ফিলিংস

বিনোদ ঘোষাল

বসন্তকাল। দুপুর চুঁইয়ে একটু একটু করে বিকেল নামছে। মাঝে মধ্যে উদাস, ভাবুক হাওয়া বয়ে যাচ্ছে গাছের পাতা ছুঁইয়ে। আকাশে সিঁদুর মিশছে ধীরে ধীরে। মস্ত জাম গাছটার ডালে পাতার আড়ালে বসে থাকা কোকিলটা এমনিই ডেকে উঠল একবার, দুবার। ইনস্টিটিউটের ক্যান্টিনে বসে A বলল আজ লাস্ট পিরিয়ডে ফিলিংস-এর ক্লাস রয়েছে।

M পপকর্ন চিবোতে চিবোতে গম্ভীর মুখে বলল — জানি। W আর D নিজেদের ল্যাপটপে ম্যাথস ক্লাসে নেওয়া নোটসগুলোতে চোখ বোলাচ্ছিল। D মুখ তুলে বলল, কেন যে এখনও এই সব অবসোলেট সাবজেক্টগুলো আমাদের পড়তে হচ্ছে বুঝি না। A সায় দিয়ে বলল ঠিক বলেছিস। আমার তো কিছু মাথায় ঢোকে না। M খালি পপকর্নের প্যাকেটটা ভাঁজ করতে করতে বলল শুধু তোর না। আমাদের কারোরই মাথায় ঢোকে না। তবু পড়তে হয়। আমার তো ইচ্ছে করে স্টুডেন্টরা সবাই মিলে অথ্যারিটির কাছে কমপ্লেইন করি। এইসব সাবজেক্ট পড়ানো বন্ধ করে দেওয়া উচিত। পাঁচশো বছর আগে মানুষের কী সব ছিল তা জেনে আমাদের কী লাভ, বরং পাঁচশো বছর পরের কথা জানলে কাজ দেবে।

এরা কিন্তু কেউ বিরক্ত নয়। কারণ এরা কখনো বিরক্ত হয় না। আলোচনা করছে শুধু। কথা আরও বাড়ত। কিন্তু ক্লাস শুরুর বেল বাজতেই উঠে দাঁড়াল সবাই। A,M,W আর D এই ছেলে-মেয়েগুলোর প্রত্যেকের বয়সই ষোলো থেকে সতেরোর মধ্যে। A, W আর D ছেলে, M মেয়ে। এরা একটি আন্তর্জাতিক এডুকেশন সেন্টারে পড়ে। এটা পুরোনো দিনের স্কুলের মতো নয়। পুরোনো স্কুলিং সিস্টেমও এখন আর নেই। পরীক্ষা, ক্লাসে ওঠা, পাশ-ফেল কিচ্ছু নেই। বয়স অনুযায়ী এদের বিভিন্ন সাবজেক্ট পড়ানো হয়। কিছু কমপালসরি বেসিক সাবজেক্ট আর বাকি সব অবশোনাল। চোদ্দ থেকে আঠেরো বছর বয়স পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের ফিলিংস-এর ক্লাস করা কমপালসরি। ক্লাসে এসে যে যার চেয়ারে বসে পড়ল। সামনের ইলেকট্রনিক স্ক্রিনে একটু পরেই লেখা ভেসে উঠল ওয়েলকাম টু দ্য ম্যাজিক ওয়ার্ল্ড অফ ফিলিংস। নীচে তারিখ সেভেনথ মে, টু থাউজেন্ড ফাইভ হান্ড্রেড সেভেন। সেই সঙ্গে স্ক্রিনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোবট টিচারের যান্ত্রিক শব্দ ভেসে এল। এর আগের ক্লাসগুলিতে আপনারা প্রাচীন মানুষদের বেশকিছু অনুভবের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। যেমন রাগ, দু:খ, হিংসা, আনন্দ ইত্যাদি। আজকে আমরা মানুষের অন্যরকম একটি অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করব। এটাই ফিলিংস-এর শেষ ক্লাস। সাবজেক্ট হল প্রেম।

টানা দু-ঘণ্টা ধরে রোবট টিচারের কাছে প্রেম সম্পর্কে লেকচার শোনার পর ক্লাসের প্রত্যেকটা স্টুডেন্টেরই অবস্থা টাইট। প্রাচীন মানুষের অন্যান্য অনুভবগুলোর কথা টিচারের কাছে শুনে অল্প কিছুটা হলেও বুঝতে পারা গেছিল, কিন্তু প্রেমের ব্যাপারটা এই দুহাজার পাঁচশো সাত সালের ছেলে-মেয়েগুলোর মাথায় কিছুতেই ঢুকল না। ঢুকবে কী করে, এসময় মানুষদের তো কোনও অনুভূতিই নেই। ভালো কিংবা খারাপ, রাগ কিংবা দু:খ, হাসি কিংবা আনন্দ কিচ্ছু না। এখন রোবট আর মানুষ রুমমেট হয়ে থাকে। একসঙ্গে গল্প করে কাজ করে। এখন ছেলে আর মেয়েতে বিয়ে হয় না। বিজ্ঞানীরা জনসংখ্যা সমীক্ষা করে ছেলে-মেয়ের অনুপাতে ভারসাম্য রেখে ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম উপায় প্রজনন করান। টেস্টটিউবে ভ্রূণ বড়ো হয়। তারপর সেই পিতৃমাতা পরিচয়হীন সব শিশুরা পোলট্রির কায়দায় বড়ো হয়। দেশের সরকার তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করে। আজ থেকে বহু বছর আগের মানুষদের অনুভূতি নামে একটা জিনিস ছিল, সেটা তারা ক্লাসে রোবট টিচারের লেকচার শুনে জানতে পারে।

A হাঁটতে হাঁটতে M কে বলল, কীরে তোর কোড রিনিউ করিয়েছিস?

M বলল আজ করব। তুই?

আমি তো কালকেই করিয়ে নিয়েছি। A-র পুরো কোড হল A ২৫৮৭৫৭৬৫৭ আসলে এখনকার দিনের মানুষদের তো কোনো নাম হয় না। ল্যাবরেটরিতে জন্মানোর পর ওখানেই তাদের কোড নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়, A, B, C,D করে। A ২৫৮৭৫৭৬৫৭-এর মানে হল ওর আগে আরও পঁচিশ কোটি সাতাশি লক্ষ সাতান্ন হাজার ছশো সাতান্ন জন মানুষের নামও A এদের প্রত্যেকের নাম ইন্টারনেটে লোড করা আছে। কোনো A মারা গেলে শুধু সেই কোডটা ডিলিট করে দেওয়া হয়। কার নাম A হবে আর কার নাম B হবে সেটাও বিজ্ঞানীরা উৎপাদিত ভ্রূণের গঠন, প্রকৃতি বিচার করে স্থির করেন। প্রতি মাসে প্রত্যেক মানুষকে নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ হিসাবে তার নিজের পাসওয়ার্ড দিয়ে কোড রিনিউয়াল করাতে হয়। নয়তো তিন মাসের মধ্যে কোড রিনিউয়াল না হলে ধরে নেওয়া হয় যে মানুষটা মারা গেছে।

A বলল, ফিলিংস-এর ক্লাস আজকে শেষ হল। একটা ক্লাসও কিচ্ছু বুঝিনি। আগেকার মানুষগুলো এসব নিয়ে থাকত কী করে বলত?

আমিও তো তাই ভাবি', হাতের বোতল থেকে দু ঢোঁক জল খেয়ে M উত্তর দিল। A আর M বোর্ডিং-এর একই রুমে থাকে। একসঙ্গে খায়, ঘুমোয়, চান করে। এ ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা সমাজ কারোরই কোনে আপত্তি নেই। কারণ এখন তো আর কোনো কিশোর কোনো কিশোরীকে দেখে বুকে কাঁপন ধরায় না। স্বপ্নে রাত ভোর করে না। হঠাৎ চোখে চোখ পড়ে গিয়ে কোনো কিশোরী লজ্জায় চোখ নামিয়ে নেয় না। ওরা কেউ বোঝে না এসব। শুধু কাজ করে আর বেঁচে থাকে। যথেষ্ট মাথা ভারী করে ছেলে-মেয়েগুলো যে যার নিজের রুমের দিকে এগোচ্ছিল, হঠাৎ Y ছুটতে ছুটতে এসে খবর দিল শুনেছিস তোরা, সামনের উইকে আমাদের ফিলিংস মিউজিয়ামে নিয়ে যাওয়া হবে।

সেটা আবার কী?

ওহ তোদের তো বলা হয়নি। গতকাল আমি আর C অথ্যারিটির কাছে কমপ্লেইন করেছিলাম ফিলিংস-এর থিওরি ক্লাস আমরা কিছু বুঝতে পারছি না জানিয়ে। সেজন্য অথ্যারিটি ঠিক করেছে আমাদের ফিলিংস-এর মিউজিয়ামে নিয়ে গিয়ে আইটেমগুলো প্র্যাকটিকাল চেনাবে।

তাই নাকি। A বলল, এর যে আবার মিউজিয়াম আছে জানতাম না তো।

আমিও শুনিনি কখনও, M বলল।

Y দু-হাত দিয়ে নিজের চুলগুলো ঠিক করে নিতে নিতে বলল, দেখা যাক। কানে শুনে তো কিছু বুঝলাম না। চোখে দেখে যদি কিছু বোঝা যায়।

ঝড়ের গতিতে বাস চলছে তো চলছেই। দু-তিন খানা শহর পার করার পর যেখানে এসে থামল বাইরে বড়ো করে সাইন বোর্ডে লেখা — ওয়েলকাম টু ফিলিংস মিউজিয়াম। স্টুডেন্টরা সবাই বাস থেকে নামল। M বলল, অনেক দূরে মিউজিয়ামটা।

A বার তিনেক আড়মোড়া ভেঙে বলল আমার তো এতক্ষণে বসে থাকতে থাকতে গায়ে ব্যথা হয়ে গেছে।

বিল্ডিংটা খুব বড়ো নয়। চারদিক উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। সামনে লম্বা লন। দু-ধারে বিভিন্ন রকমের ক্যাকটাসের বাগান। মানুষজন বলতে কেউ নেই। লন পার করে বিল্ডিঙের সিঁড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই ভেতর থেকে একজন রোবট বেরিয়ে এসে ওদের বলল, ফিলিংস মিউজিয়ামে আপনাদের স্বাগত। আমার নাম রোবো এক্স-ফাইভ। আমি এখানকার কিউরেটর। প্রাচীন মানুষদের সমস্ত অনুভূতিগুলোর সঙ্গে আমি আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। সিঁড়ি দিয়ে উঠে প্রথমে একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হল ওদের। সেখানে কিছুক্ষণ রেস্ট নেওয়ার পর লাঞ্চ দেওয়া হল। লাঞ্চ সেরে রোবো এক্স-ফাইভের সঙ্গে দোতলায় উঠে মস্ত একটা হল ঘরে ঢুকল সবাই। ঘরে চার দেয়াল জুড়ে লম্বা লম্বা র‌্যাক। তার মধ্যে কাচের জারের মধ্যে কীসব যেন রাখা রয়েছে। ঘরটার মধ্যে মাইক্রোফোনে কে একজন টেনে টেনে কথা বলে চলেছে। A কিউরেটরকে জিজ্ঞেস করল— এটা কী হচ্ছে! কিউরেটর উত্তর দিল, এটাকে বলা হয় গান। প্রাচীন মানুষেরা এটা করত।

করলে কী হত?

এটা করলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের অনুভূতি তৈরি হত। যদিও আপনারা এখানে রোবটের গান শুনতে পাচ্ছেন। আসলে এটা মানুষরাই করে থাকত। আপনাদের শুধুমাত্র জিনিসটা জানানোর জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

M বলল, হ্যাঁ-হ্যাঁ গানের কথা আমরা শুনেছি ক্লাসে।

Y বলল, একটা ছোটো কথাকে এতক্ষণ ধরে টেনে টেনে বলার কোনো দরকারই নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট। আগেকার মানুষদের কি কোনো কাজ ছিল না!

কিউরেটরের সঙ্গে সঙ্গে কাচের জারগুলোর দিকে এগিয়ে গেল সকলে। রোবো এক্স-ফাইভ প্রথম জারটার দিকে হাত তুলে বলল, এই যে অনুভূতিটা দেখছেন, এর নাম হল রাগ। এর প্রকৃতি এবং ফলাফল সম্পর্কে আপনারা নিশ্চয় থিওরি ক্লাসে শুনে থাকবেন। ছেলে-মেয়েগুলো জারের ভিতরের জিনিসটার দিকে খুব মনোযোগ দিয়ে তাকাল। আগুনরঙা, এবড়ো খেবড়ো, শক্ত ঝামার মতো দেখতে। সারা গায়ে ফণীমনসার মতো বড়ো বড়ো তীক্ষ্ণ কাঁটা ভরতি। ট্ট বলল এই কাঁটাওলা জিনিসটা মানুষরা মাথার মধ্যে রাখত কী করে? ব্রেনের ক্ষতি হত না?

অবশ্যই হত। দু-দুখানা বিশ্বযুদ্ধ হয়ে যাবার পেছনেও মানুষের এই অনুভূতিটার অন্যতম ভূমিকা ছিল। কিউরেটর জবাব দিল। রাগের পরের জারটার ভিতর টকটকে লাল রঙের চ্যাটচ্যাটে কাদার মতো একটা অনুভূতি রাখা। জারের গায়ে সাঁটা লেবেলে লেখা রয়েছে লোভ। M বলল, এ্যাই A তোর মনে আছে লোভের ক্লাস তুই করতে পারিসনি। আমার কাছ থেকে নোটস নিয়েছিলি। A বলল, হুঁ, শরীর খারাপ হয়েছিল আমার। মনে আছে।

লোভের পর ঘন কালো রঙের জমাট ধোঁয়ার মতো হিংসা, তারপর ধূসর ছাই রঙের শুকনো কাঠির মতো রোগা দু:খ। ক্লাসে শোনা থিওরির সঙ্গে কিউরেটরের কথা মিলিয়ে নিচ্ছিল ওরা। ঘনঘন মাথা নাড়ছিল সবাই। একটা ফাঁকা জারের সামনে এসে Y বলল এটার ভিতর কিছু নেই কেন?

কিউরেটর জবাব দিল, আসলে ওটার ভিতর আনন্দ রাখা ছিল, কিন্তু ওটা এমনই উদ্বায়ী ছিল যে বহু চেষ্টার পরেও ওটাকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। উবে গেছে। থিওরি ক্লাসে আপনারা এর সম্পর্কে শুনে থাকবেন নিশ্চয়ই। প্রাচীনকালের সমস্ত মানুষ এই অনুভূতিটা পাওয়ার জন্য সবসময় চেষ্টা করত। দেখাতে না পারার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দু:খপ্রকাশ করছি।

একটার পর একটা অনুভূতি দেখতে দেখতে একেবারে শেষ জারটার সামনে পৌঁছাল ওরা। জারের ভেতর একেবারে অন্য রকমের দেখতে একটা জিনিস রাখা রয়েছে। খুব হালকা গোলাপি রঙের, শিফন তুলোর মতো দেখতে। ওটার গা থেকে নরম, খু-ব নরম আলোর আভা বের হচ্ছে। C কিউরেটরকে জিজ্ঞেস করল, গা থেকে বের হচ্ছে কী এটা?

কিউরেটর যান্ত্রিক গলায় উত্তর দিল, এটা হল প্রাচীন মানুষদের সবচেয়ে মূল্যবান অনুভূতি, প্রেম। এই অনুভবকেই তখনকার মানুষরা সর্বোচ্চ মনে করত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এই অনুভূতি।

A বলল, ওহ এটাই সেই প্রেম। তো এটার থেকেই শুধু আলো বের হচ্ছে কেন? আর বাকিগুলো থেকে তো হচ্ছে না।

কিউরেটর জানাল, আসলে বাকি সব অনুভূতিগুলো মৃত। কিন্তু এটা এতদিন ধরে কাচের জারে বন্ধ অবস্থায় থাকার পরেও অদ্ভুতভাবে বেঁচে রয়েছে। কী করে এই অবস্থাতেও এই অনুভূতি টিকে রয়েছে তাই নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণাও করছেন।

W বলল, আচ্ছা এই যে আমরা সব অনুভূতিগুলো দেখলাম, এগুলোর পরস্পরের মধ্যে কোনো বিক্রিয়া ঘটত না?

অবশ্যই ঘটত। যেমন ধরুন দুই অণু লোভ আর তিন অণু হিংসা মিলে রাগ তৈরি হত। আবার রাগের অনুভূতি বিশ্লেষিত হয়ে দু:খ জন্ম নিত।

M জিজ্ঞেস করল, আর প্রেম থেকে কী তৈরি হত?

এটা ঠিক বলা যাচ্ছে না। কিউরেটর জবাব দিলেন।

A আনন্দর ফাঁকা জারটার দিকে আঙুল তুলে বলল, ওই আনন্দটা হত কী?

হতে পারে। কিন্তু আনন্দটা উবে যাওয়ার জন্য ওর রাসায়নিক যৌগ পাওয়া যায়নি। যার ফলে এদের পরস্পরের সম্পর্ক নিয়ে রিসার্চ করা সম্ভব হয়নি।

W বলল, সবচেয়ে প্রিসিয়াস ফিলিংসটার এফেক্ট কী ছিল সেটাই জানা গেল না।

Y বলল, যাকগে তবু তো অনেকটা বুঝেছি, এবার চল।

কিউরেটরের সঙ্গে রুমের বাইরে বেরিয়ে এল সবাই। A-ও চলে আসছিল, হঠাৎ ওর চোখে পড়ল M তখনো প্রেমের জারটার দিকে ভুরু কুঁচকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে। M এর কাছে এসে A বলল, কীরে চল, যাবি না?

কী রকম আলোটা, না রে A?

হ্যাঁ, এরকম আলো আগে কখনও দেখিনি।

তাকিয়ে থাকলে চোখদুটোর কেমন যেন হচ্ছে।

ঠিক বলেছিস।

একবার হাতে নিয়ে জিনিসটা দেখলে হয়।

দেখবি তুই? জিজ্ঞেস করল A বলেই জারটাকে হাত বাড়িয়ে নামিয়ে নিয়ে আসল।

M বলল, খালি হাতে ধরলে আবার ইনফেকশন হয়ে যাবে না তো?

না-না কিছু হবে না বলেই জারের ঢাকনা খুলে ফেলল A ভিতর থেকে ফুলের মতো গন্ধ বেরল। ভিতরে হাত ঢুকিয়ে ওটাকে বার করতে যেতেই হঠাৎ করে হাত ফসকে কাচের জার সটান মেঝেতে। মোটা কার্পেট থাকার জন্য কাচের জার পড়ে যাবার শব্দ হল না ঠিকই, কিন্তু ভিতরের জিনিসটা বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেল।

পড়ে গেল রে। A বলল, তাড়াতাড়ি তুলে ফেলতে হবে' বলেই মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।

M বলল, তোকে হেল্প করছি।

না-না দরকার নেই। জিনিসটার গন্ধে দুজনের ভিতরেই কেমন যেন করতে শুরু করেছিল। একেবারে অন্যরকম। M বসে পড়ে বলল, না, আমিও করব।

বেশ, কর। বলে A আর M দুজনেই একসঙ্গে হাত দিল গোলাপি রঙের অনুভূতিটায়। আর ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা শরীর জুড়ে কী যেন হল ওদের। থিরথির করে কেঁপে উঠল দুজন, তারপর অনেক ... অনেকক্ষণ ধরে ছেলে-মেয়েদুটি তাকিয়েই থাকল পরস্পরের দিকে। তাকিয়েই থাকল, একসময় ফ্যাঁস ফ্যাঁসে ধরা গলায় A বলে উঠল, তোকে একটা কথা বলব ...?

উনিশ কুড়ি

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%