দেবযানী বসু কুমার

বলতে গেলে ঘটনাটা বছর তিরিশেক আগের। ফেলে আসা শতকের শেষ ভাগে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে সেটাই অবিশ্বাস্য। আর শুনলে বেশির ভাগ লোক হেসেই উড়িয়ে দেবে। ভৌতিক বলব না কিন্তু কিছুটা হলেও অশরীরী আত্মার উপস্থিতি সেদিন টের পাওয়া গিয়েছিল।
বিলাস বহুল ফোর্ড গাড়িটা অনেকদিন গাড়ি সারাই গ্যারেজে পড়েছিল মেরামতের জন্য। কারখানার মালিকের ফোন পেয়ে চ্যাটার্জীবাবু ছুটলেন গাড়িটা আনতে। গাড়িটা ওনার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। গাড়িটা অনেক পুরোনো হয়েছে তাই রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেশ বেশি। কিন্তু বাবার খুব প্রিয় ছিল বলে গাড়িটা উনি খুব যত্নে রাখেন আর বাবার স্মৃতি বলে বেচার কথাও কোনওদিন ভাবেননি। দূরপাল্লায় গেলে উনি এই গাড়িটাই সঙ্গে নেন।
বাড়ি ফিরেই স্ত্রীকে বললেন গোছগাছ করে নিতে কারণ সপরিবারে দিন চারেক ঘুরতে যাবেন বাইরে কোথাও। অনেকদিন পুরী যাওয়া হয়নি তাই মন চাইছে জগন্নাথ দর্শনের।
পরদিন বেরোতেই প্রায় দশটা বেজে গেল। ছেলের বয়স পাঁচ আর মেয়ের আট। তাদের তৈরি করতেই এত বেলা। সারাদিনের মতো খাবারের বন্দোবস্ত করা। ট্রাফিকের জন্য কলকাতা ছাড়তেই প্রায় সাড়ে এগারোটা। উলুবেড়িয়াতে মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে আবার চলা শুরু। ভুবনেশ্বর পৌঁছতে প্রায় রাত ন’টা।
সেদিন আর পুরী যাবার চেষ্টা না করে ওখানেই থেকে যাবার কথা ভাবেন চ্যাটার্জীবাবু। কারণ নিজের শরীর আর দিচ্ছে না তার ওপর ছেলে মেয়ে দুটো ঘুমিয়ে কাদা। কিন্তু যে হোটেলেই খোঁজ করেন শুনতে হয় ঘর নেই। তখনি খেয়াল হয় তারিখটা জানুয়ারি মাসের বাইশ। আগামী চারদিন সব ছুটির মেজাজে ঘুরতে বেরিয়ে পড়েছে। তাই কোনও হোটেলেই ঘর পাওয়া একরকম অসম্ভব। শেষে রাজমহল চকে একজনের কাছে সন্ধান পায় লুইস রোডের ওপর রাজরানি মন্দির ও কেদার গৌরী মন্দিরের মাঝামাঝি জায়গায় একটা গেস্ট হাউস আছে। ওখানে ঘর পাওয়া গেলেও যেতে পারে। ওদিকে বড় একটা কেউ যায় না। খুব সাধারণ একটা ঘর মেলে সেখানে।
যদিও ম্যানেজার ঘরটা খুলে দিতে গররাজি কারণ নাকি পরের দিন সকাল এগারোটা থেকে ওটার বুকিং আছে। সকালেই ছেড়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়াতে গেস্ট হাউসের কর্মচারী ঘরটার তালা খুলে দেয়।
ঘরটা একতলায় এবং বেশ চাপা হলে কী হবে, গেস্ট হাউসটা একদম ছিমছাম সাজানো গোছানো পুরোনো আসবাব দিয়ে। সেকেলে বড় বড় ঘড়ি কিন্তু চলে না। কাঠের খিলেন, পাথরের জাফরি সব ঝকঝকে পরিষ্কার। সামনে বিরাট বাগান। বাইরের বিশাল লোহার গেট থেকে মোরাম বিছানো পথ একদম গাড়ি বারান্দার নিচে অবধি চলে এসেছে। গাড়ি পুরোটা ঢুকে যায়।
বাগানের মাঝখানে দুধ সাদা পরী-ফোয়ারা। যদিও সে ফোয়ারা এখন চলে না কিন্তু পরী একদম চকচক করছে। সেদিন ছিল পূর্ণিমা তিথি। শীতের নির্মেঘ কালো আকাশে চাঁদটা মনে হচ্ছিল রুপোর থালা। চারপাশ ধুয়ে যাচ্ছে জ্যোৎস্নায়। সাদা পাথরের ওপর চাঁদের আলো পড়ে পরীকে লাগছে মোহময়ী। মনে হয়েছে সত্যিকারের পরী আকাশ থেকে নেমে এসে একটুক্ষণ জিরোচ্ছে। কূপকূপে অন্ধকার বাগানে পরীর পাখায় চাঁদের রুপালি আলো পড়ে মনে হচ্ছে এতটা পথ উড়ে এসে পরীর হাঁপ ধরেছে তাই পাখা দুটো তির তির করে কাঁপছে, আবার এখুনি উড়ে বেরিয়ে যাবে।
ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপ হতে চ্যাটার্জীবাবু জানতে পারেন এটা একসময় ঢেঙ্কানলের কোনও এক স্থানীয় রাজাদের অবসর আবাস ছিল। মাঝে মধ্যেই এখানে সপরিবারে বা সপার্ষদ ছুটি কাটাতে আসতেন। তারপর সরকার রাজাদের ক্ষমতা, রাজত্ব কেড়ে নিলে, ওই বংশেরই কেউ রুজিরোজগারের জন্য এটা গেস্ট হাউস বানিয়েছে।
সে রাতে ঠিক হল ছেলে মেয়ে নিয়ে গিন্নি শোবেন বড় খাটে আর চ্যাটার্জীবাবু একক সরু খাটটাতে, কারণ ঘরটাতে সেরকমই ব্যবস্থা। বড় খাটে ছেলে ধারে, মধ্যে চ্যাটার্জী গিন্নি আর দেওয়াল ঘেঁষে মেয়ে। ওর নাকি ধারে শুতে ভয় করে। শীত কাল তাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। ভুবনেশ্বরে বিশেষ ঠান্ডা পড়ে না। ঘরটা একটু চাপা আর কেমন যেন গুমসুনি গন্ধ। তাই নিজেরাই জানলা দুটো খুলে দেন রুম বয়ের বারণ করা সত্ত্বেও।
সারা রাত কারও ভালো ঘুম হয় না একমাত্র মেয়ের ছাড়া। সবাই তো ঘুম থেকে উঠে তাজ্জব কারণ ছেলে বাবার সঙ্গে ওই সরু খাটে গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। কখন মায়ের পাশ থেকে উঠে বাবার কাছে চলে গেছে কেউ জানে না। সকালে উঠেই ছেলের নালিশ—সারা রাত আমাকে এত আদর করছিলে কেন? ঘুমোতে পারছিলাম না?
একটু চুপ করে থেকে চ্যাটার্জী গিন্নি ছেলেকে বুকে চেপে ধরে বলেন কাল সারারাত একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছি কিন্তু মনে হচ্ছে যেন সত্যি। আধ ঘুমে দেখলাম একজন অল্পবয়স্কা সধবা মহিলা কাল রাতে খাটে বসে ছেলেকে খুব আদর করছে। তারপর খুব যত্ন করে সাবধানে ওকে তুলে নিয়ে গিয়ে তোমার পাশে শুয়িয়ে দিল। তারপর আবার আমার পাশে এসে বসে শোনালো ভারি করুণ এক কাহিনি—
এ বহু বছর আগের ঘটনা। শিবরাত্রির দিন মায়ের সঙ্গে চন্দনেশ্বরের মন্দিরে জল ঢালতে গিয়েছিলাম। বাবা ছিলেন শিক্ষক। তাই কিছুটা পড়াশোনা করেছিলাম বাবার কাছেই। আর আমি ছিলাম এককথায় পরমা সুন্দরী। থাকতাম চন্দনেশ্বর গ্রামেই। সেদিন রাজাবাহাদুর স্ত্রীকে নিয়ে পুজো দিতে আর মানত করতে এসেছিলেন মন্দিরে কারণ রাজা ছিলেন নিঃসন্তান। বিয়ের বহুবছর বাদেও কোনও সন্তান আসেনি রানির কোলে। রাজা বাহাদুর ছিলেন একমাত্র সন্তান তাই পাগল হয়ে গিয়েছিলেন বংশধরের জন্য। মন্দিরে সেদিন মায়ের সঙ্গে আমাকে দেখে সে রাত্রেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। রাজার বিরুদ্ধে যাবার সাহস বাবার হয়নি। ভারাক্রান্ত মনে একরাশ অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেদিন এ বিয়েতে মত দিতে হয়েছিল। তখন আমার সবে সতেরো বছর বয়স। কয়েকদিনের মধ্যেই বিয়ে হয়ে গেল। রাজার পার্ষদ এসে বাবার হাতে এক থলি মোহর দিয়ে গেলে মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তাও গ্রহণ করেছিলেন। ফাল্গুনে বিয়ে হল আর মাস দুয়েকের মধ্যেই আমি হলাম সন্তানসম্ভবা। তখন আমি হয়ে উঠলাম রাজাসাহেবের চোখের মণি আর আমার সতীন হলেন রাজার দুয়োরানি।
রাজার এক উপপত্নি ছিল। তার সঙ্গে রানি সাহেবার খুব ভাব ছিল। যদিও তিনি রাজ বাড়িতে থাকতেন না। থাকতেন শহর পেরিয়ে এক প্রাসাদে। কিন্তু প্রায়ই আসতেন। আমার মহালেও এসে আমার সঙ্গে দেখা করতেন আর কী করে বর সোহাগী হওয়া যায় তার পরামর্শ দিতেন। তিনি ছিলেন রাজা সাহেবের খুব পেয়ারের শুধু নয়, খুব বিশ্বাসভাজনও বটে।
সে বছর পুজোর আগে রাজাসাহেব মন করলেন আমাকে নিয়ে হওয়া বদলে যাবেন। কবিরাজ মত না দেওয়াতে আমাকে নিয়ে উনি এলেন ভুবনেশ্বর দিন কয়েক বিশ্রাম নেবেন বলে। রাজাবাবুর আদরে সোহাগে দিনগুলো যেন হাওয়ায় ভেসে কেটে যাচ্ছিল। দিন কয়েক বাদে রাজাবাবুর উপপত্নি এসে হাজির। জানা নেই রাজা ডেকে পাঠিয়েছিলেন না নিজেই এসে ছিল। রাজার আদেশে তার জন্য সব জায়গায় ছিল অবারিত দ্বার। ওর জিম্মায় আমাকে রেখে রাজা গেলেন লিঙ্গরাজ দর্শনে। সেই অবসরে রাজাবাবুর পেয়ারের উপপত্নি আমাকে যত্ন করে পাশে বসিয়ে নিজের দিদির মতো আদর করে ধমক দিয়ে একবাটি দুধ সাগু খাওয়ালেন। পুরোটা খেতে পারিনি তার আগেই গলা বুক পেট জ্বলে গেল। বুঝলাম বিষ মেশানো ছিল। আমার মৃত্যু হল এই ঘরেই। রাজা ফেরা অবধি আমার প্রাণটা ছিল। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওনার সামনেই আমি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লাম। সেই মহিলা পালাবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। রাজা তাকে গুলি করে মেরে সেদিনেই তার লাশটা ওই পরী-ফোয়ারার নিচে পুঁতে দিয়ে মাটি চাপা দিয়ে দিলেন। সেই থেকেই আমার আত্মা মুক্তি পায়নি। এই ঘরটার মধ্যেই আমার আত্মা গুমরে মরে আর বাচ্চা দেখলেই মনে পড়ে যায় আমার পেটেরটার কথা।
সবটা শুনে চ্যাটার্জীবাবু স্ত্রীকে তাড়া লাগান ওই অভিশপ্ত হোটেল ছেড়ে তাড়াতাড়ি বেরোবার জন্য। বিল মেটাবার সময় ম্যানেজারের কাছে জানতে চান ঘরে কোনও গণ্ডগোল আছে কিনা কারণ সারারাত কারও ঘুম হয়নি। কেমন যেন ভূতুড়ে ঘরটার আবহাওয়া। ম্যানেজার জানালেন অনেকেই এ কথা বলেন তাই সচরাচর আমরা ঘরটা কাউকে দিতে চাই না। ঘরের বেশি চাহিদা থাকলে তখন খুলে দিয়ে থাকি। আপনারা জোর করেছিলেন তাই দিতে বাধ্য হয়েছিলাম।
ঘটনাটা প্রায় কমবেশি একশো বছর আগের। এই বাড়িটা ওড়িশার এক দেশীয় রাজাদের আবাস। প্রতিদিনের একঘেয়েমি কাটাতে ওই বংশের রাজারা এখানে মাঝেমধ্যে ঘুরতে আসতেন। রাজাবাহাদুর ছিলেন নিঃসন্তান। প্রথমা স্ত্রী রূপবতীকে বিয়ে করার প্রায় কুড়ি বছর পর সন্তানাদি না হওয়াতে সে বছর শিবরাত্রির দিন সস্ত্রীক গিয়েছিলেন ছেলে হওয়ার জন্য মানত করতে চন্দনেশ্বরের মন্দিরে। সেখানে এক অল্প বয়সি পরমা সুন্দরী মেয়েকে দেখে ওনার ভারি পছন্দ হয়ে যায় এবং তাকে বিয়েও করেন। সে গর্ভবতী হতে তাকে নিয়ে এখানে বেড়াতে আসেন।
নতুন রানি ছিলেন রানিসাহেবার সতীন-কাঁটা তাই সহ্য করতে পারতেন না তাকে। রাজাসাহেবের এই উপপত্নি ছিল অন্ধ্রের মেয়ে উর্মিমালা। তার গান শুনে রাজা তাকে তুলে এনেছিলেন। সে থাকত শহরের প্রান্তে তার মহালে কিন্তু প্রতিনিয়ত রাজবাড়িতে যাতায়াত ছিল। ছিলেন অসম্ভব বুদ্ধিমতী। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতেন। রাজাসাহেবের যেমন ছিলেন প্রিয় তেমন বিশ্বস্ত।
রাজাসাহেব সেদিন উর্মিমালা বাইয়ের ভরসায় নতুন রানিকে রেখে গিয়েছিলেন শিব দর্শনে। রাজবাড়ি ছিল শৈব। রাজা নিজে ছিলেন খুব শিবভক্ত। আগে থেকেই মনে হয় রানিসাহেবা রূপবতীর সঙ্গে কোনও শলা করা ছিল উর্মিমালা বাইয়ের। রাজার অবর্তমানে আদর করে নতুন রানিকে কিছু খাইয়েছিল আর তাতে মেশানো ছিল কোনও মারাত্মক বিষ। তাড়াতাড়ি ফেরার কথা নয় কিন্তু সেদিন রাজা লিঙ্গরাজ মন্দিরে পুজো সেরেই ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তখন রানির শেষ অবস্থা। সারা শরীর নিল হয়ে গেছে। বাই পালাবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু পারেনি। শোনা যায় ওই পরীর নিচে তার দেহ পোঁতা আছে। কিন্তু মৃত্যুর আগে সেই বাই রাজাকে অভিশাপ দিয়েছিল এই হত্যার পাপ রাজার কোনওদিন পিছু ছাড়বে না কারণ নতুন রানিকে ও মেরেছিল স্বেচ্ছায় নয় রানিসাহেবা রূপবতীর আদেশে।
তারপর থেকে আর ওই ফোয়ারা কোনওদিন চলেনি। কোনওভাবেই সারানো যায়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও মূর্তির কখনো কোনও ক্ষতি হয়নি। অটুট আছে। এই অবধি শুনে চ্যাটার্জী দম্পতি ঘামতে শুরু করেছে। ম্যানেজার তখনও বলে চলেছে, এর পরেও রাজা আরও দুবার বিয়ে করেছিলেন কিন্তু কোনও সন্তান হয়নি। শেষ বয়সে উত্তরাধিকারের কথা ভেবে রাজা উন্মাদ হয়ে যান। তারপর তো সরকার আইন করে রাজত্ব তুলে দেন। তাই আর রাজাও নেই আর রাজত্বও নেই। সব চুকেবুকে গেছে। সেই রাজাসাহেবের তুতো ভাইবোনদের বংশধররা যা অবশিষ্ট আছে তারাই ভোগদখল করছে। অর্থের জন্যই এ বাড়ি আজ রাজরানি পান্থশালা।
আমি এখানে চাকরি করি মাত্র। আমার বাড়ি রাজাবাহাদুরদের আদিবাড়ির কাছে। এখান থেকে ঘণ্টা দুই আড়াইয়ের পথ গাড়িতে। রাজবাড়ির জ্ঞাতিগুষ্টির মুখ থেকেই এসব শোনা। কতটা সত্যি মিথ্যে জানা নেই। তবে আমার শ্বশুরবাড়ি চন্দনেশ্বর গ্রামে জাগ্রত চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরের খুব কাছেই। ওই গ্রামের লোকের মুখে মুখে ফেরে নতুন রানির বাড়ি ছিল নাকি ওখানে। রানির নাম ছিল ইন্দুপ্রভা। রায়মিত্র উপাধি পাওয়া বড় বংশ কিন্তু খুব গরিব। মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর মা বাবা কেউ বেশিদিন বাঁচেনি। মেয়ে ছিল বড় আদরের। রায় মিত্তিরদের বসত বাড়িটাও আজ দখল হয়ে গেছে। বংশের কেউ না থাকলে যা হয়।
আগাগোড়া পুরোটাই আমার শোনা চ্যাটার্জী গিন্নি অর্থাৎ আমার বান্ধবীর ছেলে গৌরবের মুখে।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন