ধূমকেতু

অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : ধূমকেতু মানে কি, মা?

মা : ধোঁয়া হয়েছে যার কেতু অর্থাৎ পতাকা বা চিহ্ন, তারই নাম ধূমকেতু। ঝাঁটার মত জ্যোতির্ময় পদার্থ। ইংরেজিতে কমেট।

প্রশ্ন : কমেট? এরকম নাম কেন?

মা : লম্বা-চুলো তারা। রাতের আকাশে রহস্যজনক বিনুনিওলা প্রেতচ্ছায়া দেখে সেকালের মানুষ তাদের নাম দিয়েছিল Kometes—একটা গ্রীক শব্দ, যার মানে, লম্বা-চুলো। ইংরেজিতে Comet। ঠিক যেন বিনুনি দুলিয়ে উড়ে যাচ্ছে ধোঁয়াটে প্রেতিনী।

প্রশ্ন : শাস্ত্রে ধূমকেতুর উল্লেখ আছে?

মা : শাস্ত্রে লেখা আছে, ধূমকেতু দেখা দিলেই অনিষ্ট হবে। বিশেষ করে যে ধূমকেতু আকারে ইন্দ্রধনুর মত, অথবা যার মাথায় দুটো বা তিনটে চুড়ো থাকে, তা নিদারুণ অমঙ্গল ডেকে আনে। ধূমকেতু যদি দক্ষিণ দিকে দেখা দেয়, ঘোর অনিষ্ট হয়। বিলেতের লোকেও একসময়ে বিশ্বাস করত, ধূমকেতু ভয়ানক অমঙ্গলসূচক—প্লেগ বা দুর্ভিক্ষ, রাষ্ট্রবিপ্লব বা রাজারাজড়ার মৃত্যুর আগে ধূমকেতু দেখা দেয়। ধূমকেতু ছিল তাদের কাছে বিভীষিকা। এমনও হয়েছে যে, বহু মানুষ আগেই আত্মহত্যা করেছে ধূমকেতু দর্শনের পর বেঘোরে মরার ভয়ে।

প্রশ্ন : মহাশূন্যের এরকম ক’টা ভয়ঙ্কর আগন্তুককে চেনেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা?

মা : ডজনখানেকের গতিপথ জানা গেছে। কেউ উপবৃত্তাকার বা এলিপটিক্যাল কক্ষপথে নিয়মিত সময়ের ব্যবধানে ফিরে আসে; কেউ পৃথিবীকে পাশ কাটিয়ে যায় মাত্র একবারই, পরাবৃত্ত বা হাইপারবোলা কক্ষপথে উড়ে যায়। শেষের এই বৃত্তের দু-মুখ খোলা—তাই অজানা জন্মভূমি থেকে এসে অজ্ঞাত পরিণতির পানে এরা চলে যায়—আর ফিরে আসে না।

প্রশ্ন : ধূমকেতু তাহলে আজও রহস্য?

মা : ধূমকেতুর গঠন, উৎপত্তি আর পরিণতি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক মহলে এখনও মতভেদ আছে।

প্রশ্ন : ধূমকেতুকে পৃথিবীর সব জায়গা থেকে দেখা যায়?

মা : যায়। সূর্যগ্রহণ আর চন্দ্রগ্রহণের মত নয়—সব জায়গা থেকে দেখা যায়। তবে বড়দের মধ্যে শুধু হ্যালির ধূমকেতুকেই দেখা যায় খালি চোখে—দূরবীনের দরকার হয় না।

প্রশ্ন : হ্যালির ধূমকেতু? কবে আসবে?

মা : ১৯৮৫-৮৬-তে টহল দিয়ে গেছে—ফের আসবে ৭৬ বছর পরে। ১৯৯০-তে Faye ১৯৯৪-তে Tuttle ২০১১-তে Crommelin। ১৯১৪ সালের ‘ডেলাভান’ ফিরে আসবে নাকি দু-কোটি চল্লিশ লক্ষ বছর পরে।

প্রশ্ন : এত ছুটোছুটি করেও কি এরা আস্ত থাকে?

মা : সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে চলে যাওয়ার পর ধূমকেতুরা ছোট হতে থাকে। সাধারণত এরা অতিকায় নোংরা তুষার-গোলক—মহাশূন্যে পাথুরে আবর্জনাকে এক জায়গায় রেখে দেয় জমাট গ্যাস আর জল দিয়ে। কিন্তু যতবার সূর্যের কাছে আসে, ততবারই রোদের আঁচে উবে যায় কিছুটা বরফ, ফুটে উড়ে যায় কিছুটা গ্যাস। ফলে, আগের চাইতে ছোট হয়ে যায় ধূমকেতু।

প্রশ্ন : ছোট হতে হতে অদৃশ্য হয়ে যায় না?

মা : উনিশ শতকে যাদের নিয়মিত দেখা যেত, তাদের অনেকেই অদৃশ্য হয়ে গেছে। সূর্য তাদের ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। অনেকে আতশবাজির খেলা দেখিয়েছে সূর্যের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

প্রশ্ন : যেমন?

মা : ১৮৪৬ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের চমকে দিয়ে আচমকা ভেঙে দু-টুকরো হয়ে গিয়েছিল Biola ধূমকেতু। ৬.৭৫ বছর অন্তর একবার করে দেখা যেত তাকে। দুটো টুকরোই শেষবারের মত ফিরে আসে ১৮৫২ সালে। প্রতি নভেম্বর এরই ভাঙা টুকরোটাকরা থেকে হাজার হাজার উল্কা খসে পড়ত পৃথিবীর আকাশে। ১৯৯০-এর দশকে এই বর্ষণ কমে আসে অনেকটা। আর একটা ধূমকেতুর মাথা ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গিয়েছিল, সূর্যের তিন লক্ষ মাইল দূরে এসেই ভাঙা টুকরোগুলো মিলিয়ে গিয়েছিল বহু দূরে।

প্রশ্ন : ধূমকেতু কি শুধুই অমঙ্গলের সূচনা ঘটায়?

মা : ১০৬৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু হেষ্টিংস যুদ্ধের আগে জ্বলন্ত চেহারা দেখিয়ে পিলে চমকে দিয়েছিল স্যাক্সনদের। নরম্যান হানাদার উইলিয়ামের কপাল খুলে দিয়েছিল কিন্তু এই একই ধূমকেতু। ১৪৫৬-তে যখন ফিরে এল হ্যালির ধূমকেতু, পোপ ক্যালিক্সাস তৃতীয় তার নাম দিলেন শয়তানের দূত। তা সত্ত্বেও কিন্তু খ্রীস্টান আর তুর্কিদের যুদ্ধে ভাগ্য ফিরে গিয়েছিল খ্রীস্টানদেরই। বেলগ্রেডের যুদ্ধে ধূমকেতুর ল্যাজ খোলা তলোয়ারের মত ডগা উঁচিয়ে ছিল তুর্কিদের দিকে, দেখে সাহস পায় খ্রীস্টানরা—জিতে যায় যুদ্ধে।

প্রশ্ন : ১৯৮৫-৮৬-তে খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে হ্যালির ধূমকেতুকে?

মা : মোটামুটি পাঁচটা মহাকাশ তদন্ত অভিযান হয়েছে। জাপান থেকে দুটো, রাশিয়া থেকে দুটো, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি থেকে একটা।

প্রশ্ন : ধূমকেতুর আবির্ভাবের সঙ্গে মহামারীর কোনো যোগসূত্র পাওয়া গেছে?

মা : স্যার ফ্রেড হয়েল এই তত্ত্বের প্রবক্তা। তিনি বলেন, ধূমকেতুই এক গ্যালাক্সি থেকে আর এক গ্যালাক্সিতে রোগ জীবাণুদের বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নীহারিকার মধ্যে যেখানে নতুন সৃষ্টি হয়েই চলেছে, অসংখ্য সজীব কোষ যেখানে নানা অঞ্চল থেকে এসে জমা হচ্ছে, সেখানকার জীবাণু-মেঘ থেকে জীবাণু ঝেঁটিয়ে আনছে মহাশূন্যের পথে। কনকনে ঠাণ্ডায় গুটির মধ্যে আস্ত থাকছে জীবাণুরা—এক্স-রে আর কসমিক-রে তাদের ক্ষতি করতে পারছে না। সূর্যের আঁচে এরা ধূমকেতুর শির থেকে শিখায় চলে এসে ছড়িয়ে পড়ছে পৃথিবীর ওজোন স্তরের ওপরে। পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে করতে অনুকূল অবস্থা পেলেই নেমে আসছে পৃথিবীর ওপর।

প্রশ্ন : তাহলে কি পৃথিবীর প্রথম সজীব কোষ ধূমকেতুই আমদানী করেছিল?

মা : পৃথিবীর জীব পৃথিবীতেই সৃষ্টি হয়েছে—এই তত্ত্ব নাকচ করে দিচ্ছেন স্যার ফ্রেড হয়েল। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তর সমর্থনে একটাও নজির নেই। কিন্তু ভুরি ভুরি নজির আছে যে, পৃথিবীর প্রথম সজীব কোষ এসেছিল পৃথিবীর বাইরে থেকে। ব্যাকটিরিয়া আর ভাইরাসের বায়োকেমিস্ট্রি উন্নত জীবের আলাদা আলাদা কোষের বায়োকেমিস্ট্রির সমান। এবং ব্যাকটিরিয়া আর ভাইরাস অনবরত আসছে পৃথিবীর বাইরে থেকে। ‘আদিম সুরুয়া থেকে প্রথম সজীব কোষ সৃষ্টির ‘বায়োকেমিক্যাল মির‍্যাকল’ -এর অলীক গল্প তথ্য দিয়ে নস্যাৎ করেছেন হয়েল সাহেব।

প্রশ্ন : মহাকাশ ভ্রমণের ধকল সইবার ক্ষমতা আছে জীবাণুদের?

মা : আন্ত নক্ষত্র ধুলো বা দানা-মেঘে লম্বা বা গোল দানাগুলো ব্যাকটিরিয়াদের আকৃতিদের সমান এবং RCC সিমেন্টের চাইতেও কঠিন ব্যাকটিরিয়াদের খোলস।

প্রশ্ন : ধূমকেতুর ওজন কত, মা?

মা : ১০,০০০,০০০,০০০ টন তো বটেই।

প্রশ্ন : ধূমকেতু থেকে জীবাণুরা পৃথিবীর বায়ুস্তর ফুঁড়ে ঢুকছে কি করে?

মা : গড়ে রোজ ১০০ টন উপাদান ধূমকেতু উৎস থেকে ঢুকছে বায়ুস্তরে। খুব ছোট দানা না পুড়ে গিয়ে আস্তে আস্তে নেমে আসে ভূপৃষ্ঠে।

প্রশ্ন : কী কী রোগের জীবাণু থাকে তাদের মধ্যে?

মা : ইনফ্লুয়েঞ্জা, হাম, প্লেগ, বসন্ত, ইংলিশ ঘেমো জ্বর এবং আরো অনেক নতুন জীবাণু। মেডিক্যাল ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, আগে অনেক রোগ ছিল না—পরে এসেছে; আবার অনেক রোগ মড়ক সৃষ্টি করে এক্কেবারে চলে গেছে। আবার কোথাও ঠিক যেন আকাশ থেকে একটা জায়গায় এসে নেমেছে—সংক্রমণের কোনো সম্ভাবনা বা সুযোগ পায়নি।

প্রশ্ন : ধূমকেতু অত মাথামোটা কেন, মা?

মা : মাথায় যে দুটো অংশ আছে: মাঝখানের ঘন, জ্বলজ্বলে কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস; তাকে ঘিরে একটা হাল্কা আবরণ বা কোমা। নিউক্লিয়াসের ব্যাস ১০০ মাইল হতে পৃথিবীর ব্যাসের সমান হয়। কোমা-র ব্যাস দশ হাজার হতে এক লক্ষ মাইল পর্যন্ত দেখা গেছে। সবচেয়ে লম্বা ল্যাজের মাপ কুড়ি কোটি মাইল পর্যন্ত পাওয়া গেছে। ১৮১১ সালের ধূমকেতুর মাথা ছিল সূর্যের চেয়েও বড়।

প্রশ্ন : সব ল্যাজওলাদের মত ধূমকেতুরও কি একটাই ল্যাজ?

মা : বেশির ভাগের তাই। কারও কারও দুটো কি বেশি থাকে। ১৭৪৪ সালের ঝকঝকে ধূমকেতুর ছিল ছ’টা।

প্রশ্ন : ল্যাজ হয় কি করে?

মা : সূর্যের তাপে নিউক্লিয়াসের বস্তু উবে যায়—সূর্যের বিকিরণের চাপে ল্যাজ হয়ে পিছনে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রশ্ন : সূর্যের কাছ থেকে পালানোর সময়ে ল্যাজ গুটিয়ে নেয়?

মা : সূর্যের দিকে ধেয়ে যাওয়ার সময়ে ল্যাজ ওড়ে পেছনে—সরে পড়ার সময়ে অনেকটা কুর্নিশ করার ধরনে মাথা সামনে রেখে ল্যাজ রাখে পেছনে—অনেক সময়ে দেখা যায় না—বেঁকে থাকে গরু-মোষের শিং-এর মত!

প্রশ্ন : ধূমকেতু জন্মায় কোথায়, কেউ কি জানে না?

মা : নানা মুনির নানা মত। কেউ বলে, গ্রহ তৈরির পর পড়ে থাকা রাবিশ, কেউ বলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহ জগৎ। সবই নিছক অনুমান। আর একজনের মতে, দশ হাজার কোটি ধূমকেতুর একটা গুদাম আছে হয়ত গ্রহদের কক্ষপথের অনেক দূরে হিমশীতল তল্লাটে যে নীহারিকা থেকে সৌরজগতের জন্ম—সেই অঞ্চলে। পাশ দিয়ে কোনো নক্ষত্র হইচই করে বেরিয়ে গেলেই তারা আড়মোড়া ভাঙে।

প্রশ্ন : ধূমকেতু ছায়া ফেলে পৃথিবীতে?

মা : ১৮৬১ সালের ধূমকেতু আকাশের তিনভাগের দু-ভাগ জুড়েছিল। এত ঝকঝকে ছিল যে সেই আলোর ছায়া পড়ত পৃথিবীতে।

প্রশ্ন : কি থাকে ধূমকেতুর মধ্যে?

মা : অনেক রকমের গ্যাস। সায়ানোজেন, কার্বন, মিথাইন, হাইড্রক্সাইল, আর নাইট্রোজেন হাইড্রাইড। আর, একজনের মতে ধূমকেতুর বেশির ভাগটাই বরফ ঠাণ্ডা উপাদান।

প্রশ্ন : সায়ানোজেন তো ভীষণ বিষ-গ্যাস?

মা : হ্যাঁ। অনেকের ধারণা ছিল ধূমকেতুর সায়ানোজেন আর কার্বন মনোক্সাইড পৃথিবীর জীবজগতের দফারফা করে ছাড়বে। ১৯১০ সালে হ্যালির ধূমকেতুর ল্যাজ পৃথিবীকে শ্মশান করবে ভেবে আঁতকে উঠেছিল জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। কিন্তু তা হয়নি। আগেও অনেক ধূমকেতু ল্যাজ ঝেঁটিয়ে গেছে পৃথিবীকে—কিস্সু হয়নি। তার কারণ, ল্যাজে অণুর সংখ্যা অসম্ভব কম।

প্রশ্ন : ধূমকেতু আতঙ্ক দূর করেছেন কে?

মা : এডমণ্ড হ্যালি। স্যার আইজাক নিউটনের বন্ধু। দার্শনিক ছিলেন, হলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ১৬৮২-তে উনিই প্রথম প্রমাণ করে দিলেন যে, ধূমকেতুরা মহাশূন্যের অকস্মাৎ দানো নয়—নিয়মিত অতিথি। তারা গ্র্যাভিটেশনের নিয়ম মেনে চলে—রুষ্ট দেবতার হুকুমে কোপ মারতে আসে না।

প্রশ্ন : ধূমকেতুরা কি গ্রহদের ন্যাওটা হয়?

মা : অল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরে আসে প্রায় তিরিশটা, তাদের টহলবাজি চলে বৃহস্পতির কক্ষপথের কাছাকাছি। দানবগ্রহের টান তো বেশি হবেই। তাই এদের বলা হয় বৃহস্পতির ধূমকেতু-ফ্যামিলি। এরকম ফ্যামিলি শনি-রও আছে, তবে সংখ্যায় কম। নেপচুনের ছোট্ট ফ্যামিলির অন্যতম হল হ্যালির ধূমকেতু।

প্রশ্ন : পাগলা ধূমকেতুরা যদি ধাঁই করে ধাক্কা মারে পৃথিবীকে?

মা : ল্যাজের ধাক্কায় কিছু হবে না—কিন্তু মাথা দিয়ে ঢুঁ মারলে পৃথিবীর বাতাস ফুঁড়ে ঢুকতে না ঢুকতেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়বে—যেমন পড়েছিল অ্যারিজোনার উল্কা-গহ্বরে।

প্রশ্ন : ধূমকেতু-গহ্বর নাম নয় কেন?

মা : পণ্ডিতরা বলেছেন, ধূমকেতুর নিউক্লিয়াসের বস্তুর বেশির ভাগই ধাক্কার চোটে উবে যায়—বেশি রাবিশ পড়ে থাকে না। বাতাসেও বিস্ফোরণ ঘটে। যেমন দেখা গেছে সাইবেরিয়ায় ১৯০৮ সালে টুঙ্গুসকা নদীর কাছে। নেমে আসা বস্তুটার শূন্যপথে বিস্ফোরণ নর্থ আমেরিকা থেকে বৃটেন পর্যন্ত থরথরিয়ে কাঁপিয়েছিল। দেড়শ মাইল দূর পর্যন্ত মানুষ টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। বিস্ফোরণের ধুলো পৃথিবীকে ঘিরে ধরেছিল—কয়েক হপ্তা পর্যন্ত সেখান থেকে রোদুর ঠিকরে গিয়ে রাতকে উজ্জ্বলতর রেখেছিল।

প্রশ্ন : সাইবেরিয়া নিয়ে এখনও দ্বন্দ্ব? সেটা যে ধূমকেতুর ধাক্কা তার প্রমাণ?

মা : মস্ত গহ্বর দেখা যায়নি, উল্কার টুকরো-টাকরাও নেই। খুব সম্ভব Encke কমেট আছড়ে পড়েছিল সেখানে।

প্রশ্ন : এরকম ঢুঁ এর আগেও কি মেরেছিল কোনো ধূমকেতু?

মা : টেকটাইট রহস্য আজও অব্যাখ্যাত। বড় মার্বেলগুলির মত গলা কাঁচের এই বলগুলো কি ধূমকেতু ধ্বংস হয়ে গিয়ে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছিল! এরকম বৃহৎ বিস্ফোরণ ঘটাতে গেলে মহাকাশের আগন্তুককে মাইল দশেক বড় হতে হবে। দশ লক্ষ বছর অন্তর এই রকম আগন্তুকের আবির্ভাব ঘটতে পারে। ডাঙায় পড়লে প্রচুর ধুলো ওড়াবে, জলে পড়লে জল ছুঁড়ে দেবে, উভয় ক্ষেত্রেই আকাশ দূষিত হবে, গোটা পৃথিবীর টেম্পারেচার পাল্টে যাবে, গাছপালা জন্তু-জানোয়ার বড় রকমের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাবে। এরকম একটা সংঘাত ঘটেছিল সাড়ে ছ’ কোটি বছর আগে—যখন পৃথিবীর বেশির ভাগ গাছপালা, জন্তু-জানোয়ার খতম হয়ে গিয়েছিল—অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল ‘ফসিল রেকর্ড’ থেকে—এদের মধ্যে ছিল অতিকায় ডাইনোসররাও। হয়তো সবটাই কাকতালীয়—সেটা তো মেনে নিতেই হয়। অর্থাৎ ধূমকেতুর ধাক্কাই যদি হয়—তাতে পৃথিবীর আখেরে ভালই হয়েছে।

প্রশ্ন : টাইকো ব্রাহি কে?

মা : ষোড়শ শতাব্দীর প্রণম্য জ্যোতির্বিজ্ঞানী। ধূমকেতুরা পৃথিবীপৃষ্ঠের জ্বলে ওঠা বাষ্প—প্রাচীন এই তত্ত্বকে নস্যাৎ করেন উনি।

প্রশ্ন : শখের ডিটেকটিভের মতন শখের ধূমকেতু শিকারী নাকি আছে?

মা : বেশির ভাগ নতুন ধূমকেতুদের আবিষ্কার করেছেন শখের ধূমকেতু-শিকারীরা। তাদের যন্ত্র বলতে ছোট্ট টেলিস্কোপ—তবে ‘ফিল্ড অফ ভিউ’ চাঁদের ব্যাসের চার পাঁচ গুণ হওয়া চাই। চ্যাম্পিয়ন শিকারীর নাম জাঁ লুই পন্স—আটাশটা ধূমকেতু আবিষ্কার করেছিলেন বাড়িতে তৈরি টেলিস্কোপ দিয়ে। ব্রুক্স করেছিলেন পঁচিশটা, বার্নার্ড বাইশটা।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%