কমলেশ কুমার
এ এস পি বীতরাগ চক্রবর্তীর হয়েছে উভয়সঙ্কট। দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে, আর রাজ্যের রাইটার্স বিল্ডিং থেকে ফোন আসছে ঘনঘন। তদন্তের গতি কতদূর এগোল, তার বিস্তারিত রিপোর্ট যত শীঘ্র সম্ভব পেশ করতে বলা হচ্ছে। আবার অন্যদিকে যতীন দত্তকে সুস্থভাবে উদ্ধার করতে মাওবাদীদের সঙ্গে সমঝোতা করার দিকেই এগোতে হচ্ছে তাকে। আজ জগদীশ কিস্কুকে নিঃশব্দে হত্যা করে আসার পর পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। দেশের সবকটি নিউজ চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে এখানকার পরিস্থিতি। মাওবাদীরা হুমকি দিচ্ছে প্রতি আধঘণ্টা অন্তর। কালকের পর থেকে মুথুকুমারনকে যদিও একবারই দেখা গিয়েছে সংবাদিকদের সামনে, কিন্তু সহদেব, বিনয়, সুকুমার নিয়মিত বাইট দিচ্ছে সাংবাদিকদের।
সহদেব তো পরিষ্কার বলল, ''আমাদের সহযোদ্ধা দুলাল হেমব্রমকে ছেড়ে দিন আজকেই। বীতরাগ চক্রবর্তী সরকারের হয়ে দালালি করা বন্ধ করুন, যতীন দত্তকে আমরা আজকেই মুক্ত করে দেব।''
বীতরাগ নিজের খাকি উর্দিটার ওপর দারুণভাবে আস্থাশীল। এই উর্দিটার মানে পুলিশের সঙ্কল্প, নিজের প্রাণের বিনিময়েও পেশার প্রতি মর্যাদা ব্যক্ত করে এই খাকি উর্দি। তাই কোনও অ্যান্টি সোশ্যাল গ্রুপ ওকে সরকারের দালালি করছে বললেও ওর কিচ্ছু এসে যায় না। খুব কম লোকই আছে, যারা তাদের নিজেদের ভুলগুলো ধরার সাহস রাখে এবং সেগুলোকে সংশোধন করার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করে যায়। বীতরাগ চক্রবর্তী সেই শ্রেণির মানুষ, যার নিজের প্রতিভাই নির্ধারণ করে দেয় সে কী করতে পারে। তার অনুপ্রেরণা নির্ধারণ করে তার ইচ্ছাশক্তিকে, আর তার মনোভাব নির্ধারণ করে দেয় তার সফলতাকে।
ভ্যাপসা গরমে মারাত্মক অস্বস্তি হচ্ছে বীতরাগের। টেবিলে রাখা ফোনটা বেজে উঠতেই সেটা ধরল ও, শুনল রাজ্যের ডি জি স্যারের গম্ভীর গলা, ''বীতরাগ মন দিয়ে কয়েকটা কথা শোনো। সিএমের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে আমি তোমাকে কয়েকটা ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছি। যেহেতু এই বিষয়টা পুরোটাই তুমি দেখছ, তাই তোমাকেই প্রথম ফোনটা করলাম। পরে তোমার এস পি সাহেবকে ফোন করে বলছি। কাল রাতে অবশ্য আমার কথা হয়েছে তোমার এসপি রঞ্জন ত্রিপাঠীর সঙ্গে। শোনো, দুলাল হেমব্রমকে তোমরা ছেড়ে দাও। ওরা যেখানে হ্যান্ডওভার করতে বলছে দুলালকে, সেখানেই করো।''
''কী বলছেন স্যার!'' ডিজির কথার মাঝখানেই হতাশা ঝরে পড়ল বীতরাগের গলায়।
ডিজি তাতে সামান্যতম কর্ণপাত না করেই বললেন, ''হ্যাঁ। ছেড়ে দাও। দুলালকে না ছাড়লে যতীন দত্তের বড় ধরনের বিপদ হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া তুমি আজ জগদীশ কিস্কুকে পিছন থেকে ফায়ার করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নানা কারণে রাজ্যের বিরোধীপক্ষ আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চলেছে। সেটা সিএম স্যার চাইছেন না। দ্বিতীয় কথা, তুমি নিজে কয়েকদিন একটু সাইলেন্ট হয়ে যাও। ওরা সেটাই চাইছে। আমার কথাটার ভুল ব্যখ্যা করো না প্লিজ, তোমাকে আমি বলছি না সবকিছু থেকে হাতগুটিয়ে বসে থাকো। তুমি গোপনে তোমার কাজ চালিয়ে যাও। শুধু একটু নীরব থাকো। ওদের সামনে বেশি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাছাড়া...'
''তাছাড়া?''
ফোনের ওপ্রান্তে একটু থামলেন ডিজি। কী একটু চিন্তা করে বললেন, ''গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। ওরা রিস্ক নিতে চাইছে না। ছত্তিশগড়ের হামলা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওরা আধাসামরিক বাহিনী পাঠাতে চাইছে জঙ্গলমহলে। সি আর পি এফের স্পেশাল টিম হয়তো দু'চারদিনের মধ্যেই রাজ্যে চলে আসবে।''
বীতরাগ খুব ভাল করেই জানে, সি আর পি এফের স্পেশাল টিম মানে কোবরা বাহিনীকে বোঝাতে চাইছেন স্যার।
কমান্ডো ব্যাটালিয়ন ফর রেজলিউট অ্যাকশন হল একমাত্র ভারতীয় বাহিনী, যাদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় শুধুমাত্র দেশের অভ্যন্তরে মাওবাদীদের গেরিলা যুদ্ধের মোকাবিলা করার জন্য। কোবরা কমান্ডোরা আসলে সি আর পি এফ-এর একটি অংশ।
''কী হল মিস্টার? কিছু বলছ না?'' ডি জি স্যারের কথায় চমক ভাঙল বীতরাগের।
সামান্য একটু হেসে ও বলল, ''ভালই তো স্যার! আমাদের অনেক দায়িত্ব কমে যাবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী অনেক বেশি অ্যাকটিভ আমাদের চেয়ে। রাজ্য থেকে মাওবাদী নির্মূল করতে এই বাহিনী এলে খারাপ কিছু তো দেখছি না!''
ডি জি স্যার উৎসাহিত হয়ে বললেন, ''ক্যামোফ্ল্যাজের সময় নিজেদের আড়াল করায়, জঙ্গলে যুদ্ধ পরিচালনায়, প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেওয়ায়, নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত করায় এবং ঘাপটি মেরে থেকে শত্রুদের উপর আঘাত হানার ক্ষেত্রে এই বাহিনী দারুণ দক্ষ। তুমি তো জানো বীতরাগ, তাদের স্নাইপার ইউনিটগুলোকে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে অন্যতম সেরা হিসাবে ধরা হয়।''
বীতরাগ ইতিবাচক জবাব দিতে ডি জি স্যার আবার বললেন, ''মাওবাদীরা রাজ্য থেকে একদিনে গুটিয়ে যেতে আসেনি। ওদের আন্দোলন চলবে। রাজ্য আর কেন্দ্র সম্মিলিতভাবে ওদের মোকাবিলাও করে যাবে। তারপর দেখা যাক কী হয়!'' সামান্য একটু হেসে ডি জি স্যার বললেন, ''বেশ। তাহলে রাখছি এখন। যতীন দত্তের জীবনের জন্য তোমরা দুলাল হেমব্রমকে রিলিজ করে দাও। আমার নির্দেশগুলো মনে রেখো বীতরাগ। থ্যাঙ্ক ইউ। হোপ ফর দ্য বেস্ট!''
ফোনের রিসিভারটা রেখে মাথাটা নিচু করে একটু বসে রইল ও।
বীতরাগ জানে, এই জঙ্গলমহলে অভাব হচ্ছে মরণব্যাধি, হতাশা তার প্রধান খাদ্য, আর মৃত্যু হচ্ছে ক্ষুধা কমানোর সেরা ওষুধ। যে বৃদ্ধের শেষ বয়সে ভিক্ষার থালা সম্বল, তার কাছে ক্ষুধা একটি আপশোসের নাম। সেই আপশোস, যা তাকে স্থির হয়ে বসে থাকতে দেয় না। সে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই জঙ্গলমহলের মাটিতে জন্মানোর জন্য নিজের ভাগ্যকে বিষোদগার করে যায়। তাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভটাও যেমন সত্যি, একইভাবে পাথর ছুড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া পুলিশের লাশটাও তো সত্যি। এই বধ্যভূমিতে দাঁড়িয়ে কখনও ভালবাসার চাষ সম্ভব! তির নিক্ষেপ করে অন্ধ করে দেওয়া কনস্টেবল কিসের আয়নায় বাস্তবতার ছবি দেখবে! ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে টুকরো-টুকরো করে দেওয়া কোনও শিক্ষকের জিভ অন্যের দোষত্রুটি খোঁজার নিরন্তর পাঠ দিতে সক্ষম হবে কি কখনও? হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া কোনও যুবকের হাতদুটো সাদা কাগজে কখনও সত্যের কালি বসাতে পারবে না। ঠিক যেমন বিপ্লবের গান লিখতে পারবে না বাহিনীর হাতে নিহত কোনও শহিদের পরিবার!
ভ্যাপসা গরমে ঘরে আর বসে থাকতে ইচ্ছে করল না বীতরাগের। ও ঘর থেকে বেরিরে এল। বিশাল অফিসের চৌহদ্দির মধ্যে ঝামড়ে পড়া আমগাছগুলোর উপর দিয়ে আকাশের দিকে চোখ রাখল ও। দুটো চিল উড়ে বেড়াচ্ছে অনেক দূরে। সাদা সাদা মেঘগুলো আলুথালু ঝুলে আছে আকাশের গায়ে।
বীতরাগের মনে পড়ে ট্রেনিংয়ের দিনগুলোর কথা। প্রতিটা বিভাগে সুদক্ষ ট্রেনার ছিল ওদের। তারা সবসময় সচেষ্ট থাকত ভাবী আইপিএসদের শারীরিক আর মানসিক অবস্থানকে তুঙ্গে রাখতে। বীতরাগ এতটাই ভাল গ্রহণ করতে পারত সবকিছু, ওকে প্রাথমিকভাবে মার্কোস বিভাগের জন্যও মনোনীত করা হয়। মার্কোস হল ভারতীয় মেরিন কমান্ডোদের এক বিশেষ বাহিনী। জলেস্থলে জঙ্গি হামলা রুখতে এই বিশেষ বাহিনী গড়ে তোলা হয়। এই বিশেষ বাহিনীর ট্রেনিং বিশ্বের অন্যতম সেরা কষ্টকর ট্রেনিং। ট্রেনিংয়ের সময়েই বাদ পড়ে যায় আটানব্বই শতাংশ কমান্ডো। মাত্র দু'শতাংশ কমান্ডো টিকে থাকতে পারে এই চাপ সহ্য করে। এই বাহিনীর মানসিক এবং শারীরিক শক্তি বাড়িয়ে তোলার জন্য বিশেষ ধরনের ট্রেনিংও দেওয়া হয়। এদের কমান্ডোরা ছদ্মবেশ নিয়ে পরিচিত এলাকাতেও ঘোরাফেরা করে। দেশকে নিশ্চিত নিরাপত্তা দিতে মার্কোস বাহিনীর নাম স্মরণীয়। সেই ট্রেনিং শেষ করে বাহিনীর সঙ্গে তিনবছর কাটিয়ে আসা বীতরাগের কাছে এসব তাই তুচ্ছ।
পথ যেদিকে নিয়ে যায় বীতরাগ সেদিকে চলতে পছন্দ করে না। যেদিকে কোনও পথ নেই ও সেদিকে হাঁটতে ভালবাসে, আর হাঁটতে হাঁটতেই ও নিজের চিহ্ন রেখে যায়। কিছু মানুষ স্বপ্নের জগতে বাস করে। কিছু মানুষ বাস্তবে বাস করে, আর বীতরাগের মতো কিছু মানুষ আছে, যারা স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করে। বীতরাগ জানে যে, অতিরিক্ত ব্যর্থতার ভয় থাকলে তার স্বপ্ন কখনওই পূর্ণ হয় না। ও যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছে এখানে, সেটা পূরণ হতে গেলে আরও একটু সময় লাগবে। জঙ্গলমহলের রক্তাক্ত মাটিতে শান্তি স্থাপন। মুথুকুমারনকে এনকাউন্টারে দলা পাকিয়ে দেওয়া, আর এই বারুদ উপত্যকার বুক থেকে মাওবাদী নামক বিশেষ প্রজাতিটার সম্পূর্ণ বিলোপসাধন।
মার্কোস বাহিনীতে থাকার সময়, ও দেখেছিল বিশ্বের সবথেকে আধুনিকতম অস্ত্রশস্ত্র। এই বাহিনীর কাছে থাকা ইজরায়েলের টেভর টার- ২১ নিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে ও, যার সঙ্গে গ্রেনেড লঞ্চার যুক্ত ছিল। চিনের সঙ্গে লাদাখ নিয়ে চাপা উত্তেজনা চলছিল তখন ভারতে। লালফৌজের আগ্রাসনের আবহে পূর্ব লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে স্থলপথ ও আকাশপথে সুরক্ষা বাড়িয়েছিল ভারতীয় সেনা। তখনই প্যাংগংয়ের সুরক্ষায় বিশেষ কমান্ডো মার্কোসকে পাঠানো।
হয়েছিল লাদাখে। সেখানেও সাফল্যের ছাপ রেখে এসেছিল বীতরাগ।
ও দেখল, আমগাছের তলায় বসে দু'জন কনস্টেবল নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করছে। অফিসের বোলেরো গাড়িটার পাশে একজন গ্রুপ ডি স্টাফ পাতা আর ঝোপঝাড়গুলো কেটে পরিষ্কার করছে। নিচু তলার কর্মী হওয়ার সুবিধা অনেক। নিজের মর্জি মতো, কিংবা ওপর মহলের চাহিদামতো একটু-আধটু নির্দেশ পালন করলেই চলে যায়। কিন্তু উচ্চপদস্থ অফিসার হওয়ার জ্বালা অনেক। তখন সমস্যার দায় তার একার। এমন একটা লক্ষ্য বা সমস্যা তৈরি হয়ে থাকে, যার জন্য সমাজ বা সরকারকে দায়ী করে বিশেষ লাভ হয় না, নিজেকেই তার সমাধান বের করতে হয়। কাজে ব্যর্থ হওয়াটাও অহরহ ঘটে। অবশ্য সে-ব্যর্থতায় লজ্জা থাকলেও ব্যর্থতা থেকে শিখতে হয়, কিংবা নতুন করে স্বপ্নপূরণের কাজ শুরু করতে হয়।
বীতরাগ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল, সূর্যের তাপে সমস্ত প্রকৃতি যেন নির্জীব হয়ে উঠেছে। সদ্য বর্ষা বিদায় নিয়ে শরৎ আসতে চলেছে, তাও অফিসের পাঁচিলের উপর বেড়ে ওঠা মাধবীলতার নধর পাতাগুলো খরতাপে নুয়ে পড়েছে। মাঝে মাঝে ঘূর্ণি হাওয়ায় ধুলো উড়ে যাচ্ছে, আমগাছ থেকে হলদে হয়ে আসা পাতাগুলো খসে পড়ছে টুপটাপ। দূর আকাশে পাখনা মেলে দুটো চিল যেন বৃষ্টিকে আহ্বান করছে আবার। কোনও আড়াল থেকে ঘুঘু পাখি ডেকে যাচ্ছে একটানা। প্রকৃতিও যেন পরিশ্রান্ত হয়ে নিঝুম মুহূর্তগুলো কোনওক্রমে কাটিয়ে দিতে চাইছে এই দুপুরে। একদল কাক কা-কা করতে করতে উড়ে গেল উঁচু কার্নিসের উপর দিয়ে।
বীতরাগ পায়চারি করতে করতেই শুনতে পেল ঘরের ফোনটাতে রিং হচ্ছে। গোটা দেশ থেকে ওদের অফিসে ফোন আসবে এখন, খুব ভাল করেই জানে বীতরাগ। একজন কনস্টেবলকে ফোনটা রিসিভ করার নির্দেশ দিয়ে ও নিজের মনেই একটু হাঁটাহাঁটি করছিল, আর ভাবছিল বিভিন্ন জটিল অঙ্কের কথা।
কনস্টেবলটি বেরিয়ে এসে বলল, ''স্যার, গোপীবল্লভপুরের এমএলএ সুজয় সরেনের ফোন। আপনাকে চাইছে।''
অনিচ্ছা সত্বেও ফোনটা গিয়ে ধরল বীতরাগ। ও জানে, এদের সঙ্গে কথা বলা মানে শুধু সময়ের অপচয়। তবুও এমএলএ বলে কথা!
ফোনটা ধরতেই সুজয় সরেন ফিসফিস করে বলল, ''নুড়িশোলের আদিবাসী পাড়ার মারাংবুরু ক্লাবের পিছনে জঙ্গলের মধ্যে একটা ঘর আছে। ওখানেই ওসি যতীন দত্তকে আটকে রাখা হয়েছে। আপনি বাহিনী নিয়ে দ্রুত চলে আসতে পারেন।''
কথাটা বলেই ফোনটা কেটে দিল সুজয় সরেন। মনে মনে একটু হাসল বীতরাগ। আটানব্বই শতাংশ কমান্ডো বাদ পড়ার পর, যে দুই শতাংশ কমান্ডো মার্কোস বাহিনীতে ছিল, বীতরাগ তাদের অন্যতম। পাঁচ সপ্তাহের বিশেষ ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল ওদের তখন। সেই ট্রেনিংয়ের নাম ছিল 'হেল-উইক'। এই বিশেষ ট্রেনিংয়ে ঘুমোতে পর্যন্ত দেওয়া হত না ওদের। মানসিক এবং শারীরিক দিক থেকে মারাত্মক চাপে রাখা হত। জীবনকে সত্যিই নরক বানিয়ে তোলা হত সেসময়। সেই মার্কোস বাহিনীতে তিনবছর কাটিয়ে আসা একজন কমান্ডোর যদি এটুকু তথ্য নিজের কাছে না থাকে, তাহলে অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার না হয়ে সংকীর্তনের দল খোলাই তো ভাল ছিল! আজকে সকালে কী আর ছদ্মবেশে এমনি এমনি কুরকুট বিক্রি করতে গিয়েছিল ও!
কিন্তু সব জায়গায় এনকাউন্টার চলে না। এস পি স্যার, এমনকি ডি জি স্যারও চাইছেন না সেটা। সরকার নিজে না চাইলে, তার অধীনস্থ কর্মচারীরা কীই বা করতে পারে! তবে, ডি জি স্যারের পরামর্শটা মেনে নেওয়াই এখন সমীচীন বলে মনে হচ্ছে বীতরাগের।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন