অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : বলতে পারো, বড় হলে আমি কত লম্বা হব?
মা : দ্বিতীয় জন্মদিনে যতটা লম্বা ছিলি, প্রায় তার ডবল। ছেলেরা বড় অবস্থায় যতটা লম্বা হয়—দ্বিতীয় জন্মদিনে থাকে তার ৪৯·৫ শতাংশ। মেয়েরা বড় হলে যতটা ঢ্যাঙা হবে—দ্বিতীয় জন্মদিনে থাকে তার ৫২·৮ শতাংশ। অর্থাৎ, মেয়েরা একটু বেশি বেড়ে থাকে দ্বিতীয় জন্মদিনে ছেলেদের চেয়ে!
প্রশ্ন : নখ কত তাড়াতাড়ি বাড়ে, মা?
মা : প্রায় ছ-মাস লাগে গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত বাড়তে—হাত আর পায়ের নখ।
প্রশ্ন : ব্রেনের ওজন কত?
মা : শরীরের ওজনের প্রায় তিন শতাংশ। কিন্তু যত অক্সিজেন নিঃশ্বাসের সঙ্গে নিই, তার বিশ শতাংশ একাই ব্যবহার করে এই ব্রেন। খাবারের সঙ্গে যত ক্যালরি শরীরে যায়, তার বিশ শতাংশ কাজে লাগায় ব্রেন একাই। শরীরে যত রক্তের জোগান, তার প্রায় ১৫ শতাংশ চলে যায় ব্রেনের চাহিদা মেটাতে।
প্রশ্ন : কত হাড়, কত পেশি আছে এই শরীরে?
মা : প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে থাকে মোটামটি ৬৫০টা পেশি, ১০০টা সন্ধি, এক লক্ষ কিলোমিটার রক্তবাহ আর ১৩০০ কোটি স্নায়ুকোষ। বড়দের শরীরে থাকে ২০৬টা হাড়—তার প্রায় অর্ধেক থাকে হাতে আর পায়ে। জন্মের সময়ে বাচ্চাদের থাকে ৩০০টা হাড়—ছেলেবেলাতেই ৯৪টা হাড় মিলেমিশে যায়।
প্রশ্ন : হাড় কি পাথরের মত শক্ত হতে পারে?
মা : তাই তো হয়। ওজন বইবার সময়ে গ্রানাইট পাথরের মত মজবুত। দেশলাই বাক্সর সাইজের হাড়ের চাঁই ৯ টন ওজন ধরে রাখতে পারে—কংক্রিটের চাইতে চারগুণ বেশি।
প্রশ্ন : বুকের ধুকপুকুনি ঘুমোলও বন্ধ থাকে না কেন মা?
মা : বন্ধ হলেই তো মৃত্যু। তাই সারা জীবন মানুষের হৃদযন্ত্র ধুকপুক করে ২০০ কোটি বার—পাম্প করে ৫০ কোটি লিটার রক্ত। ঘুমের সময়েও মুঠি সাইজের হৃৎপিণ্ড ঘন্টায় ৩৪০ লিটার রক্ত পাম্প করে যায়—সাত মিনিট অন্তর মাঝারি সাইজের একটা মোটর গাড়ির পেট্রল ট্যাঙ্ক ভরে দিতে পারে। সারাদিনে যতখানি পেশিশক্তি তৈরি করে, তাই দিয়ে মাঝারি সাইজের একটা মোটর গাড়িকে ৫০ ফুট ওপরে তুলে ফেলা যায়।
প্রশ্ন : ধুকপুকুনির রেট কী, মা?
মা : ধুকপুকুনির রেট মানেই তো নাড়ীর গতি—পালস রেট—যা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে মিনিটে ৭০-৭২ বার—জিরেন অবস্থায়; প্রাপ্তবয়স্কা মেয়েদের ক্ষেত্রে মিনিটে ৭৮-৮২ বার—এটাও জিরেন অবস্থায়। তাহলেই দেখা যাচ্ছে, মায়েদের ধুকপুকুনি বাবাদের চেয়ে বেশি—জিরিয়ে থেকেও! জোরালো ব্যায়ামের সময়ে পালস্ রেট বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় মিনিটে দুশ বার।
প্রশ্ন : ফুসফুসে রক্ত বয়ে নিয়ে যাওয়ার নল কত আছে?
মা : তিরিশ হাজার কোটি ক্যাপিলারি—ক্ষুদে রক্ত বওয়া নলকে বলে ক্যাপিলারি। একটার পেছনে একটা জুড়লে লম্বায় দাঁড়াবে ২৪০০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন : কত জল আছে এই শরীরে?
মা : বড়দের শরীরে থাকে ৪৫ লিটার—শরীরের ওজনের ৬৫ শতাংশ। জলের শরীর বলতে পারিস।
প্রশ্ন : খাবার হজম করায় কে?
মা : পাকস্থলির হজমি অ্যাসিড—দারুণ কড়া অ্যাসিড—দস্তাও গলিয়ে দিতে পারে। কিন্তু পাকস্থলির আস্তরণ এত তাড়াতাড়ি নতুন করে নিজেকে বানিয়ে নেয় যে, আস্তরণকে ক্ষইয়ে দেওয়ার সময়ই পায় না জাঁদরেল অ্যাসিড। মিনিটে ৫০০০ কোটি কোষ তৈরি হচ্ছে পুরোনো কোষদের জায়গায়—তিনদিন অন্তর নতুন হয়ে যাচ্ছে পাকস্থলির আস্তরণ।
প্রশ্ন : কিডনি কি শরীরের ফিলটার?
মা : জানিস তাহলে! প্রায় দশ লক্ষ ছাঁকনি আছে দুটো কিডনির প্রত্যেকটাতে। মিনিটে ১·৩ লিটার রক্ত ছেকে দিচ্ছে দুই কিডনি হাতে হাত মিলিয়ে। রক্ত থেকে নোংরা আলাদা করে দিয়ে পেচ্ছাবের সঙ্গে বের করে দিচ্ছে দিনে প্রায় ১·৪ লিটার হিসেবে।
প্রশ্ন : এক মিনিটে কত রক্ত যায় ফুসফুসে?
মা : শরীরের সমস্ত রক্ত—প্রায় সাড়ে চার লিটার—ফুসফুস ধুইয়ে যায় মিনিটে মিনিটে। মানুষের লাল রক্ত কণিকা বানিয়ে দেয় হাড়ের মজ্জা—সেকেণ্ডে প্রায় ১২ লক্ষ। প্রতিটির আয়ু ১০০-১২০ দিন। সারা জীবনে হাড়ের মজ্জা বানায় প্রায় আধ টন লাল কণিকা।
প্রশ্ন : সবচেয়ে বড় দেহযন্ত্র কে, মা?
মা : চামড়া। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে প্রায় কুড়ি বর্গ ফুট জায়গা জুড়ে থাকে; প্রাপ্তবয়স্কদের বেলায় তা সতেরো বর্গফুট। অর্থাৎ মেয়েদের গায়ের চামড়া একটু কম! চামড়ার খোসা উঠে যাচ্ছে সবসময়েই—স্তরে স্তরে চলে যাচ্ছে—কিন্তু তার জায়গায় অবিরাম নতুন চামড়ার চালান দিয়ে যাচ্ছে নতুন টিস্যু। প্রায় ৫০ দিন অন্তর। গড়ে, প্রতি মানুষ সারা জীবনে ১৮ কিলোগ্রাম চামড়া ফেলছে এইভাবে। বলা যায়, খোলস ত্যাগ করছে ৫০ দিনে একবার—সারাজীবনে ১৮ কিলো!
প্রশ্ন : মানুষের সবচেয়ে ছোট পেশি কোথায় থাকে, মা?
মা : কানে। এক মিলিমিটারের চেয়ে সামান্য বেশি লম্বা। এই কানেই এমন একটা জায়গা আছে—যেখানে রক্ত বওয়া নল একটাও নেই—অথাৎ সেখানে রক্ত যায় না। এরকম জায়গা শরীরের আরও আছে—রক্তের চলাচল সেসব জায়গায় নিষেধ। সুতরাং শরীর পুরোপুরি রক্তময়—এ ধারণা ভুল। রক্তহীন জায়গাও আছে বৈকি। ভেতরের কানের কোষগুলো অবিরাম রসনিষিক্ত হয়ে থাকে--রক্তের বদলে। কেন? শব্দের কম্পন এখানে স্নায়ু তাড়নায় রূপান্তরিত হয়। নইলে যে শরীরের নিজেরই কানে-তালা-ধরানো ধুকপুকুনির আওয়াজে কালা হয়ে যাবে স্পর্শ সচেতন স্নায়ুগুলো।
প্রশ্ন : ঘুমিয়ে থেকে লম্বা হই একদিন বলেছিলে—কতখানি?
মা : ৮ মিলিমিটার—রাতে ঘুমোনোর সময়ে—পরের দিনই বেঁটে হয়ে ফিরে যাস ঘুমোনোর আগের হাইটে। সারাদিনে যতবার বসছিস, দাঁড়াচ্ছিস—শিড়দাঁড়ার কার্টিলেজ চাকতিগুলো স্পঞ্জের মত চেপেচুপে থাকছে মাধ্যাকর্ষণের জন্যে। রাতে টান টান হয়ে শুয়ে পড়লেই, চাপ চলে যাচ্ছে—চাকতিরা ফের ফুলে উঠছে। এই কারণে লম্বা মহাকাশ ভ্রমণ সেরে আসার পর মহাকাশচারীরা সাময়িকভাবে দু-ইঞ্চি লম্বা হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন : শরীরে নাকি চুনকাম করার জিনিসও আছে?
মা : আছে। রক্ত ছাড়া আছে অনেক কিছু। গড় হিসেবে, একটা ছোট চালাঘর চুনকাম করার মত চুন আছে, ১২·৭ কেজি কোক-কয়লায় যতটা কার্বন থাকে তা আছে, ২২০০ দেশলাই কাঠি বানানোর বারুদের ফসফরাস আছে, প্রায় এক চামচ গন্ধক আছে, ২৫ মিলিমিটার লম্বা একটা পেরেক বানানোর মত লোহা আছে—আর আছে প্রায় ৩০ গ্রামের মত অন্য সব ধাতু।
প্রশ্ন : চোখের পেশিকে কত মেহনত করতে হয় মা?
মা : চোখের যে পেশি ফোকাস করার কাজের জন্যে মোতায়েন, তার নড়াচড়া ঘটে সারাদিনে এক লক্ষ বার। পায়ের পেশিকে এই ব্যায়ামে রপ্ত করাতে গেলে তোকে হাঁটতে হবে সারাদিনে ৮০ কিলোমিটার।
প্রশ্ন : চোখের পর্দা কত বড়?
মা : রেটিনা বা অক্ষিপটের সাইজ তো মোটে এক বর্গ ইঞ্চি। কিন্তু এইটুকু জায়গাতেই আছে ১৩ কোটি ৭০ লক্ষ আলোক-সচেতন কোষ : সাদাকালো দৃশ্য দেখবার জন্যে ১৩ কোটি ‘রড’ কোষ; রঙিন দৃশ্য দেখবার জন্যে ৭০ লক্ষ শঙ্কু কোষ।
প্রশ্ন : সারা জীবনে একজন মানুষ কত খায়, মা?
মা : গড়ে সাহেব-মেমরা খাবার খায় ৫০ টন, জল আর তরল জিনিস খায় ৫০,০০০ লিটার। দিশি লোকদের পেটের সাইজ নিশ্চয় কম নয়—কিন্তু অত খাবার আছে কিনা। সন্দেহ।
প্রশ্ন : বৈজ্ঞানিকরা কি বলতে পারেন, বড় হয়ে কে তালঢ্যাঙা হবে, কে স্পোর্টসম্যান হবে, কে পালোয়ান হবে, অথবা কে ক্রিমিন্যাল হবে?
মা : ক্রোমোসোম বিচার করে তা বলা যায়। খুব ছোট্ট সুতোর মত এই ক্রোমোসোম থাকে দেহ-কোষের কেন্দ্ৰীনে। মানুষের কোষে থাকে ৪৬টা। ক্রোমোসোমদের মধ্যে ভারসাম্য যদি অস্বাভাবিক হয়, তাহলে শিশুর মধ্যে দেখা দেয় পাঁচমিশেলি বৈশিষ্ট্য। যেমন, পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু সোভিয়েত খেলোয়াড় মেয়ের ক্রোমোসোম প্যাটার্ন অস্বাভাবিক রকমের—xxy; সোজা কথায়, একটা বাড়তি পুরুষ y ক্রোমোসোম পেয়েছে বাবার কাছ থেকে। তাই তাদের শরীরে আসে বাড়তি শক্তি। যে পুরুষের ক্রোমোসোম প্যাটার্ন xyy—তাদের এই y ক্রোমোসোম ফাউ হিসেবে চলে আসে বলে তারা আর পাঁচজনের চেয়ে হয় বেশি ঢ্যাঙা, বেশি রোখা। আমেরিকার গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের অস্বাভাবিক ক্রোমোসোম প্যাটার্ন নিয়ে যে পুরুষ জন্মায়—ক্রাইমের দিকে সে ঝুঁকতে পারে।
প্রশ্ন : লম্বা হওয়াটা তাহলে স্রেফ জন্মগত? নিজেদের চেষ্টায় হওয়া যায় না?
মা : প্রথম ধারণাটা ভুল। খাওয়ার ওপর কিছুটা নির্ভর করে। যেমন, বিলিতি খাবার জাপানিদের বাড়-এর ছক পাল্টে দিয়েছে। ১৯০০ সালে ১২ বছরের জাপানি ছেলেমেয়েদের গড় উচ্চতা ছিল ৪ ফুট ৫ ইঞ্চি। বিলেত আমেরিকার প্রভাবে এল নাটকীয় পরিবর্তন। জাপান থেকে যে ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেছিল, তারা খেত বেশি প্রোটিন—বেশির ভাগই মাংস। ১৯৫৭ সালে দেখা গেল ওই বয়েসের জাপানে থাকা ছেলেমেয়েদের চাইতে এরা হয়েছে বেশি লম্বা। ১৯৭০ সালে কিন্তু জাপানে থাকা ছেলেমেয়েরা আমেরিকায় থাকা জাপানি ছেলেমেয়েদের মতো খাওয়ার অভ্যেস রপ্ত করে নিয়েছিল। আজকের জাপানি মেয়ে-পুরুষরা যথাক্রমে গড়ে ৫ ফুট ১ ইঞ্চি আর ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা—ব্রিটেন আর আমেরিকানদের চেয়ে সামান্য খাটো। সুতরাং, বেঁটে জাপানি—একথা তার বলা যায় না।
প্রশ্ন : শরীরে কত চুল আছে মা?
মা : গড়ে মেয়ে আর পুরুষের সারা শরীরে থাকে ৫০ লক্ষ চুল। একদম চুল থাকে না ঠোঁটে, হাতের তালুতে, পায়ের চেটোয়, আঙুলের পাশে আর ডগায়। যদিও গোড়ার ওপর থেকে সব চুলই মরা, মাথার প্রায় এক লাখ চুল প্রতি মাসে বাড়ে দশ মিলিমিটার হারে—গরমকালে বাড়ে সামান্য বেশি। কাটলে চুলের বাড় কমেও না—বাড়েও না। রোজ ১০০টা পর্যন্ত চুল পড়ে প্রত্যেকেরই—যদিও ছ’ বছর পর্যন্ত চুল থেকে যেতে পারে নিজের জায়গায়। আচমকা শক্ রাতারাতি চুল সাদা করে দেয়—এটা ভুল ধারণা; আসলে শক্ খসিয়ে দেয় সাদা ছাড়া অন্য রঙের চুল—সাদা চুল তখন আর ঢাকা পড়ে থাকে না বলেই চোখে লাগে।
প্রশ্ন : মরা মানুষের চোখ ব্যাঙ্কে জমিয়ে রাখা হয় কেন, মা?
মা : চোখের কর্নিয়ায় রক্ত বওয়া নল থাকে না। খারাপ কর্নিয়া কেটে ফেলে দিয়ে সে জায়গায় মরা মানুষের ভালো কর্নিয়া বসিয়ে দেওয়া যায়। রক্ত বওয়া নল নেই বলে সাদা রক্ত কণিকা তেড়ে এসে আগন্তুক টিস্যুর ওপর হামলা জুড়তে পারে না—চোখ ফিরে পায় চোখ হারা মানুষ।
প্রশ্ন : জন্তুদের শরীরের অংশ মানুষের শরীরে বসানো যায় না?
মা : যায়। এ-ব্যাপারে শুয়োর মানুষের সেরা বন্ধু। শুয়োরের হার্ট ভালভ্ মানুষের অকেজো হার্ট ভালভের জায়গায় বসানো যায়—হঠাৎ দরকারে নিদারুণ পুড়ে যাওয়া চামড়া পাল্টে শুয়োরের চামড়াও বসিয়ে দেওয়া যায়। তার কারণ কেমিক্যাল কম্পোজিশনের দিক দিয়ে শুয়োরের টিসু মানুষের টিস্যুর কাছাকাছি—অন্য জন্তুর ক্ষেত্রে তা নয় বলে তাদের শরীরের অংশ কেটে এনে আমাদের শরীরে বসালে আমাদের শরীরের বডিগার্ডরা তা খারিজ করে দেয়।
প্রশ্ন : বডি টেম্পারেচার কি এক-এক জায়গায় এক-এক রকম?
মা : মুখে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর দেখি বলে? বগলে দিলে তো এক ডিগ্রি ফারেনহাইট কম হয়। মুখের চাইতেও এক ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি দেখা যায় শরীরের আর একটা অংশে।
প্রশ্ন : হেঁচকি ওঠে কেন মা?
মা : বুকের গহ্বর আর উদরের মাঝে পেশি দিয়ে তৈরি যে পার্টিশন আছে, তাকে বলা হয় ডায়াফ্রাম। এই ডায়াফ্রাম আর পাঁজরাদের মাঝে মাঝে থাকা পেশি আচমকা কুঁচকে গেলেই হেঁচকি ওঠে। ফলে, হুট করে দম নিয়ে বাতাস নিতে হয় নিঃশ্বাসের সঙ্গে—ঠেকিয়ে রাখা যায় না—কিন্তু সেই বাতাস ফুসফুসে পৌঁছোতে পারে না, কেননা পেশিতে দমকে দমকে খিঁচ ধরছে বলে বাতাসের নল বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত এই স্প্যাজম্ মিনিট কয়েক ধরে হয়েই চলে যায় আবার ফিরে আসে। ঠাকুমা দিদিমারা তখন একটু একটু করে ঠাণ্ডা জল খাইয়ে দেন, দম বন্ধ করে থাকতে বলেন। এর ফলে ফুসফুসে কার্বনডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যায়—নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনে—উইণ্ড পাইপ খুলে যায়। চার্লস অসবর্ন নামে এক আমেরিকান ১৯২২ সালে শুয়োর মারবার সময়ে হেঁচকি তোলা শুরু করেন—১৯৮৪ পর্যন্ত খবরে জানা গেছে, তখনও তিনি হেঁচকি থামাতে পারেননি—৬২ বছর ধরে তুলে গেছেন ৪৩ কোটি হেঁচকি! ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।
প্রশ্ন : লজ্জায় মুখ লাল হয় কীভাবে?
মা : মেয়েরাই মুখ লাল করে ছেলেদের চেয়ে। লজ্জা পেলে অথবা আত্ম-সচেতন হয়ে গেলেই—মগজ থেকে স্নায়ু সঙ্কেত গিয়ে একটা শক্তিশালী কেমিক্যালকে রক্তে মিশিয়ে দেয়; এর নাম পেপটাইড। মুখ, ঘাড় আর বুকের ওপর দিকের চামড়ার ছোট ছোট রক্ত বওয়া নলগুলোকে প্রসারিত করে পেপটাইড—তখন বেশি রক্ত ছুটে যায় সেই-সেই জায়গায় মুখ লাল তো হবেই।
প্রশ্ন : হাঁচি কেন?
মা : আগন্তুক বস্তুকণা বা গ্যাস নাকের স্নায়ুপ্রান্তে বিরক্তি জাগালেই শরীরের সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে তাদের গলাধাক্কা দিয়ে বিদেয় করা: এরই ফল হাঁচি। কাশির সময়ে যা হয়, দম নিতেই হয় হাঁচবার আগে—স্নায়ুদের কাজ তাই। উইণ্ডপাইপের মাথায় ‘গ্লটিস’ বন্ধ করে দেয় ‘ল্যারিঙক্স’—ফলে, চাপ বাড়তে থাকতে ফুসফুসে। তারপরেই ‘গ্লটিস’ খুলে যায়—বিস্ফোরকের বেগে নাক দিয়ে বাতাস বেরিয়ে মিউকাস আর বস্তুকণাকে বের করে দেয় এক ধাক্কায়—ঘন্টায় ১০০ মাইলেরও বেশি বেগে যা ঘটতে পারে।
প্রশ্ন : কাশবার সময়ে কী ঘটে, মা?
মা : হাঁচির মতই বিস্ফোরক বাতাস ঘণ্টায় প্রায় ৬০ মাইল বেগে বিরক্তিকর বিদেশি বস্তুকে অথবা জমে-থাকা মিউকাসকে এক ঝটকায় বের করে ফুসফুসের প্রধান বায়ুপথ থেকে।
প্রশ্ন : কাটাকুটি মেরামত হয় কীভাবে?
মা : সামান্য কাটা থেকেও রক্ত ঝরে গিয়ে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে—কিন্তু শরীর মহাশয় রক্ত বন্ধ করার বন্দোবস্ত করে রেখেছে নিজে থেকেই। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জুড়ে দেয় ক্ষত মুখ। কী ভাবে? প্রথমেই রক্তের ক্ষুদে কোষ প্লেটলেট-রা গুঁতোগুঁতি করে ক্ষত মুখে ছিপি বানিয়ে নেয় নিজেদের দেহ দিয়ে। সেই সঙ্গে সেরোটোনিন নামে একটা কেমিক্যাল ছেড়ে দেয় যাতে ছিড়ে যাওয়া রক্তবহা নলগুলোর মুখ সরু হয়ে গিয়ে বেশি রক্তপাত ঘটাতে না পারে। একই সঙ্গে জখম রক্তবহা নলগুলোর গা থেকে থমবোপ্লাসটিন নামে আর একটা কেমিক্যাল বেরিয়ে এসে ফাইব্রিন নামে সুতো-সুতো প্রোটিন বানিয়ে চটচটে জালের আকারে লাল কোষদের ফাঁদে ফেলে আরও স্থায়ী ডেলা তৈরি করে ক্ষত মুখ আটকে দেয়।
প্রশ্ন : নাক ডাকার আওয়াজ কত বেশি হতে পারে?
মা : ৬৯ ডেসিবেল পর্যন্ত তো বটেই—একটা নিউম্যাটিক ড্রিল চালালে যা আওয়াজ হয়, প্রায় তার সমান। মুখবিবরের নরম ছাদ আর টনসিলের পেছনকার ঢালু তালু কাঁপে বলেই বিতিকিচ্ছিরি এই আওয়াজটা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, নাক তখন বন্ধ থাকে—মুখ দিয়ে চলে শ্বাসপ্রশ্বাসের কাজ। চিত হয়ে শুলেই যে সবসময়ে নাক ডাকবে, তা নাও হতে পারে। নাসিকা গর্জন স্তব্ধ করার সেরা পদ্ধতি হল, নাক-ডাকিয়েকে অন্য পজিসনে শুইয়ে দেওয়া।
প্রশ্ন : চামড়া কি মানুষের বর্ম?
মা : বটেই তো। আরও বেশি। শরীরে তৈরি উত্তাপের ছ-ভাগের পাঁচ ভাগ বেরিয়ে যায় চামড়ার ফুটো দিয়ে। ফুটোগুলো যদি বন্ধ থাকে, তাপ আর ঘাম বেরোতে পারবে না এবং ফল মৃত্যু। ফুটোরা কিন্তু একমুখো—বেরোতে দেয়, ঢুকতে দেয় না। চামড়ার বাইরের দিকটা ওয়াটার প্রুফ হয়ে থাকে সিবেসাস গ্ল্যাণ্ডদের তেলতেলে বস্তুর দৌলতে। এই চামড়াই দু-রকম কাজ দেখায় সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ছোঁয়ায়। রশ্মির সঙ্গে এরগোেসটেরল নামে একটা জিনিস মিশিয়ে দিয়ে ভিটামিন D বানিয়ে নেয়। একই সঙ্গে বানিয়ে নেয় কালো রঙ মেলানিন—যাতে অতিরিক্ত অতিবেগনি বিকিরণে নিজে জ্বলে না যায়—রোদে ঝলসালে রঙ কালচে মেরে যায় এই কারণেই।
প্রশ্ন : নাড়িভূডির কেরামতিটা কী রকম?
মা : খাবার যেখানে হজম হয়, তার নাম ক্ষুদ্রান্ত। শরীর থেকে তাকে টেনে বের করে মেলে ধরলে লম্বায় হবে ২২ ফুট। তার ভেতরকার ঢেউ-ঢেউ সবকটা অংশকে চ্যাপ্টাভাবে বিছিয়ে দিলে জায়গা নেবে ৩৬০ বর্গগজ। শরীরের ভেতরে কিন্তু এলাহি এই ব্যাপার-স্যাপার গুটিয়ে থাকে ঠিক আট ফুটের মধ্যে—কনসাটিনো বাদ্যযন্ত্রের মত। ক্ষুদ্রান্তের মূল যা কাজ—খাবার থেকে কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট আর প্রোটিন শুষে নেওয়া—তা ঘটে ক্ষুদ্রান্তের খুবই অল্প জায়গার মধ্যে—বিশাল অঞ্চল কাজেই লাগে না। রোগে পড়লে ক্ষুদ্রান্তের কিছুটা যদি কেটে বাদ দেওয়া হয়—বাকি অংশ কাজ চালিয়ে যায় আগের মতই।
প্রশ্ন : টনসিল পাকলে কাটতে দাও না কেন?
মা : আগে ধারণা ছিল, টনসিলই বুঝি যত রোগের ডিপো। তাই ঘচাঘচ কেটে বাদ দেওয়া হত। এখন জানা গেছে, টাটানো টনসিল কারও মৃত্যু ঘটিয়েছে, এমন নজির নেই। উল্টে, টনসিল আর অ্যাডেনয়েড—শরীরের এই দুটো অংশই রোগের প্রকোপ থেকে শরীর রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছে জন্ম থেকেই। নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়ে আর খাবারের সঙ্গে যদি ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইট বা অ্যালার্জি-করার বস্তু ঢুকে পড়ে—এদের নিজেদের কিছু কোষের বিশেষ অ্যান্টিবডিদের লেলিয়ে দেয় আততায়ীদের দিকে; আরও কিছু কোষ গিলে নেয় হানাদারদের।
প্রশ্ন : ফুসফুসের কেরানির কথা বলবে?
মা : ফুসফুস তো নিছক ফুলো থলি নয়—বড় জটিল তার গড়ন। ৩০ কোটি বাতাসের থলি আছে সেখানে—রক্ত এই সব জায়গা থেকে টেনে নেয় অক্সিজেন। থলিগুলোকে চ্যাপ্টা করে বিছিয়ে দিলে জায়গা নেবে ১২০ বর্গগজ—ডাবলস্ টেনিস কোর্টের প্রায় আধখানা। ফুসফুসকে ফোলানো ভারি সোজা—খেলনা বেলুন ফোলানোর চাইতে ১০০ গুণ সোজা। ফুসফুসের মাত্র ১৪ শতাংশ বাতাস পাল্টে যায় এক-একটা শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে।
প্রশ্ন : মেঘলা দিনে কি চামড়া জ্বলে যায়?
মা : নিশ্চয়। ৮০ শতাংশ অতিবেগুনি রশ্মি মেঘ ফুঁড়ে নেমে আসে।
প্রশ্ন : অক্সিজেন কি কখনো বিষের কাজ করতে পারে?
মা : পারে। বায়ুমণ্ডলের চাপের আড়াই গুণেরও বেশি খাঁটি অক্সিজেনে শ্বাস-প্রশ্বাস চালালে তা বিষের কাজ করবে। এই কারণেই গভীর জলের ডুব সাঁতারুরা খাঁটি অক্সিজেনের বদলে সঙ্গে নেয় চেপেচুপে রাখা বাতাস—যার মধ্যে অক্সিজেন থাকে বিশ শতাংশ। অথবা বাতাসের সঙ্গে মিশিয়ে হিলিয়াম নামে একটা গ্যাস।
প্রশ্ন : অতি-শক্তির জোগান কে দেয়, মা?
মা : নাম তার অ্যাড্রেনালিন—একটা হরমোন। শরীরে-মনে চাপ পড়লে স্বাভাবিক সীমার বাইরে বাড়িয়ে দেয় মানুষের শক্তি। ১৯৬০ সালের ২৪ এপ্রিল আমেরিকায় তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওইদিন একটি ছেলের ওপর ১·৬ টন ওজনের একটা গাড়ির জ্যাক ভেঙে চেপে বসেছিল। তার মা আতঙ্কে এক ঝটকায় ছেলের বুকের ওপর থেকে টেনে তুলেছিল অত ভারি গাড়ি। মাত্র ৫৫·৮ কেজি যাঁর ওজন—এই অতিশক্তি আচমকা এসে গেছিল তাঁর শরীরে—শিরদাঁড়ার খানকয়েক হাড়ে চিড় ধরে গেছিল—কিন্তু কয়েক সেকেণ্ডের জন্যে ধেয়ে আসা হরমোন তাকে অলিম্পিক ওয়েটলিফটারের মতই পালোয়ান বানিয়ে ছেড়েছিল।
প্রশ্ন : সব ব্যাকটিরিয়াই কি মানুষের শত্ৰু?
মা : না। মানুষ কখনোই একা নয়, কোটি কোটি পোকা পুষে রেখেছে নিজের শরীরে—এদের বেশির ভাগ ব্যাকটিরিয়া। ৬০ কোটিরও বেশি ব্যাকটিরিয়া থাকে শুধু চামড়ায়, মুখের লালায় আর পেটের হজম করার ব্যবস্থার নিচের অংশে। এ ছাড়াও, বেশ কয়েকটা ফাঙ্গাস, একটা ভাইরাস, আর মাকড়শার মত এক ধরনের পুঁচকে পোকা থাকে রীতিমত স্বাস্থ্যবান মানুষেরও শরীরে। পেটের ব্যাকটিরিয়া যতক্ষণ পেটেই থাকে—কারো ক্ষতি তো করেই না, উল্টে রোগের ঘটক জীবাণু দৈবাৎ গিলে ফেললে তাদের আর বাড়তে দেয় না। সাধারণত মাংসে যে ভিটামিন B12 পাওয়া যায়—গাছপালা থেকে তা বানিয়ে নেয় কিছু ব্যাকটিরিয়া। রক্তের কোষ বানাতে কাজে লাগে এই ভিটামিন।
প্রশ্ন : চামড়ায় কারা থাকে?
মা : চার প্রধান গ্রুপের ব্যাকটিরিয়া—শরীরের প্রায় সব জায়গায়। বৈজ্ঞানিকদের কাছে এদের নাম: ১) কর্নিব্যাকটিরিয়া—এদের মধ্যে আছে কর্নিব্যাকটিরিয়া এক্নিস, যা থেকে হয় ব্রন; ২) মাইক্রোকক্কাই; ৩) স্ট্রেপটোকক্কাই; আর ৪) কলিফর্ম ব্যাকটিরিয়া।
প্রশ্ন : নিরীহ ব্যাকটিরিয়ারা চামড়ার কোন কোন জায়গায় থাকে?
মা : বগলে আর কুঁচকিতে। এদের নাম: ১) কোঅ্যাগুলেস নেগেটিভ স্ট্যাফাইলোকক্কাই; ২) গ্রাম পজিটিভ কক্কাই; ৩) ডিপথেরয়েড়স্। বগলের চামড়ার প্রতি বর্গমিলিমিটারে থাকতে পারে ৮০০ ব্যাকটিরিয়া। অর্থাৎ প্রতি বর্গইঞ্চিতে ৫,১৬,০০০। হাতের সামনের দিকের মত শুকনো জায়গায় প্রতি বর্গমিলিমিটারে থাকে প্রায় ২০টা ব্যাকটিরিয়া—অর্থাৎ প্রতি বর্গইঞ্চিতে ১৩,০০০।
প্রশ্ন : মুখের লালায়?
মা : কম পক্ষে ছ-ধরনের ব্যাকটিরিয়া থাকে মুখের লালায়—এদের কেউ কেউ দাঁতের পাথরি, দাঁতের ক্ষয় আর মাড়ির রোগের জন্যে দায়ী। এদের নাম: স্ট্রেপটোকক্কাই; কর্নিয়া ব্যাকটিরিয়া; ফিউসোব্যাকটিরিয়া; নাইসেরিয়া; ব্যাসিলাই; আর স্পাইরোচেট্স্।
প্রশ্ন : খাবার হজম হচ্ছে যেখানে, সেখানে?
মা : সে জায়গাটার নাম বৃহদন্ত্র। এখানে আছে এই কটা টাইপের ব্যাকটিরিয়া: কলিফর্ম ব্যাকটিরিয়া—বিশেষ করে এস্চেরিচিয়া কোলাই; ব্যাকটিরয়েডস্; ল্যাকটোব্যাসিলাই ক্লসট্রিডিয়া; আর স্ট্রেপটোকক্কাই। বৃহদন্ত্রে এরা যতক্ষণ আছে, কোনো ক্ষতি করছে না। কিন্তু ঠাঁইনাড়া হলেই করবে। যেমন, আলসার হলে, বা অ্যাপেনডিক্স ফেটে গেলে শরীরের অন্য জায়গায় ছিটকে গিয়ে পেরিটোনাইটিস ঘটিয়ে ছাড়বে—যার মানে উদর-গহ্বরের জ্বালাযন্ত্রণা আর স্ফীতি। এছাড়াও ঘটাবে ব্লাড পয়জনিং আর ইউরিনারি ইনফেকশন।
প্রশ্ন : চামড়ায় ফাঙ্গাস থাকে না?
মা : অবশ্যই থাকে। সাধারণত তিন ধরনের ‘ঈস্ট’ থাকে চামড়ায়। প্রধানত বুকে আর পিঠে ম্যালাসেজিয়া ফারফার। ক্যানডিডা অ্যালবিকান্স্ থাকে প্রধানত পায়ের আঙুলের ফাঁকে—মুখেও থাকে, যার ফলে হয় শিশুদের গলার রোগ ‘থ্রাশ’। মাথায় থাকে প্রধানত ট্রাইকোসপোরা বেইজলি। এই ‘ঈস্ট’রা নিজেরাই কিন্তু ফাঙ্গাস। এ ছাড়াও আরও দু-ধরনের ফাঙ্গাস থাকে চামড়ায়—ট্রাইকোফাইটন আর মাইক্রোসপোরাম। এদের জন্যেই হয় দাদ আর হাজা।
প্রশ্ন : মাকড়সার মত পোকা থাকে কোথায়?
মা : চুলের গোড়ার থলিতে—যে গর্তয় থাকে চুলের শেকড়। বেশির ভাগ পুরুষের মুখের সিবেসাস গ্ল্যাণ্ডেও থাকে। মাকড়সা ফ্যামিলির এই ক্ষুদে পোকাদের নাম ডেমোক্লেক্স ফলিকিউলোরাম।
প্রশ্ন : ভাইরাসের ঘাঁটি কোথায়?
মা : নাম তার হারপিস সিমপ্লেক্স—৯০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের নার্ভ ফাইবারে জাঁকিয়ে বসে থাকতে পারে শুধু এই ভাইরাসই। এমনিতে চুপচুপ, কিন্তু যার শরীরে বাসা বেঁধে আছে, তার স্বাস্থ্য খারাপ হলেই মাথাচাড়া দেয়—জঘন্য ঘা বানায় ঠোঁটে। গায়ে বেশি রোদ লাগলেও এইরকম ঘা মাথা চাড়া দেয়।
প্রশ্ন : বাবা আর মায়ের চেহারা ছেলেমেয়েরা পায় কোন নিয়মে?
মা : বাবা আর মায়ের শরীরের যা-যা বৈশিষ্ট্য, সেগুলোকে দুভাগে ফেলেছেন বৈজ্ঞানিকরা; ডমিনান্ট আর রিসেসিভ। ছেলেমেয়েদের শরীরে ডমিনান্ট বৈশিষ্ট্যগুলোর যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি; যাওয়ার সম্ভাবনা যেগুলোর কম, তাদের বলা হয় রিসেসিভ বৈশিষ্ট্য।
প্রশ্ন : ডমিনাষ্ট বৈশিষ্ট্য কোনগুলো মা?
মা : কোঁচকানো চুল, কালো চুল, যে-চুল লাল নয়, চামড়ার স্বাভাবিক রঙ, বাদামী চোখ, খারাপ দৃষ্টিশক্তি, পুরু ঠোঁট, খাটো আকৃতি, নাভাস ভাব, A অথবা B ব্লাড গ্রুপ, রেসাস পজিটিভ ব্লাড।
প্রশ্ন : রিসেসিভ বৈশিষ্ট্যগুলো?
মা : সিধে চুল, হাল্কা চুল, লাল চুল, বেশি সাদাটে চুল, চামড়া আর লালচে চোখ, নীল অথবা ধূসর চোখ, স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি, পাতলা ঠোট, ছোট চোখ, লম্বাটে আকৃতি, শান্ত ভাব, O ব্লাড গ্রুপ, রেসাস নেগেটিভ ব্লাড।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন