দেবযানী বসু কুমার

সন্ধ্যার মৃতদেহটা বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঢোকার আগের মুহূর্তে দৌড়োতে দৌড়োতে শ্মশানে হাজির অলোক। ভেবেছিল কাজের দোহাই দিয়ে আসবে না, কিন্তু শেষ দেখাটা দেখিয়েই ছাড়ল সন্ধ্যা। আর যে সে আসা নয়, প্রায় গলায় আঁকশি দিয়ে টেনে আনল। সন্ধ্যা যেন ওর জন্যই অপেক্ষা করছিল। তা না হলে কেউ কোনওদিন শুনেছে মৃতদেহ সামনে আর চুল্লির দরজায় সমস্যা দেখা দিয়েছে, লোক ছুটেছে মিস্ত্রির খোঁজ করতে। দরজাটা খোলা কিন্তু বন্ধ হতে চাইছে না। হাঁপাতে হাঁপাতে এসে দেখে পরপারের দরজাটা ওপরে ওঠা। দেহটা আধা ওপারে আধা এপারে। ভেতরে আগুনের লেলিহান শিখা। অলোক হঠাৎই দেখল আড়াই হাত চাটাইয়ের ওপর দেহটা যেন উঠে বসল তারপর একটা ছায়া দেহ ছেড়ে বেরিয়ে আসছে আর মিস্ত্রি আসার আগেই যান্ত্রিক গোলযোগ মিটে গিয়ে দরজাটা নামতে শুরু করেছে। তারপর আর কিছু মনে নেই অলোকের।
যখন জ্ঞান ফিরল তখন সবাই ওর চোখে মুখে জলের ছিটে দিচ্ছে। ঘাড় কাত করে দেখে পরপারের দরজাটা পুরো বন্ধ। তার মানে সন্ধ্যার দেহটা নিয়ে যমরাজের চ্যালারা যমালয়ে পাড়ি দিয়েছে। কিন্তু বেশ বুঝতে পারে সন্ধ্যার আত্মাকে কব্জা করতে পারেনি। এত তাড়াতাড়ি পৃথিবীর মায়া কাটাতে মোটেই রাজি নয় সে। তার ওপর প্রায় সদ্য বিবাহিত। স্বামীকে পেলই না পুরোপুরি নিজের করে তাই এত সহজে সন্ধ্যা ওকে রেহাই দেবে না। অথচ ডাক্তার যেদিন বললেন, আর বেশি দিন নয়, সেদিন থেকেই অলোক দ্বিতীয় বিয়ের স্বপ্নে মশগুল ছিল।
জ্ঞান ফিরে ধাতস্থ হয়ে দেখে মা পাশেই বসে রাগী রাগী মুখে। এই প্রথম অলোক মার কথার অবাধ্য হয়েছিল। ফোনে বলেছিলেন, আসার প্রয়োজন নেই, উনি সামলে নেবেন। কিন্তু কাকে বোঝাবে অলোক যে ওর শাঁখের করাতের অবস্থা। একদিকে মা আর একদিকে সন্ধ্যা। কার কথা শুনবে? সমানে শুনতে পাচ্ছিল সন্ধ্যা ওকে ডাকছে আর বলছে, মৃত্যুকালে আমার পাশে থেকো। যদি পরে শোধ নেয় সেই ভয় ওকে তাড়া করে হাজির করেছিল শেষ যাত্রায়। অলোক এমনিতেই খুব ভিতু মানুষ।
অলোকদের বাড়িতে মার কথাই শেষ কথা। তাই মা যখন বললেন এ রোগ সারবার নয়, কাজের জায়গায় ফিরে যাও, তোমাকে এসব নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। তখন মার কথাকেই বেদবাক্য মেনে কলকাতা ছেড়েছিল অফিস ছুটি মঞ্জুর করা সত্ত্বেও। অলোকও সুবোধ বালকের মতো মাথা নাড়ে যখন মাতৃদেবী বাইরের লোকেদের বলেন বিয়ের জন্য সব ছুটি শেষ। এখন কাজে না ফিরলেই নয়। না গেলে চাকরিটাই খোয়াতে হবে।
অলোক ভাবে লম্বা জীবনে এই ঘটনা তো একটা অণুগল্প মাত্র, গল্পও শেষ, এখন নোটে গাছটি মুড়োলেই হয়। ওদিকে সন্ধ্যার আত্মা বলে, এত তাড়া কীসের মুড়োবার? পরের বিয়ের জন্য আর তর সইছে না? দাড়াও বাপু একটু রয়েসয়ে।
বিয়ের সাত আট মাসের মধ্যেই সন্ধ্যার পরপারে যাবার ডাক এসে গেল। সম্পর্ক শুরু হবার আগেই শেষ। সম্বন্ধ করেই বিয়ে। আনুষ্ঠানিক বিয়ের বছর খানেক আগেই পাকা কথা হয়ে গিয়েছিল। মাতৃদেবীর জ্বালায় দেখাসাক্ষাতের কোনও সুযোগই ছিল না। কড়া শাসন—এখনই অত বউ বউ করো না, লোক লজ্জা বলে একটা কথা আছে। যদিও নিজে কিন্তু লাটাই হাতছাড়া করেন না। বরকে সদা বগলদাবা করে দিন নেই রাত নেই চরকি নাচন নাচছেন দেশে বিদেশে। তাই আলাপচারিতা চলতো মুঠোফোনে।
প্রথম থেকেই পাত্রী খুব একটা মনমতো ছিল না। মায়ের তালে তাল দিতে বাধ্য হয়েছিল। বড়ই সাদামাটা চটকহীন চেহারা। তিন বোন, সন্ধ্যা মধ্যমা। বাবা ছাপোষা কেরানি। কলেজ জীবনের পরেই লেখাপড়ায় দাড়ি। তবে শুনেছে গৃহকর্মে নিপুণা। ঘোষ গুষ্টির অভিধানে অসুন্দর কথাটা নেই তাও অনেক ঝাড়াই বাছাইয়ের পর এই পাত্রী মনোনীতা কারণ ইতিদেবীর অনেক সুদূরপ্রসারী চিন্তা ভাবনার ছিল এর পেছনে। কোনও কিছুই যখন আহামরি নয় তখন ছেলের বউ থাকবে হাতের মুঠোয়। বিদ্যের জাহাজ নয় তাই পয়সা রোজগারের ধান্দায় বারমুখো হবে না। বাপের পয়সার জোর নেই তাই বিশেষ উড়তে পারবে না। সহজেই ডানা ছাঁটা যাবে।
এই একই মানুষ কিন্তু মেয়েদের অন্য শিক্ষা দিয়েছেন বরাবর। লেখাপড়া শিখে রোজগার করো তাহলে পায়ের তলার মাটি শক্ত থাকবে। শ্বশুরবাড়িতে ঝিগিরি করতে হবে না। এমনভাবে মেয়েদের মাথা চিবিয়েছেন যে দুই মেয়েই বিয়ের বছরখানেক বাদে বরদের পটিয়ে বদলি নিয়ে অন্য শহরে চলে গেছে যাতে শ্বশুরবাড়ির ঘর না করতে হয়। তারপর যখন বদলি হয়ে ফেরা তখন হাজার একটা অজুহাত আছে আলাদা বাসস্থানের জন্য। তাতে সবদিকেই বজায় থাকল।
ঘোষেদের অগাধ সম্পত্তি। পৈতৃক ব্যবসা। চালু কারখানা সঙ্গে বড়বাজারে দোকান। কাগজে কলমে বাড়ির কর্তা সবের মালিক হলেও বকলমে ইতিদেবী নিজেই মালিক। কি সংসার কি ব্যবসা, সব ওনার হাতের মুঠোয়। মাতৃদেবীর প্রশ্রয়ে অলোক বরাবরই একটু অলস গোছের। ব্যবসা থেকে শতহস্ত দূরে। মন্দ নয় গোছের একটা চাকরি করে। বদলির চাকরি। কর্মস্থল পাটনা। মায়ের খুব একটা মত না থাকলেও বিয়ের পর বউকে নিয়ে পাটনা রওনা দেয় একটু আরাম করার আছিলায়। অনেকদিন হাত পুড়িয়ে খেয়েছে।
কিন্তু খটকা লাগে ওখানে যাবার পরপরই। সন্ধ্যার শরীরটা যেন কেমন বেঠিক। অচেনা ডাক্তারের ওপর ভরসা না করে আবার পত্রপাঠ কলকাতা। যকৃতের জটিল সমস্যা বাসা বেঁধেছে শরীরে। বেশ গুরুতর। প্রায় শেষ অবস্থা। ইতিদেবী সেয়ানা মহিলা। সংসারে পোড় খাওয়া। মনে মনে ভাবেন যতই বলুক শেষ অবস্থা, কেউ কি বলতে পারে প্রাণপাখি কবে উড়বে? যাই যাই করেও হয়তো কয়েক মাস কাটিয়ে দেবে। তাই গলায় একরাশ কান্না মেখে বেয়াইমশাইকে বলেন আর যে কদিন আছে মায়ের কাছেই থাকুক। টাকার জন্য ভাববেন না। হাসপাতাল থেকে সোজা বউমাকে বাপেরবাড়ি পাঠিয়ে ছেলেকে পাঠান পাটনা। আর মায়ের কথা ছেলের কাছে আপ্ত বাক্য। সেও বাধ্য ছেলে হয়ে রওনা দেয়।
কিন্তু না, খুব অল্প দিনেই সন্ধ্যা অব্যাহতি দেয় সবাইকে। ক’দিন না যেতেই পরপারের ডাক এসে যায়। ইতিদেবী ছেলেকে জানান আস্তে ধীরে এসো। কোনও তাড়া নেই। এদিকটা আমরা সামলে নেব। চতুর্থীতে কাজ। তার আগে এলেই হবে। লোক দেখানোর ব্যাপার আছে তাই শবযাত্রা হল রাজকীয়। ঘোষ বাড়ির বিত্তের কথা মাথায় রেখে বউমাকে সাজানো হল লাল বেনারসি, লাল চেলি, লাল ফুলের গয়নায় আর মাথা ভর্তি সিঁদুরে। আলুথালু আঁচলে ইতিদেবী শেষ বিদায় জানাতে সপরিবারের সন্ধ্যার পিছন পিছন শ্মশান যাত্রী। না গেলে আত্মীয় কুটুম্ব বুঝবে কী করে বউ কতটা আপনার ছিল? মনে চাপ পড়বে আর অফিসে ছুটি শেষ, সেই কারণ দর্শিয়ে ছেলের আসা মানা। বারণ সত্ত্বেও তাই ছেলে আসতে মনে মনে অনেকটাই বিরক্ত মাতৃদেবী। ছেলের অবস্থা শাঁখের করাত। ওদিকে মায়ের বারণ এদিকে কে যেন চুম্বকের মতো টানছে আসবার জন্য।
দাহ অন্তে ও অস্থি ভাসানোর পূর্বে মাতৃদেবীর শমন ফেসবুক থেকে মুছে ফেলতে হবে নামটা। সন্ধ্যার কোনও ছবির যেন চিহ্নমাত্র না থাকে। স্টেটাস হবে সিঙ্গেল। ক’দিন পরে যেন মানুষজন মনেই না করতে পারে তুমি বিবাহিত। কারণ, বিয়ের বাজারে দোজবরের দাম খুব কম। সন্ধ্যার আত্মা হাসে। এভাবে কি কাউকে মুছে ফেলা যায়? দাড়ি টানাটানি চলে—একজন ভোলাবেই আর একজন কিছুতেই ভুলতে দেবে না।
মৃত্যু যখন অপঘাতে নয় স্বাভাবিক, তখন তেরো দিনে কাজ হওয়াই বিধেয়। পুরোহিতের বিধানকে নস্যাৎ করে চারদিনেই পারলৌকিক ক্রিয়ার আয়োজন হয় ছেলে কাজে ছুটি পাবে না সেই অজুহাত দেখিয়ে। কিন্তু আসল কারণটা অন্য। এমনকী কর্তামশাইও জানেন না। দশদিন পর বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো। অশৌচ না মিটলে এবছরের মতো পুজো বন্ধ করতে হবে। সেটা কখনোই সম্ভব নয়। কবে থেকে মনে মনে ঠিক করে রেখেছেন পুজোতে কি শাড়ি গয়না পরবেন। তবে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সত্যি চোখ ধাঁধানো। ফুলের সমারোহ দেখে অভ্যাগতরা অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন শ্রাদ্ধবাসরের সঙ্গে বাসরসজ্জার।
কিন্তু খটকা লাগে আদ্যশ্রাদ্ধের সময়। পুরোহিতের কথায় আত্মা অতৃপ্ত। পিণ্ড গ্রহণ করতে চাইছে না। যতবারই গোল্লা পাকানো হচ্ছে ততবারই ভেঙে ছত্রাখান। ইতিদেবী বিড় বিড় করেন, যত বুজরুকি। খালি টাকা খাবার ধান্দা। আর যত শোনে ততো বুক শুকিয়ে যায় অলোকের। চতুর্থীর রাতেই অলোক স্বপ্নে দেখে সন্ধ্যা গলা জড়িয়ে বলছে—আমি আছি। সারাজীবন তোমার সঙ্গেই থাকব। আমার জায়গা আমি কাউকে ছাড়ব না। পরদিন মাকে স্বপ্নের কথা জানালে উনি ভুরু কুঁচকে বলেন, স্বপ্ন স্বপ্নই।
অন্নপূর্ণা পুজোর দিন সকালে ইতিদেবীও একটা বড়সড়ো হোচঁট খান। পুজোতে ছোট মেয়ের আসার কথা ছিল না। হঠাৎই এসে হাজির মাইসোর থেকে মাকে চমকে দেবে বলে। তাই বড় মেয়ের কিনলেও ছোট মেয়ের জন্য শাড়ি কেনা হয়নি। মনে পড়ে যায় বউমাকে পরাবেন বলে একটা করিয়ালি বেনারসি আর এক প্রস্থ গয়না সরানো আছে নিজের আলমারিতে। সব তো চুকেবুকেই গেছে। তাই উঠে যান ছোটমেয়েকেই শাড়িটা বের করে দিতে। কিন্তু আলমারি খুলেই হতভম্ভ। কোথায় শাড়ি? কোথায় গয়না? অথচ ঘর বা আলমারির চাবি তো ওনার আঁচলে। আঁতি পাঁতি করেও খুঁজেও পান না। কিন্তু পুজোর গোছগাছের সময় মহিলা মহল শুনতে পান নতুন শাড়ির খস খস, গোছা চুড়ির রিনরিন। কিন্তু কাউকে দেখতে না পেয়ে ঠাকুর দালানে সবাই ভাবে মনের ভুল।
ইতিদেবীকে কেউ কিছু বলতে দ্বিধা করে কিন্তু সবাই একটু থমকে যায় যখন দেখে কোনও কাজে হাত দেবার আগেই সেই কাজ প্রায় আধসারা হয়ে আছে। যদিও এক প্রতিবেশী ঠাট্টার ছলে বলেই ফেলেন, মিসেস ঘোষ আপনার বউমাও মনে হচ্ছে পুজোর কাজে আমাদের সঙ্গে হাত লাগিয়েছে। কায়দা করে কথাটা এড়িয়ে যান ইতিদেবী। তবে গাটা শির শির করে ওঠে যখন সব মিটে যাবার পর রাতে আলমারি খুলে দেখেন শাড়ি গয়না যথাস্থানেই আছে আর শাড়িটা কেমন যেন দলামচা। মনকে সান্ত্বনা দেন বোধহয় অন্য শাড়ির তলায় কিছু চাপা পড়েছিল তাই তখন তাড়াহুড়োতে খেয়াল হয়নি।
এদিকে পাটনার পাট মিটিয়ে কলকাতায় চলে আসতে বাধ্য হয় অলোক। ভয় একা রাত কাটাতে পারে না পাটনার বাড়িতে। যত দিন যায় সন্ধ্যার উপস্থিতি টের পায় সর্বত্র। লোক হাসবে এই ভেবে কাউকে বলতেও পারে না মনের ভয়টা।
তবে ইতিদেবী বেশ বেকায়দায়। শুধু অলোকেরই নয়, পরিবারের সবার ফেসবুকে সন্ধ্যা ঘোষের ছবি জ্বলজ্বল করে শতবার মোছা সত্ত্বেও। সম্পর্কের জায়গায় পুত্রবধূ কথাটা ইচ্ছে হয় সাবান দিয়ে ঘষে তুলে দিতে। কিন্তু জব্দ কিছুতেই করতে পারেন না। যদিও বাড়ির গিন্নির বধূপ্রীতি দেখে আত্মীয় পরিজনরা মনে মনে একটু অবাকই হন। কারণ তারাও জানে মৃত বউমার প্রতি ভালোবাসা দেখাবার লোক ইতি ঘোষ নয়। এদিকে কেউ তো ভেতরের ব্যাপার জানে না যে সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি চলছে। সমস্যা এমনি যে হজম করতেও পারেন না আবার কাউকে বলতেও পারেন না। কাঁটা হয়ে থাকেন, কি জানি কখন কি দেখা যায়...রাম রাম রাম রাম...। ডাকসাইটে জাঁদরেল মেয়ে পুলিশ শাশুড়িকে দেখে মায়া হয় সন্ধ্যার আত্মার।
ছেলে দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এই অজুহাতে বছর ঘোরবার আগেই ছেলের আবার বিয়ে দেওয়া মনস্থ করেন। কিন্তু ছেলের বিয়েতে একেবারেই অমত সন্ধ্যার আত্মার কথা ভেবে। অলোক জানে সন্ধ্যা এ বিয়ে কিছুতেই মেনে নেবে না। তবে এবার মাতৃদেবীর হাবভাব একটু নরম। একে ছেলে দোজবরে তায় হিমশিম খেয়ে যান ছেলের মত করতে। শেষে অন্নজল ত্যাগের হুমকি দিতে ছেলে নিমরাজি হয়। কিন্তু রাজি হওয়ার কারণটা অন্য। সন্ধ্যার আত্মা আসরে নামে। অলোককে রাজি করিয়ে ছাড়ে। তারপর বাজি ফেলে শাশুড়ির সঙ্গে যদিও একপক্ষে—দেখা যাক নতুন বিয়ে কী করে টেকে?
বছর ঘোরার আগেই চাকুরে পাত্রীর সঙ্গে বিয়ের পাকা কথা হয়ে যায়। এ বউমা একটু বয়স্থা তাই একেবারেই নিপাট বউটি নয়। বিয়ের ছমাসের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদের শমন পাঠায় স্বামীর পরনারীতে আসক্তির কারণ দেখিয়ে। নিজেদের মধ্যে নেই কোনও মাখো মাখো ভাব। কাছে গেলেই নতুন বর ছিটকে দূরে সরে যায়। কিন্তু সত্যি নতুন বউ অনেক বার শাশুড়িকে দেখিয়েছে যে তার বরের ঘাড়ে লিপস্টিকের দাগ, বুকে সিঁদুর লাগা, থাইতে সোয়েডের টিপ, প্যান্টের পকেটে মেয়েদের রুমাল। একটা কথাও নিজের সপক্ষে বলতে পারে না অলোক। চরম ঘটনা ঘটে একদিন।
রাত এগারোটা নাগাদ বাড়িতে ফোন আসে অলোকবাবু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পথ নির্দেশমতো সেখানে পৌঁছে শাশুড়ি বউ দুজনেই দেখে জায়গাটা রূপোগাছি। মূর্তিমান জ্ঞান হারিয়ে লাল বাতি এলাকায় পড়ে আছে অপ্সরা পরিবেষ্টিত হয়ে। অলোক নিজেই মনে করতে পারে না কীভাবে ওইখানে গেল? অফিস থেকে বেরোনো অবধি মনে আছে। কাউকে বলতে পারে না কিন্তু হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারে, এ সন্ধ্যার কারসাজি। এর থেকে নিস্তার নেই। এইজন্যই বিয়েটা করতে চায়নি। সন্ধ্যার আত্মা আড়েহাতে পেছনে লেগেছে ওর। এছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মাঝে শাশুড়ির অতিরিক্ত খবরদারির অজুহাতও বিবাহ বিচ্ছেদের আরও একটা কারণ। চাহিদা শুধু মাত্র বিবাহ বিচ্ছেদ নয় তার সঙ্গে মোটা অঙ্কের খোরপোষ।
আত্মারই জিৎ আর ইতিদেবী কপাল চাপড়ান। মহিলা কেতাদুরস্ত তাই কাষ্ঠ হাসি দিয়ে সামলে নেন পরিস্থিতি কিন্তু মনে মনে গাল পাড়েন স্বর্গত জাঁহাবাজ বউমাকে।
এ হল ইহকাল বনাম পরকালের লড়াই, যা চোখে দেখা যায় না।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন