ডুবুরি

বিনোদ ঘোষাল

নয়নতারা আসলে কী চায়? শ্যামল যদি না পসন্দই হত তাহলে বিয়ের আগেই ও বলে দিতে পারত। বেফালতু ঝামেলায় ডুবতে হত না। একে রোজগার এখন তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে তারমধ্যে ফট করে বিয়েটা করে পুরো ফেঁসে গেছে শ্যামল। ভেবেছিল বউয়ের সোহাগে কম রোজগারের জ্বালা খানিকটা কমবে। উলটো হয়ে গেল। জ্বালা তো কমলই না, বরং সারাক্ষণ বউয়ের ঝাড় মুখ দেখতে দেখতে আরও ল্যাদ খেয়ে গেল ভেতরটা। কিছুই আর ভালো লাগে না শ্যামলের। ইদানীং জলের তলায় আরও বেশিক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করে। যত শান্তি ওই জলের মধ্যে। ওপরে উঠলেই পৃথিবীটা বড্ড অন্যরকম।

নয়নতারা শ্যামলকে বিয়ের রাত্রেই বলেছিল এই তুমি একটা পাগল নয় তো?

এমন বলার যথেষ্ট কারণ ছিল। কারণ সেদিন আদর করতে করতে নয়নতারাকে শ্যামল হঠাৎ জিজ্ঞেস করেছিল তোমার জল ভালো লাগে?

কী?

মানে জলের মধ্যে ডুব দিতে ভালো লাগে?

জানি না ... আমি পুকুরে চান করি না। ভয় করে।

ভয়! এ বাবা জলকে আবার ভয় করে নাকি কেউ? তুমি সাঁতার জানো না?

না।

আমি কী কাজ করি জানো?

উ ... ম ম জানি, তুমি ডুবুরি।

হ্যাঁ। বলে এক মুহূর্তের জন্য যেন দম নেওয়ার জন্য ভেসে উঠে আবার লম্বা শ্বাস টেনে ডুব দিয়েছিল শ্যামল নয়নতারার ঘাম চকচকে খোলা শরীরে।

সোহাগের খোয়ারি খুব বেশিদিন গেল না, নয়নতারা প্রকাশ্যেই শ্যামলকে খ্যাপা-পাগল-মাথাখারাপ ইত্যাদি বলতে শুরু করে দিল। এবং পাড়ার লোককেও বলতে থাকল নয়নতারার বাবা ওকে ঠকিয়েছে। নিজের ঘাড় থেকে নামানোর জন্য জোর করে একটা পাগলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। রাতে আর একদিনের জন্যও কাছে আসতে দেয় না নয়ন।

পোড়া কলোনির লোক শ্যামলকে ভালোবাসে। তাই কেউ নয়নতারার কথায় তেমন পাত্তা দিল না। বরং কেউ কেউ বলল শ্যামলকে ভালোমানুষ এই সময়ে খুব একটা দেখা যায় না। একটু গোবেচারা আর আপনভোলা টাইপ। কিন্তু কত লোকের যে কত উপকার করেছে ও। প্রাণও বাঁচিয়েছে অনেকের। হ্যাঁ বখশিস পেয়েছে কিছু কিন্তু প্রাণের থেকে দামি আর কি আছে বলো। মানিয়ে নাও কী করবে বলো। এমনটাই পরামর্শ দিয়েছিল কলোনির কাকিমা দিদিমারা।

শুধু একজন বলেছিল আহা নয়নতারা তুমি বড়ো দুখি। তোমার কষ্ট আমি বুঝি। শ্যামলকে তো আর আজ থেকে চিনি না, ব্যাটা ছোটোবেলা থেকে ছিট খোপরি। যাকগে দু:খ কোরো না। মাথার ওপর ভগবান আছেন ঠিক দেখবেন। এতবড়ো সান্ত্বনাটা দিয়েছিল শ্যামলের ছোটোবেলার বন্ধু ছোটন। কলোনিতে বড়ো হলেও সেখানে থাকত না। কলকাতায় এক শেঠের খাস বেয়ারা হিসাবে কাজ করত। মাঝে মধ্যে বাড়ি ফিরত। বউ বাচ্চা সবই আছে এখানে। তবু টাটকা মেয়েমানুষের গন্ধ পেলে কুকুরে মতো নাক টানত। পাড়ায় আসলেই রংচং-এ জামাপ্যান্ট, চড়া গন্ধের পারফিউম মেখে ঠোঁটে সিগারেট লাগিয়ে এমন কায়কায় ঘুরে বেড়াত যেন ইরাকে চারটে তেলের খনি আছে। শ্যামলের বিয়েতেও এসেছিল। মাংস ভাত আর মাল খেয়ে সিগারেট ধরিয়ে বলেছিল বউদি তোমার হাতের রান্না খেতে আসব মাঝে মাঝে। শ্যামল বলেছে, তুমি নাকি বেড়ে রান্না করো। এসেছিলও একদিন। অনেক গল্প করেছিল। নয়নতারার সবথেকে পছন্দ হয়েছিল এরোপ্লেনে চাপার গল্পটা। এত সুন্দর করে এরোপ্লেনে চাপার গল্প পুরোটা বলেছিল ছোটন যে শুনতে শুনতে হাঁ হয়ে গেছিল নয়নতারা। বুঝলে তো বউদি বেল্টফেল্ট বেঁধে নেওয়ার পর যখন পেলেনটা হাইই করে ছুট লাগায় না শাল্লা পুরো সব মাথায় উঠে যায়। কি ইস্পিড মাইরি! তার কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখবে সবকিচু তোমার নীচে। রাস্তা ঘাট, বাড়ি বিরিজ সব তোমার নীচে কিলবিল করছে।

ইসস আপনার মাথা ঘোরেনি?

হ্যাঁ প্রথমবার বহুত ভয় লেগে গেছিল, এখন অভ্যেস হয়ে গেছে। বলে এমন একটা হালকা হাসি ছেড়েছিল ছোটন যেন রোজ প্লেনে করে লন্ডন আমেরিকা করে বেড়াচ্ছে।

কী দারুণ! অনেক টাকা লাগে না প্লেনে চাপতে?

হু তা লাগে, পা দিলেই দশ কুড়ি হাজার।

আপনার কি ভাগ্য।

আরে ঠিক আছে আপনাকেও চাপাব একদিন, কথাটা বলে ফেলেই ছোটন বুঝেছিল বাড়াবাড়ি বলা হয়ে গেছে।

এজন্মে আর হবে না।

আরে হবে হবে। ছোটন সর্দার কথা দিচ্ছে যখন তার মানে হব্বেই। লিখে রাখো।

তারপর থেকে মাঝেমধ্যেই আসতে শুরু করল ছোটন নয়নতারার কাছে। নানারকম গল্প শুনতে শুনতে শোনাতে শোনাতে কবে যেন নয়নতারা হয়ে গেল নয়ন আর ছোটন ঠাকুরপো হয়ে গেল ছোটু।

তোমাকে একদিন কলকাতা দেখাতে নিয়ে যাব। দেখবে কী মস্তি। শ্যামলটা শালা পাগলা। কত করে বলেছিলাম আমার সঙ্গে কলকাতা চ। শেঠের বাড়িতে কাজ কর ভালো পয়সা পাবি তা নায় করে শ্লা সারাদিন জলে ডুব দিয়ে সাঁতরে যাচ্ছে। কী যে ভালো লাগে ওর জলের তলায়। কী পায়।

ছোটুর সুন্দর গন্ধওলা লোমশ বুকে নিজের মুখ পিষতে পিষতে নয়ন আদুরে বেড়ালের মতো গড়গড়ে গলায় বলে মাক্কালী বলো, নিয়ে যাবে তো?

জল ভালোবাসে শ্যামল। সেই ছোট্ট থেকে। পাড়ার প্রাইমারি ইস্কুলে পড়ার সময় বাবা ফড়াল পুকুরে সাঁতার শিখিয়ে দিয়েছিল। জলের ওপর ভেসে থাকতে পারার আনন্দ যে কী যে পারে সেই একমাত্র বোঝে। মনে হয় যেন পুরো পৃথিবী জয় করা হয়ে গেছে। মরণভয়কেও। সাঁতার শেখার পর বন্ধুরা মিলে যখন গোটা বেলা পুকুরের জলে দাপাত শ্যামলের আনন্দ হত সবচেয়ে বেশি। ডাঙার থেকে জলে থাকতেই ভালোলাগত। আলকেউটের মতো হিলহিলে কালো শরীরটা নিয়ে মাছের মতোই তীব্র গতিতে সাঁতার দিতে পারত। চিৎসাঁতার হোক বা ডুবসাঁতার শ্যামলকেই গুরু মেনে নিয়েছিল বন্ধুরা। বুকের খাঁচায় ছিল অসম্ভব দম। চ্যালেঞ্জ নিয়ে এতক্ষণ জলে ডুবে থাকতে পারত যে শেষের দিকে ভয় হত বন্ধুদের জলের তলায় শ্যামল মরে গেল না তো। সেই ভাবনারও অনেকক্ষণ পর ভুসস করে উঠত ও।

তখন তেরো চোদ্দ বছর বয়েস হবে শ্যামলের। সেন বাড়ির বড়ো ছেলে নারু ফড়ালপুরে চান করতে এসে মধ্যমার দেড় ভরির আংটি পুকুরের তলায়। খোঁজ খোঁজ। কিছুতেই আর পাওয়া যায় না। পুকুরের পাড় পাঁকের রঙে কালো হয়ে উঠল। সবশেষে ডুব দিল শ্যামল। পাড়ার লোক সব ঝেঁটিয়ে চলে এল পুকুরপাড়ে। ভিড়ে ভিড়। শ্যামল একবার করে ডুব দেয় আর কালো জলের তলা থেকে মুঠো মুঠো পাঁক তুলে এনে শানবাঁধানো ঘাটের ওপর ফেলে দেখে আংটি উঠল কি না। পাক্কা দেড়ঘণ্টা জলে মানুষে টানাটানির পর ফড়াল হার মেনে শ্যামলকে ফিরিয়ে দিল আংটি। পাড়ার লোকে সাবাশি দিল, সেন বাড়িতে নেমন্তন্ন থাকল একদিন গুষ্টিশুদ্ধু। সঙ্গে বখশিস। চোদ্দ বছরে পাওয়া প্রথম এত খাতির আরও মন ভিড়ে গেল জলের দিকে। আর পাড়ায় আজ কারও বেনে পুকুরে বাসন হারিয়েছে কিংবা ঘাটলা পুকুরে তাপসী বউদির নথ, ডাকো শ্যামলকে। ঠিক বার করে দেবে। দিতও। মিস হত না একবারও। পুকুরের জল যেন নিজের থেকেই ফিরিয়ে দিত জিনিস। টাকা তো পেতই তারসঙ্গে হাততালি, প্রশংসা। বুকের থলি তখন আরও বড়ো হয়ে উঠত ওর। শুধু পাড়া নয় অনেকসময় বেপাড়া থেকেও ডাক আসত। পুলিশের কাজেও বেশ কয়েকবার চোরাই মাল তুলতে সাহায্য করেছে। একার সংসার সেই রোজগারে চলে যেত। তা ছাড়া মরার আগে একটা ছোট্ট ঘর আর কো অপারেটিভ ব্যাঙ্কে কিছু ফিক্সড ডিপোজিট রেখে গেছিল শ্যামলের বাবা। তাতে করে টেনেটুনে চলে যাচ্ছিল এতদিন। তবে বাবা চাইত না শ্যামল এই ডুবুরির কাজ করুক। অনেক চেষ্টা করেছিল ফ্যাক্টরিতে ঢোকানোর। কিন্তু ছেলে শুনলে তো? ফাঁক পেলেই জলের তলায় ডুব। কী যে পায়ে জলের ভেতর কেউ জানে না।

আসলে জলের তলায় ডুব দিলেই ঘোলাটে সবজে জলের রংটা যেন ভীষণ আপন আর স্বচ্ছ হয়ে উঠত শ্যামলের কাছে। জলের যত তলায় নামত ততই একটা অদ্ভুত চুপ একটা জগৎ। কোনো ঝগড়া নেই, চিৎকার নেই, অভাব নেই। সেই জগতে শ্যামল একাই রাজা। যতক্ষণ বুকের ভেতর দম আছে ততক্ষণ। বড্ড আপশোশ হয় মাছেদের মতো ওরও যদি একটা ফুলকা থাকত তাহলে আর ওপরে ডাঙায় ফিরে আসতে হত না। মাছের ঝাঁকের সঙ্গে ওই ঝাপসা অন্ধকার ঠাণ্ডা জলে ঘুরে বেড়াতে কী যে ভালো লাগে! কে বুঝবে? পাড়ার একেকটা পুকুরের জলের একেক রকম জল, একেক রকম চরিত্র। একেকরকম মেজাজ। সব মুখস্থ শ্যামলের। কোন পুকুর কোথায় লুকিয়ে রাখতে পারে জিনিস।

ছোটনের ঘন ঘন বাড়িতে আসাটা প্রথমদিকে খারাপ চোখে না দেখলেও একসময় ভালো না লাগতে শুরু করল শ্যামলের। নয়কে বলবে ভাবল। কিন্তু যা মুখ ওই মেয়ের কী উত্তর দেবে ভেবে না পেয়ে খানিকটা ভয়েই চুপ থাকত ও। এখন পাড়ার টাইম কল এসে যাওয়ায় পুকুরে চান করার, বাসন মাজার লোক কমে গেছে অনেক। বাড়িতেই সেরে ফেলে কাজ। ফলে পুকুরের তলায় জিনিসও হারায় কম, আর শ্যামলেরও ডাকও পড়ে কম। রোজগার কমে আসছে দিনে দিনে। কিছুদিন আগেও বাড়িতে যতক্ষণ তাকত নয়নতারার মুখ চলত অবিরাম। অকম্মার ঢেঁকি, কাজকম্ম করার মুরোদ নেই আবার বিয়ে করার শখ ইত্যাদি থেকে শুরু করে আরও অনেককিছু যা তা। এমনকি রাত্রে কখনও নয়নের দিকে একটু ঘেঁষতে গেলেই নয়ন দু-হাতে ঠেলে সরিয়ে দিযে বলে সরো তো, গায়ে পাঁকের গন্ধ তোমার। ইসস ম্যাগো।

এত ঘেন্না! আর আসব না কাছে ভেবেও পারে না শ্যামল। নয়নের শোলমাছের মতো হিলহিল করতে থাকা চকচকে শরীরটা দেখলেই কেমন যেন অবশ লাগে। আবার কাছে যেতে চায়। আবার ফিরে আসতে হয়। এভাবেই চলতে থাকে দিন। শ্যামল ভাবে নয়ন একদিন তো কাছে আসবেই। বিয়ের পর ছেলে মেয়ে হোক সব বউ-ই চায়। নয়নও চাইবে ঠিক একদিন। সেদিন কাছে টানবে শ্যামলকে। ভালোবাসবে। অপেক্ষা করে। করতে থাকে। নয়নের উপেক্ষা বাড়ে আর জলের ভেতর থাকাটাও যেন শ্যামলের বাড়তে থাকে দিনে দিনে।

দু-একদিনের বমির পরেই টের পেল নয়ন পেটে কিছু একটা এসে গেছে। ভয় পেয়ে গেল। যদিও ছোটু বলেছে এই মাসেই ওকে নিয়ে যাবে কলকাতায়। বিয়ে করবে ওখানে। কিন্তু কবে? স্টেশন রোডের টেলিফোন বুথ থেকে ছোটুর মোবাইলে একদিন ফোন করে জানাল সব কথা। ছোটু শুনে খুব আনন্দ পেল। বলল, শিগগিরই আসছে। বলে সেই যে ফোন রেখে দিল আর ফেরার নাম নেই। ফোন করলে তোলে না। একদিন ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে নিজেই চলে গেল ছোটুর বাড়িতে খোঁজ নিতে। ছোটু বউ যা নয় তাই বলল নয়নকে। তারমধ্যে খানকি শব্দটাও ছিল বারকয়েক। এতদিন ধরে পোড়া কলোনির ফিসফাস আলোচনাটা এবার মুখর হয়ে উঠল আরও। শ্যামলের কানেও গেল অনেক কথা। পাড়ার লোকেরা শ্যামলের ইয়ে নিয়েও টিটিকিরি দিল। আর সহ্য হল না ওর। একটা এসপার ওসপার করার ভাবনা নিয়ে একপেট দিশি চাপিয়ে সেই রাত্রে ঘরে ঢুকতেই আচমকা ওকে জড়িয়ে ধরল নয়ন। তারপর আদর আর আদর। এত আদর যে সব তালগোল পাকিয়ে গেল শ্যামলের। বলা হল না কিছুই। আদর করতে করতে নয়নের চোখের জলে বারবার ভিজে যাচ্ছিল ও।

তুমি কাঁদো কেন নয়ন?

এমনিই। শ্যামলের গায়ের ঘামে নেশা পাঁকের গন্ধ নিতে নিতে বারবার বলে উঠছিল তুমি বড়ো ভালোমানুষ ... বড়ো ভালো লোক গো। ... বড়ো ভালো...

ওই কথার মানে বুঝতে পারে না শ্যামল। শুধু ভাবে আজ বউটাকে যেন ভূতে পেয়েছে নইলে এমনি করে আঁচড়ে কামড়ে একাকার করে শ্যামলকে। কলোনির লোকগুলো সব মিথ্যুক। খালি বাজে কথা বলে নয়নের নামে। তবে হ্যাঁ এইবার যদি ছোটন আসে তবে সত্যিই ওকে দু-কথা শুনিয়ে দেবে। তাতে নয়ন যা মনে করে করুক।

আদর চুকে গেলে পর একসময় ঘুমিয়ে পড়ে শ্যামল। টের পায় না শেষ রাতে নয়নতারা খুব আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে বাইরে। এলোমেলো হাঁটতে থাকে। ঘাটলা পুকুরের পাশে বাড়ি ঝুমুর মা বাথরুম করতে বেরিয়ে দেখতে পায় নয়নতারাকে। এতরাতে মেয়েটা যাচ্ছে কোথায়? ডাকতে গিয়েও ডাকে না। কী দরকার? যা খারাপ মেয়ে!

এই পুকুরটা কোনোকালেই পছন্দের নয় শ্যামলের। পানায় ভরতি, ভারী জল। আর পুরো বাটির মতো পুকুরটায় নেমে দাঁড়ানো যায় না। সাঁতরে ভেসে থাকতে হয়। ভীষণ গভীর আর ঝাঁঝিতে ভরতি। তাই এই পুকুরে কখনওই নামে না ও। কিন্তু আজ সকালে একঘণ্টা ধরে ডুবছে আর মাঝে মধ্যে ভেসে উঠছে। ছোটো পুকুরটাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে কলোনির মানুষরা। কয়েকজন উর্দিপরা পুলিশও রয়েছে। ঠাণ্ডা জলের তলায় আবছা অন্ধকারে মাছের মতো পুকুরের এদিক ওদিক ডুবসাঁতারে এলোমেলো ঘুরতে থাকে শ্যামল। অদ্ভুত শান্ত-চুপ একটা জীবন। একদম নিজের। পাঁকে গেঁথে থাকা নিজের হারিয়ে যাওয়া দামি জিনিসটাকে অনেক অগে দেখতে পেয়েও ওপরে তুলে নিয়ে আসতে ইচ্ছে করে না। এই প্রথম একদিনের জন্য জলে নেমে শুয়ে রয়েছে মেয়েটা। মায়ের জলভরা পেটের ভেতরে যেমনিভাবে বাচ্চা ঘুমোয় নিশ্চিন্তে, ঠিক তেমনইভাবে ঘুমোচ্ছে। খোলা চুল জলের মধ্যে ঝাঁঝির মতো উড়ছে। বারবার মাছের মতো পাক খেয়ে ঘুরে ঘুরে নয়নকে দেখতে থাকে শ্যামল। ঘুরতেই থাকে।

সংবাদ প্রতিদিন

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%