পারমিতা চক্রবর্তী
দশানন উপপত্নী ও তার নানান চাহিদা পূরণ করতে একঘেয়ে হয়ে পড়ে। তাদের কক্ষে যাতায়াত কমিয়ে দেয়। দিনের বেশিরভাগ সময় নানাশ্রীর সাথে নতুন নতুন পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকে। নানাশ্রী কখনোই মন্দোদরীর সাথে দশাননের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে কোনো কথাই বলতেন না। তিনি চাইতেন দশানন নিজেকে ব্যস্ত রাখুক রাজত্ব এবং নতুন নতুন পরিকল্পনায়। তিনি সর্বদা উৎসাহ দিতেন মন্দোদরীর সাথে থাকার জন্য। রাজদরবার শেষ হওয়ার পরে দশানন মন্দোদরীর কক্ষে আসতেন অপরাহ্ণের ভোজনের জন্য। মন্দোদরী আবার বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তার বিবাহ ফিরে এসেছে। সে নিজেকে শপথ নেয় যে আর কখনোই সে দীর্ঘ সময়ের জন্য লঙ্কা এবং দশাননকে ছেড়ে যাবে না।
সন্ধ্যার সময় দশানন এবং মন্দোদরী দীর্ঘক্ষণের জন্য কথা বলেন। সন্ধ্যা খাওয়ার পর দশানন বেশিরভাগ রাত কাটায় মন্দোদরীর সাথে। ‘রানি মন্দোদরী আমি তোমার মুখে সুন্দর জৌলস দেখতে পাচ্ছি। এটা কি তোমার মিষ্ট ভাষণের প্রতিদান নাকি আঙুরের রঙের নির্যাস?’
মন্দোদরীর রূপে মুগ্ধ হয়ে দশানন তাকে বিবাহ করেছিলেন সেই সে কথা ভালোই জানে সে। দশাননের অন্য মহিলাদের প্রতি আসক্তি থাকলেও মন্দোদরী তার কাছে অন্য স্থানে রয়েছে। দশানন খুব ভালো মতই জানে যে একমাত্র মন্দোদরী তাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে। বহুদিন পর মন্দোদরীর সাথে সম্পর্কটা ঠিক করতে পেরে সে নিজেও কিছুটা তৃপ্ত হয়। দ্বিতীয় বিবাহ এবং ফ্যারাওকন্যাকে আনার পর থেকে দশাননের মধ্যে এক অপরাধ বোধ জেগেছিল। মন্দোদরীও তার সামনে আসত না। আসলে নারীরা কখনোই নিজের স্থান অন্যকে ছেড়ে দিতে জানেনা। তারা সর্বদাই স্বামীকে নিজের আয়ত্তে রাখতে চায়। সেক্ষেত্রে মন্দোদরীকে ভালবেসে লঙ্কা এনেছিলেন দশানন কিন্তু পরবর্তীকালে তার প্রতি উদাসীনতায় এক চরম হতাশা সৃষ্টি করে। দশানন কখনোই জানতে চায়নি মন্দোদরীর মানসিক অবস্থার কথা।বহুদিন পর দশাননকে সাথে পেয়ে মন্দোদরী অত্যন্ত খুশি হয় এবং সে ভাবে এই ভাবেই সে তার স্বামীকে নিজের কাছে আটকে রাখবে।
‘যখন এক নারী সব ভালোবাসা পায় যা তার পাওয়ার উপযুক্ত স্বামীর থেকে তার জন্য কোন জৌলুসে দরকার পড়ে না।’ মন্দোদরী কিছুটা অভিমান, ভালোবাসা মিশিয়ে জানায় তার স্বামীকে। দশানন উচ্চকণ্ঠে হেসে ওঠে, ‘তুমি একজন প্রকৃত রসিক।’
আমি আপনাকে নিয়ে কোন বিদ্রুপ, উপহাস করছি না। উপরন্তু আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়েছি কোনদিন আমি আপনাকে এবং লঙ্কাকে ছেড়ে যাবো না। আপনার এবং আমার মধ্যে দূরত্ব আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। আমি আপনাকে একা হতে দেব না কখনো। মন্দোদরীর চোখ ছলছল করে ওঠে।
‘চিরকাল আমার প্রথম পছন্দ তুমি কোনদিন অন্য নারীর সাথে নিজেকে তুলনা করো না।’
‘অত্যন্ত শ্রদ্ধার জানতে চাইছি আপনি আপনার এবং ফ্যারাও রাজকন্যার সাথে সম্পর্কটাকে কিভাবে বর্ণনা করবেন প্রভু?’
‘আহ! মন্দোদরী তাকে উপহারস্বরূপ প্রদান করেছে ফ্যারাওরা। আমি তোমার আছি তুমি একথা খুব ভালোভাবেই জানো। আমি সম্পূর্ণ আলাদা তোমার কাছে এবং তোমার জায়গা অন্য কোন নারী নিতে পারবে না কোনদিনই।’ মন্দোদরী বেশ বুঝতে পেরেছিল দশানন তাকে আশ্বস্ত করার প্রবল চেষ্টা করছে। তার কথা বলার ভঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছিল সে মন্দোদরীকে প্ররোচিত করছে এবং তার স্ত্রী যেন তার কাছে খুব সুলভ। এটা এটা বোঝা যায় দশাননের কথাবার্তায়।
‘আমি তোমার সাথে একটু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই মন্দোদরী। বিষয়টি নিয়ে নানাশ্রী ও বিভীষণের সাথে আলোচনা হয়েছে গতকাল।’
‘কি কথা প্রভু?’
আমার দীর্ঘ বছরের অভিজ্ঞতা এবং গবেষণার দ্বারা ওষুধ আবিষ্কার করেছি যা আমার বয়সকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ওই ওষুধের দ্বারা আমার শরীরে কোনদিন বার্ধক্য আসবে না এবং আমার শরীরকে সর্বতোভাবে শক্তি দেবে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। মন্দোদরী রসায়ন এবং ভেষজ সম্পর্কে অবগত নয় কিন্তু সে জানে দশানন বেদের মাধ্যমে এই দুই বিদায় পারদর্শী।
‘ওই ওষুধ কি প্রকার? ইহা কী অমৃত? আপনার কী আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে অমৃতের?’ মন্দোদরী অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দশাননের দিকে।
‘হ্যাঁ আমি অমৃত তৈরি করেছি। অসুর এবং দেবতা এই নিয়ে যুদ্ধ করেছেন বহু বছর আগে। শুধুমাত্র দেবগণ কেন অমৃত সেবন করবেন?’
‘আমি বুঝতে পেরেছি প্রভু কিন্তু অমৃত কিভাবে তৈরি হলো আমি মনে করি অমৃত সংরক্ষণ করেন প্রধানত দেবতাগণ।’
দেবতাগণ অমৃতের রাসায়নিক অংশটি সংরক্ষণ করে রেখেছে বহু দশক ধরে। কিন্তু অন্য রাসয়নিক অংশ খেয়ে দেখেছেন দশানন। একই রকম স্বাদ। ওই ওষুধের মধ্যে যে জীবনের আয়ুবর্ধনকারী উপাদান থাকে তার দ্বারা তৈরি হয় অমৃত। যা আমার আয়ুকে বর্ধিত করবে আজীবন।
‘প্রশ্ন হলো আমি এই ক্ষমতার অধিকারী হয়ে কি করব!’ দশানন মৃদু হেসে মন্দোদরী দিকে তাকায়।
‘আমার কোন ধারণা নেই এই অমৃত দ্বারা কী সম্ভব। নবগ্রহ গুরুগণ ইতিমধ্যেই অধিষ্ঠান করছেন লঙ্কায়, তখন অমৃতের প্রয়োজন কেন তা সত্যিই আমার জানা নেই।’ মন্দোদরীর নিজের মধ্যে কিছু প্রশ্ন ঘোরাফেরা করে সে বুঝতে পারে নিশ্চয়ই দশানন ভুল পথে চালিত হচ্ছেন। তাঁর গতিপ্রকৃতি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
‘প্রভু আমি চিন্তিত আপনার গবেষণায়। আপনি কি কখনো চিন্তা করেছেন যে এই অমৃতের প্রভাব কী হতে পারে? আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে।’
‘তুমি কোন কারণ ছাড়াই ভীত হচ্ছ মন্দোদরী। এই গবেষণা খুব সাধারণ নয়। এই অমৃত থেকে নিঃসারিত পুষ্টিগুণ যেকোন প্রকার অস্ত্রচিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার পর ব্যবহৃত হবে।’
‘অস্ত্র চিকিৎসা? আপনি কি একে চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহার করবেন?’ মন্দোদরী অবাক বিস্ময় তাকিয়ে থাকে দশাননের দিকে।
‘আমার পেটের নিচে একটি ছেদ পড়ে। সরাসরি নাভির পিছন থেকে সেটিকে গ্রহণ করাই একমাত্র পদ্ধতি অমৃত গ্রহণের।’
‘এমন উপায় কেন প্রভু?’
‘আমি একে সরাসরি পান করতে পারি না কারণ এই অমৃত তৈরি হয়েছে রাসায়নিক পদ্ধতিতে। নাভি মানুষের শরীরের মধ্যভাগে অবস্থিত। একটি শিশুর জীবন শুরু হয় নাভি থেকেই। আমাদের শরীরের শক্তিশালী অংশ এটি। যা যোগসূত্র স্থাপন করে সন্তানের সাথে মা'র। আমি যদি একে নাভির মাধ্যমে গ্রহণ করি তাহলে আমার জীবনে আরও বর্ধিত হবে।’
দশাননের পুরো কথা শোনা মাত্রই মন্দোদরী বিচলিত হয়ে পড়ে।
‘কিছু ভুল হতে চলেছে প্রভু! আমার দৃঢ় বিশ্বাস।’
‘মন্দোদরী অনেক হয়েছে!’ দশানান কিছুটা বিরক্ত হয়ে যায় মন্দোদরীর উপর।
‘তুমি নিশ্চয়ই জানো আমি অস্ত্রচিকিৎসাতেও পারদর্শী এবং কোন ভুল আমার দ্বারা হতে পারে না। যখন আমি গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্ট করেছি।’
‘না প্রভু ! আমি আমার ব্যবহারের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী কিন্তু আমি আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে খুবই চিন্তিত এবং সার্বিক ভাবে আপনাকে নিয়ে চিন্তিত। আমি আপনার মতামতের পাশে না থাকলেও আপনার পাশে সর্বদাই আছি।’
দীর্ঘ অনেক সময় পর দশানন এবং মন্দোদরীর মধ্যে এক দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মন্দোদরীর বারবার প্রশ্ন করাকে দশানন খুব একটা ভালোভাবে গ্রহণ করে না। মন্দোদরী কোনভাবেই চায়না তাদের বিবাহটি আবার নষ্ট হোক। মন্দোদরী জীবনে প্রথম পুরুষ দশানন। সে তাকে পাগলের মত ভালবাসে। মন্দোদরী কিছুটা সংযত হয়। এই কারণে তাকে ছেড়ে আবার যদি আবার চলে যান দশানন!
সে দিনের বেশিরভাগ সময় দশাননকে অন্ধের মত অনুসরণ করে থাকে। কিছুদিন পর একদল দক্ষ বৈদ্য অস্ত্র চিকিৎসার মাধ্যমে দশাননের পেটে অমৃত প্রেরণ করে। বৈদ্যগণ নির্দেশ দেন যাতে দুটো পূর্ণচাঁদ ওঠা পর্যন্ত বিশ্রাম নেয়। তাদের বক্তব্য হলো এই অমৃত শরীরের নিচের অংশে যেতে বেশ কিছুটা সময় নেবে। তারা পর্যবেক্ষণ করে অমৃত শরীরে প্রবেশ করার পর দশাননের ব্যবহার এবং তাপপ্রবাহ পরিবর্তন হয়। দশানন সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত রাজদরবারের কাজ দেখাশোনা করে মন্দোদরী আর অন্য কাজ বিভীষণ এবং নানাশ্রী মিলে দেখাশোনা করতেন। মন্দোদরী কিছু দাসীকে নিয়োজিত করেন দশাননের কক্ষে।
এই সময় দশানন শয্যাশায়ী হয়েছিলেন। মাতা কৈকেসী বারবার এসে দেখে যান। মন্দোদরী যে সময় রাজদরবারের কাজ করতেন সেই সময়ে দশাননের কাছে থাকতেন মাতা কৈকেসী।
কিছু সময় পর দশাননের স্বাস্থ্যের দ্রুত পরিবর্তন হয় তবে এই পরিবর্তন সম্পর্কে তারা অবগত ছিল। এই সময় দশানন খুব ক্ষুধার্ত এবং তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ে। আগের তুলনায় দুগুণ বেশি খাবার খেতে থাকে এবং আগের তুলনায় বেশি সুরা পান করে। কিছু কিছু সময় তাকে নির্জীব বৃদ্ধের মত লাগে। কিছু সময় তাকে নবীন লাগে। মন্দোদরী বৈদ্য সাধারণকে জানায় দশাননের এইরূপ গতিপ্রকৃতির কথা। তারা মন্দোদরীকে জানায় দশাননের এই গুণগুলি অমৃত প্রবেশ করার জন্য হয়েছে।
দশাননের শরীরে শুধুমাত্র তাপমাত্রা ও খাদ্য পাচন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে কামবাসনা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তাকে সন্তুষ্ট করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। দিন যত যায় কামবাসনা ও তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা ভয়ংকর রূপ নেয়। মাতা কৈকেসী ও মন্দোদরী দশাননের ইচ্ছেগুলোকে সঙ্গীতে রুপান্তরের চেষ্টা করেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় তার কক্ষের পাশে কোন সঙ্গীত পরিবেশন করা হবে কিনা, তাদের সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
দশানন তার কক্ষে নৃত্যশিল্পী, বেশ্যাদের ডেকে পাঠায় তাকে আমোদ বিনোদনের জন্য। যে সজ্জাশুধুমাত্র দশানন ও মন্দোদরীর জন্য রক্ষিত ছিল তার দাবিদার বহু নারী। একদিন মন্দোদরী দশাননের সাথে দেখা করার জন্য তার কক্ষে ঢোকার মুখে এক নারীর সাথে তার স্বামীকে উত্তেজনাপ্রবণ অবস্থায় দেখে ফেলে। রাগে অভিমানে ফেটে পড়ে মন্দোদরী। দশাননের কক্ষের বাইরে দ্বাররক্ষীকে আদেশ করা হয় এই নারীরা যাতে কোনোভাবেই তার কক্ষে প্রবেশ করতে না পারে।
মন্দোদরী দশাননের এরূপ অবস্থা অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে। সে ধন্যমালিনীর শরণাপন্ন হয়। প্রতি সন্ধ্যেবেলা মন্দোদরীর সাথে দেখা করেন দশানন। সেই সময় ধন্যমালিনী উপস্থিত হয় সেখানে। ধন্যমালিনী একজন সুবক্তা। মন্দোদরী ভাবে ধন্যমালিনীর কথার জাদুতে দশাননের বিভিন্ন নারীর প্রতি কামবাসনা আসক্তি কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু এই পন্থা বেশিদিন কার্যকরী হয় না। কিন্তু দশানন এতে শান্ত হয় না। ধন্যমালিনী কিছুদিন শান্ত করলেও অন্য নারীরা অতি সহজেই তাকে সন্তুষ্ট করে। ফলে দশাননেয় চাহিদা বেড়ে যায়।
দুমাস পর দশানন নিজের রাজত্বপাটে যোগ দেয়। দিন দিন তাঁর মেজাজ বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর মধ্যে নম্র ভদ্র লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায় না। তার মন্ত্রীবর্গ তার সাথে কথা বলতেই ভয় পায়। দশাননের দেহরক্ষী, ভৃত্য সবাই ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে এবং তার পরিবার তটস্থ হয়ে থাকে। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা শুধু স্বাস্থ্যের অবনতি হয়নি দশাননের সাথে জড়িত সম্পর্কগুলো নষ্ট হতে বসে।
ধন্যমালিনী ও মন্দোদরী দশাননকে এড়িয়ে চলে। দশানন যাতে কোনভাবে অসন্তুষ্ট না হয় তাই তার সমস্ত দাবি মেনে চলে তারা। দশানন দিনের যে কোনো সময় তাদের পক্ষে প্রবেশ করে এবং সুরা খাদ্য, কামের জন্য জোর করতে থাকে। ধন্যমালিনী, রানি মন্দোদরী এই কথাগুলো মেনে নিতে অসমর্থ হলে তাদের উপর নানা দোষারোপ করতে থাকে। দশানন তার কক্ষে যে কোনো সময় ডেকে পাঠায় দাসীদের। যখন ইচ্ছা যা খুশি করে তাদের সাথে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দাসিরা এই সংবাদগুলো লুকিয়ে রাখত মন্দোদরীর কাছে। মন্দোদরী অথবা ধন্যমালিনীর কাছে যে সংবাদ সঠিক সময় আসত তখন তাদের কিছু করার থাকতো না।
যদি কখনও ধন্যমালিনীর কোন দাসী দশাননের ব্যবহারের বিরুদ্ধে এবং যৌন আবেদনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতো তাদের হুমকি দিত তাদের স্বামীকে মেরে ফেলার। দাসীগণ তাদের রক্ষা করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠত কিন্তু দশাননের অনায্য দাবি মেনে নিত না। তাঁর তেজ, রাগ এত বহুগুণ বৃদ্ধি পায় উত্তেজনাবশে সেইসব দাসীদের স্বামীকে হত্যা করে হিংস্র পশুদের মতো। এক কথায় তাদের সিঁথির রঙ ফ্যাকাসে করে দেয়। অসহায়, বিপন্ন দাসীগণ তাদের দুঃখের কথা বর্ণনা করে মন্দোদরীর কাছে। মন্দোদরীর নিজেকে অসহায় মনে হতো কিছুই করার থাকতো না। আবার কোন কোন দাসীদের স্বামীদের আটক করে রাখা হতো। সেইসব দাসীগণ মন্দোদরীর কাছে আসত সাহায্যের জন্য। মন্দোদরীর নিজেকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হতো যে দশানন একজন স্ত্রী লোকের সাথে এরূপ ব্যবহার করতে পারেন।
মন্দোদরীর হৃদয় রাগে, ঘৃণা ভরে উঠত। দাসীদের জন্য দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কিছুই করার থাকত না। মন্দোদরী দশাননের কক্ষে প্রবেশ করত কোনো ঘোষণা ছাড়াই। দশানন দাঁড়িয়ে থাকত জানলার ধারে হাতে সুরার পাত্র নিয়ে। পিছন থেকে দেখে দশাননকে মাদকাসক্ত মনে হয়।
‘আহ! মন্দোদরী, আমার হৃদয়ের রানি! আমি দূর থেকে তোমার উপস্থিতি বুঝতে পারি।’
তোমার গায়ের সুগন্ধ গোটা ঘর ভরিয়ে রাখে।
আমার উপস্থিতি আপনি এখনো বুঝতে পারেন প্রভু?
একী বলছ রানি? মন্দোদরী তুমি বিচলিত হয়ে আছো কেন? না কি তোমার স্বামী তোমার সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে?
লঙ্কেশ্বর প্রভু আমার, আমি আপনাকে গ্রহণ করেছি আপনার সত্ত্বা গুলোকে মেনে নিয়েই। আমার মধ্যে এই মুহূর্তে অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে এবং এই প্রশ্নগুলো ঝগড়ার উৎপত্তি ঘটাবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি আপনার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে চাই। আপনি বিভিন্ন নারীদের অবনমিত করছেন এবং আমাকে দীর্ঘদিন ধরে অপমান করছেন। এ অপমান লঙ্কার সমস্ত নারীর অপমান।
দশানন মন্দোদরীর দিকে ফিরে তাকায়।
‘এ তুমি কি বলছো মন্দোদরী?’
‘আমি কী বলছি আপনি জানেন প্রভু। আজ আপনি একজন সাধারণ মানুষকে হত্যা করছেন কারণ তার স্ত্রী আপনার প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি!’
মন্দোদরী আমি তোমাকে আমার কক্ষ ত্যাগ করার জন্য আদেশ করছি। দশানন মন্দোদরীর দিকে চিৎকার করে মুখ ফিরিয়ে নেন।
দশানন, আমি এই কক্ষ ছেড়ে কোথাও বেরোবো না যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি আমার সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলছেন। লঙ্কার রাজা কিন্তু আপনি কিন্তু ভুলবেন না আমিও লঙ্কার রানি। লঙ্কার মানুষ আপনার থেকে যেমন প্রত্যাশা করেন তেমন আমার থেকেও প্রত্যাশা করেন। এই মানুষজন আপনার মত আমাকেও বিশ্বাস করে। সুতরাং প্রভু আবার পুরো অধিকার আছে এই রাজত্বে। আমি আপনার থেকে রাজার মতো সঠিক বিচার চাইছি।
কীসের বিচার? দশানন মন্দোদরীর উপর ভয়ঙ্কর রেগে যান।
লঙ্কার মহিলাদের উপর বিচার প্রভু। যা হচ্ছে তা হতে দেওয়া যায় না। কিন্তু আমি অনুরোধ করছি আপনার কাছে আপনি দাসীর স্বামীদের হত্যা করা বন্ধ করুন।
তারা কি আপনার কাছে এসে কেঁদেছেন?
তারা প্রত্যেকেই আমার কাছে এসেছে। আপনার গবেষণা দ্বারা আপনার যা যা পরিবর্তন হয়েছে তার সবই গ্রহণ করেছি। কিন্তু এটা আপনি করতে পারেন না! আপনি নারীর কামবাসনার দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন কিন্তু হত্যা করতে পারেন না! কী এমন হয়েছে প্রভু যার জন্য আপনি এমন দয়ামায়াহীন হয়ে পড়েছেন? আপনি তো এত হৃদয়হীন মানুষ নন।
মন্দোদরীর চোখে জল ভরে ওঠে। দশানন কিছু সময়ের জন্য থমকে যায় এবং মন্দোদরী বুঝতে পারে যে সে নিজের হাঁটুর ওপর দাঁড়িয়ে। দশানন শান্ত হয়ে যান এবং কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়েন।
আপনি কি বিষয়ে বিস্ময়বোধ করছেন প্রভু! এখন হয়তো বুঝবেন না যখন আপনাকে দেখি অন্য নারীর সাথে একই শয্যাতে নিজের উপর দিয়ে কি যায়! আপনি কেমনভাবে এই কেমন ভাবে নেবেন যদি আমাকে দেখেন অন্য পুরুষের সাথে। আপনার মনে কি কোথাও কোনো উদ্বেগ দেখা দেবে না? আপনি কি খুব ভালোভাবে নেবেন অন্য পুরুষের পাশে আমাকে!
ভদ্রতা শিষ্টাচার ও শোভনতা সবগুলোইর কমতি দেখা যাচ্ছে তোমার মধ্যে। তুমি ভুলে যেও না তুমি কার সাথে কথা বলছো। নিজেকে আরও সংযত করা উচিত তোমার!
যখন আপনি আমার বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ এনেছেন তখন কি করে ভাবলেন আমি আপনার সাথে থাকব?
একথা বলেই স্থান ত্যাগ করার আগেই মন্দোদরীর হাত ধরে নেয় দশানন।
আর একটু থাকো মন্দোদরী। আমি খুব অন্যায় করে ফেলেছি এবং তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি খুবই গর্বিত কাজ করেছি এবং আমাদের বিবাহ অমর্যাদা করেছি। কিন্তু তুমি সর্বদা আমার দুঃখে সুখে পাশে থেকেছ তার জন্য আমি কৃতার্থ।
প্রভু আমি এটা সহ্য করতে পারিনা যে কেউ আপনার দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করুক।
আমি স্বামী হিসেবে অযোগ্য মন্দোদরী। আমি একজন সার্থক রাজা কিন্তু নিজের স্ত্রীকে সুখী করতে ব্যর্থ হয়। আমাকে ক্ষমা করো রানি।
না প্রভু আমি মনে করি না আপনি ব্যর্থ। কিন্তু আপনি অন্য নারীদের সাথে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন কেন? কেন আপনাকে মাঝে মাঝে এত রেগে যেতে হয়! যার কারণে কাউকে মৃত্যু আদেশ দিতে হয়। কারোর অসহায় স্বামীকে মৃত্যুর আদেশ দেন কেন প্রভু? আপনি অন্যের উপলব্ধিগুলোকে অমর্যাদা করে কী আনন্দ পান?
তুমি ঠিক বলেছ। আমি আজকাল বেশি ক্রুদ্ধ এবং অমানবিক হয়ে পড়ছি কিন্তু আমি আগের তুলনায় বেশি হৃদয়বান হয়ে গেছি। যদিও নারীর সৌন্দর্য এখনও আমাকে বেশি আকর্ষণ করে।
প্রভু যে অমৃত আপনি পান করেছেন সেই অমৃতের জন্যই আপনার এরূপ পরিবর্তন।
অমৃতকে কোনরূপ দোষারোপ করো না। তুমি এর শক্তি কত তা দেখনি। আমার ত্বকের ধারণক্ষমতা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। কিছু বছর পর আমার বার্ধক্য বন্ধ হবে আর কোন অসুর থাকবে না পৃথিবীতে যে অমৃত ধারণ করেছে। আগে আর কেউ সমর্থ হবেনা অমৃত উদ্ভাবন করতে।
কিন্তু প্রভু আমি অমৃতকে দোষারোপ করবই। এটি এমনই এক রাসায়নিক পদার্থ যা খুবই বিষাক্ত এবং আপনাকে লম্বা জীবন দিলেও আপনার শুভ গুণগুলোকে আপনার চরিত্র থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে।
তুমি কেমন করে দোষারোপ করতে পারো আমার আবিষ্কারকে। এটি আমার অর্ধেক জীবন এবং আমার কাছে এর পরিবর্তে কিছু নেই যা আমাকে জীবন দান করবে আমি তোমার সকল অভিযোগগুলো মেনে নিচ্ছি আমার রানি। কারণ তুমি আমাকে উপলব্ধি করেছে যে আমি সঠিক কাজ ও পথে চলছি না। আমি তোমার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি স্বামী রুপে আরো সচেতন হব এবং সৎ থাকার চেষ্টা করব।
প্রতিজ্ঞা করুন প্রভু। আপনি এমন কোন কাজ করবেন না যাতে আপনার ওপর বিশ্বাস হারিয়ে যায়।
আমি প্রতিজ্ঞা করলাম মন্দোদরী আমার সকল ভালোবাসা রইল তোমার জন্য।
দশাননের উপর অস্ত্রচিকিৎসা এবং অমৃতের ব্যবহারকে আড়ালে রেখে দেওয়া হল পরিবারের অন্যদের থেকে। তাদের পরিবারের মধ্যে মাতা কৈকেসী, বিভীষণ, কুম্ভকর্ণ এবং বৈদ্যগণ-যারা অস্ত্র চিকিৎসা সহায়তা করেছেন এবং মন্দোদরী জানল এই বিষয়টি শুধুমাত্র। দশানন একের পর এক রাজ্য জয় করতে লাগল এবং সকল প্রতিপক্ষ পরাজিত হল। দশানন মন্দোদরীর কাছে প্রতিজ্ঞামতো সমস্ত ক্রোধ সম্বরণ করে এবং কিছু সপ্তাহ পর তারপর আবার আগের মত হয়ে যান।
কুম্ভকর্ণ দশাননের সাথে দেখা করতে আসেন অমৃত আবিষ্কারের সফলতার জন্য। দশাননকে জোর করে ইন্দ্রর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। ইন্দ্রর অমরাবতী দখল করার বাসনা কুম্ভকর্ণের বহুদিনের। কুম্ভকর্ণের পিতামহ বিরোচনা ইন্দ্রর বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হয় এবং মারা যায়। তারপর থেকেই কুম্ভকর্ণ ইন্দ্রকে পরাজিত করতে চায় এবং নিজের আয়ত্তে আনতে চায় ইন্দ্রলোক। তাঁরা দুজনে মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে পরাজিত করা যায় যাতে ইন্দ্রলোক তাদের অধিকারে আসে।
দুই সপ্তাহ পর দশানন লঙ্কা আসেন এবং প্রথম দেখা করেন মন্দোদরীর সাথে। লঙ্কায় প্রবেশ করার সাথে যুদ্ধে জয়ী হবার দামামা বেজে ওঠে এবং দশানন খুব খুশি হন। দশাননের মুখ ঝলমল করে ওঠে। যুদ্ধের পরাজিত হয় প্রজাপতি ঋষি ব্রহ্মা দূত পাঠান ইন্দ্রর মুক্তির জন্য। দশানন প্রথমদিকে নিরুত্তর থাকলেও ব্রম্ভার কথা ফেলতে পারেন না।
ইন্দ্রকে হারাবার আনন্দে মশগুল হয়ে থাকে দশানন কিছুদিন। তার অহংকার পূর্ণ হয়। কুম্ভকর্ণ তার দাদার কীর্তির জন্য খুব গর্ববোধ করে। কিছুদিন পর দেবর্ষি নারদ সাক্ষাৎ করতে আসেন দশাননের কাছে। ঋষি নারদ হলেন ব্রহ্মার পুত্র যাকে ভগবান বিষ্ণুর কাছে উৎসর্গ করেছিলেন। এটা বিশ্বাস করা হয়ে যে তিনি খুব সহজেই পৃথিবীর সর্বত্র ভ্রমণ করতে পারতেন। নারদকে সবাই অসৎ বলেই চিনে থাকে। কেউ তাঁকে তাদের কক্ষে উৎসব অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাক্ষাতের সময় আটকাতে পারেনা।
মাতা কৈকেসী নারদকে অভ্যর্থনা করেন এবং দশাননের পাশে স্থান গ্রহণ করার জন্য বলেন। মন্দোদরী মাইয়ের কাছে আগেই নারদ সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব শুনেছিল। প্রথম দেখলেন স্বচক্ষে সেদিন। দশানন রাজদরবারে প্রবেশ করতেই নারদ মুনি মাথা নিচু করে অভ্যর্থনা জানালেন এবং দশানন তাকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করলেন।
অবাক হবেন না লঙ্কেশ। ত্রিভুবনে সবাই এখন শুধু আপনার কথাই বলছেন। নারদ মুনি একথা শুনে দশানন খুব গর্বিত হলেন।
আপনার সাথে সাক্ষাতে খুব ভালো লাগলো দেবঋষি বলুন আপনার আগমনের কারণ কি? আমি আপনাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছি আপনার জয়ের জন্য। আপনি যুদ্ধে ইন্দ্রকে পরাজিত করেছেন। তিনি ইদানিং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন। নারদ মুনির গলায় প্রশংসা ঝরে প্রসংশা ঝরে পরে।
আমি খুব গর্বিত আপনার প্রশংসায় দেবঋষি। ইহা খুবই সাম্প্রতিক ঘটনা। উত্তর দেন দশানন।
হ্যাঁ আমি আমি জানি লঙ্কেশ। তাই আমি শীঘ্রই এসেছি আপনাকে অভিনন্দন জানাতে। নারদ মুনি হালকা হেসে উত্তর দেন।
আমার আগমনের বিলম্বের কারণ বানর। দশাননের দিকে তাকিয়ে কথাগুলি বলেন নারদমুনি।
দশানন অবাক হয়ে তাকিয়ে বলেন, ‘বানর?’
হ্যাঁ লঙ্কেশ আমি কিস্কিন্ধা ভ্রমণ করেছিলাম তখন একটি বানরকে দেখতে পাই নাম বালি। বালি কিস্কিন্ধা রাজা। আমি কিস্কিন্ধা ভ্রমণকালে তার অতিথি হয়েছিলাম। বালি তাকে তার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানায়। আমি তখন বলি দশাননের সাথে সাক্ষাতের কথা। বালি জানায় সে আপনার নাম শোনেননি।
বানর হল একটি উপজাতি যা মানুষের নেতৃত্ব বনমানুষ এবং বানরকে অন্তর্ভুক্ত করে। বানর এবং বনমানুষের প্রশিক্ষণ দেয় মানুষ প্রধান। বানর প্রজাতি মানুষ দেখতে বানরদের মত।
ওদের জামাকাপড়, আচার-ব্যবহার সবটাই বানরের মতো।
কে বলল আমাকে চেনে না? দশানন প্রশ্ন করেন।
আমিও বিস্মিত হলাম লঙ্কেশ। ত্রিভুবনের সবাই আপনাকে চেনে। আপনাকে নিয়ে কথা বলছেন। ইন্দ্রর সাথে আপনার যুদ্ধের কথা সকলের মুখে মুখে। কিন্তু বানর আপনাকে চেনেন না।
একই সত্যি?
হ্যাঁ লঙ্কেশ বানর বহু যুদ্ধে জয়ী হয়েছে একাই। সে একজন বিখ্যাত তার বরের জন্য।
কি ধরনের বর দেবমুনি?
যে কেউ তার সাথে একা হয়ে যদি যুদ্ধ করেন তবে সে অর্ধ পরাজিত হবে শক্তিতে। বানর তার শত্রুর কাছে অদৃশ্য হয়ে যায়। সবকিছু শুনে অবাক হয়ে যান দশানন। বিভিন্ন চিন্তা শুরু হয় তার মনের মধ্যে।
‘লঙ্কেশ...’ নারদ মুনি দশাননকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি কি ভাবছেন লঙ্কেশ?’
‘বানররা কোথায় থাকেন দেবমুনি?’ ভারতবর্ষের কিস্কিন্ধা অংশে তারা বসবাস করে। সে বানরদের সৈন্য।
‘আপনি কি জানেন বালির বাবা কে?’ দশানন মাথা নেড়ে উত্তর দেয় সে জানেনা। অন্য কেউ না দেবরাজ ইন্দ্রর পুত্র। নারদমুনী উত্তর দেন। দশানন আসন ছেড়ে উঠে পড়লেন, ‘বালী! ইন্দ্রপুত্র। তিনি কি জানেন না এবং আমার ইন্দ্রর মধ্যে কী ঘটনা ঘটেছে।’
‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই লঙ্কেশ। হয়তো সে শুনেছে কিন্তু বিশেষ পাত্তা দেননি।’ তিনি নিজেকে খুব সাহসী এবং গর্বিত মনে করেন।
দশানন সঠিকভাবে বুঝতে পারলেন না নারদের ভ্রমণের কারণ কী হতে পারে! নারদ কী শুধু অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন নাকি তার মনের মধ্যে অশান্তির বীজ বপন করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার স্থান গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি চাননি যে তাদের কথোপকথন দীর্ঘায়িত হোক এবং তাকে মুখোমুখি হতে না হয় দশাননে আবারো ক্রুদ্ধ হয়ে গেলেন।
যাইহোক দেবঋষি এবার থেকে বানর আমাকে খুব শীঘ্রই চিনবে। দশাননের এই মনোভাব মনে মনে বেশ আনন্দ পেলেন নারদ এবং প্রশ্ন করেন, ‘আপনি ঠিক কি করছেন?’
আমি এখনো কোনো পরিকল্পনা করতে পারিনি তবে খুব শীঘ্রই তারা আমাকে দেখতে পাবে। লঙ্কেশ গলা বেশ তীক্ষ্ণ হল।
আমি এবার স্থান ত্যাগ করি লঙ্কেশ। নারায়ণ নারায়ণ! নারদমুনী চলে যান।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন