খেলনাবাটি

বিনোদ ঘোষাল

গতকাল রাত্রে অফিস থেকে ফেরার সময় মোবাইলটাকে কিনেছিল অতনু। সেটা নিয়ে আজ সকাল সাড়ে আটাটার সময় ঘুম থেকে উঠে বিছানায় মহানন্দে খেলছে ভুট্টি। অতনুর আড়াই বছরের মেয়ে। ভালো নাম বিতনুকা চক্রবর্তী। মাস কয়েক আগে লোকাল একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভরতি করা হয়েছে। প্লে গ্রুপ এই স্কুলটায় এক বছর পড়াতে পারলে নাকি এর পরে ভালো স্কুলে টপ করে চান্স হয়ে যাবে। এই খবরটা এনেছিল কথা। অতনুর বিয়ে করা বউ। পঁয়ত্রিশ বছর বয়স। অতনুর থেকে পাঁচ বছর দুই মাসের ছোটো। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি হাইট, ফরসা, মোটামুটি সুন্দরী বলা যায়। ইংলিশে অনার্স গ্র্যাজুয়েট। মাস্টার্স করতে করতে বিয়ে হয়ে গেছিল। ভেবেছিল বিয়ের পর এম এ-টা কমপ্লিট করবে, হয়নি। ইচ্ছেটাই মরে গেছিল। আসলে কাগজে বিজ্ঞাপন দেখে সম্বন্ধ করে বিয়ে হলে কী হবে, বউভাতের পর দিন থেকেই অতনু এত কেয়ার নিত, এত ভালোবাসত কথাকে যে একমাত্র ভালোবাসা পাওয়া ছাড়া আর কোনো ইচ্ছেই কাজ করত না তখন। অতনু চক্রবর্তী একজন হ্যান্ডসাম লুকিং এমবিএ হাজব্যান্ড। বিয়ের সময় যে কোম্পানিতে চাকরি করত সেখানে স্যালারি খুব একটা মোটা ছিল না ঠিকই, তবে অতনু যেমন হার্ড ওয়ার্কিং আর সিনসিয়র তাতে একদিন যে ও সাইন করবেই সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল কথা। তাই ইনকমপ্লিট এম এ-র দু:খ ভুলে বিয়ের আনন্দটাকেই কমপ্লিট সংসারী করে তোলার জন্য কোমর বেঁধে ফিল্ডে নেমেছিল কথা। অতনু হেসে বলত তুমি হোম মিনিস্ট্রিটা সামলাও, বাকি সব আমি সামলে নেব। কথা খিল খিল করে হেসে উঠে অতনুর চওড়া বুকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলত, পাগল একটা!

এইভাবে হেসে ভেসে ডানলপের ভাড়াবাড়িতে বছর দেড়েক। ঠিকঠাক সেটল না হয়ে ইস্যু নেওয়ার কোনও মানেই হয় না। অতনু রোজ সকালের মধ্যে অফিসে বেরিয়ে যেত, সেই সেক্টর ফাইভ। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত্তির দশটা-এগারোটা। সারাদিন কথা বাড়িতে একা। একটানা টিভি দেখতে কাঁহাতক ভালো লাগে? সবসময় বই-ম্যাগাজিন পড়তেও মন বসে না। দুজনের সংসারে কাজ বলতেও তেমন কিছু নেই। ঘর মোছা বাসন মাজার মেয়েটা কাচাকুচিও করে দিয়ে যায়। একটা রান্নার লোকও রেখে দিয়েছিল অতনু। সুতরাং একা একা অলস দুপুর, অলস বিকেল, অলস সন্ধে ... এর মধ্যে আচমকা কখনও অতনুর ফোন আসত, — কী করছ?

কিছুই না। শুয়েছিলাম।

কীভাবে?

এই, আবার অসভ্যতা হচ্ছে!

ওদিক থেকে অতনুর হো হো হাসি। তারপরেই হয়তো বলে উঠত, এই এখন রাখছি। বস ডাকছেন। একটু পরে আবার ফোন করছি তোমাকে।

সত্যি সত্যিই পরের ফোনটার জন্য অপেক্ষা করত কথা। কিন্তু ফোনটা আর আসত না। প্রথম দিকে মন খারাপ করত, অভিমান জেগে উঠত মনে। কিন্তু শেষে সবই অভ্যাস হয়ে যাওয়া। অনেক রাতে বাড়ি ফিরে কোনোমতে ডিনার সেরেই আবার নিজের ল্যাপি নিয়ে বসে যেত অতনু। এম আই এস রিপোর্ট, বাজেট আরও কী সব কঠিন কঠিন অফিসের কাজ, ভারী ভারী কথা। বিছানায় শুয়ে থাকত কথা। তার পাশেই বালিশে ঠেস দিয়ে পা ছড়িয়ে অতনু। ওর কোলে সেই ল্যাপটপের অদ্ভুত নীলচে আলোয় ভরে থাকত গোটা চুপ-ঘরটা। গভীর মনোযোগ দিয়ে কত রাত পর্যন্ত কাজ করেই যেত ও।

এবার শুয়ে পড় প্লিজ। আর রাত জেগো না।

আর একটুখানি, প্লিজ।

একেকসময় ভীষণ বিরক্ত হয়ে কি-বোর্ডে ঝপাং ঝপাং আঙুল চালিয়ে সব এলোমেলো করে দিত কথা। অতনু সামান্য রেগে উঠত। আবার কখনও অনুরোধ করে প্লিজ আর হাফ অ্যান্ড আওয়ার প্রমিস বলেই কথাকে চুমু খেত। সেই চুমুতে শুধুই লালা থাকত, ভালোবাসা থাকত না। ঠোঁট মুছে অন্য দিকে পাশ ফিরে শুয়ে পড়ত কথা। ঘুমিয়েও পড়ত একসময়।

আমার আর ভালো লাগছে না অতনু প্লিজ ... বড্ড লোনলি ফিল করি। হাতের মুঠোয় দামি ব্ল্যাকবেরি মোবাইল সেটটা চেপে ধরে একদিন বলে ফেলেছিল কথা। মোবাইলটাকে গত মাসেই কথার জন্মদিনে কিনে দিয়েছিল অতনু। অজস্র ফিচার। শিখতে বেশ কিছুদিন সময় নিয়েছিল। সারাদিন খুটখাট, ভুলে থাকা। যেই জানা হয়ে গেল অমনি পুরোনো হতে শুরু করল জিনিসটা। বই পড়ার ধৈর্য নষ্ট হয়ে গেছিল আগেই। তারপর সিডি প্লেয়ার, আইপড, মোবাইলের নিত্যনতুন সেট, জিপিয়ার এস, এই স্কিম, ওই পাওয়ার রিচার্জ ... একটা সময়ের পর সব ব্যস্ততা হঠাৎ একা হয়ে যায়।

অতনু, কোথাও একটু আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে? আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।

খেপেছ নাকি! এই ইয়ার এন্ডিং-এর সময় মরবার টাইম নেই আমার!

আমার কিন্তু মরার টাইম আছে। কথাটা ঠান্ডা গলায় বলেছিল কথা।

কী যা তা বলছ! আচ্ছা বেশ এই কোয়ার্তারটা একটু সামলে নিই, এবার বরং পুজোর সময় ...

আমার কিন্তু এখন বেড়াতে ইচ্ছে করছে অতনু।

তাহলে ইচ্ছেটাকে একটু বোঝাও প্লিজ। ঠিক বুঝবে। আচ্ছা নেক্সট মানথে যদি টার্গেট অ্যাচিভ করতে পারি তবে তোমাকে একটা দারুণ গিফট দেব।

কথা চুপ।

কী গিফট এক্সপেক্ট করো বলো তো?

পারলে একটু সময় দিও।

পরের মাসের মাঝমাঝি একটা পিংক কালারের ল্যাপটপ গিফট করেছিল অতনু। ওর প্রমোশন হয়েছিল। স্যালারি হাইক। আই শ্যাল গো টু দ্য টপ, দ্য টপ, দ্য টপ। আরও ব্যস্ততা। শুধু মানসিক নয়, দুজনের শারীরিক যোগাযোগটাও কমে যাচ্ছিল দিনে দিনে। কথাকে জোর করে ল্যাপটপ কী করে অপারেট করতে হয় শিখিয়ে দিয়েছিল অতনু। কথা বুঝতে পারত এই সব গ্যাজেট দিয়ে আসলে অতনু নিজে রেহাই পেতে চায়। বেশ তাই হোক। ফেসবুক, স্কাইপি, দেশ-বিদেশের হাজার খানেক বন্ধু কিছুদিনের মধ্যেই কথার প্রাোফাইলে। কেউ শাহরুখ, কেউ টম ক্রুজ, কারও প্রাোফাইলে আবার শুধুই দুই চোখ কিংবা ঠোঁট। বিচিত্র এক জগৎ! এরা কি সবাই কথার মতোই একা? রাত্রে একেকদিন এমনও হত কথা আর অতনু একই খাটের দু-প্রান্তে মুখোমুখি বসে যে যার ল্যাপটপে। অতনু কঠিন কোনো প্রাোজেক্টের কাজে আর কথা চ্যাটিং-এ। নি:শব্দ ঘরটায় শুধু কি-বোর্ডের খুটখাট শব্দ। আঙুলে আঙুলে কথা হচ্ছে বহু দূরের কোনও বন্ধুর সঙ্গে আর সব থেকে কাছের মানুষটা বিছানার ওপ্রান্তে।

আচ্ছা অতনু, আমরা কেমন হয়ে গেলাম তাই না?

কেমন হয়ে গেলাম? স্ক্রিনে চোখ রেখেই পালটা প্রশ্ন ছিল অতনুর।

তুমি নিজে কিছু ফিল কর না? আমরা কত দিন হয়ে গেল কেউ কারোর সঙ্গে থাকি না। শুধু এই ... এইগুলোই রয়েছে আমাদের লাইফে। বলতে বলতে নিজের ল্যাপিটা দু-হাতে তুলে ধরে বিছানার ওপরেই আছড়ে ফেলেছিল কথা। একটু চমকে উঠেছিল অতনু। হোয়াট হ্যাপেন্ড? এত একসাইটেড হয়ে পড়ছ কেন?

আমাকে সত্যি সত্যি আর একটুও ভালোবাস না তুমি, আমি জানি। এত তাড়াতাড়ি পুরোনো হয়ে গেলাম এই গ্যাজেটগুলোর মতো! গলা বুজে এসেছিল কথার।

অতনু কয়েক মুহূর্ত থমকে শুনেছিল। তারপর মুচকি হেসে বলেছিল, বুঝেছি। বলে নিজের ল্যাপটপটা অফ করে সাইডে রেখে দিয়ে এগিয়ে এসেছিল কথার কাছে। অনেক অ-নে-ক দিন পর নিজের শরীরে টেনে নিয়েছিল কথার শরীর। মিশিয়ে দিয়েছিল নিজেকে কোনো প্রিকশন ছাড়াই। অবাক হয়েছিল কথা। তীব্র আশ্লেষে অতনুকে প্রাণপণ হাতড়াতে হাতড়াতে বারবার মনে আসছিল অতনু কি সত্যিই আনন্দ পাচ্ছে? না কি স্রেফ কথার জন্যই ...?

তুমি কিন্তু প্রাোটেকশন ...

জানি। আজ থাক। চিবুক বেয়ে ঘামের ফোঁটা চুঁইয়ে পড়ছিল কথার ঠোঁটের ওপর।

কেন ... ও? ডুবে যেতে যেতে বলেছিল কথা। বারবার কেঁপে উঠছিল দেহভূমি দীর্ঘ খরার পর আকস্মিক বর্ষণে।

এমনই ... তোমার আসলে এবার একটা জ্যান্ত খেলনা দরকার। একদম জ্যান্ত।

শুনে আবার কেঁপে উঠেছিল কথা। অন্যরকম, একেবারে অন্যরকমভাবে।

ন-মাস তেরো দিনের মাথায় সিজার করে ভুট্টি এল। অতনু ততদিনে নতুন অফিসে জয়েন করেছে। মোটা স্যালারি, কোম্পানির দেওয়া স্যান্ট্রো।

তুমি এবার খুশি, কথা?

হুঁ, তুমি?

হ্যাঁ। তুমি কতটা খুশি?

অনে-ক।

অতনু নিশ্চিন্ত।

এবার প্লিজ যদি পার একটু ...

কী?

নাহ কিছু না। কথা চুপ করে যায়।

একবছর-দুবছর-আড়াইবছর ... একই কক্ষপথে ঘুরে যায় পৃথিবী। কখনও তার ইচ্ছে করে না নিজের বৃত্তটুকু ছেড়ে মহাকাশের অন্য কোথাও কয়েক আলোকবর্ষ দূরে কিছুদিন একটু অন্যরকম কাটিয়ে আসতে। কথা, অতনুও একই বৃত্তে। শুধু ওজন স্তরে ফুটো হওয়ার মতোই, বনভূমি ধ্বংস হওয়ার মতোই, জলের স্তর অনেক নীচে নেমে যাওয়ার মতোই ওদের জীবনেও অনেক চেঞ্জ, অনেক পরিবর্তন। অতনু চক্রবর্তী এমএনসি-র প্রাোজেক্ট ম্যানেজার। চোখের তলায় পাতলা কোলবালিশ। অ্যালকোহলিক ভুঁড়ি। কলকাতায় থাকা হয় খুব কম। বেশিরভাগ সময়ই দিল্লি, পুণা, মাদ্রাজ, মুম্বাই, ব্যাংকক। রাজারহাটের নতুন কেনা ফ্ল্যাটটা তিন হাজার স্কোয়ারফুট। ইলেভেন্থ ফ্লোর। ব্যালকনি থেকে নীচের দিকে তাকালে সব পিঁপড়ের মতো মনে হয়। একটা আরাম লাগে মনে। অতনুর অফিস ট্যুর-এর প্রত্যেকটায় সেক্রেটারি শিরিন থাকে। ভারী ভালো এই বছর তিরিশের মেয়েটি। সেপারেটেড। কোনো কিছুতেই না নেই। অতনুর তিনটে মোবাইল, দুটো ল্যাপটপ, একটা স্কোডা, ছটা রিস্টওয়াচ, তার মধ্যে একটা রোলে একটা র‌্যাডো। ফ্লাটে দেয়াল জোড়া প্লাজমা, সেন্ট্রালাইজড এসি, ডবল ডোর ফ্রিজ ... সওব আছে। বাড়িতে থাকলে কথার সঙ্গে দেখা হয়। কথাও হয় টুকটাক প্রয়োজন মতো। কোনো ঝগড়া নেই অভিমান নেই। একেবারে কনকনে ঠান্ডা ফ্যামিলি। এখন কথারও ব্যাস্ততা বেড়েছে অনেক। সপ্তাহে দু-তিনদিন কিটি পার্টি, বিউটি পার্লার, দুটো মোবাইল। টুজি-থ্রিজি। বাড়িতে থাকলে ল্যাপটপে ইনটারনেটে গোটা দুনিয়া। সহস্র ছায়া-বন্ধু। মাঝেমধ্যেই শরীরে জেগে ওঠা আগুনকে সঙ্গ দিতে নি:সঙ্গ জীবনে বন্ধু চাই-এ একবার অন লাইন রেজিস্ট্রেশনও করেছিল কথা। ভীষণ ভীষণ ইচ্ছে করেছিল নষ্ট মেয়ে হয়ে যেতে। কিন্তু নষ্ট হতে গেলেও সেই জ্যান্ত পুরুষ মানুষেরই দয়া-সাহায্য লাগবে মনে হতে তারপর আর এগোয়নি। ভুট্টিরও খেলনা বেড়েছে অনেক। টয় ট্রেন থেকে জেট প্লেন, টেডি বিয়র, বার্বি-অনেক অনেক কিছু। তবু আড়াই বছরের অপদার্থ মেয়েটা এত খেলনা পেয়েও সারাদিন একা ভুলে থাকতে পারে না। খেলতে খেলতে হঠাৎ হঠাৎ মাম্মাহ ... বাব্বাহ বলে কাঁদতে শুরু করে দেয়। ঘুমের মধ্যেও ফুঁপিয়ে ওঠে একেক রাত্রে।

চ্যাটের থেকেও স্কাইপি বেশি প্রিয় কথার। অন লাইন হলেও কখনও পুণা থেকে আয়ান ভার্গব বলে ওঠেন-হ্যাল্লো সুইট হার্ট, আয়াম ডাইং।

কেন? স্লিভলেস নাইটি পরে ল্যাপের সামনে ঝুঁকে মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করে কথা।

তোমার জন্য। সাতচল্লিশ বছরের ভার্গব উত্তর দেয় ওদিক থেকে।

ওহ রিয়্যালি?

ইয়েস। প্লিজ আমাকে একবার কিস কর।

ইউ নটি।

প্লিজ একবারের জন্য কাছে এস।

ওক্কে। কথা মুখ বাড়িয়ে আনে ল্যাপির স্ক্রিনের সামনে। ওদিক থেকেও ভার্গবের মুখ এগিয়ে আসে। লেন্সের সামনে আসতেই মুখটার প্রপোরশন ভেঙে গিয়ে বিকৃত হয়ে ওঠে। ঠিক যেন একটা কার্টুন। মোটা গোঁফ, ড্যালা ড্যালা চোখ, বিকট পুরু কালচে ঠোঁট দুটোর চুমু খাওয়ার ভঙ্গি। কথার হেডফোনে মু ... আআহ করে শব্দ হল। চুমু খেল ভার্গব। তারপরেই ওকে ছেড়ে দিল কথা। হায়দ্রাবাদের বিকাশ চৌধুরির কলটা রিসিভ করল।

হাই কথা।

হ্যালো বিকাশ। আফটার লং টাইম। কী খবর?

পরে বলছি। আগে তুমি কেমন আছ বলো?

ভালো না।

হোয়াই?

কতদিন তোমাকে আদর করি না।

হি হি হি।

আচ্ছা তুমি একটা কথা বলবে?

কী কথা?

তুমি যে বলো ইয়োর হাবি ইজ অলটাইম বিজি ম্যান। দেন হাউ ডু ইউ ম্যানেজ?

মিন?

মিন ইউ লিভ এ টোটালি ভেজ লাইফ।

ধ্যেৎ, কে বলল ভেজ লাইফ কাটাই?

দেন ইউ ট্রাই আনাদার গাইজ। অ্যাম আই রাইট?

নো স্যার। আই হেট অল দ্য জ্যান্ত পুরুষ মানুষ। দে অল আর সেম।

দেন? স্ক্রিনে বিকাশের মুখটাও ভ্যাবলা হয়ে যায়।

আই গট আ বেটার অলটারনেটিভ। হি হি হি। নাউ নো মোর কোশ্চেন প্লি ... জ।

ওকে। এবার তোমাকে একবার দেখতে চাই।

দেখছ তো।

এভাবে নয়, ওই ভাবে।

বুঝলাম না।

ওহ প্লিজ ডোন্ট প্রিটেন্ড। তুমি ভালোই জানো আমি কীভাবে দেখতে চাই। কাম অন ইটস এ গেম।

আই নো বিকাশ ইটস এ গেম। অ্যান্ড দ্য গেম বিগিনস বলে হাসির ফোয়ারা তুলে নাইটির প্রথম বোতামে হাত দেয় কথা। তখনই মাম্মাহ আমা গালি কই? ভুট্টি এসে দাঁড়িয়েছে নীল ফ্রক, মাথায় ঝুঁটি। ওর খেলনা গাড়িটা খুঁজে পাচ্ছে না।

দুটো বেডরুম। একটায় অতনু একা শোয়। পাশেরটায় ভুট্টিকে নিয়ে কথা। দুজনের ঘরে আলাদা ওয়ারড্রোব। একজন আরেকজনের ঘরে যাওয়ার খুব একটা দরকার পড়ে না। অতনু নেক্সট মান্থে স্টেটসে যাবে কোম্পানির ডেলিগেট হয়ে। তারই প্রজেক্ট ওয়ার্ক চলছে এখন। প্রচুর চাপ। সকালে ড্রয়িংরুমে বসে ল্যাপিতে ওয়ার্কিং করছিল ও। ভুট্টি কথার বেডরুমের খাটের ওপর বসে নিজের যাবতীয় খেলনা সাজিয়ে খেলায় ব্যাস্ত। গতকাল এনে দেওয়া মোবাইলটা খুব পছন্দ হয়েছে ভুট্টির। সুইচ টিপলেই লাল আলো জ্বলে ওঠে আর সেই সঙ্গে হ্যালো হু আর ইউ হ্যালো হু আর ইউ! শুনেই প্রতিবার খিল খিল করে হেসে উঠছে ভুট্টি। কথা একটু আগেই ভুট্টির সঙ্গে খেলছিল। তারপর হঠাৎ একটা ফোন আসতেই মোবাইলটা কানে ধরে খুব দ্রুত ব্যালকনিতে চলে গেল। ব্যালকনির দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। কার ফোন? প্রশ্নটা ক্ষীণভাবে একবার অতনুর মাথায় এসে পরক্ষণেই মিলিয়ে গেল। কাজ করতে করতে অতনুর হঠাৎ খেয়াল হল সিগারেটের প্যাকেটটা বেডরুমে রয়েছে। ল্যাপিটাটি টেবিলে নামিয়ে রেখে উঠল অতনু। নিজের বেডরুমে ঢুকতে গিয়ে আলগোছে একবার কথার ঘরের দিকে তাকাতেই দেখল ভুট্টি খাটের ওপর নেই। কোথায় গেল! কথার ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল ও। ভুট্টি কখন যেন বিছানা ছেড়ে মাটিতে নেমে এসেছে। মেঝেতে থেবড়ে বসে কথার বেখেয়ালে খুলে রেখে যাওয়া ওয়ারড্রোব থেকে শাড়ি-সালোয়ার সব টান দিয়ে নামিয়েছে। আর ওর হাতে ... ইলেকট্রিক শক খাওয়ার মতো শিউরে উঠল অতনু। ভুট্টির হাতে মায়ের ওয়ারড্রোব ঘেঁটে বার করা একটা নকল রাবারের পুরুষাঙ্গ, সেক্সটয় শপে যাকে ডিল্ডো বলে। জিনিসটাকে দু-হাতে চেপে ধরে ছোটো ছোটো দাঁতগুলো দিয়ে প্রাণপণে কামড়াচ্ছে ভুট্টি। জিনিসটা ওর লালায় মাখামাখি। বাবাকে দেখতে পেয়ে হি হি করে হেসে উঠল। ছিটকে ঘরে ঢুকে মেয়ের দিকে হাত বাড়াতে যেতেই নিজের হাতের ওপর ছায়া পড়ল অতনুর। দরজার সামনে কথা এসে দাঁড়িয়েছে। বুঝতে পারল, কিন্তু পিছন ফিরে তাকাতে পারল না।

রবি

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%