চার চক্ষুর সম্মেলন

শতরূপা সেনগুপ্ত

আমাদের ভণ্ডুলকে ছেলে হিসেবে বেশ ভালোই বলা যায়; বেশ নম্র স্বভাবের সাদাসাপটা শান্তশিষ্ট। সহবত শিক্ষাও তার যথেষ্ট আছে। ভণ্ডুল আমাদের বেড়াতে মানে নতুন জায়গায় যেতে খুব ভালোবাসে, পড়াশুনোতেও অতি ভালো না হলেও মোটের ওপর ভালোই বলা যায়— অন্তত পাসটাসগুলো তো ঠিক ঠিক করে যায়। তার প্রিয় সাবজেক্ট হল ইতিহাস। তার বাবা-মা লক্ষ করেছেন যে-ক্লাসে ওঠার সময় সে অন্য সাধারণ ছেলের মতোই প্রমোশন পায় বটে কিন্তু প্রতিবছরেই ইতিহাসে প্রথম পুরস্কারটা তার বঁাধা। তাই কাশীনাথবাবু মানে ভণ্ডুলের বাবা, ছেলের স্কুলপাসের পর আর অন্যপথে না গিয়ে তাকে ইতিহাসের অনার্স ক্লাসেই ভরতি করিয়ে দিয়েছিলেন। ভণ্ডুলও এতে দারুণ খুশি। তার মনের কথা বুঝতে পারার জন্য বাবাকে ভগবান মনে হয়েছিল। তার প্রথম থেকেই ইচ্ছে ছিল, ইতিহাস পড়িয়ে প্রচুর অর্থ রোজগার করে সে বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে।

কিন্তু এরমধ্যে একটা ব্যাপার ঘটল। ভণ্ডুলের দিদি-জামাইবাবু থাকত হায়দ্রাবাদে। তাদের ছেলের বিয়ের ঠিক হয়েছে আরও মাস তিনেক পরে। বিয়েতে স্বভাবতই তার দিদি টুকাই মা-বাবা ও ভাইকে আহ্বান করে ইচ্ছেপ্রকাশ করেছে—এই সুযোগে অন্তত তারা এক মাস যেন ওখানে থাকে। ভণ্ডুলকে আর পায় কে? এক মাস হায়দ্রাবাদে গিয়ে থাকবে ভাবলেই তার চোখের ঘুম চলে যাচ্ছে। এই বছরে টুকাইদিদি তার ভাই ভণ্ডুলের জন্য একটা খুব সুন্দর উপহার দিয়েছে। লাটবাজার থেকে তারা ওর জন্য একটি খুব সুন্দর নীলচে কালো কাচের গগলস কিনেছে, কুরিয়ার করে সেটি কলকাতায় পাঠিয়েও দিয়েছে। এই চশমাটা আবার মোড়া যায়, এটিও একটি মজা। কিছুদিন পর থেকে দেখা গেল, এই চশমাটার আরও একটা গুণ আছে যেটাকে নিয়েই এ গল্প।

প্রথম প্রথম ভণ্ডুল চশমাটা পেয়ে খুব আনন্দ করেছিল। তার বন্ধুদের সকলেরই প্রায় গগলস আছে, তারই কেবল ছিল না। এবার সেটাও হয়ে গেল। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই এই চশমা নিয়ে এক ঘোর বিপত্তি বাধল, যেটা তোমরা কখনো আন্দাজই করতে পারবে না। কী হল জান? ভণ্ডুল যখনই ওই চশমাটা পরে, তখনই মনে হয় সে যেন আমাদের একটা অচেনা ছেলে, অনেক বেশি গম্ভীর। তখন সে সব কথার ঠিক উত্তরও দেয় না, মনে হয় যেন তার ওপর কেউ ভর করে রয়েছে, যেন সে আর নিজের মধ্যে নেই। তা ছাড়া চশমাটা এক বার পরলে সে সেটাকে ছাড়তেও চায় না, তবে আশ্চর্য যে সেটা যদি কোনোভাবে খোলানো যায় তবে আবার সে এক্কেবারে আমাদের চেনা ভণ্ডুল, সেই হাসিখুশি ছেলেটা। আগেই বলেছি ভণ্ডুল ছিল অত্যন্ত সরলসাদা ছেলে, তাই এই চশমা পরে বিয়েবাড়িতে এক হোমরাচোমরা বড়োসড়ো লোককে দেখে সে হঠাৎ করেই বলেছিল, লোকটির সারাজীবনের কুকীর্তির কথা। ও একটা কথা তোমাদের বলি, চশমাটা পাওয়ার পর থেকে ভণ্ডুল প্রায় সারাক্ষণই সেটা পরে থাকত, তখনও ওটা তার চোখে ছিল। যাইহোক, লোকটি তো সব শুনেটুনে ঘাবড়ে গিয়ে একেবারে হাঁ! তিনি একটু রাগ দেখিয়েই বললেন, ‘তুমি কে হে ছোকরা? ঠিক চিনলাম না তো। আমাকে খামোকা এভাবে অপমান করছ কেন? আর আমার প্রতি তোমার এত কৌতূহলই-বা কেন?’

‘কৌতূহল নয়, এটা বিশ্বাস। কারণ এই মুহূর্তে আপনার বেশ কিছু ভবিষ্যৎ আমি দেখতে পাচ্ছি এবং আপনি নিজেও এটা নিশ্চয়ই জানেন যে, আপনি খুব লোভী ও প্রশংসাকামী। এসবের জন্য যা-কিছু কাজই আপনি করতে পারেন। তবে এটা বেশিদিন চলবে না।’

‘তুমি আমার ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছ? তবে তার দু-একটা বলো তো দেখি। দেখা যাক, মেলে কি না?’

‘বলব? তবে শুনুন। আমি এ মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছি যে আপনার বাড়িতে পুলিশ এসেছে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট নিয়ে।’

‘বা রে বা, তোমার তো বেশ দূরদৃষ্টি। তা তোমার মা-বাবা কই? তাঁদের সঙ্গে আমার কথা আছে।’

ভণ্ডুল দেখিয়ে দিল তার বাবাকে। ভদ্রলোক কাশীনাথবাবুর কাছে গিয়ে যাচ্ছেতাইভাবে নিন্দে করলেন। ভণ্ডুলও পরে এন্তার বকুনি খেল এইসব স্পষ্ট কথা বলবার জন্য। ‘ছি ভণ্ডুল, ছি, ওই লোকটা তো তোর কেউ হয় না। কী দরকার ছিল ওকে সব কথা বলার? ও তো তোর চেনা কেউ নয়, ওর ভালো-মন্দতে তোর কী এল-গেল? মাঝখান থেকে পরিবেশটা খারাপ করলি।’

কিন্তু আশ্চর্য কী জান? এর মাস তিনেক পরে সত্যি শোনা গেল, হরিহর পাল নামক সেই ভদ্রলোকটি ড্রাগস পাচার ও অন্যান্য সব অপরাধমূলক কাজের জন্য এখন জেলের ঘানি টানছে। অতি বড়ো করে কাগজে তার ছবি দিয়েছিল।

ভণ্ডুলের বলা এতসব ঘটনা মিলে যাওয়ায় কাশীনাথবাবু ভাবলেন— ব্যাপারখানা কী? ওই চশমা চোখে দিলে ছেলের এত পরিবর্তন হয় কী করে! ভণ্ডুল তো সত্যি জ্যোতিষ জানে না, আর সে জ্যোতিষীও নয়, তবে তার ভবিষ্যদবাণী ফলে যায় কী করে! তাই তাঁরও ইচ্ছে হল ওই চশমাটা একবার পরার। দুপুর বেলা সকলে যখন ঘুমোচ্ছে, চারিদিক শুনশান, তখন চুপিচুপি তিনি ভণ্ডুলের ঘরে গিয়ে আঁতিপাঁতি করে খুঁজে পড়ার টেবিলের ড্রয়ার থেকে চশমাটা নিয়ে চোখে লাগালেন। তৎক্ষণাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল, বেঁা বেঁা করে মাথা ঘুরতে লাগল, মনে হল চশমাটার যেন অসম্ভব পাওয়ার। বাধ্য হয়েই তিনি চশমাটি খুলে আবার যথাস্থানে রেখে দিলেন। কিন্তু তাঁকে বেশ ভাবিয়ে তুলল ব্যাপারখানা... ওই একই চশমা ভণ্ডুল পরছে তার কিছু হচ্ছে না কিন্তু আমার এমন হল কেন? আর ওইরকম চশমা তো বহুলোকেই কিনছে, কই তাদের তো কিছু হচ্ছে না! তবে? তবে এটা কি কোনো জাদুচশমা? সে ইতিহাস পড়িয়ে রোজগার করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেবে ভেবেছিল, এখন তো তার সম্পর্কে কোনো চিন্তাই নেই। কিছুদিন আগেও তো সে উঠে-পড়ে লেগেছিল টিচার হওয়ার জন্য, কিছু কিছু ফর্ম ফিলাপও তো সে করেছিল; কিন্তু এখন তো আর তার কোনো আগ্রহই নেই। তবে চশমাটা কি সত্যি কোনো ক্ষতি করে দিল?

এর উত্তরটি কাশীনাথবাবু পেলেন তার পরের দিন। ভণ্ডুল বলল, ‘বাবা, আমি ঠিক করেছি যে আমি একটা জ্যোতিষের দোকান খুলব। এই চশমা পরে কপালের দিকে তাকালে আমি তার ভবিষ্যৎ দেখতে পাই জলের মতো পরিষ্কার। ভবিষ্যতের কথা জানতে সকলেই খুব আগ্রহী হয়ে থাকে, তাই আমার পক্ষে টাকা রোজগার করা কোনো শক্ত ব্যাপার হবে না।’

এইবার কর্তা বুঝলেন ভণ্ডুলের আসল প্ল্যানখানা। তার মানে চশমা পরে লোকের ভবিষ্যৎ বলেই ভণ্ডুল টাকা রোজগার করতে চায়, ইতিহাস পড়িয়ে নয়। তবুও তিনি বললেন, ‘বাবা ভণ্ডুল, তুমি এভাবে রোজগার করবে ঠিকই, কিন্তু মনে রাখবে তুমি এটা কালো চশমার ওপর নির্ভর করেই করছ, তোমার নিজস্ব ক্ষমতা কিছু নেই। এক বার যদি ওই চশমা ভেঙে যায় বা হারিয়ে যায় তখন কোথায় থাকবে তোমার রোজগার? পেটের বিদ্যেকে কাজে না লাগিয়ে অন্যের ওপর নির্ভর করা কি ভালো? কখন কার কী পরিস্থিতি হয় তা কি আগে থেকে বোঝা যায়?’

কিন্তু ‘কপালে নেইকো ঘি ঠকঠকালে হবে কী?’

বাবার এই উপদেশ বা সুপরামর্শ ভণ্ডুলের ভালো লাগল না, বন্ধুদের সঙ্গে ভণ্ডুল বাড়ি থেকে পালাল। ছোট্ট এক চিরকুট কাগজে লিখে গেল—

শ্রীচরণেষু

বাবা ও মা,

এতদিন আমি অন্যদের ভবিষ্যৎ গণনা করেছি, এবার আমি নিজের ভাগ্য অন্বেষণ করতে বেরোলাম বন্ধুদের সঙ্গে। তোমরা আমাকে খুঁজো না। প্রণাম নিয়ো।

ইতি,

ভণ্ডুল

লেখাটা পড়ে কাশীনাথবাবু ধপ করে চেয়ারে বসে পড়লেন আর তার মা শূন্যদৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন সোফার ওপরে। ডাক্তার এলেন, ওষুধপত্র দিলেন, বললেন, ‘ভয়ের কোনো কারণ নেই, মারাত্মক শক পাওয়াতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ যাইহোক এইভাবেই জোড়াতালি দিয়ে সংসার চলছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবার একটা অদ্ভুত ব্যাপার হল।

একদিন কোনো একটা কাজ সেরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাশীনাথবাবু দেখলেন, সামনের মোড়ের মাথায় খুব হইহল্লা হচ্ছে। এক প্রকান্ড জটাধারী সন্ন্যাসী পাশে মস্ত এক ধুনি জ্বেলে বসে আছেন; আপাদমস্তক প্রায় লালশালুতে ঢাকা, গলায় দু-তিনটে রুদ্রাক্ষের মালা, ডান হাতে এক মোটা তামার বালা ও বাম হাতে সুন্দর এক তাবিজ। কাপড় দিয়ে মাথাটা এত পেঁচিয়ে বঁাধা ছিল যে চোখ ও নাক ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। কাশীনাথবাবু আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইনি কে?’ তারা বলল, ‘এঁর নাম প্রেমানন্দ মহারাজ। এঁর না কী আগমন হয়েছে সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে। ইনি খুব বড়ো মাপের এক মাতৃসাধক ও ভবিষ্যদদ্রষ্টা। এঁর ভবিষ্যদবাণী নাকি সব অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায়।’ বাবাজি সকলের প্রশ্নেরই মোটামুটি উত্তর দিচ্ছিলেন। কাশীনাথবাবুকেও তিনি যা যা বললেন তার সবই প্রায় মিলে গেল এবং ভবিষ্যতে ছেলেকে তিনি যে ফিরে পাবেন সে-ইঙ্গিতও তিনি দিলেন। তারপর কানে কানে বললেন তাঁর সঙ্গে একান্তে কিছু কথা আছে, রাত দশটার সময় ম্যাডাক্স স্কোয়ার পার্কের সামনের গেটের কাছে কাশীনাথবাবু যেন আসেন।

শীতের রাত্তির। গরম জামার ওপর চাদরটা ভালো করে জড়িয়ে বেচারি কাশীনাথবাবু অপেক্ষা করতে লাগলেন বাবাজির জন্য। মনে একটা চিন্তা ছিল কী জানি কী বলবেন বাবাজি, এত লোক থাকতে তাঁর সঙ্গেই-বা নিরিবিলি কীসের কথা? বাবাজি এসে পৌঁছোলেন রাত দশটা কুড়ি মিনিটে। কাশীবাবু তাঁকে প্রণাম করতে যাবেন, এমন সময় তাঁর হাত দুটো ধরে বাবাজি বললেন, ‘তুমি আমায় চিনতে পারনি বাবা? আমি যে তোমার ছেলে ভণ্ডুল!’ কাশীনাথবাবু এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁর মুখ হাঁ-ই হয়ে থাকল কিছুক্ষণের জন্য। তারপর ঘোর কাটলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘ভণ্ডুল তোর এ কী অবস্থা হয়েছে? এসব কেমন করে হল?’

‘বাবা, আমি তোমার কথা শুনিনি। গগলস পরে আমি সকলকে ভবিষ্যৎ বলে দিতাম, কিন্তু নিজের ভাগ্য অন্বেষণ করতে এক রাতে আমি বন্ধুদের সঙ্গে পালিয়ে যাই। তবে কী দুর্ভাগ্য জান? ভেবেছিলাম আরও গোটা দুই এইরকম চশমা বানিয়ে আমি নিজের কাছে রেখে দেবো, যাতে পরে আর অসুবিধে না হয়।’

‘হ্যাঁ তা কী হল?’ কাশীনাথবাবু জিজ্ঞাসা করলেন অবাক হয়ে।

‘না সেটা তো হল না গো, তার আগেই তো আমারই এক বন্ধুর দোষে চশমাটাই হারিয়ে গেল আর বন্ধুগুলোও বোধহয় এই দেখেই সব পালিয়ে গেল। এখন স্রেফ আমি একাই টিকে আছি নামের জোরে। কিন্তু ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে গেলে তো আমি মারধর খাব। আমি তো সত্যি কোনো সাধুটাধু নই। এখন আমি কী করব বাবা?’

‘দেখ বাবা, সবই ভাগ্য। আমি তো আগেই বারণ করেছিলাম এইরকম কাজ করতে। বলেছিলাম তো সৎপথে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। তুই তো সেকথা শুনিসনি।’

C-কাশীনাথবাবু দেখলেন, সামনের মোড়ের মাথায় খুব হইহল্লা হচ্ছে। এক প্রকান্ড জটাধারী সন্ন্যাসী...

‘বাবা, তোমার কথাগুলো এখন আমার খুব মনে পড়ে। ও বাবা গো, তুমি আমায় বঁাচাও প্লিজ। আবার আমায় বাড়ি নিয়ে যাও এখন এই রাতের অন্ধকারে। তোমার কথার আর কোনোদিন আমি অমান্য করব না, প্রমিস করছি। প্লিজ বাবা প্লিজ।’

কাশীনাথবাবু আর কী করেন, যে-ভুল হয়ে গেছে তাকে তো আর ফেরানো যাবে না, তবে ছেলেকেও আর কিছুতে ফেলে দিতে পারেন না। এক বার যখন ছেলে ফিরে পেয়েছেন তখন তাকে বাড়ি নিয়েই যাবেন। শেষপর্যন্ত কী হল জান? একেবারে সিনেমা-নাটকের মতো ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে এল। মায়ের খুব আনন্দ হল ছেলেকে পেয়ে, আবার তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন। আর ভণ্ডুলের ক্ষেত্রে দেখি — চশমা পরে জাদুকর হওয়ার অহংকারটি ধূলিসাৎ হল তার। অনার্স গ্র্যাজুয়েট হয়েও শুধুমাত্র বয়েস বেড়ে যাওয়ার কারণে আর পরীক্ষাগুলোয় বসা গেল না—এই একটা দুঃখও চিরকাল তার মনে থেকে গেল। এখন শোনা যায় কোন একটা ছোটোখাটো কোম্পানিতে সেনাকি একটা অর্ডার সাপ্লায়ারের কাজ করে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%