কমলেশ কুমার
ভোন্ডুডিহির জঙ্গলটা যেন অন্ধকার দিয়ে মোড়া। এরকম গাঢ় শালবন, এর আগে খুব বেশি দেখেনি বীতরাগ। আলকাতরার মতো অন্ধকার ভেদ করে এবড়োখেবড়ো একটা মোরাম রাস্তা চলে গিয়েছে সামনে। ধানশোল, পন্তাছেঁচা কিংবা ফুলাকেন্দু যাওয়ার রাস্তা বলতে ওই একটাই। এই এলাকার মানুষজন রাস্তাকে রাহা বলে ডাকে। তাদের কাছে এই ভেঙে পড়া ব্রিজ, মলিন হয়ে আসা মোরাম, হাঁটুসমান গর্তের জলজমা জীবনটা কোনও রূপকথার ছায়াছবি নয়, তাদের গর্জে ওঠার হাতিয়ার। না পেতে-পেতে আর লাঞ্ছিত হতে-হতে মানুষ যেমন নেকড়ের মতো নরখাদক হয়ে ওঠে একসময়, মুথুকুমারনের নেতৃত্বে আবেন হাঁসদা, সহদেব মুর্মূরা হাতে বন্দুক তুলে নিয়েছে বছর তিনেক হল।
২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যেদিন পার্টি সংযুক্তির চুক্তিতে জনযুদ্ধ দলের তরফে সাধারণ সম্পাদক মুপ্পালা লক্ষণ রাও ওরফে গণপতি এবং মাওয়িস্ট কমিউনিস্ট সেন্টারের তরফে প্রশান্ত বোস একীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন, সেদিন থেকেই আবেন হাঁসদা, সহদেব মুর্মুরা আন্দোলনের নতুন রূপরেখা পেল। কীভাবে নিজের অধিকার জোর করে কায়েম করে নিতে হয়, কীভাবে বন্দুকের নল দিয়ে নতুন সকাল আনতে হয়, খাবারের জন্য শাসকদলের দু'পাঁচটা লাশকে লোধাশুলির সবুজ অন্ধকারে ছুড়ে ফেলতে হয়, তা বিগত দু'তিন বছর ধরে শিখিয়ে চলেছে মুথুকুমারন।
মুথুকুমারনের আসল বাড়ি অন্ধ্রপ্রদেশের করিমনগর জেলার পেড্ডাপল্লি গ্রামে। সম্প্রতি সে পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী শাখার দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া আর বাঁকুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছুটে বেড়াচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমের কাছে সে সহজলভ্য হলেও পুলিশের নাগালের বাইরেই থেকে যাচ্ছে মুথুকুমারন। ডি জি থেকে জেলার এস পি'র রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে শুধুমাত্র ওই লোকটার জন্য। আর শুধুমাত্র এই কারণেই বীতরাগ চক্রবর্তীকে পশ্চিম মেদিনীপুরের অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার করে পাঠানো হয়েছে সম্প্রতি।
বীতরাগ জানে যে, মাওবাদীরা বিশ্বাস করে, ভারত পরিচালিত হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ, মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ও সামন্তবাদী প্রভুদের সহযোগিতায়। তাই শ্রেণি-শত্রু ধ্বংসেই তাদের বিশ্বাস।
তাই প্রতিদিন জঙ্গলমহলের মাটিতে দু'চারটে লাশ উদ্ধার করা নিত্যনৈমিত্তিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাপ বাড়াচ্ছে উচ্চতর প্রশাসন। বীতরাগের কপালেও বাড়ছে চিন্তার ভাঁজ।
আজ খুব ভোরে ভোন্ডুডিহির জঙ্গলে সাদা পোশাকে মাত্র দু'জন সহকর্মীকে নিয়ে ঘুরে গিয়েছিল বীতরাগ। একটা লম্বা-চওড়া শাল গাছের নীচে থেকে তারা উদ্ধার করেছিল মাওবাদীদের ব্যবহৃত সামরিক অস্ত্রশস্ত্রসমূহ, কিছু আরডিএক্স তার, গিলগাইয়েট স্টিক, ডেটোনেটর, এমনকি দুটো আই এন এস এ এস রাইফেল, তিনটে একে-৪৭, একটা এস এল আর এবং ইমপ্রোভাইজড বিস্ফোরক ডিভাইস। জিনিসগুলো দেখে বীতরাগ নিশ্চিত হয়েছিল যে, মুথুকুমারন কাছাকাছিই কোথাও আছে। সকালের পরিকল্পনা মতো আজ গভীর রাতে ভোন্ডুডিহির জঙ্গলে পুনরায় অভিযান চালাতে এসেছে বীতরাগ। এখনও সঙ্গে রয়েছে খুব বিশ্বস্ত সেই দু'জন অফিসার, আর একজন কনস্টেবল। এস পি স্যার বড় ফোর্স সঙ্গে নিতে বলেছিলেন, বীতরাগ ইচ্ছে করেই নেয়নি। বাহিনী নিলে আগে থেকে খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষত বীতরাগ যেখানে নিশ্চিত, পুলিশ বাহিনীর একটা বড় অংশ ওদের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো পাচার করে, সেখানে বাহিনী নিয়ে আসাটা চরমতম ভুল হত।
একটা শুকিয়ে আসা ডোবার সামনে দাঁড়াল বীতরাগ। অন্ধকারে কিছুই ঠাওর করা যাচ্ছে না, কিন্তু এই কয়েক মাসেই ও জায়গাটা হাতের তালুর মতো চিনে নিয়েছে বলে সমস্যাও হচ্ছে না খুব একটা। আন্দাজ কখনও কখনও চোখের দীপ্তিকেও হার মানায়। ডোবাতে জল প্রায় নেই বললেই চলে। ভোন্ডুডিহির জঙ্গলেই শুধু নয়, তিনটে জেলারই প্রতিটি ঘন শালের জঙ্গলের ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে এরকম অসংখ্য ছোটোখাটো পুকুর-ডোবা-জলাশয়। হাতিরা দল বেঁধে চলে আসে কখনও কখনও। জঙ্গল তোলপাড় করতে করতে এইসব জলাশয়ে জল খেয়ে চলে যায় গভীরতর জঙ্গলের দিকে।
বীতরাগের আগের পোস্টিং ছিল সুন্দরবন। সেও আর এক জঙ্গল। ওখানেও কখনও একটু-আধটু ছুটি পেলে ও গভীর জঙ্গলের মধ্যে চলে যেত। দেখত, ডানপাশে শিং বাঁকানো এক হরিণ, তো বাঁপাশে শূকরের দল, তাদের দিকে চোখ রাখতেই জল ঠেলে রোদে গা গরম করতে উঠে আসত বুড়ো কুমির। বিস্ময়ের ঘোর কেটে যেত বানরের গাছ ঝাপটানোতে,তার ঠিক দু'হাত দূরে বিজ্ঞভাব নিয়ে বসে থাকত মাছরাঙা। সারা দুনিয়ার মানুষকে অবাক করে দেওয়া রহস্যঘেরা সেই সুন্দরবন কখনওই বীতরাগকে একা থাকতে দিত না, কখনও সাপ দেখে সতর্ক হয়ে উঠত, আবার কখনও হরিণের বাচ্চা দেখে খুব আদুরে মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে থাকত। আবার কখনও শুশুক দেখতে পাওয়া যেত জলে। কয়েকশো সাদা বক আর নাম-না-জানা রঙিন পাখির দল ঘিরে থাকত গোটা জঙ্গল।
দিনের সুন্দরবন যতটা প্রাণবন্ত ছিল, রাতের সুন্দরবন যেন তার চেয়েও চাকচিক্যময় জৌলুসে ভরপুর থাকত। তারাভর্তি আকাশের নিচে যখন দাঁড়িয়ে থাকত বীতরাগ, ঠিক তখনই সবটুকু মনোযোগ কেড়ে নিত জোনাকিরা। কখনও কখনও সবগুলো জোনাকি একটা নির্দিষ্ট গাছের পাতায় বসে মিটমিট করত, এভাবেই দু'তিনটি গাছ বাদ দিয়ে দিয়ে তারা জমিয়ে তুলত তাদের আলোর আসর।
আজকে কোনও জোনাকিও নেই। গভীর শালের ফাঁক গলে চাঁদের আলোও যেন আসতে ভয় পাচ্ছে এখানে। বীতরাগের নির্দেশে কোনও টর্চ জ্বালানো হচ্ছে না। সবটাই চোখের আন্দাজে এগিয়ে যাওয়া। ডোবাটার পাড়ে খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল ওরা। বীতরাগ নাক উঁচু করে কিছু গন্ধ শুঁকতে চাইল। না, আপাতত বারুদের কোনও গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে না কাছাকাছি।
বীতরাগ ভাবছিল কয়েক দিন আগের কথা। সি আর পি এফ ও ছত্তিশগড় পুলিশ খবর পায় একদল সশস্ত্র মাওবাদী বিজাপুর জেলার সিলগের এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছে। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকটি দল সিলগের উদ্দেশে রওনা দেয়। এদের মধ্যে একটি দল ছিল পনেরো কিলোমিটার দূরের বাসাগুড়া থানার। সে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সি আর পি এফ ডি আই জি এ. এলাঙ্গো। তাঁদের বয়ান এবং ঘটনার অব্যবহিত পরে করা এফ আই আর-এর বয়ান মিলে গিয়েছিল। বলা হয়েছিল, সরকেগুড়া, কোট্টাগুড়া এবং রাজপেন্টার মধ্যেকার জঙ্গলে তাঁরা কিছু সন্দেহজনক আওয়াজ শুনতে পান। নিরাপত্তা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী জঙ্গলের রাস্তা পেরোবার সময়ে তাঁরা চিৎকার শোনেন, 'পুলিশ পুলিশ', 'গুলি চালাও'। এরপরেই তাঁরা মাওবাদীদের গুলির নিশানায় পড়েন। তদন্তকারীদের কাছে সি আর পি এফ ও পুলিশের আধিকারিকরা জানান পাল্টা গুলিতে সতেরো জন মারা যান ও দশ জন আহত হন। এঁদের অনেকেই মাওবাদী বলে জানিয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। যদিও স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য ছিল আলাদা।
''একবার কি ওপর-ওপর আলো জ্বেলে দেখে নেব স্যার?'' মনোজের গলার আওয়াজে সংবিৎ ফিরল বীতরাগের। ওকে ইশারায় গলা নামিয়ে কথা বলতে নির্দেশ দিয়ে, ও ধীর পায়ে এগিয়ে যেতে লাগল সামনের দিকে। শালের জঙ্গলের মধ্যে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে ইউক্যালিপটাস, আর তালগাছও রয়েছে। একটা মোটা তালগাছের সামনে এসে ও দেখল কেউ যেন চাদর মুড়ি দিয়ে বসে রয়েছে। সচকিত হয়ে উঠল বীতরাগ। চোখ দুটো কচলে নিল প্রথমে। কোমরে হাত দিয়ে দেখল, লোডেড পিস্তলটা ঠিক জায়গাতেই রাখা রয়েছে। নিঃশব্দে আরও দু'পা এগিয়ে গেল বীতরাগ। সামনে তাকিয়ে এবার হেসে ফেলল ও। ও দেখল, একটা বড়সড় উইয়ের ঢিপি। দূর থেকে দেখলে সত্যিই একটা মানুষের মতো মনে হচ্ছে। তালগাছটার পাশের রাস্তাটা কাদায় ভর্তি। বর্ষার শেষ এখন। তবুও মাঝেমধ্যেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। কাঁকরের উঁচু মাটিতে জল না দাঁড়ালেও কোথাও-কোথাও কাদা হয়েই আছে।
প্রতিম এতক্ষণ বীতরাগের সামনে সামনে হাঁটছিল, কী মনে হতে ওর পাশে চলে এল। হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা দেওয়া বর্ষার জুতো রয়েছে ওদের প্রত্যেকের পায়ে। সাপখোপের কামড় থেকে বাঁচতে এবং শব্দহীন হেঁটে যাওয়ার জন্য এই জুতোর গুরুত্ব অপরিসীম।
বীতরাগ পুনরায় একবার ওর কোমরে হাত দিল। টাউরাস পিটি - ৯২ নামের একটি সুদৃশ্য নাইন এম এম পিস্তল গোঁজা রয়েছে ওর কোমরে। ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে জঙ্গলমহলের জন্য বহু টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অনেক আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কেনা হয়েছে সেই টাকায়। ব্রাজিলে তৈরি টাউরাস পিটি - ৯২ নামের ছোট্ট পিস্তলটি তখন থেকেই বীতরাগের কোমরে থাকে। একটি ফায়ারে একসঙ্গে দুটো গুলি ছুটে যায় এটা থেকে। পিস্তলটা কাছে থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
হায়দ্রাবাদের ন্যাশনাল পুলিশ অ্যাকাডেমিতে যখন ওর আই পি এসের ট্রেনিং হয়েছিল, শুটিং রেঞ্জের প্রথম দশজনের তালিকায় বীতরাগের নাম ছিল। বাঁহাত কিংবা ডানহাত, দুটো হাত দিয়েই সমান দক্ষতায় গুলি ছুড়তে পারত ও। এইসব তথ্যই রাজ্য পুলিশের ডি জি মুন্দর গোয়েল স্যারের কাছে ছিল। তিনবছর সুন্দরবনে কাজ করার পরেই তাই বীতরাগের পোস্টিং দেওয়া হয় পশ্চিম মেদিনীপুরে।
''লালগড়, বিনপুর, বেলপাহাড়ি, গোপীবল্লভপুর যেখান থেকে পারো মুথুকুমারনকে ধরে আনো, জিন্দা অউর মুর্দা'' এই ছিল গোয়েল স্যারের নির্দেশ। সেই নির্দেশ পালনেই এখন সকাল-দুপুর-রাত কেটে যাচ্ছে বীতরাগের।
কোমর থেকে পিস্তলটা বের করে হাতে নিল ও। বর্ষার জলো আবহাওয়ায় ওটা ম্রিয়মাণ একটু। পিস্তলের মুখটা একবার গালে ছোঁয়াল বীতরাগ। ও জানে, ট্রিগারে আলতো করে একবার চাপ দিলেই দুটো করে গুলি ছুটে আসবে। কিন্তু ওর লক্ষ্যবস্তু কোথায়? মুথুকুমারনকে আজ পর্যন্ত সামনাসামনি দেখেনি কেউ। অন্ধ্রপ্রদেশে ওর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া খুব কম বয়সের একটা ফটোগ্রাফ উদ্ধার করেছিল দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, প্রমাণ বলতে সেটুকুই। যদিও ভবানী ভবন থেকে সেই ছবিটার উপর ডিজিটাল পেন্টিং অ্যাপ্লাই করে বছর পঞ্চাশের মুথুকুমারনকে কেমন দেখতে হতে পারে, তার একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। দুটো ছবিই মনের মধ্যে গেঁথে নিয়েছে বীতরাগ।
বীতরাগ, মনোজ, প্রতিম আর অতীন পা টিপে টিপে চলেছে এখন। অতীন ওদের মধ্যে শুধু কনস্টেবল, মনোজ আর প্রতিম পদমর্যাদায় সাব ইনস্পেক্টর। ওরা সকলেই বীতরাগের বাধ্য ছাত্রের মতো।
এই গহন অরণ্যের প্রতিটি কোণে ফাঁদ পেতে রাখে মাওবাদীরা। একটু ভুলচুক হলেই মৃত্যু অনিবার্য।
মাওবাদীদের দাবি-দাওয়া কিংবা পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয়গুলো দেখার জন্য বীতরাগ চক্রবর্তীকে পাঠানো হয়নি এখানে। মাওবাদী অ্যাকশান স্কোয়াডকে এনকাউন্টারে নিকেশ করতে আর মুথুকুমারনের জীবিত অথবা মৃত শরীরটা সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ওকে বদলি করে আনা হয়েছে এখানে।
একটানা ঝিঁঝি পোকার ডাক, কানের গোড়ায় মশার ভনভনানি,আর দু'চারটে রাতজাগা পাখিদের ডানা ঝাপটানি ছাড়া কিছুই শোনা যাচ্ছে না এখন। দূরের কোনও গ্রাম থেকে মাইকে ভেসে আসছে কীর্তনের আওয়াজ। রাত সাড়ে বারোটা হবে বোধহয় এখন। ঘন শালের জঙ্গলের উপর দিকে তাকালে ফাঁক-ফোঁকর গলে ছেঁড়াখোড়া মেঘগুলোকে ভেসে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। তার পাশ থেকে কখনও কখনও উঁকি দিচ্ছে একফালি চাঁদ। তবে ঘনপাতার আড়াল ভেদ করে খুব বেশিক্ষণ উপরে তাকিয়ে থাকাও যাচ্ছে না।
হঠাৎ প্রতিম কিছু একটাতে হোঁচট খেয়ে পড়ে যাচ্ছিল। মনোজ পিছন থেকে জাপটে ধরে ফেলল ওকে। বীতরাগ বাঁদিকের পকেট থেকে টর্চটা বের করে আলোটা মাটির উপর ফেলতেই চমকে গেল ওরা সকলে।
ওরা দেখল, দুটো ছোট্ট বাঁশের বাখারি পুঁতে রাখা হয়েছে দু'দিকে। মাটির ভিতরে ঈষৎ ঢোকানো একটা বাখারি থেকে টকটকে লাল রঙের মোটা ইলেকট্রিকের তার বেরিয়ে রয়েছে।
জিনিসটা দেখে চাপা স্বরে গর্জন করে উঠল বীতরাগ, ''ডোন্ট মুভ। ডোন্ট মুভ। খুব সাবধান! আমাদের পায়ের নিচেতেই রয়েছে মারণাস্ত্র!'' কথাটা বলতেই সকলে পিছিয়ে গেল একটু, বীতরাগ পুনরায় উত্তেজিত চাপা গলায় বলল, ''ইউ অল টেক ইওর আর্মস! এই ডিভাইসটা সাধারণত চাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্ফারিত হয়, যখন এটার উপর লক্ষ্যবস্তু চাপানো হয় বা কেউ প্রেশার দেয় কোনওভাবে।''
মনোজরা তাকিয়ে দেখল দু'হাত দূরে পেতে রাখা ল্যান্ডমাইনটার পাশেই পড়ে রয়েছে একটা পোস্টার। প্রতিম আলগোছে তুলে নিল ওটা।
বীতরাগ পোস্টারের উপরে টর্চের আলো ফেলে দেখল গাঢ় লাল কালিতে লেখা রয়েছে, ''সাবধান! আমরা আসছি।''
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন