হোমাগ্নি

দেবযানী বসু কুমার

সমুদ্র সৈকতে আধপোড়ো বাড়িটা অনন্তকাল ধরে ঢেউ গুনেই চলেছে। লোনা হাওয়ায় কালের নিয়মে ক্ষয়ে যাচ্ছে ইট কাঠ লোহা। যে কোনওদিন মুখ থুবড়ে পড়বে। এখনই আধা বালির তলায়, একদিন পুরোপুরি চাপা পড়বে বালির নিচে। তার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে এক করুণ অধ্যায়ের।

বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান মোহিত। সন্তান ভূমিষ্ট হবার আগেই স্বামীকে হারিয়েছেন। বুক বেঁধেছেন সবেধন নীলমনিকে নিয়ে। অন্যের দয়ায় বড় করেছেন। আহামরি না হলেও শ্বশুরবাড়ির পৈতৃক ব্যবসা ছিল লোহা ঢালাইয়ের। ছোট হলেও নিয়োগী ফাউন্ড্রি নামে কারখানা ছিল হাওড়ায়। বউ মানুষ, হকের টাকা বলে তো চাওয়া যায় না। কারবার একসঙ্গে। ভাসুর দেওররা যা হাতে তুলে দিত তাই দিয়েই মানুষ হয়েছে। আর ছেলেও সেইরকম বাধ্য। ছোট থেকে বড় হয়েছে অভাবে। তাই কোনও চাহিদাই ছিল না।

দেখতে বাপের মতো সুপুরুষ। বরাবরের মেধাবী। কলেজ জীবন থেকে আর পড়ার খরচের কথা ভাবতে হয়নি। বৃত্তি আর ছাত্র ঠ্যাঙানোর টাকাতেই নিজেরটা চালিয়ে নিয়েছে। এক সময় কাকা জ্যাঠারা এটা ওটা বুঝিয়ে অল্প টাকা হাতে ধরিয়ে কারবার থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তখন নিজেরাই নিজেদের বুঝিয়েছে, ছেলে কারবারে সময় দেয় না তাই এর বেশি ওদের প্রাপ্যও নয়। তাতেও মা ছেলের কারও প্রতি কোনও নালিশ নেই।

যেদিন ছেলে গবেষণা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের চাকরি পায়, গর্বে সেদিন মায়ের বুকটা ফুলে ওঠে। বছর দুয়েক পর হঠাৎই সম্বন্ধ আসে ছেলেরই কলেজের এক ছাত্রীর বাড়ি থেকে। বাবা ব্যারিস্টার। একমাত্র মেয়ে মহুয়া। দারুণ বৈভবে অভস্ত। কোনও দিক দিয়েই পালটি নয়। বোঝাই যায় দুঁদে ব্যারিস্টার মেয়ের কাছে জব্দ। মেয়ের পছন্দ অধ্যাপককে তাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে জোড়হস্তে ছেলের মার কাছে হাজির, ফারাকটা আকাশ পাতাল হওয়া সত্ত্বেও। অভাবনীয় প্রস্তাব হলেও মোহিত মন থেকে সায় পায় না। মন বলে, বড় অসমান। তেলে জলে কি কখনো মিশ খাবে?

কিন্তু মায়ের মন ভাবে ছেলেটা বড় কষ্টে মানুষ হয়েছে, এবার একটু ভালো থাকবে। এদিকে ছেলেও বরাবরই মায়ের দারুণ বাধ্য। মায়ের পছন্দ, তাই মা’র মতকে খারিজ না করে সায় মেলায়। ওপরওয়ালা হাসেন। কেউ জানতেই পারে না অপরের মনের কথা। কিন্তু জানলেই বোধহয় ভালো হত। তিনটে না হলেও দুটো জীবন সুখী হত।

তাল কাটল বিয়ের সময়। এতই ধুমধামের বিয়ে যে মা ছেলে রীতিমতো হীনমন্যতায় যথাসাধ্য নিজেদের আড়ালে রাখার চেষ্টায় রইল। এছাড়া আশপাশ থেকে টিকাটিপ্পুনি তো আছেই যে, দেখে শুনে বড় ডালে দড়ি বেঁধেছে। কিন্তু বিয়ের পরে দু’পক্ষই বোঝে, একটা বড়সড় ভুল হয়ে গেছে। আর ভুলটা ভুলই, তার জন্য সারাজীবন মাসুল গুণতে হবে।

বাপসোহাগি মেয়ে সহ মেয়ের পরিবার বোঝে এই জামাইকে নিজেদের দস্তুর করা অসম্ভব। এই অধ্যাপক জীবটি অধ্যাপনার বাইরে কিছুই বোঝে না আর বুঝতেও চায় না। একটু এঁড়ে। উল্টে ব্যারিস্টার শ্বশুর পৈতৃক ব্যবসায় জামাইকে কাগজে কলমে রাখতে চাইলে বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু যেহেতু বিয়ের আগেই মায়ের কথা দেওয়া ঘর জামাইয়ে আপত্তি, তাই অনেক টালবাহানার পর সাব্যস্ত হয় ঘর জামাই নয় তবে শ্বশুরের দেওয়া বাড়িতে থাকতে নিমরাজি। ওদিকে বেয়াইবাড়ি থেকে সাদর আমন্ত্রণ থাকলেও শ্বশুরের দেওয়া ছেলে-বউমার বাড়িতে গিয়ে উঠতে নারাজ ছেলের মা। মনে মনে ভাবেন এই বয়সে এসে আর কারও হাতের তেলোয় থাকতে পারবেন না।

সবদিক দিয়ে অবস্থার তারতম্যের জেরে মিয়াঁ বিবি কতটা সুখী হবে সেটা সবার মনেই একটা সংশয় ছিল। আর ঠিক সেটাই ঘটল। বনিবনা হল না। একজন সদাই বারমুখো আর অপরজন সদা আত্মমুখী। কোনও কারণ ছাড়াই তাল কাটল। ভাবটা ঠিক জমল না। তাও সবার মনে একটা ক্ষীণ আশা ছিল, একটা বাচ্চা হলে সম্পর্কে আঠা ভাব আসবে। কিন্তু সে গুড়েও বালি।

পাঁচ বছর বাদে হিতাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে যখন ডাক্তারের দরজায়, তখনি জানা গেল বাবা হবার ক্ষেত্রে মিস্টার নিয়োগীর অনেকটাই ঘাটতি আছে। চিকিৎসা হয়তো আছে কিন্তু বিয়েটা এতটাই তেঁতো দুজনের কাছে, যে ওই পথে পা বাড়াতে দুজনেই নারাজ। লাভের লাভ সময়ের সঙ্গে আলাদা হয়েছে শয্যা। নামেই এক ছাদের নিচে থাকা, বাক্যালাপ কচিৎ। দুজনেই যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচে। একজন জ্ঞান সমুদ্রে নুড়ি কুড়োতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে আর একজনের জীবন হয়ে ওঠে দ্রুতময়।

মোহিতের বিষয় সমাজবিজ্ঞান। দেশে দেশান্তরে হাজির হতে হয় নানা আলোচনা সভায়। একবার কাশী গেছে নষ্ট পাড়ার মেয়েদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে। সভা সরগরম অনেক বক্তার ভিড়ে। রংমাখা মেয়েদের নিয়ে আসা হয়েছে দেখাবার জন্য যে, দেখো মানুষ তোমাদের কথা কত ভাবে। অশিক্ষিত মেয়েছেলেগুলো খুশি হয়ে কৃতজ্ঞতা বশত পড়া লিখা জানা বাবুদের জন্য সেই রাত্রে এক পবিত্র মেহেফিলের আসর বসায়। যে আসরে ছিল না সত্যি কোনও কলুষতা।

মোহিত ছোট থেকেই গান পাগল। রাগরাগিণীর বড় ভক্ত। নিজেও খুব মন্দ গায় না তবে কোনওদিন কোথাও তালিম নেয়নি। তবে গান শোনা একটা নেশা। ওই আসরেই একটি মেয়ের গান মোহিত করে মোহিতকে। কণ্ঠে যেন জাদু। মোহিতের ভাবতে কষ্ট হয় এই ভগবান দত্ত প্রতিভা একদিন শেষ হয়ে যাবে এই আস্তাকুঁড়ে। বাহির জগৎ এই কোকিলকণ্ঠীকে জানতেই পারবে না কোনওদিন।

কিন্তু আঁতুড়ে বিধাতাপুরুষ বোধহয় অন্য কিছু লিখেছিল এই পোড়াকপালির জন্য। পরদিন রওনা হওয়ার কথা বেলাতেই। সকালেই মেয়েটি হাজির মায়ের সঙ্গে। তখনি জানতে পারে মেয়েটি মুসলিম। নাম হোমা হক। এমনকী বাপ মুসলমান না হিঁদু তাও অজানা। অল্প বয়সে কোঠিমালকিনের আদেশে নিত্যনতুন খদ্দের বসাতে হত ঘরে। কোনও বাছবিচারের যো ছিল না। তাই ওর গর্ভে হলেও কার ঔরসে মেয়ের জন্ম তা জানা নেই। আশেপাশের চাপে বাধ্য হয়ে মেয়েকে এই লাইনে নামাতে হয়েছে কিন্তু মেয়ের এই জীবন ভালো লাগে না। একটু পড়িলিখিও করেছে। বাবু যদি ওকে এই মহল্লার বাইরে অন্য শহরে একটু থাকার ব্যবস্থা করে দেন তাহলে ওরা মা বিটি কেনা হয়ে থাকবে। খাইখরচ যা লাগবে তা মেয়ের জন্য পাঠিয়ে দেবে।

আগুপিছু না ভেবেই হোমাকে নিয়ে মোহিত রওনা দেয় কলকাতায়। কিন্তু তারপরই বুঝতে পারে হঠকারিতা হয়ে গেছে। ভরা যুবতী একটা মেয়েকে কলকাতার বুকে নিজের জিম্মায় রাখা অতটাও সোজা নয়।

কপালগুণে দালালের মারফত খোঁজ পায় পুরীর সমুদ্র সৈকতে একটা বাড়ি বিক্রি আছে। দ্বিধা থাকলেও ইচ্ছে ছিল হোমার নামে বাড়িটা কেনা হোক। কিন্তু পিছিয়ে আসতে হল দালালের কথায়। দালালের মতামত স্ত্রীর নামে নয় নিজের নামেই কেনা ভালো। একে মহিলা আপনার বাঁধা মেয়েমানুষ তায় মুসলমান। অঞ্চলের লোক জল ঘোলা করতে পারে। মোহিতের রুচিতে বাঁধে সম্পর্ক নিয়ে একটা আনপড় দালালের সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডায় জড়াতে। বাড়ি কেনা না হলেও বাড়ির নামকরণ হয় হোমাগ্নি। অনেকটা ভারমুক্ত লাগে।

হোমাকে পাঠিয়ে দিয়ে মাসান্তে একবার ওর খোঁজখবরের অছিলায় পুরী যাতায়াত লেগেই থাকে। মুখে স্বীকার না করলেও মানুষ নিজের মনকে ঠকাতে পারে না। মেনে নেয় হোমার প্রতি কেমন যেন দুর্বলতা তৈরি হয়েছে মনে। কিন্তু নেই কোনও শারীরিক চাহিদা। সম্পর্কটা শুধুই ভালো লাগার। নেই কোনও স্পর্শ সুখ। এক কথায় বলতে গেলে প্লেটোনিক লাভ। আবার প্রমাণিত এটা কোনও পুঁথিগত শব্দ নয়, বাস্তবেও সম্ভব।

ক্লান্তিকর অর্থহীন বিবাহিত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সময় পেলেই ছুটে ছুটে যায় পুরী। সারাদিন ধরে চলে বই পড়া, লেখালেখির কাজ, সমুদ্র স্নান। সুযোগ পেলেই হোমাকে নিয়ে শহরের পথে পথে ঘোরা। আর সন্ধ্যা হলেই মনপ্রাণ ভরে গান শোনে হোমার। মূর্তি পুজোয় বিশ্বাস নেই তাই জগন্নাথ দর্শনে বিশেষ আগ্রহ নেই। তবে খুঁজে খুঁজে দেখে বেড়ায় ছড়ানো ছিটোনো চৈতন্যদেবের লীলা ক্ষেত্রগুলো আর তাই নিয়ে চলে পড়াশুনো।

একঘেয়ে জীবনে কয়েকটা দিন ছন্দে কাটে। যদিও হোমার ভালো লাগে না এত বইপড়া। কিন্তু বাবুজি যখন গল্প বলেন পুরী শহরের, সাক্ষীগোপাল, কোনারক, ভুবনেশ্বর, সোনার গৌরাঙ্গ, গুন্ডিচা বাড়ির তখন ভারি ভালো লাগে। হোমা ভয় বলতে পারে না বাবুজিকে কিন্তু খুব ইচ্ছে করে চন্দ্রভাগায় গিয়ে সব পাপ ধুয়ে আসতে। ও যে শুনেছে কানহাইয়ার ছেলে শাম্বর গল্প। জগন্নাথদেবের নাম শুনলেই মাথায় হাত ঠেকায়। হোমা জানে ও মুসলমান বলে ওর মন্দিরে ঢুকতে মানা। কিন্তু বাবুজির ভালোর জন্য রোজ মন্দিরের সামনে গিয়ে পতিতপাবনকে বলে আসে। ও আধা মুখ্যু মেয়েমানুষ, ঠিক বুঝতে পারে না ওর আল্লা হিন্দু বাবুজির ভালো করতে পারবে কিনা। নিষ্কাম প্রেমের আকর্ষণে দুজনেই আকৃষ্ট দুজনের প্রতি।

কিন্তু খবর চাপা থাকে না। মহুয়ার কাছে ঠিক খবর পৌঁছে যায়। ভেতরে যাই সম্পর্ক থাক না কেন তাই বলে স্বামী রক্ষিতা পুষবে মেনে নেওয়াটা সহজ নয়। প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে ওঠে সারা শরীরে। আর সেটাই স্বাভাবিক। সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকলেও কাগজে কলমে এখনও সে বয়ে নিয়ে চলেছে স্বামীর পদবি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে এই পাপাচারের মূল্য চোকাতেই হবে মোহিতকে। এমন শাস্তি দেবে, সারাজীবনের মতো রেন্ডি পোষার শখ মিটে যাবে।

ঠান্ডা মাথায় খবরাখবর জোগাড় করে পৌঁছয় পুরী। তার আগের রাতেই মোহিত কলকাতার বাইরে গেছে। বুঝতে বাকি থাকে না কোথায় গেছে। বিকেল নাগাদ পুরী পৌঁছায় মহুয়া। সেদিন দারুণ দুর্যোগ শহরে। সারা ওড়িশা জুড়ে চলছে নিম্নচাপের প্রভাব। আবহাওয়া দপ্তর থেকে জারি করা হয়েছে সতর্কতা রাস্তায় না বেরোনোর জন্য। সমুদ্র নিকষ কালো। সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপাদাপি আর সমুদ্র গর্জন। মনে হচ্ছে আজ রাতেই চরাচর ধ্বংস হবে। রাত অবধি অপেক্ষা করে সাক্ষী রাখবে না বলে পায়ে পায়ে পৌঁছয় স্বর্গদ্বারের কাছে হোমাগ্নির দরজায়। ভিজে একেবারে কাকস্নান। বাড়িটার আটকাট বন্ধ চারিধার। কিন্তু সারা বাড়িটা যেন সুরের মূর্ছনায় কেমন ঝিম মেরে আছে। ক্রুর হাসি ফুটে ওঠে মহুয়ার ঠোঁটে। নিজেকেই বলে, অদ্যই শেষ রজনী গান শোনার। বেল বাজিয়ে অপেক্ষা করে দরজা খোলা অবধি। ব্যাস দুটো গুলি। লুটিয়ে পড়ে মহুয়ার ভাষায় বেশ্যা মাগিটা। তারপর সটান হাজির মোহিতের সামনে। প্রতিহিংসার আগুন নেভাতে নিজের কীর্তির কথা জানান দিয়ে ফিরতি পথ ধরে কলকাতার উদ্দেশ্যে।

পরদিন পুরীবাসি দেখে বাড়ির মালিক আত্মহত্যা করেছে দোতলার বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে, আর মুসলমান আওরাত খুন হয়েছে। কিছুটা তোলপাড় হলেও প্রমাণ ও তদবিরের অভাবে ধামাচাপা পড়ে যায় সব।

প্রথম বেশ কিছুদিন ঘটনা থিতিয়ে যাবার সময় দিয়ে মহুয়া যতবার চেষ্টা করে হোমাগ্নি হাতবদলের, বায়নার ঠিক আগেই হয় ক্রেতা অথবা বিক্রেতা অর্থাৎ হোমাগ্নির বর্তমান মালকিনের জীবনে কোনও অঘটন ঘটে, নয়তো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেউ সময় মতো পৌঁছতে পারে না। এছাড়া অভিশপ্ত বাড়ির দুর্নাম তো স্থানীয় লোকের মুখে মুখে ফেরে। সময়ের সঙ্গে প্রচার হয় হোমাগ্নি অভিশপ্ত। ভয় লোকজন বাড়ির ত্রিসীমানা মাড়ায় না কি দিনে কি রাতে। কিন্তু হতভাগ্য আত্মারা কোনওদিন কারও ক্ষতি করেনি।

সময় থেমে থাকে না। সময়ের আগেই জরা গ্রাস করে মহুয়াকে। তবে সবচেয়ে আগে যে দুটো হাত দিয়ে রিভলভার ধরেছিল, কোনও কারণ ছাড়াই সেই দুটো হাতের সমস্ত স্নায়ু শুকিয়ে হাত দুটো চিরকালের মতো পঙ্গু হয়ে যায়। ডাক্তার কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারে না। মহুয়াদেবীর শেষ ক’টা দিন কেটেছে নিদারুণ যন্ত্রনায়। শরীরটা জড় পদার্থের মতো হলে কি হবে মস্তিষ্ক ছিল একদম সজাগ। নিজের পাপাচারের জন্য দু’বেলা কেবল হা হুতাশ করতেন।

তবে আজও পুরীতে গভীর রাতে অনেকেই শুনতে পায় সপ্তসুর খেলে বেড়াচ্ছে হোমাগ্নির সারা বাড়িময়। নিজেদের মধ্যে লোকজন বলে হোমা গান শোনাচ্ছে ওর বাবুজিকে। কেউ জানে না যেদিন আর বাড়িটার অস্তিত্ব থাকবে না সেদিন ওই দুটি নরনারীর আত্মা মুক্তি পাবে কিনা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%