দেবযানী বসু কুমার

বিয়ের তিন মাসের মধ্যে ডাক্তারের সামান্য ভুলের জন্য তছনছ হয়ে গেল দুটো জীবন। দুটো বললে ভুল বলা হবে, তিনটে পরিবারের সব মানুষের। না ভুল নয়, বলা যায় ডাক্তারের হঠকারিতা। ভুলের ক্ষমা আছে কিন্তু হঠকারিতার কোনও ক্ষমা নেই। ডাক্তারও মানুষ, তারও ভুল হতেই পারে কিন্তু এক্ষেত্রে ক্ষমা হয় না। আর ওপরওয়ালার এজলাসে ক্ষমা হয়ওনি। জীবিত ও আত্মার সাঁড়াশি আক্রমণে ডাক্তার তার কর্মের শাস্তি ভোগ করছেন। জীবিতের বুক ভাঙা হাহাকার আর মৃতের অভিশাপে অমন বিশ্ববিখ্যাত ডাক্তার
আজ বদ্ধ উন্মাদ। ঠাঁই হয়েছে পাগলা গারদে। মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
যত দিন যাচ্ছে ডাক্তাররা বুঝতে পারছেন রুগির অবস্থা খারাপের দিকে গড়াচ্ছে। ভালোর দিকে যাবার কোনও লক্ষণ নেই। আগে তবু বিড় বিড় করতেন এখন প্রায়শই হিংসাত্মক হয়ে উঠছেন। তখন কাছে যেতে সবাই ভয় পায়। সেই অবস্থায় ওনাকে চেপে ধরে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়া হয়। নতুবা সারা দিনরাত চিৎকার করে চলেছেন—আর একবার আমাকে অপারেশন করার সুযোগ দাও। আর তার সঙ্গে হাউ হাউ করে কান্না। ডাক্তারের পরিবার আজ দেনার দায়ে প্রায় নিঃস্ব। কোনওরকমে দিন কাটছে। ডাক্তারের স্ত্রী ডায়ালিসিসের রুগি। অর্থের অভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে না। ডায়ালিসিসও হয় অন্য ডাক্তারদের দাক্ষিণ্যে। অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে।
একমাত্র সন্তান ডাক্তারি পড়তে গিয়েছিল দক্ষিণ ভারতে। কিন্তু সে আজ ড্রাগ পেডলারদের খপ্পরে পড়ে মাদকাসক্ত। কলেজ থেকে বিতাড়িত। ঘটি বাটি বেচেও মাদক কেনার জন্য টাকার দরকার। দিনে রাতে এমন নেশাগ্রস্ত থাকে যে নিকটজনেরাও পরিচয় প্রকাশ করতে চায় না। সারাদিন কোথায় থাকে কেউ খোঁজ রাখে না অথবা বলা যায় খোঁজ রাখবার কেউ নেই সে অর্থে।
সবিতা বালু আর ওয়ামিক ছোট থেকে বড় হতে হতে কখন যে দুজনে দুজনের প্রেমে পড়েছে তা নিজেরাই টের পায়নি। দুজনের বাড়ি পাশাপাশি, বাংলাদেশের চট্টেশ্বরী মন্দিরের কাছে। দুই পরিবার হিন্দু মুসলমান হলে কী হবে, এতই হৃদ্যতা যে সবিতার মা একাই মেয়ে মানুষ করেছেন। ওয়ামিকের বাবা এমন ভাবে আগলে রাখতেন মা মেয়েকে যে, কোনও প্রশ্নই ওঠেনি পুব বাংলা ছেড়ে ওপার বাংলাতে চলে যাওয়ায়। সবিতার বাবা ওর জন্মাবার তিন মাসের মধ্যে তিন দিনের জ্বরে মারা যান।
আর্থিক কোনও সমস্যা না থাকলেও দুধের শিশুকে নিয়ে সবিতার মা তখন অথৈ জলে হাবুডুবু। তখন ওয়ামিকদের পরিবার অভিভাবকের মতো দু’হাত বাড়িয়ে দেন। বাইরের কোনও ঝড় ঝাপ্টা, দাঙ্গার আঁচ ওদের ত্রিসীমানায় ঢুকতে দেননি। ওনাদের ছত্রছায়ায় মা-মেয়ে ছিল পরম নিশ্চিন্তে। ওয়ামিকের বাবা ছিলেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ। অঞ্চলের একজন মাতব্বর। ওনার কথা সবাই মান্য করে। অর্থ ক্ষমতা দুটোই আছে। বেশ বড় ব্যবসাদার। তাছাড়া দেশের রাজনীতির সঙ্গেও ভালোমতো যোগাযোগ আছে। তিন মহলা বাড়ি। বাড়িতে থাকে ওয়ামিকের বাবা-মা ভাই রাশিদ আর ওদের বড়িআম্মি। বাড়ি ভর্তি চাকর আর্দালি ড্রাইভার আর কাজের লোক। এছাড়া দিনরাত বাড়িতে পার্টির ছেলেদের আনাগোনা চলতেই থাকে।
ওয়ামিক আর সবিতা শিশু বয়স থেকে খেলার সাথী। ওয়ামিকের ভাই রাশিদকে তখন ওরা একদম পাত্তা দিত না। তারপর যখন থেকে দুজনে বুঝতে পেরেছে যে একে অপরকে ছাড়া চলবে না তখন শুরু হল লুকিয়ে-চুরিয়ে প্রেম। আর তখন দুজনের মুশকিল আসান রাশিদ। দিন যেতে দুজনের মনে ভয় ঢুকেছে হিন্দু-মুসলিম বিয়ে দু’বাড়ি থেকে তো কিছুতেই মেনে নেবে না। অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু একটা দিন কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারে না। ভবিষ্যতের কথা ভেবে দুজনেরই বুক কাঁপে।
এদের দুজনের কাণ্ডকারখানা দেখে রাশিদ বোঝে ওকেই যা করার করতে হবে তাই একদিন ইচ্ছাকৃতই হাটে হাঁড়ি ভাঙে। দু’বাড়িতে জানিয়ে দেয় ওদের প্রেম কাহানি। কথাটা চাউর হতে দু’বাড়ির সবার মুখ ভার ভার। তবে সবচেয়ে ভয় ছিল যে মানুষটাকে নিয়ে, ওয়ামিকের আব্বু, তিনি মেনে নিতে দু’বাড়ির সবাই খুশি মনে সম্পর্কটা মেনে নেয়। বিয়েটা হয়ে যায় ধুমধামের সঙ্গে।
বিয়ের তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুবিধে হওয়াতে ওয়ামিক সবিতাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা শেষে তিনি জানান সামান্য একটা অসুবিধে আছে, তার জন্য ছোট্ট একটা অপারেশন খুব জরুরি।
বাড়ি ফিরে ওয়ামিক সবিতাকে বলে—কলকাতা যাওয়া যাক, তাতে রথ দেখা কলা বেচা দুটোই হবে। আরও একজন বড় ডাক্তারের মতামতের খুব প্রয়োজন আছে সঙ্গে বহুশ্রুত কলকাতা শহরটাও দেখা হয়ে যাবে। কাজের চাপে মধুচন্দ্রিমা এখনও হয়ে ওঠেনি। ওটাও সারা হবে সঙ্গে সঙ্গে। অনেকদিন ধরেই ওয়ামিক মতলব করছিল কলকাতা বেড়াতে যাবার কারণ সে জানত সবিতার খুব কলকাতা দেখার শখ।
সাতদিনের ছুটিতে দুটিতে পাড়ি দেয় কলকাতায়। সকাল থেকে রাত অবধি দুজনে মিলে চষে ফেলে কলকাতা শহর। সব দ্রষ্টব্য জায়গায় ঘুরে, প্রচুর শাড়ি কিনে, কলকাতার নানান খাবার খেয়ে, রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ঘুরেও যেন আশ মেটে না। এর মধ্যে সময় করে একদিন ডাক্তার দেখানো হয়। নাম করা সার্জন ডাক্তার নাথ। খুব ব্যস্ত ডাক্তার। জানান আগামী একমাসে উনি আর কোনও অপারেশনের তারিখ বার করতে পারবেন না। ঠিক হয় একমাস পরে এসেই সার্জারি হবে।
ফিরে যাবার পর ছোট ভাই রাশিদ শুনে আবদার করে পরের বার ও বউদিকে নিয়ে যাবে কলকাতায় কারণ ওর মনে বিরাট আক্ষেপ কলকাতা দেখা হয়নি বলে। ওয়ামিক স্বস্তি পায় কারণ এক মাসের মধ্যে ও আর ছুটি পাবে না। ওয়ামিক একটা কলেজে পড়ায় আর সামনেই ছাত্রদের পরীক্ষা। ওর পক্ষে আবার এক মাস পরে যাওয়া বেশ অসুবিধের।
সার্জারির ডেটের দিন চারেক আগেই দেওর বউদি চলে আসে কারণ তখনও কিছু প্যাথলোজিকাল টেস্ট বাকি ছিল অপারেশনের আগে। অপারেশনের আগের দিন রুগিকে হাসপাতালে ভর্তি করার সময় ডাক্তারবাবু আশ্বাস দেন—চিন্তার কিছু নেই। মূত্রনালীতে একটা সামান্য সমস্যা আছে। একটা ছোট্ট কাটাছেঁড়া। বড়জোর মিনিট চল্লিশ লাগবে।
অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা করছে রাশিদ। চল্লিশ মিনিট পেরিয়ে গেল। একঘণ্টা চল্লিশ মিনিট পেরিয়ে গেল। দুঘণ্টা চল্লিশ মিনিট পেরিয়ে গেল। অস্থির লাগে রাশিদের। ওদিকে ঘন ঘন ফোন আসছে ওয়ামিকের কাছ থেকে। কিন্তু ওর কাছে দেবার মতো কোনও উত্তর নেই। তাই কিছু জানাতেও পারছে না। বারবার নার্সদের জিগ্যেস করছে, অনুসন্ধান আপিসে খোঁজ নিচ্ছে। সবার এক উত্তর—এখনও কোনও খবর নেই। সব কেমন চুপচাপ।
ডাক্তার, আর এম ও, নার্স, হাসপাতাল স্টাফেদের হাঁটাচলা কেমন পাল্টে গেছে। সবাই যেন চলা ফেরায় একটু বেশি তৎপর। একটাও কথা কেউ বলছে না। অজানা ভয়ে একটা কান্না গুমরে ওঠে রাশিদের বুকের মধ্যে। থাকতে না পেরে ফোন করে ওয়ামিককে। আগুপিছু না ভেবে বিমানে কলকাতা পৌঁছে হাসপাতালে হাজির হয় সন্ধে সাতটা নাগাদ। রাত ন’টায় ডাক্তার নাথ দুই ভাইকে ডেকে জানান কিছুক্ষণ আগে রোগিণীর মৃত্যু হয়েছে। হার্ট দুর্বল ছিল। অপারেশনের ধকল নিতে পারেনি। অনেক চেষ্টা করেছে সবাই সারাদিন ধরে কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণ আগে সব শেষ হয়ে গেছে।
সেদিন ভোররাতে সবিতার দেহ কফিন বন্দি হয়ে ফিরে গেছে চট্টগ্রামে। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে বিবাহিত জীবনের সমাপ্তি। সর্বত্র শোকের ছায়া। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে সবিতার মা পাগলপ্রায়। কিন্তু ওয়ামিক নিজের মনে সবিতার ছবির সামনে প্রতিজ্ঞা করে, ওর প্রাণের চেয়ে প্রিয় সবিতাকে যে শেষ করেছে, ও এত সহজে তাকে ছেড়ে দেবে না। জানতেই হবে সেদিন কী ঘটেছিল। এই মৃত্যুর মধ্যে কিছু একটা অসত্য গল্প আছে যেটা ডাক্তার বা হাসপাতাল প্রকাশ করছে না। কেউ যেন কাউকে আড়াল করছে। অপারেশনের আগেই তো সব রকমের হার্টের পরীক্ষা হয়েছে। রিপোর্টে তো কোথাও লেখা নেই দুর্বলতার কথা। তাহলে? রাতের পর রাত ওয়ামিক ঘুমোতে পারে না। কাজে মন বসাতে পারে না। একটা চিন্তা ওকে কুরে কুরে খায়—আসলে কী ঘটেছিল সেদিন?
সবিতা মারা যাবার পর দু’মাসে ওয়ামিকের তিনবার কলকাতায় আসা হয়ে গেছে। ডাক্তার নাথের গাড়ি ঢোকা বেরোনোর পথে ওয়ামিক পাথরের মতো ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে। ওকে দূর থেকে দেখলেই এখন ডাক্তার নাথ গাড়ির কালো কাচ তুলে দেন। ওয়ামিক থাকলে ডাক্তার কোনও রুগির বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা অবধি বলেন না। হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে করতে আলাপ হয়েছিল ও টি সিস্টার সর্বানীর সঙ্গে। আসল ঘটনা জানার জন্য ওনাকে অনেক কাকুতিমিনতি জানিয়েছে ওয়ামিক। কোনও কাজ হয়নি। শেষ বার ওয়ামিক বাবার পরামর্শে মোটা টাকা সেই নার্সের হাতে ধরাতে জানা গিয়েছিল অনেক কথা।
সেদিন ডাঃ নাথ অপারেশন থিয়েটারেই ঢোকেননি। বহুদিন পর এক ডাক্তার বন্ধু সুদূর বিলেত থেকে দেখা করতে এসেছিলেন ডাঃ নাথের সঙ্গে। দুজনেই ডক্টরস রুমে গল্পে মত্ত ছিলেন। এক জুনিয়র ডাক্তারকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন অপারেশনটা সেরে ফেলতে। কিন্তু সেই ডাক্তার আগে কোনওদিন একা হাতে অপারেশন করেননি। অ্যাসিস্ট করতেন সব বড় বড় ডাক্তারদের। অপারেশন করতে গিয়ে সবিতার শিরা কেটে ফেলেন সেদিন। সারাদিন সবার কালঘাম ছুটে গিয়েছিল মেরামত করতে কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে সন্ধে সাতটা নাগাদ রোগিণীর মৃত্যু হয়। ওয়ামিকের হাত ধরে সিস্টার সর্বানী অনুরোধ জানায় পুলিশে না জানাতে। তাহলে ওর নামটাও জড়িয়ে যাবে। চাকরি গেলে ছেলেমেয়ে নিয়ে ওর সংসারটা পথে
বসবে কারণ ও বিবাহবিচ্ছিন্না। স্বামী আবার বিয়ে করে অন্যত্র সংসার পেতেছে।
ওয়ামিক অন্য কথা ভাবে। থানাতে ডায়েরি করেও লাভ নেই, কারণ অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেদিন সবিতাকে হারিয়ে মাথার ঠিক ছিল না। ময়না তদন্ত করার কথা মাথাতেও আসেনি। ওয়ামিক অবিরাম অভিশাপ দেয় ডাক্তারকে। আল্লাকে বলে, যে আমার সবিতাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে তাকে ক্ষমা কোরো না। এমন শাস্তি দিও যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।
এদিকে সেদিন ভুল অপারেশনের জন্য পেশেন্ট সবিতা মারা যাবার পর থেকে আর একটাও অপারেশন করতে পারেননি ডাক্তার। অপারেশন টেবিলে গিয়ে দাঁড়ালেই উনি দেখতে পান সবিতা ঠান্ডা চোখে ওনার দিকে তাকিয়ে আছে। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী উনি শুনতেও পান মৃত রোগিণী বলছে—ডাক্তার নিজে হাতে অপারেশন করো। ছেলেখেলা কোরো না। মানুষের জীবন খুব মূল্যবান। তাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার তোমার নেই। আমার মৃত্যুর ঋণ এ জীবনেই চোকাতে হবে তোমাকে। আর এই কথাগুলো কানে গেলেই ওনার সারা শরীর থর থর করে কাঁপতে থাকে, এসি-র ঠান্ডাতেও সারা শরীর ঘামে ভিজে যায়, হাতের বশে থাকে না ছুরিকাঁচি। এই অবস্থায় জেদ ধরে কয়েকটা অপারেশন করছেন নিজেকে সুস্থ প্রমাণ করতে কিন্তু একটাও সফল হয়নি। প্রত্যেকটা ভুল কাটাছেঁড়া। প্রচুর টাকা গুনাগার দিতে হয়েছে রুগির পরিবারকে। হাসপাতাল কোনও ভাবেই সহযোগিতা করেনি। তার জন্য উনি আজ প্রায় দেউলিয়া। কেউ আর আজ ওনার কাছে অপারেশন করতে সাহস পায় না। ওনার নাম শুনলেই দশ পা পিছিয়ে যায়। বিশ্ববিখ্যাত সার্জনের আজ কি পরিণতি?
তবে এ গল্পের শেষ কোথায় জানা নেই কারণ তারপর আর কোনও খবর রাখা হয়নি। ওদের জীবনের সব গল্প ওয়ামিকের মুখেই শোনা। ইচ্ছে করেই ওয়ামিকের সঙ্গেও আর কোনও যোগাযোগ রাখিনি। আমি সেই নার্স সর্বানী, যা কাউকে কোনওদিন বলিনি সেদিন টাকার লোভে সত্যি খবরটা সবিতার স্বামীকে জানিয়েছিলাম কারণ টাকার আমার সত্যি প্রয়োজন ছিল ছেলেমেয়েকে মানুষ করার জন্য। তবে আমার এই স্বীকারোক্তির মধ্যে ছিঁটেফোঁটাও মিথ্যে ছিল না কারণ আমি সেই সময় জুনিয়র ডাক্তারদের অ্যাসিস্ট করার জন্য অপারেশন থিয়েটারে উপস্থিত ছিলাম।
কিন্তু ডাক্তার নাথ মিথ্যে বলেননি। আমি নিজেও প্রায়ই সবিতাকে ওটিতে দেখতে পেতাম ঠান্ডা চোখে ডাক্তার নাথের দিকে তাকিয়ে আছে আর বিড় বিড় করে কি সব বলছে। প্রচণ্ড ভয় করত আমার। রাতে ঘুমোতে পারতাম না। বুঝলাম এভাবে আরও কিছুদিন চললে আমিও পাগল হয়ে যাব তাই এ আতঙ্ক থেকে রেহাই পেতে এতদিনের হাপাতালের চাকরিটা ছেড়ে মধ্য প্রাচ্যে চলে এসেছি নার্সের চাকরি নিয়ে। ডাক্তার অথবা ওয়ামিকের কোনও খবর আর এখন আমার কাছে নেই।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন