অদ্রীশ বর্ধন

প্রশ্ন : ‘কসমেটিকস্’ শব্দটা কোখেকে এল মা?
মা : মেয়েদের রূপচর্চায় গন্ধদ্রব্যের ব্যাপারে খুব নাম করেছিলেন গ্রীক গন্ধবিজ্ঞানী ‘কসমাস্’। ‘কসমেটিকস্’ তাঁর নাম থেকে এসেছে, না গ্রীক শব্দ ‘কসমেটিকস্’ থেকে এসেছে—তা ভাবার বিষয়।
প্রশ্ন : গন্ধদ্রব্য কি আদিম যুগেও ছিল?
মা : আদিম যুগে গন্ধদ্রব্য বলতে সুগন্ধিত ফুল ছাড়া কিছু ছিল না। ফুল দিয়েই সাজগোজ করত মেয়েরা। এ রেওয়াজ এখনো আছে আদিবাসীদের মধ্যে।
প্রশ্ন : সাজগোজে গন্ধদ্রব্যের ব্যবহার শুরু হয় কবে?
মা : সভ্যতার সূচনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বলা যায়। পিরামিডে শুনো সুগন্ধ-দ্রব্য পাওয়া গেছে। খ্রিস্টপূর্ব ৭৫০০ সালে নীল উপত্যকার মিশরীয় রাখাল আর শিকারীরা রেড়ির তেল গায়ে মাখত রোদের আঁচ থেকে চামড়া বাঁচানোর জন্যে। খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ সালে মিশর আর মেসোপটেমিয়ার মেয়েরা রাঙা চরণ আর রাঙা হাতের জন্য শরণ নিত হেনা-র রঞ্জকপদার্থের। Kohl দিয়ে চোখের পাতায় ছায়া রচনা করত যাতে উটকো বিপদ ধারেকাছে ঘেঁষতে না পারে। Kohl তৈরি হয় ধূসর খনিজ সিসে, কালো অ্যান্টিমনি আর উজ্জ্বল সবুজ ম্যালাকাইট থেকে। আজকের দিনে একে Eye Shadow বলা হয়। এই মিশরেরই রানী নেফারতিতি চুনি রঙে রাঙিয়ে নিতেন হাত আর পায়ের নখ—রাজপরিবার ছাড়া সাধারণের কাছে নিষিদ্ধ ছিল সেই রঙ। মিশরের আর এক রানী ক্লিওপেট্রা গাল রাঙাতেন হলদেটে লাল প্রাকৃতিক ফেরিক অক্সাইড দিয়ে; চোখের ওপরের পাতায় দিতেন নীলচে-কালো রঙ, নিচের পাতায় সবুজ রঙ। সিসের ব্যবহারে গ্রীক মেয়েরাও পেছিয়ে থাকেনি। সিসের গুড়ো দিয়ে চামড়াকে করত সাদা—চুলকে কালো। এ-সবই খ্রিস্টপূর্ব সময়ের কথা।
প্রশ্ন : ‘কসমেটিকস্’ সম্পর্কে প্রথম বই কে লিখেছিলেন?
মা : তাঁর নাম ওভিড—রোমের কবি। লিখেছিলেন ১০ খ্রিস্টাব্দে। চামড়া মসৃণ রাখার জন্যে সুপারিশ করেছিলেন যবের ময়দা, ডিম আর নারসিসাস ফুলের কুঁড়ি। একসঙ্গে মিশিয়ে চটকে নিয়ে গায়ে মাখতে হত। রোমের সম্রাটও পেছিয়ে থাকেননি রূপচর্চায়।
প্রশ্ন : রূপচর্চায় রোম সম্রাট? তিনি কে, মা?
মা : নিরো। সম্রাজ্ঞীকেও শিখিয়েছিলেন কীভাবে সিসে আর খড়ির গুঁড়ো দিয়ে মুখ সাদা করতে হয়, কীভাবে গাল রাঙাতে হয়, কোল দিয়ে ছায়াময় চক্ষু রচনা করতে হয়। সালটা মনে রাখিস—৬৫ খ্রিস্টাব্দ।
প্রশ্ন : কোল্ড ক্রিমের ফুরমুলা জানতেন না?
মা : ২০০ খ্রিস্টাব্দে গ্রীক চিকিৎসক গ্যালেন জল, মৌ-মোম আর অলিভ তেল মিশিয়ে বানিয়েছিলেন ক্রিম। মুখে ঘষলে জল উবে যেত, মুখ ঠাণ্ডা হত। আজকের কোল্ড ক্রিম বলতে গেলে একই সংমিশ্রণ। রানী এলিজাবেথের রূপচর্চায় ছিল বড় স্বার্থপরতা।
প্রশ্ন : রূপচর্চায় স্বার্থপর ছিলেন রানী এলিজাবেথ?
মা : সাহেবদের দেশে তিনিই প্রথম রানী যিনি টলটলে পরিষ্কার মুকুরে মুখ দেখবার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ দিতে চাননি কাউকে। বয়স বেড়েছে, রাজসভায় নিষিদ্ধ হয়েছে মুকুর। ইনিও চুল লাল করতেন, মুখ সাদা করতেন, ভুরুর লোম তুলে ফেলতেন। একশ বছর পরে কিন্তু এক অদ্ভুত রূপচর্চা শুরু হয়েছিল ইংল্যাণ্ডের ঘরে ঘরে।
প্রশ্ন : অদ্ভুত রূপচর্চা?
মা : মেয়েরা মুখে রঙ মেখে তার ওপর কালো তারা, আধখানা চাঁদ আর সূর্য আঁকতো। নিউকাস্ল্-এর ডাচেস্ মুখের ব্রণ আর ধ্যাবড়া দাগ ঢাকবার জন্যে এই ফ্যাশনটা চালু করেছিলেন। চল্লিশ বছর পরে দেখা গেল-পুরুষরাও পেছিয়ে নেই প্রসাধনের ব্যাপারে। তৈরি হল পাউডার রুম যত্রতত্র।
প্রশ্ন : পাউডার রুম?
মা : শৌখিন ব্রিটিশ মেয়ে পুরুষরা এ ঘরে ঢুকতেন চুল, পরচুলা আর মুখ পাউডারে প্রলিপ্ত করার জন্যে। তারপর এমন একটা সময় এল যখন ব্রিটেনে প্রসাধন ব্যাপারটাই সেকেলে হয়ে গেল। তখন রানী ভিক্টোরিয়ার যুগ। সাদাসিধে থাকাটাই ছিল ভিক্টোরীয় আদর্শ। মজার ব্যাপারটা ঘটল আমেরিকায় ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে। শেক্সপিয়রের বই বেচতে গিয়ে এক ভদ্রলোক সুগন্ধি কারখানা খুলে বসলেন।
প্রশ্ন : শেক্সপিয়র ফেলে সুগন্ধি?
মা : ভদ্রলোকের নাম ডেভিড ম্যাককোনেল। বাড়ি-বাড়ি যেতেন শেক্সপিয়রের রচনাসংগ্রহ বেচতে—ফ্রি দিতেন এক শিশি সেন্ট। কদর বাড়ল কিন্তু সেন্টের—কবির নয়। ধুরন্ধর ম্যাককোনেল অমনি কসমেটিকস্ ব্যবসায়ে নেমে পড়লেন, বাড়ির বউদের দিয়েই বাড়ি-বাড়ি কসমেটিকস্ বিক্রি চালিয়ে গেলেন। তিপ্পান্ন বছর পরে তাঁর ‘ক্যালিফোর্নিয়ান পারফিউম কোম্পানি’র নাম পাল্টে দিলেন নতুন নাম—অ্যাভন। আজও বিখ্যাত এই কোম্পানি—যার শুরু শেক্সপিয়রের বই বেচতে গিয়ে!
প্রশ্ন : নেল-পালিশ এল কার মাথায়?
মা : আমেরিকানদের মাথায়—১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে। তারপরেই শুরু হয়ে গেল উজ্জ্বল লাল লিপস্টিক-এর দেশজোড়া উৎপাদন। অর্থাৎ নখের পরেই ঠোঁট। প্রসাধন-পাগলামি উদ্দাম হয়ে উঠল। কিন্তু ১৯২০-তে হলিউডে সিনেমা যুগ এসে যেতেই, রূপপালী পর্দায় মেকআপ ম্যানদের সৃষ্টি অপরূপাদের দেখেই খিলেন-ভুরু আর ধনুক-ঠোঁট নিয়ে মেতে উঠল মেমসাহেবরা—উজ্জ্বল রঙের চাহিদাও বাড়ল তখন।
প্রশ্ন : জামাকাপড়ের বাবুয়ানিতে কে সবচেয়ে বেহিসেবী, মা?
মা : একজন আরব রাজকুমারী। প্যারিসের রিজ-এ হয়েছিল একটা ফ্যাশন-শো ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে। সিয়াপারেল্লি নামে এক ওস্তাগর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মসলিন গাউন বানিয়ে ইস্পাতের বর্মমোড়া গাড়িতে করে নিয়ে গেলেন সেখানে। দাম তার দশ লক্ষ পাউণ্ড। ৫১৬টা হিরে বসানো গাউন। মানানসই দামি জুতো পাওয়া গেল না বলে মডেল মেয়েটিকে খালি পায়েই হাঁটতে হয়েছিল। জমকালো সেই গাউন কিনে নিয়ে যান যে আরব রাজকুমারী—এখনও তিনিই নাকি তাঁর মালিক—বলেছেন সিয়াপারেল্লি।
প্রশ্ন : মানানসই জুতোর অভাবে খালি পায়ে হাঁটতে হল মডেলকে?
মা : বছর তিনেক পরে অবশ্য অভাব মিটিয়ে দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের ডিজাইনার ইয়ানতুর্নি। তিন বছর একনাগাড়ে মেহনত করে বানিয়েছিলেন পালক হাল্কা একজোড়া জুতো—তাও এক হাজার ডলার অগ্রিম নেওয়ার পর। খদ্দেরের পায়ের প্লাস্টার ছাঁচ তুলে চামড়ার ভাঁজ আর রেখার সঙ্গে মিলিয়ে বানিয়েছিলেন বিচিত্র সেই পাদুকা। অস্ট্রিচ-পালকের চাইতে বেশি ভারি হয়নি নাকি সেই পাদশ্রী।
প্রশ্ন : শুধু মেয়েদের জামাজুতোর কথা বলছ কেন?
মা : বটে! বটে! আজকে যে ট্রাউজার্স বিপ্লব দেখছিস, এর শুরু উনিশ শতকের গোড়ায়। হাঁটু-কামড়ে ধরা চুড়িদার পায়জামার মত পরিধেয়র বদলে ফ্যাশন-সচেতন পুরুষরা ট্রাউজার্স পরতে শুরু করলেন। রেগে গেলেন রাশিয়ার জার আলেকজাণ্ডার। ট্রাউজার্সকে তিনি নাশকতামূলক মনে করেছিলেন—খুব সম্ভব ফরাসি বিপ্লবের চরমপন্থীরা এই পোশাকে অভ্যস্ত ছিল বলে। ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে বড় বর্বর হুকুম দিলেন আলেকজাণ্ডার—সৈন্যরা যেন সমস্ত গাড়ি দাঁড় করিয়ে দেখে নেয় ভেতরে পুরুষ আরোহীরা ট্রাউজার্স পরে বসে আছে কিনা—দেখলেই ঘ্যাঁচ করে কেটে দেওয়া হোক হাঁটু থেকে পা-দুখানা। ফলে, ঘাঘচ পা বাদ হয়ে গেছিল বিস্তর ট্রাউজার্স-প্রিয় পুরুষের। আর শুনবি?
প্রশ্ন : না। কপাল ভাল মেয়েদের। ফ্যাশনের হিড়িকে পা বাদ যায়নি। তাই না মা?
মা : কিন্তু ভোগান্তি কম হয়নি। ভিক্টোরীয় যুগের মেয়েদের পা দেখানো বারণ ছিল। লোকে ছি ছি করত। আমাদের যেমন ঘোমটা আর বোরখা, ওদের তেমনি পা-ঢাকা টাইট মোজা, আজও ফ্যাশনদুরস্ত মেয়েরা ওইভাবে পা না ঢেকে পথে বেরোয় না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকার মোজা পরে কাপড় নষ্ট করতে বারণ করা সত্ত্বেও নিষেধের তোয়াক্কা রাখেনি বীরাঙ্গনারা। মোজার কাপড় বাজার থেকে উড়ে যাওয়ার পরেও পা দেখানোয় নারাজ মেয়েরা বিশেষ একধরনের মেক আপ লাগিয়েছিল পায়ে। মোজা না পরার গোঁ ধরে কিন্তু বিখ্যাত হয়ে গেছেন তিন অভিনেত্রী।
প্রশ্ন : অভিনেত্রীদের গোঁ? কারা, মা?
মা : প্রথম গোঁ দেখান পর্তুগাল রাজার সহচরী এবং অভিনেত্রী গ্যাবি ডেসলিস্। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে মোজা বর্জন করলেন—জার্মানির আত্মসমর্পণ না ঘটা পর্যন্ত আর মোজা স্পর্শ করবেন না। ১৯২০-তে হলিউডের পোলা নেগ্রি দেখালেন তাঁর নগ্ন পাদপদ্ম; ১৯২৬-এ জোয়ান ক্রফোর্ড সন্ধ্যায় মোজাপরা ছেড়ে দিলেন।
প্রশ্ন : মোজা না পরার জন্যে হৈ চৈ হয়নি?
মা : দারুণ রকম হয়েছিল। বিস্তর কথার ঝড়ের পর ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘স্কেচ’ লিখেছেন, ‘মোজা না পরা সুরুচির পরিচয় নয়, চামড়াকেও কোমল রাখে না।’ ১৯৬০-এ মেলবোর্নের মেট্রন-রা ক্ষেপে গিয়েছিল মডেল-মেয়ে শিরম্পটন টুপি, দস্তানা মোজা না পরে সম্মানীয় অতিথির আমন্ত্রণ রাখতে এসেছিল বলে। তারপরেই ১৯৮৩-তে ওয়েলস্-এর রাজকুমারী তাঁর শুভ্র সুন্দর দুই পায়ে শুধু সোনালি প্রলেপ লাগিয়ে, গেলেন একটা সরকারি খানাপিনার আসরে। রাজপরিবারের এহেন অনুমোদন পাওয়ার পর বিষয়টা নিয়ে আর কেউ মুখ খোলেনি।
প্রশ্ন : গোঁফ রাখার জন্যে কেউ গজরায়নি?
মা : ভিক্টোরীয় পুরুষদেরও নাজেহাল হতে হয়েছিল বৈকি। ১৮৬২-তে হেনরি বাড নামে এক টাকার কুমির উইল করে গিয়েছিলেন, তাঁর দুই ছেলে গোঁফ না রাখলে তবেই সম্পত্তির মালিক হতে পারবে। তার সাত বছর পরেই একজন ব্রিটিশ খাট-নির্মাতা মৃত্যুকালে প্রতি কর্মচারিকে মাথাপিছু দশ পাউণ্ড দিয়ে গেলেন—যদি তাদের গোঁফ না থাকে। ১৯০৪-এ লণ্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিটের কাপড়ের দোকানদাররা (গোঁফওলা অথবা মাঝে সিঁথিকাটা) পুরুষদের চাকরি দিতে চাননি। ব্যাঙ্ক অফ ইংল্যাণ্ডের অভিনব ফতোয়ার মধ্যে ছিল মিহি চালাকি: During working hours গোঁফ চলবে না!
প্রশ্ন : আজকাল তো চোখের পাতার লোমও নকল! বুদ্ধিটা কার?
মা : একজন আমেরিকান ফিল্ম ডিরেক্টরের। তাঁর নাম ডি ডব্লিউ গ্রিফিথ। ১৯১৬-তে ‘ইনটলারান্স’ ছবি তৈরি করার সময়ে অভিনেত্রী সীনা ওয়েন-এর চোখের পাতায় এমন নকল লোম লাগিয়েছিলেন যা আছড়ে আছড়ে পড়ত দুই গালে—বেশ বড় লাগত চোখদুটো। খুব মিহি চুল, মানুষেরই চুল, তার চোখের পাতায় সেঁটে দিয়েছিল একজন পরচুলা নিমার্তা। ‘ইনটলারান্স’ ছবি সমালোচকদের কাছে কদর পেলেও পয়সা পায়নি—দেনায় ডুবে যেতেন না গ্রিফিথ যদি বুদ্ধি করে পেটেন্ট নিয়ে রাখতেন নকল চক্ষুপক্ষের!
প্রশ্ন : ‘জীন্স্’-এর শুরু হল কিভাবে?
মা : ১৮৫০-এ লেভী স্ট্রস নামে একজন জাহাজের পাল নির্মাতার আবিষ্কার বলে মনে করা হয়। ইনি থাকতেন সানফ্রানসিসকো-তে। জীন্স্ নামটা এসেছে gene (অথবা jene) fustion থেকে—এর মানে, ভারি টুইল্ড্ সুতির কাপড়, প্রথমে তৈরি হয় ইটালির জেনোয়া-তে। ডেনিম নামটা এসেছে ফরাসী শব্দগুচ্ছ Serge de Nimes (Serge of Nimes) থেকে।
প্রশ্ন : টুঈড?
মা : দুটো সরল ভুলের জন্যে স্কটল্যাণ্ডের এই কাপড়ের নাম দাঁড়িয়েছে টুঈড। একজন স্কচ তাঁতি কোনাকুনিভাবে বোনা কাপড়—যার নাম twilled—পাঠিয়েছিল লণ্ডনের ব্যবসায়ী জেমস্ লকি-কে ১৮৩২ সালে। স্কটল্যাণ্ডি উচ্চারণে twilled-কে লিখেছিল tweeled। লকি পড়লেন tweed। শেষের এই নামটাই দাঁড়িয়ে গেল শেষ পর্যন্ত।
প্রশ্ন : ওরস্টেড?
মা : উলের সুতো থেকে প্রথমে তৈরি হয়েছিল নরফোকের ইংলিশ গ্রাম ওরস্টেড-এ। কিন্তু কোন্ সালে তা কেউ জানে না।
প্রশ্ন : পপলিন?
মা : গোড়ায় ছিল কর্ডেড কাপড়—সিল্ক আর ওরস্টেড দু-রকম সুতো থাকত তাঁতির মাকুর টানা আর পোড়েনে। প্রথম তৈরি হয় ফ্রান্সে ১৭ শতকের মাঝামাঝি সময়ে অ্যাভিগনন শহরে যাকে বলা হত papa lino অথবা papal city—পপলিন নামটা এসেছে সেই থেকে। সিল্ক বিদায় নিয়েছে অনেকদিন—এখনকার পপলিনে থাকে কটন আর ওরস্টেড।
প্রশ্ন : টুপি নিয়েও কি এমনি কাহিনী আছে?
মা : ইংরেজ ভূস্বামী উইলিয়াম কোক অডার দিয়ে প্রথম বানিয়েছিলেন bowler টুপি শিকারে বেরিয়ে ডালপাতার চোট থেকে মাথা বাঁচানোর জন্য। দোকানে দাঁড়িয়ে দুবার নেচেছিলেন প্রথম তৈরি টুপির ওপর। বাহাদুর টুপি তাতেও বেঁকেচুরে গেল না দেখে কিনে নিলেন বারো শিলিং দিয়ে। যেহেতু টুপি বানিয়েছিলেন Thomas Bowler নামে এক ভদ্রলোক, টুপির নামও হয়ে গেল Bowler; ১৯৫০ পর্যন্ত বৃটিশ অফিসকর্মীরা বড় ভক্ত ছিল এই ত্যাঁদোড় টুপির। তারপর একই ডিজাইনের টুপি ‘ডার্বি’ টুপি হয়ে নাম কিনল আমেরিকায়—লর্ড ডার্বি তা মাথায় পড়ে ঘুরে বেড়াতেন বলে।
প্রশ্ন : ফেজ টুপির জন্ম কোথায়?
মা : রেশমি ঝাপ্পা বা টাসেল ঝোলানো লাল টুপি ‘ফেজ’-এর গড়ন মাথা চ্যাপ্টা শঙ্কু বা মোচার মতন। মধ্য প্রাচ্যের মুসলমানদের প্রতীক ছিল এই টুপি। তুরস্কে কিন্তু ফেজ নিষিদ্ধ হয়েছিল মুস্তাফা কামাল-এর আদেশে। ১৯২২-এ সুলতানদের হটিয়ে তিনি পশ্চিমী সভ্যতার জোয়ার এনেছিলেন দেশময়।
প্রশ্ন : অ্যাকটরদের টুপি কখনো ফ্যাশন হয়ে দাঁড়ায়নি?
মা : Trilby নাটকের মঞ্চ অভিনয়ে বোহেমিয়ান চরিত্ররা মাথায় দিতেন নরম ফেল্ট হ্যাট—কিনারা চওড়া—চুড়ো তোবড়ানো। টুপির এই স্টাইলের নাম হয়ে গেল trilby—নাটকের হিরোইনের নাম ছিল তাই। জাদুকরের সম্মোহনে গান গেয়ে দেশকে নাচিয়ে বেড়াত মিষ্টি মেয়েটি। আবার পুরুষ টুপি দেখে মেয়েদের অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কাহিনীও আছে।
প্রশ্ন : টুপি দেখে অজ্ঞান?
মা : এ ঘটনা ঘটেছিল লণ্ডনে। জেমস্ হিদারিঙটন নামে এক শৌখিন ভদ্রলোক চকচকে, লম্বা ‘টপার’ হাট মাথায় দিয়ে পথে বেরিয়েছিলেন। ভিড়ের ধাক্কায় জ্ঞান হারিয়েছিল মেয়েরা, হাত ভেঙে গেছিল একটি ছেলের, গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আজব টুপিধারী ভদ্রলোক এবং শান্তিভঙ্গের জন্যে জরিমানা দিয়েছিলেন ৫০ পাউণ্ড। কিন্তু এই টুপিই সম্রান্ত মহলে জায়গা করে নিয়েছে তারপরেই—পরেছেন রাজদূতেরাও।

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন