ইন্দ্রাণী তুলি
বোরখাতে ঢাকা এক অবয়ব এসে দাঁড়ালো, ব্ল্যাক প্যান্থার রেস্তোরাঁর বার কাউন্টারের কোণের দিকে।
আলো-আঁধারির ছায়াময় পরিবেশে তার মুখের ঢাকাটা তুলতেই প্রকাশিত হলো ব্লু-ব্ল্যাক কাজলের টানে জড়ানো একজোড়া গভীর- মায়াবী চোখ। সে চোখে এখন ঝলসাচ্ছে আগুনের স্ফূলিঙ্গ।
হাঁটুতে স্পর্শ পেতেই নিচের দিকে তাকালো বোরখা ঢাকা মূর্তি। তার কোমরের কাছাকাছি উচ্চতার এক ছোটো মানুষ তার বোরখা ধরে টানছে।
হঠাৎ নজর পড়াতে ভয় পেয়ে গেল উর্মিল। নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে বললো, “গায়ে হাত দেবেন না।”
ধূর্ত হায়নার মতো জ্বলে উঠলো মানুষটার চোখ দুটো। মুখের হাসি বলে দিচ্ছে, এই মানুষ হাসতে হাসতে বুকে ছোরা বসিয়ে দিতে পারে… হাত কাঁপবে না।
ফিসফিস করে কী বললো লোকটা, শোনার জন্যে সামান্য ঝুঁকে দাঁড়ালো উর্মিল।
লোহার মতো শক্ত হাতে তার ঘাড় ধরে টেনে নামিয়ে, কানের কাছে মুখ নিয়ে সে বলল, “সাত নম্বর ঘোড়া…”
অজানা এক ভয়ে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল উর্মিলের… প্রচণ্ড রাগে নিজেকেই নিজের চড়াতে ইচ্ছে হলো।
রাগ বা ভয় কোনোটাই প্রকাশ করা চলবে না। ছড়িয়ে হাসলো সে, তার মোহিনী হাসি দিয়ে বধ করার চেষ্টা করলো সেই সাত নম্বর ঘোড়াকে।
দাঁতে দাঁত চেপে উর্মিল বলল 'জকি লায়ন।'
এবারে সন্তুষ্টির হাসি হাসার পালা সেই ছোটো মানুষের।
গ্রীন সিগনাল পাওয়া গেছে, "সাত নম্বর ঘোড়াতেই" কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ থেকে একটা গিফট র্যাপ করা ছোটো প্যাকেট বার করে, খর্বকায় মানুষটির হাতে তুলে দিলো উর্মিল।
নিষ্ঠুরতার সঙ্গে র্যাপার ছাড়িয়ে, বাক্স উন্মুক্ত করে ঢাকা খুলে দেখে ঘাড় নাড়লো সেই বামন।
রেস্তোরাঁর সেই ছায়াময় পরিবেশেও উর্মিলের নজর এড়ালো না… বাক্সে রাখা ছোটো আগ্নেয়াস্ত্রটা।
এ কী ভয়ানক জালে জড়িয়ে পড়েছে সে! কোনোভাবেই কি নিষ্কৃতি পাওয়ার উপায় নেই? আগেও ভেবেছে, পুলিশের কাছে গিয়ে সব খুলে বলে, আশ্রয় চাইবে… মনে এসেছে, সঞ্জুর শীতল চোখের কঠিন দৃষ্টি, সিগারেটের ছ্যাঁকা আর বেল্টের মার।
একটা ছোটো চামড়ার ব্যাগ উর্মিলের হাতে তুলে দিলো লোকটা, তারপরে শিস দিয়ে এক চটুল গানের সুর ভাঁজতে ভাঁজতে বেরিয়ে গেল রেস্তোরাঁ থেকে।
পা কাঁপছিল উর্মিলের।
সেই ড্রাগ পাচারের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ায় এই কাজের ভার পেয়েছে সে।
অফিসেও কাজের চাপ কম নয়, কিন্তু মন দিতে পারে না উর্মিল, ভুল হয়ে যায়।
নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন
লগইন