সাম্বা দ্বীপের মূর্তি

হিরণ্ময় ভট্টাচার্য

পটাদা বলল, ‘বললে তোরা বিশ্বাস করবি না।’

রণেন কথাটা সম্পূর্ণ হতে দিল না, ‘বিশ্বাস করব, এমন ভরসা তোমার নেই জানি। তবু আমরা তোমার মুখের গল্পই শুনতে ভালবাসি। বিশ্বাস করার জন্যে অন্য জিনিস আছে। কী বলিস চারু?’

আমি সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়লাম। আর রুবি জিজ্ঞেস করল, ‘‘এবার প্রশান্ত মহাসাগর না মাসাইমারা জঙ্গল?’’ রুবি ক্লাস এইট, রণেনের জেঠতুতো বোন। আমি আর রণেন ইলেভেন। প্রায় প্রতি রবিবার বিকেলবেলায় রণেনদের বাড়ির তিনতলার ছাদের ঘরে পটাদার আসর বসে। সেখানে সদস্যসংখ্যা জনাআষ্টেক। তবে আমরা তিনজন নিয়মিত শ্রোতাদর্শক।

পটদা বলল, ‘কম্পিউটার আর মোবাইল তোদের লাইফটাকে মাইক্রো জেরক্স বানিয়ে দিয়েছে। আমাদের লাইফ ছিল কিং সাইজ। আজকের সান্ধ্য জলযোগের মেনু কী রুবি?’

রুবি বলল, ‘বোধ হয় কচুরি আর ঘুগনি।’

‘ছ্যা-ছ্যা! এই কম্বিনেশন মানুষের মুখে রোচে?’

‘সঙ্গে মাখা সন্দেশও আছে। আর যত খুশি চা।’

‘তাই বল! নার্ভাস করে দিয়েছিলি একেবারে। হ্যাঁ, কী কথা হচ্ছিল?’

রণেন বলল, ‘কোনও কথাই শুরু হয়নি।’

পকেট থেকে ছোট্ট কৌটোটা বের করে, তা থেকে একটা শুকনো আমলকীর টুকরো নিয়ে মুখে দিল পটাদা। সম্প্রতি ধুমপান ছাড়ার পর এটা শুরু করেছে। তাকিয়ায় মৌজ করে ঠেস দিয়ে বসল ঊনবিংশ শতকের বাবুদের ভঙ্গিতে।

রিভলভার ঘাড়ে ঠেকিয়ে বলল, ‘মুর্ত্তিটা নিয়ে আয়।’

‘বলতে পারিস ভারত মহাসাগরের দ্বীপের সংখ্যা কত?’

রুবি সাদাসাপটা ভঙ্গিতে মাথা নাড়ল।

আমি বললাম ‘না’।

রণেন বলল, ‘আমরা বলতে পারব না, সে তো তুমি জানোই।’

‘সুয়েজ খাল কাটার ঘটনা জানিস?’

রণেন বলল, ‘তুমি না বললে জানব কী করে ?’

রুবি বলল, ‘খাল কেটে কুমির আনা হয়েছিল বুঝি?’

পটাদা তাচ্ছিল্যের সুরে বলল, ‘তোদের সঙ্গে কথা বলে সুখ নেই। তোরা কিসসু জানিস না।’

রণেন বলল, ‘আহা! তা কি আমরা অস্বীকার করছি?’

‘তা হলে শোন...!’

রণেন জানে পটাদার ইগোতে সুড়সুড়ি না পড়লে কাজ এগোয় না।

‘বলো,’ রুবি নড়েচড়ে বসল।

‘তখন বাংলাদেশ উত্তাল। আমি অক্টারলোনি মনুমেন্টের নীচে দাঁড়িয়ে আছি। একা, হাতে একটা সিগারেট।’

‘মানে শহিদ মিনার ?’ রুবির প্রশ্ন।

‘হ্যাঁ। ডোন্ট ইন্টারাপ্ট। একটা অবাঙালি লোক আমার সামনে এসে দাঁড়াল। একদম খুনির মতো চেহারা। বলল, ‘বাবু, আপকে পাস কলম হ্যায়?’

বললাম, ‘হ্যায়!’

লোকটা বলল, ‘মুঝে এক খত লিখ দিজিয়ে না।’

‘চিঠিটা মামুলি। কিন্তু ঠিকানা লিখতে গিয়ে জানলাম, লোকটার পরিবার মায়নমারে থাকে। পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়ে সে বিপদে পড়েছে। হাতে পয়সাকড়িও নেই যে, নতুন পাসপোর্ট বানাবে। দেখলাম, লোকটার চেহারা খুনির মতো হলেও সততা আছে। কী করে বুঝলাম? আমার কাছে দশটা টাকা ধার চাইল পরদিন ফেরত দেবে, এই শর্তে। নতুন একটা লোকের কাছে, বিশেষ করে যার সঙ্গে ভাল করে পরিচয় হয়নি, তার কাছে টাকা ধার চাওয়াটা অদ্ভুত। তবু আমি দিলাম। ফেরত পাব না এটা জেনেই। পরদিন শহিদ মিনারের তলায় গিয়ে দাঁড়িয়েও থাকলাম, লোকটা আসে কি না দেখার জন্য। লোকটা কিন্তু এল। এসে অদ্ভুত একটা তথ্য শোনাল। লোকটা পাঁচ টাকার ‘সাত্তু’ খেয়েছে আর পাঁচ টাকার লটারির টিকিট কেটেছে। লটারিতে নাকি ওর পাঁচ হাজার টাকা উঠেছে। লোকটা দশ টাকা নয়, আমাকে দু’ হাজার টাকা দিতে চাইল। আমি তাজ্জব। ভাবলাম, লোকটা জাল নোটের কারবার করে নাকি? হয়তো আমাকে প্রলোভন দেখিয়ে বিপদের মধ্যে ফেলতে চাইছে। আমি বললাম, আমার দশ টাকাই আমাকে ফেরত দাও।’ লোকটা বলল, ‘সাহাব, দশ টাকা এখন কোথায় পাব? সব যে একশো টাকার নোট!’

আমি বললাম, ঠিক আছে। ওখান থেকে একটা নোট পেলেই আমার চলবে।’ তারপর লোকটা অনুনয়-বিনয় করে বলল, ‘সাহাব, আমাকে একটু সাহায্য করবেন?’ ‘কী সাহায্য?’ জানতে চাইলাম।

ও বলল, ‘পাসপোর্ট অফিস কোথায় জানি না। একটু চিনিয়ে দেবেন?’

আমি বললাম, ‘কাল এই সময় এখানে এসো।’

মনে-মনে ভাবলাম, যদি জাল নোটের কারবারি হয় তা হলে ওকে ধরিয়ে দেব। আমার বন্ধু রজতকান্তি পুলিশের বড় অফিসার।

এরপর আমি ব্যাঙ্কে গেলাম। ব্যাঙ্ক ম্যানেজার শোভন পোদ্দার আমার বন্ধু। একশো টাকার নোটটা তার হাতে দিয়ে বললাম, ‘দ্যাখ তো, এটা নকল কি না?’ শোভন পরীক্ষানিরীক্ষা করে বলল, ‘না, জাল নয়।’ আমি তাকে ভেঙে কিছু বললাম না।

পরদিন আবার শহিদ মিনারের কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। দেখলাম, লোকটা আমার আগেই ওখানে হাজির হয়েছে। তাকে বললাম, ‘সেদিন তুমি আমার কাছে টাকা ধার চাইলে কেন? অপরিচিত লোকের কাছে কেউ ধার চায়? ভিক্ষে চাওয়া চলে।’

লোকটা বলল, ‘সাহাব, আমি ভিখিরি নই। আমি দিনে তিনজনের কাছে ধার চাই। না পেলে সেদিন আর চাই না। আপনি সেদিন ছিলেন তিন নম্বর আদমি। সাত্তু খেতে-খেতে কী মনে হল, আপনার মুখটা আমার মনে পড়ল, আর সঙ্গে-সঙ্গে মাথায় একটা চিন্তা ঝলক দিয়ে উঠল। এই সেই আদমি, যে আমার জীবনের চাকা ঘুরিয়ে দেবে। আর তখনই লটারির টিকিটটা কেটে ফেললাম। সাহাব, আমার কথা বিশ্বাস হয়?’

বললাম, ‘একদম না।’ পরদিন লোকটাকে স্টুডিয়োয় নিয়ে গিয়ে ফোটো তুলিয়ে দু’দিন পর পাসপোর্ট অফিসে গেলাম। সেই সঙ্গে আমারও একটা পাসপোর্ট করিয়ে নিলাম। প্রায় মাসখানেকের ধাক্কা। একদিন সে একটা মুদ্রা নিয়ে এল। পকেট থেকে বের করে আমায় দেখিয়ে বলল, ‘সাহাব, দ্যাখেন তো এটা কী?’

আমি ওটা হাতে নিয়ে দেখলাম সোনার কয়েন। ছাপা সালটা অস্পষ্ট। একটা উড়ন্ত হাতির ছবি এক দিকে। অন্য দিকে দেশের নাম। লোকটা অতি অভাবে পড়েও মুদ্রাটা বিক্রি করেনি। দেখে তার বুদ্ধিমত্তার তারিফ করলাম। টানা সাতদিন আমি অনেক লাইব্রেরি ঘুরে, ম্যাপ সার্চিং করে, ট্রাভেল গাইড ঘেঁটে ‘সাম্বাগড়’ বলে কোনও দেশের নাম খুঁজে পেলাম না।

এনসাইক্লোপিডিয়াও বাদ দিইনি।

লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এ মুদ্রা তুমি কোথায় পেলে?’

সে বলল, ‘সে অনেক কথা সাহাব।’

রুবি জানতে চাইল, ‘মুদ্রার উপর কোন ভাষায় লেখা?’

পটাদা বলল, ‘একদম পাতি বাংলায়।’

রুবি বেঁকে বসল, ‘শুনব না এ গল্প।’

রণেন তাকে ধমক দিয়ে বলল, ‘কেন? বাংলা শুনে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল? বাংলাদেশের কয়েন দেখিসনি কিংবা উড়ুক্কু মাছ?’

রুবি বলল, ‘তা বলে উড়ন্ত হাতি?’

রণেন বলল, ‘চুপ করে শোন। স্টার্ট এগেন, পটাদা।’

রুবি বলল, ‘সরি! পটাদা তারপর?’

পরদিন লোকটাকে চেপে ধরলাম, ‘আজ তোমাকে বলতেই হবে। এ কাহিনি না বলে নিস্তার নেই।’ লোকটা বলল, ‘বলতে তো চাই। কিন্তু কেউ যে বিশ্বাস করে না।’

আমি বললাম, ‘বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা পরে হবে। গল্পটা তো শুনি আগে।’

এরপর মইনুদ্দিন শুরু করল কাহিনি বলা, শুনুন সাহেব, আমি একজন জেল-ভাঙা আসামি।’

আমি বললাম, ‘কী অপরাধ করেছিলে?’

মইনুদ্দিন বলল, ‘ওটা যে অপরাধ তা-ই আমি জানতাম না। একটা প্রত্নমূর্তি কুড়িয়ে পেয়েছিলাম রেঙ্গুনের সমুদ্র উপকূলে। মূর্তিটা কষ্টিপাথরের। তখন হোটেলে কাজ করতাম। জাহাজের একজন খালাসি একদিন মূর্তিটা দেখে ফেলল। আমাকে বলল, ‘মূর্তিটার অনেক দাম হবে।’ একজন ভদ্রলোক এসে আমাকে দশ হাজার টাকা দাম দিতে চাইল ওটার জন্য। কিন্তু মূর্তি আমি দিলাম না। তারপর একের-পর এক ক্রেতা এসে আমাকে পাগল করে তুলল। একজন এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অফার করল। আমি বললাম, ‘দু’টো দিন সময় চাই, ভেবে দেখি। অন্য কাউকে আমি বিক্রি করব না, নিশ্চিন্ত থাকুন।’

সেদিন রাতে আমি স্বপ্ন দেখলাম মূর্তিটা বলছে, ‘আমি সাম্বাদ্বীপের অধিদেবতা। আমাকে বিক্রি করিস না। একটা মূর্তি-পাচারচক্র আমাকে চুরি করে এনেছে। ওরা পুলিশের ভয়ে আমাকে ফেলে দিয়ে পালিয়েছিল। ওরাই তোর পিছনে ঘুরছে। যদি পারিস আমাকে সাম্বাদ্বীপের মন্দিরে ফেরত দিয়ে আয়। তোর এখন ভীষণ বিপদ। ওরা মুর্তিটা না পেলে তোকে খুনও করে ফেলতে পারে। তুই এখান থেকে পালিয়ে যা।’

তারপর সাহেব, স্বপ্নটাকে প্রথমে আমল দিলাম না। দ্বিতীয় দিন একই স্বপ্ন দেখলাম। তৃতীয় দিনও। এরমধ্যে সেই লোকটা এসে হাজির। তাকে বললাম, ‘মূর্তি বিক্রি করব না।’

লোকটা বলল, ‘আমাকে বিক্রি করলে বেঁচে যেতিস। এবার ঠেলা বুঝবি। মার্ডার হয়ে যাবি তুই। কী জিনিস আগলে রেখেছিস জানিস না।’

সত্যিই তাই। রাত্রে একটা লোক আমাকে ‘কথা আছে’ বলে ডেকে নিয়ে গেল। হোটেলের কর্মচারী সে, তাই তাকে সন্দেহ করিনি। বাইরে গিয়ে দেখি, তিনটে লোক গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একজন কোমর থেকে রিভলভার বের করে আমার ঘাড়ে ঠেকিয়ে বলল, ‘মূর্তিটা নিয়ে আয়।’

আমি বললাম, ‘অসম্ভব’। তারপর বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লাম লোকটার উপর। রিভলভারটা কেড়ে নিলাম। বাকি দু’টো লোক আর হোটেলের কর্মচারীটা দৌড়ে পালাল। আমার মাথার ঠিক ছিল না তখন সাহেব। আমি লোকটাকে শুট করলাম। হোটেলে ফিরে সারারাত ধরে মাটি খুঁড়ে একটা গাছের তলায় মূর্তিটাকে রেখে দিলাম। সকালে বিছানায় শুতেই পুলিশ এসে আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে নিয়ে গেল। পরে জানলাম লোকটা মরেনি। ‘অ্যাটেম্পট টু মার্ডার’ কেসে আমার বিচার হল। তারপর জেল হল। একমাস না-ঘুরতেই আমি জেলের পাঁচিল টপকালাম। কারণ, আমার মাথায় তখন ঘুরছে মূর্তি। দিন-রাত ওই একই চিন্তা। মূর্তিটাকে অক্ষত অবস্থায় পেলাম কিন্তু...! চেনা লোকের সঙ্গে দেখা হতেই বললাম, ‘জামিনে ছাড়া পেয়েছি।’ তারপর মূর্তি নিয়ে রওনা দিলাম সাম্বাদ্বীপ।’

আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কীভাবে রওনা দিলে?’ মইনুদ্দিন বলল, ‘সে অনেক কথা সাহেব। অন্য আর-এক দিন না হয় বলব। তারপর তো ওই দ্বীপে গিয়ে মূর্তিটাকে তার বেদিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করলাম। তারপর ইন্ডিয়া চলে এসেছি। এখন ফেরার পালা। আমার ছেলে জোয়ান হয়ে গিয়েছে এতদিনে। দেশে ফিরে কতদিন পর ওদের দেখব, তাই মন খুব চঞ্চল হয়ে উঠেছে।’

আমি জানতে চাইলাম, ‘সাম্বাদ্বীপে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা হল, সেটা বলো!’

মইনুদ্দিন বলল, ‘প্রথমেই দেখলাম, লঙ্কা গাছগুলো নারকেল গাছের মতো লম্বা আর নারকেল গাছের বেলায় ঠিক উলটো। রেলগাড়ির প্রচলন নেই। স্টিমারের মতো জিনিস আকাশে উড়ছে। ডাল-ভাত-মাছ ওদের প্রিয় খাদ্য। কী একটা ইসুতে ধর্মঘটও ডেকেছিল একদিন। বোধহয় জিলিপিতে আড়াই প্যাঁচের বদলে তিন প্যাঁচ দেওয়ার দাবিতে। লাক্ষা দিয়ে তৈরি মন্দিরটা। বাড়িগুলো সব ফাইবারের। তবে আগুনে পোড়ে না। একটা টর্চ আবিষ্কার করেছে ওরা যা দেখার মতো জিনিস বটে। ওটা চোরেদের জন্য। আলোর বদলে অন্ধকার বেরোয়। আলোর উপর ফেললে আলো চাপা পড়ে যায়।’

আমি বললাম, ‘মইনুদ্দিন, তুমি একটা পাগল!’

মইনুদ্দিন হেসে বলল, ‘এ আর নতুন কথা কী! এর আগে অনেকে বলেছে। সেজন্যেই তো এসব কথা বলিনি কাউকে। যদি বিশ্বাস না হয় তো, এইটা দ্যাখেন।’ এই কথা বলে মইনুদ্দিন পকেট থেকে একটা ভাঁজ-করা কাগজ বের করল। খুলে দেখলাম ওটা সাম্বাদ্বীপের ট্যাবলয়েড সংবাদপত্র। মইনুদ্দিন বলল, ‘খবরের কাগজটা ছোট বলে যেন ভাববেন না সান্ধ্য ট্যাবলয়েড। ওটাই ওদের স্ট্যাণ্ডার্ড সাইজ। কেননা, ওরা তো সবাই চার ফুট দশ।’ আমি কাগজটা খুঁটিয়ে পড়তে লাগলাম। প্রথমেই নজর গেল সেনসাস রিপোর্টের দিকে।

‘‘‘এতদ্বারা জানানো যাইতেছে যে, সাম্বাদ্বীপের বর্তমান জনসংখ্যা আড়াই হাজার। ইহার মধ্যে কৃষিজীবী দুইশত, ব্যবসায়ী দেড়শত, চাকুরিজীবী একশত (তন্মধ্যে করণিকের সংখ্যা ২৫ ও শিক্ষক ২৫), গায়ক দুইশত বাইশ জন, কবি তিনশত তিপ্পান্ন জন, রজক, ক্ষৌরকার, কুম্ভকার, সুত্রধর ও কর্মকার একশত, ডাক্তার ৫ ও ইঞ্জিনিয়ার ১০, আই টি কর্মী ১১ জন। ছাত্র পাঁচশত, শিশু তিনশত, বাকি সব ভদ্রলোক।’ তারপর চোখ গেল সবজির দর আর সোনা-রূপোর দরের দিকে। ‘আলু, পেঁয়াজ, পটল, ঝিঙে কুইন্টাল প্রতি ১০ টাকা, ভুঁইকুমড়ো প্রতি কেজি ৫০ টাকা, রোহিত মৎস্য প্রতি কেজি ৫ টাকা, সোনা প্রতি ভরি ১০ টাকা, রুপো প্রতি ভরি ২ টাকা, তাম্র প্রতি কেজি ৫০ টাকা, লৌহ প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ম্যাঙ্গানিজ...!’’’

এই পর্যন্ত শুনে রুবি বল, ‘উঃ, অসহ্য! আর শুনব না।’

রণেন বলল, ‘তুই বুঝবি না। ওদের অর্থনীতি আলাদা। তুমি বলে যাও তো পটাদা।’

রুবি বলল, ‘তা বলে, কুমড়ো ৫০ টাকা কেজি আর সোনা ১০ টাকা ভরি? চিচিঙ্গের মতো লঙ্কা আর সুপুরির মতো নারকেল?’

পটাদা বলল, ‘এ সাধারণ কুমড়ো নয় রে! এর ঔষধি গুণ আছে। আর ওরা সোনার গয়না বানায় না। ওরা সোনা দিয়ে টেবিল-চেয়ার বানায়। বার্নার্ড শ’ কী বলেছিলেন জানিস? সোনা একটি অকেজো ধাতু। ওরা গয়না বানায় তামা আর লোহা দিয়ে। সোনার খাঁচা, সোনার শিকল বানায় ওরা। এমনকী, আমি সোনার হামানদিস্তা আর শিলনোড়াও দেখেছি। একটা গোরুর নাদাও চোখে পড়েছে যেন মনে হচ্ছে। ঢেঁকিও সোনার!’

রুবি বলল, ‘দুর ছাই! আমি এখানে আর আসব না।’

রণেন বলল, ‘তুই গিয়ে বরং দ্যাখ, খাবারটা কত দূর হল। যা ভাগ! তারপর কী হল বলো পটাদা।’

‘হ্যাঁ, যা বলছিলাম। ওখানকার ওয়েদার রিপোর্ট এখানকার মতোই, মেলে না একদম। তবে মানুষ ফুটবলপাগল। আর হ্যাঁ, রসগোল্লা খায় খুব।’

আমি বললাম, ‘দ্বীপটা এখনও আছে?’

পটাদা বলল, ‘মইনুদ্দিনকে সেটাই জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও বলল, ‘সাহেব, সেই দ্বীপ থাকতেও পারে আবার ভূমিকম্পে জলে তলিয়েও যেতে পারে!’

‘মইনুদ্দিনের ঠিকানাটা আছে?’

‘ওসব লোকের ঠিকানায় কী কোনও ঠিক আছে? আজ মায়নমার তো কাল ইথিওপিয়া। ওদের কথা বাদ দে।’

রণেন বলল, ‘আগে থেকেই বাদ দেওয়া আছে।’

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%