বালিশ এবং চোখের জল

বিনোদ ঘোষাল

ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসল অনিমেষ। জিভটা শুকিয়ে টাগরায় আটকে গেছে। স্যান্ডো গেঞ্জি ঘামে ভিজে উঠে গায়ে সেপটে। উঠে বসেই আগে নিজের দু-চোখে হাত দিল। তারপর চোখ থেকে গড়িয়ে গালে। ভালো করে ঘষল। নাহ তো ... একটুও নেই! তাহলে কি এর মধ্যেই শুকিয়ে গেল? এত তাড়াতাড়ি? জিভটায় একটু লালা মাখিয়ে আপ্রাণ বাইরে বার করে নিজের দু-গাল চাটল। অল্প দাড়ির শুকনো খড়খড়ে অনুভূতি মাত্র। বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ল। জানলার কাচে ভোরের রং। টিউব জ্বালিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটা খুব খুঁটিয়ে দেখল ও। ... নাহ ঘুমজনিত লালচে চোখে সেই কাঙ্খিত তরলটির লেশমাত্র নেই। কিন্তু অনিমেষ ঠিক স্পষ্ট শুনেছে ও আজ কেঁদেছে। হ্যাঁ একটা স্বপ্ন দেখতে দেখতে ও কাঁদছিল। সেই ফোঁপানোর শব্দ আর্ধেক ঘুম আর আর্ধেক চেতনার মাঝে শুনেছে। হ্যাঁ, আজকেও শুনেছে এই ক-দিনের মতন।

স্বপ্নটাও প্রায় মুখস্থর মতো হয়ে গেছে। দিন কুড়ির আগে ওই দৃশ্যটা। তৃষা বিছানায় টানটান চিৎ হয়ে শুয়ে। চোখদুটো আধবোজা। ঠোঁট সামান্য ফাঁক। ঠোঁটের কষ পুড়ে গেছিল অ্যাসিডে। পুরো এক বোতল অ্যাসিড ছিল তৃষ্ণার পেটে। সেই রাত্রে বাড়ি ছিল না অনিমেষ। গ্রুপের শো ছিল বর্ধমানে। অনিমেষ ভালো অভিনেতা। একদিন ঠিক সিনেমায় চান্স পেয়ে যাবে। দেখতেও মোটামুটি সুদর্শন। একটা টিভি সিরিয়ালে নায়িকার শ্বশুরের ভূমিকায় সামান্য চান্স পেয়েছে। গ্রুপ থিয়েটারের বেগার আর ভালো লাগে না। ভিখিরির গুমোর, থিয়েটারের লোকগুলোর।

পাশের বাড়ির সমীরণ ফোন করে জানিয়েছিল, অনিমেষদা, শিগগির বাড়িতে এসো ... বউদি। পিয়ালী বলেছিল এত রাত্রে একা যেও না অনিমেষদা। কাল ফার্স্ট ট্রেনে বরং ... প্রচণ্ড দু:খে সে রাত্রে পিয়ালীর বুকে মাথা রাখতে গিয়ে অনিমেষ অনুভব করেছিল ওইখানটা তৃষার থেকেও অনেক বেশি উষ্ণ-কোমল। ডিরেক্টর প্রলয়দা খবরটা শুনে ডিসিশন নিয়েছিলেন শো অফ করে দেবেন। কারণ এই অবস্থায় অনিমেষকে স্টেজে উঠতে বলা অমানবিক। কিন্তু ও বলেছিল না প্রলয়দা, এতগুলো লোকের এতদিনের পরিশ্রম, আশা আমার একার জন্য বন্ধ হতে দিতে পারি না। স্টেজে সেদিন অন্যদিনের শো-গুলোর মতোই দারুণ অভিনয় করেছিল ও। শো শেষে প্রলয়দা দর্শকদের কাছে মাইকে ঘোষণা করে জানিয়েছিলেন অনিমেষের স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যু এবং তা সত্বেও একজন অভিনেতার দায়িত্বজ্ঞান, কর্তব্যের কথা। যজ্ঞেশ্বরে উত্তমকুমারের উপমাও টেনেছিলেন তিনি। সমস্ত দর্শক একাধারে শোকাহত এবং মুগ্ধ হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেছিলেন একজন কর্তব্যপরায়ণ অভিনেতার মৃত স্ত্রীর আত্মার শান্তি কামনায়। অবশ্য মাইকে অ্যাসিডের প্রসঙ্গটা উল্লেখ ছিল না। হৃদযন্ত্র বিকলের কথা বলা হয়েছিল।

কিন্তু তৃষাকে তো ভালোবাসত অনিমেষ। ভালোবাসত বিয়ের বছর তিনেক আগে থেকেই। যখন দুজনেই লাইব্রেরিতে যেত। তৃষার ডিপ্রেসানের রোগটাও খুব ভালো করে জানত ও। সেই সমেতই ভালোবাসত। বিয়ে করেছিল। বিয়ের কিছুদিন পর মফসসলের পৈতৃক পুরোনো বাড়ি ছেড়ে দমদম মেট্রো স্টেশনের সামনে ঘর ভাড়া নিয়েছিল। মাঝেমধ্যে নিজের বাড়ি যাওয়া হত এবং নিয়মিত বাবার অ্যাকাউন্টে প্রতিমাসে বার্ধক্যভাতা স্বরূপ কিছু টাকা জমা দেওয়া। তৃষার অবশ্য দমদমের থেকে উত্তরপাড়াই, মানে নিজের শ্বশুরবাড়িই ভালোলাগত বেশি। দেখ বাড়ির সামনে এত গাছ, পুকুর ... ওখানে তো শুধু ধুলো আর প্যাঁকপোক শব্দ ... বাড়ি ... উফ ...

তো কী হয়েছে? যাওয়া আসা রোজের কতটা আরামের বল তো, সামনেই দমদম মেট্রো স্টেশন। ট্রেনে উঠে সিধে অফিস। কতটা সময় বাঁচে।

মন না বাঁচলে আর সময় বাঁচিয়ে কী করবে? অক্ষম তর্ক করত তৃষা গোড়ার দিকে। তারপর ধীরে ধীরে চুপ হয়ে গেছিল। অনিমেষ আশা করেছিল বিয়ের পর তৃষার ডিপ্রেসনের ব্যাপারটা কেটে যাবে। অদ্ভুত ভাবে মাঝেমধ্যেই আসত রোগটা। বেশ স্বাভাবিক চলছে। হঠাৎ একা একা হয়ে যেতে শুরু করত তৃষা। কথা প্রায় মুখে নেই-ই। তখনি অনিমেষ আন্দাজ করত ওই-ওই আবার ঘাড়ে চাপছে, এবার চলবে বেশ কিছুদিন। ওষুধপত্রের পর ডাক্তার বার বার বলতেন স্ত্রীকে আনন্দে রাখুন। রিল্যাক্সে রাখুন। সময় দিন। সব ঠিক হয়ে যাবে। তো সময় পেলেই তো সময় দিত অনিমেষ। এই ক-বছর সার্কাস চিড়িয়াখানা-বইমেলা-আইনক্স-শ্রীরাম আর্কেড অনেক কিছুইতো ঘুরিয়েছে তৃষাকে। ব্যান্ডেলে শ্বশুরবাড়ি অনিমেষের। মহসিন কলেজে পড়েছে তৃষা। বিয়ের আগে কদিনই বা জীবনে কলকাতা এসেছে। সব তো অনিমেষই দেখিয়েছিল ওকে। স্ত্রীকে আনন্দে রাখুন' এর জন্য।

কিন্তু এতকিছু করেও তৃষার রোগটা গেল না। কেন যে গেল না জানা নেই। শেষের বছর দুয়েক ও প্রায় সারাক্ষণই কোনো আনন্দই পেত না কখনও। বোধ হয় দু:খও নয়। কনসিভ করেছিল। চারমাসের মাথায় বাথরুমে পা পিছলে বিচ্ছিরি অ্যাক্সিডেন্ট হয়ে মিসক্যারেজ। মা হবার সম্ভাবনা চিরকালের মতো ঘুচে গেছিল। তখনও খুব একটা দু:খের প্রকাশ ঘটেনি তৃষার। আসলে আশ্চর্যভাবে তৃষাকে কখনও কাঁদতে দেখেনি অনিমেষ। ভীষণ অস্বস্তিকরভাবে কখনোই কাঁদত না। ভোঁতা হয়ে তাকিয়ে থাকত শুধু কোনো শোকের আবহে। মিসক্যারেজ হবার দিন দশেক পর মাস দেড়েক আগে করা ওর আলট্রা সোনোগ্রাফির প্লেটটা তৃষাকে বেশ কয়েকবার নাড়াচাড়া করতে, টিউবলাইট কিংবা দিনের বেলায় জানলার সামনে তুলে ধরতে আড়ালে লুকিয়ে দেখেছে অনিমেষ। তৃষার জলভরা অন্ধকার পেটে সেই এক আঙুল মাপের প্রাণটার নেগেটিভ প্লেটটাকে দেখে অনিমেষ কেঁদে ফেলেছে হু হু করে। কিন্তু তৃষা কাঁদেনি। ভয় লাগত তখন অনিমেষের। মেয়েটা আদৌ মানুষ তো? অস্বস্তি হত পাশে থাকতে। তারপর থেকেই বাড়িটা আর ভালো লাগত না অনিমেষের। বেশিরভাগ সময়ই থিয়েটারের রিহার্সাল, আড্ডা-অফিস এ সবেই ডুবে থাকতে ইচ্ছা করতে বেশি বেশি। পিয়ালীর ফোন আসলে প্রথম প্রথম অনিমেষ ঘরের বাইরে গিয়ে কথা বলত। তারপর আর সেটাও করত না। প্রায় তৃষার পাশে বসে-শুয়েই কথা বলত ফোনে পিয়ালীর সঙ্গে। তৃষা কিচ্ছুটি বলত না। শুধু মাঝেমধ্যে ফ্যালফ্যাল করে তাকাত অনিমেষের দিকে। আরও অসহ্য লাগত তখন। অনিমেষ বুঝতে পেরেছিল আসলে তৃষার কোনো দু:খের অনুভূতিই নেই। হয় না। তাই অনিমেষের চল্লিশ বছরের জীবনের মধ্যে আট বছর বিবাহিত জীবন পার করারপর তুমি ঠিক কীই ... কী চাও বলতে পার? প্রশ্নের সামনে তৃষা স্রেফ মাথা নীচু করে তাকিয়ে থাকত ফেল করা ছাত্রীর মতো। পিয়ালী বলত অত আপসেট হয়ো না অনিমেষদা। আমি, মানে আমরা আছি তো তোমার সঙ্গে।

অনিমেষ ছিল বড়ো খুতখুঁতে স্বভাবের, বিশেষ করে অভিনয়ের ব্যাপারে। প্রত্যেক নতুন নাটক ধরার পর ও নিজের চরিত্রের সংলাপ বাড়িতে একা একা রিহার্সাল দিত। রিসাইটেশন রেকর্ড করত টেপে। প্লে চালিয়ে নিজের বলা সংলাপ বারবার শুনত। ত্রুটি বার করে সেখানে সংশোধন করত। বিয়ের পর পর অনিমেষের এমন কাণ্ড দেখে খুব হাসত তৃষা। বলত তুমি পারোও বাবা। শুধু তোমার হাসি-কান্নার ক্যাসেটেই ভরতি গোটা বাড়িটা। সে হাসিতে যোগ দিয়ে তখন অনিমেষ বলত তুমিও রেকর্ড করবে নাকি? চলে এসো তাহলে? দরকার নেই বাবা আমার ও-সব রেকর্ড-ফেকর্ডে, হি-হি। পরের দিকে এই কথাগুলো গতজন্মের স্মৃতি মনে হত অনিমেষের। এবারে সিজিনে টানা শো ছিল। তৃষার সেই প্রবলেমটাও জেগে উঠেছিল সেই সময়। অনিমেষ বলেছিল বাপের বাড়ি গিয়ে কদিন থাকতে। তৃষা যায়নি। টয়লেটের কমোড-বেসিন পরিষ্কার করার জন্য এবার অনিমেষ হঠাৎ কেন অমন কড়া এক বোতল সাদা অ্যাসিড এনেছিল জানা নেই এবং তৃষাকে বারবার সাবধান করেছিল খবরদার তুমি ওই অ্যাসিডটায় হাত দেবে না। খুব সাংঘাতিক জিনিস কিন্তু। একটু ঠেকলেই ব্যস'

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তৃষাকে সাবধান করার জন্যই বারবার বলেছিল, সেটাই বিশ্বাস করে ও। এবং আজীবন করবেও। পিয়ালী তোমার লিপস্টিকটার টেস্ট বেশ মিষ্টি তো! ট্যাক্সিতে যেতে যেতে মুচকি হেসে বলেছিল অনিমেষ।

কিন্তু আমি তো আজ লিপস্টিক দিইনি।

ও তাই! এমনিতেই তাহলে ... হা - হা।

রাত্রে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়ার পরেই ঘুম এসে যেত অনিমেষের। তৃষাও নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়ত গভীরভাবে। কারণ ও শোবার পর একটুও নড়াচড়া করত না। মৃতের মতো স্থির থাকত ওপাশ ফিরে। ঘুমোতোই নিশ্চয়। জাগ্রত মানুষ এত স্থির থাকতে পারে না। ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ত অনিমেষ। কিন্তু এসবের মানে কি দুজনের মধ্যে ভালোবাসা একটুও ছিল না? বেশ ছিল না, কিন্তু আর কিছু না থাক অভ্যাসের কারণে যে একটা সহজাত টান তৈরি হয় সেটা তো ছিল। সেই সূত্র ধরেই তৃষার মৃত্যুর পর নিজের কাছে কিছুটা চোখের জল বা কান্না আশা করেছিল অনিমেষ, কিন্তু হয়নি। অদ্ভুতভাবে একটুও কান্না পায়নি অনিমেষের। শুধু এক অজানা অস্থিরতা ছাড়া। কেউ ভেবেছিল অনিমেষ তার স্ত্রীর আত্মহননের শোকে পাথর হয়ে গেছে। কিন্তু কুড়ি দিন প্রায় পার হয়ে যাবার পরে তৃষার শত স্মৃতি হাতড়েও একবারের জন্যও অনিমেষের চোখ অবাক করে দিয়ে একটুও আর্দ্র হয়ে ওঠেনি। এমনকি পিয়ালীও এর মধ্যে একদিন অনিমেষের ফ্ল্যাটে এসে কিছুক্ষণ পর বলেছিল তুমি যেন কেমন অনিমেষদা। মানুষটা যেমনই হোক এতদিন তোমার সঙ্গে তো ছিল ... তোমরা সত্যি ...

না, অনিমেষের কান্না আসেনি। অভিনয়ের কান্নাটাও ভুলে গেছিল কীভাবে।

কিন্তু এই কদিন ধরে ও একা রাত্রে বিছানায় শোবার কিছুক্ষণ পরেই আধো ঘুমে আধো চেতনার মাঝামাঝি স্তরে একটা স্বপ্নের মতো এবং গুমড়ানো একটা কান্নার শব্দ পাচ্ছে অনিমেষ। হ্যাঁ, প্রায় রোজ রাত্রেই ঘটছে ব্যাপারটা। কিন্তু ঘুম ভেঙে উঠে বসে নিজের চোখে, গালে হাত বুলিয়েই বুঝেছে একফোঁটা জলও কোথাও নেই। তাহলে? ভেতরের গভীরে তোলপাড় হতে থাকা কোনো ভীষণ কান্নার খুব সামান্য উঠে আসা ধ্বনি তবে কীসের?

আজও সেই একই ব্যাপার। অনিমেষ বোতল থেকে কোঁত কোঁত করে খানিকটা খেল। তারপর খাটে বাবু হয়ে বসে মাথার বালিশটার দিকে তাকাল। ওটাকে হাতে নিয়ে তালুর উলটো দিক দিয়ে বারবার বুলিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল ওর নিজের স্বপ্নের চোখের জলে হয়তো ভিজে থাকতে পারে বালিশের ওয়ার। নাহ একটুও নেই, তাহলে একেবারে শুকিয়ে গেছে? টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে বালিশটাকে জোরালো আলোর সামনে ধরে এফোঁড়-ওফোঁড় খুঁটিয়ে দেখল শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ আছে কি-না। নেই। পেচ্ছাপ-ঘাম সবকিছু শুকিয়ে গেলেও দাগ থাকে, কিন্তু অশ্রুর কোনো দাগ থাকে না। আরও অস্থির হয়ে পড়ল অনিমেষ। কিন্তু আজ জেদ চেপে গেছে, কান্নাটার উৎস খুঁজবেই। নির্ঘুম অসহ্য রাত্রি আর পারা যাচ্ছে না। কান্নাটা যে ওর নিজেরই আবছা স্বপ্নতে ঘটছে সে ব্যাপারে প্রায় নিশ্চিত। কিন্তু ঘুম ভেঙে গেলেই যা ...হ। গভীর কুয়োয় ভেতর থেকে ঘুরপাক খেতে খেতে উঠে আসা শব্দের কান্নাটা। অনিমেষ হঠাৎ বালিশটাকে খামচে ধরে ওয়্যারটা টেনে খুলে নিয়ে বালিশটা খাটের এক কোণে ফেলল। দাগ থাক বা না থাক স্বাদ নিশ্চয়ই থাকবে। নোনা স্বাদ। ওয়্যারের এক প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত চাটতে থাকল। মুখে পুরে চুষে চুষে বুঝতে চেষ্টা করল। বৃথা। শুধু খসখসে শুকনো এক বিস্বাদ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল জিভে। লালা শুষে নিল সুতির ওয়্যারটা। অনিমেষ রেহাই চাইছে আপ্রাণ রেহাই চাইছে, রোজের এই যন্ত্রণা থেকে। দু-হাতে নিজের মাথাটা চেপে ধরে কুঁকড়ে শুয়ে পড়েই ছিটকে আবার উঠে পড়ল। ওয়্যার ছাড়া ন্যাড়া বালিশটায় খুব হালকা সুগন্ধী তেলটার গন্ধ। যেটা তৃষা রোজ রাত্রে শোবার আগে চুলে মাখত। অনিমেষ আর তৃষা দুজনের বালিশ দুটোই হুবহু একই রকমের ছিল — স্পঞ্জের। একই রঙের ওয়্যার। অনিমেষ কিছুতেই কোনটা কার বুঝতে পারত না। তৃষা অদ্ভুতভাবে ঠিক নিজেরটা চিনতে পারত। যে বালিশটা মাথায় দিয়েই তৃষাকে সেদিন ম্যাটাডোরে তোলা হয়েছিল সেটা তাহলে ... আর এটা! গোটা শরীরে আচমকা ভীষণ ঝিঁঝি ধরে গেল অনিমেষের। বালিশটা খাটের যে কোনায় রয়েছে তার উলটো দিকে মাথায় হাত রেখে কেন্নোর মতো গুটিয়ে শুল ও। শীত করছে খুব। এতদিন ধরে কান্নার শব্দটা কোথা থেকে আসত বুঝতে পেরেছে অনিমেষ। বহুদিনের কারও একক প্রতিটি কান্নার শব্দ রেকর্ড করে রেখেছিল বালিশটা। অনিমেষের অজান্তেই কখন কীভাবে যেন ওটার প্লে-র সুইচে হাত পড়ে গেছে।

শারদীয় উদিতা

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%