কমলেশ কুমার
''এই নৃশংস জাতটাকে চিনে রাখুন কমরেডস। যারা মানুষের গলা কেটে উল্লাস করতে পারে, থানায় ঢুকে বর্বরতা দেখাতে পারে, এমনকি ওসিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাতে পারে, তারা দেশের কত বড় শত্রু একবার ভেবে দেখবেন। ওদের দাবি সম্পূর্ণ অনৈতিক। কোনও শিক্ষিত সমাজে ওদের কোনও স্থান থাকতে পারে না। ওদের আপনারা বয়কট করুন। অন্ধকারের জীবকে আলোর মুখ দেখতে দিলে সেটা আলোর অপমান। তাই আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ মাওবাদীদের চিনে নিন, পুলিশের কাছে তাদের গতিবিধির খবর জানিয়ে দিন, মনে মনে ভয় পেলে সম্পূর্ণ গোপনে কাজটি করুন।'' ধানশোল প্রাইমারি স্কুলের মাঠে রাজ্যের শাসক দলের একটি মিটিং রয়েছে আজ। এমএলএ তথা গোপীবল্লভপুর জোনাল কমিটির সেক্রেটারি সুজয় সরেন বক্তব্য রাখছেন এখন।
লাল রঙের ছোটখাট একটা মঞ্চ বানানো হয়েছে। সামনের দিকে কিছু লাল চেয়ার ইতস্তত ছড়ানো-ছিটান রয়েছে। গুটিকয়েক দর্শক বসে বসে সুজয় সরেনের বক্তব্য শুনছিল। এখনকার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। একদিকে মাওবাদীদের রক্তচক্ষু, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল। এলাকার মানুষের হয়েছে শাঁখের করাতের মতো অবস্থা।
সুজয় সরেন চারপাশটা দেখে নিলেন ভালো করে, তারপর মাইক্রোফোনটা মুখের কাছে নিয়ে এসে বললেন, ''এতদিন বিপদে-আপদে আপনাদের পাশে কে থেকেছে? আমরাই তো! আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই কমরেডস, পঞ্চায়েত ভোটের আগে আমাদের কর্মীরা দেওয়ালে লিখতে পর্যন্ত পারেনি। দেওয়াল লিখনের অপরাধে আমাদের কতজন কর্মীকে মারধর করা হয়েছে, এবং ছাতিনাশোলের রতন সাঁতরার হাত-পা কেটে রাস্তায় মৃতদেহটা ফেলে রাখা হয়েছে সেসব কিছুই অজ্ঞাত নয়। বেয়োনেট হোক যতই ধারালো, কাস্তেটা ধার দিও বন্ধু। আপনারা জানেন এ আমাদের গণসঙ্গীত। একদিন এই গান গেয়ে মার্কসিস্ট কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গে উত্থান হয়েছিল। আজ তবে আমরা কেন বন্দুকের নলকে ভয় পাব? আমাদের কাস্তে-হাতুড়ি ধারে আর ভারে সহস্র যোজন এগিয়ে আছে সব দলের চেয়ে। মাওবাদীদের যারা সমর্থন জোগায়, রাতের অন্ধকারে যারা তাদের সঙ্গে বৈঠক করে, সেই বিরোধীপক্ষকেও আপনারা চিনে রাখবেন বন্ধু। মনে রাখবেন বিরোধী দলনেত্রী সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায় মিটিং করে যাওয়ার পর এই এলাকায় খুন-জখম বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। যারা মাওবাদীদের ওই ঘৃণ্য রাজনীতিকে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করতে কাজে লাগায় তাদেরও আপনারা বয়কট করুন। আমাদের পার্টিকর্মীদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা এলাকায় জনসংযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করুন। মানুষের মনের ভীতি দূর করতে সহযোগিতা করুন। এলাকায় সন্দেহজনক কিছু দেখলেই পুলিশে খবর দিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের সব মানুষের সরকারের পাশে থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কেন্দ্রীয় শাসকদলকের জঘন্য নীতি, আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রীর উস্কানিমূলক কথাবার্তা গোটা জঙ্গলমহলকে জতুগৃহ বানিয়ে তুলেছে। তাই আমি বলব, আমার আদিবাসী বাইবোনেরা রুখে দাঁড়ান। লোহা গরম থাকতে থাকতেই হাতুড়ির বাড়ি মারা উচিত। সামনের বিধানসভা ভোট আসার আগেই আপনারা এখনই রাজ্যের বিরোধী দলকে উৎখাত করুন।''
ধানশোল প্রাইমারি স্কুলের মাঠটা এখন বেশ ফাঁকাই বলা যায়। এলাকার মানুষ মাওবাদীদের ভয়ে শাসক দলের মিটিং-মিছিলে যোগদান করতেই ভয় পায়। কত পার্টিকর্মীকে যে হেনস্তা করছে ওরা, এমনকি জানেও মেরে দিচ্ছে তার হিসেব নেই।
দুপুর শেষ হয়ে বিকেল হয়েছে সদ্য। মাঠের ধার থেকে আসা উড়োঝুড়ো হাওয়ায় ধুলো কাগজ আর চায়ের কাপগুলো বুড়বুড়ি কেটে উড়ে যাচ্ছে অন্যদিকে।
স্কুলটার ডানদিকে মোরাম রাস্তাটার ঠিক পাশেই খড়ের চালের একটা চায়ের দোকান, উনুনে ধোঁয়া দিয়েছে দোকানি। দু'একটা লোক লুঙ্গি পরে খালিগায়ে বেঞ্চে বসে এমএল-এর বক্তব্য শুনছে। একটা পাগল বেঞ্চের নীচে পা ছড়িয়ে বসে তার বিশাল বড় ঝোলাটা থেকে ছেঁড়াখোঁড়া কাগজ বের করে মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। কিছুক্ষণ পড়ার পর সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়ে পুনরায় নতুন কাগজ বের করে আনছে। লোকটার মঞ্চের দিকে চোখ নেই, সম্ভবত ওর কানেও ঢুকছে না এমএল-এর বক্তব্য। চায়ের দোকানি পাগলটাকে চেনে না। দু'চারদিন হল ওকে এই এলাকায় দেখা যাচ্ছে। গোটা মুখ দাড়িতে ভর্তি। মাথায় ঝাঁকড়া চুল। গায়ে কয়েক যুগ না-কাচা জামা। শতচ্ছিন্ন একটা ফুল প্যান্ট, যেটা হাঁটুর সামান্য নীচে নেমেই থেমে গিয়েছে।
ওকে এলাকায় অনেকে নাম জিজ্ঞাসা করছে। ও বিশেষ উত্তর দেয়নি কাউকেই। দু'একজন খুব জোরাজুরি করাতে ও নাম বলেছে, ''মীরকাশিম!''
কেন্দুগাড়ি, পিন্ড্রাশোল, ধানশোলের মানুষজন দেখেছে, মীরকাশিম হেঁটে হেঁটে সকাল-দুপুর টহল দিচ্ছে এলাকায়। কখনও কোবরা বাহিনীর সামনে হাঁটছে, কখনও পিছনে। জওয়ানরা ওকে রাস্তা থেকে ঠেলে সরিয়ে দিলে ও তখনকার মতো ক্ষান্ত দিয়েছে। চটের বস্তার বিশাল ঝোলাটা কখনও কাঁধে, কখনও পিঠে নিয়ে ও ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দু'একজন অতি আগ্রহী উঁকিঝুঁকি মেরে দেখেছে ওর বস্তায় ঠাসা আছে দিস্তা দিস্তা কাগজ।
মঞ্চে এমএলএ সুজয় সরেন এখনও বক্তব্য রাখছেন। বিভিন্ন সংকটের কথা, সমস্যার কথা উঠে আসছিল তাঁর বক্তব্যে।
গলাটা ভাসিয়ে দিয়ে আবেগমথিত কণ্ঠে তিনি বললেন, ''সুচেতনার দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হবে আমাদের। সকলকে বোঝাতে হবে, ওদের দল আর মাওবাদীরা একই কয়েনের এপিঠ-ওপিঠ। সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করে রাজ্যের বিরোধী দলকে আসনে বসালে মানুষের যে হাড়ে-দুর্গতি বয়ে যাবে, সেটাও বুঝতে হবে সকলকে। রাজ্য কমিটির ডাকে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রতিটা ব্লকে 'আর নয় অন্যায়' কর্মসূচি পালন করতে চলেছি আমরা। আমরা এলাকায় লিফলেটও বিলি করব। সভা করব। এমনকী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও আমাদের বিরোধিতা জারি থাকবে। আমাদের বিশ্বাস, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিগত বছরগুলোর মতোই বামজোট ভাল ফল করে পশ্চিমবঙ্গের ম্যাপ থেকে বিরোধী দলকে এবং মাওবাদীদের চিরতরে মুছে ফেলতে সক্ষম হবে। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্তাব্যক্তিরাও নিয়মিত রাজ্যে আসবেন। কিছুদিনের মধ্যেই শালবনিতে মুখ্যমন্ত্রী আসছেন।''
কথাটা বলে সুজয় সরেন একটু থামলেন। পায়ের কাছে রাখা একটা বোতল থেকে ঢাকনা খুলে একটু গলাটা ভিজিয়ে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন, ''আমরা ঘা খেতে-খেতে পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে থাকা একটা দল। নীল বিদ্রোহের ইতিহাস থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। মহাত্মা গান্ধীর কাছে আমরা প্রথম দেখেছিলাম আন্দোলনে গরিব মানুষকে সঙ্গে নিতে হবে। তিনি না চাইলেও, জন্ম হয়েছিল গান্ধীবাদের। পৃথিবী প্রতিবাদের এক নতুন পথের সন্ধান পেল। রক্তপাতহীন সেই কঠিন পথের কথা, সংখ্যায় অল্প হলেও, পৃথিবী জুড়ে বিস্ময়ের সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনা আজও চলছে। আরও বহুকাল চলবে। রক্তপাতময় ফরাসি বিপ্লব তার অনেক আগের ব্যাপার, কিন্তু সাম্য, মানবিকতা, ভালোবাসার কথা এত বড় করে এর আগে কেউ বলেনি। জন্ম হল কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোর। জন্ম নিল মার্কসবাদ। তারপর এল মার্কবাদ-লেনিনবাদ। তারপর এল মার্কবাদ-লেনিনবাদের চিন্তাধারা। আপনারা হয়তো জানেন না, মার্কবাদই একমাত্র সত্য, কারণ তারমধ্যেই রয়েছে বিজ্ঞানের সারবত্তা।''
সুজয় সরেন বলে চলেছেন। বিকেলের আলো মরে আসছে ধীরে ধীরে। চায়ের দোকানি আর কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানের ঝাঁপ ফেলে বাড়ি চলে যাবে। এখানে মিটিংটা চলছে বলে বন্ধ করতে পারেনি এখনও। যদি দু'চার কাপ বিক্রি হয়!
জঙ্গলমহলের আদিবাসী সমাজে বঞ্চনার নানা অভিযোগ সামনে এনে মাওবাদী তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে এখানে। এবছরের পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের নামে মাওবাদীরা পঞ্চায়েত নির্বাচনে নামে। তারা জঙ্গলমহলের বেলপাহাড়ি, বাঁশপাহাড়ি, জামবনি, লালগড়, রাইপুর এলাকায় প্রার্থী দিতে চেয়েছিল। ওদের বিশ্বাস ছিল নির্বাচনে আদিবাসী সমন্বয় মঞ্চের বহু প্রার্থী জয়ীও হবে। ভিনরাজ্য থেকে মাওবাদী মাথারা জঙ্গলমহলে এসে আশ্রয় নিতে চাইছে। তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বা চিন্তাধারা এরাজ্যের মাওবাদীদের পথ দেখাচ্ছে।
সুজয় সরেন সামনের চেয়ারে বসে থাকা কয়েকজনের দিকে তাকিয়ে বললেন, ''ঝাড়খণ্ড আর ওড়িশা, এই দুটি রাজ্যের সীমানাবর্তী যে এলাকা, সেখানে একটা মুক্তাঞ্চল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে মাওবাদীরা। তারপরে সেই মুক্তাঞ্চলটিকেই ছত্তিশগড় থেকে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলে আসার করিডর হিসেবে ব্যবহার করবে ওরা। কিন্তু বর্তমানে যৌথ বাহিনীর অভিযানের চাপে মাওবাদী নেতাদের গা ঢাকা দিয়ে থাকা মুশকিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গে ঢোকা নয়, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিরোধী দলের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করতেও মাওবাদীরা মরিয়া। আমাদের পার্টিমিটিংয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, মাওবাদীদের এই রণকৌশল ব্যর্থ করতে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের সীমানা সিল করে দিতে কেন্দ্রের কাছে উনি যেন আবেদন জানান। বিরোধী দল আর মাওবাদী মিলিয়ে জঙ্গলমহলে একটা মারাত্মক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে আমার আশা, সাধারণ মানুষ এতে প্রভাবিত হবেন না। কারণ আমরা তাঁদের জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবার দিকগুলিতে নজর দিচ্ছি। আপনাদের যা দাবি, আমাদের কাছে এসে পেশ করুন। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের দাবি পূরণ করতে সরকার সবরকমের প্রচেষ্টা চালাবে। শুধু দয়া করে রাতপার্টির রক্তমাখা কালো হাতকে সমর্থন করবেন না।''
সুজয় সরেনের দিকে একবার চোখ তুলে তাকাল মীরকাশিম। তারপর ওঠে দাঁড়িয়ে ওর প্যান্টটা পেটের ওপর পর্যন্ত তুলে নিল একবার। মাথার ঝাঁকড়া চুলের ভিতর হাত চালিয়ে দুটো উকুন বের করে এনে কানের কাছে নিয়ে গেল, পুট পুট করে ওদুটোকে শব্দ করে মেরে হাসির রেখা ফুটল ওর মুখে। বিড়বিড় করে বলল, ''শালাদের খতম করে দিলাম। বিনামূল্যে আর চুষতে দেব না!'' কথাটা বলে নিজের মনেই খ্যাকখ্যাক করে হেসে উঠল মীরকাশিম। পা'টা টানতে টানতে বিশাল বড় ঝোলাটা কাঁধে চাপিয়ে চায়ের দোকানটার পিছনের দিকে গিয়ে বসল ও।
এমএলএ দেখলেন, সামনে যে-কয়েকজন বসে ছিল, তারাও ওঠার তোড়জোড় করছে, তাদের দিকে তাকিয়ে উনি বলে চললেন, ''হাতঘড়িতে এখন সময় দেখাচ্ছে বিকেল পাঁচটা চল্লিশ। বছর পাঁচ-ছয় আগে এই সময়ে আমরা ধানশোল-পণ্ডাছেঁচার মাঠে বসে আড্ডা দিতাম। নির্ভয়ে। আজ সেই পরিস্থিতি নেই। গোটা জেলা জুড়ে ওরা একটা সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করছে। সন্ধে ছ'টা বাজলে দোকানের ঝাঁপ ফেলে দিচ্ছে দোকানি। সপ্তাহের তিনদিন হরতাল। এ কী মগের মুলুক নাকি! আমরা এতদিন সরকারে থেকে কী করিনি বলতে পারেন! প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষা নিচ্ছি। সরকারি চাকরির পরীক্ষাও নিয়মমাফিক হচ্ছে। রাজ্যে নীতিহীন বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে কর্মহীন অন্নহীন বাংলা তৈরি হবে। মাওবাদীরা যাদের দোসর, তারা ভাল কিছু করতে পারবে কি? তবে জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে আরও সাবধানী হব আমরা। পরিবেশ পরিস্থিতি যাচাই করে জমি বাছাই করা হবে। রাজ্যে শিল্পের জোয়ার আসছে অথচ জিন্দলদের কারখানা তৈরিতে বাধা দিচ্ছে মাওবাদীরা। আমরা দীর্ঘদিন সরকারে আছি। সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আপনারা ধৈর্য ধরুন। মাওবাদীদের বিশ্বাস করবেন না...''
আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলেন এমএলএ, পণ্ডাছেঁচার দিক থেকে যে-রাস্তাটা ধানশোল প্রাইমারি ইস্কুলের সামনে এসে মিশেছে, সেখান থেকে বিশ্রী শব্দ করতে করতে কালো ধোঁয়া উড়িয়ে একটা বাইক এসে থেমে গেল। দু'জন বসে রয়েছে বাইকের উপরে। দু'জনেরই মুখটা গামছায় ঢাকা। বাইকটার নম্বর প্লেটটা দেখে নম্বর বোঝার উপায় নেই। চাকা দুটো মোড়ামের জল-কাদা লেগে লাল হয়ে রয়েছে। বাইকটা থামার সঙ্গে সঙ্গে এতক্ষণ ধরে চলা বাইকের ঝনঝন আওয়াজটাও থেমে গেল।
মঞ্চ থেকে সুজয় সরেনও ওদের দেখতে পেয়েছেন। উনি থেমে যেতেই বাইকের পিছনে বসা লোকটা লুঙ্গির মধ্যে গুঁজে রাখা নাইন এমএম পিস্তলটা বের করে তাক করল ওঁর দিকে। ভয়ে বিস্ফারিত হয়ে গেল সুজয় সরেনের দুটো চোখ। মুখ দিয়ে কোনও কথা বেরোচ্ছিল না ওঁর। বসে পড়তে যাচ্ছিলেন মঞ্চের উপরেই, ঠিক সেই সময় উল্টো দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে এল। বাইকের পিছন দিকে বসে থাকা লোকটা এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। লক্ষ্যবস্তুকে না দেখেই সে চালিয়ে দিল ট্রিগার, গুলি ছিটকে বেরিয়ে ডানহাতের কব্জির কাছে বিঁধে গেল সুজয় সরেনের, কিন্তু চায়ের দোকানের পিছন থেকে ছুটে আসা গুলির তোড়ে ঝাঁঝরা হয়ে গেল মুখে গামছা-ঢাকা দু'জন বাইক আরোহীই। পিছনের জন সঙ্গে সঙ্গে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে, চালক খানিকটা দূর পর্যন্ত টলমল করে বাইকটা টেনে নিয়ে গেল। তারপর বাইক থেকে লাফ মেরে কম্পমান পায়ে ছুটতে শুরু করল, কিন্তু বিদ্যুৎ গতিতে পরপর তিনটে গুলি এসে লোকটার মাথার পিছন দিকে লাগার সঙ্গে সঙ্গে মোরাম রাস্তাটার উপরে নিঃশব্দে পড়ে গেল সে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন