চতুর্বিংশ অধ্যায়

কমলেশ কুমার

এমন ঝিমধরা দুপুর আগে দেখেনি বোহাগ গুপ্তা। শিলদা ই এফ আর ক্যাম্পে মূলত সাপোর্ট ও সাপ্লাইয়ের দায়িত্বে আছে ও। বোহাগ পুরুলিয়ার ছেলে। কমব্যাট বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র, খাবার, প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়াই ওর কাজ। তাছাড়া বাহিনী স্থানান্তর, নতুন ঘাঁটি তৈরি, পুলিশের অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো ওকে করতে হয়। ওদের ইউনিটে আরও চার-পাঁচজন রয়েছে একই পোস্টে।

আজ দুপুরে খাওয়া-দাওয়া সেরে সকলেই শরীর এলিয়ে শুয়ে আছে। কেউ কেউ রীতিমতো নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে।

বোহাগ একটা ওয়াকম্যান কিনেছে কিছুদিন আগে। সময় পেলেই ওটাতে গান শোনে ও। কিশোর কুমার ওর প্রিয় গায়ক। 'তোমরা যতই আঘাত করো', 'তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে', 'এই তো জীবন', 'সে যেন আমার পাশে' গানগুলোর প্রতিটা শব্দ ওর মুখস্থ। 'এই তো জীবন' গানটা গাওয়ার সময় উত্তম কুমারের স্টাইলটা ও খানিকটা নকল করে। হাতে এক গ্লাস শ্যাম্পেন নিয়ে টলমল পায়ে হাঁটতে থাকে। মনে একটা জোশ আসে।

এই ক্যাম্পের অন্যান্য জওয়ানরাও বোহাগকে বেশ পছন্দ করে। যদিও বোহাগ সকলেরই মন জুগিয়ে চলতে ভালবাসে। রাতে হাত-পা টিপে দেওয়া, মাথায় ম্যাসাজ করা, কেউ অনুরোধ করলে মদ কিনে এনে দেওয়া সবধরনের কাজেই ও চোস্ত।

মাঝেমধ্যে সালুয়ায় ওদের হেডকোয়ার্টারেও যেতে হয় ওকে। বেশিরভাগ সময়ই ই এফ আর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ চলে রাজ্য পুলিশের নবনিযুক্ত কনস্টেবলদের। প্রশিক্ষণে কঠোর পরিশ্রম করানো হয়। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বোহাগ তাদেরও সেবা-শুশ্রূষা করে। কেউ গান শুনতে চাইলে ও কিশোর কুমারের গান শোনায়। শিলদা কিংবা সালুয়া সবজায়গাতেই বোহাগদা বলতে সকলে অজ্ঞান।

ও তাকিয়ে দেখল, ক্যাম্পের আমগাছগুলোর নীচে ক্ল্যাম্পখাট পেতে সারি সারি শুয়ে আছে বাহিনীর ছেলেরা। দুপুরবেলায় এমনভাবে ঘুমোতে সচরাচর দেখা যায় না ওদের। শিলদা ক্যাম্পে মোট একান্নজন রয়েছে। লালগড়, বিনপুরে সম্প্রতি মাওবাদী কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ওদের একটু সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যদিও এই ক্যাম্পের সদস্যরা মনে করে সেটার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। ওদের বাইরে যাতায়াত করতে হয় না সেভাবে। জঙ্গলে ঢুকতে হয় না বলে মাইন থেকেও ভয়ের কোনও আশঙ্কা নেই। এমনিতে হেসেখেলে, খেয়েদেয়ে বেশ দিন কেটে যায় ওদের। কানাইদা আর লক্ষ্মীদি দু'বেলার রান্না করে দিয়ে যায়। ওরাই বাজারহাট করে আনে। বোহাগকে তাই এসব বিষয়ে আর দায়িত্ব নিতে হয় না, মোহিনী নামে একটা মেয়ে ওদের ক্যাম্পে প্রতিদিন বড় বালতি নিয়ে দুধ দিতে আসে সকালে। মোহিনীকে নিয়ে খুব ঢলাঢলি করে কয়েকজন। কেউ-কেউ একটু-আধটু চোখের ইশারাও করে। মোহিনী যে সেসব বেশ উপভোগ করে, তা খুব ভাল করেই বুঝতে পারে বোহাগ। তাতে অবশ্য বোহাগের কিছু যায় আসে না। ওর গ্রামে অপেক্ষা করে আছে মৃদুলা। ওকেই বিয়ে করবে বোহাগ। কিছুদিন আগে মৃদুলাকে একটা বারোশো টাকা দিয়ে ভাল মোবাইল কিনে দিয়েছে ও। টেক্সট মেসেজ করতে শিখিয়ে দিয়েছে ওকে। বোহাগ ব্যস্ত থাকলেও মৃদুলার মেসেজগুলো টিংটিং করে মোবাইলে ঢোকে। কোনওটায় আদর। কোনওটাই খেয়ে নিতে অনুরোধ। কোনওটাই ঠিকঠাক ঘুমোতে নির্দেশ, কোনওটাই নিজের শরীরের কিছু গোপন কথা। বোহাগ বেশ উপভোগ করে। এই ক্যাম্পের কয়েকজন বলছিল, এখন নাকি আরও আধুনিক মোবাইল বেরিয়েছে। ভাল ছবি উঠছে সেখানে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে গুগল সার্চ পর্যন্ত করা যাচ্ছে। বোহাগের ইচ্ছে আছে আরও কিছুদিন পরে মৃদুলাকে ওরকম একটা মোবাইল কিনে দেওয়ার।

বোহাগ তাকিয়ে দেখল, ক্যাম্পের বিল্ডিংগুলোর উপরে পেঁজা তুলোর মতো মেঘেরা ভেসে বেড়াচ্ছে। আর কিছুদিন পরেই দুর্গাপুজো। পুজোয় দু'দিনের জন্য বাড়ি যাবে বোহাগ। একদিন মৃদুলাকে নিয়ে ঘুরতে বেরোবে। ওকে কথা দেওয়া আছে অনেকদিন আগে থেকে।

একটা কাঠবিড়ালি পাঁচিলের ওপর দিয়ে চেঁ-চেঁ করে দৌড়তে দৌড়তে অদৃশ্য হয়ে গেল। পাঁচিলের উপরে তিনটে শালিক বসেছিল এতক্ষণ। কাঠবিড়ালির সামনে পড়ে ওরা ডানা ঝাপটে উড়ে গিয়ে বসল অফিস-বিল্ডিংয়ের মাথায়। অফিসের মাথায় একটা তেঢ্যাঙা অ্যান্টেনা লাগানো আছে। চারচৌকো। ওটা দিয়ে কম্পিউটারে নেটকানেকশন হয়। ওই অ্যান্টেনাটার দিকে তাকালেই বোহাগের ছোটবেলার কথাটা মনে পড়ে যায়। ওদের গ্রামের বাড়িতেও এরকমই একটা বাঁশের অ্যান্টেনা ছিল। সাদাকালো টিভিটা ঝিরঝির করে উঠলে অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ছবি ঠিক করতে হত।

বোহাগ দেখল, ছেলেগুলোর ঘুমের যেন আর শেষ নেই। কুম্ভকর্ণের মতো সব উল্টে পড়ে রয়েছে।

''কী গো বোহাগদা! সকলে শুয়ে আছে, তুমি শোওনি! নাকি প্রেমিকার কথা ভেবে ঘুম আসছে না!'' চেনা গলার আওয়াজ পেয়ে বোহাগ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল মোহিনী দাঁড়িয়ে মিটিমিটি হাসছে। মেয়েটার মধ্যে একটা আকর্ষণী ক্ষমতা আছে। ফর্সার দিকে গায়ের রং। কাটা কাটা চোখ-মুখ। এমনি এমনি কী আর ক্যাম্পের ছেলেরা ওকে দেখে লালা ঝরায়!

''সালুয়া থেকে এলাম একটু আগে। এসে দেখি সকলেই ঘুমোচ্ছে। আমি আর কী করি! একটু কিশোর কুমারের গান শুনছি।''

''আমাকে শোনাবে না একটা গান!'' চোখ টিপে বলল মোহিনী।

''ধুস! কী যে বলো!'' সামান্য লজ্জিত হয়ে বোহাগ বলল, ''তা তুমি এইসময়! সকালে কি দুধ দিয়ে যাওনি আজ!''

ওর কথা শুনে মোহিনী ফিক করে হেসে ফেলল, তারপর চোখ টিপে বলল, ''দুধ দেওয়ার কি আর সময়-অসময় আছে গো! বাচ্চারা চাইলেই দিতে আসতে হয়!''

মোহিনীর কথা শুনে বোহাগের লজ্জায় মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করল।

''দুপুরের খাবার খেয়েছ?''

মোহিনীর কথার প্রত্যুত্তরে বোহাগ বলল, ''সালুয়া থেকেই খেয়ে ফিরেছি।''

মোহিনী কিছু বলল না। চারিদিক দেখতে দেখতে ঘরে ঢুকে গেল। এঘর-ওঘর করে বেশ কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে এসে বলল, ''মদ্দা জোয়ানরা এত ঘুমোলে ভাল দেখায় না বাপু। কেমন পিছন কাত করে সবাই ঘুমোচ্ছে দেখো! বেশ, আমি আসি বোহাগদা। কাল সকালে আবার আসব।''

বোহাগ কোনও উত্তর করল না। 'তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মরণযাত্রা যেদিন যাবে' গানটা ফুল ভল্যুমে চালিয়ে দিয়ে উদাস হয়ে গেল ও।

পূর্বপরিকল্পনা মতো শিলদা ক্যাম্পের একেবারে দেওয়াল ঘেঁষে প্রায় সত্তরটা মোটরসাইকেল একসঙ্গে এসে থেমে গেল। একশো দশজন বাছাই করা সদস্য লাফিয়ে নামল বাইক থেকে। কতজন ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকবে, কতজন বাইরে অপেক্ষা করবে, কে কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবে তার সব ছক কষে দিয়েছে সূর্যদা। পুরো অপারেশনটা কতক্ষণে শেষ করে বেরিয়ে আসতে হবে, সেটাও বারবার করে বলে দিয়েছে ও।

কমলিনী হাতঘড়িতে দেখল বিকেল সাড়ে চারটে।

সাঁকরাইল থানা আক্রমণের অভিজ্ঞতা ওর ঝুলিতে রয়েছে। ধানি কিস্কু ওকে গড়ে তোলার যে-দায়িত্ব নিয়েছিল, এই কয়েক মাসে অঘোর তার পরিপূর্ণতা দিয়েছে। এখন কমলিনী নিজেই জঙ্গলমহলের মাটিতে গড়ে তুলেছে বেশ কয়েকটা প্রমীলা স্কোয়াড। লালগড়-সহ জঙ্গলমহলের বহু তল্লাটে কমলিনী গিয়ে সংগঠনের কাজ করছে, বহু মহিলা স্কোয়াড-সদস্যকে অস্ত্রশিক্ষা দিচ্ছে। ওর কাজের প্রতি নিষ্ঠা দেখে সূর্যদা আজকের অপারেশনের পুরো দায়িত্বটা কমলিনীর হাতে দিয়েছে।

কমলিনী জানে অঘোর ওর প্রধান চালিকাশক্তি। একটা সুন্দর মন অন্ধকারে আলোর মতো, যার মাধ্যমে অনেক কলুষতার মধ্যেও নিজের অস্তিত্বকে মর্যাদাসম্পন্ন রাখা যায়। অঘোর হল সেই মনের অধিকারী। কমলিনী জানে, মনের অনেক দরজা আছে, সেখান দিয়ে অসংখ্যজন প্রবেশ করে, আবার বের হয়েও যায়। তাই সবাইকে মনে রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু অঘোরের মতো রত্ন ওর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

শুধু একটা গোপন কথা ওকে বলে উঠতে পারেনি এখনও কমলিনী। কিছুটা লজ্জা আর কিছুটা ভয় কাজ করছে ওকে কথাটা বলতে। তবে বলতে হবেই। আজকের অপারেশনের পর ওরা একত্রিত হবে একদিন। সেদিনই সুখবরটা দেবে ওকে।

একশো দশজন সশস্ত্র সদস্য নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে ইএফআর ক্যাম্পের চৌহদ্দির বাইরে।

মোহিনী ধীর পায়ে দরজার বাইরে বেরিয়ে এল। কমলিনী ওর কাছে যেতেই ফিসফিস করে মোহিনী বলল, ''কানাইদা ভালই ঘুমের ওষুধ মিশিয়েছে। সকলেই তো প্রায় উল্টে পড়ে আছে! দু'চারজন জেগে থাকলেও, হামলা নিয়ে কোনও আগাম খবর নেই ওদের কাছে। তোমাদের কাজ অনেক হালকা হয়ে গেল।'' কথাটা বলে শরীরে হিল্লোল তুলে চলে গেল মোহিনী।

কমলিনী হাতের ইশারায় পজিশন নিয়ে নিতে বলল সকলকে। সত্তরজন অস্ত্রধারী স্কোয়াড সদস্য পা টিপে টিপে দরজা টপকে ঢুকে পড়ল ভিতরে। প্রথম ফায়ারটা শুরু করল কমলিনী। তারপর একসঙ্গে সত্তরজনের বন্দুক গর্জন করে উঠল।

ক্ল্যাম্পখাট পেতে শুয়ে থাকা বাহিনীর সদস্যদের ঝাঁঝরা করে দিল ওরা।

বোহাগ গুপ্তা গান শুনতে ব্যস্ত থাকলেও পরিস্থিতি বুঝে নিতে একমুহূর্ত সময় লাগল না ওর। জিমনাস্টিকের কায়দায় সাতবার পাক খেয়ে নিজেকে নিয়ে গিয়ে ফেলল অফিসরুমের ভিতরে। ওখানে বিপদঘণ্টির সুইচটা রয়েছে। বাঁহাত দিয়ে ওটা টিপতে-টিপতে ডান হাতে তুলে নিল একটা একে-৪৭, ও দেখল ঘরের ভিতরে থাকা কনস্টেবলগুলো চোখ কচলে উঠে পড়েছে সকলে। চিৎকার করতে করতে বোহাগ ওদের আসন্ন বিপদের কথাটা সংক্ষেপে বুঝিয়ে দিল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ওরা সকলে এসএলআর তুলে নিল হাতে। জানলা দিয়ে নল বের করে পাগলের মতো ফায়ার করতে লাগল। ঝলকে ঝলকে বেরিয়ে আসছিল আগুনের ফুলকি। একটা লোক হাতে গ্রেনেড-লঞ্চার নিয়ে এগিয়ে আসছিল। অফিসরুমের ভিতর থেকে ছোড়া গুলি সোজা গিয়ে পড়ল গ্রেনেড-লঞ্চারের উপর। আহত হয়ে যাওয়া লোকটা সম্ভবত হাতে চাপ দিয়ে ফেলল একটু, বোহাগ দেখল, কম্পাউন্ডের মধ্যে মারাত্মক একটা বিস্ফোরণ হল। লাল আগুনের গোলা আমাগাছগুলো ছাড়িয়ে উঠে গেল বহু দূরে। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল গোটা আকাশ। দরজা-জানলাগুলো কেঁপে উঠল ঠকঠক করে।

মুখে গামছাবাঁধা দু'জন লোক ঘরে ঢুকে আসতে চাইছিল। বোহাগ সামান্যতম অপেক্ষা না করেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিল ওদের।

বাইরের একজন কনস্টেবলও যে আর বেঁচে নেই, সেব্যাপারে বোহাগ নিশ্চিত, তবুও একবার ভিতরের দরজা থেকে উঁকি মারল ও, আর ঠিক তখনই একটা হ্যান্ড-গ্রেনেড কোথা থেকে উড়ে এসে পড়ল ঘরের ভিতর। দাউদাউ করে আগুন জ্বলে গেল ঘরে। টেবিলের ওপরে রাখা কাগজের স্তূপ, কম্পিটার, অসংখ্য ফাইল দাউদাউ করে জ্বলতে লাগল। দ্বিতীয় গ্রেনেডটা আগুনের গোলার মতো এসে পড়ল বোহাগের ডান পায়ের উপর। প্রবল বিস্ফোরণে বোহাগের পা'টা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে রইল মাটিতে। ঘরের অন্যান্য সদস্যদের কারোর হাত উড়ে গেল। কারোর মাথার খুলি। যন্ত্রণাক্লীষ্ট বোহাগ দেখল, তিনজন লোক নির্মমভাবে গ্রেনেড লঞ্চার থেকে মুহূর্মুহূ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছে। ক্যাম্পের একটা পাঁচিল ধ্বসে গেল পুরোপুরি। গোটা চৌহদ্দিটা আগুন আর ধোঁয়ায় ভর্তি হয়ে গেল। ক্ল্যাম্পখাটগুলো বাহিনীর সদস্যদের মৃতদেহ নিয়ে চিতার আগুনের মতোই পুড়ে যেতে লাগল।

গোটা ক্যাম্পে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অস্ত্রগুলো বস্তায় ভরতে লাগল লোকগুলো।

অসংখ্য এসএলআর, একে-৪৭, ইনস্যাস, নাইন এমএম পিস্তল, কার্বাইন ভর্তি করে যখন মূল ফটকের বাইরে এসে দাঁড়াল ওরা, কমলিনীর হাতঘড়িতে চারটে চল্লিশ। মাত্র দশমিনিটে খেলা শেষ হয়ে যাওয়াতে সদস্যদের অভিবাদন জানাল ও। সূর্যদা সর্বাধিক পনেরো মিনিট সময় দিয়েছিল।

আর একমুহূর্ত অপেক্ষা করল না কেউ। সবকটা বাইক একসঙ্গে গর্জে উঠল। হাওয়া-কেটে ভেসে যেতে লাগল সামনের দিকে। একশো দশজন পুরুষ-মহিলা স্কোয়াড সদস্য আকাশের দিকে দু'হাত তুলে চিৎকার করে বলে উঠল, ''মাওবাদ জিন্দাবাদ!''

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%