নবম অধ্যায়

কমলেশ কুমার

একটা চেয়ার টেনে তার উপরে আরাম করে বসল মুথুকুমারন। লোধাশুলির জঙ্গলের এই পশ্চিম প্রান্তে অনেক আগেই গাঢ় অন্ধকার নেমে গিয়েছে। ঝিঁঝিপোকারা ডেকেই চলেছে একটানা। একটা হ্যারিকেন জ্বেলে রাখা হয়েছে মাঝখানে। হ্যারিকেনটার চারপাশে ইতস্তত ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে রয়েছে আবেন হাঁসদা, সহদেব মুর্মু, ধানি কিস্কু আর জয়ন্ত সর্দার। পাশে আর একটা খালিচেয়ার রাখা ছিল। সেটা টেনে সামনে আনল মুথুকুমারন, কাঁধ থেকে একে-৪৭টা নামিয়ে সেখানে রাখল ও।

''আমার যখন সতেরো বছর বয়স, প্রথম বন্দুক ছুঁয়ে দেখি আমি। এক বন্ধুর কাকা পুলিশের বড় অফিসার ছিল, তার কাছেই।'' ভাঙা ভাঙা বাংলায় বলতে শুরু করল মুথুকুমারন, ''অন্ধ্রের করিমনগর জেলার পেড্ডাপল্লিতে যে-ব্রাহ্মণ পরিবারে আমার জন্ম, খুবই রক্ষণশীল ছিল সেটা। ভাবিনি কোনওদিন অস্ত্র ধরতে হবে। নসিবে থাকলে তাকে খণ্ডাবে কে?'' মুখে চুকচুক করে একটা শব্দ করতে করতে হঠাৎ থেমে গেল মুথুকুমারন, তারপর দূরে বন্দুক হাতে পাহারারত অঘোর হেমব্রমের দিকে তাকিয়ে বলল, ''আব্বে অঘোর, ইদিকে আয়। আজকের রাতটা মৌজ কর। পুলিশ তাড়া করতে আসবে না আজ।''

মুথুকুমারনের কথা শুনে হাসি হাসি মুখ করে অঘোর কাছে এসে পেতে রাখা চ্যাটাইটার উপর বসে পড়ল। বন্দুকটা অত্যন্ত সন্তর্পণে কোলের উপরে রাখল ও।

শালবনের মাঝখানটা সাধারণত পরিষ্কারই থাকে। কিন্তু ঘনঘোর অন্ধকারের মধ্যে কোথাও একচিলতে আলো জ্বললে হাজার রকমের পোকা এসে তাকে ঘিরে ধরে। হ্যারিকেনটার চারপাশে তাই প্রচুর পোকা ভিড় করেছে। সেগুলো মাঝেমধ্যে ছিটকে এসে ওদের সকলের গায়ের উপরে বসছে।

হ্যারিকেনটাও এতটাই পুরনো, তার কাচে জমে থাকা ভুসোকালির আস্তরণটা ভেদ করে অন্ধকারটা ঠিকঠাক দূর হতে পারছে না।

অন্যসময় এই চেয়ারদুটো একটু দূরে একটা বড় উইঢিপির পাশে উল্টে রাখা থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলো হলে মুথুকুমারন চেয়ারে বসে। ওকে ঘিরে নীচে বসে থাকে বাকিরা। আসলে মুথুকুমারনের সামনাসামনি থাকার প্রয়োজনেই এই ব্যবস্থাটা করা হয়েছে।

ধানি কিস্কু উসখুশ করতে করতে প্রশ্নটা করেই ফেলল, ''অতদিন আগে তোমার অস্ত্র ধরার প্রয়োজন হলটাই বা ক্যানে!''

ধানির কথা শুনে বোধহয় একটু হাসল মুথুকুমারন। যদিও মুখের গামছা ভেদ করে হাসিটা ঠিকভাবে দেখা গেল না।

ডানহাত দিয়ে একটা চোখ একটু ঘষে নিল ও, তারপর বলল, ''সেটা ১৯৭৩ সাল। আমি হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্র তখন। জমিজমা খুব কমই ছিল আমাদের। কিন্তু সেই সময় চাষে বিনিয়োগ করার মতো মূলধন আমাদের ছিল না। জমিতে জলসেচের কোনও বন্দোবস্ত ছিল না, আমরা পুরোপুরি বৃষ্টির জলের ওপরেই নির্ভরশীল ছিলাম। এমনকি আমাদের বোরওয়েল বসানোর জন্য বিনিয়োগ করার টাকাটুকুও ছিল না। তাই আমরা আমাদের জমিগুলো কাপু ও কাম্মা সম্প্রদায়ভুক্ত কৃষকদের ইজারা দিয়েছিলাম, আর আমার বাপ-কাকারা গ্রামের অন্যান্য ছোটছোট জোতের মালিকদের মতোই কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।''

''তারপর?'' আগ্রহের সঙ্গে বলল সহদেব মুর্মূ।

''আমাদের বাড়ি থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দূরে ভোগাপুরম বিমানবন্দরের জন্য একদিন জমি অধিগ্রহণের নোটিশ দিল সরকার। সামান্য যেটুকু জমি ছিল, সেটুকুও চলে গেল। অধিগ্রহণ বাবদ যে-টাকা দেওয়ার কথা ছিল, তার সামান্যতমও আমরা পাইনি।'' একটু থেমে গলায় মারাত্মক দৃঢ়তা এনে মুথুকুমারন আবার বলল, ''রাজ্যটা পশ্চিমবঙ্গ, নাকি অন্ধ্র সেটা বড় কথা নয়, আসল কথাটা হল প্রবঞ্চনা। রাজা তার প্রজাদের ঠকিয়ে নিজের মুনাফা অর্জন করবে যেনতেন উপায়ে। তো যেটা বলছিলাম, একটা প্রতিবাদী সত্তা খুব ছোট থেকেই আমার শরীরে ছিল। ইউনিভার্সিটিতে আমাদের এল এল বি'র ক্লাস নিতেন ম্যালাপিল্লি কান্নাম্বা নামে একজন স্যার। তিনি আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। তাঁকে সুখ-দুঃখের সব কথা বলতাম আমি। একদিন ক্লাসের শেষে আমাদের চরম দুর্দশার কথা শোনালাম তাঁকে। তিনি আমাকে রুখে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিলেন। মাও-সে-তুং তখন আমার রক্তে প্রবাহিত হচ্ছে। কান্নাম্বা স্যার বললেন, কৃষকদের সংগঠিত করতে। যারা সরকারের দ্বারা চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছে, সেইসব কৃষকদের সবার সঙ্গে কথা বললাম আমি। করিমনগর আর আদিলাবাদের সব বঞ্চিত কৃষকদের একত্রিত করতে পারলাম। সরকার ভয় পেয়ে চোখ রাঙাতে শুরু করল আমায়। বিভিন্নভাবে হেনস্থা করতে লাগল।''

একটু থামল মুথুকুমারন। ডানহাতটা গালে দিয়ে দূরে অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে বসে রইল কয়েক মুহূর্ত, তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ''ইংরেজরা আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেলেও প্রকৃত স্বাধীনতা আমরা পাইনি। যে-স্বাধীনতা ধনীকে আরও ধনী বানায়, আর নিরন্নকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়, সেই স্বাধীনতা ঘেন্না করি আমি। তো সেদিনই বুঝেছিলাম, দেশের খেটেখাওয়া মানুষগুলোর অপমান আর চোখের জল মুছিয়ে দিতে আমাকে কিছু করতেই হবে। তাদের জন্য বুকের ভিতরে কেমন যেন একটা কষ্ট হত আমার। স্থির থাকতে পারতাম না আমি। কোনও কাজ নিশ্চিন্তে করতে পারতাম না। সবসময় রাষ্ট্রের প্রবঞ্চনার কথাটা পাক খেত মনের মধ্যে। ধীরে ধীরে বুঝতে পারছিলাম, প্রতিশোধ না নিতে পারলে পাগল হয়ে যাব আমি। রাগে আর ঘেন্নায় আমার মাথাটা দপদপ করত। অনুভব করলাম, সবচেয়ে ভাল প্রতিশোধ হল যারা আঘাতটি করেছে তার বিপরীতে যাওয়া। ব্যস, যেমন ভাবা তেমন কাজ। সশস্ত্র সংগ্রাম ছাড়া পৃথিবীতে কোনওদিন সাম্যবাদ আসতে পারে, আমি বিশ্বাস করিনি, আর সেই বিশ্বাস থেকেই একদিন অন্ধ্রপ্রদেশের মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি হলাম। পুলিশ পাগলা-কুকুরের মতো খুঁজতে লাগল আমাকে। বুঝলাম, বাড়িতে থাকা আর কপালে নেই আমার। একদিন গভীর রাতে মাকে বললাম, আজ থেকে তুমি আর কোনওদিন জানতেও চেয়ো না, তোমার ছেলে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে। শুধু জানবে, অসংখ্য গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তোমার ছেলে তার জীবনটাকে উৎসর্গ করল।''

''মা কিছু বলেনি, যেতে দিল সঙ্গে সঙ্গে?'' মুথুকুমারনকে মাঝপথে থামিয়ে প্রশ্ন করল জয়ন্ত সর্দার।

একটু যেন চিন্তা করল মুথুকুমারন, তারপর বলল, ''আমার মা মধুরাম্মা অত্যন্ত কঠোর হৃদয়ের মহিলা ছিলেন। কষ্ট হলেও আমাদের বুঝতে দিতেন না কোনওদিন। আমার বড় দাদাও মাওবাদী দলের সদস্য হয়ে বাড়ি ছেড়েছিল অনেকদিন আগেই। তবে এটাও ঠিক, মা হয়তো সত্যিই বুঝতে পারেননি যে, তাঁর সঙ্গে আর কোনওদিনই দেখা হবে না আমার। আমি যে আর কোনওদিনই বাড়ি ফিরব না, সেটা বোধহয় তাঁর চিন্তারও অতীত ছিল।''

ধানি কিস্কু অপলক শুনছিল মুথুকুমারনের কথা। সে জিজ্ঞাসা করল, ''কত দিন দেখেননি মাকে?''

''তেত্রিশ বছর।''

সময়টা শুনে কেউ কোনও কথা বলতে পারল না প্রথমে।

হ্যারিকেনটা থেকে কোনও কারণে গবগব করে ধোঁয়া বেরোতে থাকায় সেটাকে আরও খানিকটা কমিয়ে দিয়ে প্রায় নিভুনিভু করে দিল অঘোর।

একচিলতে আগুনটার দিকে তাকিয়ে বসেছিল মুথুকুমারন। অলস ভঙ্গিমায় তার পা'দুটো ছড়ানো ছিল সামনের দিকে, আর হাতদুটো মাথার উপরে রাখা ছিল।

সহদেব মুর্মূ খানিকক্ষণ চুপ থেকে বলল, ''বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথায় গেলে?''

সহদেবের প্রশ্ন শুনে উৎসাহিত হল মুথুকুমারন। মাথা থেকে দুটো হাত নামিয়ে বলল, ''বিজয়ওয়াড়ার কাছে গোদাবরী নদীর তীরে আমাদের পার্টির একটা বড় আন্ডারগ্রাউন্ড ঘর ছিল। কিছুদিন সেখানেই সেঁধিয়ে গেলাম। লোকজনের সামনে যাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিলাম। এভাবেই বছর দুয়েক কেটে গেল। তারপর গেরিলা বাহিনী তৈরি করে ফেললাম।''

''হঠাৎ গেরিলা বাহিনীর চিন্তা এল কীভাবে?'' জানতে চাইল সহদেব।

''প্রাচীন চীনের সমরনায়ক সুন সু তাঁর দ্য আর্ট অফ ওয়ার গ্রন্থে সর্বপ্রথম গেরিলা যুদ্ধের কথা বলেন। এটি সরাসরি আধুনিক গেরিলা যুদ্ধের বিকাশকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এটি নেপোলিয়ানের স্পেন আক্রমণের সময় প্রয়োগ করে স্পেনীয়রা, এই নীতি প্রয়োগ করে নেপেলিয়ানকে ফ্রান্সে ফিরতে বাধ্য করা হয়। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেওয়া বাঙালি সেনা, ছাত্র ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে গঠিত হয় একটি সামরিক বাহিনী, যা মুক্তিবাহিনী নামে বিখ্যাত। মুক্তিবাহিনী বেশিরভাগ সময়ই গেরিলা যুদ্ধের নীতি অবলম্বন করে শত্রু পক্ষকে ব্যাতিব্যস্ত রাখত। মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধকৌশল অনেকটা বিপ্লবী চেগেভারার দ্বারা অনুপ্রাণিত ছিল বলে মনে করা হয়। এই সবকিছুই আমার গেরিলাবাহিনী গড়ে তোলার প্রাথমিক অনুপ্রেরণা বলতে পারো।''

অনেকটা সময় কথা বলে একটু থামল মুথুকুমারন।

আবেন হাঁসদা গামছার কোঁচড়ে ভরে মুড়ি আর নারকেল কুচোনো এনেছিল খানিকটা। গিঁট খুলে সকলকে একমুঠো করে মুড়ি দিতে লাগল ও।

মুথুকুমারন একটা নারকেল কুচি দাঁতে কেটে বলল, ''ভারতে আসলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ধনতন্ত্রকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে সবসময়। রাজ্য-রাজনীতি-সংবিধান সবজায়গাতেই গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর কথা বলা হলেও পুঁজিবাদকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মার্কস মনে করতেন, কৃষক সমাজের বিত্তশালী কৃষক এবং নগরাঞ্চলের বণিকশ্রেণির হাত ধরে পুঁজিবাদের সূচনা হয়েছিল। তারা জমির ফলন এবং শিল্প পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পুঁজি বিনিয়োগ করতে সম্মত ছিল। বিনিয়োগ লাভজনক হওয়ার সুবাদে এই প্রবণতা সমাজের ধনতন্ত্রের পথ সুগম করে।''

মুথুকুমারনের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা জয়ন্ত, আবেনরা হাঁ-করে গিলতে লাগল। ওদের চোখের পলক পড়ছিল না।

সহদেব ভাবছিল, ইংরেজি, তেলেগু, বাংলা, ওড়িয়া সহ মোট ছ'টি ভাষা জানা একটা মানুষের কতটা পড়াশোনা থাকলে তবে বিপ্লববাদের কথা এভাবে বলা যায়! নিজে পড়াশোনার জীবনে একজন সফল মানুষ হয়েও কীভাবে অন্যের সেবায় নিজের জীবনটাকে বলি দেয়!

একমুঠো মুড়ি হাতের মুঠোয় নিয়ে মুথুকুমারন বলল, ''ওসির দায়িত্বে আজকে রাতে কে কে থাকবে?''

সহদেব ওকে আশ্বস্ত করার ভঙ্গিমায় বলল, ''শিবু, লক্ষ্মীরতন আর ওদের ছেলেপুলেরা থাকছে। ঘরের ভিতরে থাকবে কমলিনী। যথেষ্ট আর্মস আছে ওর সঙ্গে।''

কমলিনীর কথা শুনে মুথুকুমারন নরম গলায় বলল, ''ওর মতো মেয়েদের সাহায্যে, ওর চিন্তাশীলতা আর সচেতনতায় নব সমাজের নির্মাণ সুদৃঢ় হবে একদিন। আমি বিশ্বাস করি, জীবনের সকলক্ষেত্রে সকল সমস্যায় নারী জাতিকে তাদের যোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে দেওয়া প্রয়োজন।''

মুথুকুমারনের কথাটা শুনে অঘোর হেমব্রম কী ভাবল সেটা বোঝা না গেলেও, হ্যারিকেনের এই সামান্য ম্রিয়মাণ আলোয় ওর মুখটা যে একটু হলেও চকচক করে উঠল, সেটা বেশ বোঝা গেল।

প্রসঙ্গ পাল্টে মুথুকুমারন আবার বলল, ''যতদূর খবর পাচ্ছি জঙ্গলমহলের দায়িত্ব চলে যাচ্ছে সি আর পি এফের হাতে। ওদের স্পেশাল কোবরা টিম বহুত খতরনাক। নির্বিচারে জনগণের ওপরে টর্চার চালাবে ওরা। সাধারণ গরিব মানুষের অধিকার আরও খর্ব করতে চাইবে। তাই আমাদের আরও সজাগ থাকতে হবে। গোটা জঙ্গলমহলে রেড অ্যালার্ট জারি করলাম আমি। প্রয়োজনে সকলকে অস্ত্রপ্রশিক্ষণ দাও, প্রতিটা গ্রামবাসীকে তোমরা গিয়ে বোঝাতে থাক, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটা লোককেও যেন কেউ বিশ্বাস না করে।''

''কিন্তু ওসি যতীন দত্তকে কি কালই ছেড়ে দেব?''

জয়ন্তর কথার জবাবে মুথুকুমারন বলল, ''আচরণের দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে গেলে তা চরিত্রকেও দুর্বল বানিয়ে ফেলে। সাঁকরাইল থানার ওসি যতীন দত্তকে অপহরণ করে পণবন্দি করাটা অনেকের কাছে আমাদের দুর্বল চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দুলাল হেমব্রমকে ছেড়ে দিলে আমরা কালকেই ওকে মুক্ত করে দেব। প্রেসের সঙ্গে আমার সেরকমই কথা হয়েছে। আগামী দিনে পণবন্দির দিকে আমরা আর যাব না। সরাসরি অ্যাকশনে নামব। প্রয়োজনে সিআরপিএফের ক্যাম্প উড়িয়ে দিতেও পিছপা হব না আমরা। দুলালকে কাছে পেলে সহদেবও অনেকটা নিশ্চিন্ত হবে। জানো তো, বিশ্বস্ত বন্ধুত্ব হচ্ছে প্রাণরক্ষাকারী ছায়ার মতো। যে তাকে খুঁজে পায়, সে একটা গুপ্তধন পায়। সহদেব আর দুলাল তো পরস্পর তাই। সুতরাং দুলাল কাল চলে আসছে, আর তাই সহদেব আরও জোরদার পার্টির হালটা ধরতে পারবে।'' কথাটা বলে মৃদু হাসল মুথুকুমারন।

সহদেব মুখে কিছু বলল না, তবে ওর চোখ দুটো খুশিখুশি হয়ে উঠল।

''প্রেসকে বলেছি লোধাশুলির দক্ষিণ প্রান্তে বাজেপোঁতার পিছন দিকে দুপুর একটা নাগাদ যতীন দত্তকে নিয়ে যাব। তবে বাস্তবে আরও একঘণ্টা পরে যাব আমি। তোমরা পুলিশ আর প্রেসকে আগে থেকে কর্ডন করে দেবে। অন্তত পাঁচশো মিটার দূরে। গ্রামবাসীরা খবর নেবে পুলিশের সঙ্গে দুলাল রয়েছে কিনা। থাকলে তবেই আমাকে খবর দিও। বীতরাগ চক্রবর্তী যদি এখানেও দাদাগিরি দেখাতে যায়, তাহলে...''

''তাহলে?'' কোলে রাখা সুবৃহৎ রাইফেলটার উপর হাত বুলোতে বুলোতে জিজ্ঞাসা করল অঘোর।

''তাহলে কালকেই যতীন দত্তর জীবনে ফুলস্টপ বসিয়ে দিও। খুলির ঠিক নিচেই আরাম করে তিনটে দানা ভরে দিও!''

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%