নন্দিনীর সেপাইশাস্ত্রী

মনোজ সেন

নন্দিনী আর তার মা শিউলি হুগলি জেলার দোমালা গ্রামে থাকে। ওদের একতলা বাড়িটা খুব পুরোনো কিন্তু পাকাবাড়ি। বাড়িটা বানিয়েছিলেন নন্দিনীর ঠাকুরদাদার বাবা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ঠিকেদারি করে অনেক টাকা করেছিলেন তিনি। সেই টাকাতেই প্রায় দশকাঠা জমির ওপরে এই বাড়িটা তৈরি হয়েছিল। বাড়িটার সামনে বাগান আর কিছু ফাঁকা জমি, পেছনে গোয়ালঘর, কুয়োতলা, চানের ঘর ইত্যাদি।

দোমালা গ্রামে নন্দিনীদের বাড়িটার একটু বদনাম আছে। অনেকে অনেক কথা বলে। কিন্তু নন্দিনীরা মোটামুটি নিশ্চিন্তে আর নির্ভয়েই ওখানে থাকে। প্রতিবেশীরা কেউ কিছু বলতে এলে শিউলি বলেন— এখানে তেমন কেউ থাকলে তো তাঁরা নন্দিনীর পূর্বপুরুষ। তাঁরা আমাদের খামোখা ভয় দেখাতে বা কোনোরকম ক্ষতি করতে যাবেন কেন? ওঁদের সঙ্গে তো আমাদের কোনো শত্রুতা নেই; বরং সম্পর্কটা স্নেহের।

নন্দিনীর বাবা পঞ্চানন কলকাতার কাছে একটা কারখানায় কাজ করেন আর প্রত্যেক শনিবার তাঁর গ্রামের বাড়িতে আসেন। যখনই আসেন, মেয়ের জন্যে কিছু না কিছু নিয়ে আসেন আর এসেই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। কখনো যান নদীর ধারে, কখনো বা সাইকেল করে দিয়াড়া স্টেশনে। সারাদিন দু-জনের কথা আর ফুরোয় না। সোমবার খুব ভোরে পঞ্চানন ফার্স্ট ট্রেন ধরে তাঁর কাজের জায়গায় ফিরে যান। নন্দিনী তখন ঘুমিয়ে থাকে।

নন্দিনীর বয়েস ন-বছর, কিন্তু তাকে নিতান্ত শিশু ভাবলে ভুল করা হবে। যখন তার বাবা থাকেন না, তখন তাকে সংসারের কত কাজ যে করতে হয়, তার কোনো সীমা নেই। তারমধ্যে আবার স্কুলের পড়া আর একটুখানি পুতুলখেলা তো আছেই। ওদের রান্নাঘরের একপাশে তার খেলাঘর। সেখানেই তার পুতুলের সংসার।

সেবছর পুজোর সময়, পঞ্চানন মেয়ের জন্যে এনেছিলেন দশটা কৃষ্ণনগরের মাটির সেপাই। তাদের প্রত্যেকের মুখে প্রকাণ্ড গোঁফ, মাথায় উঁচু টুপি আর পরনে ঝকমকে লাল-সবুজ উর্দি। তাদের কারোর হাতে তরোয়াল, কারোর সঙ্গিন লাগান বন্দুক আবার কারোর হাতে বর্শা। বাক্স থেকে বের করা মাত্র তারা নন্দিনীর সবচেয়ে প্রিয় পুতুল হয়ে পড়ল। এখন তারা তাকের ওপরে সাজানো আছে। সে ছাড়া আর কারোর তাদের ধরবার অধিকার নেই। এমনকী নন্দিনীর বেস্টফ্রেন্ড দীপালিরও নয়। ওর ধবধবে সাদা বেড়াল 'বড়োসাহেব' আড়চোখে পুতুলগুলো দেখে কিন্তু তাদের কখনো বিরক্ত করে না। এমনকী নন্দিনী যখন ওদের নিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে, বড়োসাহেব তখন চৌকাঠের বাইরে বিমর্ষভাবে চুপ করে বসে থাকে।

তবে হ্যাঁ, রাত একটু বাড়লেই নন্দিনী কিন্তু আর তার মায়ের কাছ থেকে সরতে চায় না। শিউলি মাঝেমাঝে বললেন— বড্ড ভীতু তো তুই! বাইরে অন্ধকার হলেই আমার গা ঘেঁষে থাকিস। কীসের ভয় তোর? ভূতের? পাড়ার লোকের এসব বাজে কথায় কান দিবি না তো।

নন্দিনী বলে— ভয় আবার কী? সারাদিন তো তোমার কাছে বসাই হয় না। কত কাজ করতে হয় না আমাকে? এই রাত্রি বেলায় তো তোমার কাছে আসতে পারি।

শিউলি মেয়ের কথা শুনে হাসেন কিন্তু তার সবটা বিশ্বাস করেন বলে মনে হয় না। তিনি বোধ হয় বুঝতে পারেন যে নন্দিনী তাকে কিছু গোপন করে যাচ্ছে।

তাঁর ধারণাটা সত্যি। নন্দিনী তাঁকে যে কথাটা বলে না তা হল সে বেশ কয়েক বার চাঁদনি রাতে বারান্দায় আরামকেদারার ওপর ধুতি আর ফতুয়া পরা একজন বুড়োমানুষকে চুপ করে বাইরে জ্যোৎস্নার দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে দেখেছে। এই কথাটা সে কাউকে বলেনি, এমনকী দীপালিকেও নয়।

আরও একটা ঘটনা তার কাছে অদ্ভুত লেগেছে। সন্ধে হলেই বড়োসাহেব কিছুতেই বারান্দায় যাবে না। একদিন বিকেল থেকে নন্দিনী বড়োসাহেবকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে ছিল। যেই সূর্য ডুবে গেল, অমনি বড়োসাহেব হাঁচোড়পাঁচোড় করে ওর কোল থেকে নেমে দৌড়ে ঘরের ভেতরে চলে গেল।

নন্দিনী মনে মনে ভাবে, ভূত যদি থাকে তো থাক না। সে তো তাদের কোনো ক্ষতি করছে না। আর কেনই বা করবে? তাকে তো আর কেউ বিরক্ত করতে যাচ্ছে না। এই জন্যেই সে একটা ইচ্ছেকে চেপে রেখে দিয়েছে। ইচ্ছেটা হল, ওই ফতুয়া পরা বুড়োমানুষটির সঙ্গে গিয়ে আলাপ করবার। কিন্তু, ওর ভয় হয় তাতে যদি উনি বিরক্ত হন। তখন যে কী হবে তা তো বলা যায় না। তার চেয়ে এই ভালো, যে যার আপন মনে থাকো।

বোধ হয়, এই জন্যেই ওর বাবা বাড়িতে এলে দিনের বেলা যদিও বা আরামকেদারায় বসেন, সন্ধের পর কক্ষনো বসেন না। জিজ্ঞাসা করলে বলেন— আমার তো সর্দির ধাত। বাইরে বসলে যদি ঠান্ডা লেগে যায়, তাই বসি না।

সেবছর মাঘ মাসে খুব ঠান্ডা পড়েছিল। রাত্রে একটা কম্বলে কুলোচ্ছিল না, দুটোর দরকার পড়ছিল। সবাই শীতে জবুথুবু হয়ে পড়ছিল। দিনের বেলা রোদ ওঠে দেরিতে আর বিকেল হতে না-হতেই তার আর পাত্তা পাওয়া যায় না। সবাই তখন বাড়িতে ঢুকে দরজা জানলা বন্ধ করে বসে থাকে। এমনকী দোমালা পূর্বাচল ক্লাবে দু-চারজন মাংকি ক্যাপের ওপরে কম্ফর্টার জড়ানো আগাপাস্তলা কম্বল মুড়ি দেওয়া বুড়ো দাবাড়ু ছাড়া আর কারোর দেখা পাওয়া যায় না।

একমাত্র শিউলির কোনো হেলদোল নেই। একটা আলোয়ান গায়ে দিয়ে খালি পায়ে সংসারের যাবতীয় কাজ অবলীলাক্রমে করে যাচ্ছেন।

নন্দিনী তার বাবাকে বলল— দেখেছ বাবা, আমারা দুটো করে গরম জামা পরে তার ওপরে কম্বল মুড়ি দিয়ে বসে আছি। আর মা কেবল একটা গরম চাদর দিয়ে সব কাজ করে যাচ্ছে।

পঞ্চানন মেয়ের কানে কানে বললেন— হবে না কেন? তোর মা যে পাগল। পাগলের শীত লাগে না, জানিস না?

শুনে নন্দিনী হি হি করে হাসতে লাগল। শিউলি গোয়ালঘর থেকে মুখ বের করে বললেন— এ্যাই নন্দু, কী বলল রে তোর বাবা?

নন্দিনী বলল— কিছু না, মা। বাবা বলল যে তুমি যে আজকে আলু-ফুলকপির তরকারিটা করেছিলে, সেটা খুব ভালো হয়েছিল।

কিছুদিন বাদে সরস্বতী পুজো। সেদিনটা বুধবার। তার পরের শনিবার পূর্বাচল ক্লাবের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এক বিখ্যাত যাত্রাপার্টি দোমালায় এসে উপস্থিত হল। এদিকে গ্রামে একেবারে হুলুস্থুল পড়ে গেছে। সরস্বতী পুজোর দু-সপ্তাহ আগে থেকে ক্লাবের উদ্যোক্তারা রিকশাভ্যানে চড়ে মাইক বাজিয়ে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন যে এই 'বিজন বনের অচিন পাখি' যাত্রায় নায়ক-নায়িকা দু-জনেই বাংলার সিনেমা জগতের বিখ্যাত তারকা। নাচে আছেন মুম্বাইয়ের তারকা মিস জুলি। এঁদের অভিনয় দেখবার এমন সুযোগ যেন না-হারান। শিব মন্দিরের পাশের মাঠে প্রকাণ্ড প্যান্ডেল বাঁধা হয়েছে। গ্রামসুদ্ধ ছেলেমেয়ে সারাদিন সেখানেই পড়ে রয়েছে।

যাত্রার দিন বিকেল বেলা পাড়ার কয়েক জন মহিলা এসে পঞ্চাননকে বললেন যে রুনু মাসিমার শরীর খারাপ হয়েছে তাই তাঁদের একটা টিকিট বেশি হচ্ছে, শিউলি যদি সেই টিকিটে তাঁদের সঙ্গে যান তাহলে খুব ভালো হয়। ভোর না-হতেই সবাই ফিরে আসবেন।

পঞ্চানন তৎক্ষণাৎ রাজি হলেন কিন্তু শিউলি বেঁকে বসলেন। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর রাজি হলেন বটে তবে যাবার আগে নন্দিনী আর পঞ্চাননকে একগুচ্ছ উপদেশ দিতে দিতে গেলেন।

পঞ্চানন বার বার বলতে লাগলেন— কোনো ভয় নেই তোমার। কোনো চিন্তা কোরো না। আমরা সব ঠিক ম্যানেজ করে নেব।

বাগানের গেট খোলার ঘড়ঘড় শব্দে নন্দিনীর ঘুম ভেঙে গেল। মা এসেছে ভেবে বিছানা ছেড়ে উঠে জানলা ফাঁক করে বাইরে তাকিয়েই চট করে জানলাটা বন্ধ করে দিল। দৌড়ে গিয়ে বাবাকে ঠেলতে ঠেলতে বলল— বাবা, বাবা, কতগুলো মোটকামতন লোক হাতে কী সব নিয়ে আমাদের বাড়িতে ঢুকছে। ওরা ডাকাত নয় তো, বাবা?

পঞ্চানন ঘুম জড়িত গলায় বললেন— ডাকাতই তো। তুই শুয়ে পড়। ও নিয়ে ভাবিস না।

—আমি ডাকাত দেখব, বাবা।

পঞ্চানন হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে বললেন— ডাকাত দেখবি? ঠিক আছে, চল। আমিও দেখি।

বলে মেয়েকে নিয়ে পঞ্চানন আবার জানলার কাছে গিয়ে সেটা অল্প একটু ফাঁক করে বাইরে তাকালেন। দেখা গেল, পাঁচটি মুস্কো লোক হাতে তরোয়াল আর দেশি পিস্তল নিয়ে বাগানে ঢুকছে। একজন ফিস ফিস করে বলল— সাবধান, বাড়িতে লোক আছে। গলার আওয়াজ পেয়েছি।

নন্দিনী বলল— এবার ওরা কী করবে, বাবা?

পঞ্চানন আবার হাই তুলে বললেন— দ্যাখ-না কী করে!

লোকগুলো তখন গুঁড়িমেরে সাবধানে বাড়ির দিকে এগোচ্ছিল। হঠাৎ, মনে হল যেন ছাদের ওপর থেকে একটা ঘন কুয়াশার স্তূপ পাক খেতে খেতে বাগানের ওপরে নেমে এল আর লোকগুলো তার ভেতরে ঢাকা পড়ে গেল।

নন্দিনী বলল— ওই যাঃ, সবাই চাপা পড়ে গেল যে, বাবা। কিচ্ছু যে দেখতে পাচ্ছি না।

পঞ্চানন বললেন— তবে আর কী? চল শুয়ে পড়ি। ঠান্ডা লাগছে।

—আর একটু দেখি, বাবা?

পঞ্চানন একটা মোড়া টেনে এনে মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে বললেন— ঠিক আছে। তাহলে আমিও দেখি।

দেখবার আর কী আছে? জানলার বাইরে তখন একটা ম্যাড়মেড়ে সাদা কুয়াশার স্তূপ। তার ভেতরে বাইরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই, সেই স্তূপের ভেতরে ধুম-ধাম, ধপাস-ধপাস করে শব্দ হতে আরম্ভ করল। আর, প্রায় তার সঙ্গে-সঙ্গেই নানারকম গলায় চ্যাঁচামেচি শুরু হল, এ্যাই, কে আমাকে মারলি রে? উফ, আমাকে মারছিস কেন? এটা তো আমি রে। কে আমাকে খোঁচা মারছিস? লাগছে যে! ভ্যাঁ ভ্যাঁ, বাবারে, মেরে ফেললে রে। ওফ, এত জোরে মারলি কেন? আবার মারলি? গেলুম রে, মলুম রে!

নন্দিনী বলল— কে কাকে মারছে, বাবা?

পঞ্চানন বললেন— আমি কী করে জানব? দেখতে পাচ্ছি নাকি কিচ্ছু? বোধ হয় নিজেরাই মারামারি করছে।

শব্দ আর চ্যাঁচামেচি যেমন হঠাৎ শুরু হয়েছিল, তেমনি হঠাৎই বন্ধ হয়ে গেল।

নন্দিনী জিজ্ঞাসা করল— কী হল, বাবা? সব চুপ হয়ে গেল কেন?

পঞ্চানন বললেন— কী জানি, সবাই চলে টলে গেল, মনে হচ্ছে। চ, আমরাও শুয়ে পড়ি।

নন্দিনী আরও কিছুক্ষণ কুয়াশার ভেতরে কিছু দেখা যায় কি না সেই আশায় বসে রইল। তারপর হাল ছেড়ে দিয়ে বিষণ্ণমুখে বাবার পাশে কম্বলের তলায় গিয়ে ঢুকল।

সদর দরজায় প্রবল ধাক্কা দেবার শব্দে নন্দিনী আর তার বাবার ঘুম ভাঙল। পঞ্চানন লাফ দিয়ে খাট থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখলেন বাইরে শিউলি দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর চোখে-মুখে আতঙ্ক।

পঞ্চানন বললেন— কী ব্যাপার? দরজা ভেঙে ফেলবে নাকি?

শিউলি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন— কী ব্যাপার, মানে? তুমি কিছু জানো না? বারান্দায় বেরিয়ে এসো, তাহলেই জানতে পারবে।

মেয়ের হাত ধরে পঞ্চানন বারান্দায় এলেন। তখন সবে পুব আকাশে আলোর ছোঁয়া লেগেছে, একটা দুটো পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। শীতের সকালের সেই আবছা আলোয় দেখা গেল বাগানের নীচু পাঁচিলের ওপাশে যাত্রা থেকে ফেরা দর্শকদের ভিড়, তাদের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই যাচ্ছে, কিন্তু কারোর মুখে কোনো কথা নেই। সবাই স্তম্ভিত বিস্ফারিত চোখে বাগানের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। সেখানে ঘাসের ওপরে পাঁচজন লোক চিতপাত হয়ে পড়ে আছে। কেউ তাদের এমন মার মেরেছে যে তাদের আর ওঠবার বা নড়াচড়া করবার ক্ষমতা নেই। তাদের আশেপাশে ছড়িয়ে রয়েছে নানারকম অস্ত্রশস্ত্র।

একটু বাদেই থানার দারোগাবাবু সদলবলে এসে উপস্থিত হলেন। লোকগুলোর দিকে তাকিয়েই চমকে উঠে বললেন— একী, এরা তো দেখছি ডেঞ্জারাস ন্যাড়া ঘেন্টুর দল। কী সর্বনাশ, এরা এখানে কোত্থেকে এল? আর এদের এমন দশাই বা করলে কে?

নন্দিনী বলল— আমি জানি। ওরা আমাদের বাড়িতে এসেছিল ডাকাতি করতে। তারপরে নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি করে এই অবস্থা হয়েছে। ভীষণ কুয়াশা ছিল তো, তাই কেউ দেখতে পায়নি।

দারোগাবাবু কথাটা বিশ্বাস করলেন বলে মনে হল না। একটা ধরাশায়ী ন্যাড়ামাথা লোকের মুখের ওপরে ঝুঁকে পড়ে বললেন— এ্যাই ঘেন্টু, তোদের এই দশা কে করল রে?

ঘেন্টু কাতরাতে কাতরাতে বলল— সেপাই, সেপাই।

দারোগাবাবু সোজা হয়ে উঠে বললেন— এই রে, মার খেয়ে লোকটার মাথা একেবারে খারাপ হয়ে গেছে, দেখছি। কাল তো থানার সব কটা সেপাই যাত্রা দেখতে গিয়েছিল। তাদের দায় পড়েছে এই ঠান্ডায় মাঝরাত্তিরে ডাকাত দলের সঙ্গে মারামারি করবার। সে যাহোক, ওরে রামবিলাস, সব কটাকে জিপে তোল দেখি। আগে তো হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাই। তারপরে লকআপে ঢোকাব।

নন্দিনীর কাছে সবকথা শুনে শিউলি পঞ্চাননকে আড়ালে ডেকে বললেন— ওরা যে আসবে, সেটা তুমি জানতে, তাই না? কী করে জানলে? ঠাকুরদাদা বলেছেন, না?

পঞ্চানন চোখ পিটপিট করে বললেন— সে তো বলাই বাহুল্য। আর এইবার বুঝতে পারছি, ঠাকুরদাদা কেন আমাকে দশটা সেপাইপুতুল কিনে আনতে বলেছিলেন।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%