পঞ্চম অধ্যায়

কমলেশ কুমার

''কুরকুট চাই? কুরকুট!'' লোকটা টিংটিং করে সাইকেলের ঘণ্টি দিতে দিতে রত্নীগড়িয়ার দিকে চলল। ওর সাইকেলটা খুব সম্ভবত ব্রিটিশ আমলের। চেনকভারটা নেই। প্যাডেল করার সঙ্গে সঙ্গে সাপের শরীরের মতো চেনটা ফুলেফেঁপে উঠছে। মাঝে দু'বার পড়েও গেল। লাফ দিয়ে নেমে চেনটা নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দিল ও।

কুরকুট বিক্রি এই এলাকায় বেশ অভিনব। সাধারণত কেউ সাইকেল চড়ে বিক্রি করতে আসে না। খোঁচা-খোঁচা দাড়ি আর ঝোপঝাড়ের মতো মাথায় চুল নিয়ে লোকটা বেশ রঙ্গরসিকতা করতে করতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ওর গলার আওয়াজ পেয়ে বাড়ির মেয়ে-বউরা সব বেরিয়ে এসেছে রাস্তায়। তাদের দেখে অতি উৎসাহিত হয়ে লোকটা সাইকেলের প্যাডেল করা থামিয়ে দিয়ে বক্তৃতা দিতে শুরু করল, ''চার চামচ কুরকুটের সঙ্গে কাঁচা লঙ্কা, পুদিনা পাতা, অল্প পিঁয়াজ, রসুন টুকরো করে বেঁটে, কাঁচা সরিষার তেল আর প্রয়োজন মতো নুনের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি করে নিন কুরকুটের চাটনি। এমন সুস্বাদু খাবার চট করে পাবেন না মাইজি। নিয়েন তো, নিয়েন! না-নিয়েন, না-নিয়েন! দাঁড় করাবেন না বেশিক্ষণ।''

ওর কথা বলার ভঙ্গিমায় সকলে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।

একজন মাঝবয়সী ভদ্রমহিলা ওকে জিজ্ঞাসা করলেন, ''তোমার নাম কী বাছা?''

লোকটা কান-এঁটোকরা একটা হাসি হেসে জবাব দিল, ''আজ্ঞে মাইজি, দামোদর!''

ভিড়ের মধ্যে থেকে একটা বাচ্চা ছেলে বলে উঠল, ''দামোদর শেঠ?''

লোকটা কথাটার প্রতিবাদ করল না। ছেলেটার মাথার চুলগুলো একটু ঘেঁটে দিয়ে বলল, ''না গো বাবুজি, আমি দামোদর আছি। দামোদর সিং!''

রাস্তার পাশের টিউকলে একটা লোক দাঁতন করতে ব্যস্ত ছিল এতক্ষণ, সে চিপটেন কেটে বলল, ''বিহারী? তা মশাইয়ের থাকা হয় কোথায়!''

লোকটা হাসল। ওর সাইকেলের চেনটা আবারও পড়ে গিয়েছে দেখে সারাতে বসে পড়ল। বসতে-বসতেই বলল, ''জন্ম বিহারে। ছোট থেকে ঝাড়গ্রামে আছি। আগে লেপ-তোশক বানাতাম। লোসকান হয়ে যাচ্ছে বলে, অন্য বিজনেসের ফিকির করলাম বাবু!''

রত্নীগড়িয়ার এই পাড়াতে একটু অবস্থাপন্ন লোকের বাস। মোটামুটি দু'বেলা খাবারটুকু জুটে যায় সকলের। কিন্তু এমন অদ্ভুত জিনিস নিয়ে ব্যবসা সচরাচর কেউ দেখেনি।

পাড়ার একজন মক্কেল মতো লোক কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল এতক্ষণ, ভিড়ের মধ্যে থেকে সে বলে উঠল, ''ব্যবসার আর জিনিস পেলে না ভায়া! শেষে কিনা পিঁপড়ের ডিম বেচছ!''

প্রশ্নের উত্তরটা যেন ঠোঁটের ডগায় ছিল দামোদরের, একটুও চিন্তা না করে সে বলল, ''খাদ্যগুণের পাশাপাশি কুরকুটের রয়েছে ওষধি গুণ। ভিটামিন সি-তে ভরপুর কুরকুট আছে, সাথে রয়েছে ক্যালসিয়াম। সাধারণ সর্দিকাশি এবং শিশুদের কাশিতে খুব উপাদেয় এই দুটি উপাদান। শীতকালে শীতের মোকাবিলায় কুরকুটের ঝোল বিশেষ সহায়ক বলে বিশ্বাস করে শবর জনগোষ্ঠীর লোকেরা। প্রকৃতির একদম কাছাকাছি যাদের বেড়ে ওঠা...''

লোকটাকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে এক মহিলা বললেন, ''থাক, থাক বাপু! তোমার কথা শুনে যেন মনে হচ্ছে ডাক্তারের চেম্বারে পৌঁছে গেছি।''

দামোদর আরও উৎসাহিত হয়ে বলতে লাগল, ''ডাক্তারিই তো! পুরোটাই ডাক্তারি। কুরকুট একধরনের ট্রাইবাল মেডিসিন। আয়ুর্বেদিক সহ নানা অ্যালোপ্যাথি ওষুধের উপাদান হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।''

মহিলাটি বললেন, ''তা বাছা, তোমার কুটকুট কত টাকা করে?''

লোকটা হাসিমুখে বলল, ''কুটকুট না মাইজি। কুরকুট। পঞ্চাশ টাকায় আড়াইশো। নিয়েন তো নিয়েন। না নিয়েন, না নিয়েন!''

এ ওর মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে দেখে লোকটা আর দাঁড়াল না। সাইকেলে হেংলে-হেংলে উঠে টিংটিং করতে-করতে কেন্দুগাড়ি-পিন্ড্রাশোলের দিকে সাইকেলের মুখ ঘুরিয়ে দিল।

দামোদরের সাইকেলটা ব্রিটিশ আমলের হলেও স্পিড মারাত্মক। সামনের চাকাটা লগবগ-লগবগ করতে করতে হাওয়ায় উড়ে যাওয়ার মতো একটা অনুভূতি দিচ্ছিল ওকে।

কেটে রাখা পাকা কুমড়োর মতো রঙের একটা সূর্য উঠেছে পুব দিকে। দামোদর তাকিয়ে দেখল, এবড়ো-খেবড়ো মোরাম রাস্তাটা এখন জনমানবশূন্য। দু'দিকে ঘন শালের জঙ্গল থেকে একটা স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার যেন এখনও লেপ্টে রয়েছে কেন্দুগাড়ি যাওয়ার রাস্তায়।

ও সাইকেলের গতি বাড়াল। ওর ঝাঁকড়া চুলগুলো উড়তে লাগল হাওয়ায়। মুখের উসকোখুসকো দাড়িগুলোতে সকালের নরম রোদ এসে পড়ছে। ওর চোখ দুটো স্থির।

দু'দিকের সবুজ গাছপালা মাথার ওপর ছাউনির মতো ঢলে পড়েছে রাস্তায়। গতকাল রাতে খানিক বৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় জমা জলে গাছের ছায়া পড়ে ফুটে উঠছে আর এক বনের প্রতিচ্ছবি। সাইকেলে বসে হাত বাড়ালেই নাগাল পাওয়া যায় শাল আর ইউক্যালিপটাসের ডাল। গাছের ডালে ডালে পাখিদের কলতান। কোনওটাতে একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে কানাবগি, আবার কোনওটাতে ধ্যানমগ্ন বসন্তবৌড়ি। বনের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ এগাছ থেকে ওগাছ লাফিয়ে গেল একটা কাঠবিড়ালি।

সাধারণত বর্ষায় জঙ্গলমহল তার রূপ-লাবণ্য মেলে ধরে। বৃষ্টির জলে আর জঙ্গলের অপূর্ব মিশেলে আলাদা সৌন্দর্য তৈরি হয় এ-বনে। হেঁটে হেঁটে ঘুরে বেড়ালে পুরো জঙ্গলের সৌন্দর্যটা উপভোগ করা যায়। ঘন বনে বিরাজ করে নিস্তব্ধতা। মাঝে মধ্যে সেই নিস্তব্ধতা ভাঙার চেষ্টা করে ঝিঁঝিঁ পোকা বা গাছের ডালে ঝুলে থাকা দুষ্টু বানর।

শরতের বিকেলে জঙ্গলমহল তার রূপ বদলায়। ইচ্ছা করলে যেকোনও সময় ভিতরে যাওয়া যায় বনের। ঢুকতে পারলে দেখা যেতে পারে নানা জাতের পশু-পাখি। বনের ভিতর দাপিয়ে বেড়ায় মেছোবিড়াল, কাঠবিড়ালি, বানর, ভোদড়, বনবিড়াল, বেজি, শেয়ালসহ নানা প্রজাতির বণ্যপ্রাণী। ভাগ্য ভাল হলে দেখা মিলতে পারে হাতিরও। তবে কোনওভাবেই এসব প্রাণিকে বিরক্ত করা যাবে না। আর প্রকৃতি যেসব বৃক্ষরাজি দিয়ে এই বন সাজিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শাল, মহুল, জারুল, করঞ্জ, কদম, পিটালি, হিজল, অর্জুন, ইউক্যালিপটাস, পলাশ প্রভৃতি।

দামোদর দেখল, সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু লোক ঢুকে পড়েছে জঙ্গলে। তাদের বেশিরভাগই শালপাতা কুড়োতে ব্যস্ত। একটা ভাঙা ব্রিজের কাছে এসে ওর সাইকেলের চেনটা আবার খুলে গেল। প্রথমেই সেটা না সারিয়ে ও ব্রিজের নিচের দিকে নেমে গেল। ব্রিজের নিচে উঁকিঝুঁকি দিয়ে কিছু জিনিস দেখার চেষ্টা করল। তারপর উঠে এসে চেনটা ঠিক করতে বসল ও।

একটা লোক অন্য দিক থেকে বাইক নিয়ে আসছিল, দামোদর ওর সাইকেলটা রাস্তার মাঝখানে রেখেছে বলে তেড়ে গালগাল দিল সে। সাইকেলটার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাইকেলটাকে একটা লাথি মারল বাইক আরোহী। সাইকেলটা পড়ে গেল ঝনঝনিয়ে। বাইক আরোহী আর পিছনে তাকিয়ে দেখল না। সামনে এগিয়ে গেল।

দামোদরের সাইকেলটা পড়ে যেতেই ওর ঝাঁকার মধ্যে থেকে ছিটকে বেরিয়ে এল একটা ছোট্ট নাইন এম এম পিস্তল। আগ্নেয়াস্ত্রটা হাতের মুঠোয় ধরে চারপাশটা একবার দেখে নিল দামোদর। কেউ কোথাও থেকে আসছে না দেখে ও বাইক আরোহীর দিকে তাক করল পিস্তলটা। বাইক আরোহী বেশ খানিকটা দূরে এগিয়ে গিয়েছে, কিন্তু দামোদর জানে এর রেঞ্জ পাঁচশো মিটারেরও বেশি। নিশ্চিন্ত এবং নিস্পৃহ ভাবে সে পরপর তিনটে ফায়ার করল। তিনটে গুলিই লোকটার মাথার পিছন দিকে গিয়ে লাগল। দামোদর দূর থেকেই দেখল, বাইকটা আগে পড়ে গেল, তারপর লোকটা লুটিয়ে পড়ল বাইকের উপর।

দামোদর এক মুহূর্ত দেরি করল না আর। সাইকেলের পিছনের ঝাঁকার মধ্যে পিস্তলটা চালান করে দিয়ে, সাইকেলের চেনটা দ্রুত তুলে নিয়ে জোরে প্যাডেল করতে শুরু করল।

পিন্ড্রাশোলে একটা লোকও ওর জিনিস কিনবে না, জানত দামোদর। তাও ও টিং টিং করে ঘণ্টি বাজাতে বাজাতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াতে লাগল। কোনও কোনও বাড়ির সামনে একটু থেমে যাচ্ছিল ও। এদিক-ওদিক তাকিয়ে কিছু খোঁজার চেষ্টা করছিল। পরমুহূর্তেই আবার সাইকেলের গতি বাড়িয়ে দিচ্ছিল। কেউ কেউ দাঁড় করাচ্ছিল ওকে। কুরকুট কিনছিল না প্রায় কেউই। এই এলাকার মানুষের কিনে খাওয়ার মতো পরিস্থিতি যে নেই, সেটা খুব ভাল করেই জানে দামোদর।

দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে একটা ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা হাওয়া এসে লাগছিল ওর গায়ে। কিছুক্ষণ আগে ও যে ঠাণ্ডা মাথায় একজনকে খুন করে এল, সেটা এই ঠাণ্ডা হাওয়ার আমেজটার কাছে নেহাতই চুনোপুঁটি।

আসলে কখনও কখনও মানুষকে খুন করতে হয়, এমনটাই মনে করে দামোদর। ও জানে, একজন আহত ব্যক্তি তার যন্ত্রণা যত সহজে ভুলে যায়, একজন অপমানিত ব্যক্তি তত সহজে অপমান ভোলে না।

দামোদর এটাও বিশ্বাস করে যে, কেউ যদি নিজের জীবন থেকে স্বেচ্ছায় চলে যেতে চায়, তাকে যেতে দেওয়াই ভাল, তার শূন্যস্থান নিশ্চয়ই পূরণ করবে অন্য আর একজন কেউ।

এই যে বাইক আরোহী দামোদরের গুলিতে প্রাণ হারাল, তার জায়গায় নিশ্চয়ই অন্য আর একজন, দু'জন বা দশজন আসবে দামোদরের গুলি খেতে।

টিং-টিং করে ঘণ্টি বাজাতে-বাজাতে দামোদর লক্ষ করল রোদের তেজটা এবার বাড়ছে। খুব আন্দাজ সকাল আটটা হবে, কিন্তু গুমট ভাবটা দেখে মনে হয় দুপুর একটা। গতকাল রাতে বৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও এত গরম কীভাবে থাকে আজ, বুঝতে পারল না দামোদর।

সামনে তাকিয়ে ও দেখল, ছোটো ছোটো পুকুর, কোথাও পায়ে হাঁটা সরু পথের দু'ধারে বাঁশের ঝাড়, কোথাও আবার ঝুরি নামিয়ে গ্রামের সমস্ত ইতিহাসের সাক্ষী নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন বটগাছ। ঘন ছায়াতে আমের বাগান। মুক্ত বাতাসে মনের আনন্দে পাখিদের ডাক। কোকিল ডাকে পঞ্চমে। চাতকের কাতর ধ্বনি,ঘুঘুর ক্লান্ত স্বর শুনে চমকে-চমকে উঠছিল দামোদর।

ও দেখল, দূরে একটা বড়ো অশ্বত্থগাছ। সকালবেলা এখান থেকে একটামাত্র বাস ছাড়ে, যেটা গোপীবল্লভপুর হয়ে কলকাতা যায়। সন্ধ্যার সময় সেই বাসটাই কলকাতা থেকে এখানে আসে। বেশিরভাগ লোকই বাসের ছাদে বসে যায়।

দামোদর দেখল, একজন আদিবাসী বৃদ্ধ খাটিয়ার উপরে বসে হুক্কা খাচ্ছে। কয়েকজন শিশু তাকে ঘিরে খেলা করছে। টিং-টিং করে ঘণ্টি বাজাতে বাজাতে সেদিকে গেল দামোদর। অশ্বত্থগাছটার তলায় একটা চক্কর মারল, তারপর সেই বৃদ্ধের কুশল সংবাদ জেনে ফুলাকেন্দু যাওয়ার রাস্তাটা ধরল ও।

দামোদর জানে, পৃথিবীর বহু পরাক্রান্ত জাতি কিংবা সভ্যতা, উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করেও শুধুমাত্র দৈহিক শক্তিকে অবহেলা করার দরুণ পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। আবার দামোদর এটাও জানে যে, গায়ের জোরে সব হওয়া গেলেও গুরু হওয়া যায় না। তাই শুধু গায়ের জোরে নয়, মস্তিষ্ক ও মানসিকতায় সবল থাকতে চায় দামোদর।

দূর থেকে দামোদর দেখতে পেল, নদী পেরিয়ে আদিবাসীদের কয়েকটি গ্রাম। খয়ের, ইউক্যালিপটাস, শাল, শিমুলের ছায়া মাখা নিরুপদ্রব, নির্জন এই জায়গাটার নামই ফুলাকেন্দু। ডুলুং নদীর উপর একটা ভাঙাচোরা কংক্রিটের সেতু, খানিকটা অংশ বন্যায় জলের তোড়ে কোমর ভেঙে পড়ে রয়েছে নদীর কোলে।

দামোদর আরও খানিকটা এগিয়ে গিয়ে দেখল একটা বিশাল তেতুলগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছটার নিচেতে গিয়ে ওর সাইকেলের চেনটা আবারও পড়ে গেল। সাইকেল থেকে সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে নেমে পড়ল ও। কিন্তু অদ্ভুতভাবে চেনটা সারানোর কোনও চেষ্টা করল না। সাইকেলটা একহাতে ধরে পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ও ধীরে ধীরে মাটির বাড়িগুলোর কাছে গেল।

ও জানত ওর জিনিস কেউই কিনতে আসবে না, তবুও চিৎকার করল ও, ''কুরকুট নিয়েন, কুরকুট!''

কাউকে বাড়ি থেকে বেরোতে না দেখলেও একটা বাড়ির পাঁচিলে লাল কালিতে লেখা একটা পোস্টার দেখে ওর চোখটা থমকে গেল, ''বীতরাগ চক্রবর্তী হুঁশিয়ার!''

নিজের মনেই খিলখিল করে একবার হাসল দামোদর। পরমুহূর্তেই ও চরম গম্ভীর হয়ে গেল। গতকাল সাঁকরাইল থানার জঘন্য ঘটনাটা ওকে তাড়িয়ে নিয়ে ফিরছে। রাজ্যের স্বরাস্ট্র সচিব নিজে কাল রাতে ফোন করেছেন ওকে। কাল ভাল ঘুম হয়নি বীতরাগের। অপহৃত ওসি যতীন দত্তের চিন্তা, দুজন পুলিশকর্মীর মৃত্যু সবকিছু ওকে চিন্তার মাঝসমুদ্রে ফেলে দিয়েছে।

তবে এসব পোস্টারে ও ভয় পায় না মোটেই। হায়দ্রাবাদের পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ফায়ারিংয়ে দশের মধ্যে থাকত ও। আজ সকালেও একটা মাওবাদীকে নিকেশ করা গিয়েছে। লাথি মেরে সাইকেল ফেলে দেওয়ার অপরাধে নয়, একঝলক দেখেই মুখটা মনে পড়েছিল বীতরাগের। মুথুকুমারনের অন্যতম শাকরেদ জগদীশ কিস্কু। তিনটে গুলিই সম্ভবত হাইপোথ্যালামাসে গিয়ে ধাক্কা মেরেছে।

একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলল দামোদর। ভিতরের বীতরাগটাকে খুব কষ্ট করে আজ সকালে বর্জন করে এসেছে ও। কারণ, গোটা রাজ্যের অসংখ্য দুঁদে অফিসার আর আমলারা ওর পদক্ষেপের অপেক্ষায় বসে আছেন।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%