উড়ন চাকি

অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : ‘উড়ন চাকি’ সত্যিই কি আছে, মা?

মা : উড়ন চাকি বা ফ্লাইং সসার দেখেছে লক্ষ লক্ষ লোক—কিন্তু জিনিসটা যে আসলে কি, তা জানা যায়নি। অনেকে যা দেখেছে, তা গুছিয়ে লিখে জানিয়েছে। নানা মুনির নানা মত শোনা যাচ্ছে। উল্কা, গ্রহ, নক্ষত্র, বেলুন, জলার গ্যাস, আবহাওয়ার ছটফটানি—সবই নাকি হতে পারে। চাক্ষুষ অভিজ্ঞতাগুলোকে কিন্তু তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—আজও সেগুলো হেঁয়ালিই হয়ে রয়েছে।

প্রশ্ন : শুধু দেখেছে? ছবি-টবি তোলেনি?

মা : আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলেও বুজরুক নন, এমন বহুলোক সাদাকালো এমন কি রঙিন ফটো তুলেছেন, মুভি ক্যামেরায় ছবিও উঠেছে, জমি আর এরোপ্লেনের রাডারেও উড়ন চাকি অথবা উড়ুক্কু চুরুটের নিশানাও পাওয়া গেছে। ফ্লাইং সসারকে সামনে থেকে দেখলে চাকির মত মনে হয়, পাশ থেকে দেখায় ঠিক পেটমোটা চুরুটের মত। শূন্যে এই অদ্ভুত আকাশযানকে এক জায়গায় ভাসতে দেখা গেছে, কখনো সোজা নেমে এসেছে, আবার সোজা উঠে গেছে, আচমকা এমন স্পিড বাড়িয়েছে যা মডার্ন এরোপ্লেন পারে না।

প্রশ্ন : কারও ক্ষতি করেছে?

মা : যদ্দূর জানি, এখনও করেনি। তবে হ্যাঁ, সজ্জনদের সুনামের হানি ঘটিয়েছে—উড়ন চাকি দেখেছেন বলে ফেলায় এঁদেরকে হাসি-টিটকিরি হজম করতে হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম-টিয়মগুলোকে ভেঙে দিয়েছে উড়ন চাকি, ব্রহ্মাণ্ড সম্বন্ধে আমাদের পূর্ব ধারণার ইতি ঘটিয়েছে। এগুলোকে ক্ষতি বলা যায় বইকি।

প্রশ্ন : ফ্লাইং সসার কি আগেও দেখা গেছিল?

মা : মডার্ন মানুষ ধরায় আসার অনেক আগেই আকাশের অদ্ভুত জিনিস মানুষকে হতচকিত করেছিল। চিন দেশের হুনান্ অঞ্চলের একটা দ্বীপের গ্র্যানাইট পাথরে খোদাই করা আছে চোঙার মত আকাশযানের ছবি। আজ থেকে প্রায় ৪৭,০০০ বছর আগে যখন নিয়ানডারথাল মানব ছিল পৃথিবীতে, তখনও কি আকাশের আগন্তুকরা টহল দিয়েছে পৃথিবীর ওপরে?

প্রশ্ন : লেখা-টেখা কিছু পাওয়া যায়নি?

মা : ৩,৪০০ বছর আগেকার একটা মিশরীয় প্যাপিরাস পাতায় লেখা আছে, অসংখ্য গোলমত জিনিস আকাশে দেখেছিলেন ফারাও থুটমোস তৃতীয় নিজে, তাঁর সৈন্যসামন্ত আর চাকরবাকর।

প্রশ্ন : এমন বই-এ লেখা নেই, যা হাতের কাছে আছে?

মা : বাইবেল খুলে দেখে নে। যিশুখৃষ্ট জন্মগ্রহণ করার ৫৯২ বছর আগে ধর্মগুরু ইজকিয়েল দিব্যদর্শনে দেখেছিলেন চাকাওয়ালা অদ্ভুত গাড়ি নেমে এসেছে আকাশ থেকে। ঝোড়ো বাতাস ঠেলে মেঘের মধ্যে থেকে আগুন বমি করতে করতে নেমে এসেছিল বিচিত্র সেই ‘মেশিন’। ভেতর থেকে নেমেছিল মানুষের মত চারটে জীব—প্রত্যেকের চারটে মুণ্ডু, চারটে ডানা, গা ব্রোঞ্জের মত চকচকে। বিদ্যুৎগতিতে এরা ঠিকরে যাচ্ছিল সামনের দিকে।…কারা এরা? স্পেস হেলমেট পরা মহাকাশচারী কি? নাকি ভিনগ্রহের রোবট?…সবুজ আলো বেরোচ্ছিল আকাশ-গাড়ির সারি সারি চোখ থেকে; পোর্ট হোল নয়তো? ইজকিয়েলকে এই গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময়ে যেন ‘ভূমিকম্প-নিনাদ’ শোনা গেছিল। …মানুষকে ভিন্গ্রহীরা ধরে নিয়ে গিয়ে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে—এ রকম ঘটনা ইদানীং তো প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। এও কি তাই? রোমান লেখক জলিয়াম অবসিকোয়েন্স লিখে গেছেন এমনি অনেক সৃষ্টিছাড়া উড়ন্ত চাকার কাহিনী।

প্রশ্ন : যিশুর জন্মের পরেও এসেছিল আকাশগাড়ি?

মা : যিশুর জন্মের ৩৯৩ বছর পরে জ্বলন্ত গোলককে নক্ষত্ৰবেগে আকাশে ছুটোছুটো করতে দেখা গেছে। ১৪৯৩ সালে লেখা একটা বই যত্ন করে রেখে দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের ভার্দুন মিউজিয়ামে। জ্বলন্ত ছুটন্ত গোলকের কথা তাতে আছে—ডুবুডুবু সূর্যের দিকে অগ্নিময় বস্তুটা ধেয়ে গেছিল নীল আকাশের তলায় সবুজ মাঠের ওপর দিয়ে।

প্রশ্ন : ‘ফ্লাইং সসার’ নামটা প্রথম কার মাথায় এল, জানো মা?

মা : এ-নাম আমেরিকার লোকে আবিষ্কার করার সাতশ বছর আগে এই নামের মতই একটা নাম ব্যবহার করেছিল জাপানীরা ১১৮০ সালের ২৭ অক্টোবর—একটা ‘উড়ন্ত মাটির জালা’ দেখে। ১২৩৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাত্রে একজন সেনাপতি আকাশ বিস্ময় স্বচক্ষে দেখে বৈজ্ঞানিক তদন্তের আদেশ দিয়েছিলেন। সৈন্যসামন্তরা এসে বললে—কিস্সু না জেনারেল—বাতাসের জন্যে তারা দুলছে। …তারপরেও কিন্তু ফ্লাইং সসার নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়েছে জাপানীদের। ১৩৬১ সালে বিশ ফুট ব্যাসের একটা ড্রামের মত জিনিস সমুদ্র ঠেলে উঠে এসেছিল পশ্চিম জাপানে।

প্রশ্ন : তখন বুঝি ফ্লাইং সসাররা ইউরোপে টহল দেয়নি?

মা : দিয়েছিল বইকি। ১৮০০ শতাব্দী পর্যন্ত বেশ কিছু ঘটনা তোর এই প্রশ্নের জবাবে বলছি। ১৩ শতাব্দীতে ফ্লাইং সসার দেখা গেছে ইংলণ্ড আর ফ্রান্সে। ইংলণ্ডের মিঃ ক্রাকার দিনের আলোয় ‘ফ্লাইং সসার’ দেখেছিলেন ১৭৩৩ সালের ৮ ডিসেম্বর। লণ্ডনের রয়াল সোসাইটির একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি নিজের চোখে অতি অদ্ভুত একটা গগন প্রহেলিকা দেখেছিলেন ১৭৪২ সালের ১৬ ডিসেম্বর। সুইজারল্যাণ্ডের এক শখের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মঁসিয়ে রোস্টন টেলিস্কোপে ফ্লাইং সসার দেখে ক্যামেরায় তার ছবি নিয়ে প্যারিসের রয়াল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। খুব সম্ভব ফ্লাইং সসারের ছবি তোলা হল সেই প্রথম—কিন্তু দুঃখের বিষয়, সে ছবি এখন নেই।

প্রশ্ন : তাহলে বলতেই হয় সব গুলগাপ্পা?

মা : কথার কি ছিরি! উনিশ শতাব্দী থেকে ফ্লাইং সসারের খবর-টবরগুলো নিয়ে ওদেশের বিজ্ঞানের পত্রপত্রিকা আর অসংখ্য বই তাহলে এত মাতামাতি করছে কেন? স্রেফ গালগল্পই যদি হয় তো এর পেছনে এত সময় আর পয়সা খরচা করছে কেন? কত আর বলব! ১৮০০ থেকে ১৯৪৮-এর মধ্যে ফ্লাইং সসার নিয়ে রীতিমত হইচই চলেছে বিলেত আমেরিকায়। ১৮৭৪ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকোর আকাশে ৪২৫ ফুট লম্বা একটা বিরাট ট্রামপেট দেখা গেছিল বেশ কয়েক মিনিট ধরে। ১৯০৬ সালে ব্রিটিশ স্টীমারের নাবিকরা দেখেছিল একটা বিশাল আলোকময় ঘুরন্ত চাকা—জাহাজের চাইতেও বড়—ভাসছিল জলের ওপরে শূন্যে। ১৮৮৩ সালের ১২ অগাস্ট মেক্সিকোর মানমন্দির থেকে সূর্যের বুকের ওপর দিয়ে প্রথম দিন ২৮৩টা, দ্বিতীয় দিন ১১৬টা অদ্ভুত আকৃতিকে ভেসে যেতে দেখেছিলেন ডিরেক্টর মশায় নিজে। ফটোও তুলেছিলেন। অবিশ্বাসীরা বলেছিল—ধুস্! পোকা, পাখি অথবা ধুলো দেখেছেন। ডিরেক্টর কিন্তু দিব্যি গেলে বলেছিলেন—মোটেই না। ওরা পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল—চাঁদ ছিল আরও দূরে।

প্রশ্ন : খবরের কাগজে কি বেরিয়েছিল?

মা : ক্যালিফোর্নিয়ায় যখন ঝাঁকে ঝাঁকে ফ্লাইং সসার দেখা দিতে শুরু করে ১৮০০ শতকে, তখন সানফ্রান্সিসকো নিউজপেপারে ১৮৯৬ সালের ২২ নভেম্বর ছবি দিয়ে ছাপা হয়েছিল যে-খবর—সে-রকম গুরুত্ব এ-দেশের কোন কাগজ বোধহয় ভাবতেও পারে না। ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৭-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার প্রায় সব কাগজেই ধুন্ধুমার কাণ্ড জুড়েছিল ফ্লাইং সসার নিয়ে। ওরা বলত Unidentified Flying Object, সংক্ষেপে— UFO—অজানা উড়ুক্কু বস্তু। ১৮৯৭-এর ২ এপ্রিল ‘শিকাগো রেকর্ড পত্রিকায় খবর বেরোলো, ক্যানসাস সিটির দশ হাজার মানুষ একটা বিশাল কালো আকাশ জাহাজকে দেখেছে শহরের মাথায়। উল্কাগতিতে ধেয়ে গিয়ে মাঝে মাঝে এক নাগাড়ে মিনিট দশেক ভেসে থেকেছে আগন্তুক উড়ন্ত বিস্ময় আর সবুজ-নীল-সাদা আলোর ঝলক ছেড়ে গেছে। জিনিসটা দেখতে ২৫-৩০ ফুট লম্বা একটা রেড ইণ্ডিয়ান ক্যানো নৌকার মত—এমন কথাও শোনা গেছে। ল্যাজ, ডানা আর প্রপেলারের হরেক বর্ণনা শোনা গেলেও জিনিসটা যে চুরুটের মত—এটা কিন্তু বলেছে সবাই। রোনাল্ড স্টোরি-র লেখা UFO এনসাইক্লোপিডিয়া খুলে দেখে নিস ৮-এর পৃষ্ঠায়।

প্রশ্ন : উফো নিয়ে বিশ্বকোষ? সবই তো চোখের ধাঁধা, মা!

মা : অবিশ্বাস দিয়ে যাচাই করে নেওয়া ভাল। তোর মত অবিশ্বাসী তখনও ছিল। ১৯০৯ সালে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত একটানা দেড়মাস নিউজিল্যাণ্ডের নর্থ আয়র্ল্যাণ্ড আর সাউথ আয়র্ল্যাণ্ডের মাথায় উড়ন্ত প্রহেলিকাদের দেখেছে কয়েক-শ মানুষ দিনের আলোয়, রাতের অন্ধকারে। চুরুট চেহারা নিয়ে দেখা দিয়েছিল তারা। বিশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে উড়োজাহাজ নিয়ে গবেষণা চলছিল। ফ্রান্সে বেলুন নিয়ে টেস্ট করা হচ্ছিল—জার্মানীতে জেপেলিন তখনও প্রাথমিক অবস্থায়। অতদূর থেকে বেলুন বা জেপেলিন নিউজিল্যাণ্ডে আসবে কি করে?

প্রশ্ন : নিউজিল্যাণ্ড পর্যন্ত এসেই বুঝি উফো-দের দম ফুরিয়ে গেছিল?

মা : ফচকেমি হচ্ছে! দেবিকারানীর স্বামী নিকোলাস রোয়েরিখের নাম নিশ্চয় শুনেছিস। শিল্পী এবং অভিযাত্রী। রাশিয়ান। মাথায় বিশাল টাক, গালে লম্বা দাড়ি। ওঁর লেখা ‘আলতাই-হিমালয়: এ ট্র্যাভেল ডাইরী’ বইটার ৩৬১ পৃষ্ঠায় দেখবি উনি লিখেছেন—‘৫ অগাস্ট, ১৯২৬। উত্তর চীন। অস্বাভাবিক বিশাল কালো ঈগল পাখিটার অনেক ওপরে রোদ্দুরে চকচকে একটা বিরাট ডিমের মত জিনিস দেখতে দেখতে মিলিয়ে গেল ঘন নীল আকাশের বুকে। দূরবীন এঁটে স্পষ্ট দেখেছি তার ডিমের মত চেহারা!’

প্রশ্ন : রকেট-ভূত নয় তো ফ্লাইং সসারগুলো?

মা : ভাল বলেছিস। রকেট-ভূত নামই দেওয়া হয়েছিল এদের ইউরোপে ১৯৪৬ সালে। ২৬ ফেব্রুয়ারি হেলসিঙ্কি রেডিওর ঘোষণা শুনে চক্ষুস্থির হয়ে গেছিল শ্রোতাদের। সগর্জনে আগুনের গোলা ছুটছে, দাঁড়াচ্ছে, মোড় নিচ্ছে, অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। অনেকরকম বর্ণনাও শোনা গেল: ফুটবলের মত, সাবানের ফেনার বুদবুদের মত, চুরুটের মত, ইত্যাদি। জুলাই মাসে এরা সুইডেনে হানা দিতেই খবরের কাগজগুলো বলে উঠল—এসে গেছে রকেট-ভূত! আরও দক্ষিণে সরতে সরতে ভূতগুলো তাঞ্জিয়ার, ইটালি, গ্রীসের মাথা টপকে সেপ্টেম্বরে দেখা দিল ইণ্ডিয়ায়। সুইডেন সরকার রেগেমেগে বললে, এ নিশ্চয় সোভিয়েতের নষ্টামি। ১৯৪৮ সালে লণ্ডনের ‘টাইম্স’ পত্রিকা জানাল, রকেট-ভূতরা আবার হানা দিচ্ছে স্ক্যাণ্ডিনেভিয়ার আকাশে। আজও এই রহস্যের কিনারা হয়নি।

প্রশ্ন : দেশের সরকারগুলো তখন কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল?

মা : ১৯৪৭-এর ২৪ জুন আমেরিকার কেনেথ আর্নল্ড এরোপ্লেন থেকে নটা চকচকে উড়ন চাকি দেখে সেই প্রথম ‘ফ্লাইং সসার’ বলে তাদের নামকরণ করেন। আমেরিকান বিমান বাহিনীর টনক নড়ে তারপর। তদন্ত করার জন্যে গঠিত হল প্রজেক্ট সাইন, প্রজেক্ট গ্রাজ আর প্রজেক্ট ব্লু বুক। ১৮ বছরের প্রচেষ্টায় ১২,৬০০ কেস নথিভুক্ত করে দেখা গেল ৭০১টা ঘটনার কারণ সত্যিই ‘অজ্ঞাত’।

প্রশ্ন : ব্যস? আর তদন্ত হল না?

মা : হয়েছে। ১৯৬৬-তে আমেরিকান এয়ারফোর্স ডক্টর কনডনের অধীনে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিককে দিয়ে তদন্ত করিয়েছিল। কনডন শেষে বললেন, মোট ২১ বছর ধরে UFO পর্যবেক্ষণ করেও বিজ্ঞান কোনো জ্ঞান অর্জন করতে পারল না। তারপরেও প্রাইভেট তদন্তকারীরা অনেক সমিতি গঠন করেছেন। ৭০,০০০ ঘটনার কমপিউটার লিস্ট বানিয়েছেন। এক পঞ্চমাংশ কেস এখনও অব্যাখ্যাত। এ যুগের সবচেয়ে বড় প্রহেলিকার মীমাংসা আর কিছুতেই হচ্ছে না। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ফ্লাইং সসার দেখেছিলেন এবং বিশ্বাস করতেন—এরা আছে! অনেক তদন্ত হয়েছে। সে কাহিনী আর একদিন বলব।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%