পরমাণু বোমা

অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : পরমাণু বোমা বানানোর আইডিয়া কি আইনস্টাইনের মাথায় সবার আগে এসেছিল?

মা : না। আইনস্টাইনের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। পরিকল্পনাটা প্রথমে ইউজিন ভিগনারের মাথায় আসে। প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে যদি একটু উসকে দেওয়া যায় যে, দুর্দান্ত একটা বোমা তৈরি করা সম্ভব মৌলিক পদার্থ ইউরেনিয়াম থেকে—তাহলে আর বাগড়া পড়বে না ইউরেনিয়াম বিভাজনের গবেষণায়।

প্রশ্ন : রুজভেল্টকে লেখা ঐতিহাসিক চিঠিটায় কিন্তু শুধু আইনস্টাইনের সই ছিল, তাই না?

মা : তা ছিল। ব্যাপারটা ঘটেছিল। এইভাবে: ১৯৩৯ সালের প্রথম দিকে যখন আমেরিকায় খবর এল যে, চেকোশ্লোভাকিয়া থেকে ইউরেনিয়াম পাচার বন্ধ করেছে হিটলারের বাহিনী, তখন অনেকেই ভাবলেন, বেলজিয়ামের ইউরেনিয়াম হিটলারের নজর থেকে বাঁচানো দরকার। পলিটিসিয়ানরা তখন ইউরেনিয়ামের গুরুত্বই বুঝতো না। অথচ বেলজিয়াম সরকারকে হুঁশিয়ার করা দরকার মার্কিন সরকারের মাধ্যমে। রুজভেল্টের টনক নড়ানোর জন্যে ব্যবহার করা হল আইনস্টাইনকে।

প্রশ্ন : আইনস্টাইন ব্যবহার করতে দিলেন নিজেকে?

মা : উনি তখন পরমাণু-বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছিলেন না। সেরকম বিশদ খবরও রাখতেন না—বিশেষ করে পরমাণু-বিভাজনের বৃত্তান্ত। গরমের ছুটি কাটাচ্ছিলেন লং আয়ল্যাণ্ডে। লিও জিলাৰ্ড আর ইউজিন ভিগনার সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে কথাবার্তা বললেন। ঠিক হল যে, বেলজিয়াম সরকারকে চিঠি লেখা হবে, মার্কিন সরকারকেও সমস্ত ব্যাপারটা জানানো হবে এবং রুজভেল্টকে লেখা চিঠির মুসাবিদা করে আনবেন জিলাৰ্ড আর ভিগনার—আইনস্টাইন তাতে সই করে দেবেন। কিন্তু টেলর যে চিঠিটা পকেটে করে নিয়ে গেছিলেন, তাতে আগের আলোচনা ছাড়াও একটা বাড়তি অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছিল।

প্রশ্ন : চিঠিতে বাড়তি অংশ? কী সেটা?

মা : পরমাণু বোমা তৈরির সম্ভাবনা সম্পর্কে আভাস দেওয়া হয়েছিল এবং ‘বিশ্বাসভাজন’ লোককে দিয়ে গবেষণা তদারকির কথা বলা হয়েছিল। না পড়েই সই করে দিয়েছিলেন আইনস্টাইন। পরমাণু বোমা তৈরির ব্যাপারে মার্কিন সরকারকে ইন্ধন জোগানো হল সেই প্রথম।

প্রশ্ন : আইনস্টাইন তো পরে জেনেছিলেন? অনুতপ্ত হননি?

মা : সারা জীবন অনুতাপ করেছেন ওই একটি সই্-এর জন্য। চিঠির তারিখ ছিল ২ আগস্ট, ১৯৩৯।

প্রশ্ন : রুজভেল্ট আইনস্টইনের চিঠি পড়ে কী করলেন?

মা : প্রথমে আমল দিতে চাননি। চিঠি নিয়ে গিয়েছিল ওঁর এক বিশেষ বন্ধু। তাঁর নাম আলেকজাণ্ডার স্যাক্‌স। তিনিই শেষ পর্যন্ত কথার জাল বিছিয়ে রুজভেল্টকে পথে আনেন। সহমত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু হুকুম দিয়েছিলেন রুজভেল্ট—ইউরেনিয়াম বিভাজন গবেষণায় যেন সাহায্য করা হয়, আর পরমাণু বোমা তৈরির সম্ভাবনাটা যেন মাথায় রাখা হয়।

প্রশ্ন : কিন্তু বোমাটা হিরোশিমায় ফাটিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা হল কেন? জাপানীরা কি গিনিপিগ?

মা : হিরোশিমার বোমা তো প্রথম এক্সপেরিমেন্ট নয়। প্রথম পরমাণু বোমা ফাটানো হয় নিউ মেক্সিকো-তে আলবুকার্কের ১২০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মরু অঞ্চলে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু একটা ইস্পাতের ফ্রেমের ওপর। তারিখটা ছিল ১৬ জুলাই, ১৯৪৫; বিস্ফোরণের সাঙ্কেতিক নাম TRINITY.

প্রশ্ন : কোথায় তৈরি হয়েছিল প্রথম পরমাণু বোমা?

মা : একটা বোর্ডিং স্কুলে। নিউ মেক্সিকোর ‘লস অ্যালামোস’-এ সাত হাজার ফুট উঁচুতে ছিল এই স্কুল। বেশ ফাঁকা জায়গা। পরমাণু-বিজ্ঞানী ওপেনহাইমার কিছু দিন পড়াশুনা করেছিলেন বিলক্ষণ নিরিবিলি এই জায়গায় এবং মতলবটা এল তাঁরই মাথায়। ভিড়ের মধ্যে বোমা বানানো তো ঠিক নয়। হুকুম দিলেন সামরিক বিভাগের কর্তা। উঠে গেল স্কুল। ফাকা বাড়িতে শুরু হল বোমা তৈরির কাণ্ডকারখানা। বৈজ্ঞানিকদের প্রত্যেককে ‘মিস্টার’ বলে ডাকা হত—ডক্টর বা প্রফেসর নয়—পাছে কেউ সন্দেহ করে বসে যে, নিরালা অঞ্চলটায় হঠাৎ এত বৈজ্ঞানিক জুটল কেন? গোটা বোমাটাকে কিন্তু সেখানেও বানানো হয়নি। টুকরোগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একটা গোপন জায়গায়। সেখানেই আস্ত বোমা তার আসল চেহারা ধারণ করে। সেখান থেকে ফের তাকে লুকিয়ে চুরিয়ে পাঠানো হয় মরু অঞ্চলে—ইস্পাতের টাওয়ারের ওপর।

প্রশ্ন : ফেটেছিল কী প্রথম পরমাণু বোমা?

মা : শুধু ফাটেনি, পরমাণু বোমার বিস্ফোরণ সম্পর্কে এতদিন কাগজে যে-সব হিসেব করা হয়েছিল—সমস্ত নস্যাৎ করে দেয়। ওপেনহাইমার অবশ্য বিলক্ষণ সন্দেহের মধ্যে ছিলেন—বোমা আদৌ ফাটবে তো? ভোর সাড়ে পাঁচটায় কনকনে ঠাণ্ডায় ফাটল বোমা। কালো চশমা পরে নিয়েছিলেন প্রত্যেকেই। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকেরই দু-চোখের দৃষ্টি উড়ে গেল সেকেণ্ড দু-তিনের জন্যে। ঠিক তার আগেই অকস্মাৎ একদম সাদা হয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল দূরের পাহাড় আর আকাশকে। নীলাভ সেই সাদা দুতিকে দুপুরের গনগনে রোদ বলাই সঙ্গত। আধ মিনিট যেতে না যেতেই শুরু হয়ে গেল ঝড়ের তাণ্ডব নৃত্য—কানের পর্দায় আছড়ে পড়ল রক্ত-জল-করা বিরামবিহীন অমানুষিকী গজরানির পর গজরানি। বিস্ফোরণের ঝলক ঠিকরে গেল ১২৫ মাইল দূরে।

প্রশ্ন : খুশি হলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট?

মা : দিন আষ্টেক পরে (২৪ জুলাই) প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান বলেছিলেন স্তালিনকে—যুদ্ধ জেতবার মত সাংঘাতিক অস্ত্র রয়েছে আমাদের হাতে।…স্তালিন অত না বুঝেই বলেছিলেন—তাহলে সে হাতিয়ার লাগান জাপানে।…ট্রুম্যান আর কথা বাড়াননি।

প্রশ্ন : জাপানে পরমাণু বোমা ফেলা হল বুঝি এই কারণেই?

মা : আরে না। ১৯৪৪-এর শেষের দিকে জার্মানরা তো হারতেই চলেছিল—অ্যাটম বোমা দিয়ে মহাপ্রলয় না ঘটলেও যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আমেরিকার মিলিটারি-কর্তা জেনারেল গ্রোভস চেয়েছিলেন, তার আগেই বোমা বানাতে। জামান পরমাণু-বিজ্ঞানীদের আটকে রাখা হয়েছিল ইংল্যাণ্ডের একটা পেল্লায় পোড়াবাড়িতে। ঠিক হয়েছিল, জাপানের এমন একটা জায়গায় বোমার রুদ্ররোষ দেখানো হবে যেখানে গিজগিজ করছে লোক। হিরোশিমা, কোকুরা আর নিগাতা—বাছা হয়েছিল এই তিনটি শহরকে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা আর হয়নি। সুতরাং কী কারণে পরমাণু বোমার আবির্ভাব ঘটেছিল ঘন লোকবসতির ওপর, তা আঁচ করে নে।

প্রশ্ন : কিন্তু মা, পরীক্ষামূলক বোমা ফাটিয়ে জাপানকে কজায় আনাও তো যেত?

মা : ঠিক এই কথাই বলেছিলেন জিলাৰ্ড—যিনি আইনস্টাইনের সই জোগাড় করে প্রথমে মদত দিয়েছিলেন রুজভেল্টকে। এখন তিনিই উল্টো গান গেয়ে গেলেন। রুজভেল্টকে লিখলেন, বোমাটা জাপানে না ফাটিয়ে ফাটানো হোক একটা পাণ্ডববর্জিত অঞ্চলে। এক বোমার ধমকেই যুদ্ধের নেশা ছুটে যাবে জাপানের—সুড় সুড় করে আত্মসমর্পণ করবে। চিঠিখানা পৌঁছোললা রুজভেল্টের টেবিলে—কিন্তু পড়বার সুযোগ আর পেলেন না—ডাক এল পরপার থেকে (১২ এপ্রিল, ১৯৪৫)। নতুন প্রেসিডেন্ট টুম্যান কিন্তু বোমা গবেষণা শিকেয় তুলে রাখার মত মনের জোর দেখাতে পারলেন না। অনেক বৈজ্ঞানিকও তখন বোঝেননি, বোমা ফাটলে কী ঘটবে। মুখ বুঁজে থেকেছেন অনেকে, অনেকে বলেছেন—বিজ্ঞানের কৌতূহল মেটাতে গেলে যে কোনও দামই দেওয়া উচিত। কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন, বোমার সঙ্গে প্রচার-পুস্তিকাও ছড়িয়ে দেওয়া হোক আকাশ থেকে—সাধারণ মানুষ যেন তেজস্ক্রিয়তা সম্বন্ধে হুঁশিয়ার থাকে। জেনারেল গ্রোভস্ অবশ্য বৈজ্ঞানিকদের সামনেই বলেছিলেন—যদ্দুর জানি, তেজস্ক্রিয় রশ্মির ফলে মৃত্যু বড় আরামের!

প্রশ্ন : জার্মান বৈজ্ঞানিকদের আটকে রাখা হয়েছিল কেন, মা?

মা : ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে জার্মানির পরমাণু-গবেষণা কেন্দ্রের ঘাঁটি দখল করে মিত্রশক্তি। বোমা তৈরির ব্যাপারে জার্মান বৈজ্ঞানিকরা কতটা এগিয়েছে, তা জানার জন্যে কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হয়েছিল। ইংল্যাণ্ডের পোড়া বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছিল নিশ্চয় তাঁদের ঠুঁটো করে রাখার জন্যে। ওই বাড়িতে সেই জার্মান বৈজ্ঞানিকরা রেডিওতে শুনলেন, সকালে বোমা পড়েছে হিরোশিমায়। মারাত্মক মানসিক চোট পেলেন অটো হান্—দায়ী মনে করেছিলেন নিজেকে—দিন রাত তাঁকে চোখে চোখে রাখা হয়েছিল—যাতে আত্মহত্যা না করতে পারেন

প্রশ্ন : জার্মান বৈজ্ঞানিকরা কি বোমা বানাতে পারতেন?

মা : কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছিল, যুদ্ধের সময়ে ওঁরা ইচ্ছে করেই পরমাণু বোমা তৈরি করার চেষ্টা করেননি। চেষ্টার ভান করেছিলেন হিটলারকে ভুলিয়ে রাখার জন্যে। দেশকে ভালবাসতেন এঁরা—আরও ভালবাসতেন মানুষকে। এটা অবশ্য অনুমানের কথা। যুদ্ধশেষের আগে সত্যিই জামান বৈজ্ঞানিকরা অ্যাটম বোমা বানাতে পারতেন কি না—সেটা বাদানুবাদের ব্যাপার।

প্রশ্ন : কোন্ বোমাটা বড়? হিরোশিমার না, নাগাসাকির?

মা : নাগাসাকির—প্লুটোনিয়াম বোমা। সাঙ্কেতিক নাম ‘ফ্যাট ম্যান’; লম্বায় সাড়ে দশ ফুট, চওড়ায় পাঁচ ফুট; ওজনে সাড়ে চার টনের একটু বেশি; শক্তিতে ২২ কিলো টন TNT-র সমান। তবুও ক্ষতি হয়েছে কম—খুব সম্ভব একটু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল বলে। তার তিন দিন আগে হিরোশিমায় পড়ে যে ইউরেনিয়াম বোমা—তার সাঙ্কেতিক নাম ‘লিটল বয়’—লম্বায় ছিল দশ ফুট; চওড়ায় দু ফুট চার ইঞ্চি, ওজনে চার টনের একটু বেশি। শক্তিতে ১৬ কিলো টন—কেউ বলেন সাড়ে বারো টন TNT-র সমান। ক্ষয়ক্ষতি স্তম্ভিত করে দিয়েছে পৃথিবীর মানুষকে।

প্রশ্ন : হিরোশিমায় ক্ষয়ক্ষতির অনেক রকম রিপোর্ট শুনেছি। ভুক্তভোগীর কথা জানো?

মা : তার নাম মিসেস ফুতাবা কিতায়ামা, বয়স তেত্রিশ। বোমা বিস্ফোরণ তিনি দেখেছেন—কিন্তু মরেননি। পাঁচ বছর পরে বলেছেন: যাচ্ছিলাম কাজে—দল বেঁধে মেয়েরা জুরুমি সেতু পেরোচ্ছি—এমন সময়ে শত্রুদের একটা প্লেন উড়ে এল মাথার ওপরে। পাশের মেয়েটি ‘প্যারাসুট’ বলে চেঁচাতেই আমি সেদিকে ঘুরে গিয়ে দেখলাম একটা প্রলয়ঙ্কর আকাশভরা ঝলক। বিস্ফোরণের শব্দটাও তক্ষুনি শুনেছিলাম কিনা মনে নেই।…পৃথিবী ধসে পড়ল আমার ওপর…উঠলাম…বাতাসে ভয়াবহ গন্ধ…কোমরের তেনুগুই তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতেই মুখের চামড়া উঠে এল…হাতের চামড়া খুলে গেল…কনুই থেকে আঙুলের ডগা অবধি পুরো চামড়া দস্তানার মত খুলে এল।…আকাশ ছিল নীল…এখন কালো…নদীতে অসংখ্য লোক দাপাচ্ছে…যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে…মরা কুকুরের মত মানুষ ভাসছে…ঠিক যেন বৌদ্ধ নরক-দৃশ্য!…ঘন্টা দুই ঘুরলাম…হাত দুটো থেকে হলদে পুঁজ বেরোচ্ছিল…স্কুলের রক্তাক্ত ছেলেমেয়েদের ছটফটিয়ে মরতে দেখলাম…গোটা হিরোশিমা জ্বলছে…জ্বলছে আতাগো জেলা পর্যন্ত…কুড়ি দিন পরে ফিরে পেলাম দৃষ্টিশক্তি…এখন আমার বাঁ কান অর্ধেক ছোট, বাঁ হাতের পাঁচটা আঙুল গলে গিয়ে জুড়ে গেছে…রক্তলাল পটি আমার মুখে, গালে, হাতে, আঙুলে…বিকৃত হয়ে গেছি চিরকালের মত!

প্রশ্ন : পরমাণু বোমার সঙ্গে রাসায়নিক বোমার মূল তফাতটা কোথায়, মা?

মা : পরমাণু বোমায় বেরোয় মারাত্মক গামা রশ্মি আর নিউট্রন—যা রাসায়নিক বোমায় হয় না—তা সে যত প্রকাণ্ডই হোক না কেন।

প্রশ্ন : তফাত কি গামা রশ্মি আর নিউট্রনের মধ্যে?

মা : গামা রশ্মি ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ওয়েভ, নিউট্রন নিউক্লীয় কণিকা। প্রথমটাকে দেখতেই পাবি না—দ্বিতীয়টাকে কল্পনার চোখে আবছা ছোট্ট আকারে ভাবতে পারবি। দুটোই প্রাণঘাতী। নিউট্রন বিদ্যৎহীন কণিকা বলে যে-কোন বস্তুর ভেতরে সেঁধিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তার ঢের বেশি। নিউট্রন দিয়ে অন্য পরমাণুদের চোট মেরে বিস্তর তেজস্ক্রিয় পদার্থ তৈরি করা যায় এবং যাচ্ছেও।

প্রশ্ন : পরমাণু বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতা জায়গা বিশেষে কি কমে বাড়ে?

মা : ভাল প্রশ্ন। ধ্বংস করার ক্ষমতা নির্ভর করে কোথায় ফাটানো হবে তার ওপর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে যদি মাটি থেকে দশ হাজার ফুট উচ্চতার মধ্যে ফাটানো হয়; আরও চার ভাবে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে—দশ হাজার ফুট উচ্চতার ওপরে, মাটির তলায়, জলের ওপরে।

প্রশ্ন : জলের তলায় বিস্ফোরণে নিশ্চয় ক্ষতি কম হয়?

মা : যুদ্ধ-বিশেষজ্ঞরা ঠিক উল্টো মনে করেন। জলের মধ্যে ঘাত-তরঙ্গ অনেক বেশি বিধ্বংসী—ছুটে যায় অনেক দূর। কিছু পরীক্ষার ফল নাকি গোপন রেখেছে মার্কিন মহল।

প্রশ্ন : জলের তলায় বিস্ফোরণের ফলাফল?

মা : দশটা জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। বিপুল পরিমাণ জল বাষ্প হয়ে উড়ে গিয়েছিল; ঘাত-তরঙ্গ আর গ্যাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় কোটি কোটি টনের একটা ফেনাময় অর্ধগোলক শূন্যে ঠেলে উঠে লোমহর্ষক দৃশ্য সৃষ্টি করে ফের আছড়ে পড়েছিল; জলস্তম্ভ ঠেলে উঠেছিল এক মাইল উঁচুতে। যদ্র জানা গেছে, গামা রশ্মি আর নিউট্রনের বিশেষ ভূমিকা থাকে না জলের তলার বিস্ফোরণে। প্রথম জলতল বিস্ফোরণ ঘটানো হয় ২৪ জুলাই, ১৯৪৬—বিকিনি থেকে তিন মাইল দূরে জলের ৯০ ফুট গভীরে—৭০০০ ফুট উঁচু থেকে টুপ করে জলে ফেলা হয়েছিল সেই বোমা—ফেলেছিল আমেরিকা।

প্রশ্ন : জলের ওপর রেখে বোমা ফাটিয়ে কি দেখা গেছে?

মা : ৭৩টা মানুষশূন্য জাহাজ ছিল কাছে—ডুবে যায় দুটো। প্রথম এই পরীক্ষা চালায় আমেরিকা—৩০ জুন, ১৯৪৬—প্রশান্ত মহাসাগরের বিকিনি উপহ্রদের ৫২০ ফুট ওপরে।

প্রশ্ন : মাটির তলায় প্রথম বোমা ফাটিয়েছিল কে?

মা : আমেরিকা—নেভাদায় ২৯ নভেম্বর ১৯৫১-এ। ৮০০ ফুট ব্যাসের ১০০ ফুট গভীর একটা গর্ত তৈরি হয়ে গেছিল। অনেকের ভয় ছিল, পাতাল-বিস্ফোরণ নিশ্চয় বাড়তি ভূমিকম্পের জোগান দিয়ে যাবে—কিন্তু তা হয়নি।

প্রশ্ন : মাটির ওপর রেখে ফাটালে ক্ষতি তো বেশি হওয়া উচিত?

মা : বরং কম হয়। এই ভেবেই হিরোশিমা-নাগাসাকিতে উঁচুতে শূন্যপথে ফাটানো হয়েছিল করাল বোমাকে। এক মেগাটন বোমার ঝোড়ো হাওয়া পাঁচ মাইল দূরের মানুষকেও তুলে আছড়ে ফেলতে পারে। বিস্ফোরণের ৫০ সেকেণ্ড পরে, মানে এক মিনিটও লাগে না—ঘাত-তরঙ্গ ধেয়ে যায় ১২ মাইল দূরে।

প্রশ্ন : পরমাণু বোমা ধ্বংস করে কী ভাবে?

মা : চারটে কারণে। এক, খুব অল্প জায়গার মধ্যে এবং অকল্পনীয় কম সময়ের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তাপ তৈরি হয়ে গিয়ে জন্ম দেয় একটা আগুনের গোলার—যা গ্যাস আর বাতাস থেকে তৈরি। ভয়ানক বেগে বেড়ে যেতে থাকে এই অগ্নিগোলক, কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই ফুরিয়ে যায় সেই ফায়ারবল-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা। দুই, গামা রশ্মি আর নিউট্রনের বিকিরণ। দুটোই কঠিন বস্তুকে অনায়াসে ফুঁড়ে যায়—ক্ষমতায় এক্স-রশ্মির চাইতেও বেশি যায়। জীবদেহের পক্ষে দুটোই ভয়ানক ক্ষতিকর। তিন, ঘাত-তরঙ্গ বা শক-ওয়েভ। বাড়ি-ঘরদোর ভেঙে দেয়, মানুষের পাঁজরা গুঁড়িয়ে দিতে পারে। শব্দের গতিবেগকে টেক্কা মেরে কিছু ধেয়ে গেলেই বাতাসে যে ঢেউ ওঠে তারই নাম ঘাত-তরঙ্গ। যেমন ঘটে সুপারসোনিক এরোপ্লেনে। চার, দ্রুত-তেজস্ক্রিয় বিস্তর পদার্থ প্রচুর পরিমাণে বেরিয়ে আসে ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়াম বিভাজনের পর। অত্যন্ত ক্ষতিকর এই পদার্থগুলো কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী নয়—এদের অর্ধায়ু কয়েক সেকেণ্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত।

প্রশ্ন : ব্যাঙের ছাতার মত মেঘের রাশি কীভাবে গড়ে ওঠে?

মা : হু-হু করে বাড়তে থাকে ফায়ারবল, তারপর ওপর দিকে উঠতে থাকে গরম গ্যাসবেলুনের মত—পাশের ঠাণ্ডা বাতাস আর ধুলো টেনে নিয়ে তৈরি করে নেয় মেঘের থাম। মাইল কয়েক ওপরে উঠে আরও ঠাণ্ডা হয়ে ঊর্ধ্বগতি বন্ধ রেখে ছড়িয়ে পড়তে থাকে চারদিকে। কিন্তু মেঘদেহী থামের মধ্যে বিস্তর তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকায় আবার তা গরম হয়—আর একটা থাম উঠে যায় ব্যাঙের ছাতার মত মেঘরাশির মাথা ফুঁড়ে।

প্রশ্ন : দুটো থাম পর-পর! কত উচুতে ঠেলে ওঠে, মা?

মা : নাগাসাকি এবং হিরোশিমায় শেষ পর্যন্ত ৭/৮ মাইল উঠেছিল। মেগাটন বোমা ফাটালে ধোঁয়া আর মেঘের থাম উঠে যাবে দশ থেকে তেরো মাইল পর্যন্ত।

প্রশ্ন : নিরীহ পরমাণু আচমকা কালান্তক হয়ে ওঠে কী ভাবে?

মা : ইউরেনিয়াম বিভাজনের কথাই বলি। পারমাণবিক ক্রিয়াকাণ্ড ধারণাতীত দ্রুত বলেই এমনটা ঘটে। কত দ্রুত? এক কেজি ইউরেনিয়ামের বিভাজন হতে মোটামুটি ০.০০০০১ সেকেণ্ড সময় লাগে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত পদার্থ ‘যদি’ ইউরেনিয়াম235 হয়, তাদের এক জায়গায় জড়ো করে ‘যদি’ বিভাজন চালানো যায়—কর্ম সমাপ্ত হয়ে যাবে এক সেকেণ্ডেই।

প্রশ্ন : হাইড্রোজেন বোমার কারিগরি কি একই ব্যাপার?

মা : সাধারণ পরমাণু বোমার ভারি বা বড় আকারের পরমাণু কেন্দ্রকে ভেঙে অনেকগুলো টুকরো করে বিপুল শক্তি মুক্ত করে দেওয়া হয়; হাইড্রোজেন বোমায় ঘটে ঠিক তার উল্টো—অনেকগুলো হাল্কা পরমাণু কেন্দ্রকে গলিয়ে একত্র করে। সূর্যের শক্তির মূলে চলেছে একই ব্যাপার।

প্রশ্ন : সূর্যের শক্তির উৎস হাইড্রোজেন বোমা?

মা : হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের কায়দাকানুন সেখানেও চলেছে—অর্থাৎ হাল্কা পরমাণু কেন্দ্রদের সংযোজন হয়ে চলেছে। একই কাণ্ড ঘটছে সব নক্ষত্রদের কেন্দ্রে। পৃথিবীতেও এই ব্যাপার ঘটানো যায় কিনা ভাবতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বানিয়েছেন হাইড্রোজেন বোমা।

প্রশ্ন : খোদার ওপর খোদকারি হয়ে গেল না?

মা : প্রায় তাই। মানুষের হাতে গড়া দৈত্য হাইড্রোজেন বোমায় সংযোজন-ক্রিয়া অনেক বেশি দ্রুত-সূর্যের বা অন্য নক্ষত্রদের কেন্দ্রের চাইতে।

প্রশ্ন : সূর্যের কেন্দ্র কতটা গরম?

মা : মোটামুটি দু-কোটি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

প্রশ্ন : হাইড্রোজেন বোমা কি বেশি ক্ষতি করে?

মা : এই বোমা থেকে যে নিউট্রন বেরোয়, তা পরমাণু বোমার নিউট্রনের চেয়ে তিন গুণ বেশি পালোয়ান। এই জন্যেই মিলিটারির মানুষরা হাইড্রোজেন বোমা বেশি চায়।

প্রশ্ন : হাইড্রোজেন বোমাকে মিলিটারির বেশি পছন্দ কেন?

মা : ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে অনেকদূরের ঠিক জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া যায় বলে। হাল্কা আর অল্পশক্তির হাইড্রোজেন বোমা দিয়ে কলকারখানা সেভাবে ধ্বংস করা না গেলেও এন্তার মানুষ খুন করা যায়—তাই মানুষ-বধের লড়াইয়ে এ-বোমার এত কদর। খুনীর ভূমিকায় থাকে মারণ নিউট্রন।

প্রশ্ন : নিউট্রন বোমা কাকে বলে?

মা : হাইড্রোজেন বোমাকে। এ-বোমার স্রষ্টা এডোয়ার্ড টেলর অবশ্য বলেন—ফিটফাট বোমা! আরও সঠিক নাম, Enhanced Radiation Weapon।

প্রশ্ন : কদর্য এই হাইড্রোজেন বোমা প্রথম কোথায় ফেটেছিল?

মা : কদর্যই বটে! মার্শাল দ্বীপপুঞ্জে ফাটিয়েছিল আমেরিকা ১ নভেম্বর, ১৯৫২-তে বিস্ফোরণের সাঙ্কেতিক নাম MIKE। বিশ ফুট উঁচু থামের ওপর রেখে পরখ করা হয়েছিল হিরোশিমার বোমার চাইতে ৬০০ গুণ বেশি শক্তিশালী এই মহাখুনীকে।

প্রশ্ন : পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের শক্তি কতখানি হয়, মা?

মা : বেরিয়ে আসা পুরো শক্তি প্রথমে বাতাসের একটা ছোট্ট গোল মত অঞ্চলে জড়ো হয়—সেখানকার তাপ আর চাপ তখন সূর্যের কেন্দ্র অঞ্চলের সমান হয়ে দাঁড়ায়। একটা তুলনা দিচ্ছি। তিন কোটি গ্যালন পেট্রল ‘নিমেষ মধ্যে’ পুড়িয়ে যে শক্তি পাবি—তা এক মেগাটন বোমা শক্তির সমান। মাত্র কয়েক ঘনফুট জায়গায় সূর্যের জঠর তখন অবতীর্ণ হয় পৃথিবীতে। কয়েক মিলি সেকেণ্ডের মধ্যেই তা নেমে আসে কয়েক লক্ষ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে। তাপরশ্মি মানুষ বা প্রাণীর চামড়ায় উল্কিও এঁকে দিয়ে যায়।

প্রশ্ন : উল্কি? পরমাণু বোমা উল্কি আঁকে?

মা : একটা ঘোড়া দাঁড়িয়েছিল রেলিং-এর কাছে। তার চামড়া পুড়ে যায়। কিন্তু রেলিং-এর ছায়া শরীরে পরিষ্কার আঁকা হয়ে যায়, মানে, ওই ছায়ায় তার চামড়া পোড়েনি। একটা মেয়ে কিমোনো পরেছিল—চামড়া পুড়ে গেলেও কিমোনোর গাঢ় রঙের ডিজাইন চামড়ায় পাকাপাকি উল্কি এঁকে দিয়ে যায়। তাপরশ্মিতে সবচেয়ে ক্ষতি হয় চোখের।

প্রশ্ন : পরমাণু বোমার প্রলয়লীলার ফল তো অনেক পরেও টের পাওয়া যায়?

মা : প্রথম পরমাণু বোমা ‘ট্রিনিটি’ বিস্ফোরণের পর ২৫/৩০ মাইল দূরে গরুদের পিঠে পড়েছিল তেজস্ক্রিয় ধুলো। লোমে আটকে থাকা সেই ধুলো পিঠের লোম উঠিয়ে দেয়, সেই সঙ্গে ঘা হয়ে যায় চামড়ায়। প্রায় হাজার মাইল দূরে একটা চাষের মাঠে বৃষ্টির সঙ্গে নেমেছিল তেজস্ক্রিয় ধুলো। সেখানকার ফসলের খড় থেকে প্যাকিং-এর কাগজ বানিয়ে ফটো-প্লেট মুড়ে রেখেছিল একটা কোম্পানি। নষ্ট হয়ে গিয়েছিল প্লেটগুলো—তেজস্ক্রিয় বিকিরণের জন্যে। বিকিরণের শিকারের ক্যান্সার অথবা বংশগত বিকৃতি দেখা দিতে পারে—তাঁর না হলেও কয়েক প্রজন্মের বংশধরদের হতে পারে। নিউট্রনের একটা অংশ বাতাসের নাইট্রোজেনকে চোট মেরে তেজস্ক্রিয় কার্বন বানিয়ে নেয়—যে-কার্বনের অর্ধায়ু প্রায় ৬০০০ বছর। এক লক্ষ বছরের বেশি বছর বজায় রাখতে পারে নিজের অস্তিত্ব। প্রতি দশ মেগাটন বিস্ফোরণে যে তেজস্ক্রিয় কার্বন তৈরি হবে, তার কুপ্রভাবে বিকৃত দেহ বা বুদ্ধি নিয়ে জন্মাবে ১৫,০০০ শিশু। এ হিসেব বৈজ্ঞানিক লিনাস পলিং-এর।

প্রশ্ন : তাহলে তো গোটা পৃথিবীর সব প্রাণীরাই বিপদে পড়বে?

মা : নিশ্চয়। মাটি থেকে দশ আর কুড়ি মাইলের মধ্যে রয়েছে ওজোন গ্যাসের একটা স্তর। সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রা-ভায়োলেট রে-কে শুষে নিয়ে এই স্তর বাঁচাচ্ছে প্রাণী জগতকে—বিশেষ করে আমাদের চোখকে। দশ হাজার মেগাটনের বিস্ফোরণে উত্তর গোলার্ধের ওজোন স্তরের আশি ভাগ এবং দক্ষিণ গোলার্ধের তিরিশ থেকে চল্লিশ ভাগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

প্রশ্ন : সর্বনাশ! তাহলে তো পৃথিবীতে সবাই অন্ধ হয়ে যাবে!

মা : বেশির ভাগ প্রাণীকে অন্ধ করার জন্যে ওজোন-স্তর কুড়ি শতাংশ ক্ষীণ হয়ে গেলেই তা হবে।

প্রশ্ন : পরমাণু বোমার ট্রিগার কে?

মা : এই মস্ত সমস্যাটার সুরাহা হয়েছে এই ভাবে। প্লুটোনিয়াম বা ইউরেনিয়ামকে গোলবলের আকারে না নিয়ে গোলকের খোলসের আকারে নেওয়া হয়। দারুণ শক্তিমান রাসায়নিক বিস্ফোরকরা ঘিরে থাকে এই খোলসকে। ইলেকট্রনিক সিসটেমে একই সঙ্গে ‘জ্বালিয়ে’ দেওয়া হয় বিস্ফোরক-খোলসকে। ঠিক যেন বিস্ফোরক-লেন্স দিয়ে বোমার জ্বালানিকে জড়ো করা হল আরও ছোট্ট জায়গায়, তখন প্রতি বর্গ ইঞ্চিতে চাপ তৈরি হয়, প্রায় এক কোটি পাউণ্ড। এবার বল, কে সেই ট্রিগার?

প্রশ্ন : ভবিষ্যতের মহাযুদ্ধে পরমাণু বোমা ফাটানো হবে?

মা : যদিও হয়, কম শক্তির বোমা বেশি সংখ্যায় ব্যবহার করা হতে পারে। আধুনিক পরমাণু বোমার কাজ-কারবার সম্বন্ধে আমরা সব কিছু জেনে বসে আছি—এটাও তো ঠিক নয়। ওরা যে কী করতে পারে, সে সম্বন্ধেও সুস্পষ্ট আন্দাজ করা বিলক্ষণ কঠিন। বহু পরমাণু-বিশেষজ্ঞ মনে করেন, শক্তিমান দেশগুলোয় রীতিমত উন্নত এমন সব বোমা আছে যা ফাটিয়ে পরীক্ষা করাও হয়নি—হাটে হাঁড়ি ভেঙে যাওয়ার ভয়ে।

প্রশ্ন : এত শক্তি পরমাণুর? খুব নিরেট বুঝি?

মা : ঠিক উল্টো। একটা পরমাণু-কেন্দ্র যদি ফুটবলের আকারের হত, তাহলে তাকে ঘিরে চর্বিপাক দেওয়া সবচেয়ে কাছের ইলেকট্রনটা থাকবে কয়েক মাইল দূরে। তার মানে এই: পরমাণুর বেশির ভাগ অঞ্চলই ফাঁকা—বস্তু নেই সেখানে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%