সপ্তদশ অধ্যায়

ইন্দ্রাণী তুলি

শাড়ি পরতে ইচ্ছে হলো উর্মিলের। শাড়ি বিশেষ নেই তার কাছে, কিন্তু পরতে খুব ভালোবাসে সে। টেন্ডার বাড-এ থাকতে তো শাড়ি পরার কোনো উপলক্ষ্য’ই আসেনি কখনো, হিমাচলে এমনিই শাড়ির চল কম, তার ওপরে সে ছিল এক ক্যাথলিক অর্ফ্যানেজ-এ… মাদারদের মতোই বোর্ডারদেরও ইউনিফর্ম ছিল সেখানে।

আস্থার সঙ্গে গিয়ে দু'একটা শাড়ি কিনেছিল উর্মিল।

উবার ডেকে, গা এলিয়ে দিলো সে ঠান্ডা গাড়ির আরামদায়ক সীট-এ। অনেক দূর যেতে হবে… লোধী গার্ডেন।

"ব্লু লোটাস" শব্দ দুটো বারকয়েক আউড়ে নিলো সে। ফেরত শব্দটা কী যেন? এই রে! মনে পড়ছে না তো!

অ্যাসোসিয়েশন করে রেখেছিল, কী যেন হিন্দু গড… দুর্গা… কালী?

ফ্যাঁসসস আওয়াজ করে দাঁড়িয়ে পড়লো গাড়িটা। কী আফত! আজ এইসব কেন হচ্ছে তার সঙ্গে?

“হে রাম…” বলেই পেছনে ফিরলো ড্রাইভার সাহেব।

“টায়ার গয়া ম্যাডাম… বাস, দো মিনট।”

মনে পড়েছে, মনে পড়েছে… "শ্রীরাম"

ব্লু লোটাস-এর সঙ্গে শ্রীরামের কী সম্পর্ক তা জানে না উর্মিল, জানতেও চায় না। কাজটা উদ্ধার হলেই হয়।

সিকন্দর লোধীর সমাধীর পেছনে, একটা দেবদারু গাছের নিচে দাঁড়িয়েছিল উর্মিল।

প্রায় ঘাড়ের কাছে নিশ্বাস পড়লো, ফিসফিসিয়ে কেউ যেন বলে উঠলো 'শ্রীরাম।'

চমকে উঠে ঘুরে দাঁড়ালো উর্মিল। বিশালকায় এক মানুষ, দেখে আফ্রিকান মনে হয়।

কথা বলতে গিয়ে জিভ যেন আটকে গেল উর্মিলের। নিজেকে সামলে নিয়ে সে বললো, 'ব্লু লোটাস।'

সঙ্গে আনা প্যাকেট মুহূর্তের মধ্যেই হাতবদল হলো।

চোখের পলক ফেলার আগেই উধাও হয়ে গেল মানুষটা।

কী কাণ্ড… সঞ্জয় তো কিছু ফেরত পাওয়ার কথা বলেনি। ঘামতে লাগলো উর্মিল, আজ আর রক্ষে নেই। সঞ্জয়ের হাতেই মরবে সে আজ।

ধীরে ধীরে বাইরে এসে উবার বুক করে অপেক্ষা করতে লাগলো সে।

বাড়ির দিকে যাওয়ার সময়ে ভীত-সন্ত্রস্ত উর্মিল জানতেও পারলো না, তার গাড়িকে ফলো করছে কেউ।

কানুবা আডেম্বে'র গাড়ির পেছনেও লোক পড়েছিল, বুঝতে পারেনি সে'ও।

হঠাৎ করে একটা গাড়ি রাস্তা ব্লক করে দাঁড়াতেই, গাড়ি থেকে নেমে পালাতে গেল কানুবা। বাধা পেয়ে উল্টো দিকে ঘুরতেই দু'পাশ থেকে দু'জন ধরে ফেললো তাকে। পকেট-এর দিকে হাত বাড়াতেই মুখের সামনে নাচলো রিভলবার। হাত তুলে দিয়ে সারেন্ডার করলো কানুবা।

কানুবার পকেট থেকে বেরোলো একটা ছোটো প্যাকেট আর একটা খুব ছোটো আগ্নেয়াস্ত্র। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলেন রিয়াজ খান। এইসব মাল কোথা থেকে আসে এদের কাছে… সোর্সগুলোর খোঁজ পাওয়া খুব জরুরি।

হিন্দি, পাঞ্জাবি, ইংরিজি কোনো ভাষাই বোঝে না সে... খুব সমস্যায় পড়লেন নার্কোটিকস কন্টোল ব্যুরো-র রিয়াজ খান।

“সব বোঝে… ভান করছে। ভাষা না বুঝলে তো ওকে কিছু জিজ্ঞেস করা যাবে না…” রিয়াজকে চিন্তিত দেখালো।

“যাবে না মানে! থার্ড ডিগ্রী পড়লেই ভুস ভুস করে সোডার মতো ভসভসিয়ে কথা বেরোবে পেট থেকে।”

এগিয়ে এলো ইয়াং ব্লাড, নিউ অ্যাপয়েন্টমেন্ট ধরমেশ ধাওয়ান।

ভেতরে নিয়ে গিয়ে কানুবার জামাকাপড় খুলে দিতেই মুখে বুলি ফুটলো তার।

“আমার আইনজীবীকে ছাড়া কোনো কথা বলবো না আমি। আমার ওপরে কোনো রকম টর্চার করবার অধিকার নেই আপনাদের।”

হাসলো ইয়াং অফিসার ধাওয়ান।

―তাই… কী করে নিবি?

―কোর্ট-এ কেস গেলে, আমার ল'ইয়ার দেখে নেবে আপনাদের।

―কোর্ট! কোর্ট দেখাচ্ছিস? অতদূর যাবে তবে তো! তার আগেই তো তোর লাশ পড়বে… আমি ধরমেশ ধাওয়ান! নাম তো সুনা হী হোগা? এনকাউন্টার স্পেশালিষ্ট। তোর বডি'ও পাওয়া যাবে না… গ্যারান্টি দিচ্ছি।

চোখের তারা চঞ্চল হলো কানুবার।

নিশ্চিন্ত হলো ধাওয়ান... আর ভয় নেই, এক্ষুণি বেরিয়ে আসবে সব।

রামবিলাসকে ডাকলেন ধাওয়ান।

―তুমি দেখেছ কে দিয়েছে ওই প্যাকেট?

―হাঁ সাব… সুন্দর একটা মেয়ে। লোধী টুম্ব-এর পেছনে অপেক্ষা করছিল। ব্যাগ থেকে এই প্যাকেটটা বার করে এর হাতে তুলে দিলো… ওর গাড়িকেও ফলো করে ওর আস্তানার ঠিকানা পাওয়া গেছে। কিছু প্রমাণ হাতে এলেই ওকেও নিয়ে আসা হবে।

রামবিলাসকে খুশ দেখালো।

―তার কোনো সন্দেহ হয়নি তো? সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছো!

―না স্যার, গার্ডেন-এ তো ক্যামেরা নেই। জেনে বুঝেই ওই জায়গায় মীট করেছে ওরা, আর মেয়েটা কিছু বুঝেছে বলে মনে হয় না।

―মেয়েটার কাছে কিছু না পেলে তো কিছুই করার থাকবে না! আর এরা সব চুনোপুঁটি… রাঘব বোয়ালকে ধরতে না পারলে হবে না। যাক, বলে দাও মেয়েটার ওপরে নজর রাখতে। কে যাওয়া আসা করে ওর ফ্ল্যাট-এ, ও কোথায় যায়…

বেরিয়ে যাওয়ার আগে বললেন রিয়াজ খান।

―এই তো স্যার, সলমান এসে গেছে। ও'ই গিয়েছিল মেয়েটার পেছনে।

স্বস্তির শ্বাস নিলো রামবিলাস।

“মেয়েটার নাম ভেরোনিকা উর্মিল স্যার। হিমাচলের এক অর্ফ্যানেজ-এ বড়ো হয়েছে। শহরে এসেছে চাকরি নিয়ে, এই দলের সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে পড়েছে… জানতে হবে।”

―ঠিক আছে, কান টানলেই মাথা আসে… আসবে।

কানুবাকে লক আপ-এ ভরতে বলে অফিসে এসে বসলো ধাওয়ান।

শক্তিশালী কানুবাকে দু'দিক থেকে দু’জন কন্সটেবল মিলে ধরে নিয়ে গিয়ে লোহার গারদের পেছনে রেখে দরজাতে তালা লাগিয়ে দিলো।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%