একাদশ অধ্যায়

ইন্দ্রাণী তুলি

নব্যার সঙ্গে 'সুকুন'-এই পরিচয় হয়েছিল সঞ্জয়ের... তখন অবশ্য তার নাম ছিল মেহুলী।

মেহুলী তখন প্রায় সেরে ওঠার পর্যায়ে… ডাক্তার ত্রিবেদী এসে দাঁড়িয়েছিলেন তার কাছে।

“তোমার সাহায্য চাই।”

একটা গাছের নিচে বসে মলিনা তাঈয়ের কাছে আসন সেলাই শিখছিল সে।

―তোমাদেরই সাথী, সঞ্জয়ের ভালো হয়ে ওঠার পথ প্রশস্ত করতে আগামীকাল আমরা 'ভাই-দুজ'এর অনুষ্ঠানটা বড়ো করে করতে চাই। মেয়েদের ওপরে ওর বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে, ভাই-বোনের সম্পর্ক দিয়েই শুরু করা যাক।

মলিনাদি আপনিও ওকে সাহায্য করবেন মাতৃস্থানীয়াদের ওপরে ওর হারিয়ে যাওয়া ভরসা ফিরিয়ে দিতে… মায়ের স্নেহে আগলে রাখবেন ওকে। আমি জানি, এ'কাজ আপনার থেকে ভালো কেউ করতে পারবে না।

সারি সারি আসন পাতা হয়েছে। ধূপ-দীপ, চন্দন, ফুল-মালা-মিষ্টিতে সাজানো ঘরে একে একে প্রবেশ করলো ছেলে-মেয়ের দল।

পরমীতের সঙ্গে ঘরে এলো সঞ্জয়।

ডাক্তার ত্রিবেদী বললেন, আগে একটু গান-বাজনা হোক… নাকি?

পরমীত বললো, "সঞ্জয় খুব ভালো মাউথ অর্গ্যান বাজায়, রোহিত ভালো গান গায়। মেহুলী সুন্দর নাচে… আর কে কী পারে, সবাই এগিয়ে আসবে…"

রোহিতের গান, সঞ্জয়ের সাথ সঙ্গত, আর মেহুলীর নাচে সকলের মন ভরে উঠল।

নাচের শেষে সঞ্জয়ের কাছে গিয়ে, মেহুলী তার হাত ধরতেই চমকে উঠে হাত টেনে সরিয়ে নিলো সঞ্জয়। আবার তার গুটিয়ে নেওয়া হাতটা ধরে তার চোখে চোখ রেখে মেহুলী বললো “দাদা, আমার সঙ্গে কথা বলবে না? আমার তো নিজের দাদা নেই, তোমাকেই আজ ফোঁটা দিয়ে এই সম্পর্ক একদম পাকা করে নেবো।”

হাত কাঁপতে লাগলো সঞ্জয়ের।

“আ… আমি কারোর ভাই হওয়ার যোগ্য নই।”

“আমরা সকলেই ঈশ্বরের সন্তান, কিছু না কিছু পরিচয়েই আছি এই পৃথিবীতে।”

সঞ্জয়ের হাত ধরে তাকে আসনে বসিয়ে, কপালে ফোঁটা দিয়ে তার আয়ু কামনা করলো মেহুলী। হাতে মিষ্টির প্লেট তুলে দিলো। হাতের প্লেট থেকে মিষ্টি নিয়ে মেহুলীকে খাইয়ে দিয়ে হাসলো সঞ্জয়।

সঞ্জয় বললো, তুমি আমাকে দাদা বললে বোন… আমার সম্বন্ধে তো কিছুই জানো না তুমি। আমি খুব খারাপ ছেলে।

―আমি শুধু জানি, তুমি আমার দাদা আর আমি তোমার ছোটো বোন। নাও মিষ্টি খাও।

ধীরে ধীরে ওদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে উঠলো।

দু'জনেই সেরে উঠেছিল নিজের নিজের গতিতে।

সকল অধ্যায়

নোট নিতে এবং টেক্সট হাইলাইট করতে লগইন করুন

লগইন
০%