শক্তিশেল

ভারতী গুহ

স্বর্ণলঙ্কায় শুরু হল রাম রাবণের যুদ্ধ। এক দিকে রাক্ষস সৈন্য, অন্যদিকে বানর সৈন্য। রাবণের প্রিয়পুত্র বীর ইন্দ্রজিৎকে লক্ষ্মণ অন্যায় ভাবে বধ করেছে। প্রিয়পুত্রের এই শোচনীয় মৃত্যুতে লঙ্কার রাজা রাবণ শোকে, দুঃখে, রাগে ক্ষিপ্ত হয়ে লক্ষ্মণকে মারলেন শক্তিশেল বাণ।

সোনার রাজ্য হল লন্ডভন্ড,

রাক্ষস বানরে মিলে লঙ্কা কান্ড।

রাম আর রাবণের লম্ফঝম্প

দেব দৈত্য দানবের থরহরি কম্প।

বল্লম শূল আর তীর সাঁই সাঁই

রাক্ষস, বানর সেনা ছোটে পাঁই পাঁই।

হইহই রইরই কাট্ আর মার্

রাবণের রাজ্যটা হল ছারখার।

মহাদাপে রথে চাপে দন্ত কড়মড়

বানর সেনাদের বুক ধড়ফড়।

“আয় দেখি রাম আর লক্ষ্মণ ভাই

দুটোকেই শেষ করি যদি বাগে পাই”।

মহাক্রোধে রাজা ছোঁড়ে শক্তিশেল বাণ।

কুপোকাৎ লক্ষ্মণ যায় বুঝি প্রাণ।

দিশাহারা বানরেরা দিকে দিকে ধায়

কপাল চাপড়ে রাম করে হায় হায়।

‘সুষেণ’ নামেতে ছিল বানরের ডাক্তার

কিষ্কিন্ধা নগরে অতি নাম ডাকতার

লক্ষ্মণের বুকে দিয়ে লম্বা টেথিস্কোপ

গম্ভীর হয়ে বলে “আছে কিছু হোপ।”

খস্ খস্ করে লেখে প্রেসক্রিপশন,

আর দেয় ওষুধের ডেসক্রিপশন

হনুমান ছেড়ে দেয় পথ মাঠঘাট,

আকাশের পথটাই সোজা শর্টকাট।

মেডিকেল স্টোর্স সে তো ‘গন্ধমাদন’

কাঁধে তুলে হনুমান ফেরে বনবন।

বিশল্যকরণীর দুটো ক্যাপসুল,

লক্ষ্মণ-বেঁচে গেল নেই কোনো ভুল।

সুষেনের কেরামতি আর হাতযশ

যমরাজও হার মেনে তার কাছে বশ।

খুশি হয়ে রাম বলে ‘কত চাই ফিস?’

দেশে ফিরে দিয়ে দেব হবে না তো মিস”

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%