আইনস্টাইন

অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : আইনস্টাইন কী জন্যে বিখ্যাত মা?

মা : তিনটে বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের জন্য।

প্রশ্ন : সেগুলোর নাম?

মা : স্পেশ্যাল থিওরি অভ রিলেটিভিটি, জেনারেল থিওরি অভ রিলেটিভিটি আর ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি।

প্রশ্ন : থিওরি তিনটের মোদ্দা কথা কী?

মা : স্পেশ্যাল থিওরিতে উনি বলছেন, এই বিশ্বে একেবারে নট নড়নচড়ন নট কিচ্ছু অবস্থায় কিছুই নেই। সব গতিই আপেক্ষিক। জেনারেল থিওরিতে নিয়ে এলেন প্রকৃতির এক বিরাট আইনকে—অভিকর্ষ অর্থাৎ গ্র্যাভিটিকে। ব্রিলিয়ান্ট ব্যাখ্যা দিলেন গ্র্যাভিটির নিয়মকানুনের। এই থিওরি অনুসারে গ্র্যাভিটেশনাল ফিল্ড এবং অন্যান্য ফোর্স ফিল্ডের মধ্যে তফাত বের করাটা একটা অসম্ভব ব্যাপার। যাকে বলি গ্র্যাভিটেশন, আসলে তা পৃথিবী লাট্টুর মত ঘুরছে বলে ত্বরণ বা acceleration-এর জন্যে হচ্ছে। কিন্তু তখনও ব্যাখ্যার বাইরে রয়ে গেল দুটো মস্ত শক্তি—ইলেকট্রিক ফোর্স আর ম্যাগনেটিক ফোর্স। জেনারেল থিওরিকে টেনে নিয়ে গিয়ে উনি হাজির করলেন ইউনিফায়েড ফিল্ড থিওরি।

প্রশ্ন : শুধুই সিদ্ধান্ত? প্রমাণ করতে পেরেছেন?

মা : প্রথম দুটোর ক্ষেত্রে পেরেছেন—তৃতীয়টার ক্ষেত্রে পারেননি।

প্রশ্ন : তার মানে, ইউনিফায়েড ফিন্ড থিওরি আজও অপ্রমাণিত?

মা : হ্যাঁ। উনি নিজেই আক্ষেপ করেছিলেন, এক্সপেরিমেন্ট করবার কোন পথই বের করতে পারলেন না। থিওরিতে যা-যা অঙ্ক কষে দেখিয়েছিলেন, তা হাতেনাতে দেখাতে পারলেন না। যেমনটা দেখিয়েছিলেন জেনারেল থিওরির ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন : কি দেখিয়েছিলেন?

মা : সূর্যের কাছে গিয়ে আলোক রশ্মি সামান্য বেঁকে যায়। এইটেই সবচেয়ে বিখ্যাত প্রমাণ।

প্রশ্ন : স্পেশ্যাল থিওরিটাকে আরও খুলে বলবে?

মা : স্পেশ্যাল থিওরিতে উনি বলেছেন, সব কিছুই গতিময়। এবং এই গতির বেগ নানান জায়গা থেকে নানান জনের চোখে নানান রকম মনে হয়। কিন্তু পালটায় না শুধু একটা গতিবেগ: আলোর গতিবেগ। সেটা একই থেকে যায়।

প্রশ্ন : শুধু এইজন্যেই কি এই থিওরি এত স্পেশ্যাল?

মা : স্পেশ্যাল আরও একটা কারণে। ওঁর আগে পর্যন্ত সবাই জানত, স্পেস আর টাইম—দেশ আর কাল—দুটো আলাদা ব্যাপার। উনি দেখিয়ে দিলেন, মোটেই তা নয়। দুটোই জড়িয়ে মুড়িয়ে মিলেমিশে রয়েছে। জ্যামিতিতে কোনও জিনিসকে দেখানো হত শুধু তার অবস্থান দিয়ে—জিনিসটা কতটা চওড়া, কতটা লম্বা, কতটা উঁচু—এইভাবে। অর্থাৎ তার তিনটে মাত্রা, মানে ডাইমেনশন। আইনস্টাইন এর সঙ্গে যোগ করলেন চতুর্থ মাত্রা—সময়। অর্থাৎ জিনিসটা রয়েছে কোন সময়ে।

প্রশ্ন : ফোর্থ ডাইমেনশন?

মা : জানি অনেকেই জিনিসটাকে ধারণায় আনতে পারে না।

প্রশ্ন : কিন্তু এই ‘কখন’টাকে বোঝবার উপায় কি?

মা : ইনটেলিজেন্ট প্রশ্ন। দূরত্বর মাপ আর সময়ের মাপ-এর সম্পর্কটা উনি আলোর স্পিড দিয়ে প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন : কীভাবে?

মা : এক সেকেণ্ড মাইনাস ৩০, ০০০, ০০০, ০০০ সেন্টিমিটারের সমান।

প্রশ্ন : মাইনাস সাইনটা কেন?

মা : দেশ আর কালের মধ্যে তফাত বোঝাবার জন্যে নিছক একটা গাণিতিক কৌশল।

প্রশ্ন : স্পেশ্যাল থিওরির চমকটা তাহলে কোথায়?

মা : চমকই বটে। বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়েছিলেন দুটো কথা বলে। এক, গতি যে কোনও জিনিসকে ভারি করে দেবে, অর্থাৎ তার বস্তুর পরিবর্তন ঘটবে—সেইসঙ্গে জিনিসটার দৈর্ঘ্য অন্য রকম করে ছাড়বে। দুই, এটা আরও পিলে চমকানো কথা—বস্তু পাল্টে গিয়ে শক্তি হয়ে যাচ্ছে—শক্তি হয়ে যাচ্ছে বস্তু।

প্রশ্ন : বস্তু থেকে শক্তি, শক্তি থেকে বস্তু?

মা : বিখ্যাত ইকুয়েশন E=mc2 টা মনে রাখিস। এই একটা ছোট্ট সমীকরণের মাধ্যমেই বিশ্বরহস্যের ব্যাখ্যা উনি দিয়েছেন। E মানে এনার্জি, m মানে mass বা ভর বা বস্তু, c হচ্ছে আলোর স্পিড। কম বস্তুর বিপুল এনার্জিতে রূপান্তরিত হওয়ার এই মন্ত্র অ্যাটমবোমা আর পারমাণবিক চুল্লিতে কাজে লাগানো হয়েছে। কিছুই কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না। একটা বস্তুর খানিকটা কাইনেটিক এনার্জি হয়ে যাওয়ার পর সেই এনার্জি আর বাকি বস্তুর যোগফল হবে আদি বস্তুর সমান।

প্রশ্ন : ছুটলে যে ভারি হওয়া যায়, তার প্রমাণ?

মা : তুই ছুটলে হাল্কাই হবি। কিন্তু ভীষণ গতিবেগে বিপুল জায়গা জুড়ে ছুটলে বস্তু বেড়ে যায়। যেমন ধর, ইলেকট্রনকে যদি প্রায় আলোর গতিবেগে ছোটানো যায়—তা ভারি হবে। আইনস্টাইনের এই ভবিষ্যৎবাণী প্রমাণিত হয়েছে।

প্রশ্ন : ‘প্রায়’ আলোর গতিবেগে যদি হয়, তাহলে আলোর সমান গতিবেগে ছোটালে কি হয়?

মা : ছোটানো অসম্ভব। অপরিমিত ভারি হয়ে যায়।

প্রশ্ন : একজন বৈজ্ঞানিকের সিদ্ধান্ত আর একজন বৈজ্ঞানিক একটু পাল্টে দেন, তাইনা?

মা : হ্যাঁ। তবে গ্যালিলিও, নিউটন এবং অন্যান্যদের সিদ্ধান্তকে একেবারে খারিজ করেনি আইনস্টাইনের সিদ্ধান্ত। কিন্তু সঠিক ব্যাখ্যা জুগিয়েছেন, অনেক আশ্চর্য ভবিষ্যৎবাণী করেছেন—একে একে তা মিলে যাচ্ছে। ক্লাসিকাল ফিজিক্সের অঙ্ক আলোর প্রায় কাছাকাছি গতিবেগে কোনও কাজে লাগে না। সেখানে স্পেশ্যাল থিওরির প্রয়োজনটা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

প্রশ্ন : আইনস্টাইনের থিওরিকে টেক্কা মেরেছেন কেউ?

মা : টেক্কা মারা হয়েছে এমন কথা বলব না। আজও তাঁর থিওরি অভ্রান্ত। তবে তাঁর জেনারেল থিওরির রূপান্তর ঘটিয়েছেন অনেকে। সবচেয়ে বড় রূপান্তরিত সিদ্ধান্তটার নাম কাইনেমেটিক থিওরি। সময়কে আরো সূক্ষ্মভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন, বিশ্ব কীভাবে এই অবস্থায় আছে এবং ভবিষ্যতে তার কী হাল হবে?

প্রশ্ন : স্পেশ্যাল থিওরিকে ‘স্পেশ্যাল’ বলা হয় কেন, মা?

মা : Un-accelerated অর্থাৎ একটু একটু করে আরও বেশি দ্রুতগামী নয় এমন পর্যবেক্ষকের ক্ষেত্রেই সীমিত থিওরি বলে একে বলা হয়েছে Restricted অথবা Special.

প্রশ্ন : বস্তু থেকে এনার্জি হওয়ার একটা উদাহরণ দেবে?

মা : প্রথম অ্যাটম বোমার ইউরেনিয়াম মজ্জা থেকে এক গ্রাম ইউরেনিয়াম এনার্জি হয়ে গিয়ে বিশ হাজার টন টি-এন-টি বিস্ফোরকের সমান বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।

প্রশ্ন : আলোর কাছাকাছি বেগে রকেট যেদিন ছুটবে?

মা : রকেটে যারা থাকবে, তাদের বয়স যতটা বাড়বে, তার চেয়ে অনেক বেশি বুড়ো হবে পৃথিবীর মানুষ।

প্রশ্ন : আরও খুলে বলবে?

মা : ধর, একটু একটু করে আরও বেশি দ্রুতগামী অবস্থায় গ্যালাক্সির মাঝখানে টহল দিয়ে পৃথিবীতে ফিরে এল মহাকাশচারী তিরিশ বছর পরে, এসে দেখবে পৃথিবীতে চল্লিশ হাজার বছর কেটে গেছে। যমজ ভাইয়ের ক্ষেত্রে এক ভাই থাকবে ইয়ং, আর এক ভাইয়ের নাতিপুতির মুখও হয়ত দেখতে পাবে না।

প্রশ্ন : আলোর কাছাকাছি বেগে ছুটলে কী কী হতে পারে?

মা : যেদিকে ছুটছে বস্তু, সেদিকের দৈর্ঘ্য কমে যাবে। রকেট হবে বেঁটে, আর বেজায় ভারি। সময় কমে যাবে।

প্রশ্ন : যেমন?

মা : ধর, তুই প্রায় আলোর স্পিডে সাইকেল চালাচ্ছিস। আমি দেখব তোর চেহারাটা হয়েছে কার্ডবোর্ড থেকে কেটে নেওয়া মৃর্তির মত পাতলা, সাইকেলটা চলছে শামুকের গতিবেগে। তোর ওজন হবে অকল্পনীয় বেশি। সাইকেলটা প্রায় অর্ধেক লম্বা হয়ে যাবে। আমি হু-হু করে বুড়িয়ে যাব—তোর বয়স বাড়বে সামান্য।

প্রশ্ন : জেট প্লেনে তো এরকম দেখা যায় না?

মা : পৃথিবীর চৌহদ্দিতে যে মামুলি স্পিড, তাতে এ-রকম পরিবর্তন এতই কম যে ধরা যায় না। নইলে দৌড় প্রতিযোগিতায় উল্টোপাল্টা কাণ্ড ঘটত। তবে খুবই হাইম্পিডে পরিবর্তনগুলো দারুণ গুরুত্ব নেয়। আলোর গতিবেগের নব্বই শতাংশ গতিবেগে ধেয়ে যাচ্ছে একজন মহাকাশচারী। পৃথিবীতে রয়েছে তার যমজ ভাই। দুই ভাইয়ের মধ্যে যে অবিশ্বাস্য ফারাক তৈরি হয়ে যাচ্ছে, এমন অনুভূতি মহাকাশচারীর মাথাতেই আসবে না। কিন্তু তার মহাকাশযানের বস্তু ডবলেরও বেশি হবে, অর্থাৎ বেজায় ভারি হবে, লম্বায় অর্ধেকেরও বেশি ছোট হয়ে যাবে, আর মহাকাশযানের মধে রাখা ঘড়িতে দেখা যাবে এক ঘন্টায় মাত্র ছাব্বিশ মিনিট পর্যন্ত কাঁটা ঘুরেছে: কারণ, সময় তো শ্লথ হয়ে গেছে। ফলে, মহাকাশচারীর বয়স বাড়বে তার যমজ ভাইয়ের বয়স বৃদ্ধির অর্ধেকেরও কম স্পিডে।

প্রশ্ন : আলোর স্পিডে যখন ছুটবে মহাকাশযান?

মা : অসীম হবে তার বস্তু, দৈর্ঘ্য এসে দাঁড়াবে শূন্যে এবং মহাকাশের ভেতরে সময় একেবারেই থমকে দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রশ্ন : অসম্ভব?

মা : হ্যাঁ, অসম্ভব। তাই আলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে পারে না কিছুই।

প্রশ্ন : ঘড়ি চলবে শামুকের মত, এর এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে?

মা : হয়েছে। ১৯৭২ সালে সেন্সিটিভ অ্যাটমিক ঘড়ি বসানো হয়েছিল মহাকাশযানে। একই রকমের ঘড়ি ছিল পৃথিবীতে। দুটো ঘড়ির সময় মিলিয়ে দেখা গেল, মহাকাশযানের স্পিড কমছে, অর্থাৎ সেখানকার সময় ধীরে চলছে।

প্রশ্ন : বড় জটিল বিষয় এই রিলেটিভিটি থিওরি। সাধারণ বুদ্ধির ঠিক উল্টো কথা বলছে, তাই না?

মা : ঠিক তাই। অত্যন্ত হাই স্পিডে কমনসেন্সের ধারণাগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়—আইনস্টাইনের অত্যাশ্চর্য এই উপলব্ধির ওপরেই দাড়িয়ে আছে তার থিওরি অভ রিলেটিভিটি।

প্রশ্ন : কমনসেন্স!

মা : কমনসেন্স বলছে, দুটো গাড়ি যখন দুদিক থেকে মুখোমুখি ধেয়ে আসে ঘন্টায় একশ কিলোমিটার স্পীডে, তখন একটা আর একটার পাশ দিয়ে চলে যাবে ঘন্টায় দু-শ কিলোমিটার রিলেটিভ স্পীডে অর্থাৎ আপেক্ষিক গতিবেগে। করেও তাই। কিন্তু একটা গাড়ির বদলে যদি আলোক-রশ্মি ধেয়ে আসে, তখন আর মামুলি ধারণা টেকে না। অন্য গাড়িটা যে স্পীডেই আলোক-রশ্মির দিকে আসুক, অথবা আলোক-রশ্মির দিক থেকে সরে যাক না কেন—আলোক-রশ্মি সেই গাড়িকে একই স্পীডে ঠোক্কর মারবে, এবং সেই স্পীড মোটামুটিভাবে সেকেণ্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার।

প্রশ্ন : পরীক্ষিত সত্য কি?

মা : ১৮৮০ সালে এক্সপেরিমেন্ট করে ব্যাপারটা প্রমাণিত হয়। আইনস্টাইনের ভাবনাচিন্তার শুরু এইখান থেকেই। উনি বলেছিলেন, আলোর স্পীড-ই তাহলে এই বিশ্বের একমাত্র ধ্রুবক। Constant। যার পরিবর্তন নেই। আয়তন, বস্তু, এমন কি সময় পর্যন্ত আপেক্ষিক: এদের যে কোনোটির মাপজোখ নির্ভর করে পর্যবেক্ষকদের অবস্থান আর আপেক্ষিক গতিবেগের ওপর।

প্রশ্ন : কোন্‌ কোন্‌ সালে ছেপেছিলেন থিওরি দুটো?

মা : দুই অংশে ভাগ করা থিওরির ফাস্ট পার্ট বেরোয় ১৯০৫ সালে, সেকেণ্ড পার্ট ১৯১৫ সালে।

প্রশ্ন : আইনস্টাইনের জন্ম কোথায় মা?

মা : জামানীতে—দক্ষিণ জার্মানীর উলম শহরে ১৮৭৯ সালের ১৪ মার্চ ধরায় এসে ১৯৫৫ সালের ১৮ এপ্রিল চলে গেছেন। তাঁর ব্রেন আরকে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে গবেষণার জন্যে।

প্রশ্ন : ছেলেবেলায় তো পড়াশুনোয় অষ্টরম্ভা ছিলেন?

মা : তোর মত ফাঁকিবাজের কাছে গুজবটা একটা পরম সান্ত্বনা। উনি নাকি স্কুলে ‘ফেল’ করেছিলেন। কিন্তু স্কুল-রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে উনি ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। বিশেষ করে ফিজিক্স, ম্যাথমেটিক্স আর মিউজিকে টেক্কা মেরেছেন প্রত্যেককে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বেহালাবাদকদের অন্যতম হিসেবে তিনি গণ্য হয়েছিলেন। ভুল বোঝাবুঝিটা হয়েছে সম্ভবত স্কুলের শেষের বছরে। পরীক্ষায় নম্বর দেওয়ার পদ্ধতিটা উল্টে নেওয়া হয়েছিল। গ্রেড সিক্স ছিল সবচেয়ে নিচে—গ্রেড ওয়ান সবচেয়ে ওপরে। উল্টে নেওয়ার ফলে গ্রেড সিক্স গেল ওপরে, গ্রেড ওয়ান এল নিচে। এই পাল্টাপাল্টিটা যারা জানে না, তাদের কাছে মনে হবে নিশ্চয় পরীক্ষায় ডাব্বা খেয়েছিলেন আইনস্টাইন। জুরিখের এনট্রান্স পরীক্ষায় ফেল করেছিলে খুব সম্ভব ফরাসী ভাষায় ভীষণ কাঁচা ছিলেন বলে। আরও একটা কারণ থাকতে পারে, সেটা তাঁর বয়স। পরীক্ষায় বসার বয়স ছিল ১৮—উনি বসেছিলেন ১৬ বছর বয়সে।

প্রশ্ন : নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন?

মা : ১৯২১ সালে পেয়েছেন। কিন্তু রিলেটিভিটি থিওরির জন্য নয়, বস্তুর রূপান্তরকরণ সিদ্ধান্তের জন্যেও নয়—বিশেষ বিশেষ ধাতুর গায়ে আলো পড়লে সেই ধাতু ইলেকট্রন বের করে দেয় কি ভাবে এবং কেন—এই ব্যাখ্যার জন্যে।

প্রশ্ন : রিলেটিভিটি থিওরির একটা হেঁয়ালি অঙ্ক বলে দেবে?

মা : বন্ধুদের বোকা বানাবি তো? শোন। দুটো রকেট আলোর গতিবেগের দশভাগের ন’ ভাগ গতিবেগে অর্থাৎ সেকেণ্ডে ১,৬৭,৪০০ মাইল স্পিডে মুখোমুখি ধেয়ে আসছে। তাদের রিলেটিভ স্পিড কত হবে? সেকেণ্ডে ১,৬৭,৪০০+১,৬৭,৪০০=৩,৩৪,৮০০ মাইল কি? না। আলোর স্পিড যা, তার চাইতেও কম, অর্থাৎ সেকেণ্ডে ১,৮৬,০০০ মাইলেরও কম!

প্রশ্ন : ওঁর একটা উক্তি শিখিয়ে দেবে?

মা : The most beautiful thing we can experience is the mysterious; রহস্যের অভিজ্ঞতাই আমাদের জীবনের সর্বোত্তম অভিজ্ঞতা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%