিশ্চয়ই খাব। খাইনি তো কোনোদিন। কিন্তু তুমি এমন রহস্যময়ভাবে বলছ কেন? কোনো গণ্ডগোল আছে না কি?

সে বলল— একটু আছে। মানে, এখানে হরিণ মারা আইনত নিষেধ। একটা পোচার একটা হরিণ মেরেছে। স্থানীয় লোকেদের কাছে গেলে যদি তারা পুলিশকে বলেটলে দেয়, সেই ভয়ে আমাদের কাছে এসেছে।

আমি বললুম— চমৎকার। হরিণের মাংস খেতে গিয়ে শেষে পুলিশের হাতে পড়ব না কি?

—কিচ্ছু হবে না, মনোজদা। আপনি শুধু হ্যাঁ বলে দিন, বাকিটা আমরা ম্যানেজ করে নেব। সবাই কিন্তু লাফাচ্ছে।

কী আর করি। আমিও যে মনে মনে লাফাচ্ছিলুম না তা-নয়। বললাম— যা খুশি করো। আমি কিছু দেখিওনি, শুনিওনি। যদি বিপদ বোঝো, তাহলেই আমাকে ডেকো।

সারা সকাল কাজকর্ম করে দুপুর বেলা যখন আমাদের ক্যাম্প ফিরলুম, তখন আমরা সকলেই বিশ্বগ্রাসী খিদেয় কাতর। দেখি মাংস রান্নার গন্ধে চারদিক ম-ম করছে। আমাদের রান্না করত ভুবনমোহন পাত্র। সে সার্থকনামা লোক। তার রান্না ছিল সত্যিই ভুবনমোহন। তার ওপর, সেদিন স্পেশাল মাংস। পাত্র একেবারে মনপ্রাণ দিয়ে রান্না করেছিল। তার ফলে গন্ধটা যা বেরিয়েছিল সে আর কী বলব। আমি তো প্রায় অবশ হয়ে পড়লুম। বাকি সকলের অবস্থাও সেইরকমই।

স্নানটান সেরে সবাই মিলে অধীর আগ্রহে বসে আছি কখন খাবার ডাক আসবে, এমন সময় একটি ছেলে এসে বলল— একজন বনবিভাগের লোক আর একজন পুলিশের দারোগা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

সর্বনাশ করেছে। এ তো মহা বিপদ! আর ঠিক এই সময়েই? করবার তো কিচ্ছু নেই। বললুম— ওঁদের এখানেই নিয়ে এসো।

সরকারি অফিসার দু-জন ঘরে ঢুকেই কাজের কথা পাড়লেন। বললেন— আমরা খবর পেয়েছি যে আপনাদের ক্যাম্পের একজন লোক একজন পোচারের কাছ থেকে হরিণের মাংস কিনেছে। ব্যাপারটা ভয়ানক বে-আইনি। আমরা তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।

আমি প্রশ্ন করলুম— কে এই কাজ করেছে তার নাম জানেন?

দারোগা বললেন— নাম একটা পেয়েছি বটে কিন্তু তার কোনো মানেই হয় না। এমন বিদঘুটে সব নাম বাঙালিদের। কী যেন দাই পিয়োন হাজার বা ওইরকমের কিছু।

বুঝলুম, আমাদের ইলাক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার দ্বৈপায়ন হাজরা কর্মটি করেছে। সে আমার পাশেই মুখে একেবারে শিশুর সারল্য নিয়ে বসে ছিল। তাকে জিজ্ঞেস করলুম— এ কে রে? চিনিস?

প্রবলবেগে মাথা নেড়ে দ্বৈপায়ন বলল— না, মনোজদা। দাই পিওন হাজার বলে আমাদের এখানে তো কেউ নেই। আমাদের পাশেই কনশাস কন্সট্রাকশন কাজ করছে। তাদের একবার জিজ্ঞেস করে দেখলে হয় না?

দারোগা গম্ভীরমুখে বললেন— না, যে নিয়েছে সে আপনাদেরই লোক।

আমি বললুম— আমি তো একে ঠিক চিনতে পারছি না। একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখি। যদি পেয়ে যাই তো সন্ধের মধ্যেই তাকে আপনাদের সামনে দাঁড় করিয়ে দেব।

দুই অফিসার ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালেন। বললেন— ঠিক আছে, তাই হবে। আমরা তাহলে এবার চলি।

দ্বৈপায়ন বিনয়ের অবতার। তাড়াতাড়ি উঠে দাঁড়িয়ে বলল— সে কি কথা! যাবেন মানে? এখন আমরা খেতে বসেছি, আপনাদেরও আমাদের সঙ্গে বসতে হবে। আমরা কোনো কথাই শুনব না। আপনারা না-খেয়ে চলে গেলে আমাদের যে অকল্যাণ হবে।

অফিসার দু-জন, না-না, তা হয় না, আপনাদের কম পড়ে যাবে, ইত্যাদি বলতে লাগলেন বটে কিন্তু খুব যে একটা জোরের সঙ্গে তা মনে হল না। দুপুর বেলা, ওঁদেরও নিশ্চয়ই খুব খিদে পেয়েছিল। তার ওপরে ভুবনমোহনের রান্নার গন্ধে যে ওঁরা অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়ছিলেন তাতে আর আশ্চর্য কী। কাজেই, যেন নিতান্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও ওঁদের রাজি হতে হল।

আমরা সবাই মিলে হইহই করে খেতে বসলুম। ভুবনমোহন যা রেঁধেছিল সেদিন, জন্মজন্মান্তরেও ভুলব না। আর দুই অফিসার যা খেলেন তা দেখে তো আমরা তাজ্জব। আমাদের কম পড়ে যাওয়ার কথাটা তখন আর তাঁদের মনে ছিল কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হতে লাগল।

খাওয়া শেষ করে দু-জনে যখন স্বপ্নাচ্ছন্নের মতো ফিরে যাচ্ছেন, আমি বললুম— তাহলে আজ সন্ধে বেলায় দেখা হচ্ছে।

বনবিভাগের অফিসার ঘুরে দাঁড়িয়ে বললেন— তার আর দরকার হবে না। যে অপরাধের তদন্ত করতে এসেছিলুম, আমরা তো এখন সেই দুষ্কর্মেরই ভাগীদার। কাজেই তদন্তটা এখন নিশ্চয়ই নিষ্প্রয়োজন।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%