মনোজ সেন

ডাক্তার শ্রীকান্ত গুপ্ত মুম্বই-এর লব্ধপ্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। কলকাতাতেও তাঁর নাম অনেকেই জানেন। বান্দ্রার এক সমৃদ্ধ পাড়ায় তাঁর নার্সিং হোম আর চেম্বার। তাঁকে দেখাতে গেলে এক মাসের আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যায় না।
এঁর সঙ্গে আমার পরিচয় হয় মুম্বই থেকে কলকাতায় ফেরার পথে, প্লেনে। আমি কোম্পানির কাজে পুনেতে গিয়েছিলুম। ফিরছিলুম সেখান থেকে। আমার পাশেই সিট পড়েছিল ডাক্তার গুপ্তের।
আমি তো গোড়াতে বুঝতেই পারিনি যে আমার সহযাত্রীটি একজন অতবড়ো বিখ্যাত ডাক্তার। একেবারে নিরহংকার, সাদাসিধে ভদ্রলোক আর খুব গল্পে। সিটে বসতে না-বসতেই আড্ডা জুড়ে দিলেন। ভাবলুম, ভালোই হল। আড়াই ঘণ্টার পথ, সময়টা ভালোই কাটবে।
ডাক্তার গুপ্তের পরিচয় পাবার পর আমি একটু সংকুচিতই হয়েছিলুম। উনি দেখলুম নির্বিকার। উলটে আমাকেই বললেন— গল্প করার সময় তো পাইনে। তাই এই অবসরগুলো সেই ফাঁক পূরণের কাজে লাগাই। আপনি বিরক্ত হবেন হয়তো।
আমি তো লজ্জায় মরি। তারপর একথা সেকথায় জানতে পারলুম যে ভদ্রলোক কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করেছেন। জিজ্ঞেস করলুম, মুম্বইতে গেলেন কবে? পশ্চিমবাংলা ছাড়লেনই বা কেন?
তখন ডাক্তার গুপ্ত বেশ জমিয়ে সেই কাহিনি শোনালেন আমাকে।
আজ থেকে প্রায় পঁচিশ বছর আগে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেন শ্রীকান্ত। তাঁর বাবা তার বছর দুয়েক আগে মারা যান। তাঁর সামান্য পেনশনে সংসার চলত। তার ফলে যদিও পরীক্ষায় তাঁর ফল অত্যন্ত ভালো হয়েছিল, বিলেতে গিয়ে উচ্চতর শিক্ষার আশা ত্যাগ করে তাঁকে সরকারি চাকরিতে ঢুকে পড়তে হল।
তাঁর প্রথম পোস্টিং হল বাঁকুড়া জেলার এক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। একটু মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন কিন্তু তখন আর তার চেয়ে উচ্চতর কোনো চাকরির সন্ধান করার উপায় বা সামর্থ্য ছিল না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাওয়ামাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চাকরিতে যোগ দিলেন।
সেটাই কাল হল। এরপর দশ বছর ধরে বাঁকুড়া, পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি বা পুরুলিয়ার এক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অন্য এক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি হতে লাগলেন। এমনকী কোনো মহকুমা শহরের হাসপাতালেও তাঁর স্থান হল না। তিনি দেখলেন পরীক্ষায় তাঁর চেয়ে অনেক নীচে স্থান পাওয়া তাঁর সহপাঠীরা বদলি হয়ে কলকাতায় চলে গেল অথচ তিনি যে তিমিরে সেই তিমিরেই রয়ে গেলেন।
এরকম হবার অবশ্য কারণ ছিল।
প্রথমত, তাঁর মামার জোর বলে কিছু ছিল না। এমন কোনো নিকটাত্মীয় ছিলেন না যিনি তাঁর হয়ে সরকারি দপ্তরে তদ্বির করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখানোর কোনো ইচ্ছা বা প্রবৃত্তি তাঁর ছিল না। একাধিক বার তাঁর কাছে টোপ ফেলা হয়েছে বা কিছু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রস্তাব এসেছে, তিনি সাড়া দেননি।
তৃতীয়ত, তাঁর ব্যক্তিত্বটা এরকম নয় যে টেবিল চাপড়ে, চিৎকার করে বা ভয় দেখিয়ে নিজের পাওনাগণ্ডা আদায় করে নেবেন। তাঁর রুচিবোধেও এর সায় ছিল না।
ফলে, যা হবার তাই হল। ডাক্তার শ্রীকান্ত গুপ্ত এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। দশ বছর ধরে অনেক চিঠিপত্র লিখলেন, অনেক অনুনয়-বিনয় করলেন কিন্তু সরকারি দপ্তর অনড় হয়ে রইল।
এই দশ বছরে ডাক্তার গুপ্তের মনে একটা ধারণা দৃঢ়মূল হয়ে উঠল। তাঁর মনে হতে লাগল, উচ্চতর শিক্ষা তো পরেকার কথা, আপাতত যেটুকু শিক্ষা তিনি পেয়েছেন তাও আর কিছুদিনের মধ্যেই তাঁকে ভুলে যেতে হবে। আস্তে আস্তে তাঁর ভেতরে একটা গভীর নৈরাশ্য দানা বেঁধে উঠতে লাগল।
এইসময় একমাসের ছুটি নিয়ে ডাক্তার গুপ্ত মুম্বই গেলেন বেড়াতে। সেখানে তাঁর এক দূরসম্পর্কের কাকা থাকতেন। তাঁর বাড়িতেই উঠলেন। সেই ভদ্রলোক থাকতেন ক্যান্ডিভিলি বলে একটা জায়গায়। মুম্বই শহরের কেন্দ্র থেকে ট্রেনে করে সেখানে যেতে লাগে এক ঘণ্টার ওপর।
কাকার কাছে তাঁর দুঃখের কথা বললেন ডাক্তার গুপ্ত। কাকা বললেন, তুই এক কাজ কর। চার্চগেট স্টেশনের কাছে আমার এক বন্ধুর একটা দোকান আছে। তার গুদোমঘরটা কিছুদিন হল খালি পড়ে আছে। বেড়ানো আপাতত বন্ধ রেখে তুই সেখানে নেমপ্লেট ঝুলিয়ে চেম্বার খুলে বোস। বাঙালি ডাক্তার দেখলে রুগিপত্র আসতে পারে। এক মাস চেষ্টা করে দ্যাখ। যদি পসার হয়ে যায় তবে আর ফিরে যাস না, এখানেই থেকে যাস। তখন যত পারিস বেড়াস।
সেইরকমই করা হল। পরের দিনই চেম্বার খোলা হল। ডাক্তার গুপ্তের কাকার বন্ধু শিবেন্দ্র দেশাই অসাধ্যসাধন করলেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘরটা পরিষ্কার হয়ে গেল, দরজা জানলায় পর্দা লাগল। একটা ছোটো টেবিল, গোটা চারেক চেয়ার আর একটা লম্বা টেবিল পর্যন্ত পাতা হয়ে গেল।
সবই হল কিন্তু রুগির সন্ধান মিলল না। ডাক্তার গুপ্ত সকাল আটটায় চেম্বার খোলেন, সারাদিন গালে হাত দিয়ে টেবিলে বসে থাকেন আর সামনে দিনকর শা মার্গ দিয়ে লোকজনের যাতায়াত দেখেন। সবাই সুস্থ সবল, গটমট করে হেঁটে যায়। ডাক্তার গুপ্ত দেখেন আর মনে মনে তাদের পিণ্ডি চটকান। মাঝে মাঝে দলছুট এক-আধজন আসে। তাদের অনেকক্ষণ ধরে দেখেন। মাথা ধরার রুগি এলে তাকে লম্বা টেবিলের ওপর ফেলে তার আগাপাস্তলা পরীক্ষা করেন। কিছুটা সময় তো কাটে। রাত আটটায় দোকান বন্ধ করেন। কান্ডিভিলি পৌঁছতে রাত দশটা।
এই চলে দিনের পর দিন। মনে মনে হাল ছেড়ে দিচ্ছিলেন ডাক্তার গুপ্ত। তাঁর চেম্বারের ঠিক উলটো দিকে উঁচু পাঁচিল ঘেরা প্রকাণ্ড বাড়ি, গেটে দুটো মুশকো দরওয়ান, ভেতরে সুন্দর ফুলের বাগান। তিনি ওই দিকে চেয়ে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলেন।
এমনি করে প্রায় পনেরো দিন কেটে গেল। সেদিন রাত আটটায় দরজা তালা দিয়ে পেছন ফিরে ডাক্তার গুপ্ত দেখেন সামনের বাড়ির দুই দরোওয়ান লাঠি হাতে রাস্তা আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা বলল— মাইজি আপকো বুলাতি হ্যয়।
সর্বনাশ করেছে! মাইজি আবার বুলাতি কেনরে বাবা! ডাক্তার গুপ্ত মনে মনে ভাবলেন, কই আমি তো কোনোরকম বেচাল ব্যবহার করিনি! আমি যে মাঝে মাঝে ওই বাড়ির দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকি, তাতেই নিশ্চয়ই ভদ্রমহিলা ক্ষেপে গেছেন। তখন ওই বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে যদি কেটে পুঁতেও রাখেন, কাকপক্ষীও টের পাবে না। কিন্তু, যেতেই হবে। পালাবার কোনো রাস্তাই নেই।
কাঁপতে কাঁপতে বাড়ির ভেতরে ঢুকলেন ডাক্তার গুপ্ত। নেমপ্লেটে দেখলেন শেঠ হরিরাম মীরচান্দানীর নাম। শ্রীমতী মীরচান্দানী পর্দানশীন মহিলা। নীচের তলায় পর্দার আড়াল থেকে কথা বললেন। গলা শুনে বোঝা গেল ভদ্রমহিলার অনেক বয়েস।
ভদ্রমহিলা বললেন, তুমি আমার স্বামীকে একবার দেখবে বাবা? গত দশ-এগারো মাস ধরে কী এক অসুখে ভুগছেন। কোনো ডাক্তার সারাতে পারছে না। এখানকার হেন বড়ো স্পেশালিস্ট নেই যাঁকে ডাকা হয়নি। তাঁদের কেউ কিচ্ছু করতে পারেননি। ইদানীং উনি একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। আমি লক্ষ করেছি কিছুদিন আগে তুমি আমাদের বাড়ির সামনে চেম্বার খুলেছ। তোমার মুখ দেখে আমার কী রকম মনে হয়েছে যে ওঁকে যদি কেউ সুস্থ করে তুলতে পারে তো সে তুমি। আমি আমার স্বামীকে বলেছি যে বাচ্চাকে একবার ডাকি। উনি রাজি হয়েছেন। তুমি ওঁকে একটু দ্যাখো, বাবা।
ভদ্রমহিলার কথা শুনে ডাক্তার গুপ্ত আরও নার্ভাস হয়ে পড়লেন। বললেন— বড়ো বড়ো স্পেশালিস্টরা যা পারেননি, সে কি আমি পারব? তবে আপনি যখন বলছেন তখন নিশ্চয়ই দেখব। আর রুগি পরীক্ষা করবার আগে আমি একবার ওঁর অসুখের ফাইলটা দেখতে চাই।
একটু বাদে একজন লোক ফাইলটা দিয়ে গেল। ফাইল দেখে তো ডাক্তার গুপ্তের চক্ষুস্থির। মুম্বই-এর তাবড় তাবড় ডাক্তাররা হেন অসুখ নেই যা নির্ণয় করেননি। তাদের মধ্যে এমন সব অসুখও আছে যাদের নামই কোনোদিন শোনেননি ডাক্তার গুপ্ত।
কী আর করেন! কম্পিত পদে রুগির ঘরে গেলেন ডাক্তার গুপ্ত। শেঠ হরিরাম মীরচান্দানীর বয়েস ষাটের উপর। কঙ্কালসার শরীর, গাল ভাঙা, চোখগুলো গর্তে বসা, পেটটা কেবল উঁচু হয়ে রয়েছে, বাকি সবটা বিছানার সঙ্গে প্রায় মিশে গিয়েছে।

রুগিকে পরীক্ষা করে ডাক্তার গুপ্তের মনে হল রোগটি ম্যালেরিয়া ছাড়া আর কিছু নয়। দশ বছর পশ্চিমবাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন, আর কিছু না-হোক ম্যালেরিয়ার লক্ষণগুলো বিলক্ষণ চেনেন। ম্যালেরিয়া আর আমাশা— এদের যতরকম বিভিন্ন রূপ আর ব্যতিক্রম আছে, তাদের সবগুলোই তাঁর পরিচিত। মুম্বই শহরে এই অসুখটা বড়ো একটা হয় না। কাজেই, এখানকার ডাক্তারদের একে চিনতে অসুবিধে হবারই কথা। বিশেষত বিশেষজ্ঞদের।
ডাক্তার গুপ্তের ব্যাগে তখনও একগাদা কুইনিনের বড়ি পড়ে ছিল। তা থেকে পাঁচদিনের মতো বড়ি বিছানার পাশে টেবিলের ওপর রেখে পর্দার আড়ালে মিসেস মীরচান্দানীকে সম্বোধন করে বললেন— এই পাঁচ দিনের মতো ওষুধ রেখে গেলুম। কীভাবে খেতে হবে আর পথ্য কী হবে তা প্রেসক্রিপশনে লিখে দিয়েছি। যদি কিছু হয় তো এতেই হবে। নইলে আমার আর কিছু করবার নেই।
দু-দিন পরে ডাক্তার গুপ্ত যথারীতি রাত আটটায় চেম্বারের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছন ফিরে দেখেন সেই দুই মুশকো দরওয়ান দাঁড়িয়ে রয়েছে। তারা বলল— মাইজি আপকো আভি বুলাতি হ্যয়।
এবার আবার 'আভি'! আর রক্ষে নেই। ডাক্তার গুপ্ত ভাবলেন যে বুড়ো নির্ঘাৎ পটল তুলেছে আর তার মানে তাঁর কপালে এখন অনেক দুঃখ। তাঁর হাড় একদিকে আর মাস একদিকে হল বলে।
পুনরায় কাঁপতে কাঁপতে শেঠ মীরচান্দানীর বাড়িতে গিয়ে ঢুকলেন ডাক্তার গুপ্ত। ঢুকে দেখেন অপূর্ব দৃশ্য। শ্রীমতী মীরচান্দানী পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাঁর হাতে একথালা মিষ্টি আর মুখে একগাল হাসি। বললেন— মুখ মিঠা করো বাচ্চা! তুমি অসাধ্যসাধন করেছ। মুম্বইসুদ্ধু ডাক্তার যা করতে পারল না তুমি তাই করেছ। এত মাস বাদে আমার স্বামীর এই প্রথম সারাদিনে একবারও জ্বর আসেনি। আজ সকাল থেকে ছেলেমানুষের মতো কেবল খাই-খাই করছেন। অথচ ক-দিন আগেও খাবার দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নিতেন। চলো, ওঁর সঙ্গে দেখা করবে চলো। উনি তোমার সঙ্গে কথা বলবার জন্য অপেক্ষা করছেন।
রুগির ঘরে ঢুকে ডাক্তার গুপ্ত দেখেন শেঠ মীরচান্দানী দিব্যি আসনপিঁড়ি হয়ে খাটের ওপর বসে আছেন। ডাক্তারকে দেখে সহাস্যে বললেন— এসো এসো! দ্যাখো আমি ভালো হয়ে গেছি।
ডাক্তার গুপ্ত বললেন— আপনার ভালো হতে এখনও অনেক দেরি। অনেক নিয়ম মেনে আপনাকে চলতে হবে, তবেই সম্পূর্ণ সুস্থ হবেন। এজন্য যা যা করতে হবে তা আমি লিখে দিয়ে যাব।
—সে তুমি যা বলবে, আমি তাই করব। এখন তো তোমাকে একটা ভিজিট দিতে হয়। কত দেব তোমাকে?
—আমার ভিজিট চেম্বারে পনেরো টাকা আর বাড়িতে এলে তিরিশ টাকা। আপনি আমাকে ষাট টাকা দেবেন।
ষাট টাকা শুনে শেঠ মীরচান্দানী অনেকক্ষণ হাঁ করে তাকিয়ে রইলেন ডাক্তার গুপ্তের দিকে। তারপর বললেন— ডাক্তার, তুমি শুধু মুম্বই-এর সবচেয়ে বড়ো চিকিৎসকই নও, সবচেয়ে বড়ো ইমানদার লোকও। তুমি যেখানে ষাট হাজার টাকা চাইলেও তা আমি সানন্দে দিতুম, সেখানে তুমি মাত্র ষাট টাকা চাইছ! শোনো বাচ্চা! তোমাকে আমি ষাট টাকাই দেব, নইলে তুমি হয়তো চটে যাবে। কিন্তু তার সঙ্গে আরও কিছু দেব। আমার স্ত্রী বললেন, তুমি নাকি সারাদিন চুপটি করে বসে থাক, রুগিটুগি আসে না। আমি তোমাকে সেই রুগি দেবো।
ডাক্তার গুপ্ত আশ্চর্য হয়ে বললেন— রুগি দেবেন? কী করে?
—দ্যাখো, মুম্বই শহরে আর তার আশেপাশে আমার পাঁচটা ফ্যাক্টরি আছে। এ ছাড়া শহরে অনেকগুলো শোরুম আর গোডাউন আছে। আমাদের পে-রোলেই রয়েছে প্রায় ষোলো হাজার লোক। আমি কালই নোটিশ দিয়ে দিচ্ছি যে এখান থেকে যারই অসুখ করবে তাকে তোমার কাছে আসতে হবে। তোমার সার্টিফিকেট ছাড়া কারুর মেডিক্যাল বিল পাশ হবে না বা ছুটি মঞ্জুর হবে না। তুমি তাদের কাছ থেকে যেরকম উপযুক্ত মনে করবে সেরকম ফি নেবে। আর, আমি বলি কী, ফি-টা একটু বাড়াও। যে ডাক্তার যত বেশি দামি তার কদরও তত বেশি।
ডাক্তার গুপ্ত বললেন— এরপর আমাকে আর কোনোদিন পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বলে আমাকে চোখ টিপে বললেন, বুঝলেন তো, জীবনের কোনো অভিজ্ঞতাই কখনো ফেলা যায় না। কখনো না কখনো ঠিক কাজে লেগে যায়।
__
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন