মনীষ মুখোপাধ্যায়
যা হতে চলেছে...
ঘড়ির কাঁটা যেন সরতেই চাইছে না। সেই কখন সে দেখেছিল ঘড়িতে বাজে ন'টা পঁচিশ, আর এতক্ষণ অপেক্ষার পরেও মাত্র ন'টা তিরিশ বেজেছে। সে জানে আজ সাজিদ আসবেই। সবরকম টোপ লোকটা অনায়াসে অগ্রাহ্য করে গেলেও ব্যবসার টোপ অবশ্যই গিলবে সে। সাজিদ যে ব্যবসা ছাড়া কিছুই বোঝেনা। লোকটার নারীর শরীর, মদ, গ্যাঁজা, রেস কিছুরই নেশা নেই। এমনকি টাকার নেশাও নেই। কিন্তু ব্যবসার নেশা লোকটা এড়িয়ে যেতে পারে না। এর আগে একবার সে লোক লাগিয়েছিল ওকে মারবার জন্য, কিন্তু সফল হতে পারেনি। বুদ্ধির জোরে পার পেয়ে গেছিল সাজিদ। আজ একেবারে দাবার মোক্ষম চাল চেলেছে সে। পাখি ধরাও পড়বে এবং জানেও মারা যাবে। সামনের পাটির একজোড়া সোনার দাঁত বার করে হাসল সে।
শীতের কারণে ডক অঞ্চল একটু তাড়াতাড়িই ফাঁকা হয়ে গেছে। দূরে লালার পরিত্যক্ত গদিটা শুধু দেখা যাচ্ছে। এই গদির সামনেই একদিন লালাকে মেরেছিল সাজিদ, আজ ওর শেষটাও সেই গদির সামনেই হবে। লোকটা রুমাল দিয়ে গলায় ফাঁস পড়াতে ওস্তাদ। সে সাজিদকে সেই সুযোগই দেবে না। তার কাছে পিস্তল আছে। সাইলেন্সারও জোগাড় করেছে সে বহু কষ্ট করে। এতে একটু খরচ বেশি হয়েছে যদিও, তাতে পরোয়া নেই। সে আস্তে আস্তে পিস্তলটার মুখে সাইলেন্সারটা লাগাল। চশমাটা ভালো করে নাকের ডগায় এঁটে নিল। এবার সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। শীতের কারণে ডকের কুকুরগুলোও কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমিয়ে আছে। এই হল আসল সুযোগ।
ক্ষয়াটে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় দেখা যাচ্ছে রাস্তাটা। সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে শয়ে শয়ে ট্রলার। তার মাঝখান থেকেই একটা সরু পথ এগিয়ে এসেছে এদিকে। ওই তো...ওই তো... ও আসছে! আঙুলের ফাঁকে জ্বলছে পাঁচশ পঞ্চান্ন ব্র্যান্ডের জ্বলন্ত সিগারেট। দুই বাঘের এক বাঘ সাজিদকে দেখা যাচ্ছে এবার স্পষ্ট। আজই এই বন্দর অঞ্চলের বুক থেকে চিরতরে ওর নামটা ইতিহাসের খাতায় পাঠিয়ে দিতে হবে। সে প্রস্তুত হল। একটা বাঘই আরেকটা বাঘকে মারতে পারে। বাঘকে মারা ইঁদুরের কাজ নয়। তাই আগের বার ওকে ভাড়া করা গুণ্ডাগুলো মারতে পারেনি।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন