গালভেস্টোনের সেই রাত

দেবযানী বসু কুমার

সবাই সবার মুখের দিকে তাকায়। সবে ওদের ব্যান্ডের নাম ছড়াচ্ছে শহরে। আর তখনি সটান বিদেশ থেকে ডাক আসবে সেটা ভাবনার অতীত। ব্যান্ডের নাম নবপঞ্চ। নবপঞ্চের নামকরণের ব্যাখ্যায় ওরা চারজন আর রবি ঠাকুর নিজে। ওদের যুক্তি, কবিগুরু না লিখলে নবপঞ্চের জন্মই হত না। কথা সুর ভাবের বিকৃতি না করে কেবল ব্যান্ডের কায়দায় রবিঠাকুরের গান গায় ওরা অর্থাৎ ওদের গানে বাজনার আধিক্য একটু বেশি। আর সাজসজ্জাতেও বেশ নতুনত্ব। রাবীন্দ্রিকের সঙ্গে ব্যান্ডের মিশেল—জিনসের সঙ্গে বাটিকের ফতুয়া। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা তো নবপঞ্চ বলতে পাগল। সব কিছু মিলিয়ে তাই খুব অল্পদিনের মধ্যে কি দেশে কি বিদেশে, গান জগতে নবপঞ্চ একটা সাড়া ফেলে দিয়েছে।

নন্দিনী মিত্র, স্বাতী মুখার্জী, পামেলা মিত্র ও শর্মিষ্ঠা রায় চৌধুরী গান গাইতে পাড়ি দেয় হিউস্টনে, রবিঠাকুরের ছবি নিয়ে। হিউস্টনের ভাগ্যে এবার শিকে ছিঁড়েছে। বঙ্গ মহা মেলা এবার ওখানে। অনুষ্ঠান শেষে প্রচুর প্রশংসা ঝুলিতে পুরে ওরা রওনা হয় টেক্সাসের সমুদ্র শহর গালভেস্টোনের উদ্দেশে। প্রথম বিদেশ যাত্রা তাই সবার মন উড়ু উড়ু। ওদের মতো যেহেতু অনেকেই অনুষ্ঠানের শেষে বেড়াতে এসেছে তাই বাঙালি পর্যটকে গিস গিস করছে।

বুকিং ছিল না। অনেক কষ্টে ঘর জোগাড় হয় অস্টন ভিলাতে। সবই দু-বিছানার তাই দুটো ঘর নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আর দুটো ঘর পাশাপাশি হওয়া খুব দরকার। পাশাপাশি বলতে খালি শুধু ৫০০ আর ৫০১ নম্বর ঘর। হোটেল ম্যানেজার নাছোড়বান্দা, কিছুতেই খুলে দেবে না ৫০০। অনেক বাদানুবাদের পর খুব অনিচ্ছার সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষ খুলে দেয় রুম নম্বর ৫০০। না দিতে চাইবার কারণটা শুনেও আর এক প্রস্থ হাসাহাসি। ঘরটায় নাকি অশরীরী কার্যকলাপ হয়। চাবি হাতে পাওয়া মাত্র পামেলা একরকম সবাইকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঢুকে যায় ৫০০-তে। অগত্যা নন্দিনীও ওই ঘরেই যায় আর অন্য ঘরটায় যায় স্বাতী ও শর্মিষ্ঠা।

সবাই খুব ক্লান্ত। তখন দুপুর আড়াইটে। সবাই ভাবে ঘণ্টা দুয়েক শুয়ে নিয়ে বিকেলে বেড়াতে যাবে। ফেরার সময় সমুদ্রের ধারে আর হোটেলের উল্টোদিকে তর্তুগা রেস্টুরেন্টে মেক্সিকান ডিনার সেরে ফিরবে।

যখন ঘুম ভাঙলো তখন মুঠোফোনে নন্দিনী দেখে রাত তিনটে। পাশের খাটে পামেলা বসে আছে। কেমন যেন ঘোলাটে চোখ। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছে না। বাইরে ঝোড়ো হওয়ার শোঁ-শোঁ শব্দ আর তার সঙ্গে সমুদ্রের গর্জন। দরজা জানলা দুমদাম পড়ছে। কিন্তু যতদূর মনে পড়ে শোবার সময় সব ছিটকিনি বন্ধই ছিল। ভয় পেয়ে নন্দিনী পাশের ঘরে ডাকতে গেলে শর্মিষ্ঠারাও নিজেদের এমন মরণ ঘুম দেখে অবাক হয়ে যায়। পামেলাকে ডাকতেই বিশ্রীভাবে চিৎকার করে ঘুম পাচ্ছে বলে একরকম ধাক্কা মেরে ওদের ঘর থেকে বার করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা এঁটে দেয়। ওদের কেমন যেন লাগে। বাকি রাতটা বসে বসেই কেটে যায়। পামেলাকে নিয়ে একটু চিন্তাও হয়। কোনওদিনই ও নরম স্বভাবের নয় কিন্তু আজকের ঘটনাটা খুব অস্বাভাবিক লাগে।

পরদিন সকালে পামেলা খানিকটা সহজ হলেও ওরা কিছুতেই পারে না ওকে ওই ঘরটা থেকে নড়াতে। একভাবে সকাল থেকে জানলার সামনে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বসেই আছে। একটার বেশি দুটো কথা বলতে গেলে বিরক্ত হচ্ছে। ওরা তিনজনও বিরক্ত হয়ে ঘুরতে চলে যায়। সমুদ্রস্নান, টুকিটাকি কেনাকাটা আর তারপর দুপুরের খাওয়া সেরে হোটেলে ফেরে। তখনও সেই একই ভাবে বসে আছে পামেলা।

হঠাৎ সন্ধের পর থেকে একটা ঝড়ের আবহাওয়া। তিন বান্ধবী খেয়াল করে পামেলা সাজগোজ করছে। কারণ জিগ্যেস করতে হেসে গড়িয়ে পড়ে উত্তর দেয়, আজ যে আমার বিয়ে। সেই রাতে নন্দিনী কিছুতেই রাজি নয় পামেলার সঙ্গে ওই ঘরে শুতে। এদিকে ওদের মনে হয় পামেলা বেশ বাড়াবাড়ি করছে। তিনজন পাশের ঘরে শুতে চলে যায়। গল্প করতে করতে শোনে পামেলা একটার পর একটা রবীন্দ্র সংগীত গেয়েই চলেছে। ওর গানের মূর্ছনায় সমুদ্রের গর্জন যেন লজ্জা পাচ্ছে। ঝড় নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে। ওরা সবাই মনে মনে মানে, পামেলার গানের গলা সবার মধ্যে ভালো। গান শুনতে শুনতে কখন যেন ওদের চোখে ঘুম নেমে আসে।

হঠাৎ প্রচণ্ড চেঁচামেচি শুনে ওরা তিনজন প্রায় দৌড়ে ঘর থেকে বারান্দাতে এসে দেখে কিছু লোকের জটলা। রাত তখন প্রায় সাড়ে তিনটে। জানতে পারে হোটেলের দারোয়ান দেখেছে একজন মহিলা সেজেগুজে সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে।

সে মহিলাকে অনুসরণ করে। কিন্তু মাঝের দূরত্ব অনেকটা। হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানিতে মহিলাকে পিয়ারের ওপর থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে দেখে। বন্ধুদের বুক ভয় কেঁপে ওঠে। সবাই দেখে পামেলার ঘরের দরজা হাট করে খোলা আর ঘরেও কেউ নেই। বাইরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সমুদ্র একদম আলকাতরার মতো জমাট কালো আর তার সঙ্গে জোরালো হাওয়ার দাপাদাপি। একটা অব্যক্ত ভয় ওদের গলা টিপে ধরল। চিন্তা শক্তির একটা হাল ছাড়া ভাব। ঘণ্টা খানেক পর আকাশে একটা সুতোর মতো আলোর রেখা দেখা দিতেই তিন বন্ধু, হোটেল ম্যানেজার, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন আর হিউস্টনের বঙ্গ মহা মেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে যথাসাধ্য চেষ্টা করে পামেলাকে খুঁজতে। কিন্তু কোনও চিহ্নই নেই, যেন সমুদ্রে মিশে গেছে ওদের পামেলা। আর ওকে ইলোপ করে সমুদ্র যেন লজ্জায় অধোবদন। কেমন যেন শান্ত শান্ত ভাব। সমুদ্রে নেই কোনও হাওয়া, নেই কোনও গর্জন। ঢেউগুলো ভাঙছে খুব সাবধানে। চারদিকে একটা থম মারা ভাব।

লিখিত কোনও কাগজ না পেলেও সবাই বুঝতে পারে পামেলার খোঁজ পাওয়ার খুব একটা সম্ভাবনা আর নেই। যদিও পুলিশ বা প্রশাসন ওদের মতো করে খোঁজ করার চেষ্টা করবে ওদেশের আইন অনুযায়ী। এই নিদারুণ খবরটা কলকাতায় পামেলাদের বাড়িতে পাঠাতে বুক ফেটে যায় তিন বন্ধুর। বুঝতে পারে না, ফিরে গিয়ে কি করে দাঁড়াবে পামেলার বাবা-মায়ের সামনে।

ভারাক্রান্ত মনে ওরা প্রস্তুতি নিচ্ছে পরের দিন ফেরার। তখন সমুদ্রে সূর্যাস্ত হচ্ছে। সেদিকে তাকিয়ে ওদের চোখের জল বাঁধ মানছে না। অযাচিত ভাবে এক মেক্সিকান মহিলা ক্লিনার ওদের ঘরে এসে বলে তার কিছু বলার আছে।

ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে শুরু করে এক সত্য ঘটনা বলতে যা নাকি ওরা বংশপরম্পরায় শুনে আসছে। শুধু ওই না, গালভেস্টোনের এই পুরোনো গল্প অনেকের মুখে মুখে ফেরে। তারাও তাদের বাপ ঠাকুমার কাছে শুনেছে। স্বাতীরা বুঝতে পারে গল্পটার মধ্যে মিশে আছে বেশ কিছু কল্পনা কিন্তু আদপে একটা ঘটনা আছে।

এই অস্টন ভিলা হোটেল ছিল অস্টন পরিবারের বাড়ি। এই বাড়িতে এডওয়ার্ড অস্টন, স্ত্রী টিল্লি অস্টন ও কন্যা পামেলা অস্টনকে নিয়ে থাকতেন। বহুবছর আগে ইউরোপ থেকে অস্টন পরিবার টেক্সাসে এসেছিল ব্যবসা করতে। আর ফিরে যাওয়া হয়নি। এই বাড়ি এডওয়ার্ডের বাবার তৈরি। অনেক রদবদল বা মেরামতি হলেও মূল বাড়িটা প্রায় একই আছে। আর রুম নম্বর ৫০০ ছিল পামেলা অস্টনের ঘর। ধনী বাপ মায়ের একমাত্র আদুরে মেয়ে পামেলা স্বভাবে বেশ বদমেজাজি আর অত্যধিক প্রশ্রয় বেশ বেয়াড়া। সর্বদা হরেক রকমের অন্যায় আবদার। কিন্তু একটা গুণ ছিল। অসাধারণ ভালো গান গাইত। ওর গানের গলায় মানুষ বশ হয়ে যেত।

এই মেয়ে প্রেমে পড়ল এক নাবিকের, নাম ক্যালিকো গ্যালভেজ। বসবাস এই শহরেই। শিক্ষা দীক্ষার কোনও পাটবালাই নেই। তবে সমুদ্রের হালহকিকৎ একেবারে গুলে খেয়েছে। আর এটাই ছিল ওদের মধ্যে অশান্তির একমাত্র কারণ। পামেলার ধারণা ছিল সমুদ্র ওর সতীন। গ্যালভেজ ওর থেকেও সমুদ্রকে বেশি ভালোবাসে। সব কথাই পামেলা বলত ওর মেক্সিকান ন্যানিকে। পয়সাওয়ালা ব্যবসায়ী পরিবার। সারাদিন অস্টন দম্পতিকে এদিক ওদিক যেতে হত। তাই পামেলাকে মানুষ করার জন্য ছিল ন্যানি। বলতে গেলে পামেলার ছায়াসঙ্গী।

বাড়িতে জানাজানি হতেই দারুণ অশান্তি। অস্টন পরিবার কিছুতেই এই বিয়ে মেনে নেবে না। আর জেদি মেয়ে কিছুতেই গ্যালভেজকে ছাড়বে না। তবে এই বিয়ে মেনে না নেবার পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল। গ্যালভেজের মা ছিল কিউবার মেয়ে। হাত ফেরতা চলে এসেছিল টেক্সাসে। পানশালা, সরাইখানাতে নাচ করে মনোরঞ্জন করত নাবিক আর তখনকার জলদস্যুদের। ওইরকম একজন জলদস্যুর ঔরসে জন্ম গ্যালভেজের। প্রথামাফিক কোনও বিয়ে হয়নি ওর বাবা মায়ের।

পামেলার যখন নয় মাস বয়স তখন ওর নাচনি মা পালিয়ে যায় আর এক নাবিকের সঙ্গে। গ্যালভেজের বাবা স্বভাবে জলদস্যু হলেও বাবা-মনটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে পারেনি। মেয়ের দেখভাল করত। যখন সমুদ্রের ডাক আসত ওকে নিয়েই পাড়ি দিত। শিশু বয়স থেকে সাগরে যাতায়াত তাই নোনাজলের সাম্রাজ্যের সব ছিল গ্যালভেজের নখদর্পনে। যে কোনও ওসেনোলজিস্টের নাক কাটতে পারত। বড় হবার পর বুঝেছিল বাবা লোকটা খারাপ না। যখন আকণ্ঠ মদ গিলত তখন ওর মাকে আর ওকে কাঁচা খিস্তি করত। কিন্তু পরে আর বিয়ে বা সংসার করেনি। ডাঙায় এলে লাইনের মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করত মজা লুটত। ব্যস, ওই অবধি।

যখন ওর প্রায় আঠারো বছর বয়স, ওর বাবা মুখ দিয়ে রক্ত উঠে মারা যায়। গ্যালভেজ তখন বেশ লায়েক। রোজগারের জন্য জাহাজে কাজ নেয়। এরই ক’বছর বাদে এই সম্পর্কের সূত্রপাত। মেয়ে যখন বুঝতে পারে বাবা-মা তলে তলে অন্যত্র বিয়ের ব্যবস্থা করছে, আচমকা পালিয়ে যায় গ্যালভেজের সঙ্গে। পাঁচ মাস বাদে মেয়ে যখন ফিরল তখন সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়ের অবস্থা দেখে লোকলজ্জার ভয়ে অস্টন দম্পতি গ্যালভেজের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে। বিয়ের দিন সকাল থেকেই গালভেস্টোনের আবহাওয়া খুব খারাপ। কিন্তু সেদিকে হুঁশ নেয় পামেলার। সে তখন সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত। আর সেদিনই গ্যালভেজের সমুদ্র থেকে ফেরার কথা বিকেলে। সন্ধেতে চার্চে বিয়ের অনুষ্ঠান তারপর অতিথি আপ্যায়ন।

দিনটা ছিল ১৯০০ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর। গালভেস্টোনের জন্য ভয়াবহ দিন। চার চারটে হ্যারিকেন আছড়ে পড়েছিল শহরে। হাজার হাজার মৃত্যু মিছিলে গালভেস্টোন তখন শ্মশানে পরিণত। শহরটা ভেঙেচুরে তছনছ। শহর নয় যেন শহরের ধ্বংসাবশেষ। যেন এক মৃত্যুপুরি। অস্টন ভিলার ক্ষতি হয়েছিল তবে তেমন কিছু নয়। মহাসাগরের এমন করাল রূপ না দেখলে কেউ আন্দাজ করতে পারবে না। রাতের দিকে খবর এল গালভেস্টোনমুখী সমস্ত জাহাজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। পামেলার দিকে তখন তাকানো যাচ্ছে না। নববধূর সাজে পাথরের মতো বসেই আছে সাগরের দিকে তাকিয়ে। সেজে এত মোহময়ী লাগছে যে চোখ ফেরানো যাচ্ছে না। পরনে সাদা গাউন সঙ্গে হীরের গহনা, মাথায় অস্টন পরিবারের টিয়ারা, টিল্লি অস্টনের হাতে তৈরি ফুল তোলা সাদা ভেলের ফাঁক দিয়ে সোনালি কুচো চুলগুলো উড়ছে, ন্যানির হাতে তৈরি কুরুশে বোনা আঙুল আবরণী। পামেলার বাবা, মা ও ন্যানি পাহারায় বসে আছে পাছে তাদের আদরের মেয়ে কিছু অঘটন না ঘটিয়ে বসে।

তখন বেশ গভীর রাত, সবার একটু চোখ লেগে গেছে। এক সময় হঠাৎ খেয়াল হয় পামেলা ঘরে নেই। ন্যানির আর্ত চিৎকারে সবাই হতচকিত। পামেলা কোথাও নেই। খোঁজ খোঁজ খোঁজ। না, সারা গালভেস্টোন থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পামেলা। গ্যালভেজের শোকে ও ঝাঁপ দিয়েছে সমুদ্রে।

তিনদিন বাদে ভাঙাচোরা শতছিন্ন গ্যালভেজ ফিরে আসে ওর পামেলার কাছে। ও যে সমুদ্রদেবের বরপুত্র। সমুদ্রে ওর মৃত্যু হতেই পারে না। জলদেবতা ওকে এ ক’দিন হ্যারিকেনের তাণ্ডব থেকে আগলে রেখেছিল ওর বাবার মতো। কিন্তু পামেলার মৃত্যু সংবাদে গ্যালভেজ উন্মাদ হয়ে যায়। সারাদিন জলের কিনারায় বসেই থাকে আর বিড় বিড় করে বকে। তারপর একদিন কোথায় হারিয়ে গেল। কেউ আর পেল না ওর কোনও খবর। গল্প শেষ হল প্রায় তখন ভোররাত। চারদিকে একটা কেমন গা শিরশিরানি ঠান্ডা হওয়া, সমুদ্র যেন বাচ্চা ছেলের মতো মুখে আঙুল দিয়ে বসে আছে। টু শব্দ করছে না। মেক্সিকান ক্লিনার করুণ হেসে বলে, সমুদ্র বোধহয় লজ্জা পাচ্ছে ওর কৃতকর্মের জন্য। তাই চুপ করে গেছে।

পরদিন কলকাতায় ফেরার সময় নন্দিনীরা যখন খোঁজ করে মেক্সিকান ক্লিনারকে বিদায় সম্ভাষণ জানাবে বলে তখন জানতে পারে, এই হোটেলে কোনও মেক্সিকান ক্লিনার কাজই করে না।

স্বাতীরা বোঝে পামেলার মেক্সিকান ন্যানি এসেছিল ওদের মনের জটটা খুলে দিতে।

জটটা খুললেও প্রশ্নটা থেকেই যায়—আরও কতবার পামেলা জন্মাবে এইভাবে নিজেকে সাগরে বলি দিতে? আরও কত শতাব্দী ধরে পামেলা খুঁজে বেড়াবে ওর প্রেমকে? কবে শুকোবে পামেলার আত্মার চোখের জল? তিন বন্ধু প্রার্থনা করে—হে ঈশ্বর ওদের আত্মার মুক্তি দাও। একবার মিলিয়ে দাও পামেলা ও গ্যালভেজকে। একটা জন্মে ওরা সুখে সংসার করুক।

অধ্যায় ১ / ২৫
সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%