ভারতী গুহ
স্বর্গীয় ভাষাবিদ শ্রীজ্যোতিভূষণ চাকী স্মরণে তাঁর প্রতি
শ্রদ্ধার্ঘ, ‘তিলতর্পণ’ বইটিতে পূর্ব-প্রকাশিত
তাঁর কাছে সেদিন যে আমাদের যাবার
কথা ছিল,
যাওয়া হল না।
কটা মাত্র শ্লোক বাকি রয়ে গেল
কুমারসম্ভবের।
হঠাৎ কে যেন তাঁকে নিয়ে যায় ডেকে,
চলে যান তিনি, তাঁর সেই স্নিগ্ধ
হাসিটুকু রেখে।
যেমন করে বিদায়বেলার সূর্য তার
বর্ণচ্ছটা রেখে যায়
পশ্চিমের সেই বারান্দায়,
ডাক্তার বলেছে, মস্তিস্কে তাঁর রক্তক্ষরণ,
জ্ঞান নেই।
একদিন স্মিত হেসে বললেন,
“আপনারা এলেন যখন,
মনে হল এসেছে স্বজন।”
চশমার আড়ালে বিষণ্ন দুটি চোখ
যেন বলেছিল,
মনে হয় চারপাশে তাঁর
স্বজন যেন কেউ নেই আর।
রংচটা তাঁর আদ্যিকালের
কাঠের আসন,
তাঁকে ঘিরে আমরা কজন
ছয়টি বছর দেখেছি চিনেছি
হয়েছি ঋদ্ধ
হয়েছি শুদ্ধ
হয়েছি স্নিগ্ধ।
হাত ধরে তাঁর পৌঁছে গিয়েছি
অলকাপুরে
রেবা নির্বিন্ধা বেত্রবতী-নদীর তীরে,
ইন্দুমতীর স্বয়ম্বরে।
বিস্ময় লাগে, কেন এ ব্যতিক্রম!
যখন স্বার্থ অর্থ ক্ষমতার লোভে
ছোটাছুটি হরদম।
চারধারে শুধু ঢক্কা নিনাদ
প্রচারের কোলাহল
মইখানা বেয়ে উঠতেই হবে
ঠেলেঠুলে আগে চল্।
ওরা অহংবর্মে নিজেকে ঢেকেছে
হৃৎস্পন্দন স্তব্ধ করেছে,
ওদের মনুষ্যত্ব গিয়েছে নির্বাসন
মানবতার হয়েছে বিসর্জন।
তখন দেখেছি মানুষের সেই মূর্ত প্রতীক
স্বার্থশূন্য আত্মমগ্ন জ্ঞানের পথিক,
খোলা থাকে যাঁর হৃদয়-দুয়ার
অবাধে যেখানে প্রবেশ সবার,
চির প্রসন্ন হাসিমাখা সেই সাদর আহ্বান,
নত হই, মোরা নত হই,
‘কী লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ।’
স্বল্প কথায় অনেক বলার
কুশলী শিল্পী যিনি,
অন্তর যাঁর জ্যোতিতে ভূষিত,
‘জ্যোতিভূষণ’ তিনি।
আজও পশ্চিমের সেই বারান্দায়
সব রং তার নিঃশেষে দিয়ে
সূর্য বুঝিবা অস্ত যায়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন