অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : অঙ্ক কষার মেশিন বুঝি সেকালে ছিল না?
মা : ছিল, এখনও আছে। এর নাম অ্যাবাকাস—গণনার ফ্রেম। ৫০০০ বছর আগের আবিষ্কার—মেকানিক্যাল কমপিউটার। আবিষ্কারটা হয়েছিল খুব সম্ভব চীনদেশে। কাঠের ফ্রেমে লাগানো তারের মধ্যে গাঁথা থাকে রঙবেরঙের পুঁতি। এক-একটা পুঁতি এক-একটা এককের প্রতিনিধি—দশ, একশ ইত্যাদি। গণনা করা হয় পুঁতিগুলোকে ওপর নিচে নামিয়ে। দূর প্রাচ্যে আর সোভিয়েত দেশে এখনও আছে অ্যাবাকাস—পকেট ক্যালকুলেটর যত ঝটপট ক্যালকুলেশন করতে পারে, সেই স্পিডে অ্যাবাকাস-এর ওস্তাদ অপারেটরও ক্যালকুলেশন চালিয়ে যেতে পারে। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত বছরে বিশ লক্ষ অ্যাবাকাস তৈরি হয়েছে শুধু জাপানে—সে দেশে এর নাম ‘সোরোবান্স’। ভাল কথা, কমপিউটিংয়ে সাহায্য করেছেন কিন্তু ফরাসি তাঁতিরাও।
প্রশ্ন : কমপিউটিং-এ তাঁতিদের অবদান! কীভাবে, মা?
মা : এঁরাই তো পাঞ্চকার্ড সিসটেম-এর উদ্ভাবন ঘটিয়েছিলেন ১৮০১ সালে। খুবই সূক্ষ্ম কারুকাজের কাপড় বোনবার জন্যে একটা তাঁতকল বানিয়েছিলেন জোসেফ জ্যাকুয়ার্ড নামে এক তাঁতি ভদ্রলোক। খানকয়েক কার্ডের ফাঁসে ফুটো-ফুটো করে প্যাটার্নকে এঁকেছিলেন সঙ্কেতে। ছুঁচ গলে যেতো ফুটোদের মধ্য দিয়ে—তুলে ধরত সেই গর্তের জন্যে রাখা তাঁতের টানা সুতোকে। চার্লস ব্যাবেজ নামে এক ইংরেজ ভদ্রলোক পাঞ্চ কার্ডের এই পদ্ধতিকেই কাজে লাগান তাঁর কমপিউটারে ১৮৩৪ সালে। কিন্তু শেষ দেখে যেতে পারেননি।
প্রশ্ন : সে কী! নিজের তৈরি কমপিউটারের শেষ দেখে যেতে পারলেন না?
মা : চার্লস ব্যাবেজ জন্মেছিলেন ১৭৯২-তে—মারা যান ১৮৭১-এ। ছিলেন গণিতবিদ আর বৈজ্ঞানিক। প্রোগ্রামমাফিক চালু থাকে এমনি ডিজিট্যাল কমপিউটারের প্রথম প্ল্যান বানিয়েছিলেন ১৮৩৪ সালে। তারও বিশ বছর আগে তৈরি করেছিলেন অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন—যোগ করার উন্নত যন্ত্র; ওঁর প্ল্যান ছিল পাঞ্চ কার্ড দিয়ে এই মেশিনেই প্রোগ্রাম ঠিক করে দেবেন, ‘মেমারি স্টোর’ দিয়ে ক্যালকুলেশন করাবেন, উত্তরটাকে ছাপা অবস্থায় বের করে আনবেন—সেকেণ্ডে একটা করে যোগ হবে। সে-সময়ে এইটাই ছিল কিন্তু রিমার্কেবল স্পিড। ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ১৭,০০০ পাউণ্ড আর নিজের যোগাড় করা ৬০০০ পাউণ্ড কাজে লাগিয়েও কিন্তু ইঞ্জিন আর বানাতে পারেননি—হাজার হাজার পার্টস তৈরির বিদ্যেই জানা ছিল না ভিক্টোরিয়ান ইঞ্জিনিয়ারদের। শেষকালে ১৮৪২ সালে যখন জর্জ এইরি নামে রাজকীয়, জ্যোতির্বিদ জানালেন ব্যারেজের পরিকল্পনা একদম বাজে, পিছিয়ে গেল সরকার। এরপরেও একটানা ত্রিশ বছর খেটে মরেছেন ব্যাবেজ যন্ত্র নিয়ে—বানাতে আর পারেননি—মারা গেলেন ব্যর্থতার কষ্ট নিয়েই।
প্রশ্ন : মনটা খারাপ হয়ে গেল। আচ্ছা মা, কমপিউটার কি দশ আঙুলে গোনে?
মা : মানুষ গোনে দশ আঙুলে—দশমিক পদ্ধতিতে—কারণ আমাদের হাতেই রয়েছে দশটা সংখ্যা। কমপিউটার কিন্তু ‘ভাবে’ মাত্র দুটো সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে; সার্কিটের কোনও পয়েন্ট দিয়ে ইলেকট্রিক কারেন্ট হয় বইছে, অথবা বইছে না। এই কারণেই কমপিউটার গোনে ‘দুই’ পদ্ধতিতে—যার নাম Binary Systems; এ-পদ্ধতি কাজে লাগায় মাত্র ‘দুটি’ সঙ্কেতকে 1 আর 0—কারেন্ট বইলে 1, না বইলে 0; কোনও একটা সঙ্কেতকে কোনো জায়গা থেকে বাঁ দিকে সরিয়ে আনলেই তার ভ্যালু ডবল। 1 ডবল হয়ে যাচ্ছে 2/4/8/16//32/64/128—চলছে এইভাবে। জিরোর ‘ভ্যালু’ কিন্তু সব সময়ে জিরোই থাকছে। Binary System-এ এক থেকে দশ-এর notation অর্থাৎ অঙ্কপাতনহল এই: 1, 10, 11, 100, 101/110/1000/1001/1010; থাক সে কথা, প্রথম ইলেকট্রিক কমপিউটার তৈরির প্রেরণা জুগিয়েছিল কিন্তু ট্রেন ডাকাতরা।
প্রশ্ন : বলো কী! ডাকাতদের প্রেরণা থেকে ইলেকট্রিক কমপিউটার?
মা : প্রায় সেইরকমই। আমেরিকার একটা অঞ্চলকে বলা হয় ‘ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’। নাম শুনেই আঁচ করছিস কী রকম জায়গা। ১৯ শতকে এখানে ভয়ানক ট্রেন ডাকাতি লেগেই ছিল। ডাকাতদের ফাঁদে ফেলবার প্রেরণা থেকেই এসে গেল প্রথম ইলেকট্রিক কমপিউটার। আইনকে লবডঙ্কা দেখিয়ে প্রায়ই আমেরিকান ট্রেনে যাত্রী সেজে উঠে বসত ডাকাতরা। এদের শনাক্ত করার জন্যে গবেষকরা বললেন, টিকিটের ওপরেই প্রত্যেক যাত্রীর চেহারার বৈশিষ্ট্যগুলো রেকর্ড করা থাকুক। কেনবার সময়েই ফুটো করে দেওয়া হোক টিকিটে। গোঁফ থাকলে একরকম ফুটো, চুলের রঙ লালচে হলে আর একরকম ফুটো—মার্কামারা শরীরের সবকটা বৈশিষ্ট্য শুধু ফুটো দিয়ে গেঁথে দেওয়া হোক টিকিটে। এরপর যদি ডাকাতি হয়ে যায় সেই ট্রেনে, টিকিটের রেকর্ড ঘেঁটে মিলিয়ে নেওয়া হোক সেইসব যাত্রীদের চেহারা যারা ডাকাতির পরেও রয়ে গেছে ট্রেনে। যারা নেই, তারাই তাহলে ডাকাত। আইডিয়াটা সব মহলে খুব একটা পাত্তা না পেলেও হারম্যান হলারিথ নামে একজন আমেরিকান পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ বুঝেছিলেন, এ-পদ্ধতিকে জনগণনার কাজে লাগানো যাবে। ১৮৯০-এর আমেরিকান জনগণনায় উনি বানিয়ে দিলেন ট্যাবুলেটিং মেশিন। জনগণনার তথ্য-টথ্যগুলো পাঞ্চ্ড কার্ডের ওপরে ধরে রাখা হত—তারপর ‘ফীলার’ বুলিয়ে বিশেষ ফুটো থেকে বৈদ্যুতিক সঙ্কেত সৃষ্টি করা হত। আগের জনগণনা শেষ হতে সময় লেগেছিল ১৮ সপ্তাহ। হলারিথের মেশিনে সময় লাগল মাত্র ৬ সপ্তাহ—যদিও দশ মিলিয়ন লোক বেড়ে গেছিল মাঝের দশ বছরে। ১৮৯৬ সালে ট্যাবুলেটিং মেশিন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করলেন হলারিথ। ২৮ বছর পরে এই কোম্পানিই মূল বনেদ হয়ে দাঁড়ালো আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কমপিউটার কোম্পানির—IBM; পুরোনাম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিন।
প্রশ্ন : কমপিউটারদের ভাষা নাকি অন্যরকম?
মা : মানুষ যখন নয়, তখন তার ভাষা তো অন্যরকম হবেই—এ ভাষা তো যন্ত্রের ভাষা। BASIC, COBOL—হরেক নামের হরেক ভাষার পাণ্ডিত্য জাহির করলেও সব কমপিউটারই বোঝে কিন্তু দুটো মোদ্দা সঙ্কেত: 1 আর 0; কিন্তু এই Binary System-এর প্রোগ্রাম থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে সাধারণত কমপিউটারদের মধ্যে থাকে নিজস্ব অনুবাদ প্রোগ্রাম বা কমপাইলার—যার কাজ সাঙ্কেতিক ভাষাকে গ্রহণ করে তাকে binary system-এ রূপান্তর করা। খুব চালু সাঙ্কেতিক ভাষাটার নাম BASIC—বিগিনার্স অল পারপাজ সিমবলিক ইন্সট্রাকসন কোড। অন্যান্য ভাষাদের মধ্যে আছে: COBOL—কমন বিজনেস ওরিয়েন্টেড ল্যাঙ্গুয়েজ—ব্যবসাবাণিজ্য আর মোটামুটি নানা কাজে লাগে: FORTRAN—ফরমুলা ট্রানশ্লেসেন—বৈজ্ঞানিকদের ব্যবহারের জন্যে; ALGOL—অ্যালজেবরিক্যাল ওরিয়েন্টেড ল্যাঙ্গুয়েজ—বৈজ্ঞানিক, ইঞ্জিনিয়ার আর গণিতবিদদের জন্যে তৈরি ডিজাইন।
প্রশ্ন : ইলেকট্রনিক প্রিন্টার কত তাড়াতাড়ি ছাপে, মা?
মা : ১৯৮০-এর গোড়ার দিকে সেকেণ্ডে ৪৫০ লাইন প্রিন্ট করতে পারত। অর্থাৎ, এক মিনিটে ২২৫ পৃষ্ঠার বই টাইপ করে ফেলত।
প্রশ্ন : কমপিউটার শিখতে ছোটদের এত ডাকা হচ্ছে কেন?
মা : গোটা পৃথিবী জুড়েই তো ছোটদের রমরমা শুরু হয়ে গেছে কমপিউটার বাজারে। মাত্র সতেরো বছরের বৃটিশ কিশোর ইউজিন ইভান্স ১৯৮৩ সালে বছরে রোজগার করেছে চল্লিশ হাজার পাউণ্ড—‘ইমাজিন’ নামে লিভারপুলের একটা কমপিউটার গেম কোম্পানির হেড প্রোগ্রামার হয়ে যাবার পর। তবুও বলব, একটু বেশি বয়সেই কমপিউটার খেলাকে রপ্ত করেছিল ইউজিন। কেন না, দশ বছর বয়সেই ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রোগ্রাম লিখে ফেলছে এরকম ঘটনাও তো ঘটছে আকছার।
প্রশ্ন : কমপিউটার কি জ্যান্ত? তার ‘মেমারি’ থাকে কী করে?
মা : কমপিউটার মেমারি হল, কে কটা byte ইনফরমেশন নিজের ভাঁড়ারে জমিয়ে রাখতে পারে—সেই ক্ষমতা। প্রত্যেকটা ‘বাইট’ binary সংখ্যার সমষ্টি—সাধারণত আটটা সংখ্যার সমষ্টি মামুলি কোনও সংখ্যা বা হরফের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়ায় প্রতিটি ‘বাইট’। উদাহরণ দিচ্ছি, বিশেষ একটা পদ্ধতিতে ‘A’ হরফের ‘বাইট’ হল 01000001 সিরিজ। Binary-র যে দুটি সংখ্যা বিশেষ একটা সার্কিটে কারেন্ট থাকা আর না থাকার অবস্থাকে বোঝায়, অর্থাৎ, 1 আর 0—এ দুটির প্রতিটিকে বলা হয় Bit Binary Digit-এর প্রথম আর শেষের অক্ষর দুটো। আঙুলের নখের সাইজের একটিমাত্র সিলিকন চিপ-এ ৬৪,০০০-এরও বেশি ‘বাইট’ ‘স্টোর’ করে রাখা যায়। এই সাইজের মেমারিকে প্রায়ই বলা হয় 64-K মেমারি। K দাঁড়াচ্ছে কিলো-বাইটের প্রতিনিধি হিসেবে। এক কিলো-বাইট ১০২৪ বাইটের সমান—binary নোটেশনে অর্থাৎ অঙ্কপাতনে ১-এর পেছনে ১০-টা জিরো বসালে যা হয়। 64-K মেমারি তাহলে ৬৫,৫৩৬ ‘বাইট’ ধরে রাখে। কাজের সুবিধের জন্যে অবশ্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এক কিলো বাইটকে ১০০০ ‘বাইট’-এর সমান ধরা হয়।
প্রশ্ন : কমপিউটারের মেমারির দৌড় কি এই পর্যন্তই?
মা : ৪,৭২০০০ মিলিয়ন ‘বাইট’ পর্যন্ত রেখে দেওয়ার ভাঁড়ার-ঘর ব্যবস্থাও আছে—যা ৪,৭২,০০০ ‘মেগা-বাইট’-এর সমান।
প্রশ্ন : মেগা-বাইট! সোজা বলো, মনে রাখতে পারে কতটা?
মা : তোর মোটা মাথায় ঢোকানোর জন্যে সোজা করেই বলছি। এই পৃথিবীতে যত লোক আছে, তাদের প্রত্যেকের নাড়িনক্ষত্র যদি ১০০ হরফের মধ্যে লেখা যায়—অথবা, খবরের কাগজের ২৭০ লক্ষ পৃষ্ঠায় যত থাকে—সমস্ত ধরে রাখতে পারে এক মেগা-বাইট।
প্রশ্ন : এতবড় মেমারির সাইজও নিশ্চয় পেল্লায়?
মা : মোটেই না, মামুলি লঙ প্লেয়িং রেকর্ড সাইজের ডিস্কে জমানো জ্ঞানের গুদোম থেকে দরকারি জ্ঞানকে টেনে বের নেয় লেসার রশ্মি—১২,৫০০ মিলিয়ন ‘বাইট’ পর্যন্ত জমিয়ে রাখা যায় এই ডিস্কে।
প্রশ্ন : আচ্ছা মা, ক্রিমিন্যালরা যুগে যুগে নতুন পথে ক্রাইম করছে। কমপিউটারকে কাজে লাগাচ্ছে না?
মা : কমপিউটার ক্রাইমের মোদ্দা অসুবিধেটা কি জানিস? টাকা চুরি গেছে, এটা বলা সোজা—কিন্তু চুরি করার জন্যে কমপিউটারকে টাইপ করে ইন্সট্রাকশনটা কে দিয়েছে—এইটাই বের করা কঠিন। কাজেই পাঁচটা চুরি হলে একটার রিপোর্ট আসে পুলিশের কাছে। ১৯৮০ পর্যন্ত একটা হিসেবে জানা গেছে তিনশ কোটি ডলার চুরি হয়ে গেছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই কমপিউটার ক্রিমিনালদের উৎপাতে।
প্রশ্ন : সিলিকন চিপ জিনিসটাকে ফের ঝালিয়ে দেবে?
মা : শুদ্ধ সিলিকন কিন্তু ইনসুলেটর। কিন্তু সামান্য অশুদ্ধ অবস্থায় ক্ষীণ কারেন্টকে যেতে দেয়—তখন তা সেমি-কনডাকটর হয়ে যায় : একেই বলে ‘সিলিকন-চিপ’-এর ভিত তৈরি করা। ৯৯·৯৯৯৯৯৯৯ শতাংশ শুদ্ধ সিলিকন দিয়ে চার ইঞ্চি মোটা সিলিণ্ডার বানিয়ে তা থেকে আধ মিলিমিটার পুরু চাকতি কেটে নেওয়া হয়। প্রত্যেকটা চাকতিতে ২৫০টার মত চিপ-এর বস্তু থাকে। ক্ষুদে সার্কিটদের ফটো তুলে ছেপে এবং খুদে বসিয়ে দেওয়া হয় চাকতিতে—তার ওপর ফসফরাস, বোরন, অ্যালুমিনিয়ামের প্রলেপ দিয়ে ট্রানজিসটর, রেসিসটর, ক্যাপাসিটর আর ডায়োড বানানো হয়: এরাই তো ইলেকট্রনিক সার্কিটের জটাজাল—কারেন্টকে কন্ট্রোল করে, গাইড করে।
প্রশ্ন : তবে কি ইলেকট্রনিক ব্রেনের আর দেরি নেই?
মা : এ-যুগের কমপিউটাররা ইলেকট্রনিক ব্রেন নয় ঠিকই, নিজে থেকে ভাবতে পারে না, সৃষ্টি করবার ক্ষমতাও নেই, তবে হ্যাঁ, সত্যিকারের ইলেকট্রনিক ব্রেনের দিনও এল বলে। ১৯৫০-এর গোড়ার দিকে আমেরিকান গবেষকরা শুরু করেছেন, সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে কমপিউটাররা যেন মানবিক আচরণের প্যাটার্নকে নিজেদের মধ্যে জাগাতে পারে। অর্থাৎ, নিজের প্রোগ্রাম নিজেই করে নিতে পারে কমপিউটার—পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ভুলভ্রান্তির মাধ্যমে। ১৯৮০-এর গোড়ার দিকে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ডগ লেনাট নামে এক আমেরিকান গবেষক প্রতি রাতে কমপিউটার চালিয়ে রেখে ঘুমোতে চলে যেতেন—দেখতেন নিজে থেকে কি করে কমপিউটার মশায়। তিন বছর বাদে এই কমপিউটারই ক্ষুদে ক্ষুদে ইলেকট্রনিক সার্কিট তৈরির একটা নতুন পন্থা আবিষ্কার করেছিল। এবং কমপিউটার নিজেই ঠিক করে নিয়েছিল—সে আর মেশিন নয়—মানুষ!

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন