লেজ

বিনোদ ঘোষাল

বেশ কিছুদিন ধরেই সমস্যাটা টের পেয়েছিলেন অর্ণববাবু। স্পাইনাল কর্ডের নীচের শেষ মাথায় একটা ছোটো ফোড়া মতো গজিয়েছিল। সামান্য ব্যথা ব্যথা। ফুসকুড়ি কিংবা গরম গোটা গোছের কিছু একটা ভেবে নিয়ে খুব একটা পাত্তা দেননি। কিন্তু ফোড়াটা উঁচু হতে শুরু করল, ব্যথাটা বাড়ল না যদিও। অদ্ভুত রকমের আকৃতি। কুড়ি বছরের পুরোনো স্ত্রী অনন্যার সঙ্গে সম্পর্কটা এখন প্রতিবেশীর বউ-এর মতো, ফর্মাল রিলেশন। কাজেই এই ফোড়ার ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করা গেল না। কিন্তু সমস্যাটা শুধু ফোড়া উঁচু হওয়াতেই থেমে থাকল না। সঙ্গে আরও অবাক করা এমন কিছু উপসর্গ দেখা দিতে থাকল যে ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন অর্ণববাবু। উনি একটি সরকারি কলেজের লেকচারার। ইতিহাস পড়ান, মানবজীবনের ইতিহাসে কখনও কারও এমনটা ঘটেছে কিনা উনি মনে করতে পারলেন না। তবে নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে বহু চিন্তাভাবনা করে আন্দাজ করলেন সমস্যাটা হয়তো আদৌ শারীরিক নয়, পুরোটাই মানসিক হতে পারে। ফোঁড়ার বৃদ্ধি এবং বাকি উপসর্গগুলি তার শরীরে নয়, মানসে ঘটছে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল মানসিক চিকিৎসকের কাছে যাওয়া। ভাবামাত্র আর দেরি না করে এক কলিগের কাছ থেকে শহরের নামকরা সাইক্রিয়াট্রিস্ট ভূপেন সরকারের ফোন নম্বর নিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করে ফেললেন। এবং সবটাই, বলা বাহুল্য, তাঁর স্ত্রীর অগোচরে।

নির্দিষ্ট দিনে এবং সময় অর্ণববাবু ভূপেন সরকারের চেম্বারে পৌঁছে দেখলেন বহু লোক কিংবা পেশেন্ট গম্ভীরমুখে সোফাতে বসে রয়েছেন, ডাক পাবার জন্য। অর্ণববাবুর অবাক লাগল ভেবে এই লোকগুলো যে অসুস্থ তা বোঝে কার সাধ্য। অবশ্য ওঁকে দেখলেও কি কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবেন যে ... প্রায় চল্লিশ মিনিট অসহ্য নীরবতার সঙ্গে অপেক্ষা করার পর ডাক পড়ল ওঁর। ঘরের ভিতটায় নরম আলো। বিশাল টেবিলটার ওপারে একজন ছিপছিপে চেহারার মাঝবয়সি লোক — মানে ডাক্তার সরকার বসে। এদিকে দু-তিনটি গদি আঁটা চেয়ার। অর্ণববাবু বসার আগেই টের পেয়েছিলেন এই চেয়ারগুলোতে বসে খুব আরাম হবে। ডাক্তার সরকার ইশারায় বসতে বলার সঙ্গে সঙ্গে অর্ণববাবু ঝপ করে বসে পড়লেন। হ্যাঁ সত্যিই সত্যি কী আরাম! কিন্তু এটা আরামের সময় নয়। সুতরাং হেলান দেওয়া ছেড়ে সামনে ঝুঁকে বললেন মানে প্রবলেমটা হয়তো আপনাকে ঠিক বুঝিয়ে উঠতে পারব না ...

ডা: সরকার ডান হাতটা সামান্য তুলে হালকা হেসে বললেন ঠিক আছে, প্রবলেমের কথা পরে হবে। আগে রিল্যাক্স করে বসুন, নিন বসুন।

— হ্যাঁ-হ্যাঁ বসেছি।

— কী নাম বলুন, আপনার?

— অর্ণব মিত্র।

— বয়স?

— এই ফর্টি সেভেন ... না না এইট, এইট হবে।

— কী করেন?

— পড়াই, একটা কলেজে পড়াই।

— বাহ, কী সাবজেক্ট?

— হিস্ট্রি।

— খুব ইনটারেস্টিং সাবজেক্ট, না?

— অ্যাঁ ... হুঁ ... হুঁ।

— আচ্ছা, বাড়িতে কে-কে আছেন?

— আমার বাড়িতে ... ওই তো আমি আর ওয়াইফ।

— ছেলে-মেয়ে?

— এক ছেলে। সঙ্গে নেই, পুণায় হোস্টেলে থাকে, ম্যানেজমেন্ট পড়ছে।

— আপনার বাবা-মা?

— না:, দুজনের কেউ নেই।

— হুঁ। কোথায় থাকেন আপনি?

— গড়িয়ায়।

— বরাবর কি এখানকারই বাসিন্দা?

— না-না, আমার দেশের বাড়ি বীরভূম, এখানে ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকি। অনেকদিন।

— বীরভূম যখন, শান্তিনিকেতন গেছেন নিশ্চয়ই অনেকবার!

— না- নাহ, ওই দু-একবার... আর সময় হয়নি।

— হুঁম। আকাশ দেখেন?

— কীহ?

— আকাশ, আকাশ।

— ওহ আচ্ছা-আচ্ছা, হ্যাঁ-হ্যাঁ দেখি বোধহয় কখনও।

— রোজ দেখবেন। ফ্ল্যাটের ছাদে মাদুর বিছিয়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ে দেখবেন।

— আচ্ছা বেশ ... মানে রোজই দেখতে হবে কি?

— যখন সময় পাবেন।

— টাইমটা?

হেসে ফেললেন ডা: সরকার। বললেন না-না এটা কোনও রুটিনের মধ্যে পড়ে না। আসলে ওভাবে আকাশ দেখলে অনেকটা দেখা যায় তো। মন ভালো হয়ে যায়। নিন এবার ধীরে সুস্থে আপনার সমস্যাটা বলুন।

— হ্যাঁ, বলি। বলে সোজা হয়ে বসলেন অর্ণববাবু। আবার ডা: সরকার বললেন, আপনি চেয়ারে হেলান দিয়ে আরাম করে বলুন। অত অ্যাটেনশন নিতে হবে না। আবার হেলান দিয়ে অর্ণববাবু খুব সাবধানে তাঁর ফোড়ার কথাটা বললেন। ডা: সরকার মন দিয়ে শুনলেন পুরোটা। তারপর বললেন ডাক্তার দেখিয়েছিলেন?

— আজ্ঞে না। ভেবেছিলাম কয়েকবার, কিন্তু মানে ... ইয়ে বললাম না যে ফোড়াটা এমন অদ্ভুত রকমের, লোমে ঢাকা, লম্বা নলের মতো ... সেজন্য মানে ...

— বুঝেছি। দেখাতে লজ্জা পেয়েছেন। তা বাড়িতে কাউকে জানাননি?

— নাহ। বলা হয়নি। কিন্তু এত দ্রুত বেড়ে উঠছে ... এটা ... আর তার সঙ্গে আরও একটা অদ্ভুত উপসর্গ জুটল ... এই যে দেখছেন আমার গোঁফ-দাড়ি মোটা ভুরু, এই হাতে গায়ে বড়ো বড়ো লোম এগুলোও আগে কিচ্ছু ছিল না, বিশ্বাস করুন। আমি আগে একেবারে নির্লোম ছিলাম, আর এখন দু-দিন অন্তর রেজার দিয়ে সব কাটি, তাও বেড়েই চলেছে হু হু করে। আমি ... আমি ...

— বুঝলাম। আপনার বিয়ে হয়েছে কদ্দিন?

— উমম ... তা প্রায় কুড়ি বছর হতে চলল।

— রোজই কি অফিস আর বাড়ি করেন? নাকি মাঝেমধ্যে অন্য কোথাও যান?

— অন্য কোথাও মানে?

— মানে এই ক্লাব-টাব কিংবা বার অথব বন্ধুবান্ধবের বাড়ি-টাড়ি, পার্টি ... এসব।

— নাহ ... সেসব কোথাও যাওয়া হয় না।

— মানে কলেজ থেকে সোজা বাড়ি। ওয়াইফকে খুব ভালোবাসেন?

— হে-হে ওই আর কী ...

— তা মশাই এতদিনের দাম্পত্যজীবনে একঘেয়েমি লাগে না — ভুরু নাচালেন ডা: সরকার।

— হে-হে তা মাঝেমধ্যে ...

— একজন বান্ধবী থাকলে ভালোই হয়, কী বলেন?

— হে-হে

— আপনার তো একজন আছেও বোধহয়, না?

— অ্যাঁ!

— আরে বলে ফেলুন বলে ফেলুন। ডাক্তারের কাছে কিচ্ছু গোপন করতে নেই। আরে মশাই আমি নিজেই তো হাঁফিয়ে পড়েছি অ্যাদ্দিনে। এই এক স্ত্রী, ধ্যাস আর ভাল্লাগে না। আমিও আজকাল টুকটাক এদিক-ওদিক যাই, কী করব হা-হা, মনটাকে তো ফ্রেশ রাখতে হবে।

— যা বলেছেন, ভিতরে একটা জোশ পেলেন অর্ণববাবু। দাঁত বার করে হাসলেন।

— তা আপনার সঙ্গিনীটি কোথাকার? ডা: সরকার কাচের গ্লাসে রাখা জলে এক চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

— ওই কলিগ বলতে পারেন। পার্ট টাইম করে।

— দেখতে শুনতে?

— ইয়ং, অনেকটাই বয়সে ছোটো আমার থেকে। আমি প্রথমটায় চাইনি বুঝলেন, তারপর কী-ই যে হয়ে গেল।

— আরে আপনি তো ভাগ্যবান মশাই। এই বয়সে ইয়ং একজন বান্ধবী পেয়েছেন। ভুলে যান বাকি সব। আনন্দ করুন, আনন্দে থাকুন। তা সে কি বিবাহিতা?

— না, মানে বিয়ে হয়নি এখনও, তবে পার্টনার একজন আছে শুনেছি।

— চমৎকার। কোনও দায় নেই। ক্যারি অন। তা আপনার ওয়াইফ জানেন ব্যাপারটা।

— হুঁম।

— ঝামেলা হয়?

— আগে হত। তারপর শয়তান সুশান্তটা জোটার পর থেকে ...

— কে সুশান্ত?

— আমারই বন্ধু ছিল এক সময়। খাল কেটে বাড়িতে কুমির ঢুকিয়েছিলাম, বুঝিনি তখন।

— আহা চটছেন কেন? বরং ভালোই তো হয়েছে। আপনার এবং আপনার স্ত্রীর এখন দুজনেরই ... সমানে সমানে হা-হা কেউ কাউকে দোষ দিতে পারবেন না। আপনি তো ইতিহাস পড়ান, মানে মানুষের ইভল্যুশন মোদ্দা কথায়। তো আদিম মানুষদের কথা জানেন নিশ্চয়ই। সবকিছু ফ্রি। ওসব বিবাহ প্রথাটথা তো সমাজে এসেছে অনেক পরে। আজকের এই রোবট এজ-এ ওসব সূক্ষ্ম ফিলিংস-এর কোনও ভ্যালু নেই। খাও-পিও-জিও। মনোবিজ্ঞান কী বলছে জানেন, মানুষের প্রধান অনুভূতি হল দুটো, এক কাম, দুই ভয়। প্রথমটা বংশ বিস্তারের জন্য আর দ্বিতীয়টা আত্মরক্ষার জন্য। আদিম মানুষদের প্রধানত এই দুটোই ছিল, আবার এখনকার দিনেও ... আমার একজন বন্ধু আছেন বুঝলেন, ওই মহাকাশ-টহাকাশ নিয়ে পড়াশোনা করেন। তো উনি সেদিন বলেছিলেন, এই যে আকাশে তারাগুলো দেখছেন, এগুলো নাকি প্রতিদিন একে অপরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

— ওহ তাই বুঝি? বোকার মতো মাথা নাড়লেন অর্ণববাবু।

— এইভাবে দূরে সরতে সরতে একটা সময় আবার নাকি তারা পরস্পরের কাছে চলে আসবে।

— কীভাবে?

— আরে পুরো ব্যাপারটাই তো গোল। তাই যতই দূরে সরো, স্টার্টিং পয়েন্টে ফিরতেই হবে। এবার আপনার মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসটাও ভাবুন। বাঁদর থেকে সরতে সরতে মানুষ, আবার মানুষ থেকে সরতে সরতে ... হা-হা-হা।

— তাই তো ... কিন্তু ...

— গোটা পৃথিবীতে এখন শুধু ভয় আর যৌনতা ছাড়া আর কিছু দেখতে পান? সেই আদিম দুটো ফিলিংস, কী মনে হয় ... সরতে সরতে কোন দিকে যাচ্ছি আমরা? ডা: সরকার চুলে আঙুল বোলালেন।

অর্ণব মিত্র টেবিলের সামনে রাখা জলের গ্লাস থেকে খানিকটা জল খেলেন। তারপর বললেন, আমার সবকিছু গুলিয়ে যাচ্ছে আপনার কথায়।

ওফ একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছিলাম, মানে, বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, এই ক-দিন আগে রীতা, মানে আমার সেই-উঁ-মানে বান্ধবীর ফ্ল্যাটে আমরা আচমকাই একটু বেশি ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলাম। বিছানায় আমি রীতার কোমরে হাত রাখতেই—

... বিশ্বাস করুন অবিকল আমারটার মতোই কী করে।

— হা: - হা:

— জানি আপনি হাসবেন। ভাবছেন আমি ছিটেল হয়ে গেছি। ইনফ্যাক্ট আমারও তাই মনে হচ্ছে। সে জন্য আপনার কাছে এসেছি। আর কিছু ভালো লাগছে না আমার। ইনসিকিওরড ফিল করি সারাদিন। সারাক্ষণ কীসের যেন একটা ভয় ...

— কী ইচ্ছে করে?

— ইচ্ছে করে জঙ্গলে চলে যাই।

সে কী! তাহলে আপনার ফ্যামিলি?

— ধ্যা-র, কীসের ফ্যামিলি? ছেলেকে বড়ো করে দিয়েছি। বউও নিজের রাস্তা বুঝে নিয়েছে। আমার আর কোনও লায়াবিলিটি নেই। তবে মাঝেমধ্যে আমার স্ত্রী আর সুশান্তটাকে খুন করতে খুব ইচ্ছে করে।

— বুঝলাম। আচ্ছা আপনার ওই যে লেজের মতো যেটা বলছেন সেটা আপনার স্ত্রী দেখেননি?

— নাহ, আমরা বহুদিন একসঙ্গে শুই না। ঘরও আলাদা। অবশ্য একটা কথা ... মানে ওকেও না ... দিনে দিনে কেমন যেন অদ্ভুত রকমের দেখতে হয়ে যাচ্ছে। এই অনেকটা আমার মতোই। ... হয়তো আমারই চোখের ভুল। অবশ্য জানেন, শুধু ও নয়, আজকাল আমি সবাইকেই যেন ... মাথাটা কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে আমার।

— জল খান।

— আমাকে বাঁচান প্লিজ, পাগল-ছাগল হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। কাঁদো কাঁদো হয়ে বললেন অর্ণব মিত্র।

— আহা, খামোখা ভয় পাচ্ছেন কেন? আপনি পাগল হননি। হয়তো আপনি ঠিক দেখছেন, কিংবা আপনার মতো সবাই-ই ... হে-হে। এই তো আপনার আগে যে ভদ্রলোক এসেছিলেন উনি বলছেন রান্না করা খাবার উনি মুখেই নিতে পারছেন না। সবকিছু কাঁচা খেতে ইচ্ছে করছে। আবার তার আগেরজন বললেন ওঁর নাকি অফিস কিংবা বাড়িতে কিছুক্ষণ থাকলেই দম আটকে আসছে। স্রেফ গাছে গাছে থাকতে ইচ্ছে করছে। তাও আবার জামাকাপড় ছাড়া। বুঝুন ব্যাপারটা। সে তুলনায় আপনি তো ফার বেটার আছেন। কিছু একটা তো ঘটছেই। ইদানীং আমারও যেন —কথাটা মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে অন্যমনস্কের মতো প্যাডে পেন দিয়ে এলোমেলো দাগ কাটতে শুরু করলেন ভূপেন সরকার।

— স্যার আপনি কি ওটা একবার দেখবেন, মানে আমার ওটা।

— উঁ ... না ... না বুঝে গেছি। দেখার দরকার নেই। দুটো ওষুধ লিখে দিলাম। আনন্দে থাকুন। নো টেনশন, মাসখানেক পর রিপোর্ট করবেন।

দুই

নিয়মিত ওষুধ খেয়ে, চূড়ান্ত ভালো থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করে কোনও মতে তিরিশটা দিন পার করেই পুরোনো প্রেসক্রিপশনটা নিয়ে ভূপেন সরকারের চেম্বারে ছুটলেন অর্ণববাবু। গিয়ে দেখেন চেম্বার বন্ধ। একতলায় চেম্বার, দোতলায় ওঁর বাড়ি। কলিং বেল বাজিয়ে দু-চারবার ডেকে সাড়া পেলেন না অর্ণববাবু। সুতরাং মেন গেটটার তালা ঝমঝম করে ঠুকতে ঠুকতে ডাক্তারবাবু ও ডাক্তারবাবু, রীতিমতো চিৎকার করে হাঁকডাক শুরু করে দিলেন। শেষ পর্যন্ত তার চেষ্টা বিফলে গেল না। ব্যালকনিতে এসে নীচে ঝুঁকলেন ডা: সরকার, কী ব্যাপার কী? চেম্বার বন্ধ দেখতে পাচ্ছেন না।

হ্যাঁ ডাক্তারবাবু দেখেছি, প্লিজ, একবার একটু নীচে আসবেন!

কেন শুনছেন না বলুন তো, এখন পেশেন্ট দেখা বন্ধ রেখেছি। আমার শরীরটা ঠিক নেই।

— আমি হাতজোড় করছি ডাক্তারবাবু, প্লিজ এক মিনিটের জন্য — প্রায় কাঁদো-কাঁদো হয়ে জোড় হাত করে বললেন অর্ণব মিত্র।

— কী-ই মুশকিল, কেন যে বুঝতে চান না আপনারা। একটু ইতস্তত করে ডা: সরকার বললেন, দাঁড়ান আসছি'

একটু পরে নীচে চেম্বার খুলে আলো জ্বালিয়ে ডা: সরকার বললেন, ভিতরে আসুন। তাড়াতাড়ি বলুন কী ব্যাপার?

— আজ্ঞে আমি, মানে মাসখানেক আগে আপনাকে দেখিয়েছিলাম। আমার নাম অর্ণব মিত্র। এই যে প্রেসক্রিপশনটা।

হাতে কাগজটা নিয়ে চোখ বুলিয়ে ফেরত দিয়ে বললেন হুম, এখন কেমন আছেন, কমেছে ওটা?

— আজ্ঞে না, বাড়ছে, হু হু করে বাড়ছে। আমাকে বাঁচান। আজ আমি কী করেছি জানেন? ঘোষকে কামড়ে দিয়েছি।

— কে ঘোষ?

— আমার কলিগ। ব্যাটা দু-দিনের ছোঁড়া এই সেদিন কলেজে ঢুকলি, সব স্টুডেন্টরা বলে আমার থেকেও নাকি ব্যাটা বেশি জানে। সব বাজে কথা। জানেন স্টুডেন্টরা আজকাল আমায় পাত্তাই দেয় না।

— সেজন্য লোকটাকে কামড়ে দিলেন!

— না-না প্রথমেই কামড়াইনি, মুখ ভেংচেছিলাম। ইদানীং কারও ওপর রাগ হলেই প্রথমে এমনটা হয়ে যাচ্ছে। তো ঘোষও মাইরি আমাকে ভেংচে দিল। খুব রাগ হয়ে গেল। দিলাম হাতে কামড়ে।

— তারপর?

— তারপর দৌড়ে আপনার কাছে চলে এলাম। আমি কী করে যে কামড়ালাম ... কী-ই সব যে হচ্ছে।

— আপনার সেই লেজটা কত বড়ো হয়েছে এখন?

— প্রায় হাঁটুর কাছাকাছি চলে এসেছে। দেখবেন? দেখবেন একবার?

— না-না থাক। আপনাকে প্যান্ট খুলতে হবে না।

— আচ্ছা ডাক্তারবাবু আপনার কী হয়েছে? কেমন যেন দেখতে লাগছে আপনাকে!

— তাই? অন্যরকম লাগছে দেখতে? ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসলেন ডা: সরকার। তারপর অর্ণব মিত্রের দিকে পিছন ফিরে আচমকা নিজের পাজামটা নামিয়ে দিয়ে বললেন — দেখুন তো আপনার লেজটা কি এখন আমারটার থেকেও ... বলেছিলাম না আপনার একার ভয় পাবার কিছু নেই।

সাপ্তাহিক বর্তমান

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%