ঘুম

অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : মাগো, আমি জেগে থাকতে পারি না কেন?

মা : ব্রেনের মধ্যে ঘুমপাড়ানি কোষগুলো জাগানি কোষদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী বলে।

প্রশ্ন : কোথায় থাকে এই কোষগুলো?

মা : ব্রেনের নিচের দিকে। হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলে। সামনের দিকে থাকে ঘুমপাড়ানি কোষের গুচ্ছ—সিকি ইঞ্চির মত জায়গা নিয়ে। ঠিক তার পেছনেই থাকে জাগানি কোষগুলো।

প্রশ্ন : এরা নিশ্চয় বিশেষ ধরনের কোষ?

মা : হ্যাঁ। ব্রেনের স্নায়ুকোষ। যাদের বলা হয় নিউরন। মাকড়শার মত দেখতে।

প্রশ্ন : ব্রেনকে চনমনে রাখে কি এরাই?

মা : ঘুমপাড়ানি-জাগানি চক্র হাত মেলায় ব্রেন-চনমনে ব্যবস্থার সঙ্গে। শেষের এই ব্যবস্থাটাও রয়েছে এক ধরনের স্নায়ুকোষদের খবরদারিতে। এরা থাকে মেরুদণ্ডের ওপর দিকে, ব্রেনের গোড়ায়। নিজেদের মধ্যে কাজের আলোড়ন ঠেলে ওপর দিকে তুলে দেয় ব্রেনের মধ্যে। দুই চক্র মিলেমিশে মগজ তরঙ্গদের ওঠায় আর নামায়।

প্রশ্ন : মগজের মধ্যে ঢেউ?

মা : হ্যাঁরে। ব্রেন ওয়েভই তো ব্রেনের ধূসর উপাদান অথাৎ কর্টেক্স থেকে ঠিকরে যাওয়া বৈদ্যুতিক শক্তির বিস্ফোরণ। সবসময়েই হাজির রয়েছে এই বিস্ফোরণ।

প্রশ্ন : কেউ দেখেছে এই ঢেউ?

মা : ঘুমোলেই ঢেউগুলোর ভোল্টজ আর বারংবারতার হক পাল্টে যায়। গভীর ঘুমে একরকম, পাতলা ঘুমে আর একরকম। যেহেতু ঢেউগুলো ঘটছে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জির কমবেশি বিস্ফোরণের জন্যে, তাদের যন্ত্রের সাহায্যে কাগজের বুকে আঁকা যায়। দেখা গেছে, ঘুমের এই ছবি বা ব্রেন ওয়েভ ছোটদেব ক্ষেত্রে আর বড়দের ক্ষেত্রে একরকম হয় না। আরও অদ্ভুত এই কারণে যে, কিছু বড়দের ঘুমের ব্রেন ওয়েভ ছোটদের ঘুমের ব্রেন ওয়েভের সমান। অথাৎ বুড়োবুড়িরাও কচিকাঁচাদের সমান হয়ে যাচ্ছে ঘুমিয়ে কাদা হলেই।

প্রশ্ন : দুম করে ঘুম আসে না কেন, মা?

মা : তিনটে ধাপ পেরোলে তবে টনটনে জাগরণ থেকে গভীর নিদ্রায় আসা যায়; ঢুলুনি, হাইতোলা, হাত-পা মেলে দেওয়া। প্রথম অবস্থায় কোনো ব্যাপারে মন সংযত করা ঝকমারি হয়ে দাঁড়ায়। ঘুম-ঘুম ভাব একই সঙ্গে গোটা শরীরটাকে অ্যাটাক করে না। প্রথমে পেশীগুলো ঝিমোবে, তারপর কানে শোনা আর চোখে দেখায় ঢিলেমি আসবে, সবশেষে চামড়ার অনুভূতি কমবে।

প্রশ্ন : কোন্ পেশি ঝিমোয় সবার আগে?

মা : পায়ের পেশি। তারপর ঝিমুনি উঠতে থাকে ওপর দিকে ধড়, বাহু, ঘাড়, সবশেষে চোয়াল আর মুখ বেয়ে। এই জন্যেই ঘুম পেলে পা যেন আর চলে না, কানে ভোঁ-ভোঁ শুনিস, চোখে ঝাপসা দেখিস, হাই তুলিস, পা ছড়িয়ে দিস, মাথা নাড়াস ডাইনে বাঁয়ে।

প্রশ্ন : ঘুম ভাঙলে কোন পেশি জাগে আগে?

মা : ঠিক উল্টো দিক দিয়ে। আগে মাথা ঘুরিয়ে ঘড়ি দেখিস, পা নামাস সবার পরে। ধড়ফড় করে উঠে খাট থেকে নামতে গেলেই পা টলে যায় এই কারণেই—পা তো তখনো জাগেনি।

প্রশ্ন : ঘুম ঠেকিয়ে রাখা যায় কীভাবে?

মা : পেশিগুলোকে শক্ত করে রাখলেই ঘুমদেবী তটস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে দূরে। দূরপাল্লার ট্রাক ড্রাইভার, এরোপ্লেনের পাইলট, আর মিলিটারি গার্ডরা ইচ্ছে করেই হাত-পায়ের মাস্‌ল্‌ শক্ত করে রাখে এই কারণেই।

প্রশ্ন : ঘুমকে ডেকে আনার মন্ত্রটা তাহলে উল্টো?

মা : পেশি ঢিলে করলেই হল। আগে করতে হয় ঘাড়, চোয়াল আর মুখের পেশিদের।

প্রশ্ন : ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি কখন, মা?

মা : ‘হিপনাগোগিক’ স্টেজে। দুটো গ্রীক শব্দ : মানে, ঘুম আনা হচ্ছে। ঘুমের এই পর্যায় থাকে মাত্র মিনিট কয়েকের জন্যে। তখন ঘুম আসে দু-ভাগ, জেগে থাকি এক ভাগ। চিন্তাকে সচেতনভাবে চালনা করতে পারি না; অদ্ভুত আইডিয়াদের ভাসাভাসাভাবে মনে থাকে; স্বপ্নের আনাগোনা চলে এই সময়ে। কখনো সেই স্বপ্নের দৃশ্যকে বড় সত্যি বলে মনে হয়। তখন মতিভ্রম ঘটে—মরীচিকা দর্শনের মত অলীককে সত্যি বলে মনে হয়।

প্রশ্ন : দিব্যদর্শন কি হিপনাগোগিক অলীক দর্শন?

মা : সম্ভবত তাই। ভূত দেখাও তাই। এই পর্যায়ের স্বপ্ন মনে থাকে। সত্যিকারের সৃষ্টিও যেন এই স্বপ্নের মধ্যে প্রকাশ পায়। বিখ্যাত গানের সুর, বেহালার সুর এই সময়ে স্রষ্টাদের মাথায় এসেছে।

প্রশ্ন : কুম্ভকর্ণের ঘুমটা তাহলে কি, মা?

মা : গভীর ঘুমের অবস্থা। হিপনাগোগিক ঘুমের পরেই কুম্ভকর্ণ ঘুম। তন্দ্রার পরেই নিদ্রা। কাড়ানাকাড়া বাজিয়ে সে ঘুম ভাঙাতে হয়। এই ঘুম চলে ঘণ্টা দুয়েক। তারপর তা পাতলা হয়ে আসে।

প্রশ্ন : ঘুমের এই সময়েই বুঝি সবাই এপাশ ওপাশ করে?

মা : হ্যাঁ। তবে সবচেয়ে কম নড়াচড়া হয় বসন্তকালে, সবচেয়ে বেশি শরৎকালে। কারণটা আজও অজানা।

প্রশ্ন : ঘুমোলে চোখের পাতা ঝাঁকুনি দিয়ে কেঁপে কেঁপে ওঠে কেন?

মা : ঘুমোনোর দু ঘন্টা পর থেকে শুরু হয় এই কাঁপুনি। স্বপ্নদর্শন ঘটে তখন। সেই সময়ে হঠাৎ ঘুম থেকে তুলে দিলে স্বপ্নের কথা বলা যায়—নইলে মনে থাকে না। একেই বলে REM ঘুম, অথাৎ Rapid Eye Movement ঘুম। পাখি, কুকুর ইত্যাদির ক্ষেত্রেও এটা দেখা গেছে। তার মানে, তারাও তখন স্বপ্ন দেখে।

প্রশ্ন : নাক ডাকে কেন?

মা : নাকের ফুটো আর মুখবিবর ঘিরে যে নরম গড়ন আছে, সেগুলো কাঁপে বলেই নাক ডাকে—বিশেষ করে মুখের তালু কাঁপে বলে। সাধারণত তখন মানুষটার মুখ খোলা থাকে—চিৎ হয়ে শুয়ে থাকে। কখনো তাও হয় না। অ্যালার্জির আক্রমণে নাক আর গলার ঝিল্লী ফুলে গেলে নাক ডাকে।

প্রশ্ন : ঘুমোলে মুখ লালচে দেখায় কেন?

মা : চামড়ার দিকে বেশি রক্ত ছুটে যায় বলে। রক্ত বেড়ে যায় মগজেও।

প্রশ্ন : রাত্রে কম খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের কি সম্পর্ক?

মা : ভেতরকার দেহ যন্ত্রগুলোয় রক্তের জোগান কমে যায় ঘুমোলে। তখন তাদের ওপর খাবার হজম করার চাপ কমিয়ে দিলে হজম ভাল হয়, ঘুমও গভীর হয়। শরীরের চাহিদা তো তখন কমে যায়।

প্রশ্ন : হঠাৎ জাগলে বুক ধড়ফড় করে কেন?

মা : নাড়ির গতি কমে যায়, রক্তের চাপ কমে যায় ঘুমের প্রথম দিকে—তারপর একটু বাড়ে—কিন্তু জেগে থাকা অবস্থায় যে রক্তের চাপ, সে রকম হয় না। ব্যতিক্রমও আছে। পেশির কাজের স্বপ্ন দেখলে রক্তচাপ স্বাভাবিকেরও বেশি হয়ে যায়। তখন আচমকা ঘুম ভাঙিয়ে দিলে ঝাঁ করে চড়ে যায় ব্লাডপ্রেসার। বুড়ো মানুষদের ক্ষেত্রে তখন হার্ট অ্যাটাক ঘটে যেতে পারে।

প্রশ্ন : না ঘুমোল কি হয়?

মা : মন জটিল কাজ করতে পারে না। মেজাজ খিটখিটে হয়। অকারণে হাসি আর কান্না আসে। খুব বেশি ঘুম কম হলে মতিভ্রম ঘটে। চোখ নাকি নানান অদ্ভুত জিনিস ‘দেখতে’ পায়, কান ‘শুনতে’ পায় অদ্ভুত আওয়াজ।

প্রশ্ন : ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠেই পড়তে বলো কেন?

মা : এক ঘুম ঘুমিয়ে উঠে মাথা তাজা থাকে বলে। উষালগ্নে খুব জটিল মানসিক কাজ সহজে আর কম সময়ে করে ফেলা যায়।

প্রশ্ন : তবে যে শুনি বছর-বছর অনেকে না ঘুমিয়ে থাকে?

মা : খবরের কাগজের এই খবরগুলোর অন্তর্তদন্ত করে দেখা গেছে, এরা প্রায় বসে বা দাঁড়িয়ে টুক করে একটু ঘুমিয়ে নেয়।

প্রশ্ন : টুক করে যে-ঘুম, তা কি লম্বা ঘুমের সমান হতে পারে?

মা : পর-পর দু-রাত জেগে থেকে মোট ষোল ঘণ্টার ঘুম হারিয়ে তারপর মাত্র এগারো ঘণ্টা ঘুমিয়ে চাঙা থাকার ঘটনা আছে। তিনদিন তিনরাত না ঘুমিয়ে নিউইয়র্ক থেকে প্যারিসে প্লেন উড়িয়ে এনে লিনডেনবার্গ মাত্র দশঘণ্টা ঘুমিয়ে চনমনে হয়ে গেছিলেন।

প্রশ্ন : ঘুমের ঘোরে অনেকে কথা বলে কেন?

মা : তাদের সোমনিলোকুইজ্ম্ আছে। এটাও একটা ঘুম-রোগ। ছাত্রছাত্রীরা এই ধরনের ঘুম-রোগে ভোগে। ঘুমপাতলা হলে, স্বপ্ন দেখলে এরকমটা হয়।

প্রশ্ন : যারা ঘুমিয়ে হাঁটে?

মা : তারা সোমনামবুলিজ্ম্ ঘুম-রোগের রুগী। মনে আবেগ জমে থাকলে এ রোগ দেখা দেয়।

প্রশ্ন : ইনসোমনিয়া কি রোগ?

মা : ঘুম না পাওয়ার রোগ। এ রোগ ঘটে আবেগ আর উদ্বেগ যখন মনের মধ্যে প্রচণ্ড উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করে—তখন। ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে এটা সাময়িক—পরীক্ষা চুকে গেলেই স্বাভাবিক। অনেকের ক্ষেত্রে এটা ক্রনিক—নিয়মিত রোগ। তখন তাদের মানসিক চিকিৎসার দরকার হয়। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি ইনসোমনিয়ায় ভোগেন।

প্রশ্ন : ‘স্লিপিং সিকনেস’ কি ধরনের রোগ, মা?

মা : কালঘুম রোগ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘আফ্রিকান ট্রিপানোলোমিয়াসিস’। মাছি বয়ে নিয়ে যায় ‘ট্রিপানোসোমা’ প্যারাসাইট অথাৎ পরজীবীদের। মাইক্রোসকোপ ছাড়া তাদের দেখা যায় না। রক্তে ঢুকে এরা মেরুমজ্জায় সেঁধিয়ে গিয়ে রুগীর আলসেমি এনে দেয়, তারপর একটানা ঘুম—সে ঘুম আর ভাঙে না। আফ্রিকান কঙ্গোয় এক সময়ে এই রোগ অনেক মানুষ মেরেছে।

প্রশ্ন : দিবানিদ্রা কি ক্ষতি করে?

মা : আধুনিকতম গবেষণায় জানা গেছে, ঠিক তার উল্টোটা করে। দিনের বেলা অল্প ঘুমিয়ে নিলে মাথা চাঙা হয়ে যায়—জটিল কাজ সহজতর হয়। নইলে বিকেল নাগাদ গা ম্যাজম্যাজ করে, মন ঢিলেঢালা হয়ে যায়। যারা টুক করে কাজের ফাঁকে একটু ঘুমিয়ে নেয়—তাদের হার্টও ভাল থাকে। গ্রীকরা দিবানিদ্রার ভক্ত। হার্টের রোগে ভোগে কম। গরমপ্রধান দেশে যারা দুপুরে ঘুমোয়, তাদের মধ্যেও কম। আমেরিকানরা দিবানিদ্রার নামে লজ্জা পায়। তাদের মধ্যে হার্টের রোগ বেশি। সামান্য দিবানিদ্রায় বিকেলের কাজে ভুল কমিয়ে দেয়, স্মৃতি তীক্ষ্ণ থাকে, মেজাজ শরিফ থাকে। স্বাস্থ্য যার ভাল, তার আয়ু তো বেশি হবেই। জীবন আর মৃত্যু, ব্যর্থতা আর সাফল্য, আলসেমি আর প্রাণচাঞ্চল্য—এ সবের হেরফের ঘটিয়ে দিতে পারে সামান্য দিবানিদ্রা।

প্রশ্ন : দিবানিদ্রার গুণ কি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত?

মা : ব্রেন-ওয়েভ টেস্ট করে দেখা গেছে, মানুষের মধ্যে সহজাত ঝোঁক রয়েছে দিনে দুবার ঘুমোনার: রাত্রে বেশি, দুপুরে কম।

প্রশ্ন : কুকুরেরও সেই ঝোঁক আছে, তাই না, মা?

মা : কুকুর শুধু দিবানিদ্রা দেয় না, তখন স্বপ্নও দেখে। নিশ্চয় মনিবের স্বপ্ন! পাখিও দেখে!

প্রশ্ন : ঘোড়ারও তাহলে ঘুম রোগ আছে?

মা : ঘোড়া আর অনেক জানোয়ার দাঁড়িয়ে ঘুমিয়ে নেয়—কিন্তু সেটা ঘুমরোগের জন্যে নয়। নানান জীবের নানান অভ্যেস আর চাহিদা। কোনো জীব সমস্ত শীতকাল ঘুমিয়ে কাটায়। দাঁড়ের পাখি নখ দিয়ে দাঁড় খামচে ধরে ঘুমোয়—যাতে ঘুমের ঘোরে পড়ে না যায়—যেমন তুই খামচে থাকিস আমার শাড়ি।

প্রশ্ন : দুপুরে ঘুমোলে যে গা-ভারি হয়, মাথা গোলমাল থাকে?

মা : সেটা তো Sleep Inertia; ঘুম-জড়ত্ব। আচমকা ঘুম ভাঙলে এরকম হয়। তখন মিনিট পনেরো ব্যয় করতে হয় স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে।

প্রশ্ন : ঘুমিয়ে ককিয়ে ওঠা, মাসল-এর খিঁচুনি—এগুলোও কি ঘুমরোগ?

মা : নিশ্চয়। উদ্বেগ থেকে ভয়ের স্বপ্ন জন্ম নিলেই ঘুমিয়ে চেঁচাস গাঁ-গাঁ করে। পেশির কাজ বেশি করলেও পা ছুঁড়িস—নয়তো শিরা পা টেনে ধরে।

প্রশ্ন : ঘুমন্ত অবস্থায় পা ছোঁড়ার জন্যে আসলে কে দায়ী, মা?

মা : হাইপোথ্যালামাসের নার্ভ সেন্টার।

প্রশ্ন : ঘুমোলে ঘামি কেন?

মা : খুব সম্ভব তখন চামড়ায় বেশি রক্ত ছুটে যায় বলে।

প্রশ্ন : মটকা মেরে পড়ে থাকলে ধরে ফেলো কি করে?

মা : ঘুমোলে শরীরের ভেতরকার টেম্পারেচার একটু কমে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাসও পাল্টে যায়। জেগে থাকলে তুই যেমন গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিস আর ফেলিস—ঘুমের সময় তা হয় না। এই দেখেই বুঝি, সত্যিই ঘুমোচ্ছিস না, মটকা মেরে আছিস।

প্রশ্ন : নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ঘোড়ায় চড়ে ঘুমোতেন কি করে?

মা : খুব সম্ভব ঘুমরোগে ভুগতেন বলে। এ রোগের নাম নারকোলেপ্সি। কাজ করতে করতে হঠাৎ মোষের ঘুম ছুটে আসে—কয়েক সেকেণ্ড থেকে বিশ মিনিট পর্যন্ত। অনেকে আঁচ করেন এ জন্যে দায়ী হাইপোথ্যালামাসের গণ্ডগোল।

প্রশ্ন : সম্মোহন, ভর হওয়া, মূর্ছা যাওয়া—এ সব কি ঘুম?

মা : সত্যিকারের ঘুম নয়। এই জন্যে সম্মোহনে পা ঝাঁকুনি দেয়, অন্যান্য রিফ্লেক্স বা প্রতিক্ষিপ্ত ক্রিয়া দেখা দেয়; শরীরের ভেতরকার অন্য পরিবর্তনগুলোও প্রকৃত ঘুমের সময় যেমন ঘটে—সম্মোহন ঘুমে সেরকম পুরোপুরি হয় না। ভর হওয়াও ঠিক সম্মোহন ঘুমের মতন। অনেকে ভর হওয়াকে বলেন, আত্ম-সম্মোহন। মূর্ছায় পেশীর আক্ষেপ বেড়ে যায়—ঘুমে সেরকমটা হয় না।

প্রশ্ন : ছ-মাস যদি ঘুমোই একটানা?

মা : কুম্ভকর্ণের মত? তাহলে তো ১৩/১৪ ফুট বেড়ে যাওয়ার কথা—যদিও তা এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা দরকার।

প্রশ্ন : কেন মা? ঘুমোলে কি লম্বা হওয়া যায়?

মা : প্রায় আট মিলিমিটার। পরের দিন তা আগের মত হয়ে যায়।

প্রশ্ন : কেন এমন হয়, মা?

মা : কার্টিলেজ ডিস্কে চাপ পড়ে না রাতে—দিনে পড়ে গ্র্যাভিটির চাপ।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%